রিক্তা ইসলাম মায়া
৫০
আতঙ্কিত ভঙ্গিতে পায়ের কাছটায় তাকাতে দেখল শশী দু'হাতে মায়ার পা চেপে বিছানা কপাল ঠেকিয়ে ফুপাচ্ছে কান্নায়। আতঙ্কিত মায়া তাড়াহুড়োয় শশীর হাত থেকে নিজের পা ছাড়াতে চেয়ে বলল...
' আপু কি করছেন? উঠে বসুন। পা ছাড়ুন প্লিজ!
শশী সেইভাবে মায়ার পায়ে হাত দিয়ে বসে। দূর্বল শরীরে কান্নার শব্দও নিশ্চুপ। মানুষের জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রত্যাশিত কিছু ধাক্কা যেমন ভিতর থেকে ভেঙ্গেচুরে গলিয়ে দেয় মানুষকে, ঠিক তেমনই শশীর মন মস্তিষ্ক দুটোই এই মূহুর্তে ভেঙ্গেচুরে ঘায়েল হয়ে আছে। কাঁচের টুকরো নেয় খণ্ডিত হয়ে আছে শশীর সাজানো গুছানো স্বপ্ন গুলো। বুকফাটা আর্তনাদে সেইভাবে লুটিয়ে পরে শশী বলতে লাগল...
' সবই তো আমার ছিল মায়া তাহলে আমার জায়গায় তুমি কিভাবে এসে গেলে? আমার মানুষটা তোমার কিভাবে হয়ে গেল? এসব তো আমার হওয়ার কথা ছিল তাই না? তাহলে আমি ভুল করলাম কোথায়? এই বাড়ি! এই ঘর! এই মানুষগুলো সবই তো আমার আপনজন তাহলে তোমার কিভাবে হল? জম্ম থেকে বড় হলাম এই বাড়িতে। ভালোও বাসলাম এই বাড়ির ছেলেকে। আমাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো হয়েছে এটা আমার শশুর বাড়ি। রিদ খান আমার ভবিষ্যত স্বামী। রিদের জন্য কখনো কোনো খারাপ রিলেশনে জড়ায়নি। কলেজ লাইফে আমার একটা ক্লাসমেটকে আমার ভালো লাগতো। ছোট ছিলাম, আবেগী বয়সে প্রায় ছয়মাস প্রেমও করেছিলাম কিন্তু কখনো কোনো খারাপ কিছুতে জড়ায়নি। তবে একটা সময় যখন বুঝতে পারলাম আমি আসলে রিদকে ছাড়া অন্য কাউকে কখনো ভালোবাসতেই পারবো না তখন থেকে রিদকে ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পুরুষের দিকে চোখ তুলে তাকায়নি পযন্ত। আমার অনেকটা বছরের সাজানো গুছানো স্বপ্নে তোমার আগমন ছিল ধ্বংসে নেয় মায়া। ঠুকনো হাওয়ায় ঝড়ে গেল সব। আজ আমি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব শূন্য হয়ে গেলাম।
শশীর কান্নায় মায়া অপরাধ বোধ করলো। সে সত্যি কারওর সাজানো গুছানো স্বপ্নে ঢুকতে চাইনি। আর না শশীকে কষ্ট দিতে চেয়েছে। মায়া যদি বুঝতো ওর স্বামীকে খোঁজা পিছনে শশী আজকের মতোন কষ্ট পাবে তাহলে সে কখনোই রিদের খোঁজ করতো না। বরং অনেক আগেই এই সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে যেত। মায়াতো নিজেও দেখেছিল রিদের প্রতি শশীর কেয়ারনেস। কতো লেবু পানি খাওয়াত রোজ। তখন তো মায়া রিদকে চিনতো না স্বামী স্বরুপ। মায়ার ভিষণ মায়া হলো শশীর জন্য। কান্নাও পেল তীব্র অপরাধ বোধে। মায়া দু'হাতের মুঠোয় শশীর হাত নিজের পা থেকে সরাতে চেয়ে বলতে লাগল....
' আপু প্লিজ এমন বলছেন কেন?আমি সত্যি আপনার কষ্টের কারণ হতে চাইনি। আমাকে মাফ করবেন সবকিছুর জন্য। আপনি প্লিজ উঠে বসুন।
মায়ার কথায় শশীর মাথা তুলে তাকাল। অনেক সময় নিয়ে কান্নার দারুণ মায়ারও চোখ মুখ ফুলে আছে। শশী মায়ার চোখের দিকে তাকাতেই গাল ছুয়ে টুপ করে অশ্রু জড়াল নিচে। কষ্টয়িত ভেজা গলায় শশী ফের বলল...
' আমার স্বপ্ব ভাঙ্গা কষ্টে বুকটা হাহাকার করছে মায়া। মনে হচ্ছে আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। সবত্র হারিয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছি। প্লিজ মায়া আমার সবকিছু আমাকে ফিরে দাও না। আমি আমার সবকিছুর জন্য তোমার কাছে ভিক্ষা চাইছি, আমার স্বপ্ন, আমার ভালোবাসা, আমার রিদ, আমাকে ফিরিয়ে দাও। আমি বাঁচতে পারব না রিদকে ছাড়া। প্লিজ দয়া করো আমার উপর। আমার আর রিদের মাঝে তুমি এসো না। আমাদের জীবন থেকে চলে যাও প্লিজ। আমি তোমার পায়ে পরছি। প্লিজ দয়া করো।
শশীর হাহাকারের কান্নায় মায়া কেঁদে উঠলো। ওহ কিভাবে ওর স্বামীকে ছাড়া থাকবে? মায়াতো স্বামী চেহেরা না দেখেই ভালোবেসেছিল তাহলে আজ কিভাবে অন্য কারও জন্য সেই স্বামীকে ছেড়ে দিবে? মায়া বুঝতে পারছে শশীর অনেকটা বছরের সাজানো স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে কিন্তু তাই বলে মায়া তো এখানে অপরাধী নয়। রিদ খান মায়ার প্রেমিক নয় যে ব্রেকআপ করে নিবে। মায়া রিদের বিবাহিত বউ। যেখানে প্রেমের মতোন চাইলেই ব্রেকআপ করা যায়না, তালাক দিতে হয়। মায়া নিজের জীবন থাকতে কখনোই তালাক শব্দ নিজের জীবনে ছড়াতে দিবে না। মায়া শশীর দু'হাত মুঠোয় নিয়ে বুঝাতে চেয়ে বলল....
' এসব কি বলছেন আপু? আমি বিবাহিত! আমার উনার সাথে বিয়ে হয়েছে। আপনি আমার কাছে আমার স্বামীকে ভিক্ষা চাইছেন যেটা আমি দিতে অক্ষম। প্রেমিক হলে ব্রেকআপ করে নিতাম কিন্তু স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ব্রেকআপ হয়না। আমি পারব না আপনার কথা রাখতে।
মায়ার কথায় শশী দু'চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আকুতি স্বরে বলল...
' তোমার সামান্য দুই দিনের পরিচয়ে বিয়ের জন্য রিদকে ছাড়তে পারবে না তাহলে ভাবো, আমার বিশ বছরের স্বপ্ন ভেঙ্গে তার উপর তুমি ঘর বানাচ্ছো সেটা আমি কিভাবে মেনে নিব?
শশীর কথাটা মায়ার পছন্দ হলো না। মায়া মোটেও কারণ স্বপ্ন ভেঙ্গে নিজের ঘর সাজাচ্ছে না। বরং রিদকে মায়া চিনতোও না। আর না রিদ চিনতো মায়াকে। দুজনের হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বিয়ে হয়েছিল। কেউ নিজ থেকে চাইতো না এই বিয়েটাকে। পরিস্থিতির দায়ে কিংবা ভাগ্যে একত্রে লেখা ছিল বলে দুজনের বিয়ে হওয়ার দুই বছর পরও ওরা একে অপরকে খোঁজে পেয়েছে। এখানে ওরা কেউ ইচ্ছাকৃত কিছুই করেনি বরং শশী যেটা করছে সেটা ইচ্ছাকৃত। মায়া শশীকে বুঝাতে চেয়ে বলল...
' আমি আপনার স্বপ্ন ভেঙ্গে নিজের ঘর বানাইনি আপু। আমার ভাগ্যের যে ছিল তার সাথেই ঘর বানানোর চেষ্টা করছি। বরং আপনি জোর করে সেটা পেতে চাচ্ছেন যেটা আপনার ভাগ্যে নেই। আপনি মানুষকে মন দিয়েছেন।
মায়ার কথায় শশী হা করে নিশ্বাস নিলো। অতি কষ্টে বুকটা হাহাকার করছে ওর। নিশ্বাস আঁটকে আসছে বারবার। এতো বছরের যত্ন গড়া ভালোবাসায় কতো সহজেই মায়া বলে ফেলল শশী ভুল মানুষকে ভালোবেসেছে এতোদিন। যে ভাগ্যে ছিল না তাঁকে মন দিয়েছে। আসলেই কি তাই? যে ভাগ্যে থাকে না সে কেন মনে বসত গড়ে? কেন? শশী মায়ার চোখে চোখ রেখে দুই নয়নের অশ্রু ফেলে অসহায় গলায় মায়াকে বলল....
' আমি শূন্য ! তুমি পূর্ণ। আমি হারিয়েছি, তুমি পেয়েছ! আজ আমি কাঁদছি হয়তো একদিন চুপ হয়ে যাবো এইভেবে আমার মানুষটা তোমার, আমার স্বপ্ন তোমার! আমার ভালোবাসা তোমার, তোমার দুঃখ আমার।
শশীর চোখে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ পেল। ভালোবাসা হারানোর তীব্র বেদনা দেখা গেল। মায়া শশীর দু'হাত ধরে রাখা অবস্থায় কিছু বলতে চাইল কিন্তু তার আগেই ভেসে আসল কারণ গম্ভীর কন্ঠ....
' নাটক করা শেষ তোর? নাকি আরও বশীকরণ করা বাকি আছে?
রিদের কথায় তৎক্ষনাৎ ধরফরিয়ে ঘুরে তাকাল জুই ও মায়া। শশীর তেমন ভাবাবেগ দেখাল না। বরং রিদের কন্ঠে ব্যর্থ হয়ে নেতিয়ে পরলো বিছানায় কপাল ঠেকিয়ে। মায়া জুই রিদকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খানিকটা ভয় পেল বিশেষ করে মায়া। একবার শশীর দিকে তাকাচ্ছে তো অন্যবার ঘুরে দরজার সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা রিদের দিকে তাকাচ্ছে। অফিসিয়াল গেটআপে দাঁড়িয়ে রিদ, হয়তো সবে বাহির থেকে ফিরেছে। গায়ের কালো কোটটা বামহাতের মুঠোয় চেপে ডান হাত পকেটে গুঁজে দাঁড়িয়ে শশীকে উদ্দেশ্য করে উক্ত কথা গুলো বলল সে। মায়া রিদকে দেখে চুপ করে যেতেই রিদ কক্ষের ভিতর প্রবেশ করতে করতে হাতে কোটটা পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা আসিফকে দিতে দিতে ফের শশীর উদ্দেশ্য বলল রিদ....
' হারায় তো তাঁরা যার পেয়েছিল। তোর কি ছিল যেটা হারানোর এতো কষ্ট পাচ্ছিস তুই?
রিদের কথায় শশী নিরুত্তর হয়ে বিছানায় মুখ গুঁজে ফুপাচ্ছে। মায়া একবার শশী অন্যবার রিদের দিকে তাকাচ্ছে। রিদ শশীকে উত্তর করতে না দেখে সেও আর কথা বাড়াল না। এমনিতে সকালে ঘটনাটা নিয়ে মেজাজ খারাপ তার, এখন আবার বাড়ি ফিরে শশীকে মায়ার রুমে দেখবে সে ভাবিনি। মায়া শশীর দুজনের কথায় রিদ শুনেছে। হয়তো রিদের আসতে আরও একটু দেরি হলে এখানে কি ঘটতে পারতো সেই ধারণা আছে রিদের। প্রথমে শশী মায়াকে নিজের কথায় ইমোশনাল করে বুঝাতে চাইতো রিদের জীবন থেকে চলে যেতে। বরাবরই মায়া কথা না শুনলে দ্বিতীয় পদক্ষেপ নিতো শশী। যেটার ধারণা হয়তো মায়ারও নেই। শশী মেন্টাল পেশেন্ট! সেটা জানার পরও বাড়ির সবাই কিভাবে শশীকে একা ছেড়ে দিল ওর বউয়ের ক্ষতি করতে? রিদ শশী উপর নিজের মেজাজ দেখাল না। পাগলের সামনে কি বা মেজাজ দেখাবে সে? তারচেয়ে বরং তার বউকে নিয়ে সে-ই চলে যাবে এই বাড়ি থেকে। এই বাড়িতে তার বউ আপাতত সেইফ না। রিদ দক্ষ হাত বাড়িয়ে তৎক্ষনাৎ মায়ার হাত টেনে বিছানা থেকে নামাতে নামাতে আসিফকে উদ্দেশ্য করে বলল....
' আসিফ জুইকে ওদের বাসায় দিয়ে আয়।
' জ্বি ভাই।
আসিফ তৎক্ষনাৎ সম্মতি জানাতেই রিদ মায়ার হাত চেপে চলল দরজার দিকে। রিদের পিছন পিছন আসিফও জুইকে নিয়ে বেড়িয়ে আসল শশীকে কক্ষে রেখে। রিদ যখন মায়াকে নিয়ে নিচের ড্রয়িংরুম পার হয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছিল তখন সেখানে খান বাড়ির সকলেই উপস্থিত ছিল। শশীর মা সালমা বেগমও ছিলেন। তিনি রাগে ফুঁসতে থাকেন রিদ মায়াকে নিয়ে বেড়িয়ে যেতে দেখে। মুক্তা হেনা খানের সঙ্গে ছিল সেও দেখেছে মায়াকে নিয়ে রিদ আর আসিফের সঙ্গে জুই বেড়িয়ে যেতে। সকালে ঘটনা পুনরায় তাজা হলো। রিদের সামনে কেউ কিছু বলতে না পারলেও মুক্তাকে কেউ ছাড়লো না এবার যা-তা শুনাতে। শেষ পযার্য়ের সালমা বেগম হাইপার হয়ে যান শশী যখন মায়ার রুম থেকে নিচে এসে সবার সামনে আবারও অজ্ঞান হয়ে পরলো তখন। মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে রাগে হিতাহিত অজ্ঞ হয়ে তিনি তেড়ে যান মুক্তাকে মারতে। ছোট বোনকে না পেয়ে বড় বোনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে চাইলে হেনা খান আর আরাফ খান সেই যাত্রায় বাঁধা দেয় সালমা বেগমকে। অস্থির উত্তেজিত পরিস্থিতিতে ফাহাদ তখন শশীকে কোলে নিয়ে রুমে দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ সালমা বেগমকে ঐভাবে মুক্তা উপর হামলে পরতে দেখে সেও মূহুর্তে থমকে দাঁড়ায় জায়গায়। কয়েক সেকেন্ড থমকানো অবস্থা গেল ফাহাদের। হুসে ফিরেই শশীকে নিয়ে উপরে না গিয়ে তৎক্ষনাৎ সোফায় ফেলে সেও রাগের বশে মুক্তাকে নিয়ে বেড়িয়ে গেল সোজা। দোষী যারা তাদেরকে কেউ কিছু না বলে সবাই মুক্তাকেই কেন দোষ দিচ্ছে? মুক্তাকে কি ওর বোনকে বলেছিল যে রিদ খানের সঙ্গে গিয়ে বিয়ে বসতে? সবার মতোন মুক্তাও তো আজ প্রথম শুনলো মায়ার বিয়ে করেছে সেটা। তাহলে সবাই কেন মুক্তাকে হেনস্ত করছে এর জন্য? ওর কি দোষ এখানে? সাহস থাকলে গিয়ে রিদ খান বা তার বউকে গিয়ে প্রশ্ন করুক কেন তাঁরা বিয়ে করেছে? সেটা না করে সবাই ফাহাদের বউয়ের দিকে আঙ্গুল তুলছে। ফাহাদ মুখ ফুটে কিছু বলে না বলে সবাই কি ওর ভদ্রতা সুযোগ নিবে ওর বউয়ের উপর দিয়ে? তাহলে ফাহাদ কিসের সপুরুষ হলো যদি সে তার বউয়ের হিফাজতই করতে না পারলো? তাই ফাহাদ ঠিক করলো এই পরিবেশে আর নয় সে আজ এই মূহুর্তে মুক্তাকে নিয়ে ঢাকা চলে যাবে এখানে আর নয়। রিদ মায়াকে নিয়ে নিজের গাড়িতে উঠে বসতেই আসিফ জুইকে নিয়ে উঠলো অপর গাড়িতে। পরপর দুটো গাড়ি বেড়িয়ে যেতেই ফাহাদ নিজেদের গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে গেল মুক্তাকে নিয়ে। অসহায় অপমানিত হওয়া মুক্তা তখনো ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে তীব্র অপমানে। আজ পযন্ত ওর মা-বাবা কেউ ওর গায়ে হাত তুলেনি শত অন্যায়ের পরও। এমনকি এতোদিনের রিলেশনে ফাহাদ পযন্ত ওর গায়ে হাত তুলা তো দূর উচু গলায় দু'টো কথা পযন্ত বলেনি। সেখানে মায়া জন্য নিজের শশুর বাড়িতে ওকে আজ কতো অপমানিত হতে হলো, গায়ে হাত তুলার নবাত পযন্ত হয়ে গেল। এই সবই হয়েছে মায়ার জন্য। মায়া কিভাবে পারলো ছোট বোন হয়ে মুক্তাকে এই পরিস্থিতিতে ফেলতে?
~
নিশ্চুপ উদাস ভঙ্গিতে চুপচাপ নত মস্তিষ্কের বসে মায়া। রিদ সামনে তাকিয়ে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে দুই তিনবার চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিল নত মস্তিষ্কের মায়াকে। সে সমাবেশ থেকে সোজা বাড়ি গিয়ে ছিল তাই ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ পাইনি। গায়ে সকালের সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট এখনো ইন করা। দু'হাতের শার্ট কুইন অবধি টেনে ভাজ করা। বামহাতে ঘড়?