ফন্ট সাইজ:
থিম:
অগোচরে

৪র্থ পর্ব

লেখক: নীলাঞ্জনা

অনুষ্ঠান শুরু হলো, সবাই উঠানে জড়ো হয়েছে। নীলিমাও ঘর থেকে বেরিয়ে এল। স্বাভাবিকভাবেই তার চোখ আরিয়ানকে খুঁজছিল। এবার তার চোখ ব্যর্থ হলো না; সে আরিয়ানকে খুঁজে পেল। কালো পাঞ্জাবি পরা সুঠাম দেহের আরিয়ানকে দেখে নীলিমা অবাক হলো—শ্যামলা ছেলেদের কালো রঙে যে এতটা মানায়, তা আজ আরিয়ানকে না দেখলে সে বুঝতেই পারত না।

​এতদিন পর আরিয়ানকে দেখেও নীলিমা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কথা বলল না। সে আরিয়ান থেকে খানিকটা দূরে মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে রইল। আসলে সে আরিয়ানের ওপর রাগ করে আছে, কারণ সে কথা দিয়েও কথা রাখেনি (তুলিকে নিয়ে আসেনি)। আরিয়ানও বুঝতে পারল যে নীলিমা তার ওপর রাগ করে আছে। তাই নীলিমাকে হাসানোর জন্য সে চেষ্টার কোনো কমতি রাখল না। আরিয়ানের পাগলামিতে নীলিমা শেষ পর্যন্ত না হেসে পারল না। কিন্তু নীলিমা জানত না, এই হাসির আড়ালে সে আরিয়ানের ব্যক্তিত্বের কাছে নতুন করে ধরা দিচ্ছে। আরিয়ানের এমন কাণ্ডকারখানায় নীলিমার মনে এক অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি হলো।

​নীলিমার হাসি আকাশ দূর থেকে দেখছিল আর ভাবছিল, হয়তো এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর কিছুই হতে পারে না। এরই মধ্যে আকাশ তাদের কাছে এগিয়ে এল এবং প্যান্ডেলের কাজের সাহায্য করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। আকাশ একটি ডার্ক মেরুন রঙের পাঞ্জাবি পরেছে, তাকে খুবই মানিয়েছে। আরিয়ান এবং আকাশ সমবয়সী; বরং আকাশ আরিয়ান থেকে সাত দিনের বড়। কিন্তু তাদের দেখলে তা মনেই হয় না। আরিয়ান এবং আকাশ পাশাপাশি দাঁড়ালে মনে হয় আরিয়ান অনেক বছরের বড়। আরিয়ানের গালে ভর্তি দাড়ি থাকলেও আকাশের এখনো দাড়ি ওঠেনি, তাই আরিয়ানকে তার থেকে কিছুটা পরিপক্ক দেখায়।

​এবার বরকে হলুদ লাগানোর পালা। নীলিমা আর তুলি হলুদ লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল, আর আরিয়ান ও আকাশ সেই মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ছবি তুলতে লাগল

হলুদ লাগানো শেষ, নাচ-গান আর অনেক হইহুল্লোড়ের পর সবাই ঘুমাতে গেল। সারাদিনের ক্লান্তি থাকায় সবাই দ্রুতই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। এরপর শুরু হলো বিয়ের সকাল। বিয়ের আমেজে চারপাশ মুখর—কেউ সাজছে, কেউ গোসল করছে, আবার কেউ বরকে সাজাতে ব্যস্ত। সবার কাজের শেষ নেই। এরই মধ্যে নীলিমা পুকুরে গিয়ে গোসল সেরে নিল। গ্রামের পুকুরে গোসল করার অনুভূতিটা তার ভীষণ ভালো লাগছিল। গোসল শেষে সে মেরুন রঙের শাড়িটি পরে নিল, সাথে গোল্ডেন হিজাব—তাকে এত দারুণ মানিয়েছিল যে একবার দেখলে চোখ ফেরানো দায়। এর মধ্যে তুলিও রেডি হয়ে গেছে; সে পরেছে বেবি পিংক রঙের একটি শাড়ি আর অফ-হোয়াইট হিজাব, যাতে তাকে অসম্ভব আকর্ষণীয় লাগছিল।

​দুই বোন সাজগোজ শেষ করে বাইরে এসে বসল। বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সাথে তারা দুষ্টুমি করছিল এবং বরকে সাজানো দেখছিল। অয়ন ভাইয়া শেরওয়ানি পরার আগেই আরিয়ান ভাইয়া তা পরে বসে আছে! দেখে মনে হচ্ছে আজ যেন তারই বিয়ে। বাইরে বসে নীলিমা এসব দেখছিল, আর তার ১৬ বছরের মনের মধ্যে কেমন যেন এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে যাচ্ছিল

সবাই বিয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। বরের গাড়িতে বর অয়ন, নীলিমা, আরিয়ান, আকাশ, নীলিমার মা, কয়েকজন ছোট কাজিন এবং নীলিমার বড় চাচার মেয়ে ও জামাই উঠল। বাকিরা অন্য গাড়িতে এল। নীলিমা বরাবরের মতোই জানালার পাশে বসল।

​বিয়ে বাড়িতে পৌঁছানোর পর শুরু হলো এক নতুন বিড়ম্বনা। শখ করে নীলিমা হিল জুতো পরেছিল, কিন্তু সেই হিলের কারণে তার পায়ের গোড়ালি কেটে গেছে। ব্যথায় সে ঠিকমতো হাঁটতেই পারছে না। কোনোমতে তাড়াহুড়ো করে কিছু খেয়েই সে সরাসরি ইশিতার কাছে গিয়ে বসল। ইশিতা হলো কনে, অর্থাৎ অয়নের স্ত্রী, নীলিমার নতুন ভাবি। ইশিতার পাশে বসে নীলিমা কিছুক্ষণ তার সাথে গল্প করল।

​এরপর শুরু হলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বিয়ে পড়ানো শেষ হতেই এল কনে বিদায়ের সময়। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি মুহূর্ত। বিদায়ের সময় আত্মীয়স্বজনদের কান্না দেখলে যে কারও চোখ ভিজে আসে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে নিয়ে সবাই নিজেদের বাড়িতে ফিরে এল। বাড়িতে এখন অনেক মানুষের ভিড়, সবাই নতুন বউ দেখতে আসছে। ইশিতা লাল-খয়েরি রঙের শাড়ি পরেছে, সাথে ব্রাইডাল মেকআপ। ছিমছাম শরীরে তাকে অপূর্ব দেখাচ্ছে। সবাই বউকে দেখে খুশি হয়ে দোয়া করছে, অনেকে আবার উপহার হিসেবে টাকাও দিচ্ছে। কনের পাশে বসে আছে নীলিমা এবং তুলি। তুলি ফিসফিস করে নীলিমাকে বলল, "আপু, তোর বিয়ের সময় কেউ যদি টাকা দেয়, তবে কিন্তু আমাকে দিয়ে দিস!"

​নীলিমা হেসে বলল, "দেখবি, আমার আগে না তোর বিয়ে হয়ে যায়! তখন টাকাগুলো তুই আমাকে দিস।"

​নীলিমার এই কথা বলার একটি কারণ আছে। নীলিমার বড় ফুফু, অর্থাৎ অয়ন ও আকাশের মা, ছোটবেলা থেকেই তুলিকে আকাশের জন্য পছন্দ করে রেখেছেন। তুলি নীলিমার কথার অর্থ বুঝে লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে তোতলাতে তোতলাতে বলল, "যাও, সরো! কী যে বলো তুমি!" আসলে নীলিমা জানত, তুলিও মনে মনে আকাশকে পছন্দ করে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন