ফন্ট সাইজ:
থিম:
velvet Damnation

পর্ব 1

লেখক: samia

🖤 VELVET DAMNATION

Writer: Samia

PART 01

### Chapter 01 — The Devil's Obsession

রাত ১২টা ৩৫ মিনিট।

চারদিকে ঘন অন্ধকার। আকাশের বুক চিরে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলোও আজ যেন নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

শহরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক অট্টালিকা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কোনো রাজপ্রাসাদ। কিন্তু এই বাড়ির ভেতরে যে মানুষটি বসবাস করে, তার হৃদয়ে ভালোবাসার কোনো অস্তিত্ব নেই।

বাড়ির তৃতীয় তলার বিশাল কক্ষে বসে আছে একজন পুরুষ।

পরনে কালো শার্ট। শার্টের ওপরের দুটি বোতাম খোলা। এক হাতে হুইস্কির গ্লাস, অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। সামনের টেবিলে ছড়িয়ে আছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল।

পুরুষটির নাম আরহাম রায়হান।

বয়স আটাশ। শহরের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। অর্থ, ক্ষমতা কিংবা সৌন্দর্য—কোনো কিছুরই অভাব নেই তার। অথচ মানুষটার চোখের দিকে তাকালে মনে হয়, সেখানে শত বছরের জমে থাকা কোনো অন্ধকার লুকিয়ে আছে।

হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।

— May I come in, sir?

আরহাম চোখ না তুলেই বলল,

— Come in.

ভেতরে প্রবেশ করল তার ব্যক্তিগত সহকারী রাফিন।

— স্যার, আপনার জন্য একটা পার্সেল এসেছে।

— কে পাঠিয়েছে?

— জানা যায়নি। তবে পার্সেলের ওপর আপনার নাম লেখা আছে।

আরহাম গ্লাসটা টেবিলে রেখে পার্সেলটি হাতে নিল। কালো রঙের খাম। কোনো প্রেরকের নাম নেই।

খাম খুলতেই ভেতর থেকে একটি ছবি বেরিয়ে এল।

একটি মেয়ে।

সাদা রঙের সালোয়ার-কামিজ পরা। কোমর ছাড়িয়ে নেমে আসা কালো চুল। মুখে কোনো প্রসাধনী নেই। অথচ মেয়েটির চোখে এমন কিছু একটা আছে, যা ছবির ভেতর থেকেও স্পষ্ট বোঝা যায়।

আরহাম কয়েক মুহূর্ত ছবিটির দিকে তাকিয়ে রইল।

ছবির পেছনে ছোট্ট একটা বাক্য লেখা—

"The girl who will destroy your darkness."

আরহামের ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।

— Interesting!

রাফিন কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

— স্যার, মেয়েটিকে চেনেন?

— না।

— তাহলে ছবিটা রেখে দেব?

আরহাম ছবিটি হাতে নিয়ে বলল,

— Find out everything about her.

— Sure, sir.

— And Rafin?

— Yes, sir?

— I want her full details by tomorrow morning.

রাফিন মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল।

আরহাম আবার ছবিটির দিকে তাকাল।

তারপর নিচু স্বরে বলল,

— Let's see, little princess. How long can you stay away from me?

সকাল ৮টা ১৫ মিনিট।

— নীরা! এই মেয়ে! আর কতক্ষণ ঘুমাবি?

রান্নাঘর থেকে মায়ের চিৎকার ভেসে আসছে।

কিন্তু বিছানায় শুয়ে থাকা মেয়েটির কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে কাঁথা দিয়ে পুরো মুখ ঢেকে রেখেছে।

আবার চিৎকার শোনা গেল,

— নীরা, আজ তোর কলেজের প্রথম দিন। দেরি হয়ে যাচ্ছে!

এবার নীরা বিরক্ত হয়ে চোখ খুলল।

— উফফ! মা, একটু শান্তিতে ঘুমাতেও দেবে না?

— ঘুমানোর জন্য তোকে কলেজে ভর্তি করিয়েছি?

নীরা বিছানা ছেড়ে উঠে বসে বলল,

— হ্যাঁ, সেটাই তো। কলেজে গিয়ে ঘুমাব।

তার মা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিলেন।

— আল্লাহ জানে, এই মেয়ের কপালে কী আছে!

নীরা দাঁত বের করে হাসল।

— তোমার মতো সুন্দরী মায়ের মেয়ে যখন, কপালে ভালো কিছুই থাকবে।

— বেশি কথা না বলে তাড়াতাড়ি তৈরি হ।

নীরা হেসে বাথরুমে চলে গেল।

মেয়েটির পুরো নাম নীরা ইসলাম। বয়স একুশ। মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র মেয়ে। বাবা-মায়ের ভীষণ আদরের। স্বভাবে চঞ্চল, একটু জেদি, আর প্রচণ্ড আত্মসম্মানী।

তার কাছে ভালোবাসা মানে বিশ্বাস, সম্মান আর একে অপরের প্রতি যত্ন। সে কখনো ভাবেনি, কোনো মানুষের উপস্থিতি তার পুরো পৃথিবীটাকে এভাবে বদলে দিতে পারে।

সকাল ১০টা ২০ মিনিট।

কলেজের গেট দিয়ে প্রবেশ করল নীরা। আজ তার নতুন কলেজের প্রথম দিন।

পাশ থেকে বান্ধবী মেহরিন এসে তার হাত ধরল।

— এই যে ম্যাডাম! এত দেরি কেন?

— ঘুমাচ্ছিলাম।

— তোর জীবনে ঘুম ছাড়া আর কোনো কাজ আছে?

— আছে তো। খাওয়া!

দুজনেই হেসে উঠল।

হাঁটতে হাঁটতে নীরা কলেজের মূল ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই একটি কালো গাড়ি এসে কলেজের গেটের সামনে থামল।

গাড়ির কাচ কালো হওয়ায় ভেতরে কে আছে বোঝা যাচ্ছিল না।

কিন্তু ভেতরে বসে থাকা মানুষটি একদৃষ্টিতে নীরার দিকে তাকিয়ে ছিল।

তার হাতে নীরার একটি ছবি।

ছবির সঙ্গে সামনের মেয়েটির চেহারা মিলিয়ে নিয়ে সে মৃদু হাসল।

— So, you're Naira Islam.

পাশের সিটে বসে থাকা রাফিন বলল,

— স্যার, মেয়েটার সম্পর্কে যা জানতে পেরেছি, সব ফাইলে আছে।

— Tell me.

— বাবা একজন ছোট ব্যবসায়ী। মা গৃহিণী। মেয়েটা পরিবারের একমাত্র সন্তান। স্বভাবে বেশ জেদি। আর এখন থেকে এই কলেজেই পড়বে।

আরহাম মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল,

— Anything else?

— না স্যার।

— Good.

কিছুক্ষণ পর গাড়ির দরজা খুলে গেল।

আরহাম গাড়ি থেকে নামতেই আশপাশের কয়েকজনের দৃষ্টি তার দিকে চলে গেল। কালো শার্ট, কালো প্যান্ট, হাতে দামি ঘড়ি। চোখে কালো সানগ্লাস।

তার উপস্থিতিতে এক ধরনের অদ্ভুত ব্যক্তিত্ব ছিল।

সে ধীর পায়ে কলেজের ভেতরে প্রবেশ করল।

নীরা তখন মেহরিনের সঙ্গে কথা বলছিল।

হঠাৎ মেহরিনের চোখ গেল পেছনের দিকে।

— এই নীরা!

— কী?

— পেছনে তাকাস তো।

— কেন?

— আরে তাকাতে বলছি, তাকাস!

নীরা বিরক্ত হয়ে পেছনে তাকাল।

একজন সুদর্শন পুরুষকে এগিয়ে আসতে দেখে সে কিছুটা অবাক হলো।

লোকটি সরাসরি তাদের সামনে এসে দাঁড়াল।

— Excuse me!

মেহরিন সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,

— জি, বলুন।

লোকটি মেহরিনের দিকে না তাকিয়ে নীরার দিকে তাকাল।

— তোমার নাম নীরা?

নীরা ভ্রু কুঁচকে বলল,

— জি। কিন্তু আপনি কে?

— আরহাম।

— শুধু আরহাম?

লোকটির ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল।

— আপাতত এতটুকু জানাই যথেষ্ট।

নীরা বিরক্ত হলো।

— দেখুন, আপনি কী বলতে চান সরাসরি বলুন। আমাদের ক্লাস আছে।

আরহাম পকেট থেকে একটি ছোট কালো কার্ড বের করে নীরার দিকে এগিয়ে দিল।

— Keep it.

নীরা কার্ডটির দিকে তাকিয়ে বলল,

— এটা কী?

— আমার পরিচয়।

— আপনার পরিচয় আমার দরকার নেই।

কথাটা বলে সে কার্ডটি না নিয়েই চলে যেতে উদ্যত হলো।

কিন্তু আরহামের কণ্ঠ তাকে থামিয়ে দিল।

— নীরা!

সে পেছনে ফিরল।

— জি?

— আবার দেখা হবে।

নীরা বিরক্ত হয়ে বলল,

— দেখা না হলেই ভালো।

আরহাম মৃদু হাসল।

— Let's see.

নীরা আর কোনো কথা না বলে চলে গেল।

মেহরিন হাঁটতে হাঁটতে ফিসফিস করে বলল,

— ছেলেটা কিন্তু হ্যান্ডসাম!

নীরা চোখ পাকিয়ে বলল,

— তোর কাছে সবাই হ্যান্ডসাম।

— তা ঠিক। কিন্তু এই লোকটা একটু বেশিই হ্যান্ডসাম।

— আমার কাছে বিরক্তিকর।

দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট।

কলেজ থেকে বেরিয়ে নীরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রিকশার অপেক্ষা করছিল।

হঠাৎ তার ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল।

Unknown: Reached home safely?

নীরা অবাক হয়ে নম্বরটির দিকে তাকাল।

Naira: Who are you?

কয়েক সেকেন্ড পর উত্তর এল।

Unknown: Someone who noticed you today.

Naira: Stop texting me.

Unknown: You're quite rude, princess.

নীরা রাগে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

Naira: Don't call me princess. And never text me again.

কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।

তারপর আরেকটি মেসেজ।

Unknown: You can block this number, sweetheart. But you can't block curiosity.

নীরা সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটি ব্লক করে দিল।

তারপর নিজেকেই বলল,

— অসভ্য কোথাকার!

কিন্তু সে জানত না, ঠিক তার সামনের রাস্তার ওপাশে কালো গাড়ির ভেতরে বসে থাকা মানুষটি তার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছে।

আরহাম ফোনের স্ক্রিনে ব্লক হওয়া নম্বরটির দিকে তাকিয়ে হাসল।

রাফিন অবাক হয়ে বলল,

— স্যার, মেয়েটা আপনাকে ব্লক করেছে?

আরহাম জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,

— হুম।

— আপনি রাগ করেননি?

আরহাম এবার তার দিকে তাকাল।

— রাগ?

তারপর ঠোঁটে সেই রহস্যময় হাসি।

— I don't chase people, Rafin. I make them curious enough to come closer.

রাফিন চুপ করে রইল।

আরহাম আবার নীরার দিকে তাকাল।

— তবে এই মেয়েটা একটু আলাদা।

রাত ১১টা ৫৮ মিনিট।

নীরা নিজের ঘরে বসে বই পড়ছিল। হঠাৎ দরজার বাইরে মায়ের কণ্ঠ শোনা গেল।

— নীরা, তোর জন্য একটা পার্সেল এসেছে।

— এখন? এত রাতে?

— হ্যাঁ, একজন লোক দিয়ে গেছে।

নীরা দরজা খুলে ছোট্ট কালো বাক্সটি হাতে নিল।

বাক্সের ওপর তার নাম লেখা।

কোনো প্রেরকের নাম নেই।

সে ধীরে ধীরে বাক্সটি খুলল।

ভেতরে একটি কালো রঙের গোলাপ। সঙ্গে একটি ছোট কার্ড।

কার্ডে লেখা—

"You said you don't want to see me again. Unfortunately, I don't take orders from strangers."

নীরার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

কার্ডের নিচে আরও একটি লাইন ছিল।

"Sweet dreams, Naira. — A"

নীরা দ্রুত ফোনটা হাতে নিয়ে মাকে ডাকল।

— মা!

— কী হয়েছে?

— এই পার্সেলটা কে দিয়ে গেছে?

— জানি না তো মা। তোর নাম বলেই দিয়ে গেছে।

নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর জানালার দিকে তাকাল।

বাইরে অন্ধকার।

দূরে রাস্তার পাশে একটি কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।

গাড়ির ভেতরে কেউ একজন বসে আছে কি না বোঝা যাচ্ছে না।

ঠিক তখনই তার ফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠল।

অজানা নম্বর থেকে একটি মেসেজ।

Unknown: Don't be afraid of the dark, princess. Sometimes the darkness is the only thing protecting you.

নীরার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।

সে জানত না, এই মানুষটি কে। কেন তার পিছু নিয়েছে। কিংবা তার কাছ থেকে কী চায়।

কিন্তু একটা বিষয় সে বুঝতে পারল—

তার স্বাভাবিক জীবনটায় অচেনা কেউ প্রবেশ করেছে।

আর সেই মানুষটির চোখে ভালোবাসার চেয়ে অন্য কিছুর ছায়াই বেশি।

অন্যদিকে, আরহামের ঘরে...

ছবির ওপর আঙুল বুলিয়ে আরহাম মৃদু স্বরে বলল,

— তুমি জানো না, নীরা। আমার জীবনে একবার কাউকে চাইলে তাকে ভুলে যাওয়া আমার স্বভাবে নেই।

তারপর ছবিটি টেবিলে রেখে জানালার বাইরে তাকাল।

— Welcome to my world, little princess.

কিন্তু আরহাম জানত না, যে মেয়েটিকে সে নিজের অন্ধকারের অংশ বানাতে চাইছে, সেই মেয়েটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর একটি সত্য।

আর সেই সত্য প্রকাশ পেলে হয়তো তার নিজের অস্তিত্বই ভেঙে পড়বে।

To be continued...

— Samia 🖤

END OF PART 01 • VELVET DAMNATION

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন