ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণ কোমল

১৩তম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরান হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_১৩

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

বিকেল পেরিয়ে ধরণীতে সন্ধ্যা নেমেছে। আস্তে আস্তে রাস্তাঘাটে বেড়ে চলেছে লোক সমাগম। হকাররা তাদের ছোটো ছোট ঝুলি মাথায়, কাঁধে, বুকে জড়িয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছে। শহরের বড় বড় দালান জলে উঠেছে রঙিন লাইটে। রাস্তার ধারের ল্যাম্প পোস্টের আলোয় আলোকিত স্থানে দেখা যাচ্ছে কিছু কুকুর রাস্তার ধুলো শুকছে।

কবরস্থানে বড় বড় পিলারের সাথে জ্বলে উঠেছে সাদা ঝকমকে আলোর বাতি। সেই বাতির চারপাশে উড়ে বেড়াচ্ছে ছোটো বড় অসংখ্য মশা।

এখনও তিয়ান আর নীলির কবরের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে আছে কিয়ান। চোখের পানি শুকিয়েছে বহু আগে সাথে হাতের কাগজ ও শুকিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বহুবার পরে ফেলেছে চিঠিটা। ও ছাড়া আর কেউই দেখলো নীলির প্রতি তিয়ানের এই অগাধ ভালোবাসা। বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো কিয়ানের।

হাতের কাগজ তাকে সদর্পনে ভাঁজ দিলো কয়েকটা। অতপর চিঠিটাকে সেখানেই মাটি চাপা দিয়ে দিলো কিয়ান। তাদের সাথেই মাটিচাপা পড়লো তাদের এই অসীম ভালোবাসা।

উঠে দাড়িয়ে গা ঝেড়ে আলগা করে নিলো গায়ের ধুলো ময়লা। বেরিয়ে গেলো কবরস্থান হতে। এবার বাড়ি ফিরতে হবে। সেদিকের খবর ও তো রাখতে হবে। ফোনটাও নিয়ে আসেনি সাথে করে যে বাড়িতে কারো সাথে যোগাযোগ করবে। আর বাড়ির কেউও চাইলে ওর সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না এই মুহূর্তে।

বাড়ির হাহাকার কমে এলো আস্তে ধীরে। সকলে নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইলো যে যার ঘরে। কারো তেমন কোনো মন মানসিকতা বা শক্তি নেই যে বাহিরে বের হয়ে খাবার তৈরি করবে রাতের। সকলেই অভুক্ত হয়ে রয়েছে এখনও।

_

রাইসা নিজের রুমের খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। একদিনে এতো কিছু সহ্য করা বড্ড দায় হয়ে পড়েছে ওর জন্য। চোখের পানি শুকিয়ে দাগ পরে গেছে। তবুও একটু পর পর সেই শুকনো স্থান আবার ভিজে উঠছে।

ফ্লোরে পরে থাকা ফোনটা তুলে নিলো হাতে। আবার কল লাগালো তূর্যের নাম্বারে। এইবারও প্রতি বারের মতো যান্ত্রিক যন্ত্রটি জানান দিলো অপর পাশের নীরবতা।

ফের হাঁটুতে মুখ গুঁজে ডুকরে উঠলো রমণী। জীবনে প্রথম কোনো সিদ্ধান্ত একা নিয়ে বাজে ভাবে ঠকে গেলো। এই দুঃখ কি আর আফসোস করলে ফুরোয়? বিষাদের ছায়ায় নীল হয়ে ওঠে অন্তরের অন্তরীক্ষ।

_

বাড়ির গেট দিয়ে প্রবেশ করলো কিয়ানের গাড়ি। ঠিক সেই মুহূর্তে ওর গাড়ির পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলো অন্য আরেকটা গাড়ি। যেহেতু বাড়িতে অন্য আত্মীয়স্বজন ও আছে তাই কিয়ান সেই গাড়িটাকে তেমন একটা পাত্তা দিলো না। ভেবেছে হয়তো কোনো মেহমান বেরিয়ে গিয়েছে। পার্কিংয়ে গাড়ি রেখে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলো কিয়ান।

রাত দশটা বেজে সাতচল্লিশ মিনিট।

বাড়ির ছোট বড় সকল সদস্য ড্রয়িং রুমে উপস্থিত। কিয়ান এসে মায়ের কোল ঘেঁষে বসলো। সকলের মুখ থমথমে হয়ে রয়েছে। এই নিস্তব্ধতার মধ্যেও কোনো একটা হাহাকার রয়েই গেছে। ইতিমধ্যে আরেকটা কাণ্ড ঘটে গিয়েছে বাড়িতে যা কিয়ানের সম্পূর্ণ অজানা।

কিয়ান একবার পুরো ড্রয়িং রুমে চোখ বুলিয়ে নিলো। নাহ! কোথাও কোমলের টিকি টিরও দেখা নেই। কপাল কুঁচকে গেলো সামান্য ওর। আবার মনে পড়লো ওর দজ্জাল শাশুড়ীটার কথা। সেই বা গেলো কোথায়? এতো তাড়াতাড়ি ঘুমানোর মহিলা তো উনি নন। তাহলে? কুচকানো কপাল আরো খানিক বেশি কুচকে গেলো। ওর দজ্জাল শ্বাশুড়িটা এবার ওর বউকে নিয়ে চলে গেলো না তো? যেহেতু সে বলছিলো আজকে চলে যাবে। তবুও কিয়ান ভেবেছিলো আর যাই হোক এই পরিস্থিতিতে যাওয়ার কথা ভাববে না এলিজা। তবে যদি সত্যি ওর বউটাকে নিয়ে চলে যায় ওর দজ্জাল শ্বাশুড়ি? বুকের ভেতর কোনো কিছু যেনো মোচড় দিয়ে উঠলো। এক হাত চেপে ধরলো বুকে। সারাটাদিন বউটার কোনো খোঁজখবর রাখতে পারেনি ও। নিজের উপর নিজে বিরক্ত হলো খুব কিয়ান। বসা ঠেকে ঠাস করে দাঁড়িয়ে গেলো।

“আমার বউ কোথায় বাবা?”

সাদমান চৌধুরী চোখ ঘুরিয়ে অন্য দিক ফিরে তাকালেন। এক ছেলেকে হারিয়েছেন আবার এই ছেলে যদি জানে ওর বুকে ওর শ্বাশুড়ি নিয়ে চলে গেছে তাহলে না জানি আবার কি হয়।

বাবার এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখে মুখটা আগের থেকেও অন্ধকার হয়ে গেলো কিয়ানের। ও মনে চাচ্ছে যেন ওর ধারণা সত্যি না হয়। বাবার থেকে উত্তর না পেয়ে এবার মাকে জিজ্ঞেস করলো।

“কি হলো মা? উত্তর দাও? কোথায় বউ আমার?”

তখনই সিঁড়ি বেয়ে দৌঁড়ে নিচে নামলো রাইসা। হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,

“তোমার ফোন কোথায় ভাইয়া? কতগুলো কল করেছি কোনো ধারণা আছে তোমার?”

একটু থামলো রাইসা। আবার বললো,

“ছোটো মামি মাত্রই কোমলকে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে বাড়ি থেকে। রাত বারোটায় তাদের ফ্লাইট।”

প্রথমে রাইসার কথাটা বুঝলো না কিয়ান। পরমুহুর্তে ওর কথাটা ক্যাচ করতেই মনে পড়ে গেলো একটু আগের বেরিয়ে যাওয়া গাড়িটার কথা। এবার সব ক্লিয়ার হলো ওর কাছে। মুহূর্তেই ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে। তবে এবার কোনো গাড়ি নিলো না। নাহলে ওদের ধরতে পারবে না। ওদের নাগাল পেতে বাইক নিয়ে বের হলো কিয়ান। ঝড়ের গতিতে উড়িয়ে নিয়ে চললো বাইকটাকে।

মিনিট দশেক চালানোর পড়েই কোমলদের গাড়ির দেখা পেলো কিয়ান। আর কিয়ান কেও নজর বন্দি করলেন এলিজা। ড্রাইভার কে বললেন তিনি যেনো গাড়ির স্পীড বাড়িয়ে দেয় আর কিয়ান যেনো কিছুতেই ওদের ধরতে না পারে। মেইন হাইওয়ে হওয়ায় রাস্তা পুরো ফাকা প্রায়। তাই ড্রাইভার সেই মোতাবেক এলিজার কথা অনুযায়ী গাড়ির স্পিডের কাটা পার করলেন। ঝড়ের গতিতে যেতে লাগলো গাড়িটা। সেই সাথে বারতে লাগলো কিয়ানের বাইকের গতি।

গাড়ির খুব কাছে চলে এসেছে কিয়ানের বাইক। দুই ঠেকে তিন হাত দূরত্ব ওর কোমলদের গাড়ি থেকে।

তবে এই ফাঁকা রাস্তায়ই হুট করে কোথা থেকে যেন একটা বিশাল ট্রাক চলে আসলো কোমলদের গাড়ির সামনে। তবে ড্রাইভার তা সুকৌশলে বাক কেটে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে। তবে কিয়ানের বাইক ওদের গাড়ির পিছনে হওয়ায় সেটা ওর চোখে পড়েনি। যার দরুন কোমলরা বেরিয়ে গেলেও কিয়ান ট্রাকের সামনে পড়ে। আর মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে ছিটকে গেলো কিয়ানের বাইক। আর ট্রাকটিও সেখান থেকে কেটে পড়লো হওয়ার গতিতে।

কোমলদের গাড়ি একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলো। আর গাড়ির ভিতর থেকে এই দৃশ্য দেখতে ব্যস্ত কোমল। এলিজা আপন মনে ফোন নিয়ে ব্যস্ত। কিয়ানের এহেন মর্মান্তিক অবস্থা দেখে কোমলের চোখে এক মুহূর্তের জন্য আনন্দের ঝিলিক খেলে গেলো। তৃপ্তি নিয়ে দেখতে লাগলো কিয়ানের এই করুন অবস্থা। ঠিক যেনো পনেরো বছর আগের সেই দৃশ্য দেখলো। ঠিক এইভাবেই ওর বাবাও মারা গিয়েছিলো। মুগ্ধ হলো ওর দুচোখ। তবে গাড়িতে বসে ঠিক মতো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না কিয়ান। তাই সহসা গাড়ির দরজা খুলে বাহিরে বেরিয়ে এলো। বুট জুতোর ঠক ঠক আওয়াজ তুলে এগিয়ে এলো কিয়ানের দিকে। পরনে জিন্সের প্যান্ট সাথে একটা স্কিনি টিশার্ট এর উপর লেদারের জ্যাকেট। চোখ দুটো টানা করে স্মোকি মেকআপ করা। যার দরুন ওকে দেখতে খানিকটা মাফিয়া গার্লের মতো লাগছে। কোমল এক হাটু ভাজ করে বসলো কিয়ানের মাথার কাছে। কিয়ান এখনো জ্ঞান হারায়নি। আধো আধো চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকেই। যেনো জীবনের শেষ মুহূর্তেও কোনো কিছু দেখার তৃষ্ণা থাকে তবে তা হলো কোমল। কোমল এক বিশ্রী ভয়ানক কুটিল হাসি দিলো। বললো,

“মারা যাওয়ার আগে কিছু কথা জানাই তোমাকে। এই কথা গুলো শুনে হয়তো তুমি যদি বেঁচেও থাকো তবেও আমাকে আর ভালোবাসবে না। ঘৃণা করবে। তবে যে কষ্টটা তুমি পাবে সেটাই আমাকে প্রশান্তি এনে দেবে। তিয়ানের বিয়ের দিন নীলি যেই ভিডিও নিয়ে বাড়িতে এসেছিলো সেই ভিডিও আমিই ওর ভাইকে দিয়েছিলাম। নীলিকে যেনো ওই ভিডিও দেয়। তোমার প্রতি প্রতিশোধের তাড়নায় রাজিও হয়ে গেলো বেচারা। ওই ভিডিও তো ফেইক ছিলো। তবুও এতো ভালো রেজাল্ট আসবে বুঝতে পারিনি। বেচারা তিয়ানটা মরে গেলো। চু চু! আর রাইসার সাথে কি করেছি জানো? তূর্য ওকে ম্যানুপুলেশন করে বিয়ে করেছে। এক রাত কাটিয়ে তোমার বোনকে ফেলে রেখে চলে গেছে।এই বেচারিও না জানি আবার কি করে। খারাপ লাগছে আমার। তবে তার থেকেও বেশি ভালোও লাগছে এই ভাঙন দেখে। আর এখন তুমি। এবার বোধহয় তোমার পরিবারটা ভেঙে কাচের মতো টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আমার অতীত ধ্বংসের কারণ তুমি তাই তোমার পরিবার ধ্বংস করে পুরো তোমাকেই ধ্বংস করে দিলাম আমি।”

একটু থেমে,

“যার ভুলের সুন্দর শৈশব হারালাম, যার ভুলের বাবার স্নেহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হলাম। যার ভুলের জন্য আমি আস্তে আস্তে চোরাবালিতে ডুবে গিয়েছিলাম। যার ভুলের জন্য অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিলাম। যার ভুলের জন্য আমার অতীত নষ্ট হলো তাকে কি করে এতো সহজে ছেড়ে দিতাম মিস্টার জায়রিন চৌধুরী কিয়ান?”

ঠোঁট বাকিয়ে আবার একটা ক্রুর হাসি দিলো কোমল। কিয়ান অবিশ্বাস চোখে তাকিয়ে রইলো কোমলের দিকে। সেদিন তো ও শুধু কোমলকে চেয়েছিলো বলেই এত কিছু হয়েছে। আর তাশরীফ চৌধুরীর মৃত্যুতে ওর দোষ কোথায়। হ্যাঁ এটা ঠিক ওর সেই জেদের রেশ ধরেই এলিজা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। আর তাকে আটকাতে গিয়েই তাশরীফ চৌধুরী মারা যান। তাই বলে ওকেই দায়ী ভেবে নেবে কোমল? কথা যেনো কন্ঠে আটকে এলো ওর। এই কারণে ওর কলিজার টুকরো ভাই, ফুলের মতো পবিত্র বোন, ওর পরিবারটাকে এভাবে ধ্বংস করে দিলো কোমল? এটা তো ওরও পরিবার। নাহ! এটা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাজ কখনোই হতে পারে না। সি ইজ এবনরমাল।

“ভালোই তো বেসেছিলাম। তার মূল্য এভাবে দিলে?”

একথা শুনে একটা গা শিউরে ওঠা হাসি দিলো কোমল। বললো,

“মিস্টার সো কল্ড হাজবেন্ড? তুমি কি আমাকে তোমাদের ওই বাংলা সিনেমার চিপ,অসহায়, ভোলাভালা নায়িকা ভেবেছিলে? তবে শুনে রাখো। আই এম নট এ হিরোইন। আই এম এ ভিলেইন।”

উঠে দাঁড়ালো কোমল। বেশিক্ষণ এখানে থাকলে ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে। দুই পা এগিয়ে যেতেই কানে ভেসে এলো কিয়ানের ভঙ্গুর কন্ঠ।

“তোমাকে ভালবেসেছি, তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকেই ভালোবাসবো। পৃথিবীর সমস্ত দুঃখও যদি তুমি আমাকে দাও তবুও আমি তোমাকেই চাইবো, মিসেস কিয়ান চৌধুরী।”

এক মুহূর্তের জন্য কোমলের পা জোড়া থমকে গেলো। হৃৎস্পন্দন জোরালো হলো ওর। মুখের অভিব্যক্তি পাল্টে গেলো। তবে মুহূর্তের মাঝেই তা আবার পূর্ণ হলো ক্রূরতায়। হাটা শুরু করে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,

“আমিও সেটাই চাই। তুমি আমাকে ভালোবাসো। কিন্তু আমার অভাবে ধ্বংস হয়ে যাও তুমি। জীবন্ত লাশ হয়ে থাকো।”

একটু থেমে বললো,

“তবে যদি তুমি বেঁচে থাকো তবেই।”

অতপর গাড়িতে উঠে হাওয়া হয়ে গেলো। চোখ বুজে আসলো কিয়ানের । জ্ঞান হারানোর পূর্বে মুখ থেকে না চাইতেও বেরিয়ে এলো দুটো বিষাদ মাখা লাইন।

“ তাকে তো শুধু একটু ভালোবেসেছিলাম। নিজের করে রাখতে চেয়েছিলাম। তাতে কি খুব বেশি পাপ করেছিলাম খোদা?”

অতপর পারি জমালো ঘুমের অতল গভীরে। কি জানি এই ঘুম আর ভাঙবে না কি?

#চলিত

[ সকলের রেসপন্স আশা করছি। ধন্যবাদ। সন্ধ্যায় আসছে কিছু মিছু। সবাই রেডি তো গাইস।]

হ্যাপি রিডিং 🫰

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন