ফন্ট সাইজ:
থিম:
উন্মাদনা (Chapter-1)

৩৬তম পর্ব

লেখক: কায়নাত খান কবিতা

উন্মাদনা

1 পার্টঃ ৩৬

কায়নাত_খান_কবিতা

'পারমিশন চাই নাই বান্দী! যাবি মানে যাবি! তোরে মন খুলে দেখবো।”

“ মন খুলে কীভাবে দেখে?'

“ তো কাপড় খোলার কথা কী সবার সামনে বলমু? শরম লজ্জা নাই?”

‘’ এ্যা?”

অভীর কথা শুনেই ভয়ে কেঁপে ওঠে আনন্দী। বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসে তার। এতোগুলো দিন পর আবার কী সেই পুরোনো অভী ফিরে এসেছে? সেই নোং'রা , উন্মাদ বখাটে? যে মানুষটা হাসতে হাসতেই অন্যের জীবন এলোমেলো করে দিতে পারে?এই কয়দিন তো সে শান্ত ছিলো। অদ্ভুতভাবে শান্ত। তাহলে হঠাৎ আজ আবার এমন আচরণ কেন?আনন্দী ছটফট করতে করতে বলে ওঠে,

“অভী! নামান আমাকে!”

অভী তখন তাকে প্রায় কোলে তুলেই গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে থাকে । কথাটা শুনে নিচু গলায় বিরক্তির সুরে বলে,

“তোরে কোলে রাখতে এমনিতেই কষ্ট হয়। মুটকি একটা। খাওয়া কমা। একটু দয়া কর আমার উপ্রে।”

ওজন নিয়ে কথা শুনেই চোখ-মুখ শক্ত হয়ে যায় আনন্দীর। মেয়েদের বয়স আর ওজন। এই দুইটা জিনিস নিয়ে খোঁচা দিলে তারা মানুষ গিলে খেতে পারে। একদম অ্যানাকোন্ডার মতো।আনন্দী রাগে ফুঁসতে থাকে। কিন্তু কিছু করার আগেই অভী তাকে গাড়ির ভেতর বসিয়ে দেয়। তারপর নিজেও এসে পাশের সিটে বসে পড়ে। আনন্দী তাড়াতাড়ি করে জানালার পাশে সরে বসে। যেন দূরে থাকলেই নিরাপদ থাকবে।কিন্তু অভী সেদিকে তাকিয়েই ঠোঁট বাঁকায়। তারপর ইচ্ছে করেই আরও ঘেঁষে বসে।

“শুইতে পারছোস আমার লগে… আর গা ঘইষা বসলেই দোষ?”

আনন্দী ঘৃণাভরা চোখে তাকায় তার দিকে।

“আপনার মতো জানো’য়ারের সাথে কথা বলতেও রুচিতে বাঁধে।”

অভী হেসে ওঠে।

“আসো সোনা কাছে আসো… তোমারে রুচি ঝাল চানাচুর খাওয়ামু।”

কথা বলতে বলতেই সে আরও চেপে বসে আনন্দীর সাথে। ইচ্ছে করেই তাকে অস্বস্তিতে ফেলছিলো সে। তারপর সামনের দিকে তাকিয়ে ড্রাইভারকে বলে,

“দ্রূত নিয়া যা।”

গাড়ি ধীরে ধীরে শহরের ভিড় ছাড়িয়ে ফাঁকা রাস্তায় ঢুকে পড়ে। আর পুরো রাস্তা জুড়েই অভী একের পর এক কথা বলে, খোঁচা দেয়, বিরক্ত করে আনন্দীকে।আর আনন্দী?সে শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে বসে থাকে। ভেতরে ভেতরে ভয়টা আবার ধীরে ধীরে ফিরে আসতে থাকে তার!

গাড়িটা শেষমেশ গিয়ে থামে দিয়া বাড়ি থেকে অনেক দূরের এক নির্জন জায়গায়। চারপাশটা অদ্ভুত শান্ত। এমন শান্ত, যেটা মানুষের বুকের ভেতর অকারণে ভয় ধরিয়ে দেয়। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ভেসে আসতে থাকে টানা সুরে। রাতের বাতাসে কেমন কাঁচা ঘাসের গন্ধ। আকাশে আধখানা চাঁদ ঝুলে আছে, কিন্তু আলো এত কম যে চারপাশ শুধু আবছা দেখা যায়।অভী প্রথমে ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামে। তারপর এসে দরজা খুলে হাত বাড়িয়ে দেয় আনন্দীর দিকে। আনন্দী কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে সেই হাতের দিকে। বুকের ভেতর তখনও কেমন অস্বস্তি কাজ করছে। কারণ এই মানুষটার পাশে দাঁড়ালে সে কখনো বুঝতে পারে না।পরের মুহূর্তে অভী কী করবে।তবুও শেষমেশ নেমে পড়ে সে।

অভী কিছু বলে না। শুধু চুপচাপ তার হাতটা ধরে সামনে হাঁটতে শুরু করে। তার হাতের চাপটা শক্ত ছিলো, কিন্তু আজ অদ্ভুতভাবে রুক্ষ লাগছিলো না। যেন ভয় দেখানোর জন্য না, হারিয়ে যাওয়ার ভয় থেকে ধরে রেখেছে।একটু দূরে টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট্ট একটা জায়গা। বাইরে থেকে খুব সাধারণ। কিন্তু ভেতরে ঢুকতেই আনন্দীর পা থেমে যায়।

চারপাশে ছোট ছোট রঙিন বেলুন ঝুলছে। মাঝখানে একটা টেবিল। তার উপর কেক রাখা। পাশে ছুরি। কয়েকটা কোল্ড ড্রিংকস। আর কিছু ছোট্ট গিফট বক্স এলোমেলোভাবে সাজানো।

সবকিছু খুব নিখুঁত ছিল না। বরং কোথাও কোথাও এলোমেলো। কিন্তু সেই এলোমেলো ব্যাপারটার মাঝেই কেমন একটা আন্তরিকতা লুকিয়ে ছিল। যেন কেউ প্রথমবার চেষ্টা করেছে কাউকে খুশি করার।আনন্দী কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। তার মাথায় যেন কিছুই ঢুকছিল না।এই মানুষটাই তো তাকে ভয় দেখায়। অপমান করে। রাগায়। তাড়া করে বেড়ায়।তাহলে হঠাৎ এই আয়োজন কেন?অভী তাকে একদম মাঝখানে এনে দাঁড় করায়। তারপর নিজে কয়েক পা দূরে সরে যায়। আচমকা তাকে অস্থির লাগতে শুরু করে। এদিক-ওদিক পায়চারি করছে। কখনো মাথা চুলকাচ্ছে। কখনো ঠোঁট কামড়াচ্ছে। যেন পুরান ঢাকার সবচেয়ে ভয়ংকর ছেলেটা হঠাৎ করে একটা ছোট বাচ্চায় পরিণত হয়েছে।কীভাবে কথা শুরু করবে, সেটাই বুঝতে পারছিল না সে।কয়েক সেকেন্ড পর হঠাৎ থেমে যায় অভী।তারপর নিচু গলায় বলে ওঠে,

“তোরে আমি ভালোবাসি বোকাচন্দ্র…”

কথাটা শুনে আনন্দীর মনে হয় সময়টা যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেছে।সে শুধু তাকিয়ে থাকে অভীর দিকে।কারণ এই স্বীকারোক্তিটা তার কাছে অস্বাভাবিক। অবিশ্বাস্য। প্রায় অসম্ভব।যে মানুষটা এতদিন তার জীবনে ভয় হয়ে ছিলো, সেই মানুষ আজ ভালোবাসার কথা বলছে?কেন?কীভাবে?আনন্দী কিছু বলার আগেই অভী হঠাৎ এগিয়ে আসে। তারপর কোনো সুযোগ না দিয়েই তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।এতটাই শক্ত করে, যেন হাত ফসকে গেলেই আনন্দী হারিয়ে যাবে কোথাও।তার বুকের ভেতরের ধুকপুকানি স্পষ্ট টের পায় আনন্দী। আর অভীর গলাটাও তখন কাঁপছিল অদ্ভুতভাবে।যেন এই প্রথমবার সে সত্যি সত্যি ভয় পেয়েছে।কাউকে হারানোর ভয়।

“কী আছে তোর মাঝে আনন্দী? খাইতে গেলে তোরে দেখি… শুইতে গেলে তোরে দেখি… যেদিকে তাকাই, শুধু তুই আর তুই।এ কোন নেশায় ফেললি আমারে তুই আনন্দী…?”

আনন্দী কোনো উত্তর দেয় না।শুধু স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। চারপাশের বাতাসটাও যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠেছিলো। দূরে কোথাও রাতের ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ ভেসে আসছিল ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্তে আনন্দীর কানে শুধু অভীর গলার শব্দটাই বাজছিলো।এই মানুষটাকে সে বহু রূপে দেখেছে। উন্মাদ, বখাটে, নিষ্ঠুর, ভয়ংকর। কিন্তু আজকের অভীকে তার অচেনা লাগছে। কারণ তার চোখের ভেতর আজ অন্য কিছু ছিল। এমন এক অস্থিরতা, যেটা মানুষকে ধ্বংসও করতে পারে, আবার পাগলের মতো ভালোও বাসতে পারে।অভী ধীরে ধীরে আনন্দীকে আলগা করে। তারপর নিজের কপালটা ঠেকিয়ে দেয় তার কপালে। কয়েক সেকেন্ড শুধু তাকিয়েই থাকে।

সেই দৃষ্টিটা অদ্ভুত ছিল। যেন বহুদিন ধরে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা কোনো কথা আজ বের হওয়ার রাস্তা খুঁজছে।তারপর নিচু, ভারী গলায় বলে ওঠে,

“তুই আমাকে ভালোবাসবি তো?”

কথাটা শুনে আনন্দীর বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে।এই প্রশ্নটা অভীর মুখে মানায় না।এই মানুষটা

ভালোবাসার কথা বললে সেটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় না। বরং ভয় লাগে।কারণ অভীর ভালোবাসার মাঝেও একটা দখল করার ক্ষুধা আছে। যেন সে কাউকে ভালোবাসে না। নিজের করে রাখতে চায়।আনন্দী ধীরে ধীরে চোখ তোলে। তারপর আচমকাই দুহাতে অভীকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দেয়।

“আমি আপনাকে কোনোদিনও ভালোবাসবো না।আর আপনি…”

একটু থামে সে। বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়।

“আপনি আমাকে ভালোবাসতেই পারেন না।”

কথাটা শেষ হতেই অভীর মুখের পেশীগুলো শক্ত হয়ে ওঠে। চোখের ভেতরের নরম ভাবটা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। সেখানে জায়গা নেয় চেনা জেদ। চেনা আগুন।পরের মুহূর্তেই সে আবার এগিয়ে আসে।এক ঝটকায় আনন্দীর কোমর শক্ত করে চেপে ধরে নিজের দিকে টেনে নেয়। এতটাই শক্ত করে, যেন হাত ফসকে গেলে মানুষটা হারিয়ে যাবে।আনন্দী ব্যথায় কেঁপে ওঠে।অভী নিচু হয়ে তার মুখের একদম কাছে এসে দাঁত চেপে বলে,

“ভালোবাসি মানে ভালোবাসি। কথা শেষ।”

আনন্দী কষ্টে অভীর হাত সরানোর চেষ্টা করতে করতে বলে ওঠে।

“এটা প্রপোজাল… না-কি থ্রেট?”

অভীর ঠোঁট ধীরে ধীরে বাঁকা হয়ে ওঠে। চোখে ভয়ংকর শান্ত একটা হাসি ফুটে ওঠে।তারপর খুব আস্তে, কিন্তু স্পষ্ট গলায় বলে,

“তোর যেটা সুবিধা… ভাইবা নে।”

অভী আনন্দীর হাতটা ছেড়ে দিয়েছিল ঠিকই, এক মুহূর্তও দেরি না করে ছিটকে বেরিয়ে পড়ে সে।কিন্তু অভীও এমন সহজে হেরে যাওয়ার মানুষ না।হঠাৎই সে এগিয়ে গিয়ে আনন্দীর হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলে।তার চোখে তখন এক অদ্ভুত রাগ , কণ্ঠে যেন চাপা ঝড়

“ভালোবাসবি না?”

আনন্দী এক সেকেন্ডও না ভেবে, চোখ সরু করে বলে,

“নাহ!”

অভী আবার ও জিজ্ঞেস করে,

“আসলেই বাসবি না?’

“না মানে না!”

এই উত্তরটা যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিলো। অভীর ভ্রু কুঁচকে যায়। সে দাঁত চেপে, প্রায় নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে,

“খাড়া তুই আজকে!”

হঠাৎই সে আনন্দীর হাত ছেড়ে দেয়।আর ঠিক তখনই চোখ পড়ে যায় মাটিতে পড়ে থাকা একটা বড় ইটের টুকরোর ওপর। অভী সেটাই তুলে নেয়।আনন্দীর চোখ তখন গোল হয়ে যায়।

অভী ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগে, ইটটা হাতে নিয়ে, গম্ভীর মুখে বলে,

“খাড়া আজকে তুই মুটকি।”

এই কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দীর মাথায় আর কিছু কাজ করে না। পরের মুহূর্তেই সে দৌড় দেয়।মনে হলো পুরো ছাউনিটাই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।একদিকে বাতাস, অন্যদিকে নিজের ড্রেস। আর পেছনে অভীর গলা ভেসে আসছে,

“আমারে ভালো না বাইসা যাবি কই তুই মুটকি।খাড়া আজকে!”

আনন্দী হাঁপাতে হাঁপাতে চিৎকার করে ফিরতি জবাব দিয়ে বলে,

“মর'লেও বাসবো না!”

এই কথাটা যেন অভীর ইগোতে শেষ পেরেক।সে দাঁড়িয়ে থেকেই গম্ভীর স্বরে চেঁচাল,

“তুই বাসবি না! তোর বাপ বাসবো!”

আনন্দী তখন দৌড়াতে দৌড়াতে বুঝতেই পারল না।সে সোজা পালাচ্ছে না, বরং একটা গোলাকার জায়গার ভেতর চক্কর দিচ্ছে। ছাউনির চারপাশ ঘুরে, আবারও।ঠিক অভীর সামনেই এসে পড়েছে সে।ইটটা শক্ত করে হাতে ধরে দাঁড়িয়ে আছে অভী। চোখ দুটো অদ্ভুত স্থির। চারপাশে সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে, ছাউনির টিনে বাতাসের শব্দ পড়ছে টুপটাপ। আর সেই নিস্তব্ধতার মাঝখানে আনন্দীর বুকের ধুকপুক শব্দ যেন নিজেই শুনতে পাচ্ছে সে।অভী এক পা সামনে এগোয়।ইটটা এবার একটু উঁচু করে ধরে নিচু, ভারী গলায় বলে,

“সোনামনি… গার্লফ্রেন্ড হবা না আমার?”

আনন্দীর গলা শুকিয়ে আসে। সে কিছু বলতে পারে না। শুধু মাথা নাড়ে,অভীর ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা হাসি ফুটে ওঠে। কিন্তু সেই হাসিতে মায়ার চেয়ে বিপদই বেশি লাগে।সে ইটটা আঙুলে ঘুরিয়ে নিয়ে বলে।

“তাহলে বল… অভী আই লাভ ইউ।”

চারপাশ হঠাৎ আরও চুপ হয়ে যায়।আনন্দী স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখ বারবার ইটটার দিকে চলে যায়। মনে হতে থাকে লোকটা কী সত্যি পাগল? নাকি শুধু ভয় দেখাচ্ছে?অভী এবার আরও কাছে আসে।

“বলবি নাকি ?”

আনন্দী ঠোঁট ভিজিয়ে নেয় জিভ দিয়ে। তারপর খুব আস্তে, প্রায় কাঁপা গলায় বলে,

“অ… অভী আই লাভ ইউ…”

“এভাবে নয়! সুন্দর করে হেসে বলো সোনামনি।”

আনন্দীর মনে হতে থাকে। এই মুহূর্তে যদি মাটি ফেটে যেত তাহলে সে সোজা ভেতরে ঢুকে যেত। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার চোখে এমন এক জেদ, যেটা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।সে জোর করে ঠোঁটে হাসি টানে।চোখে ভয়, মুখে হাসি।

“অভী আই লাভ ইউ…”

অভী ধীরে ধীরে ইটটা মাটিতে ফেলে দেয়। ইট মাটিতে পড়ার শব্দ হতেই আনন্দীর বুকের ভেতরের জমে থাকা নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে। কিন্তু সে বুঝতে পারে না, স্বস্তি পাবে, নাকি আরও ভয় পাবে।কারণ অভী এবার ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। খুব কাছে।এতটাই কাছে যে আনন্দী তার গায়ের হালকা ঘ্রাণটাও টের পাবে সে।অভী পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিন অন করে। তারপর একদম স্বাভাবিক গলায় বলে,

“গালে চুম্মা দিবি। আমি ছবি তুলবো।”

“এ্যা?”

অভী ফোনটা তুলে ধরে, ভ্রু কুঁচকে বলে,

“এ্যা না… হ্যাঁ।”

তার গলার স্বরটা এমন, যেন না শব্দটার অস্তিত্বই নেই।আনন্দীর বুক আবার কেঁপে ওঠে। এই লোকটার রাগ সবচেয়ে ভয়ংকর না।সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, সে কখন সিরিয়াস আর কখন মজা করছে, সেটা বোঝা যায় না।অভী ইতিমধ্যে ক্যামেরা অন করে ফেলে।

একটার পর একটা ছবি উঠতে থাকে। আর আনন্দী দাঁড়িয়ে থাকে সম্পূর্ণ অসহায় মুখে, যেন নিজের জীবন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।শেষ ছবি তোলার পর অভী ফোনটা নামিয়ে কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে।তারপর খুব শান্ত গলায় বলে,

“হয়ছে। যা, বাড়ি যা।”

চলবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন