“ সাক্ষ্য এসব নিয়ে তো যাও। ”
সাক্ষ্য ছোটশ্বাস ফেলে ফের পা বাড়াল। তবুও মাথায় ঘুরল শুধু ঈশানের উপস্থিতি। এতোটাই ভালো সম্পর্ক যে বাসায় চলে এসেছেে।বাহ বাহ! সাক্ষ্য এইটুকুই মনে মনে আওড়াল। অতঃপর গাড়ি থেকর জিনিসপত্র নামাতে নামাতে একবার শুনতে পেল ঈশানের গলাটা,
“ দ্বিতী তুমি তো বাসায় নেই। অনেকটা সময় ছিলাম তোমার জন্য। চলে যাচ্ছি এখন। ”
বাহ! কি প্রেম! সাক্ষ্যর এখন সত্যিই মেজাজ খারাপ হচ্ছে। সত্যিই সত্যিই যদি দ্বিতী ঈশানকে এক্সেপ্ট করে তো দ্বিতীকে সাক্ষ্য কি করবে? এইটুকু ভেবেই থমথমে মুখ নিয়ে পা বাড়াল সে। বড়োরা তখন সবাই ড্রয়িং রুমে বসেছে। এইসেই কথা বলছে৷ সাক্ষ্য বসেছে অন্য পাশটায়। দ্বিতীর মা তখনই বলল,
“ সাক্ষ্য, তোমাদের আকদ হয়েছে। একটা সম্পর্কে তো জড়িয়েছো। সম্পর্কটা স্বাভাবিক করে নাও আব্বু। দুইজনই ইগো নিয়ে চললে কিভাবে হয় বলো? তোমরা তো কেউই কাউকে সহ্য করতে পারো না। এমন হলে হবে বলো? আমার মেয়েটা বাচ্চা এখনো। মনে যা রাগ ওর! ও যেটা বলবে সেটাই ও করবেই। এই দেখো না, আজও বেরিয়ে গেছে। কারণ এটা ওর জেদ।না জানি বিয়ের অনুষ্ঠানটাও ও করবে কিনা। মত দিবে কিনা। ”
স্বাক্ষ্য শুনল। জেদ? যা বলে তাই করে? সংসার করবে না বলেছে এটাও সাক্ষ্য মেনে নিবে হুহ? গম্ভীর স্বরে বলে উঠল,
“ আন্টি, আকদটা আপনার মেয়ের ইচ্ছেতে হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানটা এবার আমার ইচ্ছেতে হোক। আপনার ঘাড়ত্যাড়া মেয়েকে ঘাড় সোজা করিয়ে শীঘ্রই রাজি করান।নয়তো ঘাড় সোজা করার দায়িত্বটা আমি নিজ দায়িত্বেই কাঁধে তুলে নিব।”
সাক্ষ্য এইটুকু বলেই চায়ের কাপে চুমুক রাখল। যেন স্বাভাবিক একটা কথা।
.
দ্বিতী এল প্রায় আধঘন্টা পর। সাক্ষ্য এসেছে জেনে আসবেই না বলেছিল সে৷ অবশেষে বাবার কল এবং জোরাজুরিতে এসেছেে।কারণ বাবাকে সে খুবই মেনে এসেছে ছোটবেলা থেকে। দ্বিতী এসে নিজের ঘরে বসতেই সবার প্রথমমে কথা বলল,
“ আরে দ্বিতী। রাজি হয়ে যা না। আমার ভাইয়া সত্যি তোকে ভালোবাসে। ”
দ্বিতী ফুঁসে উঠে বলল,
“ তোর ভাইয়া একটা গিরগিটি কথা। উনার পক্ষ নিয়ে কথা বলিস কি করে?”
“তো কার পক্ষ নিয়ে কথা বলব? ”
পাশ থেকে সাম্য তখন মুখ ভেঙ্গিয়ে বলল,
“ ও নিজেই তো একটা এলাচি। আমাদের সুস্বাদু বিরিয়ানিময় ফেমিলিতে ও নিজে আস্ত এক এলাচি। তুই ওর কথা শুনিস না দ্বিতু। আমার কথা শোন। তোদের বিয়ে তো এমনিতেও হয়ে গেছে৷ তোর উচিত এখন ভাইয়র কাঁধ চাপকে ধরে সারাক্ষন পরখ কি না কি করছে। পুরুষ মানুষ! বিশ্বাস আছে বল? ”
“ এমনিতেও বিশ্বাস নেই তোমার ভাইয়ার উপর। ”
সাম্য তাকিয়ে বলল,
“ এই কারণেই বলছি আমাদের বাড়ি চল। সারাক্ষণ পরখ করতে পারবি। জামাই ভাগলে লোকে তোকে বলবে পালানো জামাইয়ের বউ! ”
দ্বিতী কপাল কুঁচকে তাকাল এবারে। বলল,
“ সাম্য ভাই। চালাকি করবে না আমার সাথে। তোমার যে একই দল তা আমি জানি। ”
সাম্য এবার কাঁদো কাঁদো হয়ে চাইল। বলল,
“তো করবি না তুই বিয়ে? বিশ্বাস কর বই, বহুকাল হলো আমি বিয়েতে নাচি। মাজাটা ঝং ধরে গেছে। তোদের বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচলে তাও একটু আমার কোমড়টা ঠিক হতো। ”
দ্বিতী পরবর্তী নাটক দেখার জন্য বলল,
“ তারপর?”
“ বহুকাল হলো আমি বিয়ে খাইনি দ্বিতী। আমার পেটের নাড়িবুড়ি গুলো শুঁকিয়ে গিয়েছে বইন৷ শুধু একটু বিরিয়ানির জন্য। অথচ এমন নিষ্ঠুর কি করর হোস? এই হতভাগা ছেলেটার পেটের প্রতি একটু দয়া করবি না? একটুও না? একটু বিরিয়ানি খেতে দিবি না? ”
দ্বিতী দাঁতে দাঁত চাপল। বলল,
“ তুমি প্লিজ আমার সাথে রেস্টুরেন্টে চলো। আমি তোমায় পেট পুরে কাচ্চি খাওয়াব। ”
“ ঐ খাচ্চি খাওয়া আর বিয়ে খাওয়া এক না রে বইন। ”
ঠিক ঐ মুহূর্তেই ওখানে এল সাক্ষ্য ও। এসেই গলা ঝাড়ল। দ্বিতীর দিকে শীতল এক চাহনি ফেলতেই সাম্য আর কথা সুরসুর করে বের হয়ে গেল এক মুহুর্তেই। সাক্ষ্য বলল,
“ যদি ঈশানকে সত্যি সত্যিই এক্সেপ্ট করার চিন্তাভাবনাও করেছেন না মিসেস সাক্ষ্য এহসান? সোজা মাথা ফাটিয়ে চিন্তাভাবনা করার সক্ষমতায় দূর করে দিব। ”
ফের পরমুহূর্তেই আবার প্রশ্ন করল,
“ এতই ভালো সম্পর্ক যে ঈশান তার মাকে নিয়েই চলে এসেছে আপনাদের বাসায়? ওয়াও দারুণ! আমার কি খুশি হওয়া উচিত? ”
দ্বিতী এবারে মজা পেল যেন। বলল,
“ শুধু এসেছে? বাকিটা শুনেননি? ঈশান তো ওর মাকে নিয়ে এসেছিল বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য। ”
সাক্ষ্য এক পা এক পা করে এগোল। একদম দ্বিতীর সামনে দাঁড়িয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“তাই নাকি? তাহলে আপনাকে সত্যি সত্যিই ডাবল বিয়ে দেওয়া উচিত। রাজি? ”
সাক্ষ্য আরো এক কদম এগোল এবারে। দৃষ্টি কেমন ধারালো যেন। ঠোঁটে বাঁকা রেখা দৃশ্যমান। দ্বিতী সে দৃষ্টিতে নজর ফেলে বলতে নিতেই টের পেল সাক্ষ্য তার কোমড় টেনে ধরেছ নিজের বাম হাতে। ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,
“ এটাই শেষ বুঝানো। সোজাসুজি বলছি, শীঘ্রই রাজি হয়ে আমার আম্মুর সংসারে ট্রান্সফার হবেন। অন্য কারোর সংসার তো দূর নাম টামও ভাবা যাবে না। ওকে? ”
তারপরই সাক্ষ্য ফের আবার আগের মতে ভদ্র ছেলে সেজে বেরিয়ে গেল। দ্বিতী আহাম্মকের মতো চেয়ে রইল। কি সাংঘাতিক। এই লোকের হুট করে কাছে আসা, হুট করে চলে যাওয়া সবই অদ্ভুত। একবার এক রূপ দেখানো এটাও অদ্ভুত!
.
দ্বিতী সেদিন ভার্সিটি থেকে ফিরছিল সবে। রাস্তার মাঝপথেই প্রায় সাক্ষ্যর গাড়ি এসে থামল তার সামনেই। গাড়ির গ্লাস নামিয়েই সর্বপ্রথম বলল,
“ উঠে পড়ুন। ”
“ কেন?”
“ উঠতে বলেছি বলে। আপনার আম্মুই বলেছে। ”
“ কেন বলেছে? ”
“ কি করে জানব? ”
দ্বিতী এবারে উশখুশ করে উঠে বসল। সাক্ষ্য বাঁকা হাসে এবারে। গাড়ি চালাতে চালাতে পকেট থেকে ফোনটা নিয়ে কল দিল তার আম্মুকে। বলল,
“ আম্মু বের হচ্ছি। তিনদিন কি চারদিন লাগবে ওখানে। এরপর চলে আসব। চিন্তা করো না। ”
দ্বিতী চাইল মুহূর্তেই। ভ্রু কুঁচকে সঙ্গে সঙ্গেই বলল,
“ কোথায় যাচ্ছি আমরা? ”
সাক্ষ্য ফোন রেখে বাঁকা হাসল। বলল,
“ এক্সপেরিমেন্ট করতে। আসলেই একরুমে থেকে খু'নাখু'নি হয় কিনা তা।”
#চলবে....
( সবাই মন্তব্য করবেন হুহ? আর৷ রেসপন্স বেশি বেশি করলে আমিও নিয়মিত দিব গল্প 🥹 বাই দ্যা রাস্তা, এক্সপেরিমেন্টে কি রেজাল্ট আসবে?🤔)
#দুইজনাতেই
#পর্ব_১৫
লেখনীতেঃ অলকানন্দা ঐন্দ্রি
সাক্ষ্য এহসান নামক ভদ্রসভ্য পুরুষটি আসলেই যেমন গম্ভীর শান্ত রূপ দেখায় মোটেও অতোটা নয়৷ অন্তত দ্বিতী যেটুকু বুঝেছে তাতে এই লোকটি বেশ ধুরন্ধর ব্যাক্তি। দ্বিতী মুখচোখ কুঁচকেই বলল,
“ আমি তিন চার দিনের জন্য কখনোই কোথাও আপনার সাথে যাব না। গাড়ি থামান,এক্ষুনিই। আমার আব্বু আম্মু চিন্তা করবে। ”
সাক্ষ্য তাকায়। ওভাবেই ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে গাড়ি চালাল। অতঃপর বলল,
“ আপনার আব্বু আম্মুর আপনার জন্য চিন্তা না করে আমার জন্য চিন্তা করছেন মিসেস দ্বিতীকা তাসনিম।খু'নাখু'নি যদি সত্যি হয়েই যায় তাদের মেয়ের হাতে? এই নিয়ে ভীষণ চিন্তিতই দেখাল অদিতি আন্টিকে। ”
দ্বিতীর রাগে নাক মুখ লাল হয়ে উঠএ কেমন। তার আব্বু আম্মুকেও বলে এসেছে নাকি এক্সপেরেন্ট করবে? যে প্রকার ভদ্র সাজে সে হিসেবে বলার কথা নয়। আবার বলতেও পারে। দ্বিতী বাঁকা চোখে চেয়েই বলল,
“ গাড়ি থামান৷ নামব আমি, বাসায় যাব।”
সাক্ষ্য উত্তর করে না। দ্বিতী ফের আবার ও রাগে মুখচোখ লাল করে উত্তর করল,
.“ বললাম তো গাড়ি থামাতে। শুনতে পাননি? ”
সাক্ষ্য তাকাল এবারে। ওভাবেই নির্বিকার ভঙ্গিতে চালাতে চালাতে বলল,
“ গাড়ি থামবে না। চুপচাপ বসে থাকুন দ্বিতীকা তাসনিম। ”
দ্বিতী কি বাধ্য মেয়ের মতে বসে থাকবে নাকি সে কথা শুনে? বলল,
“ বসে থাকব না। কি করবেন? ”
সাক্ষ্য হাসল এবারে ঠোঁট বাঁকিয়ে। বলল,
“ কি করলে ভালো হবে? আই মিন, কি করলে খুশি হবেন? ”
“ দেখুন, এভাবে গাড়িতে উঠিয়ে কোথায় নিয়ে চলে যাওয়া কিডন্যাপিং। আমি আমার আম্মু আব্বুকে এক্ষুনিই বলব। ”
সাক্ষ্য এই কথাতেও যেন মজা পেল। বলল,
“ বলুন। প্লিজ। ”
দ্বিতীর কথায় পেরে উঠতে না পেরে রাগ তখন আঁকাশ ছুঁয়েছে। চোখমুখ লালচে। ঐ রাগ রাগ ভাব নিয়েই দ্বিতী দ্রুত ফোন বের করে কল করল মাকেই। তারপর কর রিসিভড হতেই টানটান স্বরে সাক্ষ্যর রাগটা ঢালল মায়ের উপরই। জিজ্ঞস করল,
“ কোথায় তুমি আম্মু? কল তুলতে এতক্ষন লাগল তোমার? আশ্চর্য! ”
দ্বিতীর কন্ঠ শুনেই বুঝা গেল যে রেগে আছে। ওপাশে দ্বিতীর মা ছোটশ্বাস ফেললেন। মেয়ের রাগ বুঝে উঠে বললেন,
“ মাথা ঠান্ডা করে দ্বিতী। কি হয়েছে? ”
দ্বিতীর এবার বলতে গেলে রাগে দুঃখে কান্নাই চলে এল। সবনময় যা চেয়েছে তাই পেয়েছে, সবকিছুতে গুরুত্ব পেয়েছে। অথচ সে দ্বিতীকেই সাক্ষ্য এহসান কোন গুরুত্ব দেয় নি। এইথেকেই পুরুষটির প্রতি আছে সূক্ষ্ম এক ক্ষোভ। আবার সেই পুরুষটি এখন তাকে তার কথা মতো নাচাবে? দ্বিতী মেনে নিবে তা? দ্বিতী ওভাবেই থমথমে মুখে উত্তর করল,
“ কি হয়েছে মানে? হয়নি কি? তুমি জানো কি হয়েছে? কি হয়েছে আম্মু "
দ্বিতীর মা ছোটশ্বাস ফেললেন। ফের পরমুহূর্তরই কিছু মনে পড়েছে ভঙ্গিতে বললেন,
“ তোকে কতবার কল দিলাম দ্বিতী। ফোন তুলিসনি কেন হুহ? ”
“ ফোন সাইলেন্ট আম্মু। কিন্তু আমার কথা শোনো। আমাকে তোমার বান্ধবীর ছেলে..”
“ হু, ওটাই বলতে চাইছিলাম তোকে দ্বিতী৷ সাক্ষ্য হয়তো তোকে ভার্সিটি থেকে নিয়ে নিবে৷ ওর একটা ফ্রেন্ডের আকদ হচ্ছে। এত করে বলল.., ”
দ্বিতী ভ্রু কুঁচকেই জানতে চায়,
“ কি বলল? ”
“ সাক্ষ্যর বন্ধু অনেকবার বলল দ্বিতী। সাজি ও সকাল থেকে বারকয়েক কল করে বলেছে। সাক্ষ্য অবশ্য বলেছে, না গেলেও সমস্যা নেই। অসুবিধা থাকলে না যাওয়াটাই বেটার। পরে আমারই মনে হলো যে, থাক। গিয়ে ঘুরে আয়। দুদিন পর এমনিতেই ওদের হয়ে, ওদের ঘরে চলে যাবি।আর তোরা যেমন, সংসার করলে কিভাবে করবি আমি নিজেই চিন্তায় আছি। তাই তো, ভেবেছি ঘুরে আসলে আর ও ভালোই হবে। বন্ডিংটা মজবুত হবে৷ ”
দ্বিতী দ্বিগুণ রাগল। বলল,
“তো? তুমি তাই বলে রাজি হয়ে যাবে আম্মু? তুমি তো আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে। তোমার সাথে আমি আর কথাই বলব না। ”
“ পাগল! কি বিশ্বাসঘাতকতা করলাম? জামাকাপড় সব গুঁছিয়ে দিয়েছি তাড়া থাকাতে। দেখিস তো সব ঠিক আছে কিনা। কোনকিছু না দিলে তো সমস্যা হবে তোর। ”
“ তুমি থাকো ওসব নিয়ে। আমি ওখানে কি করে থাকব আম্মু? এতদিন? তুমি তোমার মেয়ের সাথেই এই মীরজাফরের মতো আচরণ করলে তুমি? মনে রাখব আমি। ”
এইটুকু বলেই কল রাখল। সাক্ষ্য যেন মজা পেল এতক্ষনকার ঝগড়া শুনে৷ ঠোঁট বাঁকিয়ে জানতে চাইল,
“ কি হলো? চিন্তা করছে আপনার আব্বু আম্মু? ”
দ্বিতী ফুঁসে উঠে জানাল,
” আপনি মানুষটা খুব ধূর্ত ! আপনাকে আমার আম্মু তো আর চিনে উঠতে পারেনি। পেরেছি তো আমি। আমি আপনাকে শিরা উপশিরায় চিনে ফেলেছি বুঝলেন? ”
সাক্ষ্য ফের ঠোঁট বাঁকায়। বাঁকা হেসে মাথা নেড়ে বলল
“ এক্সাক্টলি! আপনি না চিনলে আর কে চিনবে বলুন?”
“ অনেকেই! ”
“ যেমন?”
“ নিধি। ”
সাক্ষ্য এবার ভ্রু বাঁকাল। ফুরফুরে মেজাজটার বারোটা বাজাতে বোধহয় দ্বিতীর এই উত্তরটাই যথেষ্ট। দ্বিতী আবারও উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল,
“ নিধির সাথে আপনাকে দারুণ মানায় স্যার। পার্ফেক্ট কাপল। আমি তো ফ্যান আপনাদের। ”
“তাই নাকি? ”
“ ইয়েসস! নিধির সাথে গানটাও কি জোশ গেয়েছেন। নিধির সাথে তো ম্যাচিং ম্যাচিং ড্রেসও পরেন। আপনি জানেন আপনাদের কত সুন্দর মানায় স্যার? আহ! কি সুন্দর কাপল! ”
এভাবে প্রায় অর্ধেক রাস্তা দ্বিতী নিধি আর সাক্ষ্যর প্রশংসাই করে গেল। যেনতেন প্রশংসা নয়। একেবারে মন খুলে প্রশংসা করা। যেন সে সত্যি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছে। সত্যি সত্যিই এই দুইজনের কি বড় ভক্ত। সাক্ষ্য শুনে শুনে কেবল বিরক্ত হলো। একই টপিকে এত কথা শুনে কপাল কুঁচকে এল তার৷ অবশেষে একপ্রকার চাপা রাগই জন্মাল সাক্ষ্যর। ভ্রু বাঁতিয়ে তাকাল। দ্বিতী তখন ফের উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল,
“ আচ্ছা আপনি প্রোপোজ করেছেন নিধিকে স্যার? কিভাবে করেছেন? কয় বছর যাবৎ পছন্দ করেন স্যার? ”
দ্বিতী যে ইচ্ছে করেই খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে এসব বকে যাচ্ছে তা বুঝতে বাকি নেই সাক্ষ্যর। তবুও তার রাগ হচ্ছে। নিধিকে নিয়ে এই ধারণা কে ডুকিয়েছে দ্বিতীর মনে তা নিয়েও জন্মার চিড়চিড়ে এক রাগ। সে মোটেই নিধির সাথে ম্যাচিং করে ড্রেস পরে না। আর না তো পছন্ত করে। তবে? এমন একটা ভাবনা এল কি করে? দ্বিতী ফের আবারও বেশ উৎসুক হয়ে বলল,
“ করেন নি এখনো প্রপোজ? ইশশ!করে ফেলুন জলদি। আমরা পাশে আছি। ”
ফের পরমুহূর্তেি আবার বলল,
“ স্যার? নিধিকে আপনি বসে প্রোপোজ করবেন নাকি দাঁড়িয়ে? আর, আর আপনাদের বিয়েটা? কবে করছেন বিয়েটা স্যার? ”
সাক্ষ্য কটমট করে তাকাল। গাড়ি চালানোর মাঝখানেই হুট করে গাড়ি থামাল। অতঃপর ওভাবেই হীমশীতল গলায় বলল,
“ আর একটা কথা বললে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিব দ্বিতী। স্টপ দিস। ”
“ স্টপ কেন? ভার্সিটির জনপ্রিয় কাপল বলে কথা। সবাই বললে দোষ নেই, আমি বললেই দোষ? ”
সাক্ষ্যর চাহনি তখন শীতল। শীতল এক চাহনি ফেলেই জানাল,..
“ হ্যাঁ, আপনি বললেই দোষ৷ আরেকটা কথা বললে আজকে সত্যিই খু'নোখু'নি হবে। দেখে নিবেন। ”
এইটুকু বলার পর সাক্ষ্য আর কিছুই বলল না। থমথমে এক মুখশ্রী নিয়ে সারাটা পথ ড্রাইভ করেছে। অতঃপর নিয়ে এল একটা সাধারণ বাসাতেই। যাতে তালা দেওয়া বাইরে থেকে। সাক্ষ্য শুধু তালাখানা খুলে পা বাড়াল। যেতে যেতে বলল,
“ একই রুমে থাকার সূচনায় স্বাগতম মিসেস দ্বিতীকা তাসনিম। পা ফেলে রুমে এসে উদ্ধার করুন এবারে। ”
দ্বিতী শুধু আশপাশে চাইল। কেউ নেই। অথচ তার মা বলল সাক্ষ্যর বন্ধুর নাকি আকদ? এটা আকদের হাল অবস্থা? নাকি নমুনা?মুহূর্তেই বলল,
“ এটা আকদের নমুনা নাকি? চালাকি করলেন তাই না? ভদ্র সভ্য রূপ ধরে আমার আব্বু আম্মুকে বোকা বানিয়ে মনে মনে এই কূটনৈতিক পন্থা অনুসরণ করলেন? ছিহ! ”
সাক্ষ্য এবারে হাসল মৃদু। দ্বিতীর আড়ালেই। জানাল,
“ বউ যদি হয় অদিতি আন্টির মেয়ে দ্বিতীকা তাসনিম, তখন এসব পন্থা অনুসরণ করা খারাপ কিছু নয়। ”
#চলবে....