বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার পাশের একটা দোকানে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছে মেহরিমা।
হঠাৎ একটা কালো গাড়ি এসে তার সামনে থামল।
গাড়ি থেকে নেমে এল কালো শার্ট পরা এক ০ যুবক।
— এই যে মিস!
মেহরিমা মুখে ফুচকা নিয়ে তাকাল।
— জি, বলুন। ফুচকা খাবেন?
যুবক বিরক্ত হয়ে বলল,
— তোমার কি সবসময় মুখে খাবার থাকে?
— না, মাঝে মাঝে কথা থাকে!
যুবক ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— নাম কী তোমার?
আরহাম চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— হে আল্লাহ! এই মেয়েকে কোথা থেকে পাঠালে!
মেহরিমা হেসে ফেলল।
আরহাম মনে মনে ভাবল—
এই মেয়েটা আমার জীবনটা একদিন শেষ করে দেবে!
কিন্তু সে জানত না, এই মেয়েটাই একদিন তার অন্ধকার পৃথিবীর রানী হবে।— মেহরিমা!
— জি, শয়তান সাহেব?
— আমার ধৈর্য পরীক্ষা করো না।
— তাহলে ধৈর্য বাড়ান। শরীরের জন্য ভালো!
করিম চাচা এবার আর হাসি আটকাতে পারলেন না।
আরহাম চোখ রাঙিয়ে তাকালেন।
— চাচা, আপনি যান।
মেহরিমা মনে মনে বলল, বাড়ির মালিকের রাগ আছে, কিন্তু হাসির ক্ষমতা একদম নেই!
আরহাম তাকে একটা বড় ঘরে নিয়ে গেল— নাম জেনে কী করবেন? বিয়ের কার্ড পাঠাবেন?
যুবক কয়েক সেকেন্ড চুপ — আমার সাহস আছে, কিন্তু এখন সময় নেই। বাসায় যেতে হবে।
আরহাম গাড়ির দরজা খুলে বলল,
— ওঠো। তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে হবে।
— কেন?
আরহামের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— কারণ তোমার বাবার কাছে আমার দশ বছরের পুরোনো একটা হিসাব বাকি আছে।
মেহরিমার মুখের হাসিও মিলিয়ে গেল।
— আমার বাবার কী হয়েছে?
আরহাম গম্ভীর গলায় বলল,
— সেটা জানতে হলে তোমাকে আমার সঙ্গে আসতে হবে।
মেহরিমা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
— একটা কথা বলি?
— বলো।
— গাড়িতে ফুচকা খেতে পারব?— মেহরিমা!
— জি, শয়তান সাহেব?
— আমার ধৈর্য পরীক্ষা করো না।
— তাহলে ধৈর্য বাড়ান। শরীরের জন্য ভালো!
করিম চাচা এবার আর হাসি আটকাতে পারলেন না।
আরহাম চোখ রাঙিয়ে তাকালেন।
— চাচা, আপনি যান।
মেহরিমা মনে মনে বলল, বাড়ির মালিকের রাগ আছে, কিন্তু হাসির ক্ষমতা একদম নেই!
আরহাম তাকে একটা বড় ঘরে নিয়ে গেলনো ছবি বের করল।
ছবিতে ছিল মেহরিমার বাবা এবং আরহামের মৃত মা।
ছবির পেছনে লেখা ছিল—
"মেহরিমাকে কখনো মাহতাব পরিবারের হাতে তুলে দিও না।"
আরহামের চোখ দুটো কঠিন হয়ে গেল।
সে নিচু স্বরে বলল,আরহাম কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
— Seriously? একটা তেলাপোকার জন্য এত চিৎকার?
— আপনার কাছে তেলাপোকা ছোট হতে পারে, আমার কাছে ও একটা ভয়ংকর শত্রু!
আরহাম হেসে ফেলল।
— নিচে নামো।
— আগে ওটাকে সরান!
আরহাম তেলাপোকাটাকে সরিয়ে দিল।
মেহরিমা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
— Thank you, হিরো সাহেব!
— আমাকে হিরো বললে?
— না, তেলাপোকাটাকে বললাম। আপনাকে তো ভিলেন মানায়!আয়ান হেসে বলল,
— আপাতত না!
পুরো টেবিলে হাসির শব্দ ছড়িয়ে পড়ল।
শুধু আরহাম চুপচাপ কফি খেতে লাগল।
কিন্তু মেহরিমা খেয়াল করল না, সে যখনই অন্য কারও সঙ্গে হাসছিল, আরহামের চোখ বারবার তার দিকেই চলে যাচ্ছিল।
সেদিন রাতে মেহরিমার ফোনে একটা মেসেজ এল।
Unknown Number: আরহামের কাছ থেকে দূরে থাকুন। সে যা দেখায়, সে আসলে তা নয়।
মেহরিমা অবাক হয়ে লিখল—
মেহরিমা: আপনি কে?
Unknown Number: যে জানে, আরহাম খান আপনার জীবন নষ্ট করে দেবে।
ঠিক তখনই পেছন থেকে আরহামের কণ্ঠ ভেসে এল—
— কার সঙ্গে কথা বলছ?
মেহরিমা চমকে ফোন লুকিয়ে ফেলল।আরহাম তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— আমার কাছ থেকে কিছু লুকানোর চেষ্টা করো না, Princess।
মেহরিমা চোখ সরু করে বলল,
— আপনি কি আমার পেছনে গোয়েন্দাগিরি করেন?
আরহাম মুচকি হাসল।
— তোমাকে নিয়ে একটু বেশি চিন্তা করি, এই যা।
মেহরিমা থমকে গেল।
আরহামও কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর নিচু স্বরে বলল—
— শুভরাত্রি, পাগলি।
মেহরিমার ঠোঁটে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।
কিন্তু দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি সব শুনছিল।
তার হাতে ছিল একটি পিস্তল।
আর তার পরবর্তী লক্ষ্য—মেহরিমা।আরহাম কিছু বলার আগেই বাইরে থেকে একটা বিকট শব্দ হলো।
ধাম!
বাড়ির সবাই চমকে উঠল।
আরহাম দ্রুত মেহরিমার সামনে দাঁড়াল।
— আমার পেছনে থাকো!
মেহরিমা ভয়ে তার শার্ট আঁকড়ে ধরল।
— আরহাম... কী হয়েছে?
আরহাম তার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
— ভয় পেয়ো না। আমি আছি।
কিছুক্ষণ পর নিরাপত্তারক্ষীরা একজন লোককে ধরে নিয়ে এল।
লোকটির হাতে একটা খাম।
আরহাম খামটা খুলতেই ভেতরে একটা ছবি পেল।
ছবিতে আরহামের মা এবং মেহরিমার বাবা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন।
ছবির পেছনে লাল কালিতে লেখা—
"যে মেয়েকে তুমি আগলে রাখছ, সেই মেয়েই মায়ের মৃত্যুর রহস্য জানে।"
রাত ৯টা।
আরহাম অফিস থেকে বাড়ি ফিরে দেখল, মেহরিমা সোফায় বসে ফোনে কারও সঙ্গে হাসাহাসি করছে।
— কার সঙ্গে কথা বলছ?
মেহরিমা ফোনের দিকে তাকিয়েই বলল,
— আমার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে।
আরহাম থমকে গেল।
— WHAT?
মেহরিমা এবার মুখ তুলে মুচকি হাসল।
— কী হলো? আপনার কানে সমস্যা?65. যাওয়ার আগে শুধু বলল, — কাল সব সত্যি জানবে।
66. মেহরিমা একা বসে রইল।
67. রাত বাড়তে লাগল।
68. হঠাৎ তার ফোনে আবার মেসেজ এল।
69. ছবির মেয়েটা এখনো আরহামকে ভালোবাসে।
70. মেহরিমার বুকটা ধক করে উঠল।
71. সে মেসেজের উত্তর দিল, — আপনি কে?
72. ওপাশ থেকে উত্তর এল, যে তোমার সংসার ভাঙবে।
73. মেহরিমা ফোনটা শক্ত করে ধরে রইল।
74. ঠিক তখনই দরজা খুলে আরহাম ফিরে এল।
75. তার হাতে একটা ছোট বাক্স।
76. — এটা তোমার জন্য।
77. মেহরিমা অবাক হয়ে তাকাল।
78. বাক্স খুলে দেখল, একটা সুন্দর রুপার আংটি।
79. ভেতরে ছোট করে লেখা, Only Mine.
80. মেহরিমা মুখ বলল, — এসব দিয়ে সব ঠিক হয় না।
81. আরহাম তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।
82. — আমি জানি।65. যাওয়ার আগে শুধু বলল, — কাল সব সত্যি জানবে।
66. মেহরিমা একা বসে রইল।
67. রাত বাড়তে লাগল।
68. হঠাৎ তার ফোনে আবার মেসেজ এল।
69. ছবির মেয়েটা এখনো আরহামকে ভালোবাসে।
70. মেহরিমার বুকটা ধক করে উঠল।
71. সে মেসেজের উত্তর দিল, — আপনি কে?
72. ওপাশ থেকে উত্তর এল, যে তোমার সংসার ভাঙবে।
73. মেহরিমা ফোনটা শক্ত করে ধরে রইল।
74. ঠিক তখনই দরজা খুলে আরহাম ফিরে এল।
75. তার হাতে একটা ছোট বাক্স।
76. — এটা তোমার জন্য।
77. মেহরিমা অবাক হয়ে তাকাল।
78. বাক্স খুলে দেখল, একটা সুন্দর রুপার আংটি।
79. ভেতরে ছোট করে লেখা, Only Mine.
80. মেহরিমা মুখ ফিরিয়ে বলল, — এসব দিয়ে সব ঠিক হয় না।
81. আরহাম তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।
82. — আমি জানি।
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান