ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নামের রোদ্দুরে

৭ম পর্ব

লেখক: আশফিয়া হিয়া

#তোমার_নামের_রোদ্দুরে

#আশফিয়া_হিয়া

#পর্ব_০৭

( কপি পেস্ট বা কোনো রকম কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

- " তুই আমার রুমে কি করছিস?" ভয়ে আরুর বুকটা ধ্বক করে উঠল।

- " আপনাকে ডাকতে এসেছিলাম।" ভয় গিলে কোনোরকম মুখ দিয়ে শব্দটুকু উচ্চারণ করল।

- " এভাবে?" রুদ্ধ নিজের চুলের দিকে ইশারা করল। খুবই শান্ত স্বরে প্রশ্ন করল সে, যেনো কন্ঠে একটুও রাগ নেই।

- " আপনার চুলে মশা বসে ছিল তাই আরকি..হি হি

আরু দাঁত বের করে হাসার চেষ্টা করল।

- " এসেছিস যখন মাথাটা টিপে দে।"

- " অ্যা?" আরু হতবাক হয়ে গেল তার কথা শুনে মাথা টিপে দিতে বলছে?

- " কি বললাম শুনিস নি?"

- " দিচ্ছি।"

রুদ্ধ উঠে বালিশে হেলান দিয়ে বসল আরুকে পাশে বসার জন্য জায়গা করে দিল। আরু ছোট ছোট নরম দুটো হাত দিয়ে রুদ্ধর মাথা ম্যাসেজ করে দিতে লাগল। নরম হাতের ছোঁয়া পেয়ে রুদ্ধর চোখগুলো আপনা আপনি বুজেঁ এল। হঠাৎ কিছু মনে পড়ায় রুদ্ধ ঠিকঠাক হয়ে বসল।

- " তোকে আমার রুমে আসতে নিষেধ করেছিলাম?"

হঠাৎ করে রাগী স্বরের প্রশ্নটা শুনে আরু হতবাক হয়ে গেল। এই না শান্ত ছিল এখন আবার রাগ আসছে কোথা থেকে? এই ব্যাটার তো দেখি মেয়েদের থেকেও বেশি মুড সুইং হয়। আরু কপাল থেকে হাত সরিয়ে রুদ্ধর দিকে তাকাল।

- " এসেছি তো কি হয়েছে! আমি কি আপনার জিনিসপএ সব চুরি করতে এসেছে?" চোখ দুটো ছোট ছোট করে প্রশ্ন করল আরু।

রুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,

- " করিস না?"

আরু কিছুটা থতমত খেয়ে গেল। সে প্রায় রুদ্ধর জিনিসপএ নিয়ে নেয়। কিছুদিন আগেও একটা পারফিউম নিয়েছিল। রুদ্ধ বুঝতে পারলেও কখনো তাকে এই নিয়ে কিছু বলেনি। এসব নিয়ে কখনো ধমক দিয়েছে কিনা সন্দেহ তাই আরুও আস্কারা পেয়ে গেল।

রুদ্ধ নতুন কিছু নিয়ে এলেই সেখান থেকে আরুও একটা - দুইটা জিনিস মে*রে দেয়।

- " আমি আসছি চাচ্চুরা ডাকছে! আপনিও জলদি আসুন।" বলেই কোনোরকম পালিয়ে গেল।

তার যাওয়ার তালে ঘরের পর্দা দূলে উঠল। রুদ্র সেদিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল! শব্দহীন মুচকি হাসি বিড়বিড় করে বলল,

- " you're the sweetest part of my every single day.

__________________

আরু নিচে গিয়ে দেখল ফারিশকে তার মা - চাচিরা ঠেসে ঠেসে খাওয়াচ্ছে। বাড়ির হবু জামাই বলে কথা। ভালো করে আপ্যায়ন করতে হবে না? এটা ওটা দিয়ে প্লেট ভরিয়ে ফেলছে। ফারিশ অসহায় চোখে রুহানির দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু ও এইসব পাওা দিচ্ছে না এক কোনায় বুকে হাত গুজে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। আরুকে দেখতেই ফারিশ ইশারা করল কিছু করার জন্য আরু অসহায়ভাবে মাথা নাড়ালো অথাৎ তা এখানে কিছুই করার নেই। সে গিয়ে রুহানির পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ঠেলতে লাগল কিছু বলতে।

- " চুপ করে থাক। মজা দেখ শুধু।

- " বাবা আরেকটু মাংস নাও! তুমি তো কিছুই খাচ্ছ না। রান্না ভালো হয় নি?"

- " না না আন্টি খুব মজা হয়েছে। এতো মজার রান্না আমি লাস্ট কবে খেয়েছি মনেই পড়ছে না।"

তার প্রশংসা শুনে সবাই আরও একটু গদগদ হয়ে উঠল। রুহানি ভেংচি কাটলো শুধু মিষ্টি মিষ্টি কথা এইসব মিষ্টি কথা বলেই লোকটা তাকে ফাঁসিয়েছে।

- " আরু তুমিও এসো আমার পাশে বস। বলেই তার জন্য পাশে চেয়ারটা টেনে দিল।

আরু দিরুক্তি না করে চুপচাপ গিয়ে তার পাশে বসল। তারও খুব ক্ষিদে পেয়ে গেছে। রুমা বেগম আরুর প্লেট এ খাবার বেড়ে তার দিকে প্লেটটা এগিয়ে দিল।

- " কি খবর শালি সাহেবা?" ফিসফিস স্বরে বলল ফারিশ।

- " এইতো ভালো ভাইয়া। আপনার কি খবর? " বলেই রুহানির দিকে ইশারা করল।

- " আর খবর তোমার বোন আমাকে পাওাই দিচ্ছে না। জেনো আমি রাস্তার ধারে পড়ে থাকা কোনো সরকারি গাছ।"

ফারিশের কথা শুনে আরু হেসে ফেলল। এটা তো তারও মনে হয় রুদ্ধও তো তাকে পাওা দিচ্ছে না। সব বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে।

এরমধ্যেই রুদ্ধ সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল। ফারিশকে দেখে অবাক হলো না খুব একটা। সে গিয়ে ফারিশের ওপর পাশের চেয়ারে বসে পড়ল।

- " ভাই বাঁচা আমাকে! এরা বিয়ের আগেই আমাকে খায়িয়ে খায়িয়ে মেরে ফেলবে।

- কেনো বিয়ের আগেই না তোর জামাই আদর খাওয়ার শখ? এখন ভালো করে খাঁ।

- " জামাই আদর তো অনেক খেলাম। এইভাব একটু বউ আদর খাওয়ার সুযোগ করে দে প্লিজ।

ফারিশের কথা শুনে রুদ্ধ নাক মুখ কুঁচকাল,

- " আমি কিন্তু ওর বড় ভাই ঠিক করে কথা বল।"

- " বড় ভাই তো আরো পরের বিষয়। ভুলে যাস না আমাদের অনেক পরে রুহা পৃথিবীতে এসেছে। তুই আমার ল্যাংটা কালের বন্ধু।"

রুদ্ধ আর কি বলবে এই পাগলকে কিছু বলে লাভ আছে?

-" রুহা ফারিশকে নিয়ে যা ওর খাওয়া হয়ে গেছে।"

- " আচ্ছা ভাইয়া।"

________________

ইয়াজ ঘুম থেকে উঠেই চেঁচামেচি শুরু করেছে। ঘুম থেকে উঠেই ঘর এলোমেলো দেখেই বুঝে গেছে চুন্নিটা আজকেও এসেছিল। খুঁজে খুঁজে ঠিকই বুঝে গেল ওর টি - শার্ট গায়েব করে দিয়েছে। আহি খাতায় কিছু লিখছিল। ইয়াজ গিয়ে ওর চুল ধরে টেনে ওঠাল। আহি ইয়াজকে দু হাত দিয়ে ঠেলে সরাতে না পেরে হাতে কামড় বসিয়ে দিল। ইয়াজ ব্যাথায় হাত সরিয়ে নিল।

- " একেই তো আমার জিনিস চুরি করেছিস আবার আমাকে কাম*ড় দিচ্ছিস। তোর দাঁত আজকে আমি ভেঙে দিব দাঁড়া।

- " তুই আমার চুল ধরেছিস কেনো! আমার চুল কি সরকারি পেয়েছিস?"

-" কত বড় সাহস বড় ভাইকে তুই - তোকারি করিস বলেই আবার তেড়ে গেল আহির দিকে।

মিনিটের মধ্যে আবার মা*রামা*রি লেগে গেল দুজনের। আরু রুমে এসেছিল ঘুমানোর জন্য এদের মারামারি দেখে নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে দুজনের দিকে ছুড়ে মে*রে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। সে এখন রুহানির রুমে গিয়ে আরামে ঘুমাবে।আহি আর ইয়াজ মিনিট দুই চুপ থেকে আবার শুরু করল মারামারি জুতো মা*রাতে তাদের কোনো প্রভাব পড়ল না জুতোর বাড়ি তারা প্রায়ই খেয়ে থাকে।

চলবে?

( গল্পটা যারা পড়চ্ছেন সবাই রেসপন্স করবেন প্লিজ। আপনারা যতজন গল্পটা পড়েন সেই অনু্যায়ী রেসপন্স করেন না। বেশি বেশি লাইক করবেন সবাই)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন