ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণ কোমল

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরান হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_৬ [ স্পেশাল ]

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

নভেম্বর মাস চলমান। চারপাশে শীতের উপদ্রপ। রাস্তার ধারের ল্যাম্পস্টের হলুদাভ আলো কুয়াশার সাথে মিশে কোনো অশরীরী মনে হচ্ছে।

বিয়ে বাড়ির ঝলমলে পরিবেশ। লাল, নীল নয় বরং চৌধুরী প্যালেস আজকে সেজেছে সবুজ,গোল্ডেন আর সাদা মরিচ বাতিতে। আজকে তিয়ানের মেহেন্দি অনুষ্ঠান। স্টেজ করা হয়েছে বাড়ির বাগানে।মেয়ের বাড়ির লোক ও এখানেই আছে। মূলত কোমল নিজেই সব কিছু চেঞ্জ করে নিজের মতো করে নিয়েছে। তাই ছেলে মেয়ের একসাথে মেহেন্দি, এমনকি হলুদের অনুষ্ঠানও একই সাথে হবে।

মেয়েদের থিম হলো পিত্ত কালার লেহেঙ্গার সাথে গোল্ডেন কালার ওড়না । আর ছেলেদের থিম হলো পিত্ত কালার পাঞ্জাবি সাথে গোল্ডেন কালার পাজামা আর পাতলা ওড়না।যেটা গলায় প্যাঁচানো থাকবে।

বর কনেকে স্টেজে নিয়ে আসা হলো।শুরু হলো এক একজনের আশীর্বাদ পর্ব । কোমলের মা যখন স্টেজে আসলো তখনও তার মুখ পুরো থমথমে হয়ে আছে।একটা মানুষ না হেসে কিভাবে থাকতে পারে ? আল্লাহ্ মালুম ।

হুট করে এলিজার মনে পড়লো সে তো তিয়ানের বউয়ের জন্য আশীর্বাদের নেকলেস টা আনতে ভুলে গেছে।তাই গলা টা একটু উচু করে ডাক দিলেন কোমল কে । স্টেজ থেকেই কিছুটা দূরে চেয়ার পেতে ইলারা,ইরিশ, রাতুল,রাইসা সাথে আরো কিছু ছেলেমেয়েরা মিলে গল্প করছিলো ।

মায়ের ডাকে সাড়া দিলো কোমল। মায়ের কাছ থেকে আলমারির চাবি নিয়ে ছুটলো বাড়ির বাড়ির ভিতরে। পুরো বাড়ি কেমন নিস্তব্ধ হয়ে আছে। স্টেজ বাগানে হওয়ার দরুন ওর অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে তাই হয়তো সকলে এখন সেখানেই রয়েছে। একটু লাগলো কোমলের। যদিও পুরো বাড়ির লাইট জ্বালানো।তবুও কোনো মানুষের উপস্থিত না থাকায় বোধহয় এই ভয়। তবুও মনে সাহস যুগিয়ে দোতলায় নিজের মায়ের ঘরে চলে গেলো।সেখানে আলমারি থেকে গিফটের বক্স টা নিয়ে বাহিরে চলে আসলো।

মিয়াও....

বিড়ালের ডাকে থমকে দাড়ালো কোমল । এই রেহ... এক্সাইটমেন্টের ঠেলায় লিলির কথা পুরো ভুলেই গিয়েছিলো। নিচে না নেমে সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় উঠতে লাগলো। উদ্দেশ্য নিজের রুমে গিয়ে লিলিকে সাথে করে নিয়ে আসা। নিজের রুমের দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে আসলো লিলি। দরজা বাহির থেকে আটকানোর ফলে এতক্ষণ বের হতে পারেনি । রুম থেকে বের হয়েই লিলি ছুট লাগালো করিডোরের শেষ প্রান্তে।এবার কোমল পড়লো মহা বিপদে। কি করে ধরবে এবার ও লিলিকে? এক হাতে গয়নার বাক্স আর অন্য হাতে লেহেঙ্গার এক কোনা উচু করে দৌড় দিলো লিলির পিছনে।

করিডোরের লাস্ট মাথার রুমের দরজাটা একটু ফাঁকা ছিল । লিলি দৌড়াতে দৌড়াতে সেই রুমেই ঢুকে পড়লো। আর কোমল ও বেখেয়ালি দৌড়াতে দৌড়াতে ঢুকে পড়লো সেই রুমে। একবার দেখলো কোন রুমে ঢুকে পড়লো। কিন্তু রুমে ঢুকেও কোনো লাভ হলো না।লিলি কোথায় ঢুকে ঘাপটি মেরে আছে কে জানে? ও এদিক সেদিক উকি ঝুঁকি মেরে দেখতে লাগলো। তখনই ওর খেয়াল হলো ও তো কার না কার রুমে ঢুকে পড়েছে । তবে রুমে করো উপস্থিতি টের না পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ল। পুরো রুমে নজর বুলিয়ে দেখলো পুরো রুম সাদা কালোর মিশেলে ডেকোরেট করা। ফার্নিচার গুলোও সাদা কালোর মিশেলে। তবুও খুব সুন্দর লাগলো দেখতে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে রুমের মালিক অত্যন্ত শৌখিন। ওর নজর আটকালো দেয়ালের একপাশ জুড়ে পুরোটা বুকশেলফ তৈরি করা।যেখানে হয়ত শোভা পাচ্ছে হাজার রকমের বই । ও শেলফের দিকে এগিয়ে যেতেই লেহেঙ্গার সাথে পা আটকে পড়ে যেতে নিলো।তবে তার আগেই শেলফ টি আঁকড়ে ধরে ফেললো। ও একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। তবে তখনি ক্যার ক্যার আওয়াজ তুলে বুকশেলফ টি এক পাশে সরে যেতে লাগলো।আর ওর চোখের সামনে আবিষ্কার হলো একটি সুবিশাল কক্ষ। পুরো রুমের থিম সাদা। ও অবাক হলো রুমের মধ্যে আরেকটা রুম দেখে। এক পা এক পা করে এগোতে লাগলো সামনে। রুমের ভিতরে ঢুকে ও পুরো স্তব্ধ হয়ে রইলো।বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেলো হাজার গুণ বেশি। শ্বাস নিতেও বোধহয় ভুলে গেলো মেয়েটি। ওর হাতের ডান পাশের পুরো দেয়াল জুড়ে একটা মেয়ের ছবি আঁকা।আর সেটা অন্য কারো নয় বরং ওর নিজেরই ছবি। যার নিচে বড় বড় করে ‘#স্বর্ণকোমল’ লেখা।সামনের দেয়ালে দু জোড়া চোখের ছবি উপর নিচে করে আঁকা। উপরের টা দেখে মনে হচ্ছে একজন ছেলের চোখের ছবি।আর নিচের টা ওর নিজের চোখের ছবি।একদম বেগুনি রঙের মনির মাঝখানে ব্রাউন কালারের গোল পিউপিল। আর বাম পাশের দেয়াল জুড়ে ওর অনেক গুলো ছবি। ওর ছোট বেলা থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত অসংখ্য ছবি। হাত ফসকে কখন যে গয়নার বক্স নিচে ফ্লোরে ঠাঁই পেয়েছে সেই হদিশও নেই মেয়েটির। ও তো বাকরুদ্ধ হয়ে চেয়ে দেখছে সকল কিছু। তখনই হুট করে রুমের লাইট অফ হয়ে গেলো। ঘোর থেকে বের হলো মেয়েটি। এটা কার রুম সেটাও ও জানে না। তবে বুঝতে পারছে এটা যার রুম ই হোক না কেনো ও ভুল করে ফেলেছে এই রুমে এসে। এইসব না দেখলেই বোধহয় ভালো হতো। ভাবনার মাঝেই নিজের ঘাড়ে কারো গরম নিশ্বাসের অস্তিত্ব টের পেলো কোমল। এবার যেনো ভয়টা আরো বেড়ে গেলো মেয়েটার। একটা খরখরে হাত কোমর জড়িয়ে ধরলো ওর। ভয়ে যেনো নিশ্বাস নিতেও ভুলে গেলো মেয়েটি। অবয়বটি ঝুঁকে ওর কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁই ছুঁই করে ফিসফিস করে বললো,

"#স্বর্ণকোমল"

অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে গেলো ওর শিরদাঁড়া বেয়ে। গলার স্বর ভীষণ ভারী। কণ্ঠের মালিক কে বোধহয় চিনলো ও। তবে সেই লোক এমন করবে সেটা ভাবতেই পারছে না।চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো মেয়েটি। বুক ধুরু ধুরু করছে। এখনি বুঝি হৃৎপিণ্ড পিন্ড বের হয়ে আসলো বলে।

তখনই বিদ্যুৎ চলে আসলো। লোকটি ততক্ষণে ওর গলায় মুখ গুজে দিয়েছে।এতক্ষণ স্থির থাকলেও এবার ও ছটফট করতে লাগলো। হঠাৎ গলায় ব্যথা অনুভব করতেই লোকটাকে ধাক্কা দিয়েই ও দু পা সরে দাড়িয়ে হাঁপাতে লাগলো। চোখ এখনো বন্ধ। হাতির মতো লোকটার সাথে কি ওর পেরে ওঠা এতই সহজ। হয়ত লোকটি ইচ্ছে করেই ছেড়ে দিয়েছে। চোখ তুলে সামনে তাকিয়েই ঝটকা খেলো যেনো ও। ওর সামনে কিয়ান দাড়িয়ে। কিয়ান ওর সাথে এমনটা করেছে ও বিশ্বাস ই করতে পারছে না। কাপা কাপা গলায় বলল,

"আপ..আপনি?"

"ইয়েস প্রিন্সেস।"

কিয়ানের এরূপ সম্বোধনে কেঁপে উঠলো কোমল। পেটের ভিতর উড়তে লাগলো অজস্র প্রজাপতি। ভেসে এলো ভারী কন্ঠস্বর,

"তবে? জেনেই গেলে?"

"আপ.. আপনি আমাকে..."

ওর কথা সম্পূর্ণ করতে দিলো না কিয়ান।

"ভালোবাসি।"

মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো ওর। তখনই ওর চোখ গেলো কিয়ানের ঠোঁটের দিকে।ঠোঁটের কোণায় রক্ত লেগে আছে। এটা দেখে নিজের ঘাড়ে হাত দিলো কোমল। যেখানে কিছুক্ষণ আগে কিয়ান দাঁত বসিয়ে দিয়েছে।হাত চোখের সামনে এনে দেখলো হাতে রক্ত। এমন পরিস্থিতি কিয়ানের এই কনফেস করা ও নিতে পারলো না।চোখের সামনে সব কিছু অন্ধকার দেখতে লাগলো। ঢোলে পড়ার আগেই টের পেলো দুটো শক্তিশালী হাত ওকে আঁকড়ে ধরেছে নিজের সাথে। ওকে নিজের বুকে জড়িয়ে বিড়বিড় করতে লাগলো কিয়ান,

"ইউ আর মাইন। জাস্ট মাইন। আমার #স্বর্ণকোমল।"

_

অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করেও যখন কোমলের কোনো টিকি টিও দেখা গেলো না তখন এলিজা নিজেই গেলেন বাড়ির ভিতরে। নিজের ঘরে কোমল কে সেন্সলেস হয়ে পরে থাকতে দেখে আঁতকে উঠলেন তিনি। মুহূর্তেই চিৎকার করে উঠলেন।সেই সময় ইরিশ আর রাতুল ও বাড়ির ভিতরে এসেছিল কোনো একটা কাজে।এলিজার চিৎকার শুনে দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখে কোমল সেন্সলেস হয়ে পরে আছে। আর এলিজা মেয়েকে বুকে নিয়ে কেঁদে চলেছেন।

_

পিটপিট করে চোখ মেলে সবার আগে চোখে পড়লো নিজের মায়ের ভয়াক্রান্ত চেহারা। এলিজা নিজের মেয়ের পাশে ওর এক হাত চেপে বসে আছে। অন্য হাত মাথায় ঠেকানো।রেহানা চৌধুরী কোমলের অন্য হাত চেপে রেখেছেন।দেখে মনে হচ্ছে দুজনই খুব কান্না করেছে। চারপাশে চোখ বুলিয়ে সবাই এই রুমেই অবস্থান করছে।কোথায় আছে ও? আগে কি হয়েছিলো তা মনে করতে ওর মিনিট দুয়েক সময় লাগলো। কিয়ানের কথাও মনে পড়ে গেলো। অজ্ঞান হওয়ার আগে যে ওকে কিয়ানই ধরে ফেলেছিলো সেটা ও খুব ভালো মতোই বুঝেছে। তবে ও এখানে কিভাবে এলো? আর কতক্ষণ এভাবে শুয়ে আছে? মায়ের কথায় ভাবনার প্রহর থেকে বেরিয়ে আসলো কোমল।

"এখন কেমন লাগছে মা?"

এলিজার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো কোমল।

"আমি কোথায় মা?"

" আমার ঘরে। সারারাত সেন্সলেস ছিলি তুই। তুই হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলি কিভাবে?"

"কিহহহহহ?এখন সকাল হয়ে গেছে? তার মানে আমি পুরো বারো ঘন্টা সেন্সলেস ছিলাম? আমি অনুষ্ঠান মিস করে গেলাম?"

প্রথম কথা চিল্লিয়ে বললেও শেষের কথাটা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল। অবাক হলেন উপস্থিত সকলে। সারারাত সেন্সলেস ছিল সেই চিন্তা না করে এখনো অনুষ্ঠানের কথা চিন্তা করেছে। ওর সেন্সলেস হওয়া নিয়ে তো পুরো অনুষ্ঠানটি মাটি হয়ে গেছে।

কোমলের জ্ঞান ফিরেছে দেখে সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলেন। চলে গেলেন নিজ নিজ ঘরে। সারারাত কেউ দু চোখের পাতা এক করতে পারেনি।

#চলবে

( আসসালামুয়ালাইকুম পাখিরা। সেহরীর পরে গল্প দেয়ার কথা ছিলো। লেখা কমপ্লিট তাই এখনই দিয়ে দিলাম নাও। ভালো রেসপন্স পেলে খুব শীঘ্রই আরেক পর্ব দিয়ে দিবো। রেসপন্স ভালো পেলে লেখার স্পীড দিগুন বেড়ে যায়। )

Inspired by > বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের কাল্পনিক - অকাল্পনিক

সকল কিছু।

Happy reading 🫰

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন