#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_4_(1)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
পরের দিন সকাল বেলা,
চৌধুরী বাড়িতে এক প্রকার রাজকীয় আয়োজন চলছে বাড়িতে বড় বউ আসছে বলে কথা_তাও প্রথমবার এর মতো পা রাখবে শশুর বাড়িতে। এমনিতে তারাই চট্টগ্রামে যেতেন শফিক রহমানের বাড়িতে মিরায়াকে দেখতে যদিও মিরায়ার এ ব্যপারে কোনো ধারণা নেই। সে জানতো রামিলা চৌধুরী তার বোন রোকেয়া বেগমের সাথে দেখা করতেই যেতেন।
সকালে রুদ্র বিছানা ছাড়তে বাধ্য হয় এক বিকট শব্দে। শব্দ টা ছিল ভ্যাকিউম ক্লিনার এর। রুদ্র বিরক্ত হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে সোজা নিচে নামলো। রুদ্র নিচে নেমে সম্পুর্ন বাড়ি পরিষ্কার করা দেখে আশ্চর্য হলো।
-"আম্মু ? আম্মু?"
রুদ্র তার মাকে ডাকতে শুরু করলে রামিলা চৌধুরী উত্তর করেন- " কি! কি হয়েছে টা কি চেঁচাচ্ছিস কেন?"
-"এসব কি চলছে? বাড়িতে কি কোনো মেহমান আসবে আজ?"
অতি আনন্দের সাথে রামিলা চৌধুরী বললেন- "হ্যাঁ।"
-"কে আসবে? যার জন্য এত আয়োজন?"
-"তোর ভাবি আসবে ঢাকায়। আর শোন তোকেই আনতে যেতে হবে। তাই আজ company তে যেতে হবে না। ফ্রেশ হয়ে রওনা দে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে মিরা আর সোরায়া কে নিয়ে আয়।"
রুদ্রর মাথায় হাত_
-"কিহ্! মিরা_মানে মিরা ভাবি আর সোরায়া! ঢাকায় আসবে কেন ওরা হঠাৎ?"
-"কেন আসবে মানে কি! বাড়ির বউ বাড়িতে আসবে না? আর মিরা মিরা করিস কেন ভাবি হয় তোর।"
-"উফ্ আম্মু! মিরা আর সোরা আমার অনেক ছোট তাই তো ছোট বোন ভেবে তুই করে বালি । আর আমার ভাইয়া মানে তোমার গুণধর বড় ছেলে যেই পেচ লাগিয়ে দেশ ছেড়েছে ভাবিকে কি ভাবি বলে সম্বোধন করা সাজে?"
-"মিরার সামনে বলা না গেলেও আমাদের সামনে তো বলবি নাকি। আর তোর ভাই আমার ছেলে না তোর বাপের ছেলে। ওই ঘাড়তেড়া আমার ছেলে না একদম আদর্শ বাপের আদর্শ ছেলে হইছে। আর এই দুজনের মাঝখানে আমি পরে গেছি।"
-"আচ্ছা আম্মু তুমি কি ভেবে দেখেছ মিরা এই বাড়িতে আসেছে ভাইয়া জানতে পারলে কি হবে। ও তো মিরার অস্তিত্বই সহ্য করতে পারে না।"
রুদ্রর কথা গুলো রায়হান চৌধুরী শুনে রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন-
"এটা ওর বাড়ি না, আমার বাড়ি। আমি ঠিক করবো কে থাকবে আর কে থাকবে না। ও বলার কে এই বাড়িতে কি হবে না হবে। মিরা আমার পুত্রবধূ আর এই সত্য যদি আমার আহাম্মক পুত্র না বুঝে ওকে এই বাড়িতে কখনো পা রাখতে হবে না তোর ভাইয়াকে বলে দিস।"
নিজের সব কথা বলে রায়হান চৌধুরী বাড়ি থেকে Chowdhury group of company- এর দিকে রওনা দেয়। রুদ্র আজ আর বাবার সাথে অফিসে যাচ্ছে না। তাকে এখন ভাইয়ের বউ, তার চেয়ে ৮-৯ বছরের ছোট ভাবি ও তার বোনকে আনতে যেতে হবে।
নাস্তা শেষে রুদ্র গাড়ি বের করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
________
আমেরিকায়~
এক নতুন সকাল। রায়ান যথারীতি তার শারীর চর্চা শেষে শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসে। আজ তার মুখে ছিল এক রহস্যময় হাসি। যেন মনে হচ্ছে খুব দ্রুত তার কোনো একটা চাওয়া পূরণ হবে।
রায়ান নিজের নাস্তা শেষ করে নিজের ল্যাপটপ এ বসে বাংলাদেশের বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইট দেখছিল নিজের কম্পানির জন্য । এমন সময় রায়ানের ম্যানেজার ম্যানেজার তাকে কল করেন। রায়ান ও কলটা রিসিভ করে স্বাভাবিক ভাবেই -
ম্যানেজার- "Good morning ,sir. "
রায়ান- "Good morning.. What's the matter?"
ম্যানেজার- "Actually sir, you were nominated for an award and the award show is happening this evening."
রায়ান- "Yeah, I was informed about it. I will go, inform them . Is there any other problem?"
ম্যানেজার- " But sir, one week ago you said not to have any official work today I had a plan. So, have you canceled that plan?"
রায়ানের কপালে হালকা চিন্তার রেখা পরে ম্যানেজারের কথা শুনে। নিজের ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে দেখে আজ তার একটা বাইক রেস এ যাওয়ার কথা।
বাইক রাইড করা রায়ানের একমাত্র শখ যেটা সে হাজারো কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও সর্বোপরি অগ্রাধিকার পায়। সে বরাবরই বাইক রাইড করতে পছন্দ করে। তার কাছে কাজের চাপ থেকে মুক্তি দিয়ে আনন্দ এনে দেওয়ার বিষয়টি কেবল বাইক রাইডিং । আর এখন যদি রেস এ সে না যায় তাহলে তার বাইকার হিসেবে গড়ে তোলা পরিচিতি নষ্ট হয়ে যাবে।
রায়ান খানিকটা বিরক্তি নিয়ে বসে রইল । পরবর্তীতে ভেবে ম্যানেজার কে উত্তর করে-
"These two plans are totally different and the timing too. So it doesn't matter. I can handle it. And listen don't wait for me , go to the award ceremony yourself I will be there in perfect time."
ম্যানেজার-"okay sir. See your there."
নিজেদের কথা শেষ হলে রায়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মেরে নিজের চুল সামান্য খামচে ধরে আওড়ালো-
"ধ্যাত তেরিকি! এত বড় বিজনেসম্যান হয়ে এত বড় প্রতিষ্ঠান চালিয়ে এই ধরনের ভুল কিভাবে করলাম।"
রায়ান তাও নিজেকে সান্ত্বনা দিতে আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেই নিজেকে বলল-
"আরে এই সব কিছুই না। You are the Rayan chowdhury. You can do everything."
এই বলে রায়ান বিকালের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আসলে বিকালে বাইক রেস আর তার পরপরই সন্ধ্যায় অফিসিয়াল প্রোগ্রাম। সে ভেবেছে একসাথে দুটোই সামলে নেবে যদিও চাইলেই সে প্রোগ্রামটা ক্যান্সেল করতে পারতো । কিন্তু রায়ান কখনো কথার খেলাপ করে না। যেহেতু কথা দিয়েছে সে যাবে তার মানে তাকে যেতেই হবে।
বিকালটা যেন ছিল অন্যরকম উত্তেজনায় ভরা। আকাশটা ঝলমলে নীল, সূর্যটা ঠিক মাথার ওপরে নয়, একপাশে হেলে পড়েছে—আলোটা এমনভাবে রাস্তায় পড়ছে, যেন রেসের ট্র্যাক নিজেই উঁকি দিচ্ছে রায়ানের পায়ের ছায়ায়।
রায়ান আয়নায় চোখ রাখল। মুখে একরাশ আত্মবিশ্বাস—চোখে আগুন। ধীরে ধীরে সে নিজের রাইডিং গিয়ার পরে নিল। কালো-লাল কম্বিনেশনের লেদার স্যুট, পিঠে তার সিগনেচার “R” সিম্বলটা জ্বলজ্বল করছে, ঠিক যেন আগুনের মতো জ্বলছে তার ইচ্ছেশক্তি। গ্লাভসগুলো পরার সময় সে একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসল—আজও একটা ইতিহাস লিখবে সে।
রেস ট্র্যাকে তখন থমথমে উত্তেজনা। হেলমেটটা পরে, রায়ান বাইকের কাছে এসে দাঁড়াল। সেটা ছিল একখানা কাস্টম ডিজাইন করা সুপারবাইক—“Shadow Beast”। ইঞ্জিন স্টার্ট হতেই এমন গর্জন তুলল, যেন বিজয়ের ঘোষণার আগে শেষ সুর বাজছে। সিগন্যাল লাইট একে একে লাল থেকে হলুদ, তারপর সবুজ হতেই, একযোগে আরো কয়েকটি সুপারবাইক গর্জে উঠল—গর্জন নয়, যেন যুদ্ধের দামামা।
রায়ানের শুরুটা ছিল হিসেব করে—গতি নয়, প্রথমে পর্যবেক্ষণ। ট্র্যাকে তার চারপাশে ছিল ৪ জন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ:
Carlos “The Hawk” – ডান পাশ থেকে স্টার্ট নিয়ে সে হঠাৎ স্ন্যাপ টার্ন করে লেন ব্লক করতে চায়।
Kenji “Blade Drift” – এক্সপার্ট ড্রিফটিং-এ, বাঁক নিতেই তার অস্ত্র।
Luca “Nitro Devil” – যেকোনো সময় গিয়ার শিফট করে হঠাৎ গতি বাড়াতে পটু।
Meera “Steel Nerve” – ঠাণ্ডা মাথার প্রতিযোগী, মেন্টাল গেম খেলতে ওস্তাদ।
প্রথম বড় বাঁক। Carlos তার বাইককে তীরের মতো ঠেলে দেয় রায়ানের সামনে—লক্ষ্য, তাকে চেপে ধরে গতির ভারসাম্য নষ্ট করা।
রায়ান ঠিক ওই সময়ে তার বিখ্যাত ট্রিক ব্যবহার করে – “Phantom Brake”।
🚨 সে হঠাৎই ব্রেক টিপে হালকা গতি কমায়, কিন্তু সামনের চাকার অ্যাঙ্গেল এমনভাবে ঘুরিয়ে নেয় যে বাইকটা একটা অদৃশ্য ছায়ার মতো পিছলে যায়—Carlos ভেবে বসে রায়ান তার পেছনে পড়ে গেছে। অথচ রায়ান পাশের লেন দিয়ে এমন নিখুঁতভাবে ঢুকে যায় যে Carlos টায়ার স্লিপ করে হারায় ব্যালান্স।
➡️ 1st প্রতিপক্ষ আউট!
Kenji তখন ডান বাঁক আসতেই একের পর এক ড্রিফট শুরু করে—সে চায় ট্র্যাকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিতে।
রায়ান জানে, শুধু গতি নয়, এ জায়গায় তাকে চাই ক্যালকুলেটেড অ্যাঙ্গেল + এয়ার প্রেসার কন্ট্রোল।
সে তার ট্রিক চালায় – “Scissor Lean”।
⚙️ বাইকটা দুইদিকে হেলে হেলে এমনভাবে কেটে যায় যে একে দেখে মনে হয় কেউ দু’টা কাঁচি চালাচ্ছে একসাথে! সে হ্যান্ডেলটা কাত করে এমন এক অ্যাঙ্গেলে ঘোরে, যেখানে বাইকটা কেবল ড্রিফট না, একইসাথে ট্র্যাকের গ্রিপ ধরে আগায়।
Kenji ভেবেছিল বাঁকে তার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থাকবে, কিন্তু রায়ানের কৌশলে সে পাশ কাটাতে না পেরে বাইরে ছিটকে পড়ে।
➡️ 2nd প্রতিপক্ষ আউট!
Luca তখন Nitro Boost চালিয়ে দানবের মতো গতিতে ছুটছে। রায়ান তখনো তার গতি ধরে রেখেছে কিন্তু শীর্ষ গিয়ারে যায়নি। ঠিক শেষ ২০ সেকেন্ডে সে চালায় তার গোপন অস্ত্র – “Shadow Surge”।
🔧 এটা এমন এক সিস্টেম যা তার বাইকের ইঞ্জিন ও গিয়ারিং সিকুয়েন্সে আচমকা পরিবর্তন আনে, এবং বাইকটাকে সাময়িকভাবে অতিপ্রাকৃত গতিতে ঠেলে দেয়। তবে এটা চালাতে হয় নিখুঁত টাইমিং-এ, নাহলে ইঞ্জিন ওভারহিট করে।
রায়ান সেটা করে নিখুঁতভাবে। সে Luca-কে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যায়, আর Meera?
Meera রায়ানের উপর মানসিক চাপ দিতে চায়, ক্রমাগত হর্ন আর সাইড সুইপ চালিয়ে তার মনোযোগ ভাঙতে চায়।
কিন্তু রায়ান তখন চলে যায় এক অন্য জগতে—সে বেছে নিল তার বিখ্যাত ট্রিকটা: “Gravity Slide”।
রায়ান হ্যান্ডেলটা হঠাৎ ডানে ঘুরিয়ে হেলমেটটা একপাশে কাত করল, বাইকটা মাটি ছুঁইছুঁই করে এমনভাবে বাঁক নিল যে মনে হচ্ছিল সে একসাথে উড়ছে আর পিছলে যাচ্ছে! একদম নিখুঁত ব্যালান্স আর টাইমিং—চোখের পলকে সে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ওভারটেক করে সামনে চলে এল।
ট্র্যাকে তখন একটাই আওয়াজ—"RAYAN! RAYAN!"
শেষ ৫ সেকেন্ডে, সে তার "Nitro Pulse" চালু করল—একটা সিক্রেট বুস্ট সিস্টেম। বাইকটা গর্জে উঠল, এবং সে এমন গতিতে ছুটে গেল, যেন সময়কেও ফেলে পেছনে!হেলমেটের ভেতর সে এক বিশেষ সাউন্ড মুড চালু করে, যেটা বাইরের আওয়াজ ব্লক করে দেয়। শুধু বাইকের ইঞ্জিন আর ট্র্যাকের কম্পন—সে তখন রেসের সাথে একীভূত।
শেষ মুহূর্তে, বাঁক, গতিবেগ, এবং ধৈর্য—এই তিনের নিখুঁত মিশ্রণে রায়ান ফিনিশ লাইনে পৌঁছে যায় 0.3 সেকেন্ড আগে।
সমস্ত প্রতিপক্ষ তখন থমকে যায়। চারদিক থেকে ক্যামেরা, চিৎকার, হাততালি। রায়ান ধীরে বাইক থামিয়ে হেলমেট খুলল—চুলগুলো বাতাসে উড়ছে, মুখে সেই আত্মবিশ্বাসী হাসি।
কিন্তু তার মুখে কোনো উল্লাস নেই—শুধু একটা মৃদু হাসি।
“এখনো অনেক বাকি। আমি রেস করি জেতার জন্য না... নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য।
চলবে....
4th part দুইটা অংশে করা হয়েছে এইটা 1st .. কেমন লাগলো বলবে কিন্তু।।☺️
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_4_(2)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
বাংলাদেশ ~
বিকেলের রোদে ঝিমিয়ে পড়া হাইওয়ে, বাতাসে ধুলার গন্ধ আর দূরে মেঘনার ঢেউ ভেসে আসছে। সেই নির্জন রাস্তায় একটামাত্র গাড়ি এগিয়ে চলেছে — গাঢ় নীল কালারের SUV, স্টাইলিশ কিন্তু নিচুস্বরে গর্জন করা এক যন্ত্র।
রুদ্র, স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে ডান কনুইটা জানালার বাইরের বাতাসে ছেড়ে দিয়েছে। চোখে সানগ্লাস, গলার কাছে শার্টের বোতাম খোলা — চেহারায় একটা ক্লান্তি, কিন্তু চোখে স্পষ্ট ফোকাস। গাড়ির মধ্যে বাজছে মৃদু লো-ফাই হিপহপ, উইন্ডশিল্ডে পড়া রোদের ছায়ায় গ্লাভবক্সের ওপরে ফেলে রাখা।
চারদিক একেবারে ফাঁকা — ধানক্ষেত পেরিয়ে গাড়িটা কখনও ওভারটেক করছে স্লো ট্রাক, কখনও পিছনে ফেলে দিচ্ছে পুরনো বাস। ডান পাশে চা দোকান, বাঁ পাশে রেললাইনের পাশ দিয়ে হেলে পড়া তালগাছ —
একা গাড়িতে রুদ্রর কিছুটা একঘেয়েমি হতে শুরু করেছিল তাই নিজেকে আবার সতেজ করতে মজার ছলে ছাড়া কাটতে শুরু করে-
“চলো না ঘুরে আসি চট্টগ্রাম,
হাতে সময় আছে, পকেটে কাম!
চা খাইবো দোকানে, বাঁশ খাইবো গরম…
রাস্তায় বাজাই গান, মনটা আমার নরম!” 🎤
তারপর একাই হেসে ফেলে —
“ওই, এই গান তো নিজের বানানো! ভাই আমি… একাই একটা ট্যালেন্ট! Missing my guitar too much.”
রায়ানের যেমন শখ বাইক রাইডিং এর তেমনি রুদ্রর শখের জিনিস হলো তার গিটার। ছোট্ট থেকে গিটার বাজানোতে সে খুবই ভালো। আগে একটা বেন্ড এর সাথে যুক্ত ছিল কিন্তু পরবর্তীতে বাবার সাথে পারিবারিক ব্যবসাতে তাকে মন দিতে হয়।
যেহেতু রায়ান বড় ছেলে হয়েও দেশে নেই , তার নিজের ব্যবসা আছে। তাই সে আপত্তি করে নি । এখন ব্যবসা সামলাতে ও রুদ্রর ভীষণ ভালো লাগে। আপন করে নিয়েছে। যার জন্য গিটার বাজানো এখন তার শখে পরিনত হয়েছে, তার শান্তির অংশ।
হঠাৎ গাড়ির ডান পাশে পাহাড় দেখা যায়। রুদ্র জানে, সে চট্টগ্রামের সীমানায় ঢুকে পড়েছে। গাড়ি থামায় না।
শেষগন্তব্য এখনও বেশ কিছু কিলোমিটার দূরে। মা-বাবার সাথে বেশ কয়েকবার রুদ্র চট্টগ্রামে এসেছে তাই গাড়ি চালিয়ে আস্তে তার কোনো অসুবিধা হয় নি।
অন্যদিকে, মিরায়া আর সোরায়া দুজন রেডি হয়ে আছে ঢাকা যাওয়ার জন্য। মিরায়া তার পায়ে রূপার নূপুর পরেছিল যেটা তার চাচা তাকে উপহার দিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য। মিরায়াকে নূপুর পরতে দেখে রোকেয়া বেগম খুশি মনে বললেন -
"বাহ্! আমার মিরা মা কে তো খুব মানিয়েছে নূপুর গুলো।"
মিরায়া মিষ্টি হেসে বলে-
"Thank you, চাচি। চাচার পছন্দ ভীষণ ভালো তাই সুন্দর লাগছে।"
রোকেয়া বেগম মিরায়াকে আরেকবার উপর নিচ চোখ বুলিয়ে দেখে বলে-
"মিরা তোর গলাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তোর জন্মদিনে তোকে যে সোনার চেইনটা দিয়েছিলাম সেটা পরেনে ভালো লাগবে।"
মিরায়া চাচির কথা শুনে যেন একটু ভয় পেল। সে উপরের দিকে চোখ টা ঘুরিয়ে কিছু একটা ভেবে নিয়ে চাচি কে বলতে যাবে এমন সময় সোরায়া এসে বলতে লাগলো-
"এই যে আপু তোর চেইন। আমি পরিয়ে দিচ্ছি। আসলে চাচি আমি ওর চেইনটা একবার পরেছিলাম আর দেওয়া হয়নি।"
এই বলে সোরায়া মিরায়াকে চেইনটা পরিয়ে দেয়। ওমনি চাচি তার নিজের গলার চেইনটা খুলে সোরায়াকে পরিয়ে দিয়ে বললেন -
"এই নে এখন তোর ও চেইন আছে আর মিরারটা নিতে হবে না।"
সোরায়া চাচির দিকে তাকিয়ে সরলতায় প্রশ্ন করে-
"চাচি তুমি আমাকে নিজের চেইন কেন দিচ্ছ আমার চাই না এইসব। আমি তো এমনেই মিরা আপুর থেকে নিয়ে পরেছিলাম।"
-"এটা আমার না তোরই তোর জিনিস তোকে দিলাম। এটা তোর চাচা তোর জন্যই এনেছিল। স্বর্ণ সামলাতে পারবি কি না চিন্তা করে তখন দেই নি ছোট ছিলিস তখন। এখন অনেক বড় হয়ে গেছে আমার ছোট বুড়ি টা।"
সোরায়া খুশিতে চাচি কে জড়িয়ে ধরে বললো-
"Thank you , চাচি। Love you."
সাথে সাথে মিরায়া ও জড়িয়ে ধরতে ধরতে বলল-
" এই এই আমাকে ছাড়া কোনো hug হবে না আমাকেও নেও।"
রোকেয়া বেগম দুজনকে জড়িয়ে ধরে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন-
" এখন রেডি হয়ে নিচে চলে আয় তোদের রুদ্র ভাইয়া এলো বলে।"
এই বলে রোকেয়া বেগম নিচে নেমে যায় । বাড়িটা মেয়ে দুটো চলে গেলে ফাঁকা হয়ে যাবে তাই রোকেয়া বেগমের আর শফিক রহমানের মনে একেবারে বিষন্ন। তবে এটাই যে প্রকৃতির নিয়ম- এক কূল গড়তে অন্য কূল ভাঙতে হয়।
রোকেয়া বেগমের প্রস্থানের পর মিরায়া সোরায়াকে জড়িয়ে ধরে বললো-
"বোনু রে, মহা বাঁচান বেঁচেছি আজ । তুমি চেইন টা আনলি কখন।"
-"চট্টগ্রাম ছাড়ছি । এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ দিয়েছ তা কি না করে ঘুম হবে আমার। তাই কাল ই এনেছিলাম । নাহলে কি আর সময় হতো বলো। আবার কবে না কবে আসা হবে এখানে।"
মিরায়া মুখে হাসি নিয়ে আবার জড়িয়ে ধরে বলে-
"Thanks রে বোনু। যা এইবার তোকে যা চাইবি দিবো।"
একটু পিছনে যাওয়া যাক।~
মিরায়া তখন নবম শ্রেণীতে পরতো। বাড়ন্ত বয়সে মিরায়ার খুব শখ তৈরি হয় সে ছেলেদের মতো বাইক চালাবে। তাই সে এলাকার এক ভাইয়ের কাছে স্কুল এর পর বাইক চালানো শিখতো। খুব কম সময়েই মিরায়া বাইক চালানো আয়ত্ত করতে পারে।
দশম শ্রেণীতে উঠার পর সে খুব ভালো বাইক চালানো শিখে গেলে। এসএসসি এর পর তার জন্মদিনে শফিক রহমান আর রোকেয়া বেগম মিরায়াকে ওর ভালো রেজাল্ট আর জন্মদিন উপলক্ষে একটা সোনার চেইন উপহার দেয়।
মিরায়া পরবর্তীতে বাইক রাইডিং আর প্রফেশনাল ভাবে বাইক রেস করার সম্পর্কে জানতে পেরে ঠিক করে সে নিজের বাইক কিনবে। তাই তার নিজের স্বর্ণের চেইটা বন্ধক রেখে বাইক কিনে। পরে বাইক রেস এর winning price money দিয়ে চেইটা ছাড়িয়ে নেবে।
বয়স কম হওয়ায় মিরায়া এখনো বড় বাইক রেসে অংশ নেয়নি। তবে সে চট্টগ্রামে আর কাছাকাছি অঞ্চলে অনেক বাইক রেসে অংশগ্রহণ করে জিতেছে। যে টাকা জমিয়ে মিরায়া তার চেইনটা ছাড়াতে সোরায়াকে দায়িত্ব দিয়েছিল।
মিরায়ার পারিবারিক স্বচ্ছলতা আছে তবে মিরায়ার এমন আবদার তারা মানলেও তাকে নিয়ে সব সময়ই দুশ্চিন্তায় থাকতো। তাই মিরায়ার বাইক রাইডিং করার বিষয়টি কেউ জানে না সোরায়া ছাড়া।
বর্তমান ~
দুই বোন হাঁসি মুখে নিচে নেমে আসার কিছু সময় পর রুদ্র ও রহমান বাড়ির সামনে নিজের গাড়ি নিয়ে পৌঁছায়। রুদ্র গাড়ি থেকে নেমেই রোকেয়া বেগম আর শফিক রহমানকে সালাম করে-
-"আসসালামুয়ালাইকুম খালামনি, আসসালামুয়ালাইকুম খালু। কেমন আছো তোমরা?"
রোকেয়া বেগম আর শফিক রহমান একসাথে -
"ওয়ালাইকুম আসসালাম, বাবা। আমরা ভালো আছি তুমি কেমন আছো?
রুদ্র-"আমি ভালো আছি।"
রোকেয়া- "দুলাভাই আর আপা ভালো আছে তো?"
রুদ্র- "হ্যাঁ, বাবা-মা ও ভালো আছে। এখন ওই দুই মহারানীদের আসতে বলো এখন রওনা না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।"
রুদ্রর কথা শেষ হতে না হতেই মিরায়া আর সোরায়া চেঁচিয়ে রুদ্র কে ডেকে উঠে- "রুদ্র ভাইয়া! এই যে আমরা চলে এসেছি।
বাড়ির দরজা পার করে রুদ্রর সামনাসামনি হয়-
" কেমন আছো ভাইয়?"
রুদ্- "ভালো আছি বোনুরা । তোরাও যে ভালো আছিস বুঝাই যাচ্ছে।"
রুদ্রর কথায় দুইবোন মুচকি হেঁসে। চাচা-চাচির থেকে বিদায় নিয়ে তারা রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্যে।
এরপর পথে পর পর আর সময়ের পর সময় যেতে থাকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ মিরায়া জানালার বাইরে নজর রেখে উপভোগ করছে সময় টুকু। এমন সময়-
রুদ্র - "মিরা? হঠাৎই চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় যাওয়ার কারণটা কি ?"
মিরায়া- "আমার স্বপ্নের জন্য রুদ্র ভাইয়া । আমার মনে হয় ঢাকাতেই আমার ভবিষ্যৎ অবধারিত।"
কথাটা রুদ্রকে এক প্রকার চিন্তায় ফেলে দেয়। সে মনে মনে ভাবতে থাকে মিরায়ার কথাতে তো কোনো ভুল নেই সত্যিই তো মিরায়ায ভবিষ্যৎ তো তার বড় ভাইয়ের সাথেই বাঁধা পরে আছে আর ঢাকাই তো ওর আসল বাড়ী।
তবে সে এসব কথা না মাথায় এনে সোরায়াকে উদ্দেশ্য করে জিগ্যেস করে-
"আর এই যে ছোট বোনু আপনার কি খবর? আপনি কেন ঢাকা যাচ্ছেন?"
সোরায়া রুদ্রের কথায় বিরক্ত হলো তবে বিরক্তি প্রকাশ না করে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল -
-" আরে রুদ্র ভাইয়া আমি তো যাচ্ছি আপুকে রক্ষা করতে, ও অনেক ভীতু তো তাই।
ওহ্! না , আমি যাচ্ছি তোমার অন্ন ধ্বংস করতে।
ওহ্! Sorry , আসলে আমি যাচ্ছি ঢাকার একটা বড়ো লোক , আর সুদর্শন পুরুষকে বিয়ে করতে।
আল্লাহ! আসলে এটাও না। আমি তো যাচ্ছি মজা করতে।"
সোরায়ার কথায় মিরায়া আর রুদ্র দুজনই শব্দ করে হেঁসে দেয়। রুদ্র হাসতে হাসতে আবার বলল-
"তোরা মেয়েরা আসলে যে কি চাস!"
রুদ্রর কথায় মিরায়া আর সোরায়া চোখাচোখি করে রুদ্রর কথার উত্তরে একসাথে গেয়ে উঠলো-
-"Shilpa sa figure, bebo se ada...
Bebo se adaaa...."
তিন জন এবার একসাথে হেসে উঠলো। আর গাড়ি যেতে থাকল চৌধুরী বাড়ির উদ্দেশ্যে।
চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছেই থামলো । বাড়ির বড় বউ কে ঘরে তুলতে রামিলা চৌধুরী মূল দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। মিরায়া রামিলা চৌধুরী কে দেখেই লাফিয়ে নামতে গাড়ি থেকে -
-"আসসালামুয়ালাইকুম মামনি । কেমন আছো? কত দিন পর দেখলাম তোমাকে আগের মতোই সুন্দরী আছো। কি মাখো গো?"
-"ওয়ালাইকুম আসসালাম মা। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তোকে দেখে আরো ভালো হয়ে গেছি তাই তো বেশি সুন্দর দেখাচ্ছে। তুই আমার সৌন্দর্যের কারণ।"
কথা গুলো রামিলা চৌধুরী মিরায়া কে বুকে জড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন। আর পিছন থেকে শোনা গেল সোরায়ার অভিমানী আওয়াজ -
-"বাহ্! বড় মেয়ে কে পেয়ে সবাই দেখি ছোট মেয়ে কে ভুলে যায়। বলি, আমাকে কি একটু আদর দেওয়া যাবে?"
রামিলা চৌধুরী সে দিকে তাকিয়ে সোরায়ার দিকে হাত বাড়িয়ে ওকেও ডেকে নেয়। পরে এক সাথে তারা চৌধুরী বাড়িতে প্রবেশ করে।
আর মিরায়া প্রথম বারের জন্য তার অজ্ঞাত শশুর বাড়ি দেখতে পেল। মিরায়া রীতিমতো অবাক চৌধুরী বাড়ি দেখে। বাড়ির প্রতিটি কণা যেন শৌখিনতার প্রতিচ্ছবি।
সবুজঘেরা এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে একটি মনোরম ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার প্রতিটি ইট যেন রুচির ছোঁয়ায় গড়া। বাড়িটির বাইরের দেওয়াল গাঢ় কালো আর সাদা রঙের সংমিশ্রণে আধুনিক নকশায় আঁকা, যা এক নজরে চোখে পড়ে। সামনে ছোট একটি লন—ঘাসে ঢাকা, ফুলে ফুলে ভরা। পাথরের পথ বেয়ে মূল দরজায় পৌঁছানো যায়, যেখানে ঝকঝকে কাঠের দরজা আর পাশে দুটি মার্বেলের ফলক আলাদা মাত্রা এনে দেয়।
বাড়ির ভেতরে পা রাখলেই চোখে পড়ে উন্মুক্ত একটি ড্রয়িংরুম, উঁচু ছাদে ঝুলছে একটি স্ফটিকের ঝাড়বাতি। মার্বেল পাথরের মেঝে, নান্দনিক কাঠের আসবাবপত্র, এবং মৃদু রঙের ওয়ালপেইন্ট পুরো ঘরে এক ধরনের শান্ত সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে। দেয়ালে ঝুলছে নির্বাচিত শিল্পীর আঁকা ছবি, আর বুকশেলফে সারি সারি বই—যেন প্রতিটি কোণেই মালিকের রুচি ও জ্ঞানের ছাপ।
বাড়ির পেছনে রয়েছে একটি ছোট উঠোন ও একটি ছিমছাম বাগান, যেখানে বসার জায়গা করা হয়েছে কাঠের টেবিল-চেয়ারে। দোতলায় উঠলেই চোখে পড়ে খোলা ব্যালকনি, যেখানে সকালের কফি কিংবা সন্ধ্যার গল্পের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। শোবার ঘরগুলো সাজানো হয়েছে পরিমিত আলোর ব্যবহারে—নরম আলো, পর্দার রঙ, বিছানার চাদর—সব কিছুতেই একধরনের প্রশান্তি মিশে আছে।
এই বাড়ি শুধু বসবাসের জন্য নয়, এটি একধরনের জীবনদর্শন—যেখানে বিলাসিতা নয়, বরং রুচি, নান্দনিকতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন ঘটেছে নিখুঁতভাবে।
মিরায়া চারপাশটা খুব ভালো করে দেখে নেয়-
"মামনি কি সুন্দর বাড়ি তোমাদের। একনজরে চোখে আটকে যাওয়ার মত সুন্দর।"
রামিলা চৌধুরী যেন মিরায়ার কথায় স্বস্তি পেলেন। মুখে প্রশান্তির হাসি নিয়ে তিনি বললেন-
"তোর পছন্দ হয়েছে মা?"
-"খুব পছন্দ হয়েছে। কিন্তু এভাবে জিগ্যেস করছো কেন মামনি? মনে হচ্ছে মনে হচ্ছে আমার থেকে কনফার্মেশন নিচ্ছো আমার বাড়ি ভালো লাগেছে কি না।"
মিরায়ার কথায় রামিলা কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন। তারপর মিরায়া আর সোরায়া কে তাদের রুম গুলো দেখিয়ে দেন। মিরায়া তার রুমের ভিতরে যাওয়ার সময় তার রুমের পাশের একটা রুমের দরজায় তালা দেখে জিজ্ঞেস করে-
"মামনি এই রুমটা কার? এখানে তারা কেন?"
মিরায়ার প্রশ্নে রামিলা চৌধুরী রায়ানের তালা ঝুলতে থাকা রুমের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন-
"এটা আমার বড়ো ছেলে রায়ানের রুম। ও আমেরিকায় থাকে তাই ওর রুমটা এখন বন্ধ।"
মিরায়া স্বাভাবিক ভাবেই নেয় উত্তরটা। তার পরই মিরায়ার চোখ যায় দেয়ালে থাকা রায়ানের ১৭বছরের একটা ছবিতে- যেমন সুন্দর হাস্যোজ্জ্বল, তেমন মায়া ভরা মুখ ছবিতে
-"মামনি এটাই বুঝি রায়ান ভাইয়া? ভাইয়া সেই দেখতে তো। এখন মনে হয় আরো সুন্দর দেখতে তাই না।"
মিরায়ার মুখে রায়ানকে ভাইয়া সম্বোধন করা দেখে মুচকি হেঁসে তিনি মনে মনে বলেন-
"বোকা মেয়ে, স্বামীকে ভাইয়া বলে না রে।"
-"ও মামনি কি চিন্তা করো?"
চিন্তার অবসান ঘটিয়ে রামিলা চৌধুরী মজার ছলে বলেন-
-"কিছু না। হ্যাঁ, অনেক handsome আমার ছেলে। দেশে ফিরলে দেখতে পাবি। তোকে দিয়ে দেব ও এলে। এবার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।"
মিরায়া রামিলা চৌধুরীর কথা মজা ভেবেই উড়িয়ে দিয়ে রুমে ঢুকে গেল আর কথা বাড়ালো না।
_______
আমেরিকা~
চলবে.....
কেমন লাগলো এই পার্ট। আপনারা যারা গল্পটা পরছেন তাদের কে অনেক ধন্যবাদ। আর যারা আমার লিখাকে ভালো বলছেন পছন্দ করেছেন তাদের জন্য ভালোবাসা।
আমি সবার comment ই পরি । আমার ভালো লাগে। যারা পরেন গল্প টা অবশ্যই নিজের মতামত জানাবেন। আমার ভালো লাগবে।☺️