#শত_ ডানার_ প্রজাপতি
#urme prema (sajiana monir )
পার্ট : ১১
আজ চিটাগাংয়ের জন্য রওনা হবো ।খুব ভোর সকালে উঠে পেকিং করা শুরু করি । অগ্নি এখনো ঘুমে । উনি উঠার আগেই সব পেকিং শেষ করি । আট টায় অগ্নির ঘুম ভাঙে । ড্রেসিংটেবিলের আয়নায় উনার ঘুম জড়ানো মুখটা দেখতেই স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে যায় । উনি আমার দিকে কেমন জানো মাতাল চাহনীতে তাকিয়ে । উনার এই চাহনির অর্থ আমার জানা নেই । কেমন জানো নেশা নেশা চোখের গাঢ় চাহনি । কেন জানো উনার এই চাহনিতে আমার মাঝে লজ্জাবোধ কাজ করছে ।
হ্ঠাৎ ই উনি কিছু একটা ভেবে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন,
- "চুলের পানিতে পিঠ ভিজে যাচ্ছে । চুলগুলো ভালো করে মুছো না হয় সর্দি লেগে যাবে !
আ ...আর জামার পিছনের ফিতাটা বাঁধো । "
উনার কথা শুনে সাথে সাথে উনার দিকে ফিরে দেয়ালের সাথে পিঠ দিয়ে ঘেষে দাড়াই । চোখ জোড়া যেন কোটর থেকে বের হয়ে আসবে । লজ্জায় আমার অবস্থা ত্যানা ত্যানা । অগ্নি হয়তো আমার অবস্থা বুঝতে পারেছে উনি বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে । উনি চলে যেতেই আমি ছোট নিশ্বাস ফেলি । আয়নার সামনে পিঠ দিয়ে দাড়াতেই দেখি পুরো পিঠ দেখা যাচ্ছে । এমনিতেই এই জামার পিছনের দিকটা একটু বড় । ফিতা খোলা থাকায় পুরো পিঠ দেখা যাচ্ছে।এমনকি পিঠের মধ্যভাগের কালো তিলটিও । ইশ ,কি লজ্জা ! কি লজ্জা !
প্রায় আধঘণ্টা পর উনি বের হয়ে আসেন । আমি উনার দিকে লজ্জায় তাকাতে পারছিনা তার উপর উনি আবার খালি গায়ে । শরীরে বিন্দু বিন্দু জল । উফফফ শ্বাস দ্রুত চলাচল করছে । বুকটা ভারী হয়ে আসছে । কেমন জানো মাতাল মাতাল লাগছে । এমন কেন হচ্ছে । এইসব লক্ষণ তো প্রেমরোগের ।তবে কি দিন দিন আমি এই কঠিন অসুখে গভীর ভাবে আক্রান্ত হচ্ছি !
আমি আড়চোখে অগ্নিকে বারবার দেখে যাচ্ছি । অগ্নি ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাড়িয়ে নিজের হেয়ার ব্রাশ করছে ।আর আয়নায় আমার দিকে সুক্ষ্ম দৃষ্টি নিক্ষেপ করছেন ।
হ্ঠাৎ ই গম্ভির আওয়াজে বললেন ,
- "কি হলো এই ভাবে রঙ্গান হচ্ছ কেন ? এনিথিং রং? "
আমি নিজ গালে হাত দিয়ে চেক করতে করতে আদো গলায় উত্তর দেই ,
- "কই ,কই না তো আমি একদম রঙ্গান হচ্ছি না । আ আপনি ভু ভুল দেখছেন । "
উনি এবার আমার দিকে ফিরে বাঁকা হেসে বললেন,
- "ও আচ্ছা ? তাই বুঝি ? তো তোমার গাল এমন লাল হচ্ছে কেন সুন্দরী ? "
- "কোনো লাল- টাল কিছুনা সবই আপনার চোখের ভুল । অকে ? "
উনি আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললেন ,
- "তাই ? এই যে মুখে মুচকি মুচকি হাসি গাল গুলো ব্লাশিং করছে ? আবার বলছো আমার দেখার ভুল? "
উনি আমার একদম কাছে । আমার দু'বাহুতে হাল্কা করে চেপে ধরেছে । এবার আমার প্রাণ যায় যায় অবস্থা । নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে । বুকের বাঁ পাশের ব্যথাটাও বেড়ে যাচ্ছে । উনি আমার দিকে ঝুঁকে ছোট ছোট চোখ করে বললেন ,
- "আজকাল তোমার কি হচ্ছে বলো তো সুন্দরী ? "
- "আমার কিছু হয় নি আপনিই আজকাল আমার দিকে একটু বেশি নজর দিচ্ছেন । বায় দ্যা ওয়ে আজ কাল আমার দিকে কেন এতো নজর দিচ্ছেন ? ঘটনা কি আমার প্রেমে পড়েছেন নাকি ? "
উনি আমার কথায় কিছুটা রেগে যায় । আমার বাহু ছেড়ে কিছুটা দূরে যায় । অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন,
- "শার্ট আপ ! এমন কিছুনা তুমি খুব বেশি বেশি ভাবছো । "
বলেই উনি কাবার্ডের দিকে এগিয়ে যায় ।আমি মিটমিট করে হাসছি । উনি মানুক আর না মানুক আমি ঠিক বুঝতে পারছি উনি আমার উপর ধীরেধীরে দুর্বল হচ্ছে । আমার ঘুমের ঘোরে উনার গভীর স্পর্শ তা বলে দেয় অগ্নি আমার উপর দুর্বল তাও খুব গভীর ভাবে ।
অগ্নি আমার দিকে ঘুরে অবাক হয়ে প্রশ্ন করে ,
- "আমার কাপড় কই ? "
আমি ভ্রু কুঁচকে ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর দেই ,
- "কেন এই যে বিছানার উপরই তো আছে ! "
- "তা তো আমিও দেখছি। বাকি কাপড় কই? "
- " বাকি গুলো পেকিং করেছি । "
- "তুমি কেন করতে গেলে । এসব তোমার কাজ না । আমারটা আমি করতে পারতাম । "
আমি জানি উনি ইচ্ছে করে এসব বলছে । উনি বার বার আমাকে কন্ট্রাক্ট মেরেজের কথা মনে করিয়ে দিতে চাইছে । উনার থেকে দূরে ঠেলে দিতে চাইছে । কিন্তু আমি যে তা হতে দিবো না ।যে করেই হোক না কেন উনার সাথেই থাকবো । উনার মুখ থেকে "ভালোবাসি "কথাটা বের করেই ছাড়বো ।
তাই উনার কথার উত্তরে বললাম ,
- "আমি আপনার বউ আর এসব আমার দায়িত্ব । তো আমি করতেই পারি । "
বলেই রুম থেকে চলে আসলাম । পিছনে একবারের জন্যও উনার দিকে তাকালাম না । নিশ্চিত রাক্ষসরাজ পেঁচার মুখ করে রেখেছে যা দেখার ইচ্ছা এই মুহূর্তে আমার একদম নেই !!!
______________________
মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠেছি । আপু আর ভাইয়া পিছনে । অগ্নি ড্রাইভ করবে । উবার পাশের সিটে আমি । মা বলেছিলো ফ্লাইটে যেতে ।কিন্তু আপু জিদ ধরেছে গাড়ীতেই যাবে । আপু প্রেগন্যান্ট আর আপুর কথা চিন্তা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ফ্লাইটে যাবো । এখন আপুর যেহেতু কোন সমস্যা নেই তাহলে গাড়ী তে যাওয়াই যায় ।তাছাড়া লং জার্নিতে অন্যরকম আনন্দ ।
গাড়ী ছাড়তেই আমি জানা খুলে দিলাম। মিষ্টি রোদ আর সেই সাথে মন শীতল করে দেওয়ার মত ঠান্ডা হাওয়া ।পাশের সিটে নিজের ভালোবাসার মানুষটা আর কি প্রয়োজন ? সব মিলিয়ে এক অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি ! ভালোবাসার মানুষ পাশে থাকলে হয়তো প্রত্যেকটা বেলা প্রত্যেকটা মুহূর্ত এমই মধুর আর আনন্দের হয় । আমি একবার আড়চোখে অগ্নিকে দেখে নিলাম তার পুরো মন এই মুহূর্ত ড্রাইভিং এর দিকে ।প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে মনে শুধু একটা প্রশ্ন জাগে ! আর বার বার উনাকে বলতে ইচ্ছে করে ।
আপনি এত সুন্দর কেন ? যে নজর সড়ানো মুশকিল হয়ে পড়ে !
উনার নেশা নেশা চোখ যে আমাকে মাতাল করে তা কি উনি বুঝে ?
মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে "ভালোবাসি ! খুব বেশি ভালোবাসি । আমাকে কেন আমার মত ভালোবাসেন না ? "
কিন্তু তা যে বলা সম্ভব না ।ভয় হয় যদি কথা বলা বন্ধ করে দেয় ? আমার থেকে দূরে সরে যায় ?
উফফফ এই দোটানা যন্ত্রণা যে আর সয্য হয় না !
আমি মুখ ভার করে বাহিরে তাকিয়ে রইলাম । উনার দিকে তাকিয়ে থাকলে শুধু বুকের যন্ত্রনা বাড়বে ।আগুন জ্বলবে । এই দহন যে আমার আর সয্য হয় না ।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার কারনে ঘুমে চোখ ভেঙে আসছে । আস্তে আস্তে চোখজোড়া লেগে যায় । ঘুমে তলিয়ে যাই ।
______________________________
দীর্ঘ নয় ঘন্টার পথ অতিক্রম করে এক বিরাট বাড়ির সামনে আমাদের গাড়ী দাড়িয়ে । দেখে মনে হচ্ছে কোন রাজবাড়ি । বাড়ির সামনে ইয়া বড় এক বাগান ।ধবধবে সাদা বাড়ি । আমি ভাবলেশহীন ভাবে অগ্নির দিকে তাকিয়ে জিগ্যেস করি ,
- "আমরা এই রাজবাড়ির সামনে দাড়িয়ে কেন ?এটা কোথায় ? "
অগ্নি সামনের দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়
- "ভিতরে গেলেই জানতে পারবে "
আমি অবাক হয়ে অগ্নির দিকে তাকাই । পাশফিরে আপুর দিকে তাকিয়ে দেখি আপুরও আমার মত একই অবস্থা । গেট খুলে দিতেই অগ্নি শু করে একটানে গাড়ী নিয়ে ভিতরে চলে যায় । বাড়ীর সামনে গাড়ী থামতেই যা দেখলাম তা দেখে আমার চোখ কপালে ।
(আগামীকাল আমার ছুটি গল্প দিবোনা 😶)
চলবে .......❤️
প্লিজ সবাই সবার মতামত জানাবেন । ভুল ত্রুটি ক্ষমা চোখে দেখবেন । 😊😊😊