ফন্ট সাইজ:
থিম:
কালের স্রোত

পর্ব 1

লেখক: Tahorima

মেয়ে লাশের পাশে হাঁটুর উপর ভোর দিয়ে বসে লাশ পর্যবেক্ষণ। চোখের মসৃন চামড়া ছিঁড়ে ফেলা হয়ে। শরীরের সব অংশ জুড়ে ক্ষতের চিহ্ন। রক্ত শুকিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে আরো আগে। সামির লাশের দিকে না তাকিয়ে কাইরিনের সাথে কথা বলছিল। আশেপাশে সার্চ টিম খোঁজাখুঁজি করছে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নাকি তার জন্য। হাঁটুর উপড়ে ভর ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, 'হুম'।
‎- ম্যাম আমার মনে বিভিন্ন জেলায় যেসব খুন হচ্ছে।
‎এইটিও সেইরকম। আমাদের জেলার মধ্যে এটাই
‎প্রথম খুন। এর আগে এখানে এরকম কোনো ঘটনা
‎ঘটেনি। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে কিছু পুরুষ নেশা করতে মূলত এসেছিল। নীরব ও জনশূন্য মুখে থেকে। প্রায় আসা যাওয়া করে। আজকে এরকম হয়েছিল। কিন্তু জঙ্গলের রাস্তায় দেখেছে একটি ছেলে আর মেয়ের লাশ। ছেলেটি ছেলেটা বেঁচে থাকলেও মেয়েটির হাল অবশ্য তো দেখায় যাচ্ছে।
‎ছেলে বা মেয়েটা এলাকার কেউ না । আমার মনে হয় বিভিন্ন জেলায় যে খুনগুলো হয়েছে তার সাথে মনে এই ঘটনাটি মিল রয়েছে। একটু  সময়ে এই তথ্যগুলো যোগাড় করতে পেরেছে ম্যাম। '
‎গড়গড় করে একভাবে কথা শেষ করল সামির। আশে পাশে সার্চ টিম খোঁজ করছে। সামনে থেকে
‎এগিয়ে আসছে শাফিন আহমেদ। সবার পরনে ফরমাল পোশাক। শাফিন কাইরিনেট কাছে এসে বলল,  "ম্যাম, ছেলেটির পরিচয় পাওয়া গেছে।ছেলেটির নাম আহির শিকদার। বয়স ২৩।ময়মনসিংহ মেডিকেলের স্টুডেন্ট। বাসা কুমিল্লা। ওর বাবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। মেয়েটি সম্ভবত ছেলেটার বন্ধু নাম এ্যানি। নিশ্চয়ই আমরা দ্রুতই আরো তথ্য পাবো। "
‎-"স্বাভাবিক ভাবে অন্যান্য শহরে যে রহস্যমশ খুনগুলো হচ্ছে সেটিও তার মধ্যে একটি। "কাইরিন বলল।
‎-জি,ম্যাম।শাফিন জবাবা দিলো।
‎-"ঘটনা গুলো খুবই কঠিন সামির তুমি আগের খুনগুলোর ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করো।"কাইরিন বলল।
‎-"ওকে ম্যাম। "
‎___________________
‎অন্ধকার আচ্ছন্ন রুমে জ্বলজ্বল ডিস্কো বলের প্রতিফলন ঘটছে। রুম জুড়ে আলোর ছোটো ছোটো লাল বিন্দু খেলা করছে।  ব্ল্যাকআউট পর্দার কারণে
‎বাইরের জগতের আলো রুমে ঢুকছে না।
‎একপাশে চারটি বড় বড় সোফা যার মাঝখানে
‎বসার কাচের টেবিল যার চারদিকে চারটি
‎সোফা চারটিতে ঘুমাচ্ছে চারজন। হুজাইফা
‎উপুড় হয়ে শুয়ে আছে, নিশাত দুই হাত
‎ছড়িয়ে, আদিত্য একপাশ হয়ে
‎ঘুমাচ্ছে। ইতিমধ্যে তাহাব একবার নিচে পায়ে গেলেও আবার সোফায় উঠে নাক ডেকে ঘুমের রাজ্যে ডুব দিল। পিনপন নীরবতার মাঝে ফোনের রিংটোন  বিরক্ত ধরিয়ে দিল সবার মধ্যে।
‎-“আরে কার ফোন বাজে রেঃ দেখ তোঃ”। নিশাত বিরক্তির সুরে বলল।
‎-"ভাই আমার বোন ফোন না।" তাহাব বলল।
‎-"ভাই আমারও ফোন না। অনিশ্চিত হুজাইফার ফোন। শালা ভোর ৬টায় পর্যন্ত মোবাইলে কথা বলেছে। ঘুমের মধ্যে চিৎকার দিয়ে বলল আদিত্য।
‎-" আমরা তো সবাই মোবাইল বন্ধ করে শুয়েছিলাম এই বজ্জাত নিজের মোবাইল চালু রাখছে।
‎এই হুজাইফা উঠবি নাকি লাথি দিব।" নিশাত হুজাইফাকে পা দিয়ে টেলতে টেলতে বলল।
‎এদিকে হুজাইফা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ওর সাথে ডান পাশে থাকা আদিত্য পিঠে হুজাইফার পিঠে লাথি মারল। তাতে হুজাইফা নিজে মোকহল টেবিল থেকে নিতে নিতে বলল
‎"নিচ্ছি ভাই, দাঁড়া।"
‎ফোন কলটা রিসিভ করল করে বলল, “ হ্যালো, কেরে এভাবে ফোন করেছিস, ব্রেন কি পাছায়, কে ঘুমের বারোটা বাজায় দিলি যে।"
‎“ এই বেয়াদব নিজে বাপের সাথে এইভাবে কথা বলিস লজ্জা করে না। আর কত বাজে জানো যে এখনো পড়ে পড়ে ঘুমাও।" হুংকার দিয়ে বলল আনিস চৌধুরি। হুংকারে শব্দে লাফ দিয়ে সোফা থেকে পড়তে পড়তে হুজাফা বলল, "লা ইলাহা ইল্লাল ইল্লালাহ। হুজাফায় চিৎকারে বাকি তিনজনও উঠে পড় লাফিয়ে উঠল।
‎আদিত্য: কি হয়েছে ভাই। (ভয়ে ভয়ে বলল)
‎নিশাত: ওমাগো। কো কেডা?
‎তাহাব কিছু বলতে পারছে না শুধু ইশারা করছে।
‎" এই ছেমড়া তুই আবার কি ইশারা করস”।
‎হুজাইফা জিজ্ঞেস করল তাহাবকে কিন্তু বেচারা সে এখনও ইশারা চলেছে।
‎-" এই আবার বাপকে তুই তুকারি করছে। এত বর সাহস একবার বাসায় আর তারপর তোকে কি করি।" রাগান্বিত স্বরে বলল আনিস চৌধুরী।
‎-"না বাবা আমি তোমাকে বলি নাই। আমার বন্ধুকে বলেছি।এর যেন কি হয়েছে।" এই বলে অন্যপাশে গেলো হুজাইফা ।
‎এই বাঁদরদের জন্য এখানে কথা বলা মুশকিল। আদিত্য এক বারি দিল তাহাবের মাথায়।
‎
‎তাতে তাহার এক পাশ এ কিছুটা ছিটকে পড়ে গেল।  ঐভাবে কিছু বসে থাকল। আদিত্য আর নিশাত শুধু এটা দেখে গেল।
‎- "ভাই ঠিক আছিস তো? প্রশ্ন করল নিশাত।
‎"ওর কি হলো রে। তুই একটু কাছে গিয়ে দেখতো।” আদিত্যর কথা মতো কাছে গেল সে। ধীর গতিতে এগোতো লাাগলো।ঘাড় ঘুরিয়ে তাহাব ওদের দিকে তাকিয়ে বলল,
‎-"এমন ভাবে চিৎ কার দিয়েছিস যে আমার অন্তর আত্মা অবধি কেপে উঠেছে। এমন ফাও ফাও চিল্লাপাল্লা করছিল কেন?"
‎নিশাত এগোতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়।
‎“ এজন্য এভাবে রিয়াক্ট করবি?” আদিত্য বলল।
‎ততক্ষনে তাহাব গিয়ে নিচে আদিত্যের সাথে বসল। তিনজনের চোখে ঘুমের রেশ এখনো কাটেনি। রাতে পার্টি করে যেভাবে যে পোশাক পড়েছিল তা তারপরে ঘুমিয়ে গেছে। হুজাইফা রুমের কোণে গিয়ে বাবার সাথে কথা বলা শুরু করল
‎-"বলো কি হয়েছে এতো সকালে ফোন করলে?"
‎-"তুমি কি জানো না আহির এক্সিডেন্ট করেছে? "আনিস চৌধুরী জিজ্ঞেস করলেন।
‎-"কিহহ!" আবাক হলো সে। রাতেই তো শেষ দেখা হলো আহির সঙ্গে। তার সাথে ছিলো এ্যানি। কিভাবে সম্ভব আর এগুলো হলোই কখন?
‎-"কিভাবে আর কোথায় ও কেমন আছে? "
‎-আপাতত ময়মনসিংহ হসপিটালের এডমিট।মাথায় নাকি আঘাত পেয়েছে।তুমি যেখানে আছো জলদি এসো।বারবার যেন কল করতে না হয় আমার।আপাতত ঠিক আছে।আমি হসপিটালে আছি।"
‎-"আচ্ছা। আমি আসছি। ফোন কেটে দিলো কাঁপা কাঁপা হাতে। যতটা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে ততই বেশি হাত কাঁপছে। দ্রুতই রওনা দিতে হবে। বাকি দের জাগাতে চলে গেল সে। আর দেরি করা যাবে না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন