#Captive_In_The_Dark
#Translator_by_Abida_Sultana
#পর্বঃ০২
⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌
Chapter 1
Livvie
আমার মাথা প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙল, আর একসঙ্গে দু’টো ব্যাপার খেয়াল করলাম— চারপাশ অন্ধকার, আর আমি একা নই। আমরা কি চলছি? দৃষ্টি ঝাপসা, চোখ এদিক-ওদিক গড়িয়ে গেল— এক ধরনের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, যেন ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করছি, বা পরিচিত কিছু খুঁজে পাচ্ছি। আমি একটা ভ্যানে ছিলাম, শরীর এলোমেলোভাবে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়া।
আতঙ্কে একসাথে নড়তে চাইলাম, কিন্তু বুঝলাম আমার নড়াচড়া কেমন ধীর, দুর্বল। হাত পিছনে বাঁধা, পা খোলা কিন্তু ভীষণ ভারী লাগছে।
আবার চেষ্টা করলাম অন্ধকারে চোখ ফোকাস করতে। পেছনের জানালাগুলো খুব গাঢ় রঙে টিন্ট করা, কিন্তু তবুও অন্ধকারের মাঝেই চারটে আলাদা অবয়ব দেখতে পাচ্ছিলাম। তাদের কণ্ঠস্বর বলে দিচ্ছিল তারা পুরুষ। তারা এমন এক ভাষায় কথা বলছিল যা আমি বুঝতে পারছিলাম না— ঝরঝরে দ্রুত উচ্চারণ, খণ্ডিত সুর, কিছুটা সমৃদ্ধ, খুব বিদেশি… হয়তো মধ্যপ্রাচ্যের ভাষা। কিন্তু তাতে কি আসে যায়?
আমার মস্তিষ্ক বলল— হ্যাঁ, এটাও এক তথ্য। কিন্তু সেই সামান্য সান্ত্বনাও মিলিয়ে গেল। আইসবার্গ দেখা গেলেও টাইটানিক ডোবা ঠেকেনি।
আমার প্রথম প্রবৃত্তি ছিল চিৎকার করা— এটাই তো মানুষ করে, যখন বুঝতে পারে তার সবচেয়ে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন সামনে ঘটছে। কিন্তু আমি দাঁত চেপে ধরলাম। সত্যিই কি চাইছিলাম তারা যেন জানে আমি জেগে আছি? না।
আমি স্বভাবে নির্বোধ নই। যথেষ্ট সিনেমা দেখেছি, বই পড়েছি, আর এমন বাজে পাড়ায় থেকেছি যেখানে শিখে গিয়েছি— প্রায় সব পরিস্থিতিতেই নিজের দিকে দৃষ্টি টানা সবচেয়ে খারাপ কাজ। মাথার ভেতরে এক ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠ ফিসফিস করল, “তাহলে তুমি এখানে কী করছো?” আমি কুঁকড়ে গেলাম।
এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভয়— কোনো অসুস্থ পিশাচ আমাকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যাবে, ধর্ষণ করবে, মেরে ফেলে যাবে। যেদিন থেকে বুঝতে শুরু করলাম আমার শরীর বদলাচ্ছে, সেদিন থেকে রাস্তায় অসংখ্য বিকৃত মানুষ প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছে তারা আমার সাথে কী করতে চায়। আমি সবসময় সতর্ক ছিলাম— অদৃশ্য থাকার সব নিয়ম মেনে চলতাম। মাথা নিচু করে হাঁটতাম, দ্রুত চলতাম, সাদামাটা পোশাক পরতাম। তবু আমার দুঃস্বপ্ন আমাকে খুঁজে নিয়েছে। আবারও। আমি যেন মায়ের কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছিলাম— “তুমি কী করেছো?”
তাদের সংখ্যা চারজন। চোখে জল চলে এলো, বুকে থেকে একটা করুণ শব্দ বেরিয়ে গেল। থামাতে পারলাম না।
হঠাৎ চারপাশের কথোপকথন থেমে গেল। যদিও আমি একটুও শব্দ না করে স্থির থাকতে চাইছিলাম, আমার বুক ধকধক করছিল, নিঃশ্বাসের ওঠানামায় আতঙ্কের ছন্দ স্পষ্ট ছিল। তারা জানল আমি জেগে আছি। আমার জিভ মুখের ভেতরে ভারী হয়ে বসে রইল। হঠাৎ চিৎকার করে উঠলাম—
“আমাকে ছেড়ে দাও!”
যেন আমি মরছি— কারণ সত্যিই হয়তো মরছিলাম। চিৎকার করলাম এই আশায় যে বাইরে কেউ শুনবে, আর কিছু করবে। মাথা টনটন করছিল।
“বাঁচাও! কেউ বাঁচাও!”
আমি পাগলের মতো হাত-পা ছুঁড়ে মারছিলাম। পা ধরতে এলে একজনকে লাথি মেরে ফেললাম। ভ্যান দুলছিল, আরবিতে তাদের কণ্ঠস্বর আরও উঁচু আর ক্ষুব্ধ হচ্ছিল।
অবশেষে আমার পা জোরে আঘাত করল সেই লোকটার মুখে। সে পাশে সিটে ধাক্কা খেল।
“বাঁচাও!” আবারও চিৎকার করলাম।
রাগে উন্মত্ত হয়ে সেই একই লোক আবার এগিয়ে এলো, আর এবার প্রচণ্ড জোরে আঘাত করল আমার বাম গালে। চেতনা হারিয়ে যাচ্ছিল— হারানোর আগে শুধু বুঝলাম আমার শরীর এখন নিস্তেজ, চারজন অচেনা মানুষের দয়ায়— যাদের আমি কখনও চিনতে চাইনি।
যখন পরেরবার জ্ঞান ফিরল, রুক্ষ হাত আমার বগলের নিচে ঢুকেছে, আরেকজন আমার পা ধরে আছে। আমাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে। বুঝলাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলাম।
মাথা এতটাই ব্যথা করছিল যে কথা বলতে পারছিলাম না। বাম গালটা যেন ফুটবল আঘাত করেছে— বাম চোখ দিয়ে ঠিকমতো দেখতে পারছিলাম না। মাথা ঘোরছিল, আর হঠাৎ বমি করে ফেললাম। তারা আমাকে ফেলে দিল, আমি পাশ ফিরে শুয়ে শুকনো কাশছিলাম। চারপাশে তাদের চিৎকার, ভাষা অচেনা, শব্দ ভাঙা আর বিরক্তিকর। দৃষ্টি কখনও পরিষ্কার, কখনও ঝাপসা। এই ওঠানামা চলতে লাগল। এতটাই দুর্বল ছিলাম যে বমির পাশেই মাথা রেখে আবার অচেতন হয়ে গেলাম।
কিছুক্ষণ পরে আবার জ্ঞান ফিরল— অথবা জ্ঞানসদৃশ কোনো অবস্থায় পৌঁছলাম। ঝাঁকুনি খেলাম। সারা শরীরে ব্যথা। মাথা ধপধপ করছে, ঘাড় এতটাই শক্ত আর যন্ত্রণায় পুড়ছে যে নড়াতে পারছিলাম না। সবচেয়ে খারাপ— চোখ খোলার চেষ্টা করে বুঝলাম খোলা যাচ্ছে না। চোখ বাঁধা।
টুকরো টুকরো ছবি ভেসে উঠল— টায়ারের চিৎকার, ধাতুর ঘর্ষণ, পায়ের শব্দ, দৌড়, ঘাম, মাটি, অন্ধকার, বমি, বন্দি।
শেষ শক্তিটুকু দিয়ে উঠে বসার চেষ্টা করলাম— কিন্তু পারলাম না। হাত-পা নড়ছিল না। মস্তিষ্ক আদেশ দিচ্ছে, শরীর মানছে না। আতঙ্কের নতুন ঢেউ আমাকে গ্রাস করল।
চোখের পেছনে গরম জল জমল। ভয় পেয়ে মাথা নাড়িয়ে চোখের বাঁধন খোলার চেষ্টা করলাম। ঘাড়ে তীব্র ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল— মাথা নড়লও না। ওরা আমার সঙ্গে কী করেছে? নড়াচড়া থামিয়ে দিলাম। শুধু ভাবো, শুধু অনুভব করো।
মানসিকভাবে নিজের অবস্থাটা যাচাই করলাম। মাথা একটা বালিশে রাখা, শরীর নরম কিছুতে— মানে আমি বিছানায়। শরীরে কাপড় আছে— এটা ভালো। কিন্তু কব্জিতে কাপড়ের বাঁধন, গোড়ালিতেও একই… আমি বিছানায় বাঁধা! ভয়ঙ্কর শিহরণ বয়ে গেল। আমার লম্বা স্কার্ট উরুর অনেকটা ওপরে উঠে গেছে, পা ছড়ানো। ওরা কি আমাকে ছুঁয়েছে? না, থামো! গভীর শ্বাস নিয়ে চিন্তাটা থামিয়ে দিলাম।
শরীর অক্ষত মনে হচ্ছিল, আঙুল-টিংগার ঠিক আছে। সচেতনভাবে বর্তমানের দিকে মন দিলাম। সামান্য স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ল— যা আসলে সোবের মতো শোনাল।
তখনই তার কণ্ঠস্বর শুনলাম—
“ভালো, অবশেষে জেগেছো। ভাবতে শুরু করেছিলাম তুমি হয়তো গুরুতর আহত হয়েছো।” কণ্ঠস্বর শুনে শরীর জমে গেল। শ্বাস নিতে নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হলো। কণ্ঠস্বর ছিল অদ্ভুতভাবে কোমল, চিন্তিত… পরিচিতও লাগছিল কি? উচ্চারণটা আমেরিকান— কিন্তু কিছু যেন অস্বাভাবিক।
আমার চিৎকার করা উচিত ছিল, কিন্তু জমে রইলাম। সে ঘরে বসে ছিল, আমার আতঙ্ক দেখছিল।
কিছুক্ষণ পর কাঁপা গলায় বললাম, “আপনি কে?” কোনো উত্তর নেই। “আমি কোথায়?” কথাগুলো যেন বিলম্বিত, ধীর— যেন মাতাল।
নীরবতা। চেয়ারের কড়মড়। পায়ের শব্দ। বুকে হৃদস্পন্দনের ধাক্কা।
“আমি তোমার মালিক।” ঠাণ্ডা হাত আমার ঘামে ভেজা কপালে ঠেকল। আবার সেই অদ্ভুত পরিচিতির অনুভূতি। কিন্তু এটা বোকামি— আমি তো কোনো অ্যাকসেন্টওয়ালা মানুষকে চিনি না। “আমি যেখানে চাই তুমি সেখানে আছো।”সে বলে।
“আমি কি আপনাকে চিনি?” গলা খসখসে, শুধু আবেগে ভরা।
“এখনও না।”
বন্ধ চোখের পেছনে লাল সহিংস রেখা ফেটে উঠল— অ্যাড্রেনালিন আমার অন্ধকার দৃষ্টি ভাসিয়ে দিল। ভেতরে ভেতরে বিপদের সাইরেন বাজল— Danger. Danger. Run. Run!
মস্তিষ্ক চিৎকার করল প্রতিটি পেশি সঙ্কুচিত করতে। আমি সব বাঁধন ভাঙতে চাইলাম— কেবল হালকা এক ঝাঁকুনি খেলাম।
আমি হঠাৎ করেই একধরনের উন্মত্ত কান্নায় ভেঙে পড়লাম।
“দয়া করে... আমাকে যেতে দাও,” আমি কাঁপা গলায় মিনতি করলাম। “আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি কাউকে কিছু বলব না। আমি শুধু বাড়ি যেতে চাই।”
“আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি সেটা করতে পারব না।”—এক ঝটকায় যেন হতাশার এক অশেষ সাগর আমাকে টেনে নিয়ে গেল তার ভারী, শ্বাসরুদ্ধ করা ঢেউয়ের তলায়। তার কণ্ঠে অনেক কিছুই অনুপস্থিত ছিল—সহানুভূতি, সুর, আবেগ—কিন্তু একটি জিনিস অনুপস্থিত ছিল না, আর তা হলো এক অটল দৃঢ়তা। সেই দৃঢ়তাকে আমি মেনে নিতে পারছিলাম না।
সে আমার কপাল থেকে চুল সরিয়ে দিল, এক ঘনিষ্ঠ স্পর্শ যা আমার বুকের ভেতর অদ্ভুত অশনি সংকেত জাগিয়ে তুলল। সে কি আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে? কেন?
“দয়া করে,” আমি আবার কাঁদতে কাঁদতে বললাম, যখন সে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে যাচ্ছিল। আমি অনুভব করলাম, সে বিছানায় ওজন ফেলে বসল, আর আমার হৃদপিণ্ড যেন থেমে গিয়ে হোঁচট খেল।
“আমি পারব না,” সে ফিসফিস করে বলল, “আর তার চেয়ে বেশি..আমি চাই ও না।
এক মুহূর্তের জন্য, তার কথার পর যে নীরবতা নেমে এলো, তা ভেদ করছিল শুধু আমার কান্না আর গভীর, যন্ত্রণাভরা হাহাকার। অন্ধকার সেই বোঝা আরও অসহনীয় করে তুলেছিল।
তার শ্বাস, আমার শ্বাস—একসাথে, শুনতে লাগছিল এক শূন্য জায়গায় প্রতিধ্বনির মতো।
সে বলে,“শোনো, আমি কি করব জানো? আমি তোমার বাঁধন খুলবো, তোমার গায়ের এই আঘাতগুলো পরিষ্কার করে দেব। আমি চাইনি তুমি জলের পুকুরে ভেসে উঠে জাগো। মুখে আঘাত লাগার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।” সে আমার গালের হাড় বেয়ে আঙুল বুলিয়ে দিল। “কিন্তু এটাই হয়, যখন তুমি লড়াই করো কিন্তু পরিণতির কথা ভাবো না।”
“জলের পুকুর?” আমি ভয়ে কেঁপে উঠলাম। “আমি কোনো পানিতে নামতে চাই না। দয়া করে,” আমি মিনতি করলাম, “আমাকে শুধু ছেড়ে দাও।” তার কণ্ঠ ছিল অস্বাভাবিকভাবে শান্ত, মার্জিত, বাস্তববাদী—এবং ভয়ানকভাবে The Silence of the Lambs-এর Hannibal Lecter-এর মতো শোনাচ্ছিল।
“তোমার গোসল দরকার, pet।” — এটাই ছিল তার শীতল, আতঙ্ক জাগানো উত্তর।
আমি শুধু কাঁদতে লাগলাম যখন সে আমার বাঁধন খুলছিলো। আমার হাত-পা ছিল শক্ত, অসাড়—মনে হচ্ছিল ওগুলো যেন আমার শরীরেরই অংশ নয়, খুব ভারী, খুব দূরে। আমার পুরো শরীরই কি ঘুমিয়ে গেছে? আবার চেষ্টা করলাম নড়তে, চেষ্টা করলাম তাকে আঘাত করতে, লাথি মারতে। কিন্তু আবারও আমার চেষ্টার ফল হলো কেবল খিঁচুনি-ধরানো, ছটফটে নড়াচড়া। হতাশ হয়ে আমি নিশ্চল হয়ে পড়ে রইলাম। আমি জাগতে চেয়েছিলাম। আমি পালাতে চেয়েছিলাম। আমি লড়তে চেয়েছিলাম।
আমি তাকে আঘাত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারছিলাম না।
সে আমার চোখের পট্টি খুলল না, বরং আমাকে বিছানা থেকে আলতো করে তুলে নিল। আমি অনুভব করলাম, আমি ওপরে উঠছি—তারপর অন্ধকারে যেন ভাসমান হয়ে আছি। আমার ভারী মাথা তার বাহুর ওপর হেলে পড়েছিল। আমি তার বাহু অনুভব করছিলাম। তার কাপড় আমার ত্বকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল।
“আমি নড়তে পারছি না কেন?” আমি কেঁদে ফেললাম।
“আমি তোমাকে সামান্য কিছু দিয়েছি। চিন্তা কোরো না, এটা কেটে যাবে।” অন্ধকারে অন্ধ, ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে, তার অঙ্গগুলো আমার চারপাশে জড়ানো, আর তার কণ্ঠ পেয়ে গেল এক অদ্ভুত বুনট, এক রূপ।
সে আমাকে একটু এদিক-সেদিক করল, যতক্ষণ না আমার মাথা তার শার্টের কাপড়ে হেলে পড়ল।
“লড়াই বন্ধ করো।” তার কণ্ঠে হালকা একরকম আনন্দ লুকিয়ে ছিল।
আমি লড়াই থামিয়ে দিলাম, আর চেষ্টা করলাম তার সম্পর্কে ছোট ছোট বিবরণ ধরতে। সে স্পষ্টতই খুব শক্তিশালী—আমার পুরো ওজন সে তুলছিল বিন্দুমাত্র কষ্ট ছাড়াই। আমার গাল যেখানটায় ঠেকেছিল, সেখানে ছিল তার শক্ত, প্রশস্ত বুকের উষ্ণতা। তার গায়ে ছিল হালকা সাবানের গন্ধ—হয়তো সামান্য ঘামেরও—একটা পুরুষালি গন্ধ, যা স্পষ্ট হলেও অদ্ভুতভাবে দূরবর্তী পরিচিত মনে হচ্ছিল।
আমরা খুব দূরে হাঁটিনি—মোটে কয়েক পা। কিন্তু আমার কাছে প্রতিটা মুহূর্ত মনে হচ্ছিল এক অদ্ভুত সমান্তরাল জগতের অন্তহীন সময়ের মতো, যেখানে আমি যেন অন্য কারও শরীরে বন্দী। কিন্তু সেই বিভ্রম ভেঙে গেল মুহূর্তেই, যখন সে আমাকে নামিয়ে দিল এক ঠান্ডা, মসৃণ কিছুর ভেতরে।
আতঙ্ক আমাকে আঁকড়ে ধরল। “তুমি কী করছো, এটা কী?”
এক মুহূর্ত নীরবতা, তারপর তার আমোদিত কণ্ঠ—“আমি বলেছি না, তোমাকে পরিষ্কার করছি।”
আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই বরফ-ঠান্ডা পানির প্রথম ধাক্কা এসে লাগল আমার পায়ে। ভয়ে আমি চমকে উঠে হালকা একটা চিৎকার করে ফেললাম। করুণভাবে শরীর ঘুরিয়ে টাবের কিনারায় উঠে আসার চেষ্টা করতেই পানি উষ্ণ হয়ে এলো, আর আমার অপহরণকারী আমাকে টেনে আবার টাবের ভেতরে ঠেসে বসল।
“আমি গোসল করতে চাই না। আমাকে যেতে দাও।” আমি চোখের পট্টি খুলতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু অসাড় হাতে নিজের মুখেই বারবার আঘাত লাগল। সে হাসি চাপার এক ব্যর্থ চেষ্টা করল।
“তুমি চাইছো কিনা তাতে আমার কিছু যায় আসে না, তোমার গোসল করা দরকার।”সে বলে।
আমি অনুভব করলাম, তার হাত আমার কাঁধে। সর্বশক্তি জড়ো করে আঘাত করার চেষ্টা করলাম—হাত এলোমেলোভাবে পেছনে উড়ে গিয়ে কোথাও, হয়তো তার মুখে বা গলায় লাগল।
তার আঙুল আমার চুলের ভেতর ঢুকে পড়ল, আর আমার মাথা অদ্ভুত এক কোণে জোর করে পিছনে টেনে নিল।
“তুমি কি চাও, আমিও তোমার সাথে রূঢ় হই?” সে আমার কানের কাছে গর্জে উঠল। আমি কিছু না বলায়, তার আঙুল এত শক্ত করে চেপে ধরল যে মাথার ত্বকে ঝিমঝিম করে উঠল। “আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।”
“না।” আমি ফিসফিস করে বললাম, আতঙ্কে ভরা কণ্ঠে।
এক মুহূর্ত দেরি না করে সে চাপ ছেড়ে দিল। কিন্তু চুল থেকে আঙুল সরানোর আগে, হালকা করে মাথার ত্বকে মালিশ করল। এতটাই ভয়ঙ্কর অস্বস্তিকর ছিল সেটা যে, আমার পুরো শরীরে কাঁপুনি দিয়ে উঠল।
“আমি কাঁচি দিয়ে তোমার পোশাক কেটে ফেলব,” সে নির্লিপ্ত গলায় বলল। “ভয় পেও না।”
পানির ধারা আর নিজের হৃদস্পন্দনের শব্দ কানে বজ্রপাতের মতো বেজে উঠছিল—আমি কল্পনা করছিলাম, সে আমাকে উলঙ্গ করে পানিতে ডুবিয়ে মারবে।
“কেন?” আতঙ্কে ভরা কণ্ঠে আমি বলে উঠলাম।
তার আঙুল আমার টানটান গলার উপর বুলিয়ে গেল। ভয়ে আমি কেঁপে উঠলাম। কিছু দেখতে না পারাটা আমার কাছে অসহ্য লাগছিল—এতে আমাকে বাধ্য করছিলো প্রতিটা অনুভূতি তীব্রভাবে টের পেতে।
হঠাৎ তার ঠোঁট আমার কানের কাছে—নরম, পূর্ণ, কিন্তু অনাহুত। আমি ঘাড় ফেরানোর চেষ্টা করতেই সে আরও কাছে নাক ঘষল। “আমি চাইলে ধীরে ধীরে তোমাকে উলঙ্গ করতে পারি, সময় নিয়ে... কিন্তু এটাই কেবল বেশি কার্যকর উপায়।”
“আমার কাছ থেকে দূরে থাক, তুমি একটা নোংরা বদমাশ!”—এটা কি সত্যিই আমার গলা থেকে বের হল? এই দুঃসাহসী সংস্করণটা যদি চুপ না করে, আমাকে মেরে ফেলবে।
আমি প্রতিশোধের জন্য প্রস্তুত হলাম, কিন্তু কিছুই ঘটল না। বরং, এক ধরনের হালকা শব্দ শুনলাম—মনে হল সে হাসছে। নোংরা বিকৃত মস্তিষ্কের লোকটা।
সে আমার শার্ট কেটে ফেলল ধীরে, সাবধানে—এবং এতে আমার মনে হল, হয়তো সে ইচ্ছে করেই আমার আতঙ্ককে উপভোগ করছে।
এই ভাবনা আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছিল, যেখানে আমি যেতে চাইনি। এরপর সে আমার স্কার্ট খুলে ফেলল।
আমি যতই লড়াই করছিলাম, সবই ছিল করুণ ব্যর্থতা। আমার হাত যদি পথে আসে, সে অনায়াসে সেগুলো সরিয়ে দিচ্ছিল। হাঁটু তুললে, সহজেই তা আবার নিচে চেপে দিচ্ছিল।
সে এখনো টাবের ড্রেন বন্ধ করেনি, পানি জমছিল না। আমি অন্তর্বাসে বসে ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। সে আমার ব্রার দিকে হাত বাড়াল, আর আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুধু কাঁপতে লাগলাম।
“শান্ত হও,” সে নরম গলায় বলল।
“প্লিজ,” আমি কান্নার ভেতর দিয়ে বললাম, “প্লিজ—যা-ই তুমি ভাবছো, তোমার তা করার প্রয়োজন নেই। প্লিজ, শুধু আমাকে ছেড়ে দাও, আমি কাউকে বলব না, কসম করছি... কসম করছি।”
সে আমার প্রশ্নের উত্তর দিল না। বরং কাঁচির ঠান্ডা ধাতব ধার আমার স্তনের মাঝ বরাবর চেপে ধরল, আর এক টানে আমার ব্রা কেটে দিল। আমি অনুভব করলাম আমার বুক উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে, আর সঙ্গে সঙ্গে আমার কান্না আবার শুরু হলো।
“না-না, আমাকে ছোঁয়ো না!” আমি বলতে না বলতেই সে আমার স্তনবৃন্ত চেপে ধরল। শক আর হঠাৎ আঘাতের মতো অনুভূতিতে আমি চিৎকার করে উঠলাম।
সে আমার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করল, “তুমি কি চাও আমি ছেড়ে দিই?”
আমি কথা বলতে পারলাম না, শুধু মাথা নাড়লাম।
“হ্যাঁ, বলো তো?” সে আরও জোরে চেপে ধরল।
“হ্যাঁ! প্লিজ!” আমি কান্নার মধ্যে চিৎকার করলাম।
“তুমি কি আমার ভালো মেয়েটা হয়ে থাকবে?” তার কণ্ঠ আবারও সেই ঠান্ডা উদাসীনতায় ভরা, যা আগের মিথ্যা কোমলতার সঙ্গে একেবারেই মেলেনি।
“হ্যাঁ।” দাঁত চেপে কাঁদতে কাঁদতে বললাম, আর আমার হাত তার হাতের ওপর রেখে দিলাম। তার হাত বিশাল, দৃঢ়—একটুও ছাড়ার কোনো ইচ্ছে তার নেই, আমি তা বুঝে গেলাম।
“গুড গার্ল।” সে ব্যঙ্গ করে বলল। কিন্তু ছাড়ার আগে, সে তার তালু দিয়ে আমার সংবেদনশীল আর ব্যথায় ভরা স্তনবৃন্তগুলো ঘষে নিল।
আমার চোখের জল থামছিল না, তবু আমি বাধ্য হয়ে চুপচাপ রইলাম, শুধু যেন আর শাস্তি না পাই। সে আমার ছিঁড়ে যাওয়া ব্রার টুকরো সরিয়ে ফেলল, তারপর প্যান্টিও কেটে দিল। ধাতব ধার আমার গায়ে ঠেকে গেল, কাপড় ছিঁড়ল, আর আমি অনুভব করলাম—যদি আমি বেশি নড়াচড়া করি, আমার ত্বকও কেটে যেতে পারে।
এরপর, একটি হাতের শাওয়ার দিয়ে আমার শরীরে পানি ছিটিয়ে দিল। তারপর টবে স্টপার লাগাল। পানি গরম, অন্তত ঠান্ডা বাতাসের চেয়ে ভালো, কিন্তু আমি এতটাই আতঙ্কিত ছিলাম যে বেঁচে আছি—এই স্বস্তিটুকুও অনুভব করতে পারলাম না। পানি যখন কোনো কাটা জায়গা ছুঁল, তখন তীব্র জ্বালা লাগছিল।
আমি কাঁদা থামিয়ে শান্তভাবে বলার চেষ্টা করলাম—
“তুমি কি দয়া করে ব্লাইন্ডফোল্ডটা খুলে দিবে? আমি দেখতে পেলে ভালো হতো। তুমি তো আমাকে আঘাত দিবে না… তাই না?” গলা শুকনো, দাঁত কাঁপছিল।
সে কিছুক্ষণ চুপ রইল, তারপর বলল—
“ব্লাইন্ডফোল্ড তোমাকে রাখতে হবে। আর আঘাত দেওয়ার কথা—এখন শুধু তোমাকে পরিষ্কার করব। কিন্তু মনে রেখো, তোমার আচরণের ফল আছে। ভুল করলে শাস্তি পাবে।”
সে আমার উত্তর শোনার অপেক্ষা করল না।
“তাহলে চুপচাপ থাকো, আমি তোমাকে আঘাত করব না।”সে বললো।
তারপর সে পুদিনা আর ল্যাভেন্ডারের গন্ধযুক্ত নরম তরল সাবান দিয়ে আমার শরীর ধোয়া শুরু করল। গন্ধটা ঘরের ভেতর ভাসতে লাগল, আমার ত্বকের চারপাশে জড়িয়ে রইল—যেন তার কণ্ঠের মতো। এক সময় আমি ল্যাভেন্ডারের গন্ধ পছন্দ করতাম—এখন তা ঘৃণা করি।
যখন সে আমার বুকে হাত বোলাল, আমি আবারও তার হাত থামানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে কোনো কথা না বলে, এক হাতে আমার কব্জি এমন জোরে চেপে ধরল যে আমি অন্য হাতও ছেড়ে দিলাম।
পরে, যখন আমি বারবার পা বন্ধ করছিলাম আর তাকে মাঝখানে ধোয়ার সুযোগ দিচ্ছিলাম না, তখন সে আমার উরুতে থাপ্পড় মারল। শরীরের এই অংশটা আমার কাছে একেবারে ব্যক্তিগত—আমি ছাড়া কেউ কোনোদিন দেখেনি। আমিও কখনও পুরোপুরি ছুঁইনি। আর এখন এক অপরিচিত, যে আমাকে আঘাত করেছে, সে আমার শরীরের এই অংশের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেকে অপমানিত, লাঞ্ছিত অনুভব করছিলাম—যেন সেই অতীত ফিরে এসেছে, যেটা ভুলে যেতে আমি কত চেষ্টা করেছি। আমি লড়াই করলাম, কিন্তু তার প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি অনুপ্রবেশে আমার শরীরটা একটু একটু করে আমার হাতছাড়া হয়ে তার হয়ে যাচ্ছিল। আমি কাঁপতে থাকলাম।
অবশেষে সব শেষ হলো। সে টবের স্টপার খুলে দিল, আমাকে তুলে নিয়ে গা মুছে দিল, চুল আঁচড়ে দিল, আঁচড়-কাটা জায়গায় মলম লাগাল আর একটা বাথরোব পরিয়ে দিল। আমি ভয়ে, লজ্জায়, ক্লান্তিতে, আর অন্ধকারে ডুবে ছিলাম—তবু অন্তত বাইরের দিকটা পরিষ্কার লাগছিল।
আমি সাহায্য ছাড়াই দাঁড়িয়ে ছিলাম, আর তার কণ্ঠ বাতাসের মতো নরম হয়ে আমার ঘাড় ছুঁয়ে গেল—
“চলো, আমার সঙ্গে।”
কোনো উপায় ছিল না, আমি তার হাত ধরতে দিলাম আর সে আমাকে অন্ধকারে, বাথরুম থেকে বাইরে নিয়ে গেল।
চলবে.......