ফন্ট সাইজ:
থিম:
জোনাকি প্রদীপ

৯ম পর্ব

লেখক: নুসরাত জাহান

#জোনাকি_প্রদীপ (পর্ব ৯)

নুসরাত জাহান লিজা

নীরা শাফিনকে দেখিয়ে দিচ্ছে কী করে ছিপ ফেলতে হয়। ইরার আবদার পূরণ করছে আফনান।

"জায়গাটা খুব সুন্দর।" সায়মনের কথা শুনে ওর দিকে তাকাল সবাই।

"আমি কি তোমাদের সাথে যোগ দিকে পারি?"

"কেন নয়?" মৃদু হেসে বলল নীরা।

ভরদুপুরে রোদের উত্তাপ থাকলেও জোর হাওয়া বইছে বিধায় ঈষদুষ্ণ রোদ ঠিক গায়ে লাগছে না। নীরার খোলা চুলগুলো বড্ড বেপরোয়া, হাত দিয়ে বারবার পেছনে সরিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু লাভ খুব একটা হচ্ছে না। ইরার চুল শক্ত করে বাঁধা।

সায়মন এসে সিঁড়ির একটা ধাপে বসতে বসতে বলল, "একসময় বেশ অভ্যাস ছিল। এরপর পড়াশোনার চাপে আর হয়নি। আজ ঝালিয়ে নেয়া যাবে।"

আফনান ছিপ ফেলে অপেক্ষা করছিল কখন কোনো মাছ টোপ গিলে নেয়। সে বলল,

"আমারও শিকার আর বড়শী দিয়ে মাছ ধরার প্রবল শখ ছিল একসময়। বহুদিন এসব থেকে দূরেই আছি।"

শাফিন উৎসাহ নিয়ে পানির দিকে তাকিয়ে আছে। কখন নীরার ইশারা পাবে আর জীবনের প্রথম মৎস্য শিকার সফল হবে। সেদিকেই দৃষ্টি রেখে সে বলল, "আমিই খালি আনাড়ি। সবাই দেখছি অভিজ্ঞ।"

ইরা ফোড়ন কেটে বলল, "আমার যে ছবিগুলো তুলেছেন, সেসবে যেন আপনার আনাড়িপনা না পাই।"

"সে আমি ভালোই পারি। বুঝলেন? সবেতেই অকর্মা নই।"

"ও, তাই? আমি ভেবেছিলাম আপনি একটা আমড়া কাঠের ঢেঁকি।"

শাফিন কিছু বলতে যাচ্ছিল তার আগেই ওর ফেলা ছিপ নড়ে উঠল। নীরা শাফিনের হাত ধরে ওটা ঝটকা টানে তুলে ফেলল। একটা মাছ উঠেছে। সবার মনোযোগ সেদিকে চলে গেল।

"আপনি অলরাউন্ডার দেখছি।" সায়মন মুগ্ধ গলায় নীরাকে কথাটা বলল।

"সেরকম কিছু নয়। পরিচিত একজন এসবে মেতে থাকত। তার উৎসাহ দেখে আমিও আগ্রহী হয়েছিলাম ছেলেবেলায়। তার কাছ থেকেই শিখেছিলাম।"

নীরা একবার আফনানের দিকে তাকাতেই দু'জনের চোখাচোখি হলো। আফনানের মনে পড়ল তখন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষ হয়েছিল সবে। এই পুকুরপাড়েই বন্ধুদের আড্ডা জমত বেশি। সবাই এটা সেটা কত কী নিয়ে কথা বলত। সে তখন গভীর মনোযোগের সাথে এই কাজটা করত। তখন নীরা যেন কীসে পড়ত! এইটে না-কি নাইনে সেটা মনে পড়ছে না আফনানের। প্রায়ই মেয়েটা এসে ঘ্যানঘ্যান করত,

"আমি শিখব, আমাকে শেখাও।"

তখনই সে এর কলাকৌশল শিখিয়েছিল নীরাকে। কিছুদিনের মধ্যেই বেশ দক্ষও হয়ে উঠেছিল। ম্লান হাসল আফনান।

ইরা তখন বেশ ছোট, তবে ওর মনে আছে নীরা ওকে সাথে নিয়ে পুকুরপাড়ে আফনানের কাছ থেকেই শিখেছিল। সে বলল, "গুরুকে ফেইল করানোর একটা সুযোগ আছে নীরা আপু। আমি আর ওই অকর্মা ফটোগ্রাফার বাদে তোমরা তিনজন একসাথে একবার ছিপ ফেলে দেখো না, দেখি কারটায় আগে মাছ উঠে!"

নীরা সাথে সাথে নাকচ করে দিল, "এসব ছেলেমানুষি করার বয়সে আমরা নেই ইরা।"

সায়মন বেশ উৎসাহ নিয়ে বলল, "আরে হোক না। বেশ মজা হবে কিন্তু। অনেকদিন খেলাধুলা হয় না। একদিন ছেলেমানুষী হোক না-হয়। কী বলেন আফনান?"

আফনান এক পলক নীরার দিকে দৃষ্টি মেলে এরপর হেসে সায়মনের পানে তাকিয়ে বলল, "আমার আপত্তি নেই। তবে কেউ যদি আমার কাছে হেরে যাবার ভয়ে পিছিয়ে যায় সে অন্য কথা।"

নীরা ভাবলেশহীন মুখে বলল, "সেটার জন্য আগে ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আফনান ভাই। বলে নিজের জায়গায় বসে পড়ল। এরপর ইরাকে বলল, "ইরা তোর হেয়ার ব্যান্ডটা দে তো।"

নীরার যুদ্ধংদেহী অবয়বে হার না মানার দৃঢ়তা ফুটে উঠেছে নিমিষেই। আফনানের মনে হলো এই মেয়েটাই একসময় কী ভীষণ প্রাণোচ্ছল ছিল! কথায় কথায় হেসে গড়িয়ে পড়ত। সময়ের ব্যবধানে কেমন পাথুরে মনের অধিকারীতে রূপান্তরিত হয়েছে। সবটাই কি অভিমান! নাকি প্রত্যাখ্যানের সুতীব্র জ্বলুনির পোড়া কাঠকয়লা!

পুরোনো নীরা, যে হাসলে কল্লোলে ভরে উঠত চারপাশ, সেই হাসিটা একবার দেখার ভীষণ ভীষণ লোভ হলো আফনানের। তৃষিত হয়ে উঠল ওর সমস্ত অন্তর।

আপাতত হার জিতের খেলা জমে উঠল পুকুরপাড়ে। সায়মন বলল,

"আপনার কনফিডেন্স ভীষণ ভালো লাগল। সত্যি বলছি, আমার কম্পিটিটর কেবল আপনি হলে আমি নিজে হেরে হলেও আপনাকে জয়ী দেখতে চাইতাম।"

"আমি আপনার দয়া কেন নেব?"

"না না, ছিঃ, ছিঃ! দয়া নয়। বন্ধু হিসেবে বন্ধুকেই জয়ী দেখতে ভালো লাগত বলে।"

"আপনি বেশ বন্ধু অন্তঃপ্রাণ দেখছি। ভালো। তবে এভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতাটা আমি পছন্দ করব না। খেলা শেষে হেরে গেলেও তাতে শান্তি পাব।"

"আপনি অন্যরকম, নীরা।"

"কেমন?"

"খেলার পরে বলব। এখন কথা বলতে বলতে আপনি হেরে গেলে ভালো আমার খারাপ লাগবে।"

এবার আর উত্তর দিল না নীরা, সায়মনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল কেবল।

আচমকা কোত্থেকে এক পৃথিবী ঈর্ষার তীর আলোর গতিতে আফনানের বুকে এসে বিঁধল। এতক্ষণের কথোপকথন ওকে বাকরূদ্ধ করে দিয়েছে যেন। কী যে ব্যথা হলো হৃৎপিণ্ডে! প্রগাঢ় ব্যথা!

..........

(ক্রমশ)

কে জিতবে বলুন তো?

(আজ এটুকুর বেশি সম্ভব হলো না। পরবর্তী পর্ব আরেকটু বড় করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন