ফন্ট সাইজ:
থিম:
Captive In The Dark-1

৫ম পর্ব

লেখক: সিজন -1

#Captive_In_The_Dark

#Translator_by_Abida_Sultana

#পর্বঃ০৫

⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌

Chapter 4

Livvie

আমার ক্ষুধা যেন এক জীবন্ত, ক্রুদ্ধ জানোয়ার, ত্বকের ভেতর থেকে আঁচড়ে যাচ্ছে, চিৎকার করছে। আমি খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম একেবারে ক্ষুধার্ত পশুর মতো—যত দ্রুত পারি খাবার আর পানীয় ঠেসে ঢুকিয়ে দিলাম গলায়।

আমি খেয়ালও করিনি মুখে ঢুকাচ্ছি মুরগি নাকি রিফ্রাইড বিনস। ওগুলো ছিল কেবল খাবার, যা আমার পেটের শূন্যতা ভরবে। আমি খেলাম, খেলাম—যতক্ষণ না পেট পুরোপুরি ভরে যায়।

তেল, লবণ আর খাবারের টুকরো আমার হাত-মুখে মাখামাখি হয়ে গেছে। গলা শক্ত হয়ে আসছিল শেষ টুকরো খাবার নামাতে নামাতে। ক্ষুধা আর আমাকে আঁকড়ে ধরছিল না। তখনই চোখে পড়লো একটা প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ, ছড়িয়ে থাকা ফাঁকা কাগজের প্লেটের মধ্যে। হন্যে হয়ে সেটা তুলে নিলাম আর ছুটলাম পাটকাঠি মারা জানালার দিকে, বোর্ডে আঘাত করতে লাগলাম। কিন্তু কোনো ফল হলো না। খাবার তখনো পেটে নামছিল, আর কাঁটাচামচটা আমার হাতে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। হাঁপাতে হাঁপাতে, মুখে খাবারের ভারি গন্ধ নিয়ে, আমি ভাঙা টুকরোগুলো ছুড়ে মারলাম ঘরের ওপাশে, বন্ধ দরজার দিকে।

আবারও চোখ ঝাপসা হয়ে এল কান্নায়। ভয় আর দুঃখের ঢেউ আমাকে ডুবিয়ে দিচ্ছিল। তুই এখান থেকে বের হতে পারবি না। শেষ। ও ফিরে আসবে, আর কিছু ভয়ঙ্কর করবে। ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর কিছু—যা তুই আটকাতে পারবি না। দয়া করে, দয়া করে, ঈশ্বর, দয়া করে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে নাও।

আমি দৌড়ে গেলাম আধো-আলো বাথরুমে, কমোডের ঢাকনা তুলে বমি করে ফেললাম যতটুকু খেয়েছিলাম সব।

ঝাঁঝালো বমি বেরোতে বেরোতে আমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলাম টয়লেটের ভেতরে। শব্দটা প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরছিল সাদা পোরসেলিনে, গলা-বুজে আসা গরগর আওয়াজে যা শেষে পরিণত হলো কেঁদে ওঠার শব্দ আর ভারি শ্বাসে। আমি দ্রুত ফ্লাশ দিলাম—না হলে আবার উল্টি এসে যেত। আশ্চর্য, একটু হালকা লাগলো। আবার ক্ষুধার্ত, কিন্তু শান্ত।

লাইট জ্বালাতে চাইলাম, কিন্তু সেটাও তুলে নেওয়া হয়েছে। শুধু এক কোণে নাইটলাইট জ্বলছে। পুরো বাথরুমটা যেন আধুনিক আর পুরোনো জিনিসের মিশ্রণ—একটা চলমান কাজ। আমি সাবধানে চোখ সরিয়ে নিলাম সেই হট টব থেকে, যেখানে আমাকে কাপড়ছাড়া করে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুধু একবার তাকাতেই শরীরে আবার তার হাতের ছোঁয়া অনুভব করলাম। তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিলাম, মনোযোগ দিলাম বেসিনে গিয়ে মুখ ধোয়াতে আর মুখ কুলকুচি করতে। বমির গন্ধটা মাথা থেকে তাড়াতেই হবে।

বেসিনের ওপরে একটা গোলাকার ধাতব প্লেট লাগানো। হঠাৎ প্রেরণা পেয়ে আমি আঙুল ঢুকিয়ে টানতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু সেটা দেয়ালে গেঁথে বসানো। আমি ম্লান চোখে তাকিয়ে রইলাম। এত মসৃণ, এত চকচকে—প্রায় কাচের মতো। তাতে আমি প্রথমবার নিজের মুখ দেখলাম, যেদিন থেকে আমাকে ধরে আনা হয়েছে। চোখের চারপাশটা হালকা সবুজচে-বেগুনি রঙ নিয়েছে, স্পর্শ করলে ফোলা মনে হয়। এখন আমি সেটা অল্প খুলে দেখতে পারি, কিন্তু অন্য চোখের সঙ্গে তুলনা করলে বিকৃত দেখাচ্ছে। আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে অবাক হয়ে গেলাম, আগের চেয়ে ব্যথা কম।

আমি ভয়াবহ লাগছিলাম। ফোলা, কালশিটে চোখের বাইরে আমার চুল এলোমেলো এক জটলা। অদ্ভুতভাবে, আমি চুল গুছিয়ে নিতে চেষ্টা করলাম। আর সাথে সাথেই নিজের বোকামি মনে হলো। হ্যাঁ, Livvie, অপহরণকারী হ্যান্ডসাম ছেলেটার সামনে সুন্দর দেখাতে ভুলে যেয়ো না। বোকা!

আমি জানতাম না আমার সাথে কী ঘটছিল, কিন্তু এর কেন্দ্রে ছিল Caleb। সমস্ত যন্ত্রণা আর বিভ্রান্তির উৎস ও-ই। আমার জীবনে যা ঘটেছে বা ঘটতে চলেছে, সবই তার বিকৃত আর বিপথগামী কামনার ফল। ভেঙে পড়ে আমি ঘুরে দাঁড়ালাম এবং বেরিয়ে যেতে শুরু করলাম।

শোবার ঘরের দরজা হঠাৎ দুলে খুলে গেল, আমি ভয়ে লাফিয়ে উঠলাম। হন্যে হয়ে বাথরুমের ভেতর খুঁজতে লাগলাম কোথাও পালানোর পথ আছে কি না, কিংবা লুকানোর কোনো জায়গা। জানতাম—এর কোনো মানে নেই। পালানোর উপায় নেই। তবু প্রবৃত্তি তো প্রবৃত্তিই। আমার প্রবৃত্তি বলছিল, লুকাও, অন্তত কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও, যতক্ষণ না সে তোমাকে খুঁজে পায়।

Caleb সুর ভাঁজতে ভাঁজতে সোজা বাথরুমে ঢুকল। দরজার কাছে পৌঁছাতেই আমি সিঙ্কের নিচে লুকালাম। একেবারে চোখের সামনে।

সে শান্তভাবে আমার দিকে এগিয়ে এলো, আগের মতো নিষ্ঠুরতা ছাড়া, আর কোমল গলায় ডাক দিল,

—“আমি চাই তুমি উঠে দাঁড়াও।”

তার হাত বাড়িয়ে দিল আমার দিকে। ক্লান্ত চোখে আমি অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলাম সেই হাতে। কতটা ক্ষতি লুকিয়ে আছে ওর ভেতরে, সেই ভয় মনে বাজছিল। তার শান্ত স্বর আর আমার ভয় যেন বাতাসে ভারী হয়ে ঝুলে ছিল। আমি জানতাম—সে আমাকে আঘাত করবে। সেই নিশ্চিত ভাবনায় আমি প্রায় অবশ হয়ে গেলাম। ওর মন জয় করার আশায় আমি ধীরে ধীরে হাত বাড়ালাম, যেন কোনো সাপ ছোবল মারবে এমন ভয়ে। তার হাত স্পর্শ করলাম, অথচ শরীর সঙ্কুচিত করে নিতে চাইলাম। কিন্তু নিলাম না।

সে হাসল। এক অদ্ভুত হাসি—একসাথে সুন্দর আর ভয়ঙ্কর।

সে আমার কব্জি ধরে নিল, আর তার ছোঁয়া থেকে শরীরে যেন এক বৈদ্যুতিক স্রোত বইতে লাগল। আমি ভয়ে পাথর হয়ে গেলাম। ধীরে ধীরে আমাকে টেনে তুলল সে, আর মুহূর্তের মধ্যেই আমি দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে—চোখ বড় বড়, শ্বাস ভারি। সে আমার হাত তুলে ধরল তার মুখের কাছে, আর আমি প্রথমবার তার ত্বক অনুভব করলাম। এত ছোট্ট অথচ এত অন্তরঙ্গ একটি স্পর্শে আমি চোখ নামিয়ে নিলাম মেঝের দিকে। হঠাৎই ওর কোমলতাকে আমি তার নিষ্ঠুরতার চেয়েও বেশি ভয় পেতে লাগলাম।

সে আমার আঙুল নিজের মুখের ওপর চালাতে লাগল। আমি সরিয়ে নিতে চাইলে সে শক্ত করে ধরে রাখল। তার গাল মসৃণ, শেভ করা, কোমল, অথচ নিঃসন্দেহে পুরুষালি। তার এই স্পর্শ ছিল সহজ, কিন্তু খুব নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যময়—আমাকে বোঝানো যে, চাইলে সে প্রেমিকের মতো কোমল হতে পারে, ঘনিষ্ঠ হতে পারে। কিন্তু একই সাথে জানিয়ে দিল সে সেই মানুষ, যে “না” শোনার অভ্যস্ত নয়। হ্যাঁ, আমি বুঝতে পারলাম। সে একজন পুরুষ। আর আমি? আমি কিছুই না—একটা মেয়ে, এখনো পূর্ণ নারীও নই। আমি তার পায়ের কাছে মাথা নত করার জন্যই জন্মেছি, তার পৌরুষের মন্দিরে পূজা দেওয়ার জন্য—এই ভেবে কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত যে সে আমাকে লক্ষ্য করেছে। সবটাই—শুধু একটি ছোঁয়া থেকেই বোঝা গেল।

তারপর সে ডান হাত তুলে আমার চুল সরিয়ে দিল কাঁধ থেকে, আঙুল বুলিয়ে দিল হাতে। হঠাৎই আমার শরীরে কাঁপন বয়ে গেল, আমি পিছিয়ে গেলাম। সিঙ্কের ঠান্ডা পোরসেলিন আমার গায়ে ছুঁয়ে গেল। যেন নাচের ভঙ্গিতে, সে এক পা এগিয়ে এলো। তার আঙুল ঢুকে গেল আমার চুলে, মালিকানার ভঙ্গিতে, আমার মাথা আগলে ধরল। আমি তখনও মেঝের দিকে তাকিয়ে আছি। সে আমার আঙুলে চুমু খেল, দাঁতে হালকা কামড় বসাল। একসময় যা ছিল তার ছেলেমানুষি আকর্ষণ, সেই সামান্য ধারালো ক্যানাইন দাঁত এখন তাকে দিল এক অশুভ ছায়া।

আমার হৃদস্পন্দন কানে বাজছিল, নিঃশ্বাস ভারি হচ্ছিল। উৎকণ্ঠা দৌড়ে বেড়াচ্ছিল শরীর জুড়ে, শেষে পাকস্থলীতে থিতু হলো—আমাকে বমি বমি লাগতে লাগল। মনে মনে ভাবলাম, আমি কি লড়াই করব? ওর রাগের ঝুঁকি নেব? আমার প্রবৃত্তি বলল না দৌড়াতে, না লুকাতে। শুধু বলল—স্থির থাকো। বলল… মান্য করো?

দয়া করে, থামো।

সে আমার হাত ছেড়ে দিল। আমার ভেতরে আতঙ্কের সাইরেন বাজতে লাগল। হাত দিয়ে কী করব বুঝতে না পেরে নিজেকে জড়িয়ে ধরলাম। তার চোখ আমার ভেতর দিয়ে গলে যাচ্ছিল। যে তীব্রতায় সে তাকাচ্ছিল, তাতে অশ্লীলতার ছোঁয়া ছিল। তার মনে সে আমার সঙ্গে কী করছিল?

আমার ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতি জেগে উঠল। প্রাথমিক, সহজাত—পুরুষ আর নারী, শক্ত আর কোমল, শিকারী আর শিকার। হ্যাঁ, আমি ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এর ভেতর লুকিয়ে ছিল আরেকটা স্রোত—একটা অস্পষ্ট, পরিচিত কিছু। কামনা? হয়তো।

আমার চোখ সরে গেল তার মুখ থেকে। আমি কল্পনা করতাম এই ছেলেটাকে, স্বপ্ন দেখতাম তার স্পর্শের। তার চোখে আমার নগ্ন দেহের ক্ষুধা চাইতাম। কল্পনা করতাম তার নরম ঠোঁট আমার স্তনের ওপর। আর আজ সে এখানে, আমাকে স্পর্শ করছে। কিন্তু এটা মোটেও আমার কল্পনার মতো ছিল না।

এটা আমার কোনো কল্পনার সঙ্গেই মিলে না, এমনকি আমার সেই অদ্ভুত, অন্ধকার ফ্যান্টাসিগুলোতেও না। আমি স্বীকার করি, আমি স্বপ্ন দেখেছি Anne Rice-এর ভ্যাম্পায়ারদের দ্বারা ভেঙে পড়ার। আমি সেটা আমার মাথার ভেতরের এক বিশাল পর্দায় দেখেছি। আঠারো শতক, আমি এক গলিতে দাঁড়িয়ে আছি, আর সেই সুদর্শন, অশুভ সন্দেহজনক Lestat আমার উরুর মাঝে। আমি এক পতিতা, আর সে কেবল আরেকজন ক্রেতা। আমি টের পাচ্ছি সে কতটা বিপজ্জনক, কতটা শিকারি, কিন্তু এক চুমুতেই আমি আর কিছু ভাবি না। আমি জানি সে আমার রক্ত পান করবে, কিন্তু তবুও আমি নিজেকে তার হাতে সমর্পণ করি, আশা করি মৃত্যুই শেষ হবে না।

কিন্তু এটা কোনোভাবেই আমার স্বপ্নের মতো নয়। স্বপ্নে তুমি সত্যি কিছু অনুভব করতে পারো না। প্রতিটা স্পর্শ শুধু তোমার কল্পনার উপর নির্ভর করে—তুমি ভাবো চুমু কেমন লাগে, তুমি ভাবো মিলন কেমন লাগে, তুমি ভাবো আসল ভয় কেমন লাগে। কিন্তু যদি কখনো সত্যিই অনুভব না করো, তাহলে তোমার মনও সঠিকভাবে সেটা পুনর্নির্মাণ করতে পারে না। আমি জানতাম চুমু কী, সামান্য আদর বোঝার মতো ধারণাও ছিল, কিন্তু ইচ্ছার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। আমার বয়ফ্রেন্ড যখন আমাকে ছুঁতো, আমি জানতাম আমি থামতে বললেই সে থেমে যাবে। বিপরীতে, আমি জানতাম এই মানুষটা থামবে না। আর ইচ্ছাই সব পার্থক্য গড়ে দেয়। এটা ছিল আসল। আসল স্পর্শ, আসল ভয় দেখানো, আসল মানুষ, আর আসল ভয়।

সে আমার মুখ স্পর্শ করছিল, আঙুল বুলিয়ে যাচ্ছিল কানের লতি থেকে গলা বেয়ে, তার হাতের পিঠ ছুঁয়ে যাচ্ছিল আমার হাড়জিরজিরে কলারবোন। আমার নিঃশ্বাস ভারী আর ভাঙা হয়ে উঠছিল। এটা ভুল, কিন্তু অদ্ভুতভাবে এতটা খারাপ লাগছিল না। আমার ভয় নিচে তলিয়ে বসে ছিল, কিন্তু তারও গভীরে এক অচেনা ভার জমা হচ্ছিল। আমি এক অস্বচ্ছ শব্দ বের করলাম, তাকে থামতে বলার এক শব্দহীন চেষ্টা। সে সামান্য থামল, আমার নিঃশ্বাস গিলে নিল, তারপর আবার শুরু করল। আমি মাথা নাড়ালাম ধীরে, সরতে চাইলাম, কিন্তু তার অন্য হাত আমার মাথা শক্ত করে ধরে রেখেছিল।

“আমার দিকে তাকাও,” সে বলল, তার কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রিত কিন্তু টলমল। আমি চোখ শক্ত করে বন্ধ করে আবার মাথা নাড়ালাম। সে নিঃশ্বাস ফেলল।

“আমি চাই তুমি আমার দিকে তাকাও।”

আমি মানিনি, ভয়ে জমে গিয়েছিলাম। এটা ঘটতে পারে না, আমার সাথে না। কিন্তু সেটা ঘটছিল, আর আমি থামাতে পারছিলাম না। আমি গোঙাচ্ছিলাম, তার হাতের বিরুদ্ধে মাথা সরাচ্ছিলাম। আমি আমার হাত তার কবজির দিকে তুলতেই সে বিরক্ত হয়ে উঠল।

“না ” সে বলল নরম স্বরে, যেন কোনো শিশুকে বকছে। আমার হাত কাঁপছিল ভীষণভাবে, হাঁটু ভেঙে পড়বে বলে মনে হচ্ছিল। সে আমার চুল শক্ত করে টেনে মাথা উঁচু করল। আমি চোখ আরও শক্ত করে বন্ধ করলাম, ঠোঁট ফাঁক করে শুকনো কান্নার সুর বেরিয়ে এল। আমি তার ধৈর্যের সীমারেখায় হাঁটছিলাম, আর আমার মানসিক ভারসাম্যের সীমানা থেকে গড়িয়ে পড়ছিলাম। সে ঝুঁকে পড়ল, আমার গালে চুমু খেল, তারপর গলার পেছনে। আমি ভয়ে কাঁপছিলাম, দূরে সরে যেতে চাইছিলাম, কিন্তু কোথাও যেতে পারছিলাম না। সে আমার ঠোঁটে আঙুল রাখল, আমার কান্না আর গোঙানি থামানোর চেষ্টা করছিল।

“তোমার সব সাহস কোথায় গেল, pet? না আঁচড়ানো, না ফোঁস ফোঁস? কোথায় আমার সেই টাফ মেয়ে?”

আমার বুক ডুবে গেল পেটে। আমি জানতাম না আমার সাহস কোথায় গেছে। আমি কি কখনো সত্যিই সাহসী ছিলাম? না। আমাকে কখনো সাহসী হতে হয়নি। আমি অদৃশ্য হয়ে থাকতেই খুশি ছিলাম, ক্যামেরার পেছনে থাকা মানুষটা। কী ভীষণভাবে চাইছিলাম এখন অদৃশ্য হয়ে যাই।

আমার কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছিল, মুহূর্তের ভেতরে চেপে বসা ভারে স্তব্ধ। আমি এক প্রবল প্যানিক অ্যাটাকের মধ্যে পড়েছিলাম যখন সে আমাকে ছেড়ে দিল। আমি মেঝেতে সরে পড়লাম, হাত দিয়ে মুখ ঢাকলাম, নিজেকে বারবার বলছিলাম, আমি এখানে নেই। এটা স্বপ্ন, এক ভয়ঙ্কর স্বপ্ন। এখনই আমি জেগে উঠব। আমি হাঁটু জড়িয়ে ধরলাম, দুলছিলাম সামনে-পেছনে। কিন্তু সেই মন্ত্রই এটাকে আরও বাস্তব মনে করাচ্ছিল।

সে যখন আমাকে কোলে তুলে নিল, আমি কাঁদিনি। আমি জানতাম এটা আসবে। আমি ভেতর থেকে ফাঁপা লাগছিল, যেন শরীরটা শুধু এক খোলস, যার ভেতরে ভাঙা আত্মা বন্দী। সে আমাকে বিছানার সামনে দাঁড় করাল সহজেই। ধীরে ধীরে আমার চোখের ফোকাস হারিয়ে যাচ্ছিল, যেন মস্তিষ্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম, অপেক্ষা করছিলাম। সে আমার চুল কাঁধ থেকে সরিয়ে দিল, পেছনে দাঁড়িয়ে। আমি তার শরীরের কঠিন চাপ স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম। সে আবার আমার গলায় চুমু খেল।

“না,” আমি কাকুতি জানালাম, গলা ভেঙে যাচ্ছিল। এটাই আমার কণ্ঠস্বর—একেবারে ভেঙে যাওয়া।

“প্লিজ…না।”

তার নরম হাসি আমার ঘাড় ছুঁয়ে বয়ে গেল।

“এটাই প্রথম ভদ্র কিছু বললে তুমি।” সে আমার কানে ফিসফিস করে বলল, “দুঃখ শুধু এই যে, তুমি এখনো ঠিকভাবে কথা বলা শেখোনি। আবার চেষ্টা করতে পারো। এবার বলো, ‘Please no, Master’। পারবে?”

আমি কাঁদতে চাইছিলাম, চিৎকার করতে চাইছিলাম, কিছু করতে চাইছিলাম কিন্তু যা সে চাইছিল তা নয়। আমি চুপ করে রইলাম।

“নাকি,” সে আমার কানে চেটে বলল, “তোমার সামান্য ধাক্কার দরকার।”

সে হঠাৎ সরে গেল, আমার পিঠে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে পড়ল। আমি মেঝেতে নেমে বসলাম, কম্ফর্টার মুঠো করে বাঁধছিলাম, কপাল ঠেসে ধরলাম তাতে। সে পিছনে ঝুঁকে আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। লড়াই করার ইচ্ছে আমার ভেতরে ফুলে উঠছিল, আর আমি জানতাম পরিণতি কী হতে পারে, তবুও নিজেকে আটকাতে পারলাম না। আমি কনুই পেছনে ঠেলে মারলাম, তার পায়ের শিনে আঘাত করলাম। ব্যথা ছড়িয়ে গেল আমার কনুইয়ে, আমি কয়েক সেকেন্ড নড়তে পারছিলাম না। যেনো লোহার শিন।

“এটাই তো আমার সাহসী মেয়ে,” Caleb ঠান্ডা স্বরে বলল। সে এক মুঠো চুল শক্ত করে ধরে আমাকে টেনে বিছানা থেকে নামাল। আমি ভীষণভাবে চিৎকার করছিলাম, তার হাত থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য নখ বসিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো। মুহূর্তের মধ্যেই সে আমাকে উল্টে দিল, মুখ নিচে, আর হাঁটু গেঁথে দিল আমার কাঁধের মাঝখানে। আমি একেবারে পিন হয়ে গেলাম। হার মেনে গেলাম।

“আমি তোমাকে ঘৃণা করি!” আমি চিৎকার করে বললাম। “আমি তোমাকে ঘৃণা করি, তুমি এক ভয়ঙ্কর দুষ্ট লোক!”

Caleb নির্দয়ভাবে বলল, “আমি মনে করি আমার জন্য ভাগ্যবশত এটা ভালো, আমি এ ব্যাপারে মোটেও চিন্তা করি না।” তবে জানো আমাকে সত্যি কি বিরক্ত করছে? তুমি এখনও ভদ্রতা শিখোনি। তুমি সহজভাবে যেতে পারতে, pet, কিন্তু স্বীকার করতে হবে…” তার গরম শ্বাস আমার মুখের পাশে লাগল, “আমি আসলে এভাবেই বেশি পছন্দ করি।”

সে বিছানার ওপর হাত বাড়াল কিছু ধরার জন্য। আমি দেখতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু সে এত জোরে হাঁটু চেপে ধরেছিল যে কিছুই বোঝা গেল না।

সে আমার কব্জি দুটো জোর করে একসাথে করল, তারপর নরম সিল্কের মতো দড়ি দিয়ে বাঁধল। আমি কাঁদছিলাম, তবুও মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছিলাম পালানোর। কিন্তু কিছুতেই পারলাম না।

আমি চেষ্টা করছিলাম সব যন্ত্রণা, দাগ কেটে দেওয়া নিষ্ঠুরতা আর শরীর ভেঙে দেওয়ার বাস্তবতাকে মাথা থেকে ঝেঁটিয়ে ফেলার। ভেবেছিলাম—এটাই ভালো। তাকে অসুস্থ, বিকৃত, sadistic রূপে দেখাই সহজ। তাতে অন্তত আমার নিজের অনুভূতিগুলো বোঝা সহজ হবে। তার আর কোনো দেবদূতের মতো ছায়া থাকবে না, থাকবে শুধু দানব। কেবল আরেকটা দানব।

সে আমাকে হাত ধরে টেনে তুলল, এক ঝটকায় আমার হাতগুলো বিছানার খুঁটির ওপরে তুলে বেঁধে দিল। আমি টিপটো করে দাঁড়ালাম, দেহটা টানটান হয়ে ঝুলে থাকল, শ্বাস ছোট হয়ে আসছিল।

সে আমার মুখ শক্ত করে চেপে ধরল, “তুমি জানো তোমার সমস্যা কী, pet? তুমি বেছে নিতে জানো না। Dinner অন্যরকম হতে পারত, কিন্তু তুমি নিজেই এটা বেছে নিয়েছ।”

আমার ঠোঁটে উত্তর ভেসে উঠছিল, এমন কিছু কথা যা তাকে ক্ষেপে তুলত। কিন্তু হঠাৎ সে আমাকে চুমু খেল। সেই চুমু ছিল হিংস্র, অধিকারপ্রকাশক, যেন আমার ঠোঁট থেকে প্রতিটি প্রতিরোধ গিলে ফেলল। কোনো জিভ নয়—সে অতটা বোকা নয়—কেবল তার ঠোঁটের শক্ত চাপ। চুমু শেষ হয়ে গেল তার আগেই, আমি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারার আগেই।

তারপর সে খাবার রাখার কার্টের কাছে গেল। সেখানে একটা black bag দেখলাম। আমার চোখ ভয়ে বড় হয়ে গেল। Black bag—এটার মানে হলো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, আগেই সব সাজানো। আমার মাথা হালকা হয়ে আসছিল।

Caleb কয়েকটা জিনিস বের করল। মুখে এমন হাসি যেন সবকিছু একেবারে স্বাভাবিক। সে জিনিসগুলো বিছানায় রাখল যত্ন করে।

প্রথমে সে তুলল একটা leather collar—মোটা চামড়ার ফিতে, দুই পাশে ধাতব রিং, একটা ছোট তালা আর চাবি। সামনের দিকে আরও একটা রিং বসানো ছিল। সে কোনো সময় নষ্ট না করে আমার গলায় সেটি বেঁধে দিল। ফিতে গলায় চাপ তৈরি করল।

সে চাবিটা চোখের সামনে দোলাল, তারপর nightstand এ রেখে দিল। এরপর একটা লম্বা চেইন তুলল, যেটা দেখতে কুকুর হাঁটানোর মতো, তবে দুই পাশে ক্ল্যাম্প। সে চেইনটা বিছানার খুঁটির ওপরে টাঙিয়ে দিল। লোহার কড় কড় শব্দ শুনে আমি আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলাম। মুহূর্তেই সে চেইন দিয়ে আমার গলার ফিতার রিং এ ক্ল্যাম্প লাগিয়ে দিল।

শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। চেইন যেন আরও শক্ত হচ্ছিল যত আমি কাঁদছিলাম। শেষমেশ কাঁদা থামালাম, কিন্তু চোখের জল থামল না। সেগুলো গড়িয়ে কানের পাশে জমে যাচ্ছিল।

"দয়া করে… থামো… এটা কোরো না।"

আমি মুখে বলতে চেয়েছিলাম। তাকে অনুরোধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি আর শব্দ গঠন করতে পারছিলাম না। ভয়, রাগ আর অহংকার সবকিছু মিলে আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। যা করার ছিল, যা বলার ছিল, সব যেন একসাথে হাহাকার করে উঠল আমার ভেতরে—আর বের হলো শুধু কান্না।

সে তার হাত আমার বাহুর উপর বুলিয়ে নামিয়ে আনল, তারপর আমার স্তন দুটোকে মুঠোয় নিল। আমার শরীর কেঁপে উঠল, নিপল শক্ত হয়ে গেল। ফিতার জায়গায় এবার সে আমার কব্জিতে চামড়ার মোটা স্ট্র্যাপ পরিয়ে দিল—যেন গলার কালারের মতো—প্রান্তে ছোট ছোট লোহার চেন ঝুলছিল, যেগুলো তালাবন্ধ করা যায়।

সে গলার চেইন খুলে আমাকে ঘুরিয়ে দিল। আমি কিছুটা স্বস্তি পেলাম—শ্বাস নেওয়া সহজ হয়ে গেল। তবুও এবার সেই চেইন জুড়ে দিল কব্জির স্ট্র্যাপের সাথে। হাতদুটো টেনে বিছানার খুঁটির সাথে বেঁধে ফেলল, কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত আটকে গেল আমি। কোনোভাবেই সরে যাওয়া সম্ভব হলো না। আমার হাতের পেশী টান মেরে উঠছিল। ভয় এবার স্পষ্ট হয়ে গেল, লুকোনো গেল না। সে আমাকে পুরোপুরি পেয়েছে, আর এর মানে কী—শুধু সে-ই জানে।

সে একপাশে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছিল, হয়তো তার কাজটা উপভোগ করছিল। আমি দাঁড়িয়ে আছি, শরীর টানটান, সামনে বাঁধা হাত, শরীরে শুধু সেই কটাক্ষমূলক “সেক্সি” অন্তর্বাস—যা সে-ই বেছে দিয়েছিল।

“পা ফাঁক করো।” তার গলা ঠান্ডা, সমান স্বরে বেজে উঠল।

আমি না করায় সে পেছনে এসে জোর করে দাঁড়াল আমার গায়ে ঠেসে। তার বাঁ হাত হঠাৎ আমাকে স্পর্শ করল… আমার সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গায়। আমার মুখ থেকে চাপা এক আর্তনাদ বেরিয়ে এলো। আমি সরতে চাইলাম—কিন্তু বৃথা।

“যদি এখনই আমার কথা না শোনো, আমি আমার পুরো হাত ঢুকিয়ে দেব তোমার ভেতরে। বুঝতে পারছো?” তার গলা শান্ত, কিন্তু দৃঢ়। প্রশ্ন নয়—সরাসরি হুমকি।

আমার ঠোঁট থেকে জোরে হাহাকার বেরোল, আমি মাথা নাড়লাম—রাজি হতে বাধ্য হলাম।

“ভালো মেয়ে। এবার যা বলেছি করো।”

আমি ধীরে ধীরে পা ফাঁক করলাম, যতক্ষণ না সে বলল, “থামো।”

“এবার কোমরটা পেছনে সরাও।”

আমি বাঁধা হাতের ভাঁজে মাথা রেখে ধীরে ধীরে পিছোলাম।

“প্রস্তুত তো?” সে থামল—শুধু ভয় ছড়ানোর জন্য।

“চুলোয় যাও,” আমি ফিসফিস করে বললাম, ভয় লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে।

অকস্মাৎ আমার পায়ের পেছনে ভয়ংকর একটা আঘাত পড়ল। মনে হলো চোখের সামনে সাদা বজ্রপাত নেমে এলো। আমার মুখ হাঁ হয়ে গেল, কিন্তু গলা থেকে কোনো শব্দ বেরোল না। আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। মরিয়া হয়ে পেছনে তাকাতে গিয়ে দেখি তার হাতে বেল্ট। বুকের ভেতরে জমে থাকা চিৎকার অবশেষে ফেটে বেরিয়ে এলো।

দ্বিতীয় আঘাত প্রথমটার উপর পড়ল—এত দ্রুত যে বুঝতেই পারলাম না। হাঁটু ভেঙে পড়তে গিয়ে সামনে খুঁটিতে ধাক্কা খেল আমার হাড়। প্রচণ্ড ব্যথায় হাহাকার করে উঠলাম।

“পা সোজা করো!” সে গর্জে উঠল। “অজ্ঞান হলে আবার জাগিয়ে তুলবো।

আমি ঝুলে রইলাম হাতের ভর করে। তারপর আবার সেই শব্দ—বেল্টের হুইশশশ করে বাতাস চেরা শব্দ—আর সাথে সাথে উরুর উপর অসহ্য আঘাত। আমি শরীর এদিক-ওদিক ছুঁড়ে চেষ্টা করলাম পালাতে, কিন্তু বারবার চামড়ার ফিতার মতো আঘাত এসে পড়ল ত্বকের উপর। এত চিৎকার করলাম, এতক্ষণ ধরে, যে ফুসফুসে আর বাতাস টানতে পারছিলাম না।

তারপর গোড়ালিতে আঘাত—যন্ত্রণায় পা মাটিতে মারতে লাগলাম। মনে হলো পুরো শরীর বিদ্যুতের মতো ঝনঝন করছে, কাঁপছে।

হায় ঈশ্বর “দয়া করে… থামো!” আমি আর্তনাদ করলাম।

পিঠের নিচে আবার আঘাত। মনে হলো অজ্ঞান হয়ে যাব।

“না… ঈশ্বর নয়। আবার চেষ্টা করো।”

আরো ঝড়ের মতো আঘাত নেমে এলো শরীরে। আমি কাঁপছিলাম, কাঁদছিলাম, লাফাচ্ছিলাম বাঁধন ছিঁড়তে গিয়ে।

“Master!” অবশেষে আমি চিৎকার করলাম। “Master!”

এ শব্দটা মুখ থেকে বেরোতেই বুঝলাম—সে জিতে গেছে। আমি হেরে গেছি। ব্যথাই আমাকে শেষ করে দিল।

“অবশেষে।” তার গলায় অদ্ভুত এক তৃপ্তি। “কিন্তু ভাবছো এটা শেষ? একেবারেই না। তোমার এখনো অনেক শোধ বাকি।”

আমি এত জোরে কাঁদছিলাম যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল, চোখে-মুখে জল জমে ফুসফুসে ঢুকে যাচ্ছিল। আমি হাহাকার করে ভাবছিলাম—আর কত? আমি আর নিতে পারব না…

“দয়া করে, মাস্টার। আর নয়… প্লিজ, আর নয়।”

সে থেমে গেল। আমার ভেজা অন্তর্বাস নামিয়ে দিল, যা ঘামে ভিজে ত্বকের সঙ্গে লেপ্টে ছিল। আমি হাত-পা কাঁপিয়ে হাপাচ্ছিলাম, ওকে থামতেই হবে। আমার মনে হচ্ছিল, সে আমাকে মেরে ফেলতে চাইছে। অন্তর্বাস ফেলে দিয়ে সে আমার জ্বলা-পোড়া দাগগুলোর ওপর আঙুল বোলাতে লাগল। আমার ঠোঁট থেকে একটি যন্ত্রণাদগ্ধ গোঙানি বেরিয়ে এলো। তারপর হঠাৎ দাঁড়িয়ে সে আবার বেল্ট নামাল আমার পশ্চাদদেশে। এক ভেজা চড়চড় শব্দে পুরো ঘর ভরে উঠল।

“এবার অনেক ভালো,” সে বলল ঠাণ্ডাভাবে। “প্রতিবার যখন আমার বেল্ট তোমার গায়ে পড়বে, আমি চাই তুমি বলো কেন তুমি এটা প্রাপ্য।”

আবার বেল্টের আঘাত পড়ল, এমন জোরে যে চামড়ার ফালা ঘুরে গিয়ে আমার দুই পায়ের মাঝখানেও এসে লাগল। আমি মরিয়া হয়ে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা হাত আঁকড়ে ধরলাম, মুখ গুঁজে দিলাম হাতের ভাঁজে, দাঁত কামড়ে যন্ত্রণা সইতে লাগলাম। মাথায় কোনো উত্তর খুঁজে পেলাম না, শুধু চিৎকার আর মিনতি করছিলাম থামানোর জন্য।

“আরও ভালো করো,” সে গর্জে উঠল, তারপর আমার হাঁটুর পেছনে আঘাত করল।

“আমি দুঃখিত… আমি আপনাকে লাথি মেরেছিলাম!” চিৎকার করে উঠলাম আমি। এটা ছাড়া আর কিছুই মাথায় এল না।

“আমি তোমাকে মারলাম… কী?” তার গলায় গর্জন।

আবার বেল্ট পড়ল, এতবার যে আমি গোনাই হারিয়ে ফেললাম। আমি আর্তনাদ করছিলাম, ছটফট করছিলাম তার নির্মম বেত্রাঘাতের নিচে।

“আমি দুঃখিত, মাস্টার… আমি আপনাকে লাথি মেরেছিলাম।” এবার আমি বুঝলাম এটা একটা খেলা। যখনই আমি “মাস্টার” বলতে ভুলে যাই, তখন সে আমাকে কয়েকবার মারে; না হলে কেবল একবার।

শেষ হতে হতে আমার গলা শুকিয়ে গিয়েছিল, শরীর পুড়ে যাচ্ছিল, আর “মাস্টার” শব্দটা আমার ঠোঁট থেকে বেরোচ্ছিল কান্নার চেয়েও সহজভাবে। চুল এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, ঘামে ভিজে গায়ে লেপ্টে ছিল। হাঁটু ভেঙে পড়ে গিয়েছিলাম, ঝুলছিলাম শুধু হাতের ওপর ভর দিয়ে। হাঁপাচ্ছিলাম আমি, সেও হাঁপাচ্ছিল। তারপর হঠাৎ তার ব্যাগ থেকে একটা ব্রাশ বের করে আনল। আমি হাপিত্যেশ করে কেঁদে উঠলাম।

“দয়া করে, আর নয়… মাস্টার, আর নয়।” আমার গলা ভাঙা, তবুও সে শুনতে পেল।

“শশশ, pet।” সে আমার চুল গুছিয়ে মাথার পেছনে খোঁপা করে দিল। তারপর আমাকে পানি দিল, যতখুশি। বেশিরভাগই গড়িয়ে পড়ছিল শরীর বেয়ে, তবুও এত ভালো লাগছিল যে আমি ইচ্ছে করেই আরও ফেলে দিচ্ছিলাম গায়ে।

গোটা শরীর কাঁপছিল আমার, যখন সে আমাকে খোলসা করল। চেইন খুলে দেওয়া, হাতের বাঁধন খোলা—কাজটা ছিল সহজ। কিন্তু সে আমাকে মুক্ত করতেই অন্য এক নতুন যন্ত্রণার মুখোমুখি হলাম। মেঝেতে লুটিয়ে পড়লাম, গড়িয়ে গিয়ে মুখ গুঁজলাম কার্পেটে। প্রতিটা তন্তু যেন আমাকে খোঁচাচ্ছিল। তার আঙুল আমার জ্বালাময়ী ক্ষতে ছোঁয়া দিতেই আমি যন্ত্রণায় চেঁচিয়ে উঠলাম, সে আমাকে তুলে নিল।

বিছানার কম্বল ছিল অন্যরকম—শীতল, আহ্বানময়। আমি শরীর গড়াগড়ি দিয়ে পশ্চাদদেশ উঁচু করে রাখলাম। তখন আর লজ্জা বা শালীনতার তোয়াক্কা ছিল না।

সে আমার শরীরে পানি ছিটিয়ে দিল। আমি শুধু গোঙাচ্ছিলাম।

“এটা একটু ব্যথা দেবে,” সে বলল শান্ত স্বরে, “কিন্তু শেষ হলে তোমার ভালো লাগবে।”

আমার শরীর আঁটসাঁট হয়ে এল। আমি পশ্চাদদেশ শক্ত করে চেপে ধরলাম, ভয়ে যে আবার হয়তো সে বেল্ট তুলবে। কিন্তু তার হাত যখন আস্তে আমার ক্ষতচিহ্নে ছুঁলো, আমি আঁতকে উঠলাম। সে ঠাণ্ডা ক্রিম মাখাতে শুরু করল। এতটা আরাম লাগল যে আমি অবচেতনেই তার হাতের দিকে ঝুঁকে পড়ছিলাম। আমি নিশ্চিত, কিছু জায়গায় ত্বক ফেটে গিয়েছিল।

সে যখন থামল, আমার কাঁদতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু পারলাম না। সে পাশে শুয়ে পড়ল, মুখটা আমার মুখের কাছেই। আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম না, সরাসরি তাকালাম তার চোখে। আর আশ্চর্যের বিষয়—সে যখন হাসল, সেই হাসি ছিল উষ্ণ, আমন্ত্রণময়, এমনকি কোমল। তখনও সেটা আমাকে প্রথমবার দেখা হওয়ার মুহূর্তটার কথা মনে করিয়ে দিল।

আমি চোখ বন্ধ করলাম।

অতিশ্রান্ত আমি আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এবার আর কোনো স্বপ্ন দেখিনি।

চলবে........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন