ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নামের রোদ্দুরে

৫১তম পর্ব

লেখক: আশফিয়া হিয়া

#তোমার_নামের_রোদ্দুরে

#আশফিয়া_হিয়া

#পর্ব_৫১

( কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

ঘড়িতে এখন রাত এগারোটার কাটায়। বাড়ির সকলে একসঙ্গে ডিনার করতে ড্রাইনিং রুমে উপস্থিত রয়েছে। আজ রাতের স্পেশাল মেনুতে রয়েছে কাচ্চি বিরিয়ানি। এটা ইয়াজের পছন্দের অন্যতম খাবার। ইয়াজের পছন্দের কথা মাথায় রেখে আরু নিজেই ইয়াজের জন্য রান্না করেছে। আরু নিজের হাতেই সবাইকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে । বাচ্চারা কিছুক্ষণ আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। প্রতিদিন রাত সাড়ে দশটার মাঝেই তারা ঘুমিয়ে পড়ে, এইদিক দিয়ে আরুর কষ্ট কিছুটা কম হয়, ঘুম নিয়ে তাদের কোনো তালবাহানা নেই সময়ই মতোই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে উঠবেই ঠিক নয়টার দিকে। আরু রুদ্ধর প্লেটে খাবার বেড়ে দিচ্ছে, রুদ্ধ স্বাভাবিক স্বরেই বলল,

- ' তুইও বসে পড়।'

- ' আমি পড়ে খাব মায়েদের সঙ্গে। '

ওমনি আসলাম শেখ খ্যাঁক করে উঠলেন। রুদ্ধকে উদ্দেশ্য করে চোখ রূঙিয়ে বললেন,

- ' ছেলে, মেয়ের বাবা হয়ে গেছো এখনো নিজের বউকে তুই - তোকারি করছো। ওরা শিখবে কি তোমার কাছ থেকে, তোমরা যা বলবে ওরা তো সেটাই শিখবে।'

রুদ্ধ গলা খাঁকারি দিয়ে স্বভাবতই গম্ভীর স্বরে বলল,

- ' চেষ্টা করছি।'

ইয়াজ খাবারের ঘ্রাণ নিয়ে বলল,

- ' বাহ বেশ ভালো ঘ্রাণ বেরিয়েছে তো, খেতেও নিশ্চয় খুব ভালো হবে। রান্নাটা কে করেছে বড় মা নিশ্চয়?'

রুমা বেগম হেসে বললেন,

- ' উহু আজ আমি রান্না করিনি, রান্না করেছে আমার একমাএ বউমা।' আরু হালকা হাসল তার কথা শুনে। ইয়াজ অবাক হয়ে বলল,

- ' তাই নাকি? আগে তো এক কাপ চা বানিয়েও খেতে চাইতি না, আর এখন সবাইকে বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়াচ্ছিস বাহ বেশ ভালো ইমপ্রুভমেন্ট হয়েছে তো তো।'

- ' আমি এখন আর আগের মতো নেই বুঝেছিস? এখন আমি সব কাজ করতে পারি।'

মিতা বেগম বললেন,

- ' আমি কোনোদিন ভাবতেই পারিনি, আমার এই দুষ্টু চঞ্চল মেয়েটা এত সহজে সবটা শিখে নিবে, এত সুন্দর করে দুটো বাচ্চা সামলাবে। '

রুদ্ধ আরুর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। তার চোখে স্পষ্ট ভেসে বেড়াচ্ছে আরুর প্রতি মুগ্ধতা। আরুর দৃষ্টি রুদ্ধর দিকে যেতেই সে সবার আড়ালে ইশারায় বোঝাল কি? রুদ্ধ কিছু বলল না ঠোঁট বাকিয়ে একটু হেসে খাবারের দিকে মনোযোগী হলো। বাড়ির সকলেই বেশ তৃপ্তি করে খাচ্ছে, যা তাদের মুখ দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

আজ আহি ও ইয়াজ পাশাপাশি বসেছে। এই দৃশ্য আগে কখনোই দেখা যায়নি, তারা কখনোই এক সঙ্গে খেতে বসেনি। প্রত্যকবারই দুজন দুজনেই বিপরীত দিকে চেয়ারে বসত৷ ছোট থেকেই একসঙ্গে খাবার খেতে বসলে দুজনের মাঝে মা*রামা*রি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হতো, এ ওর খাবার কে*ড়ে নিত। এরপর থেকেই বড়রা খাবার টেবিলে দুজকে আলাদা করে দিয়েছিল। যেন খাবার সময়টাতে অন্তত শান্তি বজায় থাকে৷ তবে আজকে চিএ বেশ ভিন্ন দুজন পাশাপাশি বসে খাবার খেলেও মুখে কোনো শব্দ নেই, নিজেদের মতো খেয়ে যাচ্ছে৷ খাওয়ার মাঝেই আহি নিজের পায়ে কিছু স্পর্শ টের পেতেই নড়েচড়ে বসল। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখল ইয়াজ নিজের ডান পা দিয়ে আহির পা স্লাইড করে চলেছে। প্রথমবার শরীরে কোনো পুরুষের এহন স্পর্শ পেয়ে আহির সম্পূর্ণ শরীর শিরশির করে উঠল। শরীর কেমন ঝাঁকি দিয়ে উঠছে। ইয়াজের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাল, তবে ইয়াজের সেদিকে ধ্যান নেই সে নির্বিকারভাবে খেতে ব্যস্ত। যেন টেবিলের নিচে ঘটানো কান্ডের সঙ্গে সে কোনোভাবেই জড়িত নয়। আহি নিজের দৃষ্টি সরিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল। তবে সে বেশি সময় সম্ভব হলো না। ইয়াজের পা খানিক ওপরের দিকে উঠতেই আহি বাম হাত দিয়ে ইয়াজের পেটে বেশ জোরালভাবে চিমটি কাটল। ইয়াজ না চাইতেই মৃদ্যু শব্দ করে চেঁচিয়ে উঠল। সকলের দৃষ্টি তখন তার দিকে গিয়েই পড়ল। ইয়াজ ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল,

- ' ভুল করে মরিচে কামড় লেগে গিয়েছে তাই, আরকি।'

সুমিতা বেগম ছেলের দিকে পানির গ্লাস বাড়িয়ে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

- ' সাবধানে খাবি তো বাবা। ' ইয়াজ এক ঢোক পানি খেয়ে মাথা নাড়াল। সবাই আবার নিজের খাবারের দিকে মনোযোগী হলেন। আজাদ শেখ খাওয়ার মাঝেই আসলাম শেখকে বললেন,

- ' আমার কলেজের পড়াকালীন এক বন্ধু ছিল ভাইজান মনে আছে আপনার? আমাদের বাড়িতে এসেছেও বেশ কয়েকবার। আহির যেবার পাঁচ বছরের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে শেষবার এসেছিল এ বাড়িতে।'

আসলাম শেখ মনে করার চেষ্টা করে বললেন,

- ' তুমি শফিকের কথা বলছো?'

- ' হ্যাঁ ভাইজান তার কথাই বলছি।'

আসলাম শেখ ভ্রু কুঁচকে বললেন,

- ' হঠাৎ তার কথা বলছো কেনো?'

আজাদ শেখ মুখের খাবার শেষ করে বললেন,

- ' বলছি ভাইজান, ওর এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলে খুব নাম করা ডাক্তার বাইরের দেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে এসেছে। সেদিন আরুকে নিয়ে ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে তার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। আরুকে দেখেই নাকি ওর ছেলের জন্য পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। এইটুকু শোনা মাএই রুদ্ধর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। কটমটে দৃষ্টিতে আরুর দিকে চাইল। আরু রুদ্ধর এহন দোষ দেখে ঢোক গিলল। মনে মনে বলল,

- ' এখানে আমার কি দোষ, আমি কি বলেছে আমাকে আপনার ছেলের জন্য পছন্দ করুন, কিছু একটু হলেই আমার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাবে হুহ্। রুদ্ধর শক্ত চোয়াল থমথমে মুখ থেকে ইয়াজ মিটিমিটি হাসছে। রুদ্ধ হাত মুঠো করে ওভাবেই বসে রইল, পরের শব্দটুকু শোনার জন্য।

আজাদ শেখ আবারও বললেন,

- ' কথাটা অবশ্য আমাকে তখনই বলেনি পরে ফোন করে জানিয়েছে, তখনি আমি ওর ভুলটা শুধরে দিয়েছি আরু বিবাহিত জেনে বিষণ অবাক হয়েছে, ওকে দেখে বেচারা ধারণাই করতে পারেনি আরু বিবাহিত আবার দুই বাচ্চার মা।" বলেই তিনি শব্দ করে হাসলেন। বাড়ির সবাই হাসল যেন মজার কোনো কথা শুনেছে। তবে হাসতে পারল না শুধু রুদ্ধ তার কথাগুলো যেন তার মস্তিষ্কে চাপা দেয়া রাগগুলোকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। রুদ্ধ আবারও আরুর দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাল। আরু পড়েছে মহা জ্বালায় তাকে অবিবাহিত মনে হলে সে কি করতে পারে? সে কি চাই নাকি তাকে অবিবাহিত লাগুক? বরং সে সবসময় চাই তাকে যেন রুদ্ধর বউ বউ লাগে। তার এত সুন্দর সুন্দর মিষ্টি দুটো বাচ্চার মা মা লাগে।

মিতা বেগম বললেন,

- ' এই জন্যই তো বলি বেশি বেশি খেয়ে একটু মোটা তাজা হো দুই বাচ্চার মা হয়ে গিয়েছে এখনো নাকি বিয়ের প্রস্তাব আসে শোনা কথা।'

আরু মিনমিন করে বলল,

- ' এতে আমার কি দোষ আম্মু?'

আজাদ শেখ বললেন,

- ' ও তো আহিকে খুব ছোট বেলায় দেখেছে, আহি বর্তমানে অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছে শুনে ওর ছেলের জন্য আহির হাত চাইছে। আমিও ভাবলাম ছেলেটা প্রতিষ্ঠ আছে আহিরও বিয়ের বয়স হচ্ছে এখন আপনি কি বলেন ভাইজান?'

আহির নাম শুনা মাএই ইয়াজের খাওয়ার হাত থেমে গেল।মিটিমিটি হাসিটাও নিভে গেল। দু হাতমুঠো করে চেপে ধরল। রাগে চোখদুটো লাল হয়ে এল।চোখ - মুখ স্বাভাবিক করে রুদ্ধর দিকে তাকাল। রুদ্ধর দৃষ্টি ইয়াজের ওপরেই ছিল, রুদ্ধ তাকে চোখ দিয়ে আশস্ত করল। রুদ্ধর ইশারায় ইয়াজ কিছুটা শান্ত হলো। আহি এখনো তাজ্জব হয়ে বসে আসে, এভাবে বিয়ের কথা বাবা তুলতে পারে সে ভাবতে পারে নি। এর আগেও অনে প্রস্তাব এসেছে তবে মেয়ে ছোট দেখে আজাদ শেখ নিজেই তা নাকোচ করে দিয়েছেন তবে এই ব্যাপারটা ভিন্ন। তার মত আছে বলেই তিনি সবার সামনে কথাটা তুলেছেন।

আসলাম শেখ বললেন,

- ' ছেলের কথা শুনে তো ভালোই মনে হচ্ছে, তবে এভাবে তো আর বিয়ের ব্যাপারে হ্যাঁ বলে দেয়া যায় না, আগে ওদের আসতে বলো ছেলে ও তার পরিবার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে দেখি যদি ভালো মনে হয় তবেই এগোব।'

- ' ঠিক আছে ভাইজান তাহলে একটা দিন দেখে যেদিন বাড়িতে সবাই থাকবে সেদিনই ওদের আসতে বলি?'

আসলাম শেখ সম্মতি দিয়ে কিছু বলবে, তার আগেই রুদ্ধ বলল,

- ' এখনই না চাচ্চু তোমাদেরকে আমার কিছু বলার আছে।'

আজাদ শেখ বললেন,

- ' কি কথা আর সেই কথার সঙ্গে ওদের এই বাড়িতে এখনই না বলার সঙ্গে সম্পর্ক কি?'

- ' সম্পর্ক আছে চাচ্চু সেই জন্যই তো বলছি।'

আসলাম শেখ বললেন,

- ' এত না প্যাঁচিয়ে যেটা বলতে চাইছো, সেটা স্পষ্ট করেই বলো।'

- ' এখনই না বাবা, আজ এমনিতেই অনেক রাত হয়ে গিয়েছে যা বলার কাল সকালেই বলবো।'

আহির ছোট্ট মুখটা ভয়ে আরও চুপসে গিয়েছে, ভাইয়া কি তার ও ইয়াজের কথাটা বাড়িতে বলে দেবে? এরপর কি হবে?

***********

রুদ্ধ নিজের ঘরে বেডের এক কোণায় বসে রাগে ফুঁসছে। আরু ঘরে ঢুকেই রুদ্ধর চোখ - মুখ দেখে ভয়ে ঢোক গিলল। এবার সব রাগ নিশ্চয় তার ওপর দিয়েই যাবে। আরু আলমারি থেকে আরামদায়ক পোশাক নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল ফ্রেশ হতে। রুদ্ধ আরুর উপস্থিতি বুঝতে পেরেও সেদিকে তাকাইনি।

বাচ্চারা আসার পরেই রুদ্ধ বেড চেঞ্জ করেছে। আগে তারা ছিল দুটো মানুষ, অনায়াসেই তাদের জায়গা হয়ে যেত, তবে এখন আরও দুজন ছোট্ট ছোট্ট সদস্য এসেছে তাদের মাঝে। তারা দুই থেকে চার হয়েছে তাই এই পরিবর্তন। বাচ্চাদের মাঝখানে দিয়ে দু পাশে আরু ও রুদ্ধর বালিশ রাখা রয়েছে। সেটা থাকলেও রুদ্ধ নিজের জায়গায় কখনোই থাকে না। আরুকে না জড়িয়ে ধরে না ঘুমালে তার ঘুমই আসে না, ভোর বেলা সে নিজের জায়গায় গিয়ে বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে, এটায় তাদের রোজকার রাতের কাহিনী৷

আরু ওয়াশরুম থেকে বের হতেই রুদ্ধ সঙ্গে সঙ্গে তাকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল৷ আরুর বুকের ভেতরটা এখনো ধরফর করছে, রুদ্ধ হঠাৎ করে এরুপ আক্রমণ করে বসবে সে ভাবতে পারেনি৷ আরু আমতা আমতা করে বলল,

- ' কি করেছি?'

রুদ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

- ' কি হয়েছে জানিস না? তোর জন্য আজ কাল বাড়িতে বিয়ের প্রপোজাল আসছে, শুনে খুশি হয়েছিস নিশ্চয়?'

আরু অবাক হয়ে বলল,

- ' আমি খুশি হতে যাব কেনো? আমি তো বিবাহিত আমার এত সুন্দর সুন্দর দুটো কিউট গুলুমুলো বাচ্চা আছে।'

- ' তাহলে বাড়িতে তোর বিয়ের প্রস্তাব কেনো আসবে? তোকে দেখে মানুষ কেনো অবিবাহিত মনে করবে?

আরু মিনমিন করে বলল,

- ' সেটা আমি কিভাবে বলবো আমি তো তাদের বলিনি অবিবাহিত, এখন কি গলায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে ঘুরবো নাকি?'

- " প্রয়োজন হলে তাই করবি। ' আরু আড়ালে ভেংচি কাটল। রুদ্ধর কিছু একটা খেয়াল হতেই বলল,

- ' ওয়েট তোর হাতেই চুড়ি কোথায়? এন্ড আঙ্গুলে আমার দেয়া আংটিটাও তো নেই। নিজেই নিজেকে অবিবাহিত সাজিয়ে রাখলে সেখানে অন্যের দোষ কোথায়। ' বলেই সে নিজের জায়গায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। আরু কপাল চাঁপড়ে রুদ্ধর পাশে গিয়ে বসে তার হাত ধরে জোড় করে টেনে উঠাল। অবশ্য রুদ্ধ উঠতে চেয়েছে বলেই উঠাতে পেরেছে নয়তো তার মতো পুরুষের সঙ্গে আরু কখনোই পেরে উঠত না। আরু বাচ্চাদের দেখিয়ে বলল,

- ' আমার হাতের চুড়ি ও আংটিতে লেগে ওরা শুধু ব্যাথা পায় তাই এগুলো খুলে রেখেছি, নিজেকে অবিবাহিত সাজানোর জন্য খুলে রাখিনি। ' রুদ্ধ তৎক্ষণাত আরুর কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে বলল,

- ' বাইরে গেলে সবসময় এগুলো পড়ে থাকবি মনে থাকবে?'

- ' হুম।'

রুদ্ধ তাকে জড়িয়ে ধরেই বেডে শুয়ে পড়ল। আরু বাচ্চাদের দিকে ঘুরে শুয়েছে রুদ্ধ পেছন থেকে তাকে জাপটে ধরেছে।রুদ্ধ একটু উঁচু হয়ে বাচ্চাদের কপালে চুমু খেল, এরপর আরুর কপালে চুমু খেয়ে নিজের জায়গায় শুয়ে পড়ল। আরুও তার দেখা দেখি প্রথমে বাচ্চাদের কপালে চুমু খেল এরপর রুদ্ধর কপালে চুমু খেল। দুজনেই ঘুমানোর উদ্দেশ্যে চোখ বুঝল তবে রুদ্ধর ঘুম আসছে না সে আরুকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল আরুর বুকে মুখ গুজে দিল। সেখানে নাক ঘোষে চোখ বন্ধ করল।

- ' এটা কি হলো?'

রুদ্ধ আরও একটু গভীর ভাবে আরুকে জড়িয়ে ধরে বলল,

- ' এই ছোট্ট বুকটাই মাথা না রাখলে আমার ঘুম আসতেই চাই না, এই বুকের হৃদস্পন্দনের শব্দ শুনলে আমার সারা দিনের ক্লান্তি গুলো দূর হয়ে যায়। '

আরু হাসল। রুদ্ধর মাথাটা দু হাতে বুকে আগলে নিলে মাথায় গভীরভাবে ঠোঁট ছোঁয়াল।

*************

বাড়ির সকলেই একএে ড্রাইনিং রুমে উপস্থিত আছে। রুদ্ধ আজ সবাইকেই বাড়িতে থাকতে বলেছে। রুদ্র ও আদ্রিতাকে খেলনা দিয়ে বসিয়ে আরু খাবার খাইয়ে দিচ্ছে। দুজনেই খাচ্ছে কম দুষ্টুমি করছে বেশি। আসলাম শেখকে দাদ্দাহ বলে ডাকছে, এই ডাক শুনলেই তিনি একদম গলে যায় তিনিও আদুরে স্বরে কথা বলছে। আদ্রিতা মুখ থেকে খাবার বের করে ফেলে দিল আরু তা দেখে চোখ পাকিয়ে ধমক দিতেই মেয়েট ঠোঁট উল্টে বাবা কলে উঠে এসে বলল,

- ' মাম্মাহ্ বকেচে। '

- ' মাম্মামকে বকে দিব, এত বড় সাহস আমার মাকে কাঁদিয়েছে।'

আরু তাকে রুদ্ধর কোল থেকে নামাতে চাইলেই কেঁদে ফেলল। রুমা বেগম তাকে কোলে নিয়ে বলল,

- ' কাঁদাচ্ছিস কেনো আমার বোনটাকে, দে আমি খাইয়ে দিচ্ছি। '

আরু হাঁফ ছেড়ে রুদ্ধর পাশে বসল। মিতা বেগম সবাইকে চা দিলেন আরুও চা খেতে খেতে, আহির দিকে এক পলক তাকাল। মেয়েটা মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে। ভীষণ ভয় পাচ্ছে নিশ্চয়। সে একবার ইয়াজের দিকে দেখল ইয়াজ স্বাভাবিকই আছে। আরু বোনের আশে বসে তাকে ফিসফিসিয়ে কিছু বলতে লাগল।

রুদ্ধ গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,

- ' চাচ্চু ইয়াজকে তোমার কেমন লাগে?'

আহির ভেতর ধ্বক করে উঠল কথাটা শোনা মাএই। আজাস শেখ বললেন,

- ' কেমন লাগবে মানে ও আমার ছেলে এখানে এই প্রশ্ন আসছে কেনো?'

- ' আই মিন জামাই হিসেবে কেমন লাগবে তোমার?'

বাড়ির সবাই তাজ্জব হয়ে তাকাল রুদ্ধর দিকে। রুমা বেগম বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছিলেন তার খাওয়ানোর হাত থেমে গেল। আসলাম শেখ রেগে বললেন,

- ' কি বলছো মাথা ঠিক আছে তোমার?'

আজাদ শেখও কিছুটা অস্তুষ্ট গলায় বললেন,

- ' এসব কেমন কথা রুদ্ধ ইয়াজকে কেনো আমি জামাই হিসেবে ভাবতে যাব?'

ইয়াজ শান্ত স্বরে বলল,

- ' কেনো চাচ্চু আমাকে জামাই হিসেবে ভাবা যায় না? জামাই হিসেবে কি আমি খুব খারাপ হব?'

বাড়ির সবাই আবারও তব্দা খেল। আরু ও রুদ্ধর ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তবে আহি ও ইয়াজের ব্যাপারে এসব নিয়ে কেউ ভাবতেই পারেনি৷ দুজন তো সারাদিনই হয় ঝ*গড়া নাহয় মা*রামা*রি করত, এদের নিয়ে আদোও ভাবা সম্ভব?

চলবে?

( রিচেক দেয়নি, বানান ভুল থাকতে পারে পড়ে ঠিক করেদিব।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন