⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌
Chapter 32
The Shadow
Sibby-ই খুনের দায় নিয়েছিল।
দেহগুলো টুকরো টুকরো করে ট্রাঙ্কে ভরার পর আমরা আমার Mustang-এর বোনেটে বসেছিলাম, তখন আবার মনে পড়ল—এই পুতুলটা কতটা ভাঙা। শুনে মনে হলো, ওর বাপটা ছিল জঘন্য একটা মানুষ।
ভাবতে গিয়ে থেমে যাই—ওর এমন হওয়ার কারণ আছে, কিন্তু আমার... নেই।
গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই পুলিশ এসে পড়ে। Sibby উঠতে অস্বীকার করে, জোর দিয়ে বলে, ওকে ওর হেনচমেনদের সাথেই থাকতে হবে।
যে হেনচমেনগুলো বাস্তবে অস্তিত্বই রাখে না।
আর আমার কাছে সময় ছিল না ওর সাথে তর্কে জড়ানোর। আমার ট্রাঙ্কে কাটা মানুষের অংশ, আর আমাকে শুধু পুলিশের হাত থেকে পালিয়েই নয়, প্রমাণও মুছে ফেলতে হবে ধরা না পড়ে।
তাই চলে যাই।
পুলিশ পাঁচ মাইল পর্যন্ত ধাওয়া করে, তারপর অবশিষ্ট মুখ থেকে হটিয়ে ফেলি।
গাড়িতে ব্যাকআপ নাম্বারপ্লেট সবসময়ই থাকে, তাই নিরাপদ জায়গায় পৌঁছেই নাম্বারপ্লেট আর কাপড় পাল্টাই, প্রমাণ পুড়িয়ে ফেলি, তারপর বাড়ি ফিরি।
সিয়াটলে ঠিক এই মডেলের একশো বাষট্টি গাড়ি আছে। ওরা যদি জাদুর মতো আমাকে খুঁজেও বের করে, তবুও কিছু প্রমাণ করতে পারবে না।
শেষমেষ, পুলিশ খুনগুলো এক মানসিকভাবে অস্থির মেয়ের ঘাড়ে চাপায়, আর তার সাথে এক অজানা সঙ্গী। আমি ভেবেছিলাম, Society এই খুনের খোঁজ নেবে, আর অজানা সঙ্গীকে সন্দেহজনক মনে করবে। যাতে ওরা পালিয়ে যায়।
কিন্তু Sibby-র ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে যা জানলাম, তাতে ধাক্কা খেলাম। ও জন্মেছিল একটা বিকৃত কাল্টে, আর নিজের বাবাকে খুন করার দায়ে খোঁজা হচ্ছিল ওকে।
ওর বাবা ছিল এক ধরনের Jim Jones, নিজেকে ঈশ্বরের দূত দাবি করে শত শত মানুষকে মগজধোলাই করে ফেলে।
ও ছিল ধনী পরিবার থেকে আসা, পুরনো অর্থে গড়া। নিজের অনুসারীদের জন্য জমি কিনে কম্পাউন্ড বানায়, যেখানে ওরা বাকি জীবন কাটায়। সেখানেই Sibby জন্মায় আর বড় হয়।
তারপর একদিন ভয়ঙ্কর খুন করে পালিয়ে যায়।
Sibby-র মায়ের বিষ খেয়ে আত্মহত্যার রিপোর্ট আছে, আর সেটাই বোধহয় এই ভাঙা পুতুলকে শেষবারের মতো ভেঙে দেয়।
রাতে ও চুপিচুপি ছুরি নিয়ে বাবার ঘরে ঢুকে ওকে খুন করে।
একদম নির্দিষ্ট করে বললে, একশো তিপ্পান্ন বার ছুরি চালায়। রাগ ছিল, কিন্তু Sibby প্রমাণ করে দেয়, রাগলে ও শরীরের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে বারবার ছুরি চালাতে পারে। Robert-ও এর প্রমাণ।
তিন দিন লাগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুনের সাথে Sibby-কে যুক্ত করতে। যেখানে যেখানে Satan’s Affair তাদের হরর কার্নিভাল বসিয়েছে, সেসব শহর থেকে গত পাঁচ বছরে অসংখ্য নিখোঁজের রিপোর্ট রয়েছে।
যদি সব নিখোঁজের সাথে ওর যোগ থাকে, তাহলে প্রায় পঞ্চাশজনকে খুন করেছে Sibby।
আমি অবাক হয়েছিলাম যে এত রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও হরর মেলার উপর আগে আক্রমণ আসেনি।
তবে পরে জানলাম, বেশিরভাগ ভিকটিমই ছিল সমাজের নিচু তলার মানুষ, যাদের খুঁজতে কেউ তেমন আগ্রহী নয়।
Sibby-র ধারণা ওরা দানব ছিল কিনা সেটা বিতর্কের বিষয়। তবে একথা বলতে পারি, ওদের অপরাধের রেকর্ড না থাকলেও, ওরা খুব একটা ভালো মানুষ ছিল না।
শেষমেষ, অজানা সঙ্গী নিয়ে খোঁজ চলবে, কিন্তু Sibby-র অতীত, ওর হেনচমেন থাকার দাবি মিলে গেলে এই চারজনের খুন নিয়ে যেটা আমি চাইছিলাম, সেটাই হবে।
ভুল সময়, ভুল জায়গা।
Sibby সত্যিই পারফেক্ট স্কেপগোট।
শুধু খারাপ লাগে, কারণ আমি এর মধ্যে পড়ে গেছি।
**************
এটা তিন রাত পরের কথা। Society যেহেতু যে কোনো সময় পালিয়ে যেতে পারে, Jay, Savior’s-কে কড়া নজরদারিতে রেখেছে।
আমরা ওদের মেইন ফ্লোরের ক্যামেরা হ্যাক করেছি। দেখে মনে হচ্ছে, ওরা এখনো স্থির।
অবশ্য, ডানজনে কোনো ক্যামেরা নেই। থাকলে বড্ড সহজ হয়ে যেত।
“ভবন ভাঙার কোনো খবর আছে?” ফোনে Jay-কে জিজ্ঞাসা করি।
“না,” ও বলে, ‘না’-এর ন টা বাড়িয়ে বলে, যেটা শুনে ওর মুখে ঘুষি মারতে ইচ্ছে করে।
“তুমি আজ রাতে ঢুকবে?” ও জিজ্ঞাসা করে।
“হ্যাঁ,” মাথা ঘুরিয়ে ঘাড় কট করে দেই। রাগ আর টেনশন কাঁধে গিয়ে বসেছে। মনে হচ্ছে, আজ রাতে এমন কিছু দেখব যা আমাকে তছনছ করে দেবে।
কিন্তু আমাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। না হলে, বাচ্চাগুলোকে বাঁচানোর আগেই আমি মরব। সেটা কোনোভাবেই হতে পারবে না।
“Addie-র উপর নজর রাখছো তো?”
Jay দীর্ঘশ্বাস ফেলে। “হ্যাঁ…” ও থামে। ওর গলার ভঙ্গি শুনেই বুঝি ওর জিজ্ঞাসা করার ইচ্ছে।
আমি ইচ্ছে করে রিসিভার ভেঙে ফেলতে চাই, কিন্তু ও ততক্ষণে বলে ফেলে।
“তো, আ-আসলে, এই মেয়েটা কি তোমার লাইফের লাভ বা এমন কিছু?” awkward গলায় জিজ্ঞাসা করে।
আমি যে দীর্ঘশ্বাসটা ভেতরে রাখতে চাই, সেটা ফোনের ওপাশেও বেরিয়ে যায়।
“একমাত্র ও-ই,” ছোট করে বলি, স্পষ্ট বুঝিয়ে দেই Addie নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না।
কিন্তু শালায়, আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলার সময় Jay কখনো থামে না।
“ওর কি একইরকম ফিলিংস?”
অল্প হেসে ফেলি। “ধীরে ধীরে আসছে,” রহস্যময়ভাবে বলি।
Jay এবার বুঝে ফেলে, চুপ করে যায়।
“শুনে ভালো লাগবে, গত তিন দিন ধরে ওর বন্ধু ছাড়া আর কেউ ওর বাড়িতে আসেনি।”
Mark-এর হুমকি এখনো আমার মাথায় বুলেটের মতো ঘুরছে। Society জানে Addie-কে নিয়ে, ও এখন টার্গেট।
তাদের শিশুদের জন্য দুর্বলতা আছে, কিন্তু সুন্দর তরুণী মেয়েদের অন্য দেশে বিক্রি করতে ওরা কখনো না করে না।
এই ত্বকের বাজারে চাহিদার কোনো শেষ নেই। দুষ্ট মানুষের রুচিও অদ্ভুত—কেউ বাচ্চা চায়, কেউ পূর্ণবয়স্ক নারী।
টেনশন কাঁধের পেশীতে চেপে ধরে। এক মুহূর্ত—তাতেই ও হারিয়ে যেতে পারে। গাড়ি থেকে গ্রোসারি দোকানের দোরগোড়া পর্যন্ত পথেই বাতাসে মিলিয়ে যেতে পারে।
ও জানে না, কত বড় বিপদে আছে, তবে সেটা শিগগিরই বদলে যাবে। আমি ওর কাছ থেকে সত্য লুকিয়ে রাখব না।
আর নিশ্চিত, ও শুনতে পছন্দ করবে না যে আমাদের সেলফ-ডিফেন্স ট্রেনিং এবার থেকে আরও কঠোর হবে।
এখন আমাকে শুধু ঠিক করতে হবে, সেই ট্রেনিং-এর সময় কিভাবে নিজের দেহকে ওর ভিতর ঢোকানো থেকে বিরত রাখব।
চুলোয় যাক। পারব না।
হাসি আসে, কারণ জানি ও আমাকে সেই মুভগুলোতে হারানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু সেই চিন্তাতেই প্যান্টের ভিতর বাড়া শক্ত হয়ে আসে।
House of Mirrors-এর পর ওকে দেখিনি, জানি এটা ওকে রাগিয়েছে। হয়তো মনে করছে, ওকে চুদে ফেলে রেখে আগ্রহ হারিয়েছি।
কিন্তু সেটা আসলে সত্য থেকে বহু দূরে।
আমি এখন ওর জন্য একপ্রকার নেশাগ্রস্ত। এই তিন দিন ওকে ছাড়া থাকা ছিল সবচেয়ে কঠিন।
কিন্তু আমাকে Savior’s-এ ঢুকে বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করতেই হবে।
আমার নিজের জন্য এক মুহূর্তও সময় নেই, আর যতই আমার ছোট্ট ইঁদুরটার জন্য মন ছটফট করুক, এই বাচ্চাগুলোর প্রয়োজন বেশি।
এইবার টেনশন বাড়ে অন্য কারণে—Addie-র ভিতরে ঢুকে ওকে এতটা হারিয়ে দিতে চাই, যাতে ওর শরীরের প্রতিটি কোণায় আমি গেঁথে থাকি।
“তৈরি থেক, এক ঘণ্টার মধ্যে Savior’s-এ যাচ্ছি,” Jay-কে সতর্ক করে ফোন রেখে দেই।
এখন আমাকে Addie-কে মাথা থেকে বের করে রাখতে হবে।
তবে আজ রাত শেষে, আমি ওর ভিতরে এমনভাবে ঢুকব, ওর শরীরের প্রতিটি খাঁজে আমি গেঁথে থাকব।
***************
“এখানে কিছু হাই-প্রোফাইল মানুষ এসেছে,”
Jay ঘোষণা করে আমার কানে থাকা ছোট চিপের ভেতর দিয়ে।
গাড়ি থেকে নামার আগে ওটা খুলে ফেলব।
এখন আমি ভ্যালেট পার্কিংয়ের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।
“প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত এসেছে,”
Jay শেষে যোগ করে।
আমি ভেতরে ভেতরে দীর্ঘশ্বাস ফেলি, গলার কাছে হাত দিয়ে টানটান হয়ে যাওয়া পেশি ঢিলে করার চেষ্টা করি।
এই কাজটা শরীরের উপর অনেক চাপ ফেলে, এমনকি যখন আমি কারো মুখে গুলি চালাচ্ছি না বা গুলি এড়িয়ে যাচ্ছি তখনও।
হয়তো Addie-কে রাজি করিয়ে আরেকবার মালিশ করতে বলব।
তার বিনিময়ে ওকেও ফিরিয়ে দিতে পারলে খারাপ হতো না।
“কাউকে নিয়ে চিন্তিত হওয়া দরকার?”
পেছন থেকে Jay-এর কিবোর্ডের বিকট ক্লিক ক্ল্যাক শোনা যায়, মনে হয় এক মাইল দূর থেকেও শোনা যাবে।
কতবার বলেছি কম শব্দ করে এমন কিবোর্ড নেয়ার জন্য, কিন্তু ও বলে এই আওয়াজ নাকি ওকে শান্তি দেয়।
যতই বিরক্তিকর হোক, আমাদের জীবনে শান্তি খুব কমই আসে।
তাই এই বিকট আওয়াজ যদি ওকে এক চিলতে শান্তি দেয়, সেটা নিয়ে ওকে তেমন কিছু বলি না।
অন্তত বেশি কিছু বলি না।
“কয়েকজন সিনেটর, গভর্নর আছে, সাথে কিছু এ-লিস্ট সেলেব্রি—আরে শিট, এটা কি Timothy Banks? বলো না সে-ও এই জঘন্য খেলায় আছে?!”
Jay-এর নাটকীয়তায় চোখ ঘুরিয়ে মাথা নাড়ি।
“Jay,” আমি হড়ক দিয়ে বলি। “ফোকাস কর।”
আমার সামনে আর মাত্র কয়েকটা গাড়ি, তাই বেশি সময় নেই কথা বলার।
কারণ আমাকে ভেতরে ঢুকে গোপনে আবার চিপটা কানেও লাগাতে হবে।
ওদের সিকিউরিটি সিস্টেমের ভেতর দিয়ে এই চিপ কানে লাগিয়ে গেলে, সোজা গুলি খেয়ে মরে যাব।
“সরি,” Jay ফিসফিস করে, প্রিয় অভিনেতাকে পেডোফাইল হিসেবে আবিষ্কার করার ধাক্কায় কণ্ঠ ভারী হয়ে গেছে।
“Jay, সত্যি বলছি। আমরা জানি অনেক সেলেব্রিটি এই খেলায় জড়িত।”
“কিন্তু, টিম Banks, ম্যান? ধুর। যাই হোক। এখন পর্যন্ত কাউকে দেখছি না যার জন্য আলাদা করে দুশ্চিন্তা করতে হবে। যেটুকু দুশ্চিন্তা করার, সেটা তুমিই করছ, পেডোদের গহ্বরে হাঁটতে যাচ্ছ। চিপ আবার কানেই দিও, আপডেট দিতে থাকব।”
আমার পালা আসতেই, আমি দ্রুত ইয়ারপিস খুলে লেড-লাইনিং থাকা ভেতরের পকেটে ঢুকিয়ে দিই।
পাথরের মতো মুখ করা ভ্যালেটের হাতে চাবি দিয়ে গাড়ি ছেড়ে বের হই।
গাড়ি ঘুরে Savior’s-এর সামনে দাঁড়াই।
জ্যাকেটের বোতাম টেনে লাগাই, আবার গলা না ঝাঁকানোর জন্য নিজেকে ধরে রাখি।
আজ রাতটায় প্রভাব ফেলতে হবে।
Mark-এর সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিল সেটা সবাই জানে, আর ওর “দুর্ভাগ্যজনক” মৃত্যুর পর ওরা সবাই এখন আমাকে লক্ষ্য করবে।
Mark ইতিমধ্যেই ওর অনেক সহকর্মীর কাছে আমার নাম ছড়িয়ে দিয়েছে।
আমি Savior’s-এ নতুন হলেও, ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল।
**************
Savior’s দেখতে ঠিক সেই ধরণের ক্লাবের মতো, যেখানে গোপনে এলিট সেক্স ডানজিয়ন আর রিচ্যুয়াল চলে।
মূল হলটা বিশাল।
মাঝখানে স্টেজ, তার ঠিক মাঝখানে বড় পোল বসানো, যেখানে এক মেয়ে নগ্ন অবস্থায় পোলের চারপাশে ঘুরছে।
ওর বুক দুলছে যখন নিজেকে উপরে তোলে, লম্বা পা দিয়ে পোল জড়িয়ে ধরে পেছনে ঝুঁকে পড়ে, বুক পুরোপুরি উন্মুক্ত রেখে কোমর দোলাচ্ছে।
আমি ওর শরীরের দিকে তাকাই না। আমি তাকাই ওর চোখের দিকে।
আর নিজের চোয়াল শক্ত হওয়া আটকাতে কষ্ট হয় যখন দেখি চোখে সেই নিস্তেজ, মৃতচোখের ঝাপসা পর্দা।
কালো দাগে ভরা চোখের নিচের অংশ, আর তখনই ওকে এখান থেকে টেনে বের করে নিরাপদ কোনো জায়গায় নিয়ে যেতে ইচ্ছে করে।
রাগ গিলে রেখে মনে মনে নিজেকে বলি, “সব মেয়েকেই বাঁচাব। ঠিক আগের ক্লাবগুলোর মতো, এদেরও বের করে আনব। এই তথাকথিত ‘জেন্টলম্যানস ক্লাব’গুলোর কিছুই আর বাকি থাকবে না যখন আমি শেষ করব।”
তারপর আমি পরের শহর, পরের স্টেট, দরকার হলে পরের দেশে যাব।
নিজেকে সামলে মুখে কোনো অভিব্যক্তি না এনে, নিঃশ্বাস স্বাভাবিক রেখে চারপাশে তাকাই।
এটা এমন এক জায়গা, যেখানে মানুষ রক্তের স্বাদ আর দৃশ্য উপভোগ করে।
চারপাশে অন্ধকার, ধোঁয়াটে আলো, আর স্পষ্ট স্যাডিস্টিক ভাব।
লাইটিং ক্ষীণ, ছায়াগুলো গিলে ফেলেছে কালো দেয়াল আর ফার্নিচার।
গাঢ় লাল রঙ, রক্তের মতো, পুরো জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে আছে।
লাল ফ্রেমে শয়তানের উপাসনা আর বলি প্রদর্শন করা প্রাচীন ছবি।
প্রতিটি দেয়ালে লাল শেডের ছোট ল্যাম্প।
লাল গ্লাস, অ্যাশট্রে, আর পানীয়…
এবং লাল হিল, পোশাক যেগুলোয় সত্যিকারের হীরা আর ক্রিস্টালের ছড়াছড়ি।
যদিও ওদের এই ‘পোশাক’ বলতে আসলে কাপড়ের টুকরো আর গয়নার দড়ির মতোই বলা চলে।
তবুও, জায়গাটাকে এমনভাবে সাজিয়েছে, যেন বিলাসিতা আর টাকার গন্ধ ছড়াচ্ছে।
“Zack! এখানে তোমাকে দেখে ভালো লাগছে,”
পেছন থেকে গম্ভীর গলায় ডাক আসে।
মুখে স্বাভাবিক, হালকা হাসি এনে ঘুরি, আর দেখি খুব পরিচিত এক মানুষ—
Daniel Boveri।
প্রেসিডেন্টের লইয়ার, আর Mark-এর ঘনিষ্ঠ।
একজন আকর্ষণীয়, লম্বা, গম্ভীর, ভয়ংকর চেহারার মানুষ।
ঘন কালো ভ্রু নিচু হয়ে চোখের ওপর ছায়া ফেলছে, কালো চুল, আর সাপের মতো হালকা হাসি।
পঞ্চাশের কোঠায়, তবুও নারীর অভাব নেই ওর।
Dan আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, আর যতবার কথা বলেছি, বুঝেছি কেন প্রেসিডেন্টের লইয়ার হতে পেরেছে।
অত্যন্ত ধূর্ত এক manipulator।
“Dan, আমিও আনন্দিত,”
হাত মেলাই ওর সাথে, শক্ত করে।
“কখন আসবে ভাবছিলাম। Mark তো বেশ ক’বার বলেছিল তোমাকে আনার কথা।”
“নিশ্চয়ই বলেছে,” আমি ফিসফিস করি। (নতুন খবর।)
“ওর যা হলো, খুবই দুঃখজনক। অবিশ্বাস্য যে এক পাগল মেয়ে চারজনের সাথে এমন করতে পারল। এখনো তো ওদের দেহ পাওয়া যায়নি, তাই তো?”
আমি মাথা নাড়ি, Mark-এর মৃত্যুর ঘটনায় অবাক হওয়ার ভান করি।
“আমার জানা নেই, ভাই। মেয়ে নাকি হেনচম্যানদের কথা বলত, তাই না?”
মুখে ঠাট্টার হাসি আনি।
Sibby’র মানসিক অসুস্থতাকে নিজের সুবিধায় ব্যবহার করতে হবে, যদি শত শত নারী-শিশুকে বাঁচানো যায়।
ঈশ্বর সাক্ষী, Sibby-র মতো আমারও মনে হয় এটা আমার মিশন—এদের শেষ করা।
Dan হেসে ওঠে, করুণ ও অবজ্ঞার হাসি।
“হ্যাঁ, কারো মুখে শুনেছিলাম মনে হয়।”
আমি ঘৃণায় নাক সিঁটকাই।
“মেয়ে বলেছিল ওর পাঁচজন হেনচম্যান আছে। যদি একজনকেই পালাতে দেখা যায়, তাহলে ভাবো, বাকি চারজন এখনো বাইরে ঘুরছে।”
এই কথা ছড়িয়ে পড়বে Society-র মধ্যে।
যদি ওরা বিশ্বাস করে Sibby-র হেনচম্যানরা আসল, তাহলে সন্দেহ কম থাকবে।
ততদিনে এই হারামিরা বুলেট খেয়ে মরবে, আর বাচ্চাদের আমি সরিয়ে ফেলব।
Dan আর আমি কয়েক ঘণ্টা মিশে যাই ভেতরে।
মেয়েরা এখানে মাতাল, নেশাগ্রস্ত, আর অকারণে শাস্তি মেনে নিচ্ছে।
কোণার দিকে এক ধাতব কাপ চোখে পড়ে।
এক বুড়ো মানুষ সেটা থেকে ধীরে ধীরে খাচ্ছে।
চারপাশে তাকিয়ে দেখি আরও কয়েকটা কাপ।
ঠিক সেই গ্লাসের মতো, যেগুলো ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখেছিলাম।
হৃদয় ডুবে যায়, তবে এখনো রক্তের কোনো প্রমাণ পাইনি।
“তুমি কি ক্লাবের ইনিশিয়েশনে আগ্রহী?”
Dan হঠাৎ করে বলে, Scotch-এর গ্লাসের আড়াল থেকে আমাকে দেখে।
আমি মুখে কোনো ভাব না এনে বলি, “আমি কি ইতিমধ্যেই ভেতরে নেই?”
Dan-এর ঠোঁটে শয়তানি হাসি।
আমি চোখ না ফেলে তাকিয়ে থাকি।
“দূর দূরান্তেও না, ভাই।”
আমি ভ্রু উঁচু করি, হুইস্কি খাই।
ও হাসে।
“তাদের স্বাদে অভ্যস্ত হতে হবে, তবেই ইনিশিয়েশন পাবে।”
“আমার অনেক ‘স্বাদ’ আছে,” আমি অন্ধকার টোনে বলি।
ওদের স্বাদ হলো নিরীহদের রক্ত ঝরানো, আর আমার স্বাদ হলো সেইসব দানবদের শেষ করা।
Dan চোখে চোখ রেখে জানতে চায়, “তোমার স্বাদগুলো কী?”
আমি কাঁধ ঝাঁকাই, হুইস্কি খাই, অন্য হাতে ফোন বের করি।
Daniella-র ছবি বের করি, যাকে পাঁচ বছর আগে বাঁচিয়েছিলাম।
ও orphan, তাই নিরাপদ ঘরেই আছে।
ছবিতে Barbie পাজামা পরা Daniella, চোখে ভয় আর গায়ে আঘাতের দাগ।
ওর অনুমতি নিয়েই ছবি ব্যবহার করছি।
এভাবে পেডোফাইলদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে আগে, তারপর মারতে হবে—এই প্রথম।
তাদের বিশ্বাস করানোর জন্য প্রমাণ দেখাতে হবে।
ওকে ফোন দেখিয়ে নিচু গলায় বলি, “আমার সাম্প্রতিক টয়।”
কথাগুলো মুখে নিকোটিনের মতো তিতা লাগে, তবুও বলি।
Dan-এর ভ্রু কপালে উঠে যায়, তারপর ওর মুখে একটা বিকৃত হাসি।
“শেয়ার করবা?”
ফোন ফেরত দিতে গিয়ে ওর হাত ভাঙার মতো ইচ্ছে হয়, তবে দাঁত বের করে বলি, “আমি জেলাস হয়ে যাই।”
Dan হেসে ওঠে, গর্জন করে।
“বোঝা গেল, ভাই। ওরা বড় হয়ে গেলে?”
আমি বিকৃত হাসি দেই, “অর্গান ব্ল্যাক মার্কেটে খুব চাহিদার।”
Dan খুশি হয়ে বলে, “তাহলে তুমি পারফেক্ট। ইনিশিয়েশন ঠিক এক সপ্তাহ পর। আগ্রহী?”
“কী করতে হবে?”
“ঠিক সময়ে জানানো হবে। তবে ইনিশিয়েশনের পর, যত খুশি তেমন পাবে।”
ওর বিকৃত হাসি, “যে কোনো বয়স, আকৃতি, লিঙ্গে।”
“এটা নিরাপদ তো?”
Dan কাঁধ ঝাঁকায়, “একটা গুপ্তচর ছিল, ভিডিও লিক করেছিল। তবে Society মনে করছে ধরা পড়ে গেছে। ভিডিওগুলোও কোথাও দেখা যায়নি, আপলোড হওয়ার সাথে সাথে মুছে ফেলেছে।”
(মিথ্যে। Jay আর আমি সিগনাল বসিয়েছি। ভিডিও আপলোডের ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যেই আমরা ডাউনলোড করি। যথেষ্ট সময়।)
এখন যেখানে গুপ্তচর ছিল, সেখানে এখন নেকড়ে বসে আছে।
হুইস্কি শেষ চুমুকে গিলে ফেলি, আগুনের মতো গলায় নেমে যায়।
Dan-এর দিকে তাকিয়ে ফ্যাঁস ফ্যাঁসে হাসি দেই, চোখের ক্ষতগুলো কুঁচকে যায়।
আমার চোখের রঙের ভেতরে পিশাচের ঝলক পড়ে, ও যেমনটা দেখতে চায় ঠিক তেমনই দেখে।
“আমি আছি।”