ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নামের রোদ্দুরে

৪৪তম পর্ব

লেখক: আশফিয়া হিয়া

#তোমার_নামের_রোদ্দুরে

#আশফিয়া_হিয়া

#পর্ব_৪৪

( কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

সমুদ্রের ঢেউগুলো তীরে এ সে আছড়ে পড়ছে। সেই ঢেউগুলো বেলকণিতে বসে পর্যবেক্ষণ করছে এক রমণী। তার থেকে কিছুটা দূরে যে যার সঙ্গি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে রয়েছে। হঠাৎ ধপ করে পাশে কারোর বসার উপস্থিতি টের পেয়ে মেয়েটা পাশে তাকাল। ইয়াজের পরণে টি - শার্ট ও টাউজার। গলায় একটি বিলাশবহুল ক্যামেলা জুলছে। আহি তাকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সমুদ্রের দিকে তাকাল। ইয়াজ তার কানের গোড়ায় ফুল গুজে দিল। এলোমেলো চুল কানে ফুল আহিকে দেখতে ভীষণ ভালো লাগছে৷ আহি বলল,

- ' হয়েছে তোমার ফ্রটোগ্রাফি করা?'

- ' এখনো কিছুটা বাকি আছে যেটা সম্পূর্ণ না করলে আমার এই পুরো জার্নিটাই অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে।'

- ' তাহলে যাও বসে আছো কেনো?'

ইয়াজ উঠে দাঁড়াল। আহি ভাবল ইয়াজ বুঝি সত্যিই চলে গিয়েছে, তাই মুখটা ভার করে রাখল। পেছন থেকে ক্যামেরার ফ্যাশের শব্দ শুনে পেছনে তাকাল। ইয়াজ পেছন থেকে আহির ছবি তোলায় ব্যস্ত। আহি পেছনে ঘুরায় সেভাবেই কয়েকটা ছবি তুলে নিল। এরপর আহিকে বলল ঠিকঠাক ভাবে বসতে। আহি বারণ করল ঠিক হয়েই বসল, ইয়াজ বিভিন্নভাবে তার ছবি তুলে দিল। ছবি তোলা শেষ হতেই আহির আশে গিয়ে বসে পড়ল।ইয়াজ বলল,

- ' মুখটা এমন ফুলিয়ে বসে ছিলি কেনো?'

- ' তো কি করবো, এখানে এসেছে সব কাপলটা দেখছো না সবাই কেমন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, আমাকে সময় দিবে কে?'

- ' আমি তো আছি।'

- ' তুমিও নেই, তুমি তো নিজের ক্যামেরা নিয়েই ব্যস্ত।'

- ' আচ্ছা ঠিক আছে আমি আর ক্যামেরায় হাত দিচ্ছি না, চল আর একটু সামনে গিয়ে হেঁটে আসি?'

- ' না না আমার ভয় করে ঢেউ যদি আমাদের টেনে নিয়ে যায়? '

- ' ভীতুর ডিম একটা কিছুই হবে না আয় তো। কথাটা বলেই আহির হাত ধরে জোর করে টেনে উঠাল। আহির হাত শক্ত করে চেপে ধরে সমুদ্রের দিকে এগতে লাগল। সমুদ্রের পানিতে দুজনের পা ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে বাতাসের দাপট, তাদের মন অজানা অনুভূতিতে সিক্ত হয়ে উঠল। আহি উওেজনায় ইয়াজের এক হাত জরিয়ে ধরল। দুজনেই সমুদ্রের সেই বিশাল সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগল। এই মুহুর্ত গুলোই হয়ত তাদের নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কিছুক্ষণ বাদেই তারা সকলকে এদিকে আসতে দেখতে পেয়েই হাত ছেড়ে দিয়ে ঠিকভাবে দাঁড়াল। আরু আহির পাশে গিয়ে দাঁড়াল। আহি তাকে দেখে ভেংচি কেটে মুখ ঘুরিয়ে নিল। আরু অবাক হয়ে বলল,

- ' কি হয়েছে রেগে আছিস কেনো?'

- ' তুই তো এখন ভাইয়াকে পেয়ে গিয়েছিস তাই তোর আমার কথা মনে নেই, নিজে নিজেই ঘুরে বেড়াচ্ছিস আমাকে যে একা রেখে গিয়েছিস সেই খেয়াল আছে?'

আরু তার গাল টিপে দিয়ে বলল,

- ' ওরেএএ আমার বাবুটা সরি, আমি এখন থেকে তোর সঙ্গে সঙ্গেই থাকব।'

- ' সত্যি?'

- ' এক হাজার সত্যি।'

*************

রাতে সবাই মিলে বারবিকিউ পার্টি করা হবে সেই মতো সকল সরঞ্জাম এনে সমুদ্রের পাড়ে রাখা হচ্ছে। এই অংশটুকু হোটেলের ভেতরেই পড়েছে তাই তারা এখানেই পার্টির আয়োজন করছে। ইয়াজ ও ফারিশ মিলে কাঠ ও পাতা একএিত করে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছে। তবে বরাবরের মতো এবারেও ব্যার্থ হলো। ফারিশ অতিষ্ট হয়ে গালাগালি দিয়ে বলল,

- ' হারামিরা কোথায় মরতে গেছে শুনি, আমাদের ঘাড়ে সব কাজ চাপিয়ে দিয়ে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে, ঘাড় ধরে সবগুলোকে টেনে নিয়ে আসছি।'

ফারিশ চলে গেলে ইয়াজ নিজেই চেষ্টা করতে লাগল। পাঁচমিনিট হয়ে গেছে ফারিশেরও আসার নাম নেই ইয়াজের এবার নিজেরই ইচ্ছে করছে সব ছেড়ে ছুঁড়ে পালিয়ে যেতে। আহি ইয়াজকে একা কাজ করতে দেখে এগিয়ে এল।

ইয়াজ আগুন ধরাতে পারছে না তাই বার বার বলছে এটা দাও, ওই কাঠগুলো দাও বাতাস করো তাহলে ঠিকই আগুন ধরবে। ইয়াজ বিরক্ত হয়ে তার হাতে দেশলাই দিয়ে বলল,

- ' নে তুই বরং আগুন ধরা দেখি কেমন পারিস।'

আহি ভাব নিয়ে বলল,

- ' এটা আবার এমন কি ব্যাপার আমি এক্ষুণি আগুন ধরিয়ে দিচ্ছি।'

আরুর কিছুক্ষন পরপরই এদিক - ওদিকে দৃষ্টি বুলাচ্ছে। রুদ্ধকে সেই কখন ওদিকটাই যেতে দেখেছে এখনো আসার নাম নেই। আরু মনটা কেমন ছটফট করছে রুদ্ধকে দেখার জন্য। তার এই উশখুশ ভাব সবারই নজরে পড়ছে। তুষারের বউ শ্রেয়া দুষ্টু স্বরে বলল,

- ' কি ব্যাপার আরু কাউকে খুঁজছো বুঝি?'

আরু থতমত খেয়ে বলল,

- ' না না কাকে খুঁজবো। এমনি এদিক - ওদিকটা দেখছিলাম।'

তিশা দুষ্টুমি করে বলল,

- ' হয়েছে আর লুকাতে হবে না তুমি যে রুদ্ধ ভাইয়ের দেখা পাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছ সেটা আমরা সবাই বুঝতে পেরে গিয়েছি।'

রুহানি মিটিমিটি হেসে বলল,

- ' আরু তো এমনই ভাইয়াকে ভীষণ চোখে হারায়, ভাইয়াও তাই দুজন দুজনকে এক পলক না দেখে থাকতেই পারে না। '

আরুকে আরোও এটা - সেটা বলে লজ্জা দিতে লাগল। আরু সেখান থেকে উঠে চলে এল। কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে গেল রুদ্ধর খোঁজ করতে।

***********

সিগারেটের নেশা রুদ্ধর খুব একটা নেই, তবে বন্ধুদের সঙ্গে থাকলে দুই একটা সিগারেট খাওয়া হয়। চার বন্ধু মিলে সিগারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছে, সাদমান বলল,

- ' অনেক হয়েছে শালা এবার আমারো বিয়েটা করে নেয়া উচিত।'

রুদ্ধ বলল,

- ' তোকে আটকে রেখেছে কে করে নে বিয়ে।'

সাদমান হায় - হুতাশ করে বলল,

- ' বিয়ে তো করতেই চাই তবে ওর ভাই যা জল্লাদ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে গলায় ছুড়ি টুড়ি না চালিয়ে দেয়।'

তুষার ক্ষেপে গিয়ে তেড়ে গেল তার নিকট,

- ' শালা আমাকে তোর কোন দিক দিয়ে জল্লাদ মনে হয়, এতদিন আমার বোনের সঙ্গে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছিস ছু*ড়ি তো আগেই চালিয়ে দেয়া উচিত ছিল।'

সাদমান অবাক হয়ে বলল,

- ' তুই জানতিস?'

তুষার তার নাক বরাবর এক ঘুষি মেরে বলল,

- ' আমার নাকের ডগায় আমার বোনের সঙ্গে প্রেম করবে আর আমি জানবো না? আমাকে কি আ*বা*ল মনে হয়া শালা.....

সাদমান এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল,

- ' সরি বন্ধু, ভেতরে অজানা ভয়ের কারণে চাইলেও তোকে বলতে পারিনি। আমি তোর বোনটাকে ভীষণ ভালোবাসি রে। ওকে ভীষণ সুখে রাখব দেখিস।'

তুষার তার পিঠে হাত রেখে বলল,

- ' ঢাকাই গিয়েছেই সোজা বাড়িতে প্রস্তাব পাঠাবি। মা - বাবা তিশার জন্য ছেলে দেখতে চাইছে।'

সাদমান আনন্দিত হয়ে বলল,

- ' অবশ্যই।'

রুদ্ধ ও ফারিশ সাদমানকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানাল। ফারিশ আক্ষেপের সুরে বলল,

- ' তোর বিয়েটাও হয়ে যাবে আমি তো দেখছি একাই সিঙ্গেল রয়ে যাব। এমন বন্ধু যেন শএুরও না হয় খোদা।' তার হায় হুতাশ শুনে বাকিরা হাসল। রুদ্ধ তার পেটে ঘুষি মেরে বলল,

- ' আপনাকে আর সিঙেল ঘুরতে হবে না, বাড়ি ফিরেই বাবার সঙ্গে কথা বলব। তাছাড়া বাবাও আর অপেক্ষা করতে চাইছে না এতদিন আমার জন্যই রুহার বিয়েটা আটকে ছিল। '

ফারিশ তার কাঁধে হাত রেখে কিছু বলবে তার আগেই দূরে দাঁড়ানো আরুকে দেখে রুদ্ধকে ইশারা করল। রুদ্ধ ইশারা অনুযায়ী আরুকে দেখেই হাতের সিগারেট তড়িঘড়ি করে ফেলে দিল। বড় বড় পা ফেলে আরুর দিকে যেতে লাগল। আরু ততক্ষণে উল্টো দিকে হাঁটটে শুরু করেছে। রুদ্ধকে আরুর পেছনে এভাবে ছুটতে দেখে ফারিশ হেসে বলল,

- ' শালা বাবু ভালোই ফেঁসেছে।'

রুদ্ধ আরুর হাত ধরে থামিয়ে দিল। আরু তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

- ' ছাড়ুন ধরবেন না আমাকে?'

- ' আমি সিগারেট খায় না এখন, সবাই মিলে একসাথে ছিলাম তাই জাস্ট একটা..

আরু তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

- ' আমি কিছু জানতে চাইনি আমার যা ইচ্ছে আপনি সেটা করতে পারেন।'

রুদ্ধ ঢোক গিলে বলল,

- ' সরি আর খাব না প্রমিস করছি।'

আরু ভ্রু কুঁচকে বলল,

- ' আপনি যে আপনার প্রমিস রেখেছেন সেটা আমি বুঝব কি করে? আজ আমি নিজের চোখে না দেখলে তো জানতেই পারতাম না।'

রুদ্ধ দুষ্ট হেসে বলল,

- ' চুমু খেয়ে।'

আরু ভ্যাবাচেকা খেয়ে বলল,

- ' এ্যাহ্?'

- ' হু আমি যদি সিগারেট খেয়েও থাকি কোনোদিন তোর ঠোঁটে ঠোঁট রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তুই বুঝে যাবি, চাইলে এখনি প্যাকটিকাল ওয়েতে দেখিয়ে দিতে পারি।'

- ' আপনি দিন দিন কেমন ঠোঁট কাটা হয়ে যাচ্ছেন, আগে তো এমন ছিলেন না?'

- ' আগে কি তুই আমার বউ ছিলি অথবা... বাকি কথাগুলো আরুর কানে কানে বলল। লজ্জায় আরুর নাকের ডগা লাল হয়ে এল। রুদ্ধকে নিজের থেকে ঠেলে সরিয়ে বকতে বকতে সেখান থেকে চলে গেল।

************

আগুন ধরানোটা আহির দ্বারাও সম্ভব হলো না। শেষমেষ ফারিশ তুষার ও রুদ্ধ মিলেই আগুন ধরিয়েছে৷ সবাই এখন সমুদ্রের পাড়ে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করতে ব্যস্ত। সবাই রুদ্ধ ও আরুর জন্য স্পেশাল সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছে যেটা৷ সম্পর্কে রুদ্ধ ও আরু বাদে সকলেই জানে। সেই অনুযায়ী শ্রেয়া ফট করে বলল,

- ' আমরা যা যা কাজ করার করে দিয়েছি, এখন বাকি কাজ তোমরা সামলাও আমাদের অন্য কাজ আছে। ' কথাটা বলেই আরু আহি ও রুহানিকে ইশারা করল উঠে দাঁড়াতে। সবাই মিলে একযোগে হোটেলের দিকে চলে গেল।

তিশা সবাইকে নিয়ে নিজেদের রুমে এল। আরুকে বলল তার আনা শাড়িটা নিয়ে আসতে। আরু বলল,

- ' হঠাৎ শাড়ি কেনো আনতে যাব আপু?'

- ' আমরা সবাই মিলে শাড়ি পড়ে ছবি তুলবো তাই, এখন জলদি শাড়িটা নিয়ে এসো।'

আরু মাথা নাড়িয়ে শাড়ি আনতে চলে গেল। রুহানি সাজের জিনিসগুলো সব বের করে রাখছে৷ আরু শাড়ি অফহোয়াইট রঙের একটি শাড়ি নিয়ে এল। শাড়িটা ভীষণ সুন্দর, রুদ্ধর খুব পছন্দের শাড়িটা তাই এই শাড়িটাই নিয়ে এসেছিল পড়বে বলে, তবে এখানে এসে পড়া হয়নি। ভালোই হবে আজ শাড়িটা পড়া হয়ে যাবে। শ্রেয়া সুন্দর করে আরুকে শাড়িটা তাকে পরিয়ে দিল। শাড়ি পড়াতে গিয়ে আরুর শরীরের লাভ বাইটগুলো ঠিকই তাদের চোখে পড়েছে এই নিয়ে আরুর লজ্জার শেষ নেই। শাড়ি পড়ানো শেষ হতেই রুহানি হালকা করে তাকে সাজিয়ে দিল। সাজানো হতেই আহি বলল,

- ' আপু তোকে তো খুব সুন্দর লাগছে রেএ, ভাইয়া আজ তোকে দেখে ফিট না খেয়ে যায়।'

শ্রেয়া নিজেও শাড়ি পরেছে। সেও খুবই হালকা সেজেছে। বাকিদের শাড়ি পরতে না দেখে আরু প্রশ্ন করতেই, তিশা বলল,

- ' আমরা ম্যারিড নাকি যে শাড়ি পড়বো, এখন ইচ্ছেও করছে না। আমর নাহয় পরে একদিন পরবো।'

রুদ্ধ হাঁটু ভাঁজ করে বসপ গিলগুলো উল্টে - পাল্টে দিচ্ছিল। পরিচিত পায়েলের শব্দ কানে প্রবেশ করতেই সেদিকে দৃষ্টি যেতেই থমকে গেল। হার্টবিট যেন দ্রুতগতিতে বিট করতে লাগল। বিয়ের দিনের পর আরু আজ প্রথম শাড়ি পড়ল। চেনা অনুভূতিগুলো রুদ্ধর মনে আবারও নতুন করে ধরা দিতে লাগল। রুদ্ধ এক ঢোক গিলে উঠে দাঁড়াল। আরু রুদ্ধর দৃষ্টি দেখে মাথা নিচু করে রাখল। বাকিরা মিটিমিটি হাসছে। তিশা আরুকে নিয়ে একপাশে বসে পড়ল। তুষারও সব ছেলেদের বলল একপাশে বসতে। একদিকে মেয়েরা ও তাদের দিক উল্টো পাশে ছেলেরা বসেছে, তাদের থেকে কিছুটা দূরুত্বে বারবিকিউ করা হচ্ছে। আগুনের ধোঁয়া, বাতাসের ছন্দ ও সমুদ্রের ঢেউ পাড়ে এসে আছড়ে পরায় তাদের এই মুহুর্তগুলো যেন আরও অনেক বেশি প্রশান্তিময় করে তুলছে।

************

রুদ্ধর দৃষ্টি আরুর দিকে নিবদ্ধ আরুও আড় চোখে তাকেই দেখছে বিষয়টা বুঝতে পেরে রুদ্ধর ঠোঁটে আলতো হাসির রেখা ফুটে উঠল। আগেও আরু ঠিক তাকে এভাবেই আড়চোখে দেখত। রুদ্ধর চোখে দৃষ্টি পরা মাএই লজ্জায় থতমত খেয়ে মেয়েটা দৃষ্টি ফিরিয়ে নিত। আগের আরু আর এই আরুর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। শুধুমাএ একটা জায়গায় ছাড়া এখনকার আরু তার বিয়ে করা একমাএ বউ। রুদ্ধ প্রশান্তির শ্বাস টানল। সাদমান তার হাতে গিটার ধরিয়ে বলল আজকের এই সন্ধ্যায় আরুকে ডেডিকেট করে একটা গান গাইতে। রুদ্ধ বারণ করল না গিটারটা নিজের হাতে নিয়ে আরুর দিকে একপলক তাকিয়ে গাইতে শুরু করল,

হালকা হাওয়ার মতোন

চাইছি এসো এখন

করছে তোমায় দেখে

অল্প বেঈমানি মন

বাঁধবো তোমার সাথে

আমি আমার জীবন

আমি তোমার কাছে রাখবো

আজ মনের কথা হাজার

দিয়ে তোমার কাজল আঁকবো

আজ সারা দিনটা আমার

চাইলে আস্কারা পাক

বেঁচে থাকার কারণ

আজকে হাত ছাড়া যাক

হুম ব্যাস্ততার আর বারণ

লিখবো তোমার হাতে

আমি আমার মরণ

আমি তোমার কাছেই রাখবো

আজ মনের কথা হাজার

দিয়ে তোমার কাজল আঁকবো

আজ সারা দিনটা আমার

তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে

তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে

আর কমলো চিন্তা আমার

রুদ্ধর গানের গলায় চারপাশকে আরও অনেক বেশি মুগ্ধ করে তুলল। আরুর চোখের কোণে পানি জমতে শুরু করেছে। কিছু কিছু অনুভূতি যা ভাষায় বলে প্রকাশ করা যায় না, চোখের পানিগুলোই একসময় না বলা অনুভূতিগুলো প্রকাশ করে ফেলে। আরুর চোখের পানিগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে রুদ্ধ হালকা হাসল।

**********

খাওয়া - দাওয়ার পর্ব শেষ হতেই সকলে হোটেলে ফিরে এল। রুমে প্রবেশ করার পূর্বে তুষার রুদ্ধর কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলল,

- ' ওল দ্যা বেস্ট বন্ধু।'

বলেই মিটিমিটি হাসতে হাসতে নিজেদের রুমের দিকে চলে গেল। রুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আরুকে নিয়ে নিজেদের রুমে প্রবেশ করতেই থমকে গেল। পুরো রুম ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। রুদ্ধর বুঝতে বাকি নেই এইগুলো তার বন্ধুদের কান্ড। রুদ্ধ মিটিমিটি হেসে আরুর দিকে তাকাল। আরু এক ঢোক গিলে রুমে ঘর ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। দৃষ্টিতে তার মুগ্ধতা পুরো ঘর গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। রুদ্ধ দিকে পেছন থেকে তাকে জরিয়ে ধরল। আরু নিজেকে সামলে নিল, শাড়ি ভেদ করে উদরে রুদ্ধর হাতের বেসামাল স্পর্শ টের পেতেই শাড়ি খামচে ধরল। রুদ্ধ তার ঘাড়ে নাক ডুবিয়ে জোরে শ্বাস টেনে বলল,

- ' ওরা এসব করবে এই ব্যাপারে আমার কোনো আইডিয়াই ছিল না। তবে যেটা করেছে ভালোই হয়েছে, আমার কাজটা ওরাই করে দিয়েছে।'

আরু বলল,

- ' শাড়িটা চেঞ্জ করবো।'

রুদ্ধ তাকে কোলে তুলে এক চোখ মেরে বলল,

- ' আমি চেঞ্জ করিয়ে দিব।'

চলবে?

( আজ কিন্তু বড় করে পর্ব দিয়েছি। তাই সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন, আর গঠনমূলক মন্তব্য করবেন)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন