ফন্ট সাইজ:
থিম:
ঝরা ফুল

১ম পর্ব

লেখক: বিনতে ফিরোজ

‘ঝরা ফুল’

বিনতে ফিরোজ

১.

চব্বিশ দিন। টানা চব্বিশটা দিন চলে গেছে। অথচ এখনো কোনো চিঠি আসেনি। প্রথম দশ দিন মিতু কাটিয়েছে আগের চিঠির উত্তেজনায়। পরের দশ দিন কাটিয়েছে অপেক্ষায়। না জানি কোন সময় ফট করে আরেকটা চিঠি চলে আসে। কিন্তু এই চারদিন মিতুর সময় পার হচ্ছে চিন্তা করে করে। মামুনের কি হয়েছে? ভাবতে গেলে ভাবনারা সোজা পথ ছেড়ে বাঁকা পথে চলে যায়। কখনও মনে হয় এক্সিডেন্ট করে হাসপাতালে পড়ে আছে, কখনও মনে হয় মিতুর কথা ভুলেই গেছে। শেষটা মনে হলে বেশি একটা কষ্ট মিতু পায় না। কেনো কে জানে, মিতুকে মামুন ভুলে গেছে এই কথাটা তার কাছে হাস্যকর লাগে। কিন্তু প্রথম কথাটাই বেশি মনে হয়। ভাইজানের কিছু হলে সে তো জানতেও পারবে না। কে জানাবে তাকে? মিতু কতো করে বলে ফোন নাম্বারটা দিতে। মামুন একবারও দেয় না। মিতু মাঝে মাঝে ভাবে দাদাজানের কাছে মামুনের নাম্বার চাইবে। কিন্তু এজন্যও হ্যাপা কম পোহাতে হবে না। আবার ধরা পড়ার ভয়ও আছে। জাহানারা জানলে তাকে যে কে'টে কুচি কুচি করবে এটা মিতু জানে। তাই সে আগে থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করে চলছে।

চারটা বেজেছে আরো আধা ঘণ্টা আগে। মিতু হাতের ব্যাগ ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে হাঁটছে। ভেতরে টিফিন বাটির শব্দ হচ্ছে। মিতুর মনটা খারাপ হয়ে যায়। সে আর ভাইজান যদি টিফিন বাটি দুটোর মতো হতো তাহলে কি ভালো হতো! সবসময় একসাথে থাকতে পারতো। মসজিদের পেছনের গলিতে পোস্ট মাস্টারের বাড়ি। তার মেয়ে শিমু মিতুর ভালো বন্ধু। মিতু ভাবলো শিমুর সাথে কথা বলার অজুহাতে একবার আকবর চাচার কাছে শুনে আসবে তার জন্য কোনো চিঠি এসেছে কি না।

অজুহাত খুঁজে পেতে সমস্যা হলো না। শিমু আজ স্কুলে যায়নি। মিতু বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে হাঁক ছাড়লো, ‘এই শিমুউউউ!’

শিমু সম্ভবত দৌড় দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েই বসে ছিল। মিতু ডাকতে না ডাকতেই ছুটে বেরিয়ে এলো।

মিতু পিছিয়ে গেলো। বুকে হাত দিয়ে বলল, ‘এমন করে দৌড় দিলি কেনো?’

‘তুই ডাকলি তাই।’ শিমুর চোখেমুখে খেলে গেলো রঙিন হাসি।

‘স্কুলে গেলি না কেনো? ম্যাডাম বলেছে এইটে উঠে একদিনও কামাই দেয়া যাবে না। জে এস সি তে ভালো করতে হলে একবেলার জায়গায় দুই বেলা স্কুল করতে হবে।’

শিমুর চোখে মুখে আতঙ্ক দেখা গেলো, ‘দুই বেলা স্কুল করতে হবে মানে!’

‘আরে বুঝিস না! কতো পড়া! এজন্য ম্যাডাম এই কথা বলেছে। বেশি বেশি পড়তে হবে।’

‘ ভাল্লাগেনা!’

‘এই শিমু! আমার কোনো চিঠি আসছে?’

শিমুর মুখের বিরক্তি ভাব চলে গেলো, ‘আব্বা বাড়িতেই আছে। শুনে আসি দাঁড়া।’

শিমু প্রায় সাথে সাথেই ফিরে এলো। তার পেছনে আকবর আলী এটো হাতে আসছেন। সম্ভবত খেতে বসেছিলেন। মিতু আরেকটু পিছিয়ে দাঁড়ালো। আকবর চাচার সামনে পারতপক্ষে সে পড়ে না। পড়তে চায় না। লোকটার চোখ যেনো চোখ না। বস্তা সেলাই করার সুই। যেখানে তাকায় মনে হয় তাকিয়েই ঝাঁঝরা করে দিতে চায়। আর মুখের দিকে যে তাকিয়ে থাকে না এজন্যই মিতুর অস্বস্তি লাগে বেশি। পরেরদিন এখানে আসার আগে নানীর বোরখার মতো একটা বোরখা পড়ে আসবে। মিতু ভেবে নিলো। তখন এই লোক দেখবে কোথায়!

‘কেমন আছো মা?’

মিতু মাঝে মাঝে বলতে চায়, ‘চাচা আপনি আমাকে মা ডাকবেন না। আপনার মুখের ডাক আর চোখের তাকানোর কোনো মিল নাই। এমন করে যে তাকায় তার মুখ থেকে মা ডাক শুনতে আমার ঘেন্না লাগে।’ বলা হয় না। তাহলে ভাইজানের চিঠিগুলো আর পাওয়া হবে না। সমূহ সম্ভাবনা আছে এই চিঠি লেনাদেনার বিষয়টাও আকবর চাচা জাহানারাকে জানিয়ে দেবে। তখন তাকে জিন্দা লা'শ হয়ে থাকতে হবে।

‘ ভালো আছি চাচা। আপনি কেমন আছেন?’

‘ আল্লাহ রাখছে মা। বলো তোমার কি কথা?’

‘ ভাইজানের কোনো চিঠি আসছে চাচা?’

আকবর আলী ভুরু কুঁচকে বললেন, ‘ না তো মা। তোমার ভাই তো আজ প্রায় এক মাস যাবৎ চিঠি পাঠায় না।’

মিতু মনে মনে ঠিক করে দিলো, ‘ এক মাস না। চব্বিশ দিন। আরো ছয় দিন হলে তারপর এক মাস হবে।’

মিতুর মুখে মেঘের জমায়েত আকবর আলীর দৃষ্টিগোচর হলো। শিমু তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি চাইলেও মিতুর মুখ থেকে দৃষ্টি সরাতে পারছেন না।

‘ মন খারাপ করে না মা। চিঠি আসলে আমি তোমার কাছেই দিবো।’

‘ তুমি যাও আব্বা। খেয়ে নাও।’

আকবর আলী চলে গেলে মিতুর নাক টানার শব্দ শোনা গেলো। শিমু বলল, ‘ তুই এত ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাদিস কেনো? এইটে পড়া মেয়ে এভাবে কান্নাকাটি করে? পাগল।’

মিতু ধরা গলায় বলল,‘ভাইজানের কি হলো শিমু!’

‘ঢং হইছে তোর ভাইয়ের। এর আগেও তো একবার দেড় মাস চিঠি দেয় নাই। তোর মনে নাই?’

শিমু তাকাতেই দেখলো মিতু কঠিন চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে, ‘ভাইজানকে নিয়ে একটাও বাজে কথা বলবি না শিমু। আর একবার এমন করে বললে তোর সাথে সেদিনই আমার বন্ধুত্ব শেষ।’ হনহন করে চলে গেলো মিতু। শিমু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। পরক্ষণেই চোখে এক আকাশ মায়া নিয়ে মিতুর দিকে তাকালো। এক হাতে টিফিন ব্যাগ, আরেক হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে চলে যাচ্ছে মিতু। দৃষ্টিসীমার বাইরে।

________________

এই পথটা পার হতে মিতুর বড় বিরক্ত লাগে। সারা দুনিয়ার অস্বস্তি এসে জেঁকে ধরে। মোড় ঘুরতেই দুটো চায়ের দোকান একসাথে দাঁড়ানো। দোকান দুটোকে দেখে মনে হয় যেনো দুই ভাই ঘাড়ে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে। সেই ভাইয়েদের পেটের ভেতরে বসে থাকে জ্বলজ্যান্ত কিছু সিসি ক্যামেরা। মিতু জানেনা এই লোকগুলোর কাছে পুরো পাড়ার খবর কিভাবে থাকে। সম্ভবত এদের কোনো কাজ নেই। না, একটু ভুল হলো। কার, কোথায় কি হলো এই খবর রাখাই লোকগুলোর সবচেয়ে বড় কাজ। কিন্তু এজন্য এরা বেতন পায় না। নিঃস্বার্থভাবে শ্রম বিলিয়ে যাচ্ছে।

মিতুকে দেখে তাদের ফিসফিসানি শুরু হলো। এই ফিসফিসানির ভঙ্গিও অদ্ভুত। বলবে কন্ঠ চেপে, কিন্তু আরেকজনকে শুনিয়ে। রিং চিপসের দুটো প্যাকেট ছিঁড়ে মিতু দাম দিতে গেলো। একজন বক্র কণ্ঠে বলল, ‘ এই যে সুন্দরীর মেয়ে। সেদিন দেখলাম এক মাস্টারের সাথে ওর মা ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

আরেকজন বলল,‘ কোন জায়গার মাস্টার?’

‘ আর ঐ কিন্ডারগার্টেনের।’

‘ রোজই তো দেখি নতুন কাউকে নিয়ে ঘুরছে। ভালোই। মা তোমার বাবা কেমন আছে?’ এই প্রশ্নটা সরাসরি মিতুর জন্য ছিলো। বিশ টাকা খুঁজতে যেয়ে সব কথাই মিতু শুনলো। এগুলোও নতুন না। শহরে আসার কিছুদিনের মাথায় প্রতিবেশীরা জাহানারাকে নিয়ে এমন কথা বলতে শুরু করছে। মিতু অবুঝ নয়। কিন্তু এসব কথার মর্ম সে বুঝতেও চায় না। শক্ত কণ্ঠ মিতু বলল, ‘ ভালো আছে।’

‘ ভালো থাকলেই ভালো।’ লোকগুলোর মুখের হাসিই বলে দিচ্ছে প্রশ্নটার কোনো দরকার ছিল না। শুধুমাত্র মিতুকে একটু খোঁচানো।

মাস ছয় হবে জাহানারা মেয়েকে নিয়ে শহরে এসেছেন। এর আগে দুই বছর বাপের বাড়িতেই ছিলেন। ঘটনা একটু জটিল। মিতুর বাবা মঈনুলের সাথে জাহানারার ছাড়াছাড়ি হয়েছে তিন বছর আগে। মঈনুল জাহানারার খালাতো ভাই। কিশোরী বয়সের প্রথম ভালোলাগা। অবাধ মেলামেশায় সেই অনুভূতি আর ভালোলাগার মাঝে আটকে থাকেনি। মঈনুলকে যে জাহানারা প্রচণ্ড পছন্দ করেন এটা বুঝতে তার বেশ খানিকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। তখন মঈনুলের বিয়ে ঠিকঠাক হয়ে গেছে। জাহানারার বয়স তখন মাত্র পনের। এক রাতে মা’কে ফিসফিসিয়ে কথাটা জানালো জাহানারা। প্রচণ্ড শক্তির এক চড়ের ধাক্কায় অনুভূতির মালা সেখানেই ছিঁড়ে গেলো। মঈনুল অবশ্য কখনও জাহানারাকে বলেনি সে তাকে পছন্দ করে। সবটাই ছিলো জাহানারার আবেগী মনের একপাক্ষিক অনুভূতি। কাজেই সেটাকে ভুলে যাওয়া ছাড়া আর উপায় রইলো না। মঈনুল বিয়ে করলো। বছর ঘুরতে তার একটা ছেলেও হলো। মঈনুল নাম রাখলো মামুন। নবজাতককে দেখতেও জাহানারা গেলো না। সে আর মঈনুলের মুখোমুখি হতে চাইছিল না। কিন্তু ভাগ্যের লেখা মুছে ফেলা যায় না। জাহানারাকে যেতেই হলো এক মাসের মামুনকে দেখতে। মায়ের লা’শে’র পাশে শুইয়ে রাখা কান্নারত মামুনকে দেখতে গেলো জাহানারা।

ঝরা পালকের মতো মঈনুলের সংসারটা ঝরে গেলো। ছেলেকে নিয়ে অকূল পাথারে পড়ল মঈনুল। মামুনের দাদী শোকাহত আবহের মাঝেই মেয়ে খুঁজতে শুরু করলেন। যতোটা না মঈনুলের বউ হিসেবে, তার চেয়ে বেশি মামুনের মা হিসেবে। জাহানারার চাপা পড়া অনুভূতি যেনো ঝিলিক দিয়ে উঠলো। সে বুঝলো খালাকে বললে একটা বন্দোবস্ত হতে পারে। আগের বিয়ে, সে ঘরের ছেলে কিছুই আর জাহানারার ভালোবাসায় চিড় ধরাতে পারলো না। মামুনের দাদী বোনের মেয়ের কথা শুনে যেনো চাঁদ হাতে পেলেন। জাহানারা অসম্ভব সুন্দরী। আশপাশের দুই গ্রামের মানুষ তাকে চেনে। সেই মেয়েকে বিপত্নীক ছেলের জন্য চাইতে সাহস দরকার। মঈনুলের মা সেই সাহসটাই করলেন। জাহানারার মা, বাবা দুজনেই প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। কিন্তু জাহানারা সেসবের তোয়াক্কা করলো না। অধরা ভালোবাসা পূর্ণ করা তখন তার একমাত্র গন্তব্য। পাশে পেলো খালাকে। কাজেই ছুটতে চাওয়া পাখিকে জাহানারার বাবা, মা আর আটকে রাখতে পারলেন না। খুব অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্যে দিয়েই জাহানারার বিয়ে হয়ে গেলো।

প্রথম দেড় বছর গেলো বাধাহীন স্রোতের মতো সুন্দর করে। ছোট্ট মামুন চিনে গেলো মা’কে। সমস্যা দানা বাঁধতে শুরু করলো মঈনুল চাকরি হারানোর পর। ছয় মাস বসে থেকে মঈনুল একটা এনজিও দাঁড় করিয়ে ফেললো। বউ, বাচ্চা নিয়ে চলে গেলো শ্বশুরবাড়ির এলাকায়। সেদিকটায় এনজিও তেমন পরিচিত ছিলো না। স্বল্প সুদে ঋণ নেয়ার কথা জানতে পেরে মানুষ যেনো হুমড়ি খেয়ে পড়ল। অনেকে অস্থায়ী ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করলো মঈনুলের এনজিওকে। দুই, তিন মাস অন্তর অন্তর টাকা জমাতে শুরু করলো তারা। বছর শেষে বিশাল মুনাফা পাওয়ার আশায়। আরো দুটো বছর সেভাবেই কাটলো। মিতুর যখন জন্ম হলো তখন মামুনের বয়স পাঁচ। ততদিনে জোর করে লাগানো পাতার মতোই মামুনের সাথে জাহানারার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। মামুন মুখস্থ করে ফেলেছে জাহানারা তার সৎ মা।

মোড় ঘুরতেই যে বিশাল এক পাথর ছিলো এটা জাহানারা জানতো না। মিতুর বয়স দুই বছরে পড়তেই মঈনুলের এনজিওতে সমস্যা দেখা দিলো। লোকে জমানো টাকা নিতে আসে। মুনাফা তো দুর আসলটাই পায় না। আজ না কাল, কাল না পরশু করে মঈনুল শুধু তাদের ঘোরায়। লোকেদের বুঝতে বাকি থাকলো না তাদের টাকা মা’র গেছে। মঈনুল নিজের পাতা ফাঁদে কঠিনভাবে ফেঁসে গেলো। এদিক সেদিক ধার করেও সবার টাকা শোধ করতে পারল না। বড় অংকের টাকা ঋণ থেকে গেলো। গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে মঈনুলের নামে মা'ম'লা করল। নিজের এবং শ্বশুরের সম্মান একসাথে ডোবালো মঈনুল। পাঁচ বছরের মেয়েকে রেখে সে পলাতক হলো।

তারপর এক বছর মামুনকে নিজের কাছে রাখলো জাহানারা। মঈনুলের ফেরার কোনো লক্ষণ না দেখে মামুনকে পাঠিয়ে দিলো তার দাদাবাড়ি। বছর যায়, ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টায় কিন্তু মঈনুলের ফেরার কোনো আশা পাওয়া যায় না। ইতোমধ্যে জাহানারার ভালোবাসায়ও খানিকটা ফাটল ধরেছে। সেই ফাটলে জন্ম নিয়েছে বেশ কিছু আগাছা। সেসব আগাছার রেশ ধরে দশ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলো জাহানারা। মঈনুল যেনো তালাকনামায় সই করার জন্যই উদয় হয়েছিল। তারপরই আবার ডুব দিল সে। ছেলে, মেয়ে, বাবা, মা কারো সাথেই কোনো যোগাযোগ রাখলো না।

সবকিছু ছাপিয়ে মিতু শুধু মামুনকে চিনলো। এই দূরত্ব অথবা ঝামেলা কিছুই যেনো তাদের গায়ে লাগে না। ডিভোর্স হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ছুটিতে মামুন মিতুকে দেখতে আসতো। কিছুদিন বেড়িয়ে যেতো। এভাবেই যে তাদের সম্পর্কের শিকড় কখন গভীর হয়ে গেছে কেউ বুঝতেই পারেনি। বুঝতে পারেনি মামুন নিজেও। এ ডাল থেকে ও ডালে ঘুরে ঘুরেই তার জীবন কে’টেছে। জাহানারা তাকে পাঠিয়ে দেয়ার পর থেকে তার জায়গা হয়েছে স্কুল, কলেজের আবাসিক হোস্টেলে। সেসব জায়গার দুই মিনিটের টেলিফোন অথবা চিঠির এক পাতা এসবই টিকিয়ে রেখেছে মিতুর সাথে তার ঝুলতে থাকা সম্পর্ক।

মিতু এতসব জানে না। সে শুধু জানে বাবার সাথে মায়ের বনিবনা হয়নি তাই তারা আলাদা হয়ে গেছে। বাবার প্রতি তেমন একটা টানও মিতু অনুভব করে না। মায়ের জন্যেও ভালোবাসার চেয়ে ভয়টাই বেশি। থেকে থেকে শুধু ভাইজানের কথাই মনে পড়ে। অন্ধকার সিঁড়িঘরে দোতলায় উঠতে উঠতে মিতু ঠিক করলো আজকে রাতে সে ঘুমাবে না। তিন পাতার একটা চিঠি লিখবে।

|চলমান|

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন