ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় অক্টোবর

৩৭তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তাসনিম

#প্রিয়_অক্টোবর

#সাদিয়া_তাসনিম

৩৭.

আজকে সায়ানের একক প্র্যাকটিস সেশন ছিলো তাই সে তাড়াতাড়ি এসে শারীরিক প্র্যাকটিসগুলো করে নিয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা একটানা প্র্যাকটিস করার পর সায়ান যখন ড্রেসিং রুমে ফিরল, তখন তার পুরো শরীরটা ঘামে ভিজে ছিলো।গোসল সেরে ফ্রেশ হয়ে সায়ান ড্রেসিং রুমে নিজের আরো টুকিটাকি কাজ শেষ করে সায়ান সেখান থেকে বেরিয়ে আসল। সায়ান যখন ড্রেসিং রুম থেকে বের হলো, তখন ঘড়িতে সকাল সাড়ে আটটা বাজে। বাইরে হালকা রোদও উঠেছে। আজও তার পরে কয়েকজন খেলোয়াড় এসেছে। সে তাদের সাথে ভাব বিনিময় করলো। তারপর সেখানে বেশিক্ষণ থাকলো না। নিজের গাড়ির দিকে হাঁটা দিলো। সে গাড়িতে উঠে মোবাইলটা একবার নিজের অভ্যাস মতো চেক করল। কয়েকটা মেসেজ এসেছে, তার ম্যানেজার ইমন, টিম ম্যানেজার আর কোচের কাছ থেকে। সে আস্তে-ধীরে সব মেসেজের রিপ্লাই দিলো। তার এখন প্রবল ইচ্ছে হলো বাসায় গিয়ে দু'ঘন্টার মতো ঘুম দিবে। সে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রওনা দিলো। স্টেডিয়াম থেকে অনেকটা দূরে আসার পরে সায়ানের চোখ পড়ল রাস্তার পাশে থাকা একটা সুন্দর, ছোট্ট খাটো ফুলের দোকানের দিকে। দোকানটা সবে খুলছে। দোকানে এতো এতো ফুল দেখে সায়ানের মস্তিষ্কে তড়াক করে কিছু এটা আসল। সে একটু এগিয়ে গিয়ে দোকানের সামনে গাড়ি দাঁড় করাল। গাড়ি থেকে নেমে দোকানের দিকে এগিয়ে গেল। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সে বিভিন্ন ধরনের ফুল দেখতে লাগলো। সে লক্ষ্য করলো দোকানি একজন বৃদ্ধ লোক। সায়ান ফুলগুলোর দিকে তাকাতেই তার চোখের সামনে একজনের মুখ ভেসে উঠল। তার প্রশান্ত বুকের ভেতর টিপ টিপ করে ঝড়ে পড়লো অনূভুতির ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি। পরমুহূর্তেই তার চোখের সামনে আরো একজনের মুখ ভেসে উঠল। সায়ানের এতোক্ষণে ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা হাসিটা চওড়া হলো। সে ফুলগুলো দেখে নম্র ভাবে দোকানিকে সালাম দিলো,

' আসসালামু আলাইকুম চাচা।'

বয়স্ক লোকটি দোকানের ভিতর থেকে মাথা তুলে সায়ানের দিকে তাকাল। সায়ানকে চিনতে চেষ্টা করলো কিন্তু পারল বলে মনে হলো না। সে নড়েচড়ে গুটি গুটি পায়ে ভিতর থেকে বাহিরে আসল। নাক টেনে ভারী নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,

' ওয়ালাইকুম আসসালাম বাবা। কিছু লাগবে?'

' জি কিছু ফুল লাগবে।'

' কী ফুল?দেখো কত ফুল আছে। পছন্দ হলে বল।'

সায়ান দোকানির কথাগুলো শুনে ফুলগুলোর দিকে তাকাল। এখানে নানা রঙের ফুল সাজানো গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, জিনিয়া, সূর্যমুখীসহ আরো অনেক রকমের ফুল। এতো এতো ফুলের মধ্যে সায়ানের চোখ আটকে গেল হলুদ গোলাপ আর সূর্যমুখী ফুলের দিকে।

'চাচা, হলুদ গোলাপ দেন তো।'

সায়ান ফুলগুলো দেখতে দেখতে সুস্থির কন্ঠে কথাটা বলল। বৃদ্ধ সায়ানের দিকে কোমল দৃষ্টিতে তাকাল।

' কতগুলো লাগবে বাবা?'

সায়ান মাদকীয় দৃষ্টিতে হলুদ গোলাপগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,

' অনেকগুলো দিন। দুইটা বুকে তৈরি করে দিন।'

দোকানদারের ঠোঁটে হাসি ফুটলো। সে মাথা নেড়ে হলুদ গোলাপগুলো বাছাই করতে শুরু করল। তাজা, সুন্দর ফুলগুলো বেছে বেছে একটা বুকে সাজাতে লাগল। সে নিজের কাজটা করতে করতেই বলল,

' আর কিছু লাগবে বাবা?'

বাহিরে থাকা মুচড়ে যাওয়ার ফুলগুলোর দিকে নিজের দৃষ্টি দু অধর নেড়ে সে জিজ্ঞাসা করল,

' তাজা সূর্যমুখী আছে? এখানের গুলো কেমন একটা হয়ে গেছে।'

' হ্যাঁ, ভেতরে আছে। এগুলো কালকের তাই এমন অবস্থা। তা কয়টা লাগবে?'

বৃদ্ধ নিজের হাতের কাজটা শেষ করে প্রত্যুত্তর করল। সায়ান তাজা ফুল আছে শুনে মহা উৎসাহে বলল,

' দুটো দিন। সবচেয়ে সুন্দর দুটো বেছে দিন।'

বৃদ্ধ দোকানি প্রশ্নটা আর চেপে রাখতে পারলো না। সে এবার ছোট্ট করেই সায়ানকে জিজ্ঞাসা করল,

' বিশেষ কারো জন্য নিয়ে যাচ্ছ মনে হচ্ছে?'

' জি চাচা আপনার বউমার জন্য। '

বৃদ্ধ লোকটা হাসলো। কী স্নিগ্ধ সেই হাসি। সায়ান কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই সে নিজে থেকে বলল,

'তোমার চাচি বেঁচে থাকতে আমি দোকান থেকে কত ফুল নিয়ে যেতাম। '

সায়ান এখানে কিছু বলার মতো খুঁজে পেলো না তবে কথাগুলো বলার সময় দোকানির ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি দেখে সে নিজেও হাসল। দোকানি নিজের মতো কথা বলে আবারও নিজের মতো কথা বলে আবার নিজের মতোই কাজ করতে লাগলো। তিনি খুব যত্ন করে দোকানের ভেতর থেকে দুটো বড়, তরতাজা সূর্যমুখী ফুল বেছে নিয়ে আসল। তারপর হলুদ গোলাপগুলো সুন্দর করে মুড়ে একটা বুকে তৈরি করল। পুরো বুকেটাতে প্রায় পঞ্চাশটার মতো হলুদ গোলাপ, তার চারপাশে সবুজ পাতা দিয়ে সাজিয়ে, সুন্দর কাগজ দিয়ে মুড়ে একটা রিবন দিয়ে বেঁধে দিল। এভাবে আরো একটা বুকে তৈরি করে দিলো। বৃদ্ধটা নিজের কাজ শেষ করে প্রসস্থ হেঁসে বলল,

' নেও বাবা। এগুলো দেখলে বউমা খুব খুশি হবে।'

সায়ান টাকা দিয়ে ফুলের বুকে আর সূর্যমুখী ফুলটা তার হাত থেকে নিলো।

সে গাড়ির দিকে যাওয়া আগে নিজের ভারিক্কি গলায় বলল,

' এখনো বিয়ে হয়নি চাচা, দোয়া করো যেনও তোমার বউমাকে দ্রুত ঘরে আনতে পারি। '

বৃদ্ধ সায়ানের কথায় স্নিগ্ধ হেঁসে তার মাথায় হাত রেখে বলল,

'আল্লাহ তায়ালা তোমার সব নেক আশা পূর্ণ করুক বাবা। '

সায়ান বৃদ্ধের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠল। গাড়ির পেছনের সিটে ফুলের বুকে আর সূর্যমুখী ফুলগুলো যত্ন করে রেখে দিলো। এবার তার গন্তব্য পরিবর্তন হলো। বাড়ি ফেরার বদলে সায়ান গাড়ি ঘুরিয়ে ফারাবীর বাড়ির দিকে যেতে লাগলো।একটা বুকে সে ফারাবীর জন্য নিয়েছে আর একটা বুকে সে আসমা বেগমের জন্য নিয়েছে। প্রায় পঁচিশ মিনিট পর সায়ান ফারাবীর বাড়ির সামনে এসে গাড়ি দাঁড় করাল। সায়ান গাড়িতে বসেই মোবাইল বের করে ফারাবীর নাম্বারে কল দিল। প্রথমবারেই ফারাবী কলটা রিসিভ করল।

' হ্যালো?'

ফারাবী ব্যস্থ কণ্ঠে বলল।

' নিচে এসো। '

' মানে?'

'আমি তোমার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তুমি এখনই একবার নিচে আসো। '

' এখন? কিন্তু কেন? আমি এখন কলেজে যাবো।'

' যাও, আমি যেতে নিষেধ করলাম নাকি?শুধু পাঁচ মিনিটের জন্য নিচে আস৷ '

' কেন?জরুরি কিছু নাকি?'

' আরে বাবা এতো কথা না বলে দ্রুত নিচে আসো তো। '

ফারাবী বুঝলো সে এখন লোকটার সাথে কথায় পারবে না তাই সে আার কথা বাড়ালো না বরং ছোট্ট করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

' ঠিক আছে, আসছি। দু'মিনিট অপেক্ষা করুন।'

কথাটা বলেই ফারাবী ফোন কেটে দিলো। সায়ান ফোনটা পকেটে রেখে গাড়ির ব্যাকসিট থেকে ফুলগুলো নিয়ে গাড়ি থেকে নামল। প্রায় তিন-চার মিনিট পরে ফারাবী বাসা থেকে বেরিয়ে আসল। ফারাবী দ্রুত পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,

' কী হয়েছে সায়ান? এত সকালে আপনি এখানে কেন?'

সায়ান মেয়েটার দিকে স্নিগ্ধ চোখে তাকিয়ে রয়ল। সে কিছু বললো না। শুধু হাতে থাকা ফুলগুলোর দিকে তাকাল। ফারাবীও তখন খেয়াল করল সায়ানের হাতে ফুলের বুকে আর দুটো সূর্যমুখী ফুল। সায়ান ইশারা করে তাকে ফুলগুলো দেখালো। ফারাবী সেটা দেখে অবাক হলো। তারপর একটু আমতাআমতা করে বলল,

' এগুলো..এগুলো কার জন্য?'

সায়ান একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে মেয়েটার দিকে এগিয়ে এলো। সে ফুলগুলো ফারাবীর দিকে এগিয়ে দিয়ে রসিকতার সাথে বলল,

' তোমার মতো পেত্নীর জন্য? '

লোকটার কথায় ফারাবী বিরক্ত হয়ে আওড়ালো,

' ফালতু লোক। '

মেয়েটার কথায় সায়ানের ঠোঁটের কোণের হাসি চওড়া হলো। সায়ান দুটো সূর্যমুখী ফুল ফারাবীর দিকে এগিয়ে দিল। ফারাবী তাজা সূর্যমুখী ফুল দু'টোকে কিছুক্ষণ দেখলো তারপর সায়ানের দিকে তাকাতেই তাদের চোখাচোখি হলো৷ তবে কেউ নিজেদের দৃষ্টি সরালো না। সায়ান ফারাবীর চোখে চোখ রেখে নরম গলায় জিজ্ঞাসা করল,

' বলতো তোমাকে দুইটা সূর্যমুখী ফুল দিচ্ছি কেন?'

'জানি না, ফুল তো দিচ্ছেন আপনি৷ আপনিই বলেন। '

'সানফ্লাওয়ার থিওরি সম্পর্কে জানো?"

ফারাবী না সূচকে মাথা নাড়ল,

' না, সেটা আবার কী?'

সায়ান মেয়েটার দিকে ফুলগুলো বাড়িয়ে শীতল, সাবলীল ভাবে বলল,

' এই থিওরিতে বলা হয়েছে, তুমি যখন কাউকে সূর্যমুখী ফুল দিবে তখন তাকে একটার বদলে দুইটি দিবে কারণ সূর্যমুখী ফুলের একটা খুব সুন্দর বৈশিষ্ট্য আছে। দিনের বেলায় যখন আকাশে সূর্য থাকে, তখন সূর্যমুখী ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। তারা দুজন দুদিকে ঘুরে থাকে তবে যখন সন্ধ্যা নামে, রাত হয়, চারপাশে অন্ধকার নামে তখন সূর্যমুখী ফুলগুলো কী করে জানো?'

সায়ানের প্রশ্নের ফারাবী কুণ্ঠিত স্বরে আওড়ালো,

' কী করে?'

'রাতের বেলায় যখন চারপাশে কোনো যায়গায় আলো থাকে না তখন সূর্যমুখী ফুলগুলো একে অপরের দিকে মুখ করে নেয়। তারা একে অপরের মধ্যে আলো খুঁজার চেষ্টা করে। তারা একে অপরের আলো হয়ে ওঠার চেষ্টা করে।'

লোকটার কথাগুলো শুনে সে স্থির দৃষ্টিতে সায়ানের দিকে তাকিয়ে রইল। সায়ান নরম গলার, আন্তরিকতার সহিত বলল,

'এই তাজা সূর্যমুখী,ফুলেদের মতো আমিও তোমার সূর্যমুখী হতে চাই ফারাবী। আমি তোমার মুক্ত আকাশ হতে চাই ফারাবী, যার কাছে তোমার কোনো বাঁধা থাকবে না, কোনো দ্বিধাবোধ থাকবে না। '

লোকটার কথাগুলো ফারাবীর কাছে জাদুর মতো লাগলো৷ একে সে লোকটার উপরে দুর্বল তারপর নিত্যনতুন দিন এমন এমন কাজ করে তার মনটাকে নিজের প্রতি আরো দুর্বল করে দেয়। ফারাবী খুশি হয়েই সায়ানের হাত থেকে সেগুলো নিয়ে বলল,

' ধন্যবাদ। '

মেয়েটার মুখ থেকে ধন্যবাদ শুনতে সায়ানের ভালোই লাগলো।

' শুধু ধন্যবাদ? '

ফারাবী সায়ানের কথায় নিজের ভ্রুঁ কুঁচকে নিলো। সায়ান আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই ফারাবী শীতল কন্ঠে বলে উঠলো,

' আমার কলেজের জন্য দেরি হচ্ছে আপনি থাকেন। '

এটুকু বলে ফারাবী সায়ানকে আর কিছু বলার সুযোগটুকু দিলো না তার আগেই সে দ্রুত পায়ে সেখান থেকে বাসার ভিতরে ঢুকে পড়লো। সায়ান চুলে হাত চালিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসল। সে ভেবেছিলো মেয়েটা ফুলগুলো নিবে না কিন্তু নিয়েছে এটাই তার জন্য অনেক।

.......

মনিরুল ইসলাম অনেকদিন পর বাইরে বের হয়েছেন। ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ ছিলো তাই তাকে আসতে হয়েছে। বিকালের দিকে বেরিয়ে ছিলেন এখন সন্ধ্যা হতে চললো। তিনি ব্যাংকের কাজটা শেষ করে বাসার পথে রওনা হলেন। ব্যাংকে যে আশা নিয়ে গিয়েছিলেন সেটা পূর্ণ হলো না। টাকাগুলো হয়তো আর পাওয়া হবে না। মনিরুল ইসলামের মনটা আগের থেকে অনেক খারাপ হয়ে আছে। তার এখন মনে হতে লাগলো এখানে না আসলেই হয়তো অনেক ভালো হতো। মনিরুল ইসলাম অন্যমনষ্ক হয়ে রাস্তা পার হওয়ার জন্য পা বাড়ালেন। তিনি যখন রাস্তার মাঝখান বরাবর ঠিক তখনই একটা গাড়ি তার বিপরীত পাশ থেকে খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছিল। গাড়িতে থাকা মানুষটা হুট করে রাস্তার সামনে চলে আসা লোকটাকে দেখে গাড়ির ব্রেক কষল কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। মনিরুল ইসলাম গাড়িটার সাথে ধাক্কা খেয়ে দূরে গিয়ে পড়লেন। এমন একটা অবস্থা দেখে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিটা দ্রুত গাড়ি থেকে বের হয়ে আসল। চারপাশে তখন মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছে। সাজিদ গাড়ি থেকে বের হতেই একজন রাগান্বিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বলল,

'কী করলেন এটা? গাড়ি চালাতে জানেন না নাকি? আরেকটু হলেই তো লোকটা চাপা পড়ত। '

সাজিদ তাদের কথায় কান দিলো না।সে মনিরুল ইসলামের কাছে এগিয়ে গেলো। মনিরুল ইসলাম তখন ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন। তার হাঁটুতে আঘাত লেগেছে, কপাল থেকে একটু রক্ত বেরি হচ্ছে। সাজিদ কাছে গিয়ে তাকে ধরল তবে মনিরুল ইসলাম ততক্ষণে নিজের জ্ঞান হারিয়েছেন। আশেপাশের লোকজন সাজিদের উপর রাগারাগি করা শুরু করলো তবে সাজিদ তাদের সবাইকে থামিয়ে দিয়ে মনিরুল ইসলামকে তার গাড়িতে তুলে দিতে বলল। তারা সকলে মনিরুল ইসলামকে সাজিদের গাড়িতে তুলে দিলো৷ দুজন লোকও তার সাথে গাড়িতে উঠল। সাজিদ তাদেরকে নিয়ে হসপিটালের দিকে রওয়া দিলো।

.....

সন্ধ্যার আলো-আঁধারির সময়ে সায়ানের সেট করা এলার্ম বাজলো। সায়ান বিরক্ত হয়ে সেটা বন্ধ করে একপাশে রেখে দিলো। কিছুক্ষণ আগে সূর্য পশ্চিমে ডুব দিয়েছে।সায়ান তার রুমে শুয়ে মোবাইলে কিছু একটা স্ক্রল করছে। সকালে প্র্যাকটিস করে দুপুরে আবারও স্টেডিয়ামে গিয়েছিলো একটা কাজে। সেখান থেকে এসে দুপুরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। এইমাত্র ঘুম থেকে উঠল। ঘড়িতে এখন সন্ধ্যা ছয়টা বাজে। সায়ান এতোক্ষণ ঘোড়া বেঁচে শুয়ে ছিলো কিন্তু হুট করে তার ইমন ভাইয়ের কথা মনে পরল। আজ সন্ধ্যায় তো ইমন ভাইয়ের আসবার কথা। সায়ানের একটা ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করার কথা হচ্ছে। সেটা নিয়েই তারা কথা বলবে। ইমনের আসবার কথাটা মনে পড়তেই সায়ান তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে আসল। ওয়াশরুমে গিয়ে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেশ হয়ে এলো।

সায়ান ট্রাউজার পরে শুয়েছিলো। গায়ে কোনো শার্ট নেই।

সে তাড়াতাড়ি ক্লোজেট থেকে একটা শার্ট বের করে সেটা হাতে নিয়েই নিচে নেমে আসল। হাই প্রোটিন ডায়েট আর ট্রেনিং-এর কারণে তার দেহের গড়ন আকর্ষণীয়, চওড়া কাঁধ আর লম্বা হওয়াই তাকে আরো মারাত্মক সুন্দর লাগে।

সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সে নিচ থেকে ইমনের কথাবার্তার আওয়াজ শুনতে পেলো। সে একটু তাড়াতাড়ি নেমে সোফার দিকে এগিয়ে গেলো।

ড্রয়িং রুমে ঢুকেই সায়ান দেখল ইমন সোফায় বসে আছে। তার সাথে সাহাদও বসে গল্প করছে। কফি টেবিলের উপর ইমন নিজের ল্যাপটপ খুলে সাহাদকে কিছু বলছে আর হাসছে। সাহাদও হাসছে।

'কখন আসলে ইমন ভাই?'

সামনে বসা ইমনকে নরম দৃষ্টিতে পরখ করে সায়ান সামনের দিকে আগাতে আগাতে অস্ফুট স্বরে আওড়ালো। তবে সে কাউকে উত্তর দেওয়া সময়টুকু না দিয়ে সচকিত কন্ঠে সাহাদকে জিজ্ঞাসা করল,

' আমাকে ডাকতে পারলি না? ভাই কখন থেকে বসে আছে। '

সায়ানের থেকে বয়সে বড় ইমন। ছেলেটা সবসময় তাকে বড় ভাইয়ের মতো দেখে। মাঝেমাঝে এমন কাজ করে ফেলে যে সে নিজেই অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে পরে যায়। ইমন সায়ানের কথাগুলো শুনে মাথা তুলে সায়ানের দিকে তাকাল। ইমনের বয়স বত্রিশের কাছাকাছি।সে সায়ানকে নিজের ভাইয়ের মতোই ভালোবাসে ইমনের চেহারায় একটা ধীরস্থির ভাব লক্ষ্য করা যায়, যা তার চমশার জন্য আরো ভালো করে লোকজনের সামনে উন্মুক্ত হয়। সায়ানকে শার্ট বিহীন দেখে সাহাদ আর ইমন দুজনই একবার তার দিকে তাকিয়ে একে-অপরের দিকে তাকাল, এই ছেলেটা কখনো ঠিক হবে না। ইমন তার চশমার আড়াল থেকে চোখ জোড়া সায়ানের দিকে দিলো। সাহাদ কিছু বলার আগে সেই দু অধর নেড়ে বলল,

'আরে ওকে কিছু বলেন না স্যার। আমি এইমাত্র এসেছি,পাঁচ মিনিটও হবে না। আপনি আস্তে-ধীরে আসেন।'

সায়ান স্থির দৃষ্টিতে একবার ইমন ভাইয়ের দিকে তাকাল। তারপর ছোট্ট পায়ে সোফার দিকে এগিয়ে গেল। সে এসে ইমনের উল্টো দিকের সোফায় বসল। সাহাদ তখন তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।

' কী ব্যাপার ইমন ভাই? কোন ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করতে হবে?' সায়ান সোফায় বসতে না বসতেই ঠোঁট গোল করে জিজ্ঞাসা করলো। সে সরাসরি বিষয়ে চলে এলো। ইমন ল্যাপটপের স্ক্রিন ঘুরিয়ে সায়ানের দিকে করল। সে সায়ানের দিকে চেয়ে বলল,

' এটা একটা স্পোর্টস ব্র্যান্ড, নাম ভেলোসিটি। তারা স্পোর্টস শু, অ্যাথলেটিক গিয়ার, ফিটনেস ইকুইপমেন্ট এসব জিনিস নিয়ে কাজ করে। খুব ভালো একটা ব্র্যান্ড। মার্কেটেও তাদের বেশ সুনাম আছে।'

সায়ান ইমনের কথাগুলো শুনতে শুনতে স্ক্রিনের দিকে তাকাল। সেখানে ব্র্যান্ডের লোগো, প্রোডাক্টের ছবি ইত্যাদি জিনিস দেখাচ্ছে। সায়ানের সেটা ভালো লাগলো। তবুও সে থমথমে গলায় বলল,

'হুম, ভালোই তো দেখতে। এখন সরাসরি বলো তারা কী চাইছে আমার কাছ থেকে?'

ইমন তার সাথে আনা ফাইলটা খুলে কিছু কাগজপত্র বের করল। সে ঠান্ডা স্বরে বলল,

' তারা আপনাকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বানাতে চায়। আপনি তো জানেনই, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলে আপনাকে তাদের প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে, প্রমোট করতে হবে। এডভার্টাইজমেন্ট শুট করতে হবে। ইভেন্টে যোগ দিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও প্রচার করতে হবে।'

' ঠিক আছে। কন্ট্র্যাক্ট কতদিনের?'

'এক বছরের তবে পারফরম্যান্স ভালো হলে রিনিউ করা যাবে। '

' ওকে। '

'আর পেমেন্টের ব্যাপারে বলছে প্রথম ইন্সটলমেন্ট পাবে সাইন করার সাথে সাথে। তারপর প্রতি কোয়ার্টারে পেমেন্ট হবে।'

সাহাদ সায়ানকে রাজি হয়ে যেতে দেখে শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো,

' সায়ান ভাই যদি ভেলোসিটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয় তবে ব্র্যান্ডের সেলসটা অনেকগুণ বাড়বে এটাতে আমি একশোভাগ নিশ্চিত, বাহিরে এর যা পাগলা ফ্যান আছে,আল্লাহ! '

' তারাও নিশ্চিত সেইজন্য সায়ানকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করছে। '

সাহাদ ঠোঁট গোল করে বলে ইমনকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

' ভাই আমি এমন একটা ব্যান্ড বানাবো তারপর ভাইকে দিয়ে প্রোমোশনার কাজবাজ করাবো তবে ফ্রিতে। '

সাহাদের কথায় সায়ান আর ইমন দু'জনই হাসলো। আসমা বেগম দ্রুত পায়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তার পেছনে দুজন সার্ভেন্টও আসল। একজনের হাতে চায়ের ট্রে, অন্যজনের হাতে স্ন্যাকসের প্লেট।

' কেমন আছো বাবা?'

আসমা বেগম ইমনের কাছে দাঁড়িয়ে স্নেহের স্বরে জিজ্ঞেস করলেন। ইমনও মুখে হাসি নিয়ে স্নেহময় গলায় বলল,

'আলহামদুলিল্লাহ ভালো আন্টি। আপনি কেমন আছেন?'

' এই যে ভালো, শুনেছে তো সামনে সাফওয়ান আর সাদমানের বিয়ে তা?'

' জি আন্টি।'

' দাওয়াত রইলো, সপরিবারে আসবে কিন্তু। '

' অবশ্যই আন্টি।'

সার্ভেন্টরা কফি টেবিলে চা আর স্ন্যাকস রেখে চলে গেল। আসমা বেগম নিজে ইমনের কাপে চা ঢেলে দিলেন। ইমন সেটা দেখে বিনীতভাবে বলল,

' আন্টি আপনাকে কষ্ট করে এটা করতে হবে না। আমি নিজেই নিতে পারতাম।'

'আরে পাগল কিসের কষ্ট? তুমি তো আমার ছেলের মতো। ছেলের কাজে আবার কষ্ট কীসের?'

আসমা বেগম স্নেহভরে ইমনের মাথায় হাত রেখে বলল। ইমন চায়ের কাপ হাতে নিতেই সায়ান বলল,

' আম্মু আমার?'

' আমার কাজ আছে। আল্লাহ তায়ালা তোমাকে দু'টো হাত দিয়েছে ঢেলে খাও একটু।'

সায়ান এতোক্ষণ ইমন আর তার মায়ের স্নেহময় মূহুর্ত উপভোগ করছিলো। আসমা বেগমকে ইমনকে এতো আদর করতে দেখে খুশিও হয়েছিলো কিন্তু এখন নিজের সাথে এতো

বড় অন্যায় হতে দেখে সায়ান চোখজোড়া ছোট্ট ছোট্ট করে নিলো। মায়ের উপর থেকে চোখ সরিয়ে সায়ানও তার কাপে চা নিল। সাহাদও চা খাচ্ছে। আসমা বেগম তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন রান্নাঘরের দিকে। আসমা বেগম চলে যাওয়ার পর তারা আবার আলোচনায় ফিরে এলো। ইমন কাগজপত্র দেখিয়ে সায়ানকে বোঝাতে লাগল কী কী শর্ত আছে। কতদিন কাজ করতে হবে, কত টাকা পাবে, কী কী কাজ করতে হবে সব বিস্তারিত বলতে লাগলো।

'আগামী মাসে প্রথম শুট হবে। লোকেশন ঢাকার বাইরে, কক্সবাজারে। তারা একটা বিচ শুট করতে চায়। তাদের শু পরে আপনাকে জগিং করতে হবে। তারপর হয়তো একটা জিমে ওয়ার্কআউট করার সিন। সব মিলিয়ে দুই দিনের শুট।'

ইমন কাগজপত্রগুলো দেখে সায়ানকে ব্যাখ্যা দিয়ে বলল।

' ঠিক আছে। আমার কোনো সমস্যা নেই ইমন ভাই তবে আমার প্র্যাকটিস শিডিউলটা একবার চেক করে নিবেন যাতে ম্যাচের আগে এসব কাজ না পড়ে।'

সায়ান চায়ের কাপে ছোট্ট করে চুমুক দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল।

' জি চিন্তা করবেন না স্যার। আমি আপনার কোচের সাথে কথা বলে সবকিছু অ্যারেঞ্জ করে নিব।'

এভাবে কথা বলতে বলতে প্রায় ঘণ্টা পার হয়ে গেল। ইমন সব কাগজপত্র গুছিয়ে নিলো।

'তারা এই সপ্তাহের মধ্যে আপনার উত্তর শুনতে চেয়েছে।'

' জি ইমন ভাই, হ্যাঁ করে দাও। '

' তাহলে আমি আজকের মতো উঠি।'

ইমন নিজের ব্যাগটা নিয়ে উঠে দাঁড়াল। সায়ানও তার সাথে উঠল। সে স্ফূর্ত স্বরে বলল,

' কাল দেখা হচ্ছে। '

ইমন হেঁসে বললো,

' জ্বি,গুড নাইট স্যার।'

সাহাদও সায়ানের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিলো। ইমন যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেও আবারও ঘুরে দাড়ালো। সে এবার সায়ানের উদ্দেশ্য মেঘমন্দ্র গলায় বলল,

' স্যার, আরেকটা কথা। আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটু বেশি অ্যাক্টিভ হওয়া দরকার। ফ্যানরা আপনার নিত্যদিনের আপডেট জানতে চায় আর ব্র্যান্ডরাও দেখে আপনার ফলোয়ার এনগেজমেন্ট কেমন।'

' ঠিক আছে ভাই। আমি আরো অ্যাক্টিভ হওয়ার চেষ্টা করব।'

ইমন আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেল। সায়ান আর সাহাদ দরজা বন্ধ করে ড্রয়িং রুমে ফিরে এলো। সায়ান সোফার উপর থেকে নিজের ফোনটা হাতে তুলে সাহাদকে উদ্দেশ্য করে নির্বিকার ভঙ্গিতে প্রশ্ন করল,

' সাজিদ কোথায়? ওকে দেখছি না কেন?'

সাহাদ ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর দিল,

' কী জানি, বিকাল থেকে ওকে আমিও দেখছি না। '

সায়ান ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে জিজ্ঞাসা করল,

' ঝগড়া হয়েছে নাকি?'

সাহাদ একরোখা গলায় জবাব দিলো,

' না। '

বাড়ির কলিং বেল বাজতেই একজন সার্ভেন্ট এসে দরজা খুলে দিলো। সায়ান আর সাহাদ সেদিকে লক্ষ করলো না। মইনুল শেখ দ্রুত পায়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। তার পেছনে সাফওয়ান আর সাদমানও আছে। তিনজনই অফিস থেকে ফিরছে। মইনুল শেখ ভেতরে ঢুকেই দেখলেন সায়ান সোফায় বসে আছে। ছেলেকে দেখে তার মুখভঙ্গি পাল্টে গেলো। তার চোখ সংকুচিত হলো। তিনি সোজা সায়ানের দিকে এগিয়ে এলেন। কোনো কথা না বলেই হাতে থাকা ভারী ব্রিফকেসটা সায়ানের দিকে ছুঁড়ে মারলেন। মইনুল শেখের হঠাৎ এমন আক্রমণের জন্য সায়ান মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ব্রিফকেসটা সজোরে তার বাম কাঁধে আঘাত করল।

' আউচ। '

কাঁধে আঘাত লাগার সাথে সাথে সায়ানের মুখ থেকে শব্দ বের হয়ে আসল। সাহাদ বাবার এমন কাজে হতভম্ব হয়ে গেল। সাদমান আর সাফওয়ান যা ভয় পেয়েছিলো তাই হলো। তারা দুজনে দ্রুত গিয়ে মইনুল শেখকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো।

'আব্বু কী করছো বেচারাকে মেরো না?'

সাদমান বাপকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তাকে শান্ত করার জন্য কথাটা ধীমস্বরে বলল।

' আব্বু প্লিজ, বাদ দাও।'

সাফওয়ানও বাবার হাত ধরে বলল। কিন্তু মইনুল শেখ রাগের ফলে কারোর কথা কানে তুললো না। রাগে তার চোখমুখ কুঁচকে আছে। চোখজোড়া রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। তিনি সাফওয়ান আর সাদমানকে নিজের থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে রাগান্বিত কন্ঠে বললেন,

'ছাড়ো আমাকে। আজ এই ছেলের একদিন না হয় আমার একদিন। '

সায়ান কাঁধে হাত দিয়ে তখনও বসে আছে। সে বুঝতে পারছে না কী কারণে তার বাপ এতো ভয়ংকর ভাবে রেগে আছে। সায়ান মুখ কুঁচকে নিয়ে বলল,

' আব্বু, কী হয়েছে? এতো রেগে আছো কেন? আমি আবার কী করলাম?'

' কী করলাম মানে? তুমি জানো না তুমি কী করেছো। তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করছো তুমি কী করেছো?থাপ্পড় দিয়ে তোমার সব দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব। '

মইনুল শেখ দাঁতে দাঁত কিড়মিড় করে কথাটা বললেন। বসার রুম থেকে চিৎকার চেচামেচির শব্দ শুনে আসমা বেগম রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এখানে চলে আসলেন।

' কী হয়েছে? এত চিৎকার করছেন কেন?'

আসমা বেগম ভিতর থেকে বাহিরে আসতে আসতে জিজ্ঞাসা করলেন৷ মইনুল শেখ তার স্ত্রীর দিকে ঘুরে তাকালেন। তিনি অনেক বিরক্ত হয়ে বললেন,

'আমার চিৎকারই তোমার চোখে পড়ে। জানো, তোমার এই সোনার টুকরো ছেলে কী করেছে? আমার একাউন্ট থেকে আঠারো লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছে। আঠারো লক্ষ টাকা আসাম।'

আসমা বেগম আর সাহাদ হতবাক হয়ে গেল। আঠারো লক্ষ টাকা?আসমা বেগম সায়ানের দিকে তাকালেন। অবাক কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন,

' সায়ান বাবাকে না জানিয়ে এতো টাকা নিয়েছো?'

'না আম্মু আমি কিন্তু গতকাল সকালেই আব্বুকে বলেছিলাম ব্যাংক থেকে কিছু টাকা নিব। তোমার বরের কাছে জিজ্ঞাসা কর। তোমার স্বামীই আমাকে টাকা নিতে বলেছিলো।'

আসমা বেগম ভ্রু কুঁচকে মইনুল শেখের দিকে তাকালেন। মইনুল শেখ কন্ঠে বিরক্তি ঢেলে বলল,

' আমি কী জানতাম তুমি এতো টাকা তুলবে তা?

সায়ান মইনুল শেখকে রাগাতে বলে উঠলো,

' জানা উচিত ছিলো। নিজের ছেলেকে এখনো চেনো না কেমন বাপ তুমি?'

সায়ান কথাটা মজার ছলে বললেও আসমা বেগমের কথাটা মোটেও ভালো লাগলো না। তিনিই ছেলেকে ধমক দিয়ে বলে উঠলেন,

' সায়ান,ভালোভাবে কথা বলো বাবার সাথে। '

সায়ান মায়ের ধমক শুনে নরম গলায় মায়ের কাঁধে মুখ রেখে বলল,

' সরি আম্মু, আসলে টাকা আমার প্রয়োজন ছিলো। '

সাফওয়ান সায়ানের দিকে এগিয়ে এসে ছোট্ট করে জিজ্ঞাসা করল,

' কী প্রয়োজন হুম? আবার দামী কিছু কিনেছিস নাকি?'

চলবে....

[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন