ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নামের রোদ্দুরে

৪৯তম পর্ব

লেখক: আশফিয়া হিয়া

#তোমার_নামের_রোদ্দুরে

#আশফিয়া_হিয়া

#পর্ব_৪৯

( কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

আরুর এখন ছয়মাস চলছে, পেটটা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটায় বড় হয়েছে। এই নিয়ে রুদ্ধর চিন্তার শেষ নেই। রুমা বেগম ও মিতা বেগম দুজনেই বলেছেন এই নিয়ে চিন্তার কোনো ব্যাপার নেই। এমনটা অনেকরই হয়ে তবুও রুদ্ধ নিশ্চিত হতে পারেনি। এমনিতেই আরুকে নিয়ে প্রতি মুহুর্তে তাকে ভয়ে ভয়ে থাকতে হচ্ছে, রুদ্ধ কোনো রিস্ক নিতে রাজি হলো না। আরুকে তখনো আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়নি, ভেবেছে ছয়মাসে একবারে করাবে। গতকালই রুদ্ধ আরুকে নিয়ে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি করিয়েছে। আজ সেটার রিপোর্ট দেয়ার কথা রুদ্ধ রিপোর্ট নিয়ে সোজা নিজেদের ঘরে চলে এসেছে৷ তখন থেকেই ডিভানে থম মেরে বসে রয়েছে। আরু তার পাশে বসে বারংবার প্রশ্ন করছে,

- ' রিপোর্ট এ কি আছে বলছেন না কেনো।'

রুদ্ধ হুট করে তাকে কোলে তুলে বেডে খুব সাবধানে শুইয়ে দিল। হঠাৎ করে রুদ্ধর এহন কাজে আরু বেশ অবাক হলো। রুদ্ধ তার পেটের ওপর থেকে কাপড় সরিয়ে সম্পূর্ণ পেটটাই উন্মুক্ত করে ফেলল। পেটে একের পর এক ঠোঁট ছুঁইয়ে আরুকে ও নিজেকে অস্থির করে ফেলল। এরপর এখানটাই হাত বুলিয়ে বলল,

- ' এইটুকু পেটে আমার দুটো বাচ্চা কি করে আছে।'

আরু আশ্চর্যিত হয়ে বলল,

- ' দু..দুটো বাচ্চা?'

রুদ্ধ অনবরত উপর নিচ মাথা নেড়ে হ্যাঁ বুঝাল। আরু শোয়া থেকে উঠে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। নিজের পেটের দিকে তাকিয়ে সেখানে অনবরত হাত বুলিয়ে মুচকি হাসল। ভেতরে এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে যা সে প্রকাশ করতে পারছে না, মা হওয়ার অনুভূতিটা বুঝি এতটায় শান্তির? আরুর চোখ দুটো ছলছল করে উঠল, যেদিন সে বুঝতে পেরেছিল সে মা হবে সেদিনও ঠিক এমনটাই অনুভব করেছিল সে, তখন তো জানত একজন আসছে, এখন তো খুশি দ্বিগুণ হয়ে তাদের মাঝে ধরা দিচ্ছে।

রুদ্ধ পেছন থেকে আরুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কাঁধে নাক - মুখ ঘষে বলল,

- ' কেমন ফিল করছো মিসেস?'

আরু হেসে বলল,

- ' ভাষার প্রকাশ করার মতো না। পরক্ষণেই কিছু একটা মনে পড়ার ভঙ্গিতে বলল,

- ' এক মিনিট আপনি আমাকে তুমি বলে সম্মোধন করেছেন ? '

রুদ্ধ তার হাতদুটো ধরে চুমু খেয়ে বলল,

- ' হুহ এখন আমাদের বেবীরা আসছে, তাদের সামনে তুই বললে ওরাও সেটায় শিখবে, বলবে পাপা তাদের মাম্মামকে তুই বলে ডাকে।'

- ' আপনার মুখে তুই ডাকটাই মানাই, তুমি ডাকটা শুনতে কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। আপনি আমাকে তুই বলেই ডাকবেন বাচ্চাদের সামনে মাঝে মধ্যে তুমি।'

রুদ্ধ কাঁধ উঁচিয়ে বলল,

- ' ওকে।'

**************

মাঝ রাতে আরুর নড়াচড়ায় রুদ্ধর ঘুম ভেঙে গেল। এমনিতেই আরুকে নিয়ে তার চিন্তায় থাকতে হয়। যেদিন থেকে শুনেছে টুইন বেবি আসছে রুদ্ধর চিন্তা আরও দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। রুদ্ধ হকচকিয়ে উঠে অস্থির হয়ে প্রশ্ন করল,

- ' কি হয়েছে পেটে ব্যাথা করছে? পানি খাবি, আমি বরং মাকে ডেকে নিয়ে আসছি।'

আরু হাত ধরে আটকে দিয়ে বলল,

- ' এতটা অস্থির হচ্ছেন কেনো? আমি ঠিক আছি, আসলে আমার না খুব ক্ষিদে পেয়েছে।'

রুদ্ধ স্বস্তির শ্বাস ফেলে বলল,

- ' ক্ষিদে পেয়েছে? তুই তো কিছুক্ষণ আগেই খেয়ে ঘুমিয়েছিস।'

আরু মুখটা ছোট করে বলল,

- ' হুম খেয়েছিলামই তো, তবে আপনার বাচ্চাদের আবারও ক্ষিদে পেয়ে গিয়েছে তার জন্য আমাকে শাস্তিতে ঘুমাতেও দিচ্ছে না।'

রুদ্ধ হেসে বলল,

- ' আচ্ছা? আমার বাচ্চাদের কি খেতে ইচ্ছে করছে শুনি?'

- ' খিচুড়ি আর মাংস।'

রুদ্ধ বলল,

- ' মাংস তো রান্না করায় আছে, জাস্ট খিচুড়িটা রান্না করতে হবে। ঠিক আছে আমি দেখছি কি করা যায়।'

- ' না না এত রাতে খিচুড়ি কে রান্না করবে, আমি সকালে মা অথবা বড় মাকে বলবো খিচুড়ি রান্না করে দিতে এখন বরং অন্য কিছু খাই।'

রুদ্ধ বেড থেকে উঠে দাঁড়াল। আরুকে কোলে তুলে বলল,

- ' নো আমার বাচ্চারা এখন খেতে চেয়েছে মানে এখনি খাবে, তাদের পাপ্পাহ আজ তাদের জন্য রান্না করবে।' রুদ্ধ তাকে কোলে নিয়ে রান্নাঘরে এসে থামল। ড্রাইয়িং টেবিল থেকে চেয়ার এনে আরুকে সেখানে বসিয়ে দিল। ফ্রিজ থেকে কিছু ফল বের করে কেটে আরুর হাতে দিয়ে বলল,

- ' ফিনিশ ইট।'

আরু ফল খেতে খেতে রুদ্ধর রান্না দেখতে লাগল। রুদ্ধ মোবাইল এ খিচুড়ি রান্নার ভিডিও ছেড়ে কিচেন কাউন্টারে সেট করে নিল। এরপর ভিডিও অনুযায়ী যা যা প্রয়োজন সবটা একে একে বের করে নিল। রুদ্ধ প্রয়োজন মতো চাল ও ডাল একসঙ্গে ধুয়ে নিল। এরপর পেয়াজ মরিচ কেটে নিল। চুলায় তেল দিয়ে প্রয়োজন মতো সবকিছু দিয়ে নাড়াচাড়া করে চাল ও ডালের মিশ্রনটা দিয়ে দিল। পরিমান মতো পানি ঢেলে, ঢাকনা দিয়ে ডেকে দিল। আরু চেয়ারের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তার পেটে আলতো করে মাথা দিয়ে রেখে বাচ্চাদের সঙ্গে আদুরে ভাষায় নানা ধরনের গল্প করতে লাগল। বাচ্চারাও তার কথায় সাড়া দিতেই আরু ব্যাথায় হালকা শব্দ করে আর্তনাদ করে উঠল। রুদ্ধ তার পেট উন্মুক্ত করতেই দুটো পায়ের স্পষ্ট ছাপ চোখে পড়ল। রুদ্ধর চোখ দুটো কেমন লাল হয়ে গেল। মনে হচ্ছে এক্ষুণি কেঁদে ফেলবে। রুদ্ধ অবুজের মতো বলল,

- ' আমার বাচ্চারা আর এখানে থাকতে চাইছে না, আমার কাছে আসতে চাচ্ছে, আমার বুকে ঘুমাতে চাচ্ছে।'

ব্যাথার মাঝেও রুদ্ধর পাগলামি দেখে আরু হালকা হাসল। খিচুড়ি রান্না হতেই রুদ্ধ ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে গরম করে নিল। আরুকে ড্রাইনিং টেবিলে বসিয়ে দিয়ে প্লেটা খিচুড়ি ও মাংস বেড়ে নিয়ে এল। নিজের হাতে আরুকে খাইয়ে দিতে লাগল। আরু তৃপ্তি করে খাচ্ছে ও রুদ্ধকে এটা ওটা বলছে রুদ্ধও খুব মনোযোগ সহকারে তার গল্প শুনছে৷

আসলাম শেখ পানি খেতে ড্রাইনিং রুমে এসেছিল, দূর থেকে আরু ও রুদ্ধকে চোখে পড়তে তিনি আর এগোলেন না, তাকে দেখে দুজনে বিব্রতবোধ করতে পারে। তিনি সেখান থেকে দুজনের দিকে তাকিয়ে প্রশান্তির হাসি হাসলেন। এক সময় আরু ও রুদ্ধর বিয়ের বিরোধিতা সেই সব থেকে বেশী করেছিলেন তার মনে হয়েছিল যদি দুজনের এই ভালোবাসা ফুরিয়ে যায় তখন তার প্রভাব পরিবারের ওপরে গিয়ে পড়বে, এই সুন্দর পরিবারের মাঝে ভাঙন সৃষ্টি হবে, তবে তিনি সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে, এতে তার থেকে বেশি খুশি আর কেউ হয়নি। আজ তার মনে হচ্ছে আরুর জন্য তার ছেলের থেকে যোগ্য কেউ আর হতেই পারত না। ওরা দুজনই দুজনের জন্য বেস্ট তাকেই বেছে নিয়েছে।তিনি ওদেরকে ওদের মতো ছেড়ে দিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন।

আরুর পুরো প্রেগ্যানন্সির সময়টায় এমন যত্ন ও আদর - আহ্লাদে কেটেছে। মাঝে মাঝে প্রচন্ড রকমের মুড সুইং ও হয়েছে, রুদ্ধ সবটা হাসি - মুখে মেনে নিয়েছে। আরু যখন প্রচন্ড ব্যাথায় কাঁদত, রুদ্ধ তাকে কোলে নিয়ে পুরো ঘর জুড়ে হেঁটে বেড়াত। বুকে জড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিত। তার সঙ্গে এটা - ওটা খাওয়ার বাইনা তো রয়েছেই। বাড়ির সকলের সাপোর্ট এ তার কষ্ট গুলো তেমন অনুভব করতে পারেনি।

*************

রুদ্ধ সমানতালে হসপিটালের করিডরে পায়চারী করছে। বাড়ির সকলেই চিন্তত মুখে ওটির দরজার সামনে বসে রয়েছে। রুহানিও তার মেয়েকে নিয়ে এসেছে, পিচ্চিটা সবে মাএ এক বছর বয়স, তবে বেশ শান্ত স্বভাবের যার কোলেই যাবে চুপচাপ বসে থাকবে একটুও দুষ্টুমি করছে না। ভয়ে উওেজনায় রুদ্ধর চোখ - মুখ লাল হয়ে গিয়েছে, চোখ দুটো দেখে মনে হচ্ছে এক্ষুণি পানি গড়িয়ে পড়বে। আরুকে কিছুক্ষণ আগেই ও টি তে নেয়া হয়েছে। যদিও আরও কয়েকদিন পরে ডেট ছিল, তবে আরুর পানি আগেই ভেঙে গিয়েছিল তখনি তাকে হসপিটালে এডমিট করা হয়েছে। ছেলের অবস্থা বুঝতে পেরে আসলাম শেখ রুদ্ধর মাথায় হাত রেখে বললেন,

- ' একটু শান্ত হও আব্বা, সব ঠিক হয়ে যাবে। '

রুদ্ধ বাবাকে জড়িয়ে ধরল। আসলাম শেখ ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আরও আধ ঘন্টা পর একটি বাচ্চার কান্নার শব্দ পাওয়া গেল। তখনি যে যার জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। রুদ্ধ তাড়াহুড়ো করে ও. টির দরজার সামনে দাঁড়াল, তার ঠিক পাঁচমিনিটের মাথায় আরোও একটি বাচ্চার কান্নার শব্দ পাওয়া গেল।

মিনিট কয়েক পরেই দুটো নার্স দুটো বাচ্চাকে কলে নিয়ে বেরিয়ে এল। এসেছে মিষ্টি হেসে বলল,

- ' এক মেয়ে ও এক ছেলে হয়েছে আপনাদের। বাচ্চার বাবা কোথায়? বাচ্চাদের মা কিন্তু বলেছে ওদেরকে সবার আগে ওদের বাবার কোলে দিতে।'

রুদ্ধ কানে কিছুই পৌছাল না, তার দৃষ্টি পুতুলের দেখতে ঔই ছোট্ট ছোট্ট শরীর দুটোর দিকে বিদ্যমান। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

- ' আমার ওয়াইফ?'

- ' তিনি একদম সুস্থ আছেন, কিছুক্ষণ পরেই উনাকে বেডে দেয়া হবে চিন্তা করবেন না। ' রুদ্ধর স্বস্তির শ্বাস ফেলে একে একে বাচ্চাদের কোলে তুলে নিল। তার চোখ বেয়ে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। রুদ্ধ বাচ্চাদের কোলে নিয়ে মুচকি হেসে বলল,

- ' শেখ বাড়িতে আপনাদের স্বাগতম।'

একে একে সবাই বাচ্চাদের কোলে নিচ্ছে, আদর করছে,আহি ইয়াজকে ভিডিও কল দিয়ে বাচ্চাদের দেখাল। ইয়াজ ওখান থেকে চাচ্চু চাচ্চু ডেকে অস্থির হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চার কানে আজান দেয়া নিয়েও ছোট - খাটো এক ঝামেলা বেঁধে গেল। আসলাম শেখ বলছেন,

- ' আমি দাদা আমি আগে আজান দিব।'

আজাদ শেখ বলছেন,

- ' দাদা হয়েছেন তো কি হয়েছে ভাইজান আমি নানা আমারও অধিকার আছে আজান আগে আমিই দিব। '

তাদের দু ভাইয়ের তর্ক থামাতে রুদ্ধ একটা কথায় যথেষ্ট ছিল। সে বাচ্চাদের কোলে নিয়ে বলল,

- ' আমার সময় তো বাবা তুমিই আযান দিয়েছিলে, আরুর সময় চাচ্চু তুমি নিজেই দিয়েছিলে, তাহলে আমার বাচ্চাদের বেলায় উল্টো হবে কেনো, বাবা হিসেবে তো আমারই আযান দেয়া উচিত তাই না?'

দুজনের মুখটায় চুপসে গেল। রুদ্ধর তাদের দেখে হাসি পেল, হেসেও ফেলল সে। ছেলে ও মেয়ের কানে একে একে আযান দিল রুদ্ধ নিজেই।

************

আরুকে কেবিনে সিফ্ট করা হয়েছে মিনিট বিশেক আগে। বাড়ির সবাই সেখানেই রয়েছে, আরুর চোখ তখন থেকে একজনকেই খুঁজে চলেছে, রুহানি মিটিমিটি হেসে আরুর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,

- ' তুই যাকে খুঁজছিস সে, সে এক্ষুণি এসে পড়বে। ' রুদ্ধ কেবিনে প্রবেশ করতেই সবাই ওদের নিজেরদের মতো ছেড়ে দিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। আরু মুখে স্পষ্ট ব্যাথার ছাপ। অসুস্থতায় মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে আছে, তবুও এই মুখটার মাঝেই রুদ্ধ হাজার সৌন্দর্য খুঁজে পেল। আরু মুচকে হেসে বলল,

- ' বাবুদের দেখেছেন?'

রুদ্ধ জবাব দিল না, আরুর ওপরে ঝাপিয়ে পড়ল এক প্রকার। আরুর কপালে গালে, ইচ্ছে মতো ঠোঁট ছোঁয়াল, সবশেষে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিল। ইচ্ছে মতো মনের আয়েশ মিটিয়ে চুমু খেয়ে আরুকে ছেড়ে দিল। আরু হাপিয়ে উঠেছে। রুদ্ধ নিজেও হাপিয়ে গিয়েছে। আরুকে শক্ত করে নিজের বুকে জড়িয়ে বলল,

- ' আই লাভ ইউ। থ্যাঙ্কিউ সো মাচ জান আমাকে এত এত সুন্দর সুন্দর দুটো পুতুল উপহার দেয়ার জন্য, ওরা আমার লাইফের সেকেন্ড বেস্ট গিফট।'

আরু তার পিঠে হাত রেখে বলল,

- ' সেকেন্ড বেস্ট গিফট? তাহলে ফাস্ট বেস্ট গিফট কে?'

রুদ্ধ বাচ্চাদের দিকে ইশারা করে বলল,

- ' ওদের মাম্মাম।'

আরু রুদ্ধকে শক্ত করে জরিয়ে ধরল। বাচ্চাদের কান্নার শব্দ ভেসে আসতেই দুজন দুজনকে ছেড়ে দিয়ে হেসে ফেলল। এখন থেকে এটায় হবে তাদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। রুদ্ধ আরুকে সাহায্য করল বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিড করাতে আরুর কোলে ছেলেকে দিয়ে সে মেয়েকে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে লাগল। ছেলেকে খাওয়ানো হয়ে গেলে রুদ্ধ ছেলেকে তার পাশে শুইয়ে দিল, মেয়েকে আরুর কোলে দিল আরু মেয়েকেও খাওয়াতে লাগল। রুদ্ধ ও আরুর দুজনের বুকেই এক অদ্ভুত সুখ কাজ করছে। নতুন মা - বাবা হওয়ার অনুভূতি বুঝি এমনই হয়?

***************

চারদিন পরে আরুকে বাড়িতে আনা হলো। নিজের ঘরে প্রবেশ করা মাএই আরু নিজের ঘরে বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করল। বেডের পাশে বাচ্চাদের জন্য দুটো দোলনা সেট করা হয়েছে। তাদের আলমারির পাশে বাচ্চাদের কাপড় রাখার ছোট আলমারি রাখা হয়েছে। ঘরের একপাশে বাচ্চাদের খেলনা দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ আরু সেসব দেখে হাসল। আহি ও রুহানি তাকে ধরে বেড এ হেলান দিয়ে বসিয়ে দিল। বাচ্চারা তার নানা ও দাদার সঙ্গে রয়েছে। মিতা বেগম ও রুমা বেগম আরুর জন্য খাবার নিয়ে এল। মিতা বেগমের হাতে এক বাটি ভর্তি করা আনার। আরু বলল,

- ' আমার এখন এসব খেতে ইচ্ছে করছে না মা।'

- ' খেতে হবে, শরীর থেকে প্রচুর রক্ত বেরিয়ে গিয়েছি, এসব না খেলে শরীরে রক্ত হবে কি করে?'

আরু আর কিছু বলল না বাটিটা নিয়ে আনার খেতে লাগল। তারা নিচে চলে গেলেন। রুহানিও মেয়েকে খাওয়াতে চলে গেল। আহি বোনের পাশে বসে তাকে আলতো করে জরিয়ে ধরে বলল,

- ' আমার যে কি খুশি লাগছে না আপু আমাদের বাড়িতেও ছোট্ট ছোট্ট দুটো কিউট মিষ্টির গোলা চলে এসেছে, এখন থেকে আমার আর একা একা লাগবে না।'

চলবে?

( কেমন হয়েছে আজকের পর্ব? সবাই রেসপন্স করবেন।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন