ফন্ট সাইজ:
থিম:
শত ডানার প্রজাপতি

৫ম পর্ব

লেখক: উর্মি প্রেমা

#শত ডানার প্রজাপতি

#urme prema (sajiana monir )

পার্ট : ৫

( জানি পার্টটা ছোট হয়েছে । কাল সকালে আর একটা পার্ট দিবো । )

চোখ বন্ধ করেই টের পেলাম কেউ খুব শক্ত করে কমোড় জড়িয়ে ধরে আছে । চোখ খুলে দেখি অগ্নি ভাইয়া আমার কমোড় নিজের দুহাতে জড়িয়ে ধরে আমার পেটে মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে । উনার অর্ধেক টা শরীর ফ্লোরে । এসব দেখে আমার মাথা ঘুরানোর উপক্রম ।আমি রুমে কি করে আমি তো কাল রাতে ছাদে ছিলাম । আর উনিই আমার এত কাছে কেন ? উনি কি নিজের ইচ্ছায় আমার কাছে এসেছে ? নাকি ড্রাংক হয়ে এসেছে ? নিজের থেকে তো কাছে আসার কথা না । যেই পরিমাণে ঘৃনা করে বাপরে !

নিশ্চিত ড্রাংক অবস্থায় এসেছে ।

আস্তে আস্তে উঠে বসার চেস্টা করি । কিন্তু বিশেষ কোন লাভ হয় না । সামান্য নড়ার শক্তিটুকু নেই । শরীর টা খুব ব্যথা করছে । মাথাটাও ঝিমঝিম করছে । উফফ ,কি অসয্য যন্ত্রণা !

হ্ঠাৎ আয়নার তাকিয়ে আমার নিজের দিকে খেয়াল গেল ।আমি কুর্তি তে কি করে । হে আল্লাহ্‌ আমার কাপড় কে পাল্টালো ?

তবে কি কাল রাতে আমাদের মাঝে কিছু হয়েছে ? এসব ভেবেই আমার কান্না আসছে । আমি ফুফিয়ে কান্না করে দেই ।আমার কান্নায় তার ঘুম ভাঙ্গে । আমাকে কান্না করতে দেখে । উনি লাফ দিয়ে উঠে আমার কপালে হাত দিয়ে টেম্পারেচার চেক করছে ।চিন্তিত হয়ে বললেন ,

- "জ্বর তো নেই । কান্না করছো কেন ? শরীর খুব খারাপ লাগছে কি ? "

আমি উনার কথায় উনার দিকে অগ্নিদৃস্টিতে তাকিয়ে । আমার কান্না জুড়ে দিলাম । উনি ভ্রু কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে ।হয়তো বুঝার চেষ্টা করছে কি হয়েছে । আমি সেদিকে ধ্যান না দিয়ে কান্না করতে লাগলাম । কিছুতেই নিজের কান্না থামাতে পারছিলাম না । উনিই তো বলেছিলেন আমাদের মাঝে কোন সম্পর্ক নেই । আমাকে নিজের বউ মানে না । তাহলে কেন আমার কাছে আসলো ? আমি তো উনার কাছে যাইনি তবে কেন উনি আমার কাছে আসলো ? এখন আমার কি হবে? এসব ভেবেই আমি আরো জোরে জোরে কান্না দেই !

উনি শীতল গলায় জিগ্যেস করলেন ,

- "কি হয়েছে বলবে কি ? এভাবে কান্না করছো কেন ? "

উনার কথা শুনে আমি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠি । ঝাঝালো গলায় উত্তর দেই ,

- "আমার সব শেষ করে জিগাসা করা হচ্ছে কি হয়েছে ? খুব তো বলেছিলেন আমার স্ত্রী মানেন না হ্যান ত্যান । তাহলে এসব কেন করলেন ? বিয়েটা তো একটা কন্ট্রাক্ট ছিলো বছর পর তো আমাকে ছেড়ে দিবেন ।তাহলে এসবের কি খুব দরকার ছিলো ? আপনার তো কিছু হবে না । আমার উপর তো একটা দাগ লেগে গেল ! "

উনি দাতেঁ দাতঁ চেপে বললেন,

- "হোয়ার্ট ননস্যান ! মাথা কি পুরোপুরি খারাপ হয়ে গিয়েছে ? "

- "এখন এমন ভাব করছেন ,যেন ভাজা মাছটা উল্টাতে পারেননা ?

কাল রাতে তো ঠিকই সুযোগের ব্যবহার করেছেন । আমার অজ্ঞান অবস্থার সুযোগ নিয়েছেন ! "

আমার কথায় উনি ভয়ংকর রেগে যায় ।মূহুর্তেই উনার চোখ মুখ লাল হয়ে যায় । আমার কাছে এসে আমার বাহু ধরে টান দিয়ে খাটের সাথে চেপে ধরে । অটোমেটিক আমার কান্না থেমে যায় ।

উনি আমার চোখে নিজের চোখ রাখলেন । উনার চোখের ক্রুদ্ধ চাহনী আমার চোখের দিকে । আমি উনার ভয়ংকর রাগে দমিয়ে যাই । শুকনো ঢোক গিলি । উনি ক্রুদ্ধ কন্ঠে বললেন,

- "সব সময় কি তোমার মাথায় এসব চলে ? তোমার কি মনে হয় তোমাকে নিজের করতে আমার তোমার অজ্ঞান অবস্থার সুযোগ নিতে হবে ? না হুর ,আমি চাইলেই তোমাকে এই মুহুর্তে নিজের করতে পারি ।

নিজের নিম্ন চিন্তা ভাবনা নিজের কাছে রাখো । আমার তোমার প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নেই ! "

কথা শেষ করেই রেগে রুম থেকে চলে গেলো । আমি উনার যাওয়ার দিকে থ মেরে তাকিয়ে রইলাম ।

অগ্নি যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হিয়া আপু আমার রুমে আসে।আপুকে দেখে মুখে মলিন হাসি টেনে নিলাম । হিয়া আপু আমার কপালে হাত রেখে শরীরের তাপ চেক করে বললেন ,

- "যাক তাহলে জ্বর ছেড়েছে । জানিস কাল রাতে যখন তোকে অগ্নি ভাইয়ার কোলে অজ্ঞান অবস্থায় দেখেছি কতটা ভয় পেয়েছিলাম ?

তোকে অজ্ঞান দেখে অগ্নি ভাইয়া কতটা অস্থির হয়ে গিয়েছিল তুই জানিস ?তার উপর আবার জ্বর । আমাকে তাড়াতাড়ি করে তোর কাপড় পাল্টিয়ে দিতে বললেন । এই রাতেই ডক্টর কে আনিয়ে চেকআপ করায় । সারারাত জেগে তোর খেয়াল রাখে ।ভোর রাতের দিকে এসে দেখি জলপট্টি দিচ্ছে !

আহা! কত কষ্টই না তিনি করেছেন । "

আমি আপুর কথা শুনে থম হয়ে বসে রইলাম । নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছে । চিৎকার করে কান্না আসছে ।খুব অনুতাপ হচ্ছে।উনি আমার জন্য এতকিছু করলো আর আমি কিনা তার উপর মিথ্যা অপবাদ দিলাম ? যা না তাই বলে দিলাম ? ইশশ লোকটা কে এই ভাবে বলা একদম উচিত হয়নি । আমার উনার থেকে ক্ষমা চাইতেই হবে ।

ব্যথিত শরীর নিয়েই ছুটে যাই বাহিরে । পুরোবাড়িতে উনাকে খুঁজি কিন্তু পাই না ।কাউকে জিগাসা করবো ? না থাক । সবাই কি ভাববে ? কিন্তু আমার যে উনার খুব চিন্তা হচ্ছে । মন মানছে না । খুব বেশি অস্তির লাগছে।

যেই পর্যন্ত তার থেকে ক্ষমা না চাইবো মন যে শান্ত হবে না !

তাই সব চিন্তা ভাবনা লাজলজ্জা বাদ দিয়ে হিয়া আপুকে জিগ্যেস করেই ফেললাম ,

- "আপু উনি কই ? "

আপু হয়তো বুজতে পেড়েছেন । মুখের হাসি চেপে ধরে মজার ছলে বললেন ,

- "কোন উনির কথা বলছিস বলতো ? "

আমি মাথা নিচু করে লজ্জার স্বরে বললাম,

- "ইয়ে মানে আপু আমি অগ্নি ভাইয়ার কথা বলছিলাম ! "

আপু কিটকিটে হেসে বললেন ,

- "অগ্নি ভাইয়া ? মানে এখনো ভাইয়া বলবি ? বাচ্চাকাচ্চা হলে কি ডাক শিখাবি মামা ? বাচ্চারা তো কনফিউজড হয়ে যাবে । বাবা বলবে নাকি মামা বলবে ! "

আপু নিজের কথা শেষ করেই আমার হাসতে লাগে । আমি লজ্জায় বিয়ে বাড়ির লাল নিল মরিচ বাতির মত জ্বলছি । উফফ আপুও না বিয়ের পর একদম লাগামহীন হয়ে গেছে । হুট করে যা নয় তা বলে ফেলে ।আপু হাসি থামিয়ে বললেন,

- "হয়েছে হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না ।তোর উনি বেরিয়েছেন ।যাওয়ার সময় বলেছেন যেন তোর খেয়াল রাখি ।তোকে টাইম মত খাবার আর মেডিসিন দেই । তুই বাহানা করলে যেন জোর করে খাওয়াই । বুঝলি !

এখন যা রুমে গিয়ে বস আমি খাবার নিয়ে আসি । "

বলেই আপু আপু চলে গেল । আমি বিছানায় উপর দপ করে বসে পড়ি। আচ্ছা এই লোক এমন কেন !

এক রাতেই উনার এত পরিবর্তন ? কি এমন হয়েছে কাল যার জন্য উনি আমার প্রতি হুট করে এত দুর্বল হয়ে পড়লো ? কাল কিছু কি হয়েছে ? কেন উনি আমার এত খেয়াল রাখছে ? উনি তো আমাকে ঘৃনা করে । আর এক বছর পর আমরা আলাদা হয়ে যাবো তাহলে এত কেয়ার কেন করছে ? উফফফ এত প্রশ্ন কোনো উত্তর নেই ।ইদানীং আমার জীবনটা গোলক ধাঁদা হয়ে গেছে যতই উত্তর খুঁজতে যাই সব এলোমেলো হয়ে যায় । আমাকে টেনে এনে সেই একই জায়গায় দাড় করায় ।

মামা দুপুরে বললেন আজ আমরা যাচ্ছিনা।কাল বিকেলে বাড়িতে ফিরবো । এদিকে টিয়া আপু কাল রাতেই রেগে চলে গেছে । যাওয়ার সময় বলে গিয়েছে আমার যতদিন এই বাড়ির সাথে সম্পর্ক আছে উনি এই বাড়িতে আসবে না ।

সারাদিন কেটে যায় । অগ্নির কোন খোঁজ খবর নেই । কোথায় আছে জানা নেই । আবির ভাইয়া থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন দিয়ে দেখি ফোন সুইচফ । খুব চিন্তা হচ্ছে উনার । রেগে হুট করে মানুষটা কোথায় চলে গেলো? আবার কোন বিপদ হয়নি তো? মন কু ডাকছে । এই অস্তিরতা সয্য হচ্ছেনা ।

বারান্ধায় দাড়িয়ে আছি ।কিছুক্ষন পূর্বেই সূর্য ডুবেছে । সন্ধ্যা হচ্ছে চারদিকে মাত্রই অন্ধকার নামছে । উনার এখনো ফিরার নাম নেই !

এই লোক কি আমাকে চিন্তায় চিন্তায় মেরেই ফেলবে ?

সে কি আদো বুজতে পারছে তার জন্য যে আমার খুব চিন্তা হচ্ছে !

এমন সময়ই ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেল । চারদিকে ঘিটঘিটে অন্ধকার।হ্ঠাৎই রুম থেকে দরজা খুলার শব্দ আসে । আপু এসেছে কি ? হতে পারে । আমি এক পা এক পা করে রুমের দিকে এগিয়ে যাই ।অন্ধকার খুব বেশি ভয় করে। ছোট থেকেই অন্ধকারে একদম থাকতে পারিনা ।কেন জানো মনে হয় অন্ধকারে কাল্পনিক দৈত্য আমাকে চেপে ধরে নিজের সাথে পাতাল দেশে নিয়ে যাবে । আমি ভয়ে ভয়ে ধীর স্বরে বলি ,

- "আপু তুমি এসেছো কি ? "

কিন্তু কোন উত্তর নেই । আমি ঢোক গিলে বললাম ,

- "দেখো আপু মজা করোনা । আমি খুব ভয় পাচ্ছি । "

কথা বলতে বলতে রুমে ডুকছিলাম ।এমন সময়ই অন্ধকারে কিছুর সাথে আটকে নিচে পড়ে যেতে নেই । হঠাৎ ই কেউ একজন অন্ধকারে আমার কমোড় চেপে ধরে । আমাকে কোলে তুলে নেয় । আমি যেন হাওয়ায় ভাসছি । তবে কাল্পনিক দৈত্য সত্যি সত্যি চলে আসলো? এখন কি আমাকে নিজের সাথে পাতালদেশে নিয়ে যাবে ? আচ্ছা আমাকে আমার এখন কি হবে ! আমি আআয়ায়ায়ায়ায়ায়া করে চিৎকার দেই ।সাথে সাথে আমার মুখ কাল্পনিক দৈত্য চেপে ধরে !

আমার কি হবে ? আচ্ছা ,আমাকে দিয়ে রোস্ট করবে? নাকি রেজালা !

চলবে ......❤️

প্লিজ সবাই সবার মতামত জানাবেন ।ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন 😊😊😊

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন