#জানে_মন_তুই_জীবন
#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন
#পর্ব_১
খান পরিবারের বড় মেয়ে ফারজানা খান মহুয়া। তার বাবারা ২ ভাই ১ বোন। তার বাবার সবচেয়ে বড়ো, বলতে গেলে পরিবারের মাথা। মহুয়া তার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। তার পরে তার বাবা মা আর সন্তান নেয় নি। মহুয়ার বাবা নাম ফরহাদ খান আর মায়ের নাম মনিরা খান। তার চাচার নাম ফয়সাল খান এবং চাচি রিতা খান। তার চাচা চাচির ২ মেয়ে ফারিহা খান রোদ আর ফারিয়া খান রোজ এবং ১ ছেলে ফয়সাল খান রাদিম।তার ফুপ্পির নাম ফাতেমা খান আর ফুপ্পা রমেল ইসলাম। তাদের ২ ছেলে রোহান ইসলাম রুদ্র এবং রুমেল ইসলাম রবি। এবং ১ মেয়ে রোজিনা ইসলাম। এই সদস্য গুলো নিয়েই খান পরিবার।
আজকে খান পরিবারের সবাই খুশিতে মেতে আছে।বাড়ির বড় মেয়ে বড় রত্ন এই বাড়ির মুখ উজ্জ্বল করে এসেছে। মহুয়া H.S.C exam দিয়েছে এবং Golden G.P.A-5 পেয়েছে।সাথে ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সুযোগও পেয়েছে।একদম খুশির আমেজ, আজ....!
রুদ্রও H.S.C exam দিয়েছে এইবার সে G.P.A-5 পেলেও golden পায় নি।আর ঢাকার একটা ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হয়েছে।রুদ্র আর মহুয়া প্রায় সমবয়সী...। মহুয়া রুদ্রের থেকে মাত্র ৫ মাসের ছোট, তাই তারা একদম বন্ধুর মতো থাকে।
মহুয়ারা সব ভাই বোন মেতে আছে, অনেক আনন্দ মজাও করলো। ভালো ভালো খাবার রান্না হয়েছে সব মহুয়ার পছন্দের।খুব আনন্দে কাটলো আজকের দিন তাদের।
~
আজ মহুয়ার ভার্সিটিতে প্রথম দিন। আজকে তাদের ভার্সিটিতে নবীন বরণ উৎসবের মধ্যে দিয়ে ভার্সিটিতে প্রবেশ করবে।তাই সে আজ শাড়ি পড়ে যাবে।কিন্তু সে ভালো সারি পড়তে জানে না। তাই সে তার ছোট মার কাছে গেল। রোজের মাকে মহুয়া ছোট মা বলে।
সে রিতার ঘরে ঢুকে আকুতি স্বরে বলল,,
___ ছোট মা! আমাকে শাড়ি পড়িয়ে দাও না। আজকে নবীন বরণ উৎসব আমি শাড়ি পরে যাবো।
মহুয়া বাড়ির সকলের আদরের মেয়ে, তারা সবসময় তার কথা শোনে। শুধু ভালোবাসে বলে শোনে তা না। মহুয়া খুব জেদি! একবার যা করবে বলে তাই করবে, তাকে কেউ থামাতে পারবে না। ওর রাগ তো নয় যেন লাল মরিচের ঝাল।
রিতা মহুয়া কে বলল,
___ একটু ওয়েট কর পড়িয়ে দিচ্ছি।
রিতা সুন্দর করে মহুয়া কে শাড়ি পড়িয়ে দিল। শাড়ি পড়ে তাকে যে কি সুন্দর লাগছে। সে নীল রঙের শাড়ি পড়েছে। রিতা তাকে শাড়ি পড়ানো শেষে বলল,,
___ মাশাল্লাহ! আমার বড় মেয়ে টাকে কত বড় হয়ে গেছে। মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে হবে।নয় তো ছেলেরা লাইন দিয়ে খান বাড়ির গেট ভরে ফেলছে।
মহুয়া আর রিতা হাসলো....!
:
মহুয়া ভালো ভাবে রেডি হয়ে তার বান্ধবী অনিমার বাসায় এসেছে।অনিমা অনেক ক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে মহুয়ার জন্য।সেও নীল রঙের শাড়ি পড়েছে। মাশাল্লাহ তাকে ও সুন্দর লাগছে।
কিন্তু মহুয়ার আসতে দেরি হয়েছে।সে রুদ্রের সাথে এই পর্যন্ত এসেছে, রুদ্র তাকে রেখে গেছে।
অনিমা মহুয়ার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড। তারা ক্লাস 6 থেকে এই পর্যন্ত একসাথে থেকেছে।
অনিমা তো মহুয়া কে দেখে বলল,,
___ 'হায়, হায় সুন্দরী! ছেলেদের খুন করার প্লান করেছিস নাকি?
মহুয়া ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করল,,
___ মানে...?
___ ঢং করিস না।এত সুন্দর করে সেজে গুজে নীল পরি হয়ে এসেছিস। যে দেখবে সে ওখানেই ডেড।
___ বাজে বকিস না,, চল ! দেরি হচ্ছে।
___ হুম, চল! দেখি আজ কয়টা ছেলে খুন হয়, তোর চোখের মায়ায়।
মহুয়া কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আর কিছু বলল না এখন তার মেজাজ খারাপ করার ইচ্ছা নেই।
তারা দুইজন ভার্সিটিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
নবীন বরণ উপলক্ষে ভার্সিটির স্টেজ সাজানোর দায়িত্ব পড়েছে সিনিয়র দের উপর। এরা এ বছরের লাস্ট স্টুডেন্ট। আর মাত্র ৫ মাস এই ভার্সিটিতে থাকবে। প্রতিবছর নবীন বরণ অনুষ্ঠান এ ভার্সিটির সবচেয়ে সিনিয়র স্টুডেন্টরা স্টেজ সাজায়। এইবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি। সিনিয়র রাই স্টেজ সাজাচ্ছে। আর এই পুরো স্টেজ সাজানোর জন্য তাদের লিডার হচ্ছে লিয়ন চৌধুরী।
~
তাহনিফ লিয়ন চৌধুরী। ঢাকার বিখ্যাত চৌধুরী বংশের বড় ছেলে লিয়ন চৌধুরী। দেখতে সুদর্শন,গায়ের রং ধবধবে ফরসা। এক কথায় মারাত্মক সুন্দর। পুরো ভার্সিটির মেয়েদের ক্র্যাশ লিস্টের নাম্বার 1 হচ্ছে লিয়ন চৌধুরী। কিন্তু সে কোন মেয়েকে পাত্তা দেয় না।
লিয়ন রিয়াদের সাথে কথা বলতে বলতে ভার্সিটির গেটে এসে দাড়ায়। রিয়াদ হলো লিয়নের বন্ধু।
লিয়ন ভীষণ রেগে আছে রিয়াদের উপর। তারা ভার্সিটির গেটে এসেছিল এটা দেখতে যে অতিথিদের জন্য খাবার এসেছে কি না? কিন্তু এখানে তো বে পাত্তা। যার দায়িত্ব রিয়াদের নেওয়ার কথা ছিল কিন্তু রিয়াদ রাফি কে এই দায়িত্ব দিয়েছে। তাই লিয়ন প্রচুর রেগে গেছে। দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলল লিয়ন,
___ তোকে আগেই বলেছিলাম রাফি কে এটার দায়িত্ব দিস না। সবটা ঘেটে দেবে। কিন্তু তুই শুনলি না।
___ কুল ব্রো, ঠান্ডা হ চলে আসবে।
___ চুপ, কথা বলবি না।
___ সরি আর এমন হবে না।
__ বা*ল, তোর সরি দিয়ে আমি ঘাস কাটবো নাকি।
___ 10 মিনিটে যদি গাড়ি না আসে তবে। তোর গাল ফ্রেন্ড কে সোহানের হাতে তুলে দেব।
লিয়নের কথা শুনে রিয়াদ রেগে বলল,
___ কি সাংঘাতিক বন্ধু রে তুই, তোর মত বন্ধু থাকলে। শত্রুর প্রয়োজন হয় না। বন্ধুর কলিজা কে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলতে তোর বুক কাঁপলো না?
___ কেন?বুক কাঁপবে কেন?
___ মনে রাখিস এই দিন দিন না। একদিন তোকেও কেউ এইভাবে বলবে।
___ ফালতু কথা বাদ দিকে কাজের কথায় আসি।জাস্ট 10 মিনিট টাইম দেবো। 10 মিনিটের মধ্যে.....
কথা গুলো বলতে গিয়েও থেকে যায় লিয়ন,ভার্সিটির গেটের দিকে তাকিয়ে।
মহুয়া আর অনিমা ভার্সিটি তে ঢুকছে। দুজন হেসে হেসে কথা বলছে আর মহুয়ার হাসি লিয়নের বুকে বিধছে।তার দম বন্ধ হয়ে আসার মতো লাগছে। সে এত মেয়ে দেখেছি তবে এমন অপরূপ সুন্দর মেয়েকে দেখে নি। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
মহুয়া এমনেই খুব সুন্দরী। গায়ের রং ধবধবে ফরসা। চোখ দুটো মায়ায় ভরা, ঠোঁট ভর্তি মিষ্টি হাসি। পাগল করে দিচ্ছে লিয়ন কে।মহুয়ার চুল হাটু ছুই ছুই। মেয়েটার এত সৌন্দর্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারছে না। কে এই সুন্দরী রমনী যাকে দেখে বুকে আগুন ধরেছে।
হঠাৎ বিরবির করে বলে উঠলো, "নীল পরি"
ভ্রু কুচকে বলল,,
___ কিছু বললি ?তুই?
___ নাথিং
তারপর কিছু ক্ষণ এক ধ্যানে চেয়ে রইলো মেয়েটির দিকে। তারপর রিয়াদ কে বলল,
___ বাকিটা তুই সামলে নে। আমি গেলাম।
হঠাৎ করে লিয়নের এমন ব্যবহার বুঝলো না রিয়াদ তবে যা বলল তাই শুনল। কথা গুলো বলে লিয়ন ওই স্থান প্রস্থান করেছে।
সব কাজ শেষ ইতিমধ্যে খাবার ও চলে এসেছে। লিয়ন সব দেখে শুনে নিল।
মহুয়া আর অনিমা ভার্সিটি ঘুরে দেখছে।অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার এখনও 20-30 মিনিট টাইম আছে। দুজনের বসে থাকতে ভালো লাগলো না, তাই ভার্সিটি দেখছে ঘুরে ঘুরে।
বেশ কিছু ক্ষণ পর একটি মেয়ে এসে ওদের সাথে পরিচিত হয়। মেয়েটির নাম নদী। একটু পরিচিত হওয়ার পর তিনজন খুব গল্প করলো। এখন তারা স্টেজের সামনের চেয়ারে বসছে। তারা দেরি করে আসার পর ও সামনে চেয়ার খালি। তাও তিনটা চেয়ার যেন ওদের নামেই লেখা ছিল। এসব চিন্তা ভাবনা রেখে চুপচাপ বসে পড়ল।
অতিথিরা এসেছে অনেক ক্ষণ হয়েছে। তাদের বক্তব্য দেওয়ার পর্ব প্রায় শেষের দিকে। মহুয়ার প্রচন্ড বরিং লাগছে, তার বক্তব্য একদম পছন্দ না। সে অপেক্ষা করছে দ্বিতীয় পর্বের, সেখানে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রতি আলাদা একটা টান আছে ওর। খুব ভালো লাগে তার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ। ভার্সিটির প্রিন্সিপাল অতিথিদের নিয়ে অফিস কক্ষে গেল।কিন্তু ঝামেলা হল আরেকটা। অনুষ্ঠানের এ্যাকারিং এর দায়িত্বে ছিল লিয়ন আর বর্ষা। বর্ষা লিয়ন দের সাথেই পড়ে। খুব সুন্দর দেখতে তাকে।
লিয়ন না আসায় বর্ষা খুব ঘাবড়ে যায়। রিয়াদকে জিজ্ঞাসা করে লিয়নের কথা।কিন্তু লিয়ন যে সেই বে পাত্তা আর তাকে পাওয়া যায় নি। ভয়ের সাথে বর্ষা একাই স্টেজে উঠল। শুরু করল অনুষ্ঠান।
ভার্সিটির সিনিয়ররা ভেবে রেখেছিল যে নতুন স্টুডেন্ট দের দিয়ে কিছু করাবে। তার জন্য তারা চিরকুট বানায় এবং একেক ধরনের কাজ লিখে দেয়। সবার ইচ্ছা ছিল প্রথম সারির ডান পাশের কর্ণারে যে বসছে তাকে প্রথম কাজ করতে হবে।
মহুয়া প্রথম সারির ডান দিকে কর্ণারে বসেছে। তাদের টার্গেট ও! কিন্তু মহুয়া কিছুতেই চিরকুট তুলবে না। সে ভয় পাচ্ছে! তখন বর্ষা বলে উঠে,
___ একটা চিরকুট ওঠাও তো, কিছু হবে না!
কিন্তু মহুয়া সাহস পেল না। পাশ থেকে অনিমা ওকে আশস্ত করে বলল,
___ তুই টেনশন করিস না, চিরকুট টা নে। ভাবছিস বাসায় জানতে পারলে কি হবে? যদি জানে আমি একবার কথা বলে দেখবো। নয় তো রুদ্র ভাইয়া আছে তো! তোকে নিজের বোনের মত আগলে রাখে। চিন্তা করিস ন, নে।
অনিমার কথায় সস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মহুয়া । এরপর বর্ষা কে বলে,
___ আপু দাও।
বর্ষা চিরকুটের বক্স এগিয়ে দেয় মহুয়ার দিকে। কাঁপা কাঁপা হাতে চিরকুট তোলে মহুয়া। চিরকুটে নাম দেখে ঘাবড়ে যায়। নাচ করতে হবে। সে আরও ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু সবাই তাকে বিশ্বাস দিয়ে স্টেজে পাঠায়। কিন্তু সে কেঁপে উঠছে! তবুও আত্মবিশ্বাসের সাথে নাচ করার জন্য প্রস্তুত হয়। সাউন্ড বক্সে গান বাজছে,,
ওরে বাংলাদেশের মেয়ে রে তুই,,,
হেইলা দুইলা যা...!
একবারে যেই ঘুইরা তাকাস,,,
লাগে ঝাকাস...!!
পদ্মা নদীর ইলিশ খাইয়া,,,
রূপ খানা কি ঝকঝকে বানাস.....!!!
নাচে পুরো আগুন লেগে গেছে। কিছু ক্ষণ আগে লিয়ন এসেছে, কিন্তু মহুয়া কে নাচতে দেখে সে ওইখানেই ফুল স্টপ হয়ে গেছে।
হঠাৎ লিয়নের বন্ধুরা লিয়নের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,
___ ভাই একটা গান কর।
লিয়ন কোন উত্তর না দিয়ে স্টেজে উঠে যায়। হাতে একটা সুন্দর ফুলের তোরা। সবাই অবাক হয়ে আছে লিয়নের দিকে। সব ভাবনার মাঝে লিয়ন বলে ওঠে,,,
___ এই গানটা আমার নীল পরীর জন্য।
এই বলে গান শুরু করে,.....
~ বল খুঁজি তোকে,,,,
আর কিসে?
তুই জলে বাতাসে মিশে....!!
জানে মন,,, তুই জীবন,,,,,
জানে মন তুই জীবন....! ~
এই গানটা মহুয়ার খুব প্রিয়। এই গান শুনলে ওর জীবন থমকে যায়। কেমন যেন একটা অনুভূতি অনুভব করে। কিন্তু আজ অন্যরকম অনুভব করছে যেন গানটা তার প্রিয় কেউ গাচ্ছে।গানের প্রত্যেক টা লাইন তাকে ভিষন ভাবে আকর্ষিত করছে সাথে আঘাত ও করছে। কেন এমন অনুভব হচ্ছে তা মহুয়া নিজেও জানে না।
গান গাওয়া শেষে হঠাৎ লিয়ন পুরো ভার্সিটির মহুয়া কে প্রপোজ করলো।এই কান্ড দেখে সবাই যেন সপ্তম আসমানে উঠে গেছে।যে আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের দিকে চোখ তুলেও দেখেনি।সে আজ পুরো ভার্সিটির সামনে কাউকে প্রপোজ করছে।সবার কাছেই বেশ ইন্টারেস্টিং!
প্রপোজাল পেয়ে মহুয়া একদম পাথরের ন্যায় দাড়িয়ে আছে। মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে মেয়েটা। একদম নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লিয়নের দিকে। এমন অনুভূতি তো আগে হয় নি। কিন্তু আজ কেন হচ্ছে এর কোন উত্তর পাচ্ছে না মেয়েটা। এর আগে যত গুলো প্রপোজ পেয়েছে সব ছেলেদের মুখ থেকে খালা ডাক বের করে তবে ছেড়েছে। তার সাথে ২০ টা থাপ্পড় তো গিফটস ছিল।কিন্তু আজ কি হলো তার? অনিমাও অবাক। কারণ সে আজ পর্যন্ত দেখেনি যে মহুয়া কে প্রপোজ করছে সে খালা ডাক বের না করে ছেড়েছে। কিন্তু মেয়েটার আজ কি হলো। ওর মহুয়ার কানের কাছে গিয়ে আস্তে করে বলল,,
___ কি রে! কি হলো তোর? কিছু বলছিস না কেন? এমন কাহিনী তো দেখিনি?যে তোকে প্রপোজ করবে সে তো উত্তরের আগে থাপ্পড় খায়।আর আজ তুই চুপ! বাই এ্যানি চান্স তুই কি এর প্রেমে টেমে পড়ে গেলি নাকি?
প্রেমে পড়ে গেছিস শুনে মহুয়ার ধ্যান ভাঙলো। সে কোন কথা না বলে চলে যাচ্ছিল তখন লিয়ন ওর হাত ধরে বলল,,
___ কই যাও আমার ভালোবাসার স্বপ্নের নীল পরী?প্রপোজ টা পছন্দ হয়নি?কি করবো বলো সময় পাই নি।নয় তো এমন ভাবে প্রপোজ করতাম তোমার পাপ পর্যন্ত প্রপোজ টা মেনে নিতো।
মহুয়া খুব বিরক্ত হয়। লিয়ন কি বলেছে তার কোন কথাই কানে যায় নি।সে তার হাত ঝাড়া দিতে থাকলো এবং বলল,,,
___ হাতটা ছাড়ো!থাপ্পড় না খেতে চাইলে ছাড়ো।
___ থাপ্পড় খেতে রাজি রাগিনী।
___ রাগিনী! তুমি কাকে রাগিনী বললে?আমি রাগিনী না ,আমার নাম ফারজানা খান মহুয়া।
___ তোমার নাম দিয়ে আমার কিছু যায় আসে না।এই লিয়ন চৌধুরীর প্রথম কোন মেয়েকে পছন্দ করেছে তাকে ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।আর তোমার নাম নিয়ে যা বললে! তোমাকে আমি শুধু রাগিনী কেন? নীল পরী, বেইবি,পাখি, সোনা, জানে.....
লিয়ন কে আর কিছু বলতে না দিয়ে বলল,
___ স্টার্ট আপ,বাবা মা কি মুখে লাগাম দিতে শেখায় নি। একটা অপরিচিত মেয়েকে এভাবে বলছো। অসহ্য! ছাড়ো তো! 😡
মেয়েটা এবার সত্যিই খুব রেগে গেছে।লিয়ন মহুয়ার অসস্তি বুঝতে পেরে হাত ছাড়লো । আর বলতে থাকলো,
___ ভালোভাবে ধরলাম না ছাড়ি কি করে নীল পরী।তুমি আমার জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত পাওয়া।নিজেকে হাড়িয়ে ফেলতে পারবো, তোমাকে না। মরণ হবে আমার।
মহুয়া আর কথা বাড়াতে চাইলো না।তাই চলে যাচ্ছে এখানে থাকতে তার অসহ্য লাগছে।যেতে যেতে বলল,,
___ আমি তোমাকে কোনদিনও ভালোবাসবো না। ক্লিয়ার।
___ চ্যালেঞ্জ করছো।
___ হুম,করছি।
___ ভেবে চিন্তে করছো তো।
___ ফারজানা খান না ভেবে কোন কাজ করে না।
___ আর লিয়ন চৌধুরীও হারতে জানে না রাগিনী।চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেড।পুরো ভার্সিটিকে সাক্ষী রেখে বলছি তুমি আমার প্রেমে পাগলও হবে সাথে আমার বউ ও হবে।100%সিউর।
___ স্বপ্ন দেখতে থাকো স্বপ্ন দেখতে তো আর টাকা লাগে না।বাট স্বপ্ন স্বপ্নই থাকে বাস্তবে আর হবে না।
আর কথা না বাড়িয়ে অনিমার হাত ধরে মহুয়া বেরিয়ে গেল।লিয়ন ওদের প্রস্থান দেখছে।আর মুচকি হাসতে হাসতে বলছে,
___ প্রেমে তোমাকে পড়তেই হবে,লিয়ন চৌধুরী কখনো হারে নি।🙂
~
বাড়ি ফিরে আর নিচে নামেনি মহুয়া।একটা লম্বা শাওয়ার নিয়ে যে ঘুমিয়েছে।আর উঠেনি।
রাত 11 টা বাজে প্রায় ফাতেমা খান এসেছে মহুয়াকে খেতে ডাকতে।ফাতেমা খান মহুয়া কে নিজের মেয়ের মত ভালোবাসে। তার স্বপ্ন মহুয়া কে রৌদ্রে বউ করবে। পুরো খান পরিবার এতে একমত আছে। রৌদ্রও রাজি। আজ ফাতেমা খানের এ বাড়িতে আসার কারণ মহুয়া আর রৌদ্রের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলবে। তবে মহুয়া বিয়ের ব্যাপারে কিছু জানে না। আজ একসাথে বসে সবাই তারিখ ঠিক করবে। তারা আগেই করতো শুধু মহুয়ার ভার্সিটিতে উঠার অপেক্ষা করছিল।
___ মামনি, দরজা খোল।
মহুয়া ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে আসল। হঠাৎ ফুপ্পির ডাক শুনে এক দৌড়ে দরজা খুলে দিল।সেও তার ফুপ্পিকে তার মায়ের মত ভালোবাসে।দরজা খুলে মেকি হেসে জিজ্ঞাসা করলো,,,
___ ফুপ্পি,কেমন আছো?কখন এলে?
___ ভালো রে,তুই কেমন আছিস মামনি।অনেক ক্ষণ হলো এসেছি তুই নাকি ভার্সিটি থেকে এসে ঘুমিয়েছিস।
___ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ফুপ্পি।ওই আরকি একটু বেশি ক্লান্ত ছিলাম তাই বেশি ঘুমিয়ে ফেলেছি।
___ হুম বুঝতে পেরেছি।
___ কে কে এসছে ফুপ্পি?
___ সবাই এসেছে! চল এবার খেতে চল!
___ হুম,চলো।
ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে বসে খাবার খাচ্ছে।আজকে বাড়ির পুরুষ-মহিলা সবাই একসাথে খেতে বসেছে।রৌদ্রও এসে খেতে বসেছে।
খাওয়া শেষ করে মহুয়া যখন ঘরের দিকে যাবে বলে সিড়ি দিয়ে উঠতে থাকে তখন ফরহাদ খান বলে উঠে,,
___ আম্মু!
___ জ্বী,আব্বু।
__ নতুন ভার্সিটিতে কেমন লাগছে?
মহুয়া মাথা নেড়ে বলল,,
___ জ্বী আব্বু,অনেক ভালো।
___ কোন প্রবলেম হচ্ছে না তো?
মহুয়া কিছু বলতে গিয়েও বলল না।মেকি হেসে মাথা দুইদিকে নেড়ে না সূচক সম্মতি জানালো।ফরহাদ খান আবার বলা শুরু করলেন,,
___ তোমার ফুপ্পি রা কেন এসেছে জানো।
সে বুঝলো না তার বাবা তাকে এমন কথা কেন বলছে।সে ভাবলেশহীন ভাবে জবাব দিল,,,
___ বেড়াতে এসেছে।
মাঝখান থেকে রবি বলে উঠলো,,
___ না, ভাবি! আমরা আজকে বেড়াতে আসি নি।
ভাবি ডাক শুনে তো মহুয়া আসমানে উঠে গেছে।সে মনে করছে বাদরটা বাদরামি করছে। তাই মহুয়া রেগে বলল,, 😡
___ বাদর কোথাকার! তুই আর ভালো হবি না?আপুকে ভাবি বলে ডাকছিস।কত্ত বড় সাহস।
মহুয়ার কথা শুনে রোজিনা কপালে হাত দিয়ে বলল,,
___ ভাবি,তুমি কিছু জানো না।
এইবার মহুয়া বেশি অবাক হল,যে রোজিনাও ওকে ভাবি বলে ডাকছে।এর ইতি ঘটিয়ে মহুয়া তার বাবা কে শুধালো,,,
___ আব্বু,ওরা কিন্তু খুব পাকনা হয়েছে।কিছু বলো ওদের।
ফরহাদ খান কিছু বলার আগেই ফাতেমা খান বলে উঠলো,,
___ না, মামনি।ওরা মজা করছে না ঠিকই বলেছে।তোকে আমার রৌদ্রের বউ করতে চাই।
রৌদ্রের বউ শুনে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।এরা কি শুরু করছে রৌদ্রের সাথে ওর বিয়ে দেবে।মহুয়ার ভাবনার মাঝে শুনতে পায় রৌদ্রের গলা।
___ মামা,আমি কিছু বলতে চাই।
রৌদ্র কিছু বলতে চায় শুনে মহুয়া ভেবেছিল সে হয় তো বিয়েতে রাজি না।তাই ভেবে খুশি হচ্ছিল।কিন্তু রৌদ্রের প্রথম কথা শুনে ভালো লাগছিল।কিন্তু শেষের কথা টা ছিল মহুয়ার স্বপ্নে ১ বালতি ঠান্ডা পানি ঢালার মতো।
___ আমি মহুয়া কে বিয়ে করে আমার বউ করতে চাই ঠিকই তবে তার জন্য ৫/৬ মাস সময় লাগবে।নিজের যোগ্যতা আমি প্রমাণ করে মহুয়া কে ঘরে তুলতে চাই।আমার আমানত আপনার কাছে থাক এই কয়েকটি মাস।আমি স্ব সম্মানে ওকে আমার বউ করবো।
মহুয়ার কিছু ভালো লাগছে না। কোন কথা না বলে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।সবাই ভাবল লজ্জা পেয়েছি।
~
মহুয়া নিজের ঘরে বসে অনেক ক্ষণ কান্না করল।কারণ তার রৌদ্রের মত হিরো না ভিলেন পছন্দ।রৌদ্র যে খারাপ তাও না।কিন্তু মহুয়া আজ পর্যন্ত রৌদ্রকে ভাই ছাড়া অন্য চোখে দেখেনি কখনো।
:
~
সময় চলমান
ঐদিনের পর পেরিয়ে গেছে একটা মাস।এই এক মাসে মহুয়া কখনও আর লিয়ন কে ভার্সিটিতে দেখে নি।সে ভাবল হয় তো তার জন্য অন্য কোথাও চলে গেছে।কিন্তু হলো তার উল্টো
লিয়ন আজ ১ মাস পড়ে ভার্সিটিতে আসল।এসেই সর্বপ্রথম মহুয়ার সামনে পড়লো।
১ মাস পর লিয়ন কে ভার্সিটিতে দেখে অবাক হয় মহুয়া।সে কথা বলতে চায় না।তাই সে লিয়নের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চায়।লিয়ন বোধহয় বুঝলো মহুয়া তার সাথে কথা বলতে চায় না।তাই একটু খোচা মারার জন্য গান ধরলো,,,
ঘুম আসে না রাতে Baby,...!
ঘুম আসে না রাতে...!
Miss করি তোমাকে Baby...!
Miss করি তোমাকে....!!
গান টা শুনে মহুয়া কটমট দৃষ্টি তে তাকালো লিয়নের দিকে।দৃষ্টি বুঝে লিয়ন বলল,,
___ এভাবে তাকিও না রাগিনী,মরে যাবো তো!
মহুয়া আরও বিরক্ত হচ্ছে।সে বিরক্তি কন্ঠে বলল,
___ তুমি মরে গেলে আমার সমস্যা কি?আমি তো বিন্দাস আছি।
___ আমি পাশে থাকলে বোধহয় আরও বিন্দাস থাকতে।রাগিনী!
বিরক্তে এবার বলল,,
___ আমার ফালতু কথা বলে সময় নষ্ট করার ইচ্ছা নেই।বাই দ্যা ওয়ে তুমি কি আমাকে টিস করছো।
___ আস্তাগফিরুল্লাহ্,রাগিনী!তুমি আমার হবু বউ তোমাকে টিস করতে যাবো কেন?
___ হবু বউ বলেও লাভ নেই।আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।আর মাত্র ৫ মাস বাকি।
মহুয়ার কথায় লিয়ন পাত্তা দিল না।ভাবলো হয় তো মজা করছে।তাই সেও মজার ছলে বলল,,
___ কার এত বড় কলিজা যে লিয়ন চৌধুরীর কলিজার দিকে নজর দেয়।
___ তুমি কি ভাবছো মজা করছি,আজব তো!
___ মজা করো আর সিরিয়াস ভাবে বলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না।লিয়ন চৌধুরী কিন্তু হিরো নয় যে তোমাকে সমাজ পরিবারের জন্য ছেড়ে দিবে।লিয়ন চৌধুরী হচ্ছে ভিলেন।সবকিছু ছেড়ে দিতে পারবে তবে তার রাগিনী কে না।
লিয়নের কথায় মহুয়ার শরীরের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।সে কিছু বলতে গিয়ে ও থেমে যায়।তার পর বলে,,,
___ তোমার মত পাগলু প্রেমিক অন্য কারো ভাগ্যে জুটলে ভালো হত।আমার কাছে তুমি জীবনেও ভালোবাসা পাবে না।কারণ আমি নাকি অন্য কারও আমানত।আমার বাবার কাছে থেকে ৫ মাস পর সেই আমানত ফেরত নিয়ে নেবে।
___ আমি যদি তোমাকে মন থেকে ভালোবাসি তবে ইনশাআল্লাহ, একদিন তোমাকে আমার করে পাবো।
___ পাগলু একটা!😒
___ হুম পাগলু, তোমার পাগলু।ঝিক্কু!
🙄🙄🙄......
ভার্সিটির সবাই এতক্ষণ ওদের কাহিনী দেখলো।তারপর সবাই চলে গেল।
মহুয়া বাড়ি ফিরে ফ্রেস হয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে।রাতে একবার সজাগ হলেও আর খাবার খায় নি।আবার ঘুমিয়ে পড়ছে।
~
পরদিন,
ভার্সিটিতে মহুয়া,অনিমা বসে আছে খোলা মাঠে।তাদের সাথে তাদের নতুন কিছু ফ্রেন্ডস রাও আছে।সবাই গেম খেলছে,গানের বালিস।তাদের কাছে বালিস নেই তাই ব্যাগ দিয়ে খেলছে।বালিস যার হাতে পরে তাকে গান গাইতে হয়।এইবার বালিস মহুয়ার হাতে পড়ছে।তাই এখন সে গান গাবে।সে মিহি স্বরে গান ধরলো,,,
কি করে বলললল,,তোকে বোঝাইইইই....
হৃদয় জুরে,,তুই শুধু একাই.....!
দূটি চোখে তোরই,....
ছবি ভাসে দিবানিশি....!!
গানের মাঝখানে হঠাৎ এক পুরুষালি কন্ঠ ভেসে আছে,,,
তোকে অনেক ভালোবাসি....
তোকে অনেক ভালোবাসি... !
বড় বেশি ভালোবাসি...!!
তোকে অনেক ভালোবাসি....!!!
___ এই পাগলু তুমি এখানে।
ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলো মহুয়া।
___ কেন পাখি এখানে আসা বুঝি বারণ।আগে বলতে আসতামনা।'
এই ছেলেটার প্রতি এবার মহুয়া প্রচন্ড বিরক্ত হল।এবং বলল,,
___ মস্যা টা যায়গা নিয়ে না।তুমি যে এতগুলো মেয়ের এখানে এসেছো সমস্যা সেটা।
___ দোষ দেবে না,হাজার হাজার নারীদের মাঝে আমার চোখ শুধু তোমাকে খোজে।তাছাড়া তুমি কি আমার উপর অধিকার দেখাচ্ছো পাখি।
লিয়নের কথা শুনে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে মহুয়া।সে আবার কিসের অধিকার দেখাবে।সব ফালতু কথা বার্তা।মহুয়া প্রতিউত্তরে লিয়ন কে বলল,,,
___ এই যে পাগলু!তোমার উপর অধিকার দেখাতে যাবো কোন দুঃখে।😒
___ দুঃখে না পাখি সুখে।তুমি চিন্তা করো না রাগিনী আমি আর মেয়েদের কাছে ঘেসবো না।তুমি হীনা সব নারী আমার কাছে তুচ্ছ রাগিনী।
___ মি কি তোমাকে মেয়েদের সাথে মিশতে না করেছি।যা বলি তার উল্টো বুঝো।আসলেই তুমি একটা পাগলু।
___ রাগিনী আমি শুধু তোমার পাগলু। I love you রাগিনী,I love you.....
লিয়নের কথার কোন উত্তর না করে চলে গেল মহুয়া।
~
সময় চলমান।
দেখতে দেখতে দিন কেটে যাচ্ছে,পাঁচ মাস যে শেষ হয়ে গেছে এর খেয়াল আছে কারো!
দিন যেভাবে যাচ্ছে সাথে মহুয়াও লিয়নের প্রতি দুর্বল হচ্ছে।এখন লিয়নের পরীক্ষা চলছে তাই মহুয়ার সাথে দেখা হয় না।কিছু একটা ভেবে মহুয়া মুচকি হাসলো।সেই ১ মাস আগের কাহিনী।
লিয়ন যখন মহুয়ার সাথে দেখা করতে আসত তখন মহুয়া খুব বিরক্ত হতো।কিন্তু আজ দেখ,এখন লিয়ন কে না দেখতে পেয়ে বিরক্ত হচ্ছে।ভালোবাসা বোধহয় এমনই।নিজের অপছন্দের মানুষ কে ভালোবেসে ফেলেছে কিভাবে তা নিজেও জানে না।এক অদ্ভুত মায়া বোধহয় ভালোবাসা যা ছেড়ে যাওয়া কঠিন।শুধু কঠিন কি অসম্ভব।
~
লিয়নের পরীক্ষা শেষ হয়েছে ১ সপ্তাহ আগে।সে তার শহরে গেছে।মহুয়া কে কথা দিয়ে গেছে তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে।কিন্তু ১ সপ্তাহ হয়ে গেল তবুও আসলো না।মহুয়ার ভয় করছে।রৌদ্র আর মাত্র ২ দিন পর দেশে ফিরবে।বাড়ি তে বিয়ের জোগার হচ্ছে।সবাই খুশি কিন্তু মহুয়া না।কারণ সে এই বিয়ে করতে চায় না।ও তো লিয়ন কে ভালোবাসে।কিন্তু বাড়ির কাউকে বলতে পারছে না।
মহুয়া মন মরা হয়ে বিছানায় বসে আছে।তখন তার ঘরে আসে তার বান্ধবীরা।অনিমা তো আছেই সাথে মিষ্টি,রাকা আর লিনা আছে।সবাই জানে মহুয়া আর লিয়নের সম্পর্ক।সবাই এত ভালো না জানলেও অনিমা সম্পূর্ণ জানে।কিন্তু ওর হাতে কিছু করার নেই।নিরবে বসে আছে ৫ জন।নিরবতা ভেঙে রাকা বলল,,
___ কি রে এখনও মন মরা হয়ে থাকবি।তোর না বিয়ে।
___ দেখ যা হওয়ার হয়ে গেছে।ভুলে যা লিয়ন ভাই কে।
বলে উঠলো লিনা।লিয়ন কে ভুলার কথা শুনে ওর মাথায় রক্ত চরে গেছে।প্রতিউত্তরে মহুয়া বলল,,
___ ভুলে যেতে বলছিস!প্রথম ভালোবাসা কে কখন ভোলা যায় বল?
মাঝখানে থেকে মিষ্টি বলে উঠলো,
___ তুই লিয়ন ভাই কে চিনিস না।চৌধুরী বংশের ছেলে।অনেক বড় ফ্যামিলির ছেলে সে।এত দিন যা ছিল টাইম পাস।
___ কেন আমরা কি ছোট লোক নাকি?
___ তুই ভুল বুঝছিস মহু।লিয়ন ভাই এতটাও ভালো না।
___ তোরা থাম এবার ,ওকে একা থাকতে দে।
বলে উঠলো অনিমা।সবাই চলে যাচ্ছিল তখন মহুয়া অনিমা কে ডেকে বল,,,
___ অনু,তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
সবাই চলে গেল কিন্তু অনিমা রইলো।ধীরে ধীরে মহুয়া কে বলল,,
___ কি বলবি বল?
___একটা সাহায্য করবি?
___ কি সাহায্য?
___ রিয়াদ,লিয়নের বেস্ট ফ্রেন্ড।ওর সাথে একবার কথা বলে দেখ না প্লিজ।
___ আচ্ছা,আমি দেখেছি।তুই চিন্তা করিস না।লিয়ন ভাই কেই তুই বিয়ে করবি।
বলে অনিমা মহুয়ার রুম থেকে বেরিয়েছে।
অনিমা রিয়াদের সঙ্গে দেখা করে মহুয়া দের বাড়ি ফিরেছে।অনিমা এসেছে শুনে মহুয়া তাড়াতাড়ি অনিমা কে ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।তারপর বলল,,
___ অনু রিয়াদের সাথে কথা হলো,কি বলল?বল আমাকে আমার দম বন্ধ লাগছে।আমার দিকটা তো বোঝ।
অনিমা চুপ করে মহুয়ার কথা শুনলো।কিছু বলতে পারছে না।বলার ভাষা পর্যন্ত খুজে পাচ্ছে না মেয়েটা।কি বলবে মহুয়া কে।অস্থির হয়ে মহুয়া আবার প্রশ্ন করে ,,,
___ কিছু বলছিস না কেন? অনু কি হয়েছে?বল রিয়াদ কি বলছে?
___ রিয়াদ ভাইয়া লিয়ন ভাইয়া কে ভুলে যেতে বলছে।বুঝলি নাকি বোঝাতে হবে।
___ কি বলছিস যা আমার লিয়ন এমন না।
"সেটা আমিও জানি কিন্তু পরিস্থিতির শিকার আমরা সবাই।তুই চিন্তা করিস না।লিয়ন ভাইয়া ঠিক আসবে।তখন তোকে সব খুলে বলবো।"
মনে মনে বলল অনিমা।
অনিমা আবার বলতে শুরু করলো,,
___ দেখ লিয়ন ভাই টাইম পাস করেছে।ভুলে যা।আর যদি আশা রাখতে চাস তবে কাল বিয়ের আগ পর্যন্ত রাখিস।হতেও পারে তোর বিয়ে লিয়ন ভাইয়ের সাথে হবে।এই আশা নিয়ে বসে থাকিস।...
অনিমা আর কিছু বলতে যাবে তখনই মহুয়ার কার্জিন রা দরজা ধাক্কাচ্ছে।তাই অনিমা তেমন কিছু বলল না শুধু বলল,,
___ শক্ত থাক মহু,ভাগ্য পালটে যেতে পারে।আগেই যদি ভেঙে পরিস তবে কি করে পরের ঝড় সামলাবি?
আর কোন কথা না বলে দরজা খুলে দিল অনেকে ভিতরে ঢুকে পড়।ওরা সবাই মেহেন্দীর জন্য মহুয়া কে রেডি করবে।হলুদের অনুষ্ঠান হয়ে গেছে আগেই।
~
দুই জন মেহেন্দী আর্টিস্ট মহুয়ার দুই হাতে মেহেন্দী দিয়ে দিচ্ছে আর মহুয়ার বোন রা একে অপর কে দিয়ে দিচ্ছে।একজন আর্টিস্ট মহুয়া কে তার হবু স্বামীর নাম জিজ্ঞাসা করলো,,
___ আপু আপনার হাসবেন্ড এর নাম কি?আপনার হাতে লেখবো।
মহুয়া ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর দেয়,, "লিয়ন।"
কেউ আর কোনো কথা বলল না।সবাই দূরে থাকায় শুনতে পায় নি মহুয়া কি বলছে।তার সাথে সাউন্ড বক্স তো আছেই।
:
মেহেন্দী দেওয়া পর্ব শেষ করে মহুয়া ঘরে এসেছে।সে মেহেন্দী টা একবার পরখ করলো। কিন্তু একটা জিনিস দেখে আতকে উঠলো।তার হাতে লিয়নের নাম লেখা।তার মনে পড়ল সে তার স্বামীর নাম লিয়ন বলে ফেলেছে।ভেবে একটা লম্বা শ্বাস ফেলল।
তারপর ভাবতে থাকলো ২ মাস আগের কথা।মহুয়া তখন মাত্র লিয়নের প্রেমে পড়েছিল।সে জানতো না বর্ষা লিয়ন কে ভালোবাসে।একদিন বর্ষা এসে বলে,,
___ তুমি লিয়ন কে ভালোবাসো?
মহুয়া বলতে বিব্রত বোধ করছে কি বলবে।মহুয়া কে চুপ থাকতে দেখে বর্ষা আবার বলল,,
___ লজ্জা পেয়ে লাভ নেই।পুরো ভার্সিটি তোমাদের প্রেম কাহিনী জানে।তুমি শুধু বলো ওকে ভালোবাসো নাকি?হ্যাঁ অথবা না।
মহুয়া আমতা আমতা করে বলল,,
___ হ.. হ.. হুম।
___ ভালো কিন্তু তুমি জানো লিয়ন তোমাকে না আমাকে ভালোবাসে।তোমার সাথে জাস্ট টাইম পাস করছে।
মহুয়া খুব কষ্ট পেল এই কথাটা শুনে। তবুও হাসি মুখে বলল,,
___ আমাকে তোমাদের মাঝে থেকে সরে যেতে হবে বুঝতে পেরেছি।চিন্তা করো না! আমি আর তোমাদের মাঝে আসবো না।
মহুয়া আর কিছু না বলে স্থান ত্যাগ করলো।বর্ষা খুব খুশি কারণ সে মহুয়া কে এত দিন দেখে যা বুঝেছে,মেয়েটা আত্মসম্মানবোধ অনেক।তাই আর কোনদিন লিয়নের কাছে যাবে না।
বর্ষা মহুয়া কে যা যা বলেছে সোহান সব শুনেছে।সোহান,রিয়াদ এমন কি লিয়ন ও জানে বর্ষা ওকে ভালোবাসে।কিন্তু লিয়ন তো মহুয়া কে ভালোবাসে আর মহুয়া ও লিয়ন কে।তাই সে আর দেরি না করে লিয়ন কে সব বলে দেয়।
~
ভার্সিটির মাঠে একা বসে রয়েছে মহুয়া।আজ অনিমা আসেনি।তার মধ্যে আবার বর্ষার কথা গুলো শুনে মন টা খারাপ হয়ে গেছে।সে আফসোসের সুরে গাইতে লাগল,,,
সাত সাগর আর ১৩ নদী,,,
পাড় হয়ে তুমি আসতে যদি,,,
রূপকথার রাজ কুমার হয়ে,,,,
আমায় তুমি,,,
ভালোবাসতে যদি.....!!
পেছনে থেকে একটা আফসোসের কন্ঠ ভেসে আসে,,,
___ আমি বোধহয় তোমাকে ভালোবাসতে পারিনি।
মহুয়া এই কন্ঠ খুব ভালো করে চিনে কিছু বলল না।লিয়ন এইবার দুষ্টুমির ছলে বলল,,
___ চিন্তা করো না,পাখি বিয়ের পরে অনেক ভালোবাসবো।বিয়ের আগে যদি এমন কিছু করি তবে আমার আর তোমার মান সম্মান কোথায় থাকবে জানো তো😜...
লিয়নের এমন কথা শুনে মহুয়া চোখ মুখ কুচকে নেয়।কি পরিমাণ জাওরা তাই ভাবছে সে।মহুয়া কিছু বলবে তার আগেই লিয়ন বলল,,,
___ বর্ষা তোমাকে যা বলছে সব মিথ্যে।ও আমাকে পছন্দ করে আমি জানি কিন্তু কখনও ওকে পাত্তা দেই।শুধু ওকে কেন কোন মেয়েকেই দেইনি।শুধু আমার রাগিনী কে দিয়েছি।
আমার মন শুধু আমার রাগিনীর নামে।
মহুয়া কে এখনও চুপ থাকতে দেখে লিয়ন ওর কানের কাছে গিয়ে
মৃদুস্বরে গাইতে শুরু করলো,,,
হালকা হাওয়ার মতোন,,,,
চাইছি এসো এখন,,,
করছে তোমায় পেয়ে,,,
অল্প বেঈমানী মন,,,
বাধবো তোমার সাথেএএএ,,,
আমি আমার জীবন,,,,!
আমি তোমার কাছে রাখবো,,,,
আজ মনের কথা হাজার,,,,
নিয়ে তোমার কাজল আকবো,,,
আর সারাদিন টা আমার,,,,
একটু থেমে আবার মহুয়ার দিকে তাকি সুর তুলল,,
চাইলে আশকারা পাক,,,
বেঁচে থাকার কারণ,,,
আজকে হাত ছাড়া যাক,,,
উমমমমম...... ব্যস্ততার বারণ,,,
মহুয়া লিয়নের মুখে হাত দিয়ে ওর মুখ বন্ধ করে বলে উঠে,,
লিখবো তোমার হাতে,,,,
আমি আমার মরণ,,,,
এরপর দুইজন একসাথে গেয়ে উঠে,,
আমি তোমার কাছে রাখবো....
আজ মনের কথা হাজার....
নিয়ে তোমার কাজল আকবো....
আর সারাদিন টা আমার.....!!!
রিয়াদ আর সোহান এসব দেখে একসাথে বলে উঠলো,,,
___ আহা! কি ভালুপাশা।
সোহান আফসোসের সুরে বলল,
___ বন্ধু আজ আমি শুধু সিঙ্গেল বলে এসব দেখতে হচ্ছে।
মহুয়া খুব লজ্জা পেয়েছে বুঝতে পারে নি যে এখানে রিয়াদ,সোহান আছে।লিয়ন মহুয়ার মুখ দেখে বুঝলো লজ্জা পেয়েছি।তাই দুষ্টুমি করে বলল,
___ রাগিনী! তুমি লজ্জাও পাও।
মহুয়া কি বলবে বুঝতে পারছে না।তখন রিয়াদ বলে,
___ ভাবী লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই আমরা আপনার দেবর।
কথা গুলো শুনে আরও লজ্জা পায়।কোন কথা না বলে চলে যায় ক্লাস রুমে।
~
দরজার বাহিরে থেকে রোদ,রোজ সহ অনেকে ডাকছে।মহুয়া এত টা অন্য মনস্ক ছিল যে বুঝতে পারে নি।যখন ওর ধ্যান ভাঙলো তখন নিজের চোখ দুটো মুছে দরজা খুলে দিল।
___ আপু এত দেরি হল কেন দরজা খুলতে?কতক্ষণ ধরে দরজা ধাক্কাচ্ছি।'রাগে রাগে বলল রোদ।
মহুয়া আমতা আমতা করে বলল,
___ ওয়া... ওয়াস রুমে।
লিনা এগিয়ে এসে বলল,,
___ তোর কি হয়েছে?শরীর খারাপ লাগছে না কি?মুখ এমন ফ্যাকাশে!
___ কিছু না!তোরা কেন এসেছিস?
ভ্রু কুচকে বলল মহুয়া।রোজ উত্তেজিত হয়ে বলল,,
___ কি বলো আপু!কাল তোমার বিয়ে আর মজা করবো না! তা হয়!
মহুয়া ওদের বাধা দিল না।সবাই রুমে ঢুকে খাটে গোল হয়ে বসলো।গানের খেলা খেলছি সবাই যেহেতু বিয়ে বাড়ি তাই নাচ গান তো হবেই।সবাই প্রথমেই মহুয়া কে গান গাইতে বলল।কিন্তু মহুয়া রাজি হচ্ছে না।অনেক কষ্টে রাজি করানো গেল।এরপর মহুয়া মৃদুস্বরে গেয়ে উঠলো,,,
হোওওও....
জীবনের সব চাওয়া....
কখনও কি পাওয়া যায়....
হাসি মুখে কিছু ব্যথা....
মেনে তাই নিতে হয়....
হো ও এ মন যে থেকে যাবে....
শ্রদ্ধা অনুভবে অনু রাগিনী....
কিছু পথ যে থেমে যায়.....
বাকি থেকে যায়....
প্রেমের কাহিনী......!!!
___ কি রে ভাই বিয়ের রাতে কেউ sad song গায়!😒
ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলো মিষ্টি।আরও কিছু বলতে যাবে তার আগেই অনিমা বলে উঠলো,
___ থাম তো!ওর পছন্দের গান ও গেয়েছে।তোদের কি এতেও প্রবলেম আছে আছে।আজব।
___ আচ্ছা বোইন ক্ষমা কর ভুল করে ফেলেছি।
সবাই অনেক মজা করলো।কিন্তু এগুলো ছিল মহুয়ার কাছে যন্ত্রণার মতো।
~
সবাই রুম থেকে চলে গেলে মহুয়া ফুপিয়ে উঠে।যার কোন শব্দ নেই আছে গভীর ব্যথা।ফুপাতে ফুপাতে বলে উঠলো,,
___ কাল আমার বিয়ে ঠিকই হব,
কবুল ঠিক ই বলব,
আমার নামটা ঠিকই মিশে যাবে অন্য কারো সাথে।কিন্তু আমার মনটা লেখা থাকবে তোমার নামে।মানুষ সত্যিই বলে জীবনের প্রথম ভালোবাসা ভোলা যায় না।আমার মন তোমার নামে যখন ছিল তার অধিকার আমি কাউকে দেবো না।
তুমি আমায় ভালোবাসো বা না বাসো।
আমি তোমাকে আমার জীবনের থেকে বেশি ভালোবাসি,পাগলু।
হুম,আজ আমি বলছি তুমি শুধু আমার পাগলু। You are only main পাগলু..... You are only main......
~
কাল রাতে কাদতে কাদতে মেয়েটা যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে জানে না।তার বোন রা তাকে ডাকতে এসেছে।দেখল মহুয়া রেডি।কিন্তু মেয়েটার মুখের অবস্থা খারাপ।অনেক কান্না করেছে বোধহয়,কিন্তু কেউ বুঝতে পারলো না।
সময় পেড়িয়ে যাচ্ছে।এখন দুপুর!মহুয়া কে পার্লার থেকে সাজাতে এসেছে।খুব সুন্দর করে একটা নীল বেনারসি পড়ছে।নীল রঙে মহুয়া কে মারাত্মক সুন্দর লাগে।কিন্তু এই শাড়ি কে পাঠিয়েছে জানে না।রৌদ্র দের বাড়ি থেকে যে শাড়ি পাঠিয়েছে তা পৌঁছায় নি বরং এইটা পৌঁছেছে।শাড়ি টা দেখে মনে হচ্ছে অনেক দামি হবে।কিন্তু কে দিল এই বেনারসি।
বিয়ে বাড়ি খুশির আমেজে ভর পুর কিন্তু একজনই দুঃখের সাগরে ভাসছে।সে হলো মহুয়া।মেয়েটা কান্না করছে কিন্তু সবার কাছে স্বাভাবিক লেগেছে।কারণ যতই হোক মেয়ে তো হয় তো বাবা মা কে ছেড়ে যাবে তাই কান্না করছে।যদিও তার ফুফুর বাড়ি তার শশুর বাড়ি হবে তাও।
সন্ধ্যা 6 টা বাজে!কাজী সাহেব এসেছে বিয়ে পড়াতে।রৌদ্র দের বাড়ি থেকে রৌদ্রের বাবা,রোজিনা,রবি আর ওদের কার্জিন রা এসেছে।রৌদ্রের বাবা রমেল ইসলাম এই বিয়েতে খুশি না।সে চাই নি মহুয়া কে তার বাড়ির বউ করতে।মহুয়া কে সে অপছন্দ করে তা না।আত্মীয়দের মধ্যে সম্পর্ক গড়া তার পছন্দ না।তবুও ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রাজি হয়েছে।
বিয়ের জন্য মহুয়া কে এনে রৌদ্রের পাশে বসানো হলো।মেয়েটা কোন কথা বলছে না।একটা টু শব্দ পর্যন্ত না।অনিমার এসব দেখে খারাপ লাগছে।কিন্তু অনিমার বিশ্বাস লিয়ন আসবে।কারণ সে লিয়ন কে চিনে লিয়ন তার নীল পরী নামে পাগল।কিন্তু এখনও আসছে না কেন?
সব কাজ শেষ করে বিয়ে পড়ানো শুরু করবে কাজী সাহেব।
___ আমার না হওয়া বউয়ের বিয়ে কে দিচ্ছে।
দরজার বাইরে থেকে একজন পুরুষালি কন্ঠে আওয়াজ আছে।মহুয়া কন্ঠ শুনেই বুঝে ফেলেছে ও লিয়ন।এতক্ষন পর বোধহয় মেয়েটা হাসলো।মহুয়া মাথা উচু না করেই বলল,
___ লিয়ন।
তার গলা কাঁপছে।সত্যিই লিয়ন তো।তক্ষুনি উত্তর আসলো।
___ হুম,নীল পরী।
লিয়ন মহুয়ার হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছিল।কিন্তু হঠাৎ মহুয়ার কিছু মনে পড়লে সে বলল,
___ হাত ছাড়!
লিয়ন ভ্রু কুচকে বলল,
___ কেন?রৌদ্র কে বিয়ে করবে।
___ জানি না।
___ আমাকে বিয়ে করবে,রাগিনী ।তাই তো।
___ না!আমি আর যাকেই বিয়ে করি তোমাকে করবো না।
___ কেন?জেদ দেখাচ্ছো কেন?আমি জেদ দেখাতে পারি না ভেবেছ?তোমাকে ভালোবাসি বলে আজ পর্যন্ত জেদ দেখাই নি। তাই ভাবছো আমার জেদ নেই।
___ যে আমাকে ভালোবাসে না,তার জেদ দেখার কোন ইচ্ছা নেই আমার।
___ কিহ্!
___ আ্মাকে তুমি জাস্ট ইউজ করেছো।কি ভাবছো কিচ্ছু জানি না?
___ বর্ষার সাথে কথা হয়েছে রাইট।ও তোমাকে কি বলেছে শুনি?
___ বর্ষা আপুর সাথে আমার দেখা হয় নি।
___ তবে,কে এসব আজ গবি কথা বলেছে?তোমার ফ্যামিলি থেকে বলছে।এই ২ সপ্তাহ আসতে পারি নি বলে রাগ করেছো পাখি?
বিশ্বাস করো!এমন পরিস্থিতিতে ছিলাম যে আমি আর ঢাকা আসতে পারি নি।জানো বাবা আসছে তোমাকে আমার বউ করে নিয়ে যাবে।বাবা সব জানে পাখি।
___ আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই না!তুমি যাও এখান থেকে।তুমি এখন কেন এসেছো?তোমাকে বলেছিলাম,16 জানুয়ারী আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।তাড়াতাড়ি কথা বল।কিন্তু তুমি আমার মান সম্মান সব নষ্ট করতে আজকে চলে এসেছো।
কে বলেছিল এই কয়েকটা মাসের জন্য আমার লাইফে আসতে?আর যদি ফিরেই আসবে তবে আজকের দিনেই কেন।
কথা গুলো কাঁদতে কাঁদতে বলল মহুয়া।গলাটা ভেঙে গেছে অনেক কান্না করেছে।লিয়ন বুঝতে পারছে মহুয়ার কষ্ট।সে মহুয়া কে বলল,
___ পাখি!রাগ করেছো আমার ওপর।সরি গো,আর এমন হবে না।এই কয়েক দিন অনেক ঝামেলার মধ্যে ছিলাম আমি তোমাকে পরে সব শুনাবো।
___ আমি তোমাকে বিয়ে করবো না।ফাইনাল।
___ তোমার মতামত কে জানতে চেয়েছি?তোমার কি মনে হয় আমি হিরো!যে তোমাকে পাওয়ার জন্য লড়াই করবো।আমি তোমাকে তুলে নিয়ে যাবো,কারণ আমি হিরো না ভিলেন।
এতক্ষন ধরে ওদের কথোপকথন সবাই শুনছে।একেক জন একেক কথা বলছে।লিয়নের বাবা তাহফিন চৌধুরীও এসেছেন অনেক ক্ষণ আগে,এদের কথোপকথন শুনেছে।
লিয়ন বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু বলতে পারছে না।সে পারলেও এখন বলবে না।কারণ যাকে ভালোবাসে বলে অসুস্থ শরীর নিয়ে এখানে চলে এসেছে।সে মেয়েটাই তাকে চায় না।লিয়ন নিজেকে সামলে বলল,
___ চল পাপা।আজকে আমি আমার ভালোবাসার কাছে হেরে গেছি।
এরপর মহুয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
___ জীবনের প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা তুমি।
তাই তোমাকে অন্য কারও সাথে আমি দেখতে পারবো না।
তুমি রৌদ্র কে তিন কবুল বলবে, তখন আমার পরিবারে আমার মৃত্যুর খবর পাবে।
তুমি যখন বাসর রাতে তোমার স্বামীর বুকে মাথা রেখে ঘুমাবে,তখন আমার মা তার ছেলের লাশের ওপর কান্না করবে।
তুমি যখন ফরজ গোসল করবে তখন,আমাকে শেষ গোসল করানো হবে।
তুমি যখন নতুন লাল টুকটুকে শাড়ি পরে বউ সেজে আসবে, তখন আমার গায়ে সাদা কাফন জড়ানো থাকবে।
আর তুমি যখন নরম বিছানায় ঘুমাবে তখন আমি মাটির নিচে মাটির ঘরে ঘুমাবো।
কথা গুলো শুনে মহুয়া শিউরে উঠে।লিয়ন বেড়িয়ে যায় একমুহূর্ত দেরি না করে।তখন রিয়াদ এসে বলে,
___ মহুয়া দেখো।সেদিন অনিমা তোমাকে যা বলেছিল সব মিথ্যে।আমি বলতে বলেছিলাম।কারণ লিয়ন আমাকে বলেছিল তোমাকে যেন সত্যি টা না বলতে তুমি চিন্তা করবে।
তোমাকে সব সত্য বলবো প্লিজ লিয়ন কে আটকাও। ওকে তুমি চিনো।ও খারাপ কিছু করার আগে আটকাও।
মাঝখান থেকে তাহনিফ চৌধুরী বলল,
___ আম্মু জান!আমার ছেলে তোমাকে সত্যিই খুব ভালোবাসে।প্রত্যেক দিন ফোন করে তোমার কথা বলতো।আমি মহুয়া কে আমার বউ বানাবো।আমরা সবাই রাজি ছিলাম।সেদিন লিয়ন বাড়ি ফেরার সময় বাইক accident করে।তাই ও আসতে পারেনি।
এক্সিডেন্ট করেছে শুনে মহুয়া হতবাক।সে ভাবছে অনিমা মিথ্যে বলল কেন।ওর ভাবনার মাঝেই লিয়নের বাবা আবার বলতে শুরু করে,
___ আম্মু।তুমি যদি আমার ছেলে কে ভালো না বাসো তবে আমার ছেলে আর কোনদিন তোমাকে ডিস্টার্ব করবে না।আমি কথা দিচ্ছি।
To be continue......