ফন্ট সাইজ:
থিম:
ফুচকা পার্টি

পর্ব 1

লেখক: Samiya

---
উপন্যাস: ফুচকা পার্টি
লেখক Samiya
পর্ব ১:
উত্তরায় বিকেল মানেই একটা আলাদা ব্যস্ততা।
স্কুল ছুটি হইছে একটু আগে। রাস্তায় ভিড়, রিকশার বেল, ফুচকার দোকানে মানুষের লাইন। আর ঐ ভিড়ের মধ্যেই একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে ব্যাগ, মুখে একদম বিরক্ত ভাব।
ওর নাম **রুহি**।
রুহি ক্লাস নাইনে পড়ে। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের একটা ছোট ফ্ল্যাটে থাকে। পরিবারে ওরা ৪ জন। বাবা অফিসে চাকরি করে, সকালে যায়, রাতে আসে। মা বাসায় থাকে। আর একটা ছোট বোন আছে, ক্লাস ফাইভে পড়ে, সারাক্ষণ রুহির জিনিসপত্র নিয়ে টানাটানি করে।
রুহি দেখতে একদম শান্ত মেয়ে না। ও সবার আগে কথা বলে, সবার আগে রাগ করে, আবার সবার আগে হাসেও। ওর একটা অভ্যাস আছে, মন খারাপ হলেই ও জানালার পাশে গিয়ে বসে থাকে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে, "কিছু না, এমনি।" কিন্তু আসলে ওর মনে অনেক কথা থাকে, যেগুলা ও কাউকে বলে না।
ওর ঘরে একটা পুরনো ডায়েরি আছে। কভারটা একটু ছেঁড়া। ঐ ডায়েরিটা ও কাউকে দেখায় না। এমনকি ওর ছোট বোনকেও না। ঐ ডায়েরিতে কী লেখা আছে, সেটা এখন বলবো না। আস্তে আস্তে জানা যাবে।
আজকে রুহি একা ফুচকার দোকানে আসে নাই। ও আসছে ওর বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করতে।
আর তখনই দূর থেকে একটা চিৎকার শোনা গেলো —
"রুহিইইই! দাঁড়া! আমি আসতেছি!"
দৌড়াইতে দৌড়াইতে আসতেছে একটা মেয়ে। হাতে স্কুল ব্যাগ, চুল এলোমেলো, মুখে হাসি। ওর নাম **তারা**।
তারা রুহির সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন। ওর কাজই হইলো বকবক করা। এক মিনিট চুপ থাকতে পারে না। ক্লাসে স্যার পড়াইতেছে, ও পেছন থেকে কাউকে খোঁচা দিবেই। আর খাওয়ার কথা শুনলেই ও সবার আগে চলে আসে।
তারা এসেই হাঁপাইতে হাঁপাইতে বললো, "আজকে আমি ১০টা ফুচকা খাবো। কেউ আমাকে আটকাইতে পারবি না।"
রুহি বললো, "তুই তো গতকালকেও ১০টা খাইছিলি। তোর পেট ব্যথা করে নাই?"
তারা বললো, "পেট ব্যথা করলে করবে, ফুচকা তো খাবোই। ফুচকা ছাড়া জীবন চলে নাকি?"
ওরা কথা বলতেছে, ঠিক তখনই আরেকটা মেয়ে আসলো, একদম ধীরে ধীরে, হাতে একটা ছোট ব্যাগ। ওর নাম **আনিশা**।
আনিশাও উত্তরা-তেই থাকে, রুহিদের বাসার থেকে একটু দূরে। ওর পরিবারে ওরা ৩ জন। বাবা, মা আর আনিশা। আনিশা দেখতে একটু গম্ভীর মনে হয়, কিন্তু আসলে ও অনেক দুষ্টু। ও খালি সুযোগ খুঁজে, কাকে কিভাবে পচানো যায়। আর ওর একটা কথা সবাই জানে, ওর দাদুর বাড়ি গ্রামে। ঐ বাড়িটা অনেক পুরনো। আনিশা প্রায়ই বলে, "আমাদের গ্রামের বাড়িটা অনেক বড়, ঐখানে গেলে মজা হবে।" কিন্তু ঐ বাড়িতে কী আছে, সেটা ও নিজেও পুরা জানে না।
আনিশা এসে বললো, "তোরা আবার ফুচকা নিয়ে শুরু করছিস? আমি আসতে আসতে সব শেষ হয়ে যাবে নাকি?"
তারা বললো, "তুই তো সব সময় লেট করস। তোর জন্য কি ফুচকা বসে থাকবে?"
এর মধ্যেই দুইটা ছেলে আসলো।
একজন **কাবির**। কাবির স্কুলের সবচেয়ে বেশি দুষ্টু ছেলেদের একজন। কিন্তু ওর দুষ্টুমি একটু আলাদা। ও মুখে কম কথা বলে, কিন্তু যখন বলে, তখন সবাই হাসতে হাসতে শেষ। তারা-কে পচানোই ওর প্রধান কাজ। তারা কিছু বললেই কাবির বলবে, "তুই চুপ কর, তোর কথা শুনলে কান ব্যথা করে।"
আরেকজন **নাবিল**। নাবিল হইলো এই গ্রুপের সবচেয়ে বেশি দুষ্টু। সব প্ল্যান ওর মাথা থেকে আসে। কোথায় ঘুরতে যাবে, কী খাবে, কাকে পচাবে — সব নাবিল ঠিক করে। ও আসলেই বললো, "আজকে ফুচকার টাকা কে দিবে? আমি দিবো না। গতবার আমি দিছিলাম।"
ব্যাস, ঝগড়া শুরু।
তারা বললো, "গতবার তুই দিছিলি মানে? গতবার তো রুহি দিছিলো। তুই খালি খাইছিলি।"
নাবিল বললো, "আমি খাইছি মানে? তুই তো ১০টা খাইছিলি। তুই তো ফুচকা খাস না, ফুচকা গিলস।"
কাবির বললো, "তারা, তুই যদি আর ২টা খাস, তাহলে ফুচকাওয়ালা মামা দোকান বন্ধ করে দিবে। বলবে, আমার ফুচকা শেষ।"
তারা রেগে গিয়ে বললো, "কাবির, তুই চুপ কর। তুই তো ফুচকায় ঝাল দিতে বলস, তারপর নিজে খাইতে পারস না, মুখ লাল করে ফেলস।"
সবাই হাসতে হাসতে শেষ। ফুচকাওয়ালা মামাও হাসতেছে।
রুহি তখন বললো, "থাম তোরা। প্রতিদিন ফুচকা নিয়ে ঝগড়া। একটা কাজ করি, আমরা কোথাও ঘুরতে যাই।"
নাবিল সাথে সাথে বললো, "হ্যাঁ, চল। ঘুরতে যাই। উত্তরা-তে আর ভালো লাগে না।"
আনিশা বললো, "কোথায় যাবি?"
রুহি বললো, "সেটাই তো ভাবতে হবে।"
তারা বললো, "আমি বলি, আমরা গ্রামে যাই। আনিশার দাদুর বাড়িতে। আনিশা তো কতদিন ধরে বলতেছে, ওদের গ্রামের বাড়ি অনেক বড়।"
আনিশা একটু চুপ হয়ে গেলো। তারপর বললো, "আমার দাদুর বাড়ি? ঐখানে যাওয়া যাবে, কিন্তু..."
কাবির বললো, "কিন্তু কী? ভূত আছে নাকি?"
আনিশা বললো, "ধুর, ভূত থাকবে কেন? ঐ বাড়িটা খালি অনেক পুরনো। দাদু বলে, ঐ ঘরে যাইস না, ঐ ঘর বন্ধ।"
রুহি তখন একটু চুপ হয়ে গেলো। ওর মুখটা হঠাৎ একটু অন্যরকম হয়ে গেলো। কেউ খেয়াল করলো না, খালি নাবিল একবার তাকাইলো।
তারা বললো, "আরে, পুরনো বাড়ি মানেই তো মজা। চল, আমরা ঐখানেই যাই।"
কাবির বললো, "আগে ফুচকার টাকাটা ঠিক কর। কে দিবে?"
নাবিল বললো, "আমি দিবো না।"
তারা বললো, "আমিও দিবো না।"
রুহি হেসে বললো, "ঠিক আছে, আজকে টাকা আমি দিচ্ছি। কিন্তু ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানটা কালকে স্কুলে করবো।"
ফুচকাওয়ালা মামা ফুচকা দিলো। ৫ জন মিলে ফুচকা খাইতে শুরু করলো। তারা ১০টা খাইলো, সত্যি সত্যি। কাবির ঝাল খেয়ে মুখ লাল করে ফেললো। নাবিল তারা-কে পচাইতে গিয়ে নিজে ফুচকার পানি জামায় ফেলে দিলো। আনিশা হাসতে হাসতে বললো, "তোদের নিয়ে কোথাও যাওয়া যাবে না। তোরা মান-সম্মান সব শেষ করে দিবি।"
রাস্তায় মানুষজন তাকিয়ে দেখতেছে, এই ৫টা ছেলে-মেয়ে এত হাসতেছে কেন।
আর রুহি, ও ফুচকা খাইতে খাইতে একবার আকাশের দিকে তাকাইলো। ওর মনে হইলো, এই ৫ জন একসাথে থাকলে জীবনটা অনেক মজার। কিন্তু ওর মনে একটা কথা বারবার আসতেছে, যেটা ও কাউকে বলতে পারতেছে না।
ঐ কথাটা কী, সেটা এখন বলবো না। পরের পর্বে আস্তে আস্তে বোঝা যাবে।
আজকের মতো ফুচকা খাওয়া শেষ। কালকে স্কুলে ওরা ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করবে। কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে, কে কে যাবে — সব কালকে।
[চলবে...]
---

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন