#প্রিয়_অক্টোবর
#সাদিয়া_তাসনিম
১৬.
নভেম্বর মাস এসে গেছে,চারিদিকে শীত-শীত একটা আমেজ। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, আলো-আঁধারিতে ছেঁয়ে গেছে চারপাশ। সন্ধ্যায় এই সময়ে তাসনিফাদের বাসার সামনের ছোটখাটো রাস্তাটাই মানুষের ঢল নামে। তীব্র শব্দ হচ্ছে। রিকশাওয়ালা আর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফেরিওয়ালাদের হাঁকডাকে কানের অবস্থা শেষ,ব্যস্ত রাস্তাটা ব্যস্ত মানুষজনের পদচারণায় মুখর হয়ে আছে। মুরাদ বাজারের প্যাকেট আর মিষ্টির প্যাকেট হাতে নিয়ে পুরোনো বহুতল ভবনের সিঁড়ি বেয়ে ধীরে-ধীরে উপরে উঠতে লাগল। অফিস শেষে সে একেবারের বাজার করেই বাড়িতে ফিরেছে। ঘামে জবজবে হয়ে আছে সে, শার্ট গায়ের সাথে লেগে গেছে। মুখটা মলিন,ক্লান্ত তবে ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি। সে হাসিটা বড়ই অমূল্য। আজ কতগুলো বছর পর ছেলেটার চোখের কোণে জল জমেছে,তবে সেটা দুঃখের না সুখের। সিঁড়ির প্রতিটা ধাপ পেরোনোর সাথে-সাথে তার বুকের ভেতর আনন্দের অনুভূতিগুলো উচ্ছ্বসিত হয়ে দোলা দিয়ে যাচ্ছে। আজকের দিনটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় এক টার্নিং পয়েন্ট নিয়ে এসেছে। দুই বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, অসংখ্য রাত জেগে করা পড়াশোনা আর ইন্টারভিউয়ের পর ইন্টারভিউ দেওয়া আজ সফল হয়েছে। এতো কষ্টের পরেও হাল না ছাড়ার ফল আজ তার হাতে এসেছে।
তৃতীয় তলায় পৌঁছে মুরাদ ফ্ল্যাটের দরজায় নক করল। তাসনিফারা ড্রয়িং রুমেই ছিল। দরজায় খটখট করার আওয়াজ শুনে ভেতর থেকে তাসনিফার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
‘আসছি।’ তাসনিফা এসে দরজা খুললো। দরজা খুলতেই
ভাইয়ের হাতে এতো বাজার আর মিষ্টির প্যাকেট দেখে চোখ কপালে তুলল। নির্নিমেষ চেয়ে রয়লো তার দিকে। তাসনিফা হয়তো কিছু ধারণা করতে পারলো।
‘ ভাইয়া কী হয়েছে?’ ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে মুরাদকে শুধাল।
‘ হয়েছে কিছু ?আগে এগুলো ধর। রান্নাঘরে রেখে আয়।’
মুরাদ ক্লান্ত মুখে চওড়া হাসি টেনে বোনের দিকে তাকাল।
‘কিন্তু মিষ্টি যে? আগে বল কী হয়েছে?’
‘ ওই চাকরিটা হয়ে গেছে।’
‘ কী?’
কথাটা শুনে তাসনিফা প্রায় চিৎকার করে দিল। তার কণ্ঠে যতটা না আনন্দ, তার চেয়ে বেশি বিষ্ময় ছিল। মুরাদ এমনিতে খুব কম খরচ করে,কিপটা না সে তবুও খরচে কুলাতে পারে কই? দৈনন্দিন চলার মধ্যেই তাদের পুরো মাসের বাজেট চলে যায়। মিষ্টি খুব একটা আনা হই না। মা যে মিষ্টি খুব পছন্দ করত, তাকে বাদে সকলের খাবে কী করে? যার জন্য মিষ্টি মিঠাই আনে না সে তবে আজ আনলো শুধুমাত্র বোনদের জন্য । তাসনিফা ভাইয়ের হাত থেকে বাজারের প্যাকেটগুলো নিয়ে নিল। মুরাদ হেসে মেয়েটার মাথায় গাট্টা মেরে বলে,
‘ অন্যটা কই?’
তাসনিফা ভাইয়ের হাত থেকে প্যাকেটগুলো নিয়ে রান্নাঘরের দিকে এগোতে-এগোতে লাগলো।
‘ রান্নাঘরে। সবটা খুলে বল ভাইয়া।’
‘ আগে সবাইকে ডাক তারপর বলব। আর এগুলো রেখে আমাকে এক গ্লাস পানি দিয়ে যা বোন।’
মুরাদ অফিস ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে নিচু হয়ে নিজের জুতো খুলে ভেতরে এলো।
তাসনিফা রান্নাঘর এসে প্যাকেটগুলো রাখছিলো তখনই তাসনিয়া তরকারিতে পানি ঢেলে সেটাতে ঢাকনা দিয়ে রাখল। এসব জিনিস দেখে জিজ্ঞাসা করে বসল,
‘ এসব কী?’
তাসনিফা গ্লাসে পানি ঢালছিল৷
‘ ড্রয়িং রুমে চল, ভাইয়ার মুখ থেকেই শুনিস। ডাকলো তোকে।’
‘যা আসছি।’
তাসনিয়া ছোট করে উত্তর দিলো। তাসনিফা পানি এসে ভাইয়ের সামনে ধরল। তাসনিয়াও হাত মুছতে-মুছতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসল। ড্রয়িং রুমে এসে ভাইয়ের দিকে তাকাল। বিষ্ময় নিয়ে শুধাল, ‘ ভাইয়া, কী হয়েছে?’
মুরাদ পানিটা শেষ করল৷ বোনের বিবর্ণ মুখখানি দেখে হেসে ফেললো। সে বলল,
‘ এতো চিন্তার করার মতো কিছু হয়নি। আজ আব্বুর শরীরটা কেমন ছিল?’
‘ আজ সারাদিন ভালোই ছিলো। বিকেলের দিকে তোমার জন্য জিজ্ঞেস করছিল।’ তাসনিয়া ভাইয়ের পাশে বসল।
‘ আব্বুর রুমে চল।’
মুরাদ কথাটা বলে উঠতে নিচ্ছিলো ঠিক তখনই মনিরুল ইসলাম আসলেন। দুর্বল শরীরটা নিয়ে আস্তে সামনের দিকে আসতে লাগলেন। তাসনিয়া উঠে গিয়ে বাবাকে ধরে সোফায় বসতে সাহায্য করলেন। পোড়া শরীরের কারণে হাঁটতে কষ্ট হয় তার, তবু তিনি নিজে-নিজে চলতে চেষ্টা করেন।
‘ আব্বু শরীর ঠিক আছে? ব্যথা করেছে আজ?’ মুরাদ বাপের হাত ধরে জিজ্ঞাসা করল।
‘ ভালো বাপ। এতো দেরিতে আসলে যে? আর এটা কী?’
মনিরুল ইসলাম মিষ্টির প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে রয়লেন।
‘ বলছি দাঁড়াও।’
মুরাদ লম্বা একটা শ্বাস নিল। সকলের মুখের দিকে তাকাল। সকলে তার দিকেই চেয়ে আছে। সে মনিরুল ইসলামের হাতটা নিজের দুহাতে শক্ত করে ধরে বলল,
‘ আব্বু আমার একটা বড় কোম্পানিতে চাকরি হয়ে গেছে। আজ দুই বছর ধরে আমি চেষ্টা করছিলাম এই চাকরিটা পেতে। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ আজ কনফার্মেশন লেটার পেয়ে গেছি।’
কথাটা শুনে সবাই সরল চোখে মুরাদের দিকে তাকাল।সকলে চুপ রয়ল। নীরবতা তাদের ঘিরে ধরল। মুরাদের এই চাকরিটা পাওয়া দরকার ছিল, খুব দরকার ছিলো। এবার তারা মনিরুল ইসলামের ভালো করে ট্রিটমেন্ট করাতে পারবে।
‘ভাইয়া সত্যি?’
তাসনিয়ার চোখের কোণে পানি জমল। মুরাদ তাসনিফার কাঁধে হাত রাখল। তার চোখেও পানি চিকচিক করছে।
‘ মিথ্যা বলব কেন পাগল?’
‘ ভাইয়া...’
ভাইয়ের চোখে পানি দেখে তাসনিফার চোখেও পানি চলে আসল। তাসনিয়ার গলা ধরে এলো। সে আর কথা বলতে পারল না। মনিরুল ইসলামের চোখ দিয়েও অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি কাঁপা হাতে ছেলের মাথায় হাত রাখলেন। মন থেকে দোয়া দিয়ে বললেন,
‘ আল্লাহ তোকে সুখী করুক বাবা। আমি একজন বাবা হয়ে আমার মেয়েদের জন্য যা করতে পারি নাই তুমি সেটা করেছো। নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েছো। এবার আল্লাহ তায়ালা তোমার হাতে সব সুখ এনে ফেলুক । অনেক সুখী হও তুমি।’
কথাটা শেষ করে মনিরুল ইসলাম ছেলের চোখেমুখে চুমু দিতে লাগলো। মুরাদের চোখ থেকেও পানি পড়ে গাল ভিজে গেলো। সে মাথা নিচু করে বাবার ভালোবাসা আর দোয়াগুলো নিতে লাগল।
‘ আজ তোমার মা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতো। ’ মনিরুল ইসলামের কথার বিপরীতে কেউ কোনো উত্তর দিলো না৷
তাসনিয়া দূরে দাঁড়িয়ে ছোট করে জিজ্ঞাসা করল,
‘ভাইয়া, কেমন কোম্পানি? আর বেতন কেমন? কখন থেকে জয়েন করবে?’
মুরাদ হাসল। অধর নেড়ে বলল,
‘একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্টে। বেতন আগের চাকরির থেকে প্রায় চারগুণ। আগামী মাসে জয়েন করব।’
‘ আগামী মাস মানে আর এক সপ্তাহ পর থেকে?’ তাসনিয়া বিহ্বলিত হয়ে গেলো।
‘ হুম।’
‘ ভাইয়া এবার আমরা আব্বু চিকিৎসাটা আরও ভালোভাবে করাতে পারব তাই না?’
‘ ইনশাআল্লাহ। ’
মুরাদ তাসনিয়ার কথায় দুই বোনের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল। তাসনিয়া চোখ ঘুরিয়ে চোখের কোণ থেকে পানি মুছে নিল। বোনের মুখের হাসি আরো বাড়িয়ে দিতে মুরাদ বলল,
‘ ভাবছি আগামী মাসেই আব্বুকে একটা ভালো হাসপাতালে নিয়ে যাব চেকআপের জন্য আর ভালো একজন ডাক্তার দেখাব ।’
তাসনিয়া আর তাসনিফা কিছু বললো না। তারা দুজনের চুপ করে শুনল। মুরাদ আবারও বলল,
‘ ভাবছি প্রথম বেতন পেলে আমরা সবাই মিলে বেড়াতে যাব। অনেকদিন কেথাও যাওয়া হয়নি। ’
‘ঠিক আছে।’ তাসনিয়া একটা মিষ্টি তুলে মনিরুল ইসলামের গালে দিয়ে বলল। মুরাদ সকলের মুখে হাসি দেখে আপন মনে বিরবির করে বলল,
‘ আম্মু আজ যদি তুমি বেঁচে থাকতে এই খুশিটা কত গুণ বেড়ে যেতে, সকলের খুশি ভাগ হয়ে যেতো তোমার সাথে, আমার এই ছোট্ট সফলতায় তুমি খুব খুশি হতে তাই না?’
.......
সন্ধ্যা সাতটা বাজে। ফারাবী কিচেনে ঢুকে কুটকুট করে বিভিন্ন কাজ করছে। প্রথমে নুডুলস রান্না করে নিয়েছে তারপর এখন ফ্রিজ থেকে দুধ বের করছে কফি বানানোর জন্য। ফারাবী নিজের কাজ করছিলো এমন সময় সোহেল রান্নাঘরে আসল। ফারাবী চোখ তুলে ভাইয়ের দিকে তাকাল। তার হাতে নুডুলস এর প্লেট। ফারাবী একটু আগেই নুডুলসের প্লেটটা ডাইনিং টেবিলের উপর রেখে এসে ছিলো কিন্তু সোহেল এসেই সেটা কব্জা করে বসেছে। সোহেল নুডুলস খেতে-খেতে বোনের দিকে তাকাল। ফারাবী গরম পানি গ্লাসে ঢালছিল। নুডুলস খেয়ে সোহেলের ঝাল লাগলো সে ফ্রিজ থেকে পানি বের করে খেলো। ফারাবী সেটা শীতল দৃষ্টিতে দেখল।
‘ শীত এসে গেছে এখন ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে খেলে গলার সমস্যা হবে না?’ ফারাবী গম্ভীর কণ্ঠে বলল।সোহেল অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে বোনের দিকে তাকাল।সোহেলের পক্ষ থেকে তরতর করে উত্তর আসল,
‘ আমার সাথে এতো ডাক্তারীগিরি দেখাতে আসবি না। আমি তোর বড় এটা ভুলে যাস না।’
ফারাবীর রাগ লাগল। কথাটা ও সোহেলের ভালোর জন্য বলেছিলো কিন্তু কথা কানে নিলো না পরে বুঝবে মজা।
‘ভাইয়া কফি খাবি তুই?’ ফারাবী কফি বানাচ্ছিলে ভালো মানসিকতা দেখিয়ে সোহেলকেও জিজ্ঞেস করল।
‘হ্যাঁ, দে৷ তুই দিতে চাচ্ছিস না কী করে বলি। ’
সোহেল নুডুলস খেতে-খেতে কাউন্টারে হেলান দিয়ে দাঁড়াল।ফারাবী এক পলক ভাইয়ের দিকে তাকাল তারপর আরো একটা মগ বের করল। তাতে কফি পাউডার, দুধ, পানি দিলো তারপর চিনির বৈয়মটা খুলে একটা মগে দুই চামচ চিনি দিয়ে দিল। আরেকটা মগেও দুই চামচ চিনি দিতে যাচ্ছিল এমন সব সোহেল জোরেই বলে উঠলো,
‘ অ্যাই থাম গাধা, আমার কফিতে চিনি দিস না।’
ফারাবী সোহেলের কথাই হকচকিয়ে তার দিকে তাকাল।
‘ কী?’
‘ আমি যে কফিতে চিনি খাই না। তুই জানিস না?’ সোহেল বিরক্ত হয়ে বলল।
‘ ওহ, সরি। ভুলে গেছিলাম।’ ফারাবী চোখমুখ কুঁচকে চিনির চামচটা বৈয়মে রেখে দিয়ে বলল।
‘ মন কোথায় থাকে? এই বয়সে এইটুকু কথা কীভাবে ভুলে যাস তুই? এখনই এই অবস্থা হলে ভবিষ্যতে কী হবে?’
‘বললাম তো সরি, ভুল হয়ে গেছে।এটুকুতে এতো কথা বাড়ানোর কী আছে?’ ফারাবী সোহেলের কথায় এবার বিরক্ত হয়ে একটু জোরেই বলল। ফারাবীকে জোরে কথা বলতে দেখে সোহেলের রাগ লাগল। সে নুডুলস প্লেটটা নিচে নামিয়ে রাখল,
‘প্রতিদিন ভুল হয় তোর?নাকি আমাকে বিরক্ত করতে এসব কিছু ইচ্ছে করেই করিস?’
সোহেল শক্ত করে কাউন্টার টপে হাত রাখল। ফারাবী মাথা ঘুরিয়ে সোহেলের দিকে তাকাল।
‘ ইচ্ছে করে মানে? ’ ফারাবী বিরক্তিকর মুখভঙ্গি করে শুধাল।
‘ এতো বড় হয়েছিস আর ইচ্ছে করে মানে কী সেটা জানিস না?’ সোহেল দাঁত কিড়মিড় করে বলল।
‘দেখ ভাইয়া আমি ভুলে গিয়েছিলাম, খেয়াল ছিল না। তোর সাথে এসব নিয়ে ঝগড়ার করার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই, সর তো সামনে থেকে। ’
‘তোর মতো বান্দরের সাথে আমারও ঝগড়া করার কোনো ইচ্ছে নেই। ’ সোহেল চোখ পাকাল।
‘ বিষয়টা এতো বড় করছিস কেন চিনি দিচ্ছিলাম দিইনি তো তাহলে। ’
‘দিচ্ছিলি তো।’
‘ আমার মাথা না খেয়ে সামনে থেকে দূর হ শয়তান,কথা বাড়াস না। আমার বানানোতে যদি তোর এতোই সমস্যা হয় তবে নিজে বানিয়ে খা।’ ফারাবী সোহেলের দিকে এক পা বাড়িয়ে বলল।
‘ ভালো করে কথা বল, শয়তান কাকে বললি?’
‘ কাকে আবার তোকে ৷ তুই নিজে আগে ভালো করে কথা বল। তুই যেভাবে কথা বলছিস তা শুনে মনে হচ্ছে আমি মস্ত বড় কোনো অপরাধ করে ফেলেছি। কফিতে চিনি না দিতে বিষ দিচ্ছিলাম। ’
ফারাবী তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ভাইয়ের দিকে দিয়ে দুহাত কোমরে রাখল।
‘ তাছাড়া কী চিনি মানেই তো বিষ..’
সোহেল আর নিজের কথা শেষ করতে পারলো না তার আগেই ফারাবী সোহেলের জন্য বানানো কফিটা বেসিনে ফেলে দিল৷ তারপর সেখানে ছুঁড়ে মারলো কাপটা। সাথে-সাথে কাপটা কয়েক টুকরো হয়ে গেলো। বোনের এমন কাজে সোহেল হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রয়ল। ফারাবী রাগে আগুন হয়ে নিজের কাপটা হাতে তুলে নিল। ড্রয়িংরুম পার হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে ঢুকল। তারপর জোরে দরজা বন্ধ করে দিল। ঠাস করে একটা শব্দ হলো। সোহেল কিচেনে দাঁড়িয়ে রয়ল। ভাঙ্গা কাপটা দেখে সে নিজেও রাগে গিজগিজ করল। সে ফারাবীর পিছু আসবে এমন সময় তার ফোনটা বেজে উঠল। সোহেল ফোনটা বের করে দেখলো সায়ানের নাম। সে কলটা রিসিভ করতে-করতে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো। মেয়েটাকে সে পড়ে মজা দেখাবে।
চলবে...
[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]