ফন্ট সাইজ:
থিম:
আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ

৬৪তম পর্ব

লেখক: অরাত্রিকা রহমান

#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ #Soul_bound_obsession

#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান

#Part_64

(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)

(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)

"নাহ, ইয়ে মানে...আমার মতে- একজন স্বামীর এতো টাই বউ পাগল হওয়া উচিত যেন ১৪ গুষ্টির সবাই ভাবে বউ তাবিজ করেছে।"

মিরা জেদ ধরে বলল-

"ঠিক আছে ভালো। এখন বের হয়ে যান এখান থেকে। আমি ওই ঘরে যাব না। যাব না মানে যাব না। এখন আমার মেজাজ গরম।"

রায়ান মিরার উপর চোখ রাঙিয়ে বলল-

"আরে আমিও তো গরম। আমাকে ছাড়া ঘুমাবা, ছিঃ তোমার লজ্জা করে না? দেখ মিরা...!"

মিরা রায়ানের সম্পূর্ণ কথা শেষ হতে না দিয়ে রেগে মেগে রায়ানের দিকে এগিয়ে কোমরে হাত রেখে জিজ্ঞেস করলো-

"না করে না লজ্জা। দেখছি আমি। দেখান কি দেখাবেন। আপনাকে না দেখলে বুঝতামই না ছেলে মানুষ ও এতো ঝগড়ুটে হয়।"

রায়ান লম্বা বলে উল্টো মিরার উপর চড়ে এসে বলল-

"দেখ, সে যাই বলো না কেন তুমি। সব সময় সিরিয়াস সময়ে তোমার ঘাড় তেড়ামি আর জেদ দেখবো না আমি। এখন আমি যা বলবো তাই হবে। নাহলে...!"

মিরা রায়ান কে তার উপর চড়াও হতে দেখে এক ধাক্কায় দেয়ালের সাথে লাগিয়ে দিয়ে একহাত সজোরে দেয়ালে ঠেকিয়ে ভ্রু উঁচিয়ে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

"নাহলে কি, হুঁ? শুনছি আমি বলুন, বলুন।"

রায়ান মিরার এমন চন্ডী রূপ দেখে একটু ঘাবড়ে গেলো। সাথে সাথে গলার টোন পরিবর্তন করে দাঁত বের করে হেঁসে দিয়ে বলল-

"নাহলে, আমার সোনা বউ যা বলবে তাই হবে।"

রায়ানের কথা শুনে মিরার খুব হাসি পেল কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আর হাসার ভুল করলো না। সাথে সাথে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে লুকিয়ে মুচকি হেঁসে আবার গম্ভীর মুখ করে নিলো‌। রায়ান বিষয় টা খেয়াল করলো না। মিরা আবার নিজের জিনিস পত্র গোছাতে শুরু করলে রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীর পায়ে মিরার ঠিক পিছনে এসে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরে মিরার কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে নরম গলায় বলল-

"I am sorry baby..আর রাগ করো না। তোমার এই কয়েক ঘন্টার রাগ আমার জন্য কয়েক যুগের কারাবাসের মতো লাগছে। আমি জানি আমার মিথ্যা বলা উচিত হয় নি। আর হবে না। নিজের ঘরে ফিরে চলো প্লিজ।"

মিরা তার উদরের উপর থেকে রায়ানের হাত দুটো সরিয়ে দিল। রায়ান অসহায়ের মত মিরার দিকে তাকালে মিরা হাতের জিনিস গুলো রেখে রায়ানের দিকে ফিরে বলল-

"নিজের ঘরে যান। ফ্রেশ হন গিয়ে। রাতের খাওয়ার সময় হয়ে যাচ্ছে।"

রায়ান দুই কদম মিরার দিকে এগিয়ে মিরাকে সামনে থেকে জড়িয়ে ধরল। কিন্তু মিরা নিজের হাত একদম সোজা ঝুলিয়ে রেখেছে। রায়ান মিরার হাত নিয়ে নিজের কোমর জড়িয়ে পিঠে রাখলো কিন্তু সে ছেড়ে দিতেই মিরার হাত পড়ে গেল। রায়ান নিজের ঠোঁট কামড়ে ধৈর্য ধরে আবার মিরার হাত দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে নিলো। কিন্তু এবার আর ছেড়ে দিল না ওভাবেই ধরে রাখলো এক হাতে। আর অন্য হাতে মিরাকে জড়িয়ে ধরে উৎকন্ঠায় বলল-

"হৃদপাখি, মাহির আর সোরায়ার বিষয়টা আমি নিজেও জানতাম না। আজই জেনেছি তোমার সাথে।"

মিরা পাল্টা প্রশ্ন করলো-

-"তাহলে আমাকে মিথ্যা বললেন কেন তখন?"

-"তুমি সোরায়াকে নিয়ে চিন্তা করছিলে মাহির কল ধরছিল না কিছু একটা বলার দরকার ছিল। তোমার টেনশন বাড়াতে চাই নি আমি।"

মিরা লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল-

"সোরায়া আমার বোন, আমার দায়িত্ব, ওর ভালো মন্দ বুঝি আমি। ও আজ অব্দি যা চেয়েছে আমি ওকে দিয়েছি যেভাবেই হোক। ও কি চায় তা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওর বূঝতে হবে কি ভুল আর কি ঠিক। ওর সাথে যা কথা বলার আমি বলে নেব সময় করে। আপনি যান।"

রায়ান মাহিরের হয়ে মিরাকে বলল-

"হৃদপাখি, সোরায়া আমার ছোট বোনের মতো। ভাই হয়ে ওর জন্য ভুল কিছু আমিও চাইবো না। আমার বন্ধু বলে বলছি না, মাহির সত্যি ভীষণ ভালো ছেলে।"

মিরা রায়ানের কথায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল-

"আমার মানুষ চিনতে ভুল হয় না। মাহির ভাই ছেলে হিসেবে নিঃসন্দেহে ভালো। এই বিশ্বাস আমার আছে যে বনু ওনার সাথে ভালো থাকবে। কিন্তু সোরায়া এখন অনেক ছোট। এসবের মধ্যে পড়লে পড়াশোনা ক্যারিয়ার অনেক কিছু উল্টো পাল্টা হয়ে যেতে পারে। তা কি ভেবে দেখেছেন?"

রায়ান মিরার চিন্তার কারণ বুঝতে পারছে। কথা গুলো যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। রায়ান মিরার চোখে মুখে সোরায়ার জন্য চিন্তা দেখতে পাচ্ছিল। রায়ান মিরাকে নরম হাতে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-

"সব ঠিক হয়ে যাবে। সোরায়াকে বুঝিয়ে বললে ও বুঝবে। আর আমি তো আছি। টেনশন করো না।"

মিরা রায়ানের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে বলল-

"হ্যাঁ, আপনি তো আছেনই ওদের হয়ে আমাকে মিথ্যা বলার জন্য।"

রায়ান হঠাৎ করে মাথা নামিয়ে মিরার ঠোঁটে ছোট্ট করে একটা চুমু খেয়ে বলল-

"সরি সোনা। খোদার কসম আর হবে না। ঘরে চলো এবার।"

মিরা রায়ানের এমন আঁতকা চুমুতে ভরকে গিয়ে রায়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে বলল-

"আপনি কি আমাকে না ছুঁয়ে থাকতে পারেন না? সব সময় ইচ্ছে হলেই এমন করেন। যাবো না আমি ওই ঘরে। রেগে আছি এখন।"

মিরা রায়ানের থেকে দূরে যেতে চাইলে রায়ান মিরার ওড়না টেনে ধরলো। মিরা বাধ্য হয়ে আবার পিছনে তাকিয়ে দেখলো রায়ান হাঁটু গেড়ে ফ্লোরে বসে আছে। মিরা আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি রায়ান কে ফ্লোর থেকে উঠানোর জন্য চেষ্টা করতে করতে বলল-

"আরে নিচে বসেছেন কেন? উঠুন। কি এক অবস্থা। উঠুন।"

রায়ান উঠবেই না। মিরা বিরক্ত হয়ে নিজেও ফ্লোরে পা মুড়ে বসে পরলো।

-"কি হয়েছে হ্যাঁ? এমন বাচ্চা দের মতো করছেন কেন?"

রায়ান সত্যি বাচ্চাদের মতো মুখ করে নিজের হাতের একটা আঙুল মিরার উরুর উপর হালকা করে ছুঁইয়ে বসে থাকলো। মিরা রায়ান কে এভাবে দেখে নিজের হাসি আর ধরে রাখতে পারলো না। রায়ানের ওই একটা আঙ্গুলের উপর নিজের একটা আঙ্গুল রেখে খিল খিল করে হেঁসে উঠলো‌-

"এটা কি হ্যাঁ। হিহিহি। আঙুল দিয়ে হলেও ছোঁয়া লাগবে?"

মিরাকে হাসতে দেখে রায়ান শান্ত গলায় বলল-

"কি করবো আর! আমি ছুলে আমার বউয়ের বিরক্ত লাগে। এমন কি সে নালিশ ও করেছে আমি তাকে ঘুমাতে দেই না, পড়তে দেই না। এই জন্যই নাকি সে আর আমার সাথে আমার ঘরে থাকবে না।"

মিরা তখনও রায়ানের ওই আঙুলের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হাসতে হাসতে বলল-

"তাই বলে রায়ান চৌধুরী আঙুল ছুঁইয়ে সরি বলছে?"

রায়ান মুগ্ধ হয়ে মিরার দিকে তাকিয়ে মিরাকে হাসতে থাকতে দেখলো। আর ঠিক পর মুহূর্তেই তার মাথায় অন্য এক দুষ্টু বুদ্ধি পাকিয়ে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে মিরার একহাত ধরে মিরাকে ও ফ্লোর থেকে তুলল। মিরা অবাক হয়ে দেখতেই রায়ান গান গাইতে শুরু করলো-

" Nain tohar kajrari, dilwa pe kare bambari

Lapke la kamariya eyse, jeise lapakela ba sawari

Sorry sorry kaha taru...

মিরার এক হাত সোজা করে ধরে নিজের হাতের আঙুল দিয়ে চড়তে চড়তে পরের দুই লাইন গাইলো-

"Sorry sorry kaha taru..bady deh me chuyake..

Jan lebuhan kahe, janu jiyate mua ke.."

মিরা আবারো জোরে হেসে উঠলো। বেচারি নিজের রাগ আর কতক্ষনই বা ধরে রাখবে। হাসতে হাসতে রায়ানের বুকেই লুটিয়ে পড়ে বলল-

"হায় আল্লাহ, হয়েছে। আমি আর হাসলে মরেই যাবো। থামুন। আমি আর রেগে নেই। ঘাট হয়েছে আমার।"

রায়ান থেমে গিয়ে নিশ্চিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো-

"সত্যি রেগে নেই?"

মিরা না সূচক মাথা নাড়ল। রায়ান মিরার কোমর জড়িয়ে ধরে মিরাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে মিরার কপালে চুমু এঁকে দিলো। আর হতাশা নিয়ে বলল-

"বউরে খুশি করতে কত কিছু করতে হয়। আর এইদিকে আমি এক বেহায়া বউরে দেখলেই খুশি। মানে কোনো কারণ ছাড়াই দাঁত বের করে হাঁসি।"

তখনি নিচে থেকে রামিলা চৌধুরীর আওয়াজ এলো-

"ডিনার রেডি। তাড়াতাড়ি নিচে আয় তোরা। খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।"

মিরা রায়ান কে বলল-

"মামণি ডাকলো। আপনি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি নিচে যাই।"

মিরা নিচে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই রায়ান মিরার সামনে এসে তার পথ আটকালো। মিরা থমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল-

"কি হয়েছে? পথ আটকালেন কেন?"

রায়ান মিরার দিকে ঝুকি নিজের ঠোঁট আগিয়ে দিয়ে বলল-

"Give me a kiss.."

মিরা চোখ বাঁকা করে তাকিয়ে বলল-

"দিন দিন চুমুখোর হয়ে যাচ্ছেন আপনি। সেই খেয়াল কি আছে?"

রায়ান মাথা ডানে বামে নেড়ে আরো ঝুঁকে গিয়ে বলল-

"আমার খেয়াল রাখার দায়িত্ব তোমার। যা চাইছি তাড়াতাড়ি দিয়ে দাও তাহলেই তো মিটে যায়।"

মিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রায়ানের বাম গালে দ্রুত ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো-

"উম্মাহ, এবার হয়েছে। যেতে দিন আমাকে।"

মিরা রায়ান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলে রায়ান মিরাকে দেয়ালের সাথে লাগিয়ে নিয়ে বিরক্ত গলায় বলল-

"ওই...আমি কি তোমাকে আদর করার সময় কোনো কিপটামো করি? আমার বেলায় এতো কিপটামো কেন করো? একটা চুমু চেয়েছি শুধু। আমি কি বাচ্চা যে গালে চুমু খাচ্ছো।"

মিরার মাথায় তাদের ভালোবাসার সেই রাত গুলো হঠাৎ করেই ভেসে এলো। মিরা একটু লজ্জায় মাথা নিচু করে নিল। রায়ান হতাশ হয়ে মিরাকে ছেঁড়ে দিয়ে বলল-

"ঠিক আছে। যাও। লাগবে না।"

রায়ান মেজাজ দেখিয়ে দূরে গেলে মিরার খারাপ লাগলো। মিরা মনে মনে নিজে নিজে বিড়বিড় করলো-

"চুমু তে এমন কি আছে! সবটা সময় মাথায় এসব নিয়ে ঘুরে লোকটা। চুমুখোর কোথাকার!"

রায়ান মুখ ভার করে বিছানায় গিয়ে বসে পড়লো। মিরা ধীরে পায়ে এগিয়ে গিয়ে রায়ানের সামনে দাঁড়ালো। রায়ান মিরার দিকে আর তাকালো না। মিরা ঠিক রায়ানের মতোই নিজের হাতের একটা আঙ্গুল রায়ানের কাঁধে ছুঁইয়ে দাঁড়িয়ে রইল। রায়ান মিরার আঙুলের দিকে তাকিয়ে মিরার দিকে চোখ তুলে বলল-

"কি হয়েছে? ছেঁড়ে দিলাম তো। যাও এখন, দাঁড়িয়ে আছো কেন?"

মিরা রায়ানের কথায় পাত্তা না দিয়ে রায়ানের কোলে চড়ে বসে রায়ানের গলা জাড়িয়ে ধরে বসলো। মিরা হঠাৎ নিজের ইচ্ছায় কাছে এলো বলে রায়ান অবাক হয়ে মিরাকে আঁকড়ে ধরলো যেন মিরা পড়ে না যায়-

"কি হলো? পালিয়ে না গিয়ে কোলে চড়ে বসছো যে হঠাৎ।"

মিরা মিষ্টি হেসে অধিকার দেখিয়ে বলল-

"আমার ইচ্ছে। আমি যখন মন চায় তখন আমার হাবির কোলে বসবো। আপনাকে বলে বসতে হবে নাকি?"

কথাটা বলেই মিরা এলোপাথাড়ি রায়ানের সম্পূর্ণ মুখে ছোট ছোট চুমু খেতে শুরু করলো। রায়ান মিরার কোমর আরো শক্ত করে চেপে ধরলো মিরা অনেক বেশি নড়াচড়া করছিল বলে। রায়ান নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে মিরাকে জিজ্ঞেস করলো-

"হৃদপাখি, কি হয়েছে তোমার? কি করছো?"

মিরা নিজের কাজ করতে ব্যস্ত। রায়ান বুঝতে পারছিল ধীরে ধীরে সে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। রায়ানের গলা শুকিয়ে আসছে। রায়ান মিরাকে থামিয়ে নিজের থেকে একটু দূরে সরিয়ে আবেগ ঘন চোখে মিরার চোখে তাকিয়ে নেশালো গলায় বলল-

"মি.,মিরা... আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারবো না যদি তুমি না সামলে নাও।"

মিরা রায়ানের চোখে ব্যাকুলতা দেখতে পাচ্ছে আরো গভীর ভাবে ভালো বাসার‌ জন্য। রায়ান শুকনো ঢোক গিলতেই তার গলার মাঝের সুস্পষ্ট অ্যাডামস অ্যাপেল ধীর গতিতে উঁচু নিচু হলো। মিরার নজর সেদিকে গেলে কৌতুহলে মিরা তার হাতের আঙ্গুল রায়ানের নড়তে থাকা অ্যাডামস অ্যাপেলের উপর রাখতেই রায়ানের শরীর ঝাকুনি দিয়ে উঠলো। মিরা রায়ান কে হঠাৎ দূর্বল হতে দেখে অবাক। রায়ান মিরার হাত নিজের আয়ত্তে নিয়ে মিরার কোমর টেনে বিছানায় ফেলে দিয়ে মিরার উপরে উঠে এসে মিরার ঠোঁটের মাঝে নিজের ঠোঁট রাখলো। মিরা সাথে সাথে রায়ানের শার্টের কলার খামচে ধরে চোখ বন্ধ করে নিলো। রায়ানের প্রতিটা স্পর্শ অন্যরকমের উন্মাদনা সৃষ্টি করছে মিরার মাঝে। ৫ মিনিট পর রায়ান মিরার ঠোঁট ছেড়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে উতলা উষ্ণ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে করতে ফিসফিস করলো-

"আমি আর পারছি না হৃদপাখি। I need to love you...right now.."

মিরা নিজের এক হাত রায়ানের চুলে আর অন্য হাত তার পিঠে রেখে ধীরে ধীরে রায়ান কে শান্ত করার চেষ্টা করে বলল-

"Take a deep breath..calm down.. আমি এখানেই আছি, আপনার সাথে। শান্ত হন।"

রায়ান নিজের হাতের মুঠো শক্ত করলো মিরার কোমরে। মিরার রায়ান ছোঁয়ার মাঝে তীব্র অনুভব করে রায়ানের নিচে কাঁপছে। রায়ান অধৈর্য গলায় মিরাকে মিনতি করে বলল-

"I am gonna lose it, heartbird..কাঁপা বন্ধ করো।"

মিরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিলো - চেষ্টা করছে স্বাভাবিক থাকতে। কিন্তু রায়ান ওইভাবে আর টিকতে পারছিল না। মিরা হঠাৎ কিছু নিজের শরীরের বিপরীতে অনুভব করলো। তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। মিরা রায়ান কে শান্ত করতে রায়ানের চুলের মাঝে হাত বুলিয়ে বলল-

"একটু...একটু সামলে নিন এখন। প্লিজ।"

রায়ান হঠাৎ মিরার গলায় কামড়ে ধরলো। মিরা চিৎকার করে উঠার আগেই রায়ান নিজের আঙ্গুল মিরার মুখে পুরে দিল। মিরার আওয়াজ থেমে গেল, ব্যাথায় রায়ানের আঙ্গুল কামড়ে ধরে থাকলো।

কয়েক মিনিট পর রায়ান মিরার গলা ছেঁড়ে দিয়ে নিজের আঙুল সরিয়ে নিয়ে গভীর কন্ঠে জানতে চাইলো-

"Are you ok সোনা? বেশি লেগেছে?"

মিরা রায়ানের বুকে নিজের মুখ লুকিয়ে নিলো। চোখ পানিতে ছল করছে। রায়ান মিরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-

"সরি পাখি, একদম কন্ট্রোল ছিল না। এখন কিছু করে বসলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেত। নিজেকে সামলাতে বাধ্য হয়ে এটা করতে হলো। কেঁদো না প্লিজ।"

মিরা কাঁদলো না তবে ঠোঁট উল্টে বলল-

"আমি আপনার আঙুল কামড়ে দিয়েছি। অনেক লেগেছে হয়তো। সরি।"

রায়ান উত্তেজনায় খেয়াল ও করেনি তার ব্যাথার অনুভূতি। মিরার গালে হাত রেখে রায়ান তাকে আশ্বস্ত করে বলল-

"কামড়ানোর জন্যই দিয়েছিলাম। সরি বলতে হবে না। আমি পুরোটাই তোমার। যা ইচ্ছে করতে পারো। যত ইচ্ছে ব্যাথা দিতে পারো কোনো নালিশ করবো না। সব চুপচাপ সহ্য করবো।"

মিরা খোঁচা দিতে মুখ বাঁকিয়ে বলল-

"আমি তো আর রায়ান চৌধুরী নই। আমি যেমন ব্যাথা সহ্য করতে চাই না তেমন ব্যাথা দিতেও চাই না।"

রায়ান ঠোঁট কামড়ে হেসে মিরার গলায় দাঁত বসে যাওয়া জায়গায় ছোট চুমু খেয়ে বলল-

"ব্যাথা সহ্য তো করেছ অনেক, এখনো সহ্য করতে হলো। সৌভাগ্য বশত ভবিষ্যতেও সহ্য করতে হবে। Be ready for more.."

মিরা কিছু বলল না মুখ ফুলিয়ে রায়ানের কথা এড়িয়ে গেল। রায়ান বিছানা থেকে উঠে মিরাকেও টেনে তুলে বলল-

"নিচে যাও। আম্মু ডাকছিল না! আবার ডাকলো বলে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।"

রায়ান উঠে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে আবারো বলল-

"আমি আমার বউকে রাতে আমার বিছানায় দেখতে চাই। যেমন সব গুছিয়ে এইঘরে এসেছিলে ঠিক, তেমন সব আবার গুছিয়ে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও। নয় তো আমি এই ঘরে সিফ্ট করবো।"

রায়ান ঘর থেকে চলে যেতে নিলে মিরা মুখ ভেংচি কেটে বলল-

"ব্লা, ব্লা, ব্লা, ব্লা...! ইহহহ, বউকে বিছানায় চাই...! অসভ্য লোক। আমি মনে হয় তার সম্পত্তি!"

রায়ান ঘর থেকে বের হতে হতে আবার বলল-

"তুমি আমার মাল,আর আমি তোমার মালিক বেইব"

রায়ান ঘর থেকে বের হতেই নিজের মাথা এলো মেলো ভাবে ঝাঁকিয়ে নিজের মনে বিড়বিড় করলো-

"আমার শখের বেডি দিন দিন যেভাবে হট হয়ে যাচ্ছে আমি কবে যেন পুড়ে যাই। আল্লাহ আমাকে বাঁচাও। কি কড়া...!আমার বেডি রে একটু কুল করে দেও আল্লাহ।হয় আমার জ্বালায় ওর কিছু হয়ে যাবে নয় তো আমি ওকে...না না আসতাগফিরুল্লা।"

_________

রাতে খাওয়ার জন্য সবাই নিচে নামলে খাওয়া দাওয়া শুরু হয়। রিমি মিরার সাথে বসেছে আর রিমির পাশে সোরায়া। আর বিপরীতে রুদ্র রায়ানের পাশে বসেছিল আর মাহির রুদ্রর পাশে। মিরা রিমির সাথে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছিল কারণ শপিং মলের ঘটনা শুধু মাত্র একটা অপ্রস্তুত সময় ছিল। ওটা ধরে বসে থাকলে দুই পক্ষই লজ্জায় কথা বলতে পারবে না। রিমি মিরাকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেল। সোরায়ার মনে ভার ছিল মিরা তার সাথে কথা বলছিল না বলে কিন্তু আচরণ ভিন্ন ছিল মিরার। সে বরাবরের মতো সোরায়ার যা যা পছন্দ তাই ওর পাতে তুলে দিচ্ছিল খাওয়ার জন্য, পানি এগিয়ে দিচ্ছিল, শুধু মুখ ফুটে কথা বলছিল না।

মাহির রায়ান কে চোখাচোখি করে বিষয়টা বোঝাতে চাইল। রায়ান মাহির কে মেসেজ করে বলল-

"কথা বলবে না কিন্তু কাজে ঠিকই ভালোবাসা দেখাবে। এটা আমার বউয়ের লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ। প্যারা নিস না তুই। বোনদের মধ্যে ব্যাপার, নিজেরাই ঠিক ঠাকই করে নেবে।"

মাহির রায়ানের মেসেজটা দেখে একটু নিশ্চিন্ত হলো। টেবিলে মোটামুটি সবার আচরণ ঠিক থাকলেও রুদ্র আর রিমি দুইজন দুইজনের নজর চুরি করছে। রিমির মনে এক অদ্ভুত অপরাধ বোধ কাজ করছে। আর রুদ্রর মন খারাপ। রায়ান রুদ্রর মুখ বেজার দেখে তার কাঁধে হাত রেখে বলল-

"সোনা ভাই আমার, বউ তো তোরই। ওটা জাস্ট একটা ভুল সময় ছিল। আরো অনেক সুন্দর সুন্দর সময় আসবে জীবনে। Buck up buddy.."

রুদ্র রায়ানের কথায় একটা স্বাভাবিক হলো। সে রিমির দিকে এক নজর তাকিয়ে নিজের মনকে বুঝিয়ে বলল-

"ঠিকই তো। একটা ভুলের জন্য সম্পর্কে তিক্ততা এনে লাভ কোথায়। রিমির সাথে ঘরে গিয়ে কথা বলতে হবে। ক্ষমা চাইলে ক্ষমা তো করবে ও আমাকে।"

খাওয়া দাওয়া শেষে রামিলা চৌধুরী আর রায়হান চৌধুরী উঠে হাত ধুয়ে নিজেদের ঘরে চলে গেলে কেবল রায়ান, মিরা, সোরায়া, মাহির, রুদ্র, রিমি নিচে থাকলো। মাহির বাড়ি ফিরবে তাই রায়ান মাহিরকে বিদায় দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল।

মাহির-"আমি আসছি তাহলে।"

মাহির বিদায় নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মিরা মাহির কে থামিয়ে দিলো-

"মাহির ভাই...!"

মাহির মিরার ডাকে পিছন ফিরতেই মিরা বলল-

"আমার আপনার সাথে কিছু কথা আছে। একা।"

মাহির পর পর সোরায়া আর রায়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো- দুজনেই অবাক। মাহির সাহস নিয়ে সোজা হয়ে মিরার সামনে দাঁড়িয়ে বলল-

"জি ভাবি বলুন।"

মিরা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে যেতে যেতে বলল-

"আমার সাথে উপরে আসুন।"

মাহির একটা বড় শ্বাস নিয়ে মিরার পিছন গেলে রায়ান মিরাকে জিজ্ঞেস করলো-

"হৃদপাখি, আমি আসবো?"

মিরা থমকে দাঁড়িয়ে একটু ভেবেচিন্তে উত্তর করলো-

"ঠিক আছে আসুন।"

সোরায়া আর নীরব না থেকে সাহস করে সেও জিজ্ঞেস করলো-

"আ...আপু..আমিও আসি?"

মিরা সোরায়ার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উপরে চলে গেল। যা স্পষ্ট বোঝায় যে তার জন্য অনুমতি নেই সাথে যাওয়ার। মাহির সোরায়ার কাঁধে হাত রেখে সোরায়াকে আশ্বস্ত করে বলল-

"চিন্তা করো না। আজ তোমাকে জিতে তারপর বাড়ি ফিরব। আমার বউ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও।"

মাহির সোরায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে উপরে উঠে গেল সাথে রায়ান ও উপরে যাওয়ার আগে সোরায়া কে ইশারায় নিশ্চিন্তে থাকতে বলল। রিমি কিছু জানেনা বলে বাধ্য হয়ে রুদ্র কে জিজ্ঞেস করলো-

"আচ্ছা কিছু কি হয়েছে?"

রুদ্র রিমির দিকে তাকালো। রিমি যেহেতু আবার স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছে তাই সেও আর পিছ পা হলো না। জবাবে বলল-

"ঘরে চলো সব বলছি।"

রুদ্র এখনো রিমিকে তুমি করেই সম্বোধন করছে। রিমি তুমি ডাকে একটু লাজুক হেঁসে রুদ্রর সাথে নিজেদের ঘরে গেল। ড্রয়িং রুমে সোরায়া একা আর না দাঁড়িয়ে থেকে সেও উপরে গেলো।

__________

সম্পূর্ণ নীরব ঘরে মিরা রায়ান আর মাহির দাঁড়িয়ে আছে। মাহির শুরু তেই কিছু বলল না মনে হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। পরবর্তীতে মিরাই কথা বলা শুরু করলো।

-"মাহির ভাই, আমি কিছু বলবো? না আপনি আগে বলা শুরু করবেন? আপনার কি আমাকে কিছু বলার নেই?"

মাহির বুঝতে পারলো মিরা কি বিষয়ে কথা বলছে তাই আর কথা না ঘুরিয়ে বলল-

"ভাবি, আমি জানি শপিং মলের ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা হয়না। পরিস্থিতি কখন ওমন হয়ে গেছিল...!"

মাহির নিজের কথা পরিপুষ্ট করতে অক্ষম। তার কাছে শব্দ নেই নিজের সাফাই দেওয়ার জন্য বলার মতো। মিরা মাহির কথা শুনে মাহিরের দিকে ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল-

"আমার বোন কে আমি অনেক যত্নে বড় করেছি। ও মোটেও কোনো টাইম পাস না।"

সোরায়াকে নিয়ে এমন কথা মিরা ইচ্ছে করে বলল শুধু পরখ করতে মাহির কিভাবে রিয়েক্ট করবে। বলা বাহুল্য মিরার কথায় কাজ হলো। মাহির উত্তেজিত হয়ে মিরার দিকে এগিয়ে গিয়ে অত্যন্ত জোর গলায় বলল-

"আমি সোরায়াকে ভালোবাসি ভাবি।"

মিরা কথার কথায় মেনে নেওয়ার মানুষ নয় তাই কথা আরো গভীরে নিতে চাইলো-

"কাউকে ভালোবাসা আর তাকেই সারাজীবন ভালোবেসে যাওয়ার মাঝে তফাত বোঝেন মাহির ভাই?"

মাহির নিজের ভালোবাসায় সর্বোচ্চ লুটিয়ে দিতেও প্রস্তুত। মিরার দ্বিধা দূর করতেই মাহির নিজের কথার পরিবর্তন করতে বলল-

"Sorry but I want to change my Statement..."

মিরা মনযোগ দিলো মাহিরের কথায়। মাহির দ্বিতীয়বার বলল-

"আমি সোরায়াকেই ভালোবাসি ভাবি।"

মাহিরের কথা কানে পৌঁছাতেই মিরার গায়ে কাঁটা দিলো। হঠাৎ করে "কে" আর "কেই" শব্দাংশের মাঝে একটা বড় তফাত বোঝা গেল। মিরা পরবর্তীতে আর কিছু বলার জন্য খুঁজে পেল না। মাহির মিরার দিকে এগিয়ে গিয়ে একদম মুখমুখি দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল-

"ভাবি...আমি ভালো পরিবারের ছেলে। অনেক বড় মুসিবতে পরে গেছি আপনার বোনটাকে ভালোবেসে। সূর্যের চারপাশে ঘুরতে থাকা পৃথিবীর মতো অবস্থা হয়ে

গেছে আমার আর আপনার বোন...সূর্য রূপে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। ওকে ছাড়া দিন রাতের তফাত বোঝা আমার দ্বারা হবে না। একজন অসহায় ব্যক্তি কে ফেরাবেন না প্লিজ ভাবি। আপনার বোন যে আমার বড্ড শখের,

বড্ড পছন্দের। আমি ওকে যেকোনো মূল্যে নিজের করে চাই। আপনি যা বলবেন আমি তাই করতে রাজি।"

মাহিরের কথা শুনে মিরার গলা শুকিয়ে এলো। রায়ান বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে থেকে মনে মনে বিড়বিড় করলো-

"বাবা রে, কি ডায়লগ ঝারছে একটা পর একটা। মন চাইছে তালি বাজাই। শালায় কই থেকে ট্রেনিং নিছে?

রুদ্র কে কয়েকদিন পাঠানো লাগবে ট্রেনিং এর জন্য মাহিরের কাছে। যদি কিছু শিখতে পারে! আমার কাছ থেকে তো কিছু শিখলো না হাদারাম টা।"

মিরা মাহিরের কথা শুনে সোজা ভাষায় বলল-

"সোরায়া এখন অনেক ছোট মাহির ভাই। আমি চাই না ওর পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারের মাঝে অন্য কিছু আসুক। আর আমি এটাও জানি আপনিও এমনটা চান না।"

মাহির মিরার কথা বুঝতে পারলো। মাহির চাইছিল না মিরার মনে কোনো ধরনের দ্বিধা থাকুক। তাই নিজের থেকেই জিজ্ঞেস করে নিল-

"ভাবি আপনি বলুন আপনি কি চান? আমি সব করতে রাজি শুধু সোরায়া কে ছাড়তে বলবেন না আমাকে। আমি পারবো না।"

মিরা মুচকি হেঁসে বলল-

"আমার বোন কি চায় তা আমি জানি। ওর চাওয়ার বাইরে আমি কখনো যাই নি। ও যা চায় তা ওকে দেওয়া আমার দায়িত্ব। ও আপনাকে ভালোবাসে তা আমি জানি। আমি কখনো ওর ভালোবাসার মানুষ কে ওর থেকে আলাদা করতে চাইবো না। তো আপনার ভয় পেতে হবে না।"

মাহিরের মনে স্বস্তির হাওয়া বয়ে গেল। মাহির মিরার হাত আঁকড়ে উৎসাহিত হয়ে বলল-

"Thank you, ভাবি। Thank you so much..আমি আপনাকে কথা দিচ্ছে অনেক অনেক অনেক যত্নে রাখবো সোরায়াকে আমি।"

মিরা মিষ্টি হেঁসে বলল-

"সামনের সপ্তাহে যদি আংকেল আন্টি কে বাড়িতে নিয়ে আসতেন তাহলে আরো ভালো হতো। পারিবারিক ভাবে কথা হয়ে থাকলে নিশ্চিন্তে থাকতাম আমি।"

মাহির সাথে সাথে রাজি হয়ে গেল-

"আপনি যখন বলবেন আমি তখন আম্মু আব্বু কে নিয়ে আসবো। আম্মুকে জানালে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাবে আমি সিওর।"

রায়ান পিছন থেকে এসে মাহিরের কাঁধে হাত রেখে বলল-

"এটা একদম ঠিক বলেছিস, (মিরাকে উদ্দেশ্যে করে) তোমার কোনো আইডিয়া নেই আন্টি ওর বিয়ে দেওয়ার জন্য কত ডেস্পারেট। একবার তো মেয়ে বাড়ির লোকজনকেই ছেলে দেখার জন্য বাড়িতে ডেকে নিয়েছিল।"

মিরা রায়ানের কথা শুনে জোরে হেঁসে ফেলল। সাথে মাহির ও লজ্জিত হয়ে মৃদু হাসলো। রায়ান কিছু প্লেন করে মিরাকে বলল-

"আচ্ছা এসব এখনি সোরায়াকে বলার দরকার নেই । একটু মজা করা যাবে ওর সাথে এটা নিয়ে।"

মিরা মিটিমিটি হেঁসে বলল-

"ওকে কিছু জানানোর প্রয়োজন এমনিতেও পড়বে না। যে সব অলরেডি জানে তাকে আর কি জানাবেন?"

মাহির রায়ান অবাক হলো মিরার কথায়। রায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে মিরা কে জিজ্ঞেস করলো-

"মানে?...কি বলতে চাইছো?"

মিরা মুখে আঙ্গুল রেখে রায়ান আর মাহির কে ইশারা করলো চুপ থাকার জন্য-"সুসসসস..!"

মাহির আর রায়ান একসাথে নিজেদের মুখে আঙ্গুল রেখে চুপ করলে মিরা ফিসফিস করে বলল-

"Watch me.."

এরপর মিরা ধীর পায়ে দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ ঠাস করে দরজা খুলে দিতেই সোরায়া হুমড়ি খেয়ে ঘরে ঠুকে পড়লো ব্যালেন্স রাখতে না পেরে। মাহির রায়ান সোরায়া কে দেখে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকলো। সোরায়া তাদের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে বানোয়াট হাসলো হিহিহি করে। মিরা দরজাটা আবার লাগিয়ে দিয়ে সোরায়ার কাঁধে হাত রেখে রায়ান আর মাহির কে উদ্দেশ্য করে বলল-

"আমার বোন কে আমার থেকে ভালো কেউ চেনে না। আমাদের মধ্যে কি কথা হচ্ছে তা না জানলে মহারানির রাতে ঘুম হতো না। আমি জানতাম ও দরজা ওপাস থেকে সব শুনছে লুকিয়ে লুকিয়ে। Now see.. I am right.."

মাহির আর রায়ান একে অপরকে ধরে হাসতে থাকলো। সোরায়া মুখ ফুলিয়ে বলল-

"ধুর, খেলব না আমি। আমাকে নিয়ে খালি মজা করে।"

সোরায়া মুখ ফুলিয়ে ঘর থেকে বের হতে নিলে মিরা সোরায়াকে পিছন থেকে জাপটে ধরে মাহির আর রায়ানের উদ্দেশ্যে বলল-

"সত্যি তো, আপনাদের সাহস তো কম না। আমার বোনকে নিয়ে হাসাহাসি করছেন। বের হন এখনি আমি আমার বনুর সাথে কথা বলবো।"

রায়ান আর মাহির মিটিমিটি হেঁসে একে অপরের সাথে চোখাচোখি করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। এমনিতেই অনেক রাত হয়ে গেছে বাড়িও ফিরতে হবে। মাহির সোরায়াকে চোখের ইশারায় বলল-

"একটু পর মেসেজ দিচ্ছি, দেখো।"

সোরায়া মাথা হেলিয়ে সম্মতি দিল। রায়ান আর মাহির চলে যাওয়ার পর সোরায়া মিরাকে জড়িয়ে ধরে লাফিয়ে উঠলো-

"Thank you আপু, thank you thank you so much.. আমি জানতাম তুমি ঠিক আমাকে বুঝবে। I love you..you are the best sister in the world.."

মিরা সোরায়ার পিঠে হাত রেখে বলল-

"হ্যাঁ হ্যাঁ হয়েছে, মেনে নিয়েছি বলে আমি বেস্ট তাই না?"

সোরায়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল-

"আমি জানি আমার আপু কখনো ভুল করে না। তুমি যা বলতে চাই ঠিক হতো।"

মিরা সোরায়ার কাঁধে হাত রেখে খুব গম্ভীর গলায় বলল-

"মেনে নিয়েছি বলে যেখানে সেখানে তুমি চুমু খেয়ে বেরাবে এমন যেন না হয়। বিয়ের আগে যেন দুজনকে কাছাকাছি না দেখি আমি। সবকিছুরই একটা সময় আছে। মাথায় ঢুকছে কি বলছি আমি?"

সোরায়া নিজের কাজে লজ্জিত। সে মিরাকে একটু পরিস্থিতি টা বোঝানোর চেষ্টা করলো-

"আপু বিশ্বাস করো আজই প্রথম বার ছিল। আমি এতো কিছু ভাবিনি। আর মাহির স্যার কিছু করেন নি প্রথমে আমিই করেছিলাম..!"

মিরা ভ্রু কুঁচকে সোরায়ার দিকে তাকালো বলে সোরায়া মাহিরের হয়ে বলল-

"আপু, মাহির স্যার অনেক ভালো। উনি কখনো আমাকে খারাপ নজরে দেখেন নি।"

মিরা দেখানো হাঁসি হেঁসে সোরায়ার মাথায় হাত রেখে বলল-

"একজন পুরুষ মানুষের নজরকি পরিমানে খারাপ বিয়ের পরই বুঝবি।"

-"আর আমি জানি ওই কাজের শুরু আপনিই করেছেন। মাহির ভাই যথেষ্ট ডিসেন্ট। তুই উস্কানি দিয়েছিস। সব ওই উপন্যাস পড়ার ফল। এক একটা উপন্যাস পড়বে আর হুমড়ি খেয়ে ওই গল্পের নায়কের প্রেমে পড়ে যাবে। তারপর সারাদিন খালি ওই এক চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরবে। তুই জানিস আমার এই সম্পর্কে রাজি হওয়ার এটাও একটা কারণ, কবে দেখা যাবে ওইসব কাল্পনিক পুরুষের চক্করে পড়ে আর বাস্তব কোনো পুরুষ মানুষ ভালোই লাগবে না।"

সোরায়া মিরার কথায় হো হো করে হেঁসে বলল -

"আপু তুমি সব সময় এতো সত্য কথা কি করে বলো? আসলেও ঘটনা সত্য।"

মিরা সোরায়ার মাথায় গাট্টা মেরে বলল-

"পড়াশোনায় মন দে। সামনে পরীক্ষা। রেজাল্ট ভালো না হলে বিয়ে দেব না। যা ঘরে যা। ঘুমান গিয়ে। যা বলেছি তা যেন মাথায় থাকে- উল্টো পাল্টা কিছু করা বাড়ন।"

সোরায়া মাথায় হাতের তালু ঘষতে ঘষতে ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা নিজের ঘরে গেলো।

_____________

রুদ্র রিমিকে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলার পর রিমি বেশ চিন্তিত হয়ে রুদ্র কে জিজ্ঞেস করলো-

"এখন কি হবে তাহলে? আপনার কি মনে হয় মিরা কি করবে?"

রুদ্র হেঁসে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রিমিকে অভয় দিয়ে বলল-

"আরে চিন্তা করো না তো। মিরা অনেক ম্যাচিউর। আর তার চেয়েও বড় কথা ও সোরায়াকে অনেক ভালোবাসে। ছোট থেকে দেখছি ওদের। দুই শরীর এক আত্মা, একজনের কিছু হলে অন্যর গায়ে ফোস্কা পড়ে। কিছু হবে না। আর মাহির ভাই ঠিক মানিয়ে নেবে।"

রিমি রুদ্রর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে তা মেনে নিল। রুদ্র নিজের পড়নের শার্ট টা চেঞ্জ করতে বোতাম গুলো খুলতে শুরু করলো ঘরেই রিমির সামনে। রিমি এক নজর রুদ্রর বলিষ্ঠ ফর্সা পিঠ দেখেই আবার চোখ নিচু করে নিয়ে আমতা আমতা করে বলল-

"আ...আমি ঘরে থেকে বেরিয়ে যাই বরং। আপনি চেঞ্জ করুন।"

রুদ্র অবাক হয়ে রিমির দিকে তাকিয়ে দেখলো রিমি বিছানা থেকে নেমে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। রুদ্র উন্মুক্ত শরীরেই দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে রিমির হাত ধরে হেঁচকা টানে নিজের বুকের সাথে রিমি কে মিশিয়ে নিয়ে বলল-

"আরে অদ্ভুত তো, তোমার বাইরে কেন যেতে হবে?"

রিমির হাত দুটো রুদ্রর বুকের উপর লেপ্টে আছে। রিমি অস্বস্তিতে রুদ্রর দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে আবার চোখ নামিয়ে নিল। রুদ্র হঠাৎ করে রিমিকের ছেঁড়ে দিয়ে একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে বলল-

"সরি। আমি তোমাকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাই নি। ওইভাবে উঠে চলে যাচ্ছিলে তাই ধরে ফেলেছি। যেতে চাইলে যাও।"

রুদ্রর হঠাৎ এমন ছেঁড়ে দেওয়া রিমির ঠিক ভালো লাগলো না। রিমির অনুযায়ী- ধরেছে যখন ধরার পর সরি কেন বলবে। রিমি আর ঘর থেকে বেরোলো না। রুদ্র রিমির থেকে দূরে সরে গিয়ে একটা টি-শার্ট পড়ে নিল। রিমি রুদ্র কে তখন নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো-

"আপনি কি আমাকে এখন থেকে তুমি করেই ডাকবেন?"

রুদ্র রিমির উদ্দেশ্যে আয়নার মধ্যে দিয়ে তাকিয়ে বলল-

"হুম, তাই ইচ্ছে আমার। তোমার সমস্যা থাকলে বলতে পারো।"

রিমি মনে মনে বিড়বিড় করলো-"কি আজব সমস্যা কেন হবে জিজ্ঞেস করলাম শুধু।"

কিন্তু রুদ্রর সামনে শুধু মাথা না সূচক নেড়ে বোঝালো তার কোনো সমস্যা নেই। রুদ্র বিছানায় বালিশ গুছিয়ে রাখতে রাখতে বলল-

"বিছানায় আসো।"

রিমির চোখ গুলো হঠাৎ বড় বড় হয়ে গেলো, শপিং মলে রুদ্রর সেই রূপ চোখে ভেসে উঠলো। মনে মনে একবার তাদের সেই ছোট্ট চুমুর দৃশ্য টা কল্পনা করে আশ্চর্য গলায় বলল-

"বিছানায় আসবো মানে?"

রুদ্র রিমির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন সূচক কন্ঠে বলল-

"বিছানায় না আসলে ঘুমাবে কই শুনি? রাত তো ঘুমানোর জন্যই নাকি।"

বাকি অংশ বিড়বিড় করলো-"রাত জাগার জন্য কিছু করা তো লাগবে। তা তো হবে না তোমার দ্বারা।"

রিমি রুদ্রর কথায় একটু অস্বস্তি অনুভব করলো-"উফফফ্, রিমি কিনা কি ভেবে বসে আছিস তুই।"

তারপর সেও এগিয়ে গিয়ে বিছানায় উঠে নিজের দিকের বালিশ ঠিকঠাক করে নিয়ে শুয়ে পড়লো। ঘরটা এখন সম্পূর্ণ অন্ধকার। রুদ্র বাম দিকে আর রিমি ঠিক ডান দিকে শুয়ে আছে। অনেকটা সময় পার হলো কিন্তু রিমি আর ঘুমাতে পারছে না। বার বার ওই চরের কথায় মাথায় আসছে। সে রুদ্রর কাছে আজকের জন্য ক্ষমা চাইতে চেয়েছিল তাই একটু সাহস যুগিয়ে রুদ্র কে ডাকলো-

"এই যে শুনছেন... আপনি কি ঘুমিয়ে গেছেন?"

রুদ্র মৃদু আওয়াজ করলো-"উঁহু।"

রিমি আমতা আমতা করে বলল-

"কিছু বলার ছিল।"

-"বলো, শুনছি।"

রিমি বাম দিক থেকে ঘুরে ডান দিকে ফিরে বলল-

"একটু এই দিকে ঘুরে আমার দিকে তাকাবেন?"

রুদ্র ফিরে তাকালো। এখন দুইজন একে অপরের মুখমুখি হয়ে শুয়ে আছে। রুদ্র রিমির চোখে চোখ রেখে বলল-

"কি হলো? তোমার দিকেই তো তাকিয়ে আছি এখন। বলছো না কেন কিছু?"

রিমি অপরাধ বোধে চোখ নামিয়ে নিয়ে বলল-

"সরি।"

রুদ্র মুচকি হেঁসে রিমিকে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের মাঝে লুকিয়ে নিয়ে বলল-

"আমিও সরি। আমি বেশি করে ফেলেছিলাম। আমাকে ভুল বুঝো না। আর ভেবো না, আমি তোমাকে ভালোবাসি বলে মহান সাজছি।"

রিমি একটু ঘাবড়ে গেল রুদ্র এমন আঁতকা তাকে কাছে টেনে নেওয়াতে। কিন্তু রুদ্রর কথায় সে একটু লজ্জা পায়। নিজের মুখটা বাচ্চাদের মতো উঁচু করে পাল্টা প্রশ্ন করলো রুদ্র কে জ্বালাতে-

"মানে...?"

সে ভেবেছিল রুদ্র দ্বিতীয় বার এই কথা বলবে না হয়তো তবে সে ভুল প্রমাণিত তো হলো ঠিক পর মুহূর্তেই। রুদ্র রিমির কপালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে বলল-

"মানে....আমি তোমাকে ভীষণ রকম ভালোবাসি রিমি।"

রিমি আবারো লজ্জায় নিজের মুখ রুদ্রর বুকে লুকিয়ে নিলে রুদ্র রিমিকে আরো লজ্জায় ফেলতে বলল-

"লজ্জা মাখা মুখটা অন্তত দেখতে দাও আমাকে?"

রিমি রুদ্রকে দূরে ঠেলে দিয়ে বাম দিকে ফিরে গেল বলে রুদ্র রিমির কোমরে তার বলিষ্ঠ হাত পেঁচিয়ে টেনে নিজের বুকের সাথে রিমির পিঠ ঠেকিয়ে বলল-

"কোথায় পালানো হচ্ছে? যত কাছাকাছি থাকবে তত ভালো রাত কাটবে নয়তো..!"

রিমি প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে একটু ঘুরে রুদ্রর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

"নয়তো...!"

রুদ্র রিমির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল-

"You will witness a horrible night..."

রিমির গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো হঠাৎ। রুদ্র ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-

"ঘুমাতে দিচ্ছিল তো লক্ষ্মী বউয়ের মতো ঘুমাও।"

রিমি তখন আর নড়াচড়া ও করলো না। চুপ করে ওভাবেই শুয়ে থাকলো রুদ্রর সাথে।

_______

মাহির কে বিদায় দিয়ে রায়ান ঘরে এসে শুয়ে পড়েছে। অন্ধকার ঘরে কেবল আকাশের মৃদু আলো টুকু আছে। এখন প্রায় মাঝ রাত। ঘুম না আসার জন্য রায়ান এপাশ ওপাশ করছে বার বার। মিরা শুয়ে আছে অন্য দিকে ফিরে। রায়ানের নড়াচড়ায় বিছানাও নড়ছে বলে মিরাও ঘুমাতে পারছে না। রায়ান আজ ঘুমানোর সময় মিরাকে স্পর্শ করে নি। এটা নিয়ে মিরা মনে মনে বিরক্ত কিন্তু কিছু বলতে পারছে না মুখ ফুটে। আর রায়ানের হাম ভাবে এটা স্পষ্ট যে, মিরাকে জড়িয়ে ঘুমাতে পারছে না বলেই তার ঘুম আসছে না। বলা বাহুল্য বড্ড বাজে অভ্যাস হয়ে গেছে ছেলেটার। পুরুষের রূপ দুইটা- একটা দুনিয়ার সবার জন্য, আরেকটা শুধু বউয়ের জন্য। মিরা চোখ বাঁকিয়ে রায়ানের গতিবেগ বুঝতে চেষ্টা করে বিড়বিড় করলো-

"না ধরে ঘুমাতে পারে না তো ধরছে না কেন কি আশ্চর্য। আমিও ঘুমাতে পারছি না। ধুর।"

মিরা বিরক্ত হয়ে বিছানায় উঠে বসে বলল-

"আপনি কি এভাবেই কৈ মাছের মতো ছটফট করতে থাকবেন? নিজে তো ঘুমাচ্ছেন না আমাকেও ঘুমাতে দিচ্ছেন না। কি চাই হ্যাঁ?"

রায়ান মিরার কথায় কোনো উত্তর দেবে না বলে চুপ করে থাকলো। মিরা অধৈর্য হয়ে বলল-

"মানে বুঝলাম না এমন জেদের কারণ কি? আমাকে না ধরলে ঘুমাতে পারেন না তো বৃথা চেষ্টা কেন করছেন?"

রায়ান ফট করে উঠে বসে গম্ভীর গলায় বলল-

"তুমি না বলে বেড়াও আমি তোমাকে ঘুমাতে দেই না। তাই ধরছি না। ঘুমাও যত ইচ্ছে। এখন তো খুব খুশি তুমি তাই না, আমার ঘুম, সুখ, শান্তি সব কেড়ে নিয়ে।"

মিরার কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়লো। রায়ানের এই বাচ্চা রূপ টা শুধু তার সামনেই চলে এমনিতে সবার সামনে কি ঠাটবাট! মিরা রায়ানকে ঠেলে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজে রায়ানের কাছাকাছি শুয়ে হাত বাড়িয়ে রায়ান কে নিজের কাছে ডাকলো-

"আসুন।"

রায়ান বাধ্য ছেলের মতো মিরার কাছে গেল। মিরা রায়ান কে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-

"৫ মিনিটে ঘুমাবেন। আমার ঘুম পেয়েছে।"

রায়ান আবেশে মিরার কোমর দুই হাতে আঁকড়ে ধরে নিজের চোখ দুটো বন্ধ করলো। সরি শেষে এক লম্বা দিনের সমাপ্তি। সব কিছু মিটমাট। রায়ান ঘুমিয়ে যাওয়ার পর মিরাও অচিরেই ঘুমের দেশে পারি জমালো।

চলবে...

আজকের পর্ব টা কেমন হয়েছে কে জানে। এর পর একটা বড় টাইম ল্যাপ যাবে। কিছু ইন্টারেস্টিং হবে। ভাবতেও কেমন কেমন লাগে গল্প টা শেষ হয়ে যাবে তাই রং কিছু দিন পর। শেষ কিছুদিন একটু ভালোবাসা দেখাও তোমাদের পাখিরা। Love you pakhis ❤️ 🥰

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন