ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল খামে লুকানো ভালোবাসা 💙💌

পর্ব 1

লেখক: Parijat

নীল খামে লুকানো ভালোবাসা💙💌
✍️পারিজাত

পর্ব ০১- চৌধুরী ভিলা
সকাল ৭টা ৩০ মিনিট।
চৌধুরী ভিলার বিশাল বাড়িটা ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। বাড়ির সামনের বাগানে ফুল ফুটেছে, পাখির কিচিরমিচিরে চারপাশ মুখরিত। কাজের লোকেরা সকালের নাশতার আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত।
কিন্তু বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন একজন।
নীলাআআ!
রুমের দরজা খুলে চিৎকার করে উঠল তাসু।
বিছানায় মুখ গুঁজে শুয়ে থাকা নীলা বালিশটা মাথার ওপর টেনে নিল।
কী হয়েছে? বাড়িতে আগুন লাগছে নাকি?
তাসু কোমরে হাত দিয়ে বলল,
তার থেকেও বড় বিপদ। নিচে পরোটা শেষ হয়ে যাচ্ছে!
নীলা এক লাফে উঠে বসল।
কী বললি? আমার পরোটা কে খাচ্ছে?
তাসু হাসতে হাসতে বলল,
তাড়াতাড়ি আয়। না হলে সব সামির ভাই খেয়ে ফেলবে।
ওই বাদাম চোরকে আজ আমি দেখে নেব!
কথাটা বলেই নীলা ওড়নাটা হাতে নিয়ে দৌড় দিল।
ডাইনিং রুম।
বড় টেবিলের এক পাশে বসে আছেন মাহবুব চৌধুরী। পাশে সালমা বেগম। কামাল চৌধুরী পত্রিকা পড়ছেন আর জাহিদ চৌধুরী চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন।
টেবিলের অন্য পাশে রাফি আর রিদওয়ান নিজেদের মধ্যে কোনো একটা বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করছে।
আর মাঝখানে বসে সামির বেশ আয়েশ করে পরোটা খাচ্ছে।
তাসু এসে সামিরের সামনে দাঁড়াল।
সামির ভাই!
জি, ছোট ম্যাডাম?
আমার পরোটা কোথায়?
সামির প্লেটের দিকে তাকিয়ে বলল,
তোমার পরোটা তোমার পেটেই থাকার কথা। আমার প্লেটে কেন খুঁজছ?
আপনি আমার পরোটা খেয়েছেন!
প্রমাণ আছে?
ঠিক তখনই নীলা এসে বলল,
প্রমাণ লাগবে না। আপনার মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে!
রাফি হেসে উঠল।
বাহ! সকালে আদালত বসে গেছে দেখছি!
মাহবুব চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললেন,
তোমরা কি প্রতিদিন সকালে এই একই কাজ করবে?
নীলা সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারে বসে বলল,
দাদু, আমি তো শান্ত মেয়ে। সমস্যা হচ্ছে এই বাড়ির মানুষগুলো আমাকে শান্তিতে থাকতে দেয় না।
সামির চায়ের কাপ নামিয়ে বলল,
এই কথাটা ইতিহাসে লেখা উচিত।
সবাই হেসে উঠল।
ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল আয়ান।
তার পেছনে মেহের। দুজনেই বেশ স্বাভাবিকভাবে এসে টেবিলে বসল।
আয়ান নীলার দিকে তাকিয়ে বলল,
তোর চেহারা দেখে মনে হচ্ছে সকালে কারও সঙ্গে যুদ্ধ করে এসেছিস।
নীলা গর্বের সঙ্গে বলল,
যুদ্ধ না, অধিকার আদায়।
তাসু পাশে বসে ফিসফিস করে বলল,
পরোটার অধিকার।
আবার হাসির রোল উঠল।
এমন সময় বাড়ির প্রধান দরজা খোলার শব্দ হলো।
সবাই তাকিয়ে দেখল, কালো শার্ট আর কালো প্যান্ট পরা একজন লম্বা যুবক ভেতরে ঢুকছে। হাতে অফিসের ব্যাগ, মুখে গম্ভীর ভাব।
রায়ান চৌধুরী।
প্রায় ছয় মাস পর দেশে ফিরেছে সে।
তার পেছনেই লাগেজ হাতে ঢুকল রায়ানের আরেকজন সঙ্গী।
সামির তাকে দেখে বলল,
আরে ভাই! আমাদের বাদশাহ অবশেষে দেশে ফিরেছে!
রায়ান কোনো উত্তর না দিয়ে সবার দিকে তাকাল।
সালমা বেগম উঠে ছেলের কাছে গেলেন।
বাবা, এতদিন পর এলি! কেমন আছিস?
রায়ান মায়ের হাত ধরে বলল,
ভালো আছি, মা।
মাহবুব চৌধুরী গম্ভীর মুখে বললেন,
— দেশে ফিরেছিস, এবার অফিসের পাশাপাশি বাড়ির মানুষগুলোকেও সময় দিবি।
চেষ্টা করব, আব্বু।
নীলা এতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিল। এবার মুখ খুলল।
বাহ! বিদেশ থেকে মানুষ এসেছে, কিন্তু মুখে হাসি আনতে ভুলে গেছে!
রায়ান চোখ তুলে তাকাল।
কী বললে?
নীলা নিরীহ মুখ করে বলল,
কিছু না। আপনাকে স্বাগতম জানালাম।
রায়ান ঠান্ডা গলায় বলল,
তোমার স্বাগত জানানোর দরকার নেই।
নীলা মুখ বাঁকিয়ে তাসুর দিকে তাকাল।
দেখেছিস? ছয় মাস বিদেশে থেকে ব্যবহারটা আরও খারাপ হয়েছে।
রায়ান এবার সরাসরি নীলার দিকে তাকাল।
নীলা, সব সময় এত কথা বলতে হয়?
না। তবে কিছু মানুষের সামনে চুপ থাকাটা অন্যায় মনে হয়।
সামির পাশ থেকে ফিসফিস করে বলল, ভাই, দেশে এসেই প্রথম যুদ্ধে হেরে গেলে নাকি?
রায়ান চোখ রাঙাতেই সামির চুপ করে গেল।
সকাল ৯টা।
নাশতা শেষ করে সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত।
তাসু আর নীলা বাগানে বসে গল্প করছে। মেহের একটা বই হাতে নিয়ে বারান্দায় বসেছে। আয়ান ফোনে অফিসের কিছু কাজ দেখছে।
এদিকে রায়ান নিজের ঘরে যাওয়ার সময় সিঁড়ির পাশে নীলার সঙ্গে ধাক্কা খেল।
নীলার হাতের ফোনটা নিচে পড়ে গেল।
চোখে দেখেন না?
রায়ান নিচু হয়ে ফোনটা তুলে দিল।
তুমি হাঁটার সময় সামনে তাকাতে পারো না?
আমি তো সামনেই তাকাচ্ছিলাম। কিন্তু সামনে যে একটা দেয়াল দাঁড়িয়ে থাকবে, সেটা বুঝিনি।
রায়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
তোমার সঙ্গে কথা বলাটাই আমার ভুল।
নীলা ফোনটা নিয়ে হাসল।
একদম ঠিক বলেছেন। এবার থেকে কথা বলার আগে অনুমতি নিয়ে নেবেন।
রায়ান আর কিছু না বলে চলে গেল।
নীলা পেছন থেকে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
অসহ্য লোক একটা!
কিন্তু সিঁড়ির মোড়ে দাঁড়িয়ে রায়ান একবার পেছনে তাকাল।
মেয়েটা এখনো নিজের মনে বিড়বিড় করছে।
রায়ানের ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠলেও মুহূর্তেই সেটা মিলিয়ে গেল।
দুপুর ১২টা।
বাড়ির ছাদে সবাই একসঙ্গে বসেছে।
রাফি একটা প্রস্তাব দিল,
আজ বিকেলে সবাই মিলে বাইরে ঘুরতে যাব। অনেকদিন পর সবাই একসঙ্গে হয়েছি।
তাসু হাততালি দিয়ে উঠল।
আমি যাব! নীলা যাবি?
অবশ্যই!
সামির বলল,
আমি যাব, তবে শর্ত আছে। কেউ আমার খাবারের ভাগে হাত দিতে পারবে না।
তাসু সঙ্গে সঙ্গে বলল,
তাহলে আপনি বাসায় থাকেন!
সবাই হেসে উঠল।
মাহবুব চৌধুরী ছাদে এসে বললেন,
ঠিক আছে, তোমরা সবাই বিকেলে ঘুরতে যাও। তবে সন্ধ্যার আগে ফিরবে।
সবাই একসঙ্গে সম্মতি জানাল।
কিন্তু রায়ান তখনো চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
নীলা তার দিকে তাকিয়ে বলল,
আপনি যাবেন না?
রায়ান ফোনের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,
আমার সময় নেই।
নীলা কাঁধ ঝাঁকাল।
ভালোই হয়েছে। অন্তত একটা মানুষ কম বিরক্ত করবে।
রায়ান এবার ফোন থেকে মুখ তুলে তাকাল।
তোমাকে বিরক্ত করার জন্য আমার এত সময় নেই।
আমিও তো আপনাকে নিয়ে ভাবছি না!
দুজনের কথার মাঝখানে সামির ঢুকে বলল,
তোমরা দুজন যদি ঝগড়া শেষ করে থাকো, তাহলে আমরা কি বিকেলের প্ল্যানটা করতে পারি?
আবারও সবাই হেসে উঠল।
বিকেল ৫টা।
চৌধুরী ভিলার বাগানে বিকেলের রোদ পড়েছে।
সবাই ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নীলা তাসুর সঙ্গে ছবি তুলছে, মেহের ইরার চুল ঠিক করে দিচ্ছে আর আয়ান গাড়ির ব্যবস্থা করছে।
দূরে দাঁড়িয়ে রায়ান ফোনে কথা বলছিল।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল নীলার দিকে।
মেয়েটা প্রাণ খুলে হাসছে। আশপাশের সবাইকে হাসাচ্ছে। বাড়ির প্রতিটি কোণে যেন তার উপস্থিতি।
রায়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ ফিরিয়ে নিল।
তারপর নিজেকেই বলল,
কী যে ভাবি!
কেউ শুনতে পেল না কথাটা।
কিন্তু এই চৌধুরী বাড়ির কেউ জানত না, আজকের এই সাধারণ দিনগুলোই একসময় তাদের জীবনের সবচেয়ে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
কিছু সম্পর্ক তৈরি হবে হাসির মধ্যে।
কিছু সম্পর্ক জন্ম নেবে অভিমানে।
আর কিছু অনুভূতি থেকে যাবে নীল খামে বন্দি।
চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন