#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_9(1st)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
এরপর মিরায়া রায়ানের পিছনে পিছনে বার হয়ে যায় বাড়ি থেকে।
সকালটা ছিল একেবারে অন্যরকম। হালকা রোদ উঠেছে, কিন্তু রোদের মধ্যে যেন একরকম সোনালি কোমলতা ছড়িয়ে আছে। গাছের পাতাগুলো হালকা বাতাসে দুলছে, ভেজা মাটির গন্ধে ভরে গেছে চারপাশ। শহরের কোলাহল এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি—তাই চৌধুরী মেনশনের আঙিনাটা যেন আরও শান্ত, আরও সুন্দর লাগছিল।
রায়ান গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে পার্কিং লটে এগিয়ে গেল। গাড়িটা যেন সকালবেলার আলোয় ঝলমল করছে। সে ইঞ্জিন স্টার্ট দিল, গাড়ির হালকা শব্দ চারদিকের নীরবতা ভেঙে দিল।
ঠিক তখনই মিরায়াও বের হলো। হাতে ব্যাগ, মুখে সকালবেলার সতেজতা। তবে চোখে মুখে হালকা একরকম অস্থিরতা কাজ করছে—আজ তার ঢাবিতে ভর্তি হতে যাওয়ার দিন। সে চুপচাপ রায়ানের পেছন পেছন হাঁটলো, কিন্তু রায়ানকে ডাকলো না। গিয়ে মূল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।
রায়ান গাড়ি নিয়ে আস্তে আস্তে মেনশনের গেটের সামনে এসে দাঁড়াল। গাড়িটা মিরায়ার একেবারে সামনে থামাল। ভেতরে বসা রায়ান এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলো মিরায়ার দিকে, চোখে একরকম অদ্ভুত তৃপ্তি ঝিলিক খেল। তার শখের নারীর সাথে প্রথমবার বের হচ্ছে বলে কথা। তারপর গাড়ি থেকে নেমে এলো।
সে একেবারে হেঁটে গিয়ে গাড়ির সামনের সিটের দরজাটা নিজে হাতে খুলে দিল। একটু দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল—
— “এই যে মিস ঢাবি, এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন, ম্যাডাম? এই সিটটা আপনার জন্যই রিজার্ভড।”
কিন্তু এর আগেই মিরায়া যেন দ্রুততা দেখিয়ে পিছনের সিটের দরজা খুলতে চেষ্টা করছিল। যেন কোনভাবেই রায়ানের পাশেই বসতে হবে এমনটা না হয়।
রায়ান ঠোঁটে চাপা এক চিলতে হাসি আনল। তার চোখে-মুখে ফুটে উঠলো অদ্ভুত মজা—যেন বুঝে ফেলেছে, মেয়েটা যতই নিজেকে দূরে রাখতে চাক, সে শেষমেষ তার কাছেই এসে ধরা পড়বে।
রায়ান গাড়ির দরজা খুলে এক চিলতে হাসি দিল,
— “ও হ্যালো! কী করছো? আমি দরজা খুলে দিয়েছি দেখছো না বুঝি। পিছনের সিটের দরজা কেন টানছো?”
মিরায়া একটু অপ্রস্তুত মুখে জবাব দিল, গলাটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে—
— “না মানে... আমি সামনে আপনার সাথে বসবো? আপনার সমস্যা হবে হয়তো তাই...। আপনার এত কষ্ট করার দরকার নেই।”
রায়ান চোখ কুঁচকে মজার ও সম্ভবত একটু গম্ভীরতার ভঙ্গিতে তাকাল।
— “ওহ! তাই নাকি? তুমি কি আমায় ড্রাইভার ভেবেছো নাকি? মানে তুমি পিছনের সিটে বসবে আর আমি হ্যান্ডসাম ড্রাইভারের মতো সামনে বসে তোমায় নামিয়ে দিব? বাহ্, বেশ আইডিয়া। এই মেয়ে, এত বেশি বুঝো কেন? আমি তোমাকে বলেছি আমার সমস্যা হবে ?”
মিরায়া হালকা বিরক্ত হয়ে ঠোঁট কামড়ালো।
— “না ভাইয়া ।?”
মিরায়া এবার একদম চুপ হয়ে গেল। জবাব দিতে চাইলেও কিছু বলতে পারলো না। বাধ্য হয়ে ধীরে ধীরে সামনের সিটের দিকে এগিয়ে গেল।
রায়ান আবার বউয়ের মুখে ভাইয়া শুনে রাগে তেতে উঠল।
রায়ান দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মিরায়া যখন সামনের সিটে বসে এমন সময় রাগে তার দুই হাত মিরায়ার দুই দিকে দিয়ে পালানোর পথ বন্ধ করে খুব জোরে শব্দ করে বলল,
"ওই কোন জন্মের ভাই লাগি তোর হ্যাঁ? আমার বাবা মা আর তোর বাবা মা কি এক যে ভাই ডাকছিস আমাকে? আর একবার ভাই বললে..।"
রায়ান নিজের কথা শেষ করল না। অপর দিকে মিরায়া সম্পূর্ণ অবাক যে রায়ান ভাইয়া বলাতে তাকে তুই করে সম্বোধন করল। তবে সে তো রায়ানের ছোট রুদ্র ও তো তাকে তুইই বলে তাই ওই দিকে আর মনোযোগ না দিয়ে রায়ানের প্রশ্নের উত্তর দেয় -
"তা সত্য। তবে ভাইয়া আমি তো আপনার ছোট আর রুদ্র ভাইয়াকে ও আমি ভাইয়া বলি আপনি তার বড় ভাই তাই আপনাকে ও ভাইয়া বলেছি।"
রায়ান একটু গলা উঁচিয়ে বলল-
"দুনিয়ার সব তোর ভাই একমাত্র আমি ছাড়া বুঝেছিস? আমাকে আর ভাইয়া ডাকবি না। চাইলে অন্য কিছু ডাকবি।"
মিরায়ার তখন তার অজান্তেই শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি পেল প্রথমবারের মতো কোন পুরুষ এত কাছে এসেছে তাও এত সুদর্শন। মিরায়া দৃঢ় চেতা হয়ে নিজেকে সামলে মৃদু আওয়াজ যে মাথা নিচু করে বলল-
মিরায়া- "ভাইয়া কেন ডাকা যাবে না রায়ান ভাইয়া? আর অন্যকিছুই বা আমি কি ডাকবো আপনাকে?"
রায়ান মিরায়ার মুখের দিকে একটু ঝুঁকে ঠোঁটে রহস্যময় হাসি নিয়ে বলল-
"শোন আমার হৃদপাখি, আমার 'ভাই' শব্দতে এলার্জি আছে তাই ভাইয়া ডাক নিতে পারছি না। আর খুব অস্বাভাবিক ভাবে আমার এই এলার্জি টা কেবল তোমার ক্ষেত্রেই কাজ করছে।"
রায়ান কিছু সময় নিয়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে ভেবে আবার বলল-
"আআমম্! এক কাজ করো হৃদপাখি তুমি বরং আমাকে 'ভাইজান' বলে ডাকো, যেহেতু তোমার ভাই ডাকার খুব ইচ্ছে। তবে ওই যে বললাম আমার এলার্জি আছে, তাই ভাই বাদে শুধু 'জান' ডাকতে পারো।"
মিরায়া এবার যেন আশ্চর্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেল মনে মনে ভাবলো- রায়ান কি তার সাথে মজা করছে না সিরিয়াসলি ফ্লার্ট করছে। সে বড় বড় চোখ করে রায়ানের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুই বলতে পারল না। মুখে যে সব শব্দরা চুপ হয়ে গেছে। তার সামান্য লজ্জা ও করছে যার কারণে শুভ্র সাদা গাল দুটো রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।
রায়ান মিরায়াকে এমন অস্বস্তিকর ভাবে লজ্জা পেতে দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। পরক্ষণেই মিরায়ার টোল পড়া ডান গালটা আলতো হাতে টিপে দিল।
মিরায়া রায়ানের স্পর্শে মৃদু কেঁপে উঠল। প্রথম ছোঁয়া যেন রন্ধ্রে রন্ধ্রে দোলা দিয়ে গেল দুজনে মনেই।
রায়ান মিরায়ার পথ ছেড়ে গাড়ির ছাদে নিজের হাত রেখে মিরায়াকে জায়গা করে দেয় গাড়ির ভেতরে গিয়ে বসার
জন্য ।
মিরায়া হতভম্ব হয়ে বাধ্য হয়ে সামনের সিটে বসতে গেল।
সে ভেতরে ঢুকতেই রায়ান হাত বাড়িয়ে গাড়ির ছাদের দিকে ইশারা করল,
— “সাবধানে, মাথা লাগাবে না। তোমার এই মাথাটা কিন্তু আমার জন্য ভীষণ দামি… মানে, খুব প্রিয়।”
মিরায়া একবার চোখ পাকিয়ে চুপচাপ বসে গেল।
রায়ান হাসিমুখে দরজা বন্ধ করতে করতে ফিসফিস করে বলল,
— “এই তো, ঠিক জায়গায় বসেছো। তোমার আসন কখনোই পেছনে না, সবসময় আমার পাশে, বেইবি।”
মিরায়া গাড়িতে উঠে বসে। আর রায়ান ও গাড়ি অপর পাশে গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে। স্ত্রীর পাশে বসে রায়ানের খুব সতেজ লাগছিল নিজেকে।
মিরায়া গাড়িতে উঠে চুপচাপ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। কিন্তু সিটবেল্ট পড়ার নামই করল না। রায়ান কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে হালকা মুচকি হাসল।
— “ম্যাডাম, সিট বেল্টটা পড়বেন না? নাকি আমার উপরই ভরসা করে বসে আছেন?”
মিরায়া চমকে তাকাল,
— “ওহ্… আমি খেয়ালই করিনি।”
কথা শেষ হবার আগেই রায়ান হেলান দিয়ে তার দিকে ঝুঁকে এল। একেবারে খুব কাছাকাছি চলে আসতেই মিরায়ার নিঃশ্বাস আটকে গেল। রায়ানের পারফিউমের তীব্র গন্ধে হঠাৎ যেন বুকের ভেতর ঢেউ তুলল।
— “চুপচাপ থাকো… আমি পরিয়ে দিচ্ছি।” রায়ানের গলাটা অদ্ভুত গভীর আর নেশাক্ত শোনাল।
মিরায়ার বুক কেঁপে উঠল।
— “আপনি বসুন, আপনাকে কষ্ট করতে হবে না… দরকার নেই, আমি নিজেই—”
কথাটা শেষ করার আগেই রায়ানের আঙুল তার গলার কাছে ছুঁয়ে গেল। ধীরে ধীরে সিটবেল্ট টেনে এনে কাঁধের উপর দিয়ে বেঁধে দিল। প্রতিটা নড়াচড়ায় যেন ইচ্ছে করে বেশি সময় নিচ্ছে। সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে মিরায়াকে একটু ছুঁয়ে দেখতে।
রায়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— “শোন হৃদপাখি আমি ছাড়া এই সিট বেল্ট লাগানোর অধিকার কেউ যেন না পায়। আর এইটা কষ্ট না । ইটস মাই প্রিভিলেজ।”
মিরায়া হকচকিয়ে চোখ নামিয়ে ফেলল, তার গাল লাল হয়ে উঠছে।
— “আপনি অনেক বেশি কথা বলেন…”
রায়ান মৃদু হেসে আরও কাছে ঝুঁকল, তার চোখে দুষ্টু ঝিলিক,
— “তুমি না চাইলে চুপ থাকব… তবে মনে রেখো, তখন মুখে কথা না হলেও , অন্য ভাবে ঠিকই হবে।”
সিট বেল্ট লক করতে ক্লিকের শব্দ হতেই মুহূর্তটা ভেঙে গেল। কিন্তু দুজনের চোখে চোখ আটকে রইল কয়েক সেকেন্ডের জন্য।
রায়ান আসনে ফিরে বসতে বসতে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— “হুঁ… এখন নিশ্চিন্তে বসো। তোমার সেফটি আমার হাতে।”
মিরা বিরক্ত গলায় বলল,
—"এতো অভিনয় না করলেই পারতেন।”
রায়ান গম্ভীর ভান করে বলল,
— “অভিনয় না, এটা দায়িত্ব… তবে স্বীকার করছি, এই দায়িত্বটা আমি ভীষণ এঞ্জয় করব ।”
মিরায়া কেবল শুনেই যাচ্ছে তার মুখে কোনো কথা নেই সব যেন গোলার মাঝে এসে জমাট বেঁধেছে।
রায়ান পরবর্তীতে নিজের সিটে বেল্ট লাগিয়ে গাড়ি চালাতে থাকে।
______
চৌধুরী বাড়িতে -
সোরায়া ঘুম থেকে উঠেই রেডি হয়ে নিচে নামে নাস্তার জন্য। ঢাকায় এসে সে নতুন নতুন কলেজে ভর্তি হয়েছে । কিছু দিন গিয়ে কলেজকে বেশ আপন করে নিয়েছে সে-ই সাথে তার নতুন কিছু বন্ধুও হয়েছে। নাস্তা শেষ করেই সোরায়া তার কলেজের রাস্তায় রোওনা দেয়।
দুপুরের ব্যস্ত রাস্তাটা তখন ভিড়ভাট্টায় ভরে উঠেছে। চারপাশে মানুষজন চলাফেরা করছে, গাড়ির হর্ণে কান ঝালাপালা, মাঝখানে হঠাৎ করেই তিনজন দুষ্কৃতিকারী এক অসহায় দম্পতিকে নির্দয়ভাবে ধাক্কা দিচ্ছিল।
ঠিক সেই সময়েই মাহির এগিয়ে এলো।
মাহিরের চোখে একরকম দৃঢ়তা—যেন অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানো তার জন্মগত স্বভাব। সে হাত বাড়িয়ে বৃদ্ধ মানুষটিকে আড়াল করলো, আর মুহূর্তের মধ্যে তার মুঠিবদ্ধ মুঠি তিনজনকে সামলাতে লাগলো।
যাওয়ার পথে হঠাৎ জ্যামে পরে সোরায়া । সামনে কিসের যেন হট্টগোল চলছে রাস্তায়। সে বিরক্ত হয়ে রিক্সা থেকে নেমে সামনের দিকে যায় কি হয়েছে তা দেখতে।
ভীর ঠেলে সোরায়া একটু সামনে এগোতেই দেখতে পেল একজন ছেলে কিছু বখাটে লোকের সাথে মারামারি করছে।
সোরায়া কৌতুহলে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করে-
"রাস্তার মাঝে এরা এমন মারামারি কেন করছে যানেন আংকেল?
উত্তরে - "আরে আর বোলো না মা। যা দিন কাল পরেছে। ওইযে ঐ ছেলেটাকে দেখছো যে মারছে লোক গুলো কে ওই ছেলেটা ভালো মানবতার খাতিরে এই দম্পতির সাহায্য করতে এগিয়ে গেছে আর এখন নিজেই ঝামেলায় জড়িয়ে পরলো।
লোকটা মারামারি করতে থাকা মাহির আর এক দুঃস্থ দম্পতির দিকে নির্দেশ করে কথা গুলো বললেন।
সোরায়া- "এটা কেমন সাহায্য হলো। এমন মারামারি করে কি সাহায্য হয়? উনি ভালো হলো কিভাবে?"
লোক-" আরে মা এই দম্পতি নতুন ঢাকায় এসেছেন চিকিৎসার জন্য। আর এই শয়তান লোক গুলো তাদের ভয় দেখিয়ে তাদের থেকে টাকা নিয়ে চাওয়ায় এই ছেলেটা এসে প্রতিবাদ করে । আর ওই বদমাশ গুলো একসাথে হামলে পরে ওর উপর। তবে দেখো সে নিজেই একসাথে তিন জন কে রায় পেটার পেটাচ্ছে। "
লোকটার মুখে সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা শুনে সোরায়া মুগ্ধ হয়ে একবার তাকায় মাহিরের দিকে। হঠাৎই যেন চোখ গুলো অবোধ হয়ে আসলো সে কোনো ভাবেই সরাতে পারছে না আর না পলক পরছে।
"মাহির আজ সাধারণ একটা কালো ফিট শার্ট পরেছিল, হাতা গুটিয়ে রেখেছিল কনুই পর্যন্ত। শক্তপোক্ত বাহুগুলো যেন আলাদা করে দৃশ্যমান হচ্ছিল।
প্রতিটি ঘুষিতে তার বাহুর পেশিগুলো টানটান হয়ে উঠছিল—দৃশ্যটা যেন সিনেমার হিরোর মতো। কালো পেন্টের সঙ্গে তার লম্বা দেহটা একদম নিখুঁতভাবে ফুটে উঠছিল।
ঘামে ভিজে তার কপালে পড়ে থাকা কিছু চুল চোখে এসে পড়েছিল, আর সেগুলো সরে যেতে দিতে না দিয়ে সে বারবার মাথা ঝাঁকাচ্ছিল।"
সেই মুহূর্তগুলোতে সোরায়ার মনে হচ্ছিল—“এমন অস্বাভাবিক নজর কাড়া কেউ হতে পারে!”
লোকগুলো পালিয়ে গেল কিছুক্ষণের মধ্যে। মাহির নিঃশ্বাস ফেললো গভীরভাবে, তারপর অসহায় দম্পতিকে দাঁড় করিয়ে তার হাতে টাকা তুলে দিলো।
সেই দৃশ্যে সোরায়া বুকের ভেতর যেন কাঁপন ধরলো।
তার চোখে মাহির শুধু একজন সাধারণ ছেলে নয়, বরং যেন এক অবলম্বন—
তার চোখে দারুণ দৃঢ়তা, ঠোঁটে হালকা রাগের রেখা, আর শরীরের প্রতিটি মুভমেন্টে একরকম অদ্ভুত পুরুষালি সৌন্দর্য।
সোরায়ার বুকের ভেতর থেকে নিঃশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হলো—
“মানুষটা যেমন সাহসী, তেমনই সুদর্শন...”
নিজের বুকের বাম পাশে হাত রেখে বলল-
"আহ্ হা! হালকা করে ক্রাস খেয়ে গেলাম।"
_________
রায়ান নির্বিকার চিত্তে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে আর পাশে মিরায়া একদম চুপচাপ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। মিরায়ার নীরবতা রায়ানের মনে ঝড় তুলছিল।
তার মনে হচ্ছিল আর একটু সময় মিরায়ার নীরবতা স্থায়ীত্ব পেলে সে অআর নিজেকে আটকাতে পারবে না স্বামীর অধিকার ফলানো থেকে।
তাই রায়ান উপায়ান্তর খুঁজে না পেয়ে নিজেই বলে উঠলো-
"কি সমস্যা ? কিছু বলছো না কেন?"
রায়ানের হঠাৎ প্রশ্নে মিরায়া চমকিত হয়ে রায়ানের পানে তাকিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে-
"জ্বি? কি বলবো?"
রায়ান-"যা ইচ্ছা করে তোমার বলতে। তুমি বললে আমি সব শুনতে রাজি। Just like an obedient boy."
মিরায়া রায়ানের আগা মাথা না বুঝে শুধু কথা এড়ানোর প্রশ্ন করলো-
-"গাড়ি টা কি আপনার ? ”
রায়ান-"তুমি কি গাড়ির মালিকানা নিয়ে জিজ্ঞেস করলে?"
মিরায়া-"জ্বি।"
রায়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
— “হ্যাঁ, এটা আমার জীবনের প্রথম কার যা আমি বাংলাদেশে কিনেছি আর এই একই রকম একটা আমেরিকায় আছে। গাড়ির মালিকানা বাদে গাড়ির মালিকের বউয়ের ও মালিক।”
চোখ টিপ দিয়ে বিরবির করে যোগ করল-
“মানে, তোমার মালিক।”
মিরায়া হকচকিয়ে গেল, চোখ বড় বড় করে তাকাল।
— “কি ? ভাইয়া আপনি কি বিবাহিত নাকি?”
কথা শেষ হওয়ার আগেই রায়ান ঠোঁট কামড়ে বিরক্ত মুখে বলল,
— “আহা! আবার ভাইয়া? ভাইয়া ডাকলে মনে হয় বয়স ত্রিশ বছর বেড়ে গেলো। তোমাকে না বললাম হৃদপাখি আমাকে 'ভাইজান' এর ভাই বাদে শুধু জানি ডাকতে? ডাকটা কত ছোট যেন কানে মধু ঝরে। উফ্।”
মিরা বিরক্ত হয়ে গজগজ করল,
— “আমি এসব অদ্ভুত নামে ডাকব না।”
রায়ান মজার ভঙ্গিতে ঝুঁকে মাথা একটু নিচু করে সিটের গায়ে হাত রেখে বলল,
— “আচ্ছা তোমার যেটা ভালো লাগে ডেকো, তবে শর্ত আছে—শুধু সামনের সিটে বসে ডাকতে হবে। পিছনের সিটে বসে তুমি ডাকলে হয়তো সেই ডাকের সাড়া স্বাভাবিক হবে না?”
মিরা হতভম্ব হয়ে গেল, উত্তর দিতে পারল না। কিন্তু আবার , নিজের গলায় শক্তি নিয়ে বলল-
"মজা বাদ দিয়ে উত্তর দিন না। আপনি কি বিবাহিত?"
রায়ান আবেশে হেঁসে মিরায়ারদিকে তাকিয়ে জবাব দিল-
"হ্যাঁ। তবে কাউকে বলো না। এইটা টপ সিক্রেট।"
মিরায়া রায়ানের সরল জবাবে অবাক হয়ে তাকালো।
তার মনে আর চোখে অনেক প্রশ্নেরা ঘোরাফেরা করতে লাগলো- "কে সেই মেয়ে? কিভাবে বিয়ে হলো? কোথায় হলো? কবে হলো? আর কেন হলো? আর কি কেউ জানে?"
কিন্তু মিরায়া কোনো প্রশ্ন না করে কেবল চুপ করে গভীর দৃষ্টিতে রায়ানের দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো এমন ভাবে হঠাৎ করে কারো প্রতি দুর্বল হওয়া তার নিজের বোকামি অন্যের নয় । উপর দিয়ে এই ধরনের প্রশ্ন তাকে রায়ানের প্রতি ডেস্পারেট ছাড়া আর কিছু দেখাবে না। যা মিরায়া কখনোই চায় না।
তাই সে কিছু না শোনার মতোই আচরণ করে চোখ সরিয়ে নিল রায়ানের থেকে।
মিরায়া চোখ সরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক আচরণ রায়ানের ভিতরে যেন আগুন লাগিয়ে দিল। সে আশা করেছিল মিরায়া বিয়ের কথা শুনে রিয়েক্ট করবে কিন্তু তার কিছুই হলো না ।
রায়ানের মনে প্রশ্ন জাগে-" তাহলে কি তার বউ তাকে নিজের করে ভাবে না ? তার বউয়ের কি কিছু যায় আসে না তার অন্য নারীর হওয়াতে?"
চলবে....
আহ্! অপেক্ষার অবসান। আজকে কিন্তু আমাদের দ্বিতীয় জুটির প্রেম গাঁথা শুরু হলো- মাহির-সোরায়া । Reel spoiler এর পার্টটা 2nd part এ পর্বে পাখিরা। আমি পুরোটা শেষ করতে পারি নি আমার ফেমিলিতে নিউ মেম্বার এসেছে যার জন্য একটু ব্যস্ত বাকিটা কাল দিব। আর হ্যাঁ ডেইলি গল্প পাবে তোমারা পাখি। এখন কমেন্ট করে ফেল তো তাড়াতাড়ি কেমন লাগলো part-9 (1st)। আমি কিন্তু অপেক্ষা করবো তোমাদের মতামতের। কোন অংশ টুকু বেশি ভালো লেগেছে বলবে কিন্তু।
#Soul_bound_obsession
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#arivan_chowdhury_rayan
#mehrin_rahman_miraya
#everyoneシ゚viralシviralシfypシ゚viralシalシ
#উপন্যাসপ্রেমিক
#গল্পফ্যাক্ট
#Part_9 (1st)
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_9 (2nd)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
সোরায়া, যে একটু দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল, হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।
তার চোখের সামনে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট ভেসে উঠেছে মাহির—
উচ্চতা ছ’ফুটের কাছাকাছি, চওড়া কাঁধ, ঘাম ভেজা শার্ট শরীরে আঁকড়ে বসে আছে।
চুলগুলো এলোমেলো, তবু কেমন যেন মানিয়ে গেছে সেই মুহূর্তের সঙ্গে।
মাহিরের প্রতিটা মুভমেন্ট ছিল নিখুঁত—
একটা ঘুষি এড়িয়ে পেছন থেকে ধাক্কা, আবার আরেকজনকে শক্ত হাতে চেপে ধরা…
চারপাশের লোকজন হাঁ হয়ে তাকিয়ে রইলো।
কেউ কেউ ফিসফিস করে বলছিল—
“বাহ! একাই তিনজনের সঙ্গে লড়ছে!”
“এই ছেলে যে কী সাহসী!”
কিছুক্ষণ পরেই ওই তিনজন ছেলেই দৌড়ে পালিয়ে গেল।
ভিড়ের মধ্যে হাততালির শব্দ উঠলো।
কেউ এগিয়ে এসে বললো,
“ভাই, আজকাল আপনার মতো মানুষ কোথায় পাওয়া যায়!”
আরেকজন হেসে বললো,
“আপনি না থাকলে ওই বুড়ো মানুষটার অনেক ক্ষতি হয়ে যেত। সত্যি, আপনাকে স্যালুট।”
মাহির কেবল হালকা হেসে বৃদ্ধ দম্পতি দাঁড়াতে সাহায্য করলো।
তার কণ্ঠে অদ্ভুত শান্তি—
“আমি যা করেছি, তা করা উচিত ছিল। অন্যায় দেখেও যদি চুপ থাকি, তবে মানুষ হয়ে লাভ কী?”
সোরায়ার বুকের ভেতর হঠাৎ করেই কেমন যেন ঝড় বয়ে গেল।
প্রথমবারের মতো তার চোখে এক অদ্ভুত আলো ফুটলো।
“এমন মানুষও আছে? অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানোর মতো সাহসী… আর কতটা সুন্দর দেখতে! যেন সিনেমার হিরো।”
সে একটু এগিয়ে গিয়েছিল সামনে যাওয়ার জন্য—
মনের ভেতর তীব্র ইচ্ছা হচ্ছিল মাহিরকে ধন্যবাদ দেওয়ার।
কিন্তু চারপাশে ভিড় এমন ঘিরে ধরেছিল যে, সামনে যাওয়া অসম্ভব হয়ে গেল।
তাকে ঠেলাঠেলি করে লোকজন মাহিরকে ঘিরে ধন্যবাদ জানাচ্ছিল।
তারপর ধীরে ধীরে সবাই নিজেদের কাজে ফিরে গেল।
রাস্তা ফাঁকা হলো।
সোরায়া চোখ মেলে চারদিকে তাকালো— কিন্তু মাহির নেই।
এক মুহূর্ত আগে যে মানুষটা চারপাশ আলোকিত করে রেখেছিল, সে যেন বাতাসের মতো মিলিয়ে গেছে।
তার ঠোঁট কেঁপে উঠলো, মৃদু স্বরে—
“একবার অন্তত ধন্যবাদ দিতে পারলে ভালো হতো…”
চোখের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা জমলো।
যেন একটা অচেনা আকর্ষণ হঠাৎ করেই ভেঙে পড়লো তার ভেতরে।
ঠিক তখনই রিকশাওয়ালা এগিয়ে এসে ডাক দিল—
“আপা, রাস্তা তো একদম পরিষ্কার। উঠেন, দেরি করলে কলেজে লেট হয়ে যাবে।”
সোরায়া চমকে বাস্তবে ফিরে এলো।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অনিচ্ছায় রিকশায় উঠে বসল।
রিকশায় বসে সোরায়া কলেজের পথে যাচ্ছিল, কিন্তু মনটা যেন কোথাও আটকে আছে। চারপাশে মানুষের ভিড়, গাড়ির হর্ন, দোকানের ডাকে সাড়া—এসব কিছুই তার কানে আসছে না। মাথার ভেতর বারবার ভেসে উঠছে সেই দৃশ্য—একজন ছেলে তিনজনের সাথে লড়ছে, অথচ তার মুখে অদ্ভুত শান্ত একটা হাসি।
“ওর চোখের ভেতরটা কী অদ্ভুত ছিল! রাগও ছিল, সাহসও ছিল, তবু যেন একটা মায়াও লুকিয়ে ছিল…”
রিকশা কলেজের গেটে এসে থামলো। সোরায়া নামলো ধীরে, যেন পা চলতে চাইছে না। ক্লাসে ঢুকে বেঞ্চে বসে বই বের করলো, কিন্তু পৃষ্ঠা উল্টানোর পরও শব্দগুলো ধরা পড়ছিল না চোখে। সহপাঠীরা কেউ হাসছিল, কেউ গল্প করছিল, কিন্তু সে কেমন যেন অন্য জগতে হারিয়ে গেল।
কলম দিয়ে কাগজে অজান্তেই আঁকিবুঁকি করছিল। একসময় বুঝলো, সে একটা চোখ এঁকেছে—ঠিক যেমন মাহিরের চোখে শক্ত অথচ নরম দৃষ্টি ছিল। আঁকাটা দেখে নিজেই হেসে ফেললো, তারপর তাড়াহুড়ো করে খাতা বন্ধ করে দিল।
তার ভেতরে যেন একটা দ্বন্দ্ব চলছিল—
“এভাবে কাকে নিয়ে এত ভাবছি আমি? আমি তো তার নামও জানি না… হয়তো কখনো আর দেখাও হবে না। তবুও কেন মনে হচ্ছে, ওকে আরেকবার দেখতেই হবে?”
ঘণ্টা বেজে উঠলো। সোরায়া খেয়াল করলো স্যারের পড়া শেষ পর্যন্ত কানে ঢুকেইনি। পাশে বসা বান্ধবী জুঁই মজা করে বললো—
“কী রে? এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন? কারো প্রেমে পড়েছিস নাকি?”
সোরায়া হেসে উড়িয়ে দিলেও ভেতরে হঠাৎ কেমন ধাক্কা খেল।
“প্রেম? না না… এভাবে হুট করে কি প্রেম হয়? …কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে ছেলেটা অন্যরকম। আজকের মতো ঘটনা তো সিনেমায়ই হয়।"
জুঁই: "ছেলে? কোন ছেলে? ওহ্ এই ব্যাপার তাই তো বলি আজ তোর মনোযোগ কই। আচ্ছা বল না কোন ছেলে?"
সোরায়া তার বান্ধবী কে সব খুলে বলে।
মাহিরের চরিত্রটা তার মনে গেঁথে গেছে একেবারে ভিন্নভাবে।
এমন একজন, যে শক্ত শরীর আর সাহসের জোরে অন্যায়ের সামনে দাঁড়ায়।
তবু অহংকার নেই, বরং কাজটা করার পর খুব সহজভাবে বলে—
“এটা করা উচিত ছিল।”
সোরায়ার চোখের সামনে আবার ভেসে উঠলো মাহিরের লম্বা চেহারা, পরিপাটি শার্ট, হালকা দাড়ি, আর সেই হাসি।
অদ্ভুতভাবে মনে হলো—যেন ভিড়ের ভেতর থেকে শুধু তাকেই আলাদা করে চোখে পড়ে।
ক্লাসের পড়া শেষ হলেও সোরায়া যেন নিজের ভেতরই ডুবে থাকলো।
বুকের ভেতরে ছোট্ট একটা আশা গোপনে জন্ম নিলো—
“হয়তো আবার কোথাও দেখা হবে…”
ক্লাসের শেষে স্যার যাওয়ার পর সবাই ক্লাপষস থেকে বের ডহয়ে যায়। হাঁটতে হাঁটতে জুঁই সোরায়াকে খেপায় -
"বান্ধবী আমার রাস্তায় নাগড় জুটিয়ে এসেছে। নাগড়ের নামও জানে না।"
সোরায়া-"উফ্! তুই চুপ করবি? তোকে বলাই ভুল হয়েছে আমরা।"
জুঁই- "দোস্ত যেভাবে বর্ণণা দিলি। মনে তো হলো এক দেখাতেই পা থেকে মাথা অবদি স্কেন করে নিয়েছিস।"
জুঁই কৌতুহলে সোরায়াকে এক কাঁধে একটু ধাক্কা দিয়ে জিজ্ঞেস করল-
" আচ্ছা দোস্ত, তোর নাগড় দেখতে কেমন ছিল রে?"
সোরায়া জুঁইয়ের কথায় বিরক্ত হলেও মাহিরের কথা উঠতেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
সোরায়া জুঁইয়ের ধাক্কায় সামান্য সামনে ঝুঁকে যায় পরে নিজেকে সামলে মুখে দুষ্টু একটা হাসি নিয়ে পিছনের দিকে ফিরে সজোরে দুই লাইন গান গায়-
"দেখিতে সোনার নাগড়
গো.....
চান্দেরো সমান।"
এই বলে সে সামনের দিকে ফিরে দৌড় দেয় হাসতে হাসতে। পিছন পিছন জুঁই ও দৌড়ায়।
_______
মেইনরোডে নীরবতায় ঘেরা গাড়ি চলছে।
এক পর্যায়ে রায়ান মিরায়া ঢাবির ক্যাম্পাসে পৌছায়। ক্যাম্পাসে পৌঁছে মিরায়া সিট বেল্টটা খুলতে থাকে আর রায়ান নিজের গাড়ি থেকে বের হয়ে মিরায়ার জন্য গাড়ির দরজাটা খুলে দিল।
রায়ানের এমন আচরণে মিরায়ার মনে শান্ত হাওয়া বয়ে গেল। মিরায়া গাড়ি থেকে বের হয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে রায়হানকে বলল-
"ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি এখন আপনার কাছে যেতে পারেন। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে আপনার।"
রায়ান মিরায়ার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে যেন এত দেখেও তৃপ্তি পাচ্ছে না সে। সে হালকা দৃঢ় কন্ঠে বলল-
"শোন ভর্তির কাজ শেষ করবে আগে আর কোনো সমস্যা হলে বা সব কাজ শেষ হয়ে গেলে আমাকে কল করবে, ঠিক আছে?"
মিরায়া আশ্চর্য হয়ে-
"কেন?"
রায়ান- "কেন এর উত্তর তোমার জানতে হবে না। যা বলেছি তাই করবে, আমি বলেছি তাই, বুঝতে পেরেছ?"
মিরায়া কথা না বাড়িয়ে শ্বাস নিয়ে বলল-
"হুঁ পেরেছি।"
রায়ান- "গুড গার্ল।"
মিরায়া- "কিন্তু কিভাবে কল দিব আপনার সাথে আজ দেখা আমার কাছে আপনার নাম্বার নেই।"
রায়ান মনে মনে- "ওহ্ শিট! বউয়ের নাম্বারই নেওয়া হয়নি আমার ।"
রায়ান নিজের ফোন বের করে বলল- "তোমার নাম্বার বলো।"
মিরায়া কোনো ভাবনা ও প্রশ্ন ছাড়াই তার নাম্বার বলে। এবং সাথে সাথেই একটা কল ঢুকে। মিরায়া ব্যাগ থেকে তার ফোনটা বের করে দেখে একটা আন-নোউন নাম্বার।
রায়ান- "দ্যেটস মি। সেভ করে রাখ। এই নাম্বার এ কল দিলেই হবে।"
মিরায়া- "ওকে।"
রায়ান- "ঠিক আছে , সময় হয়ে গেছে ভিতরে যাও। ঠিক ভাবে ভর্তির সব কাজ শেষ করবে । সাবধানে থাকবে আর যেটা বললাম - কোনো সমস্যা হলে কিছু না ভেবে আমাকে কল দেবে। আর হ্যাঁ, একা বাড়ি যাবে না । সব শেষে আমাকে কল দেবে আমি নিতে আসবো। এখন যাও।"
মিরায়া রায়ানের কথা গুলো মনে দিয়ে শুনে হকচকিয়ে উঠে রায়ানকে বলল-
" আরে না না। আমাকে নিয়ে আসতে হবে না কষ্ট করে। আমি একাই চলে যেতে পারবো। আপনি চিন্তা করবেন না কোনো সমস্যা হলে কল দেব আমি। আপনি আপনার কাজে মন দিন।"
রায়ান একটু রাগি গলায় মিরায়ার দিকে এক পা এগিয়ে গিয়ে বলল-
"তোমার সংক্রান্ত যেকোনো কাজ আমার কাজ, যে
কোনো সমস্যা আমার সমস্যা, যেকোনো চিন্তা আমার চিন্তা।
তাই বলছি, বেশি বোঝা ছেড়ে, এখন ভিতরে যাও। আমি নিতে আসবো।
রায়ান আরো মালায়ালম কাছে গিয়ে বলল-
"কল না দিলে এমনিই আসবো আর এসে তোমাকে না পেলে ব্যপারটা মোটেও ভালো হবে না হৃদপাখি । মাইন্ড ইট।"
মিরায়ার গলা কেমন যেন হঠাৎ শুকিয়ে গেলো ভয়ে। সে রায়ানের দিকে মায়া মায়া চোখে তাকালো আর রায়ান মিরায়ার তাকানোতে দুর্বল হয়ে গেল। রায়ানের দৃঢ় পা দুর্বল হয়ে হালকা পিছনে চলে যায়।
রায়ান মিরায়ার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে মাথা নারিয়ে নিজেকে একটু সামলে মিরায়াকে যাওয়ার পথ দিয়ে বলল-
"তাড়াতাড়ি এখান থেকে যাও। ক্যাম্পাসে যার তার সাথে মিশবে না। যাও (একটু উচ্চ স্বরে)।
রায়ানের ধমকে মিরায়া হালকা কেঁপে উঠে দ্রুত রায়ানের দেওয়া খালি জায়গা টুকু দিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে চলে গেল।
এই দিকে রায়ান নিজের চুল এক হাতে খামচে ধরে বলল-
"আর একটু , আর একটু হলেই কন্ট্রোলের মা বাপ এক হয়ে যেত রে। রায়ান শান্ত হো, কন্ট্রোল ইয়োর সেলফ। তোর বউ জানে না সে তোর বউ।"
রায়ান রাগে গাড়ির চাকায় এক লাঠি মেরে বুকের বাম পাশে হাত রেখে -
"উফ্! এমনে কেউ তাকায়। কি মায়া ভরা চোখ। আল্লাহ আমাকে মারার জন্যই ওই চোখ দিয়েছে হয়তো। ওই চোখ আর চোখের মালকিন কবে জানি মেরে ফেলবে আমাকে।"
আকাশের দিকে তাকিয়ে -
"হায় আল্লাহ মাফ চাই। আর বউকে দূরে সড়াবো না । আমার বউটাকে আমাকে দিয়ে দেও। আর শাস্তি দিয় না তোমার এই পাপি বান্দা কে।"
রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে গাড়িতে বসতে বসতে আজকের কথা গুলো ভেবে একটু বির বির করলো-
"আমার সম্পর্কে তো আমার মিরা কিছু জানে না। ঐ হিসেবে একজন অচেনা ছেলে হয়ে তার প্রতি এমন ব্যবহার কি বেশি বেশি হলো।"
পরবর্তীতে আবার নিজের প্রশ্নের নিজেই উত্তর দেয় -
" আরে ধুর, কিসের বেশি বেশি। আমার বউ আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি, বলতেও পারি। আমার বউ জানেনা তাতে কি! জেনে যাবে শীঘ্রই।"
এই বলে রায়ান গাড়ির ইঞ্জিনে স্টার্ট দেয় এবং সোজা তার কম্পানির সাইটের দিকে রোওনা দেয়।
________
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকেই মিরায়া যেন একটু থমকে দাঁড়াল।
শতবর্ষের পুরোনো গেট, বিশাল সবুজ মাঠ, উঁচু উঁচু গাছ, আর চারপাশে শিক্ষার্থীদের ভিড়—সবকিছুতেই এক ধরনের গম্ভীর অথচ প্রাণবন্ত আবহ ছড়িয়ে আছে। মিরায়ার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো, যেন এতদিন বই আর টিভিতে দেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আজ সে প্রথমবার স্পর্শ করলো নিজের চোখে।
চারদিকটা কোলাহলে ভরপুর—কেউ ভর্তি ফরম নিয়ে দৌড়াচ্ছে, কেউ কাগজপত্র চেক করাচ্ছে, কারো মাথায় অজস্র চিন্তা, আবার কারো চোখেমুখে উচ্ছ্বাস।
তাদের মাঝেই মিরায়া একেবারে নতুন এক জগতে এসে দাঁড়িয়েছে।
ঠিক তখনই পেছন থেকে পরিচিত এক কণ্ঠ ভেসে এলো—
“এই মিরা! জান দাঁড়া দাঁড়া… আমি আসছি।”
ঘুরে তাকাতেই দেখলো রিমি ব্যাগ দোলাতে দৌড়ে আসছে।
মিরায়া হেসে হাত নাড়লো, “রিমি! তুই কই ছিলি? আমি তো ভাবলাম তুই আসবি না।”
রিমি একটু হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
“যানজটে আটকে গেছিলাম রে। তুই তো জানিস ঢাকার রাস্তার অবস্থা। ভাগ্য ভালো, শেষমেশ চলে আসতে পারলাম।”
দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করল ।
দু’জনেই একসাথে হাঁটতে শুরু করলো ভর্তি অফিসের দিকে। ভিড় ঠেলে এগোতে এগোতে রিমি ফিসফিস করে বললো—
“আমরা কিন্তু যেমন ঠিক করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই ফরম জমা দিবো। একসাথে লাইন ধরবো, একসাথে সিট নম্বর নেবো, যাতে আমাদের রোল নাম্বার পাশাপাশি থাকে।”
মিরায়া হেসে মাথা নাড়লো, “অবশ্যই। আমি তোকে ছাড়া ঢাবিতে ক্লাস করতেই চাই না।”
ভর্তি অফিসের সামনে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ভিড় যেন আরও বেড়ে গেল। লম্বা লম্বা লাইন, হাতে কাগজপত্র, কেউ আবার তর্ক করছে—কোন কাউন্টারে যাবে, কাকে আগে দেখাবে।
মিরা আর রিমি একে অপরের হাত ধরে দাঁড়ালো, যেন ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে না যায়।
একসময় তাদের কাগজ চেক হলো—এসএসসি, এইচএসসির মার্কশিট, ফটোকপি, ছবি—সবকিছু সুন্দরভাবে মিলিয়ে নিলো অফিসের স্যাররা।
রিমি মজা করে কানে কানে বললো,
“দেখছিস? আমরা যদি আলাদা আলাদা আসতাম, এই ভিড়ের মধ্যে একা কতটা ভয় পেতাম।”
মিরায়া হেসে জবাব দিলো,
“ঠিকই বলছিস। একসাথে থাকায় সবকিছু অনেক সহজ মনে হচ্ছে। এমনিতেই আমার সাবধানতা নিয়ে আজ কাল অনেক মানুষ উৎসাহ দেখাচ্ছে।”
রিমি- " অনেকের মধ্যে কে কে ?
মিরায়া- "বাদ দে, পরে বলবো।"
কাজ শেষে দু’জনেই বাইরে এসে ক্যাম্পাসের ভেতর একটু হাঁটলো। এক সাথে চা , ফুচকা খেলো।
সোনালি রোদ ছড়িয়ে পড়েছে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে, বাতাসে একটা শান্ত গন্ধ—মাটির আর সবুজের মিশ্রণ। ছাত্রছাত্রীরা কেউ আড্ডা দিচ্ছে, কেউ ক্লাসে যাচ্ছে, কেউ বই হাতে বেঞ্চে বসে পড়ছে।
মিরায়া নিঃশ্বাস নিয়ে বললো,
“রিমি, জানিস? আজ মনে হচ্ছে, আমি সত্যি সত্যিই নতুন একটা জীবনে প্রবেশ করলাম। ঢাবির এই পরিবেশ… আমি কখনো ভুলতে পারব না।”
রিমি হাসলো,
“আমরাই একদিন এই মাঠে আড্ডা দিবো, সেমিনারে যাবো, ক্লাসে বসবো। ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”
দু’জনের চোখেমুখে তখন একরাশ স্বপ্নের উচ্ছ্বাস। ভর্তি প্রক্রিয়াটা হয়তো সাধারণ ছিল, কিন্তু তাদের কাছে সেটা হয়ে উঠলো জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার সূচনা।
_______
রায়ান ৩০ মিনিট এর মধ্যে তার কম্পানির সাইটে পৌঁছায়। সেখানে রুদ্র তার জন্য অপেক্ষা করছিল।
চলবে....
আহ্। অবশেষে শেষ হলো part-9। এর থেকে বড়ো করে লিখতে পারি নি পাখিরা, দুঃখিত। এখন বলো কেমন লাগলো পাখিরা। আমি এই পর্ব টা খুব তাড়াহুড়োতে লিখেছি। বানানে ভুল থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখো বেবিরা। রিভিউ ও করা হয়নি। আচ্ছা অনেক সুন্দর কমেন্ট দেখতে চাই আমি গল্পের সম্পর্কে। কোন বিষয়টা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে , মিল পাচ্ছো না, ফিল হচ্ছে না , ভালো লেগেছে,খারাপ লেগেছে, বেশি বেশি লেগেছে - যেকোনো কিছু বলতে পারো। আমি উত্তর করার চেষ্টা করব।☺️
love you my pakhis..❤️🥰