ফন্ট সাইজ:
থিম:
শত ডানার প্রজাপতি

১৬তম পর্ব

লেখক: উর্মি প্রেমা

#শত_ ডানার_ প্রজাপতি

#urme prema (sajiana monir )

পার্ট : ১৬

পিটপিট চোখে সামনে তাকিয়ে আছি । এই মুহূর্তে বেডের থেকে উঠে হেঁটে গাড়ি পর্যন্ত যাওয়াটা আমার কাছে যুদ্ধ সমান । শরীরে সামান্যতম শক্তি নেই ।অগ্নি ডাক্টারের সাথে কথা বলতে ডাক্টারের চেম্বারে গিয়েছে ।

আমি মনে আসমান সমান শক্তি নিয়ে সামনের দিকে একপা আগাই । দ্বিতীয় পা ফেলার আগেই মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নেই । এমন সময়ই কেউ আমার কমোড় জরিয়ে ধরে । নিজের বুকে আশ্রয় দেয় ।তার শরীরের মিষ্টি ঘ্রাণ আমার খুব পরিচীত । চোখ বন্ধ করে বলতে পারছি এটা অগ্নি । আমার মাথায় কিছুসময় হাত বুলিয়ে হুট করে আমাকে নিজের কোলে তুলে নেয় । আমিও গুটিসুটি মেরে উনার বুকের মাঝে মিশে যাই । হাল্কা মাথা তুলে উনার দিকে আদো আদো চোখে তাকাই । উনি আমার দিকে গম্ভির ভাবে তাকিয়ে । সামনের দিকে বড় বড় পা ফেলতে ফেলতে গম্ভির কন্ঠে বললেন ,

- "এত তাড়া কিসের ? একটু কি আমার আসার অপেক্ষা করা যায়নি ? আমি তো বলেছিলাম এখানে অপেক্ষা করতে । "

আমি আদো আদো গলায় উত্তর দেই ,

- "ভাবলাম আমি নিজেই চেষ্টা করি। আর কতবার আপনাকে বিরক্ত করবো ! "

উনি আমার দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বললেন ,

- "আমি কি একবারও বলেছি আমি বিরক্ত ? "

আমি কাচুমচু মুখ করে বলি,

- "তা মুখে বলতে হয় নাকি ? বুঝে নিতে হয় । তাছাড়া আমি আবার সবার মন কথা বুঝতে পারি । "

- "এতো ভাবতে তো আপনাকে বলিনি । এখন যদি একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতো ? "

- "তো কি আর হতো ? বড়জোর মরেই যেতাম ! এর থেকে বেশি আর কি হতো । "

উনার কাছে আমার কথাটা যেন খুব তিক্ত লেগেছে । আমার দিকে রাগী চোখে তাকায় । আমিও আর কথা বাড়াইনা ।অগ্নি থেকে রাক্ষসরাজ হতে সময় লাগবে না ।

বেশি রাগীয়ে দিলে এখন আছাড় মেরে ব্যাঙ বানিয়ে ফেলবে । যা আমি কিছুতেই হতে চাইনা । একদম হতে চাইনা !

বেড থেকে গাড়ি পর্যন্ত আনা অব্দি পুরোটা সময় আমাকে কোলে নিয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে রেখেছিলো । এমনকি লিফটেও । আশেপাশের মানুষজন সবাই হা হয়ে তাকিয়ে ছিলো । কানাকানি করছিলো । আমি লজ্জায় শেষ । কিন্তু উনি ? উনি এমন স্বাভাবিক ছিলো যে কিছুই হয়নি । গাড়িতে এনে আমাকে নিজের পাশের সিটে বসিয়ে সিটটা পিছনের দিকে হ্যালিয়ে দেয় । আপু বেশ কয়েকবার বলেছিলো আপুর সাথে পিছনে বসতে কিন্তু উনি শুনতে নারাজ । গাড়ি ড্রাইভিং এর সময় বেশ কয়েকবার আমার দিকে আড়চোখে তাকায় । আমিও তাকাই । একসময় আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ হয়ে আসে । ঘুমের দেশে তলিয়ে যাই ।

_______________________

বাড়িতে আসতেই জানতে পারি আভরিনকে তার নানুর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে । আমরা যতদিন এখানে আছি আভরিন সেখানেই থাকবে । সাথে ছোট মামীও গিয়েছে।উনারা ঐ জায়গা থেকেই ইয়াশা আপুর বিয়ের সব ফাংশন এ্যাটান্ট করবে ।

বাড়ি তে আসতেই সবাই আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে । একএক করে সবাই দেখা করে যায় । আমার হালচাল জিগ্যেস করে । নানুজান তো আভরিনের এসব কু কান্ডতে খুব দুঃখী । বার বার কান্না করে দিচ্ছিলেন ।

বিকেল পর্যন্ত সবাই আমার কাছেই ছিলো । বেলা ডুবার আগে যার যার রুমে চলে যায় । হিয়া আপুও নিজের রুমে রেস্ট নিতে গেছে । কাল থেকে আপুর উপর তো আর ধকল কম যায়নি । আমি মুখ বাকিয়ে বসে আছি । খুব বোরিং লাগছে । অগ্নিও রুমে নেই উনি থাকলে না হয় উনার সাথে একটু ঝগড়া করা যেত । বিরক্তিকর !

আজ বাড়িতে আসুক এই লোক কথা বলবো না । একটুও কথা বলবো না । কি ভাবে নিজেকে ? আমি তার জন্য মরে যাচ্ছি ? উহু একদম না ।

সন্ধ্যা হয়েছে চারদিকে অন্ধ্যকার নেমেছে । আমি এখনো বেডে বসে । হঠাৎই দরজা খোলার শব্দ কানে আসে । সামনে তাকিয়ে দেখি অগ্নি এসেছে । আমি অভিমান করে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখি । উনি আমার সামনে এসে বসে আমি আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলি ।

উনি কিছুক্ষণ আমার দিকে গম্ভির ভাবে তাকিয়ে বললেন ,

- "মুড অফ ? "

আমি কোনো উত্তর দিলাম না । উনি আবার বললেন,

- "আমার উপর রেগে আছো ? "

এবারো কিছু বললাম না । শুধু একবার আগুন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চোখজোড়া বন্ধ করে নেই । আচমকা উনি আমার গাল চেপে উনার মুখের সামনে টেনে আনে । আমার চোখে চোখ রেখে নেশাপ্রবণ ভাবে তাকিয়ে মাতাল কন্ঠে বললেন ,

- "এই সুন্দরীইই ,খুব কি রেগে আছো ? "

আমি উনার চোখে আর মাতাল করা কন্ঠে ডুবে যাচ্ছি । খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে ,না অগ্নি আমি কি আপনার সাথে রেগে থাকতে পারি ? আপনার সাথে কি রেগে থাকা যায় ? বলুন ? আপনার দু গাল ধরে শুধু টিপে দিতে ইচ্ছে করে । আপনার এই আদুরে কথা গুলোকে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে । ইসসস এই কথা গুলো খেতে না জানি কতটা মিষ্টি হবে । হায়য়য়!!!

কিন্তু আমি তা কিছু বললাম না । নিজের মন কে সিন্দুকবন্ধি করে ।

উনার থেকে নিজের গাল ছাড়িয়ে গলা ঝেড়ে বললাম ,

- "আমি রাগ করলেই কি ? আর না করলেই কি? আপনার কি কিছু আসে যায় ?

আমি কি আপনার কিছু হই ? "

উনি আবার আমার মুখ নিজের দুহাতের মুঠোয় নিয়ে বললেন ,

- "হুম আমার অনেক কিছু আসে যায় ।আমার সুন্দরী আমার সাথে রেগে থাকলে আমার কষ্ট হয় তো । খুব কষ্ট হয় । এই যে বুকের এই জায়গাটায় খুব পোড়ায় ! "

আমি উনার দিকে সন্দেহের চোখে তাকাই । উনি কি ড্রাংক ? মনে তো হচ্ছে তাই ই । আমি সন্দিহান চোখে উনার দিকে আরো কিছুক্ষণ তাকিয়ে উনার কাছে যেয়ে নাক উঁচু করে ঘ্রাণ শুনি ।

হুম যা সন্দেহ করেছি তাই ই । উনি ড্রাংক । আমি কি করে ভুলে যাই এই ব্যাটা যে কাবির সিং মেক্স প্রো ? হাউ ?

আমার বুঝা উচিত ছিলো যে সজ্ঞানে কোনো দিন আমার সাথে এত সুন্দর করে কথা বলবেনা । নিশ্চিত ড্রাংক হয়েই আমার কাছে আসবে ।

আমি বুঝিনা এই লোকের এতো কিসের জ্বালা ? আমি উনার কাছে থেকে সরে যাই ।

উনি আমাকে হুট করব কোলে তুলে নেয় । আমি উনার থেকে ছাড়া পাবার চেষ্টা করি কিন্তু বিশেষ কোনো কাজ হয় না । উনি আমাকে নিয়ে বারান্ধার দিকে পা বাড়ায় ।

______________________

উনি আমাকে জোর করে নিজের কোলে বসিয়ে রেখেছে । আমি নড়তে পারছিনা একদম । উনি আমার কমোড়ে হাত পেঁচিয়ে খুব শক্ত করে ধরে আছে । আমি উনার দিকে রাগী চোখে তাকাচ্ছি ।কিন্তু উনি আমার রাগকে কোনো তেক্কার দিচ্ছেনা । আমার কাধে নিজের থুতনি ঠেকিয়ে আছে । উনার খোঁচা খোঁচা দাড়ি আমার কাধে ঘষা লাগছে । আমি উনার থেকে ছাড়া পাবার জন্য ছটফট করছি । উনি ধমকের স্বরে বললেন ,

- "আমি কি তোমাকে কামড়াচ্ছি ? এভাবে ছটফট করছো কেন ? "

- "আপনি ড্রিংক করে এসেছেন আমি এক মুহূর্তও আপনার সাথে থাকতে চাইনা । ছাড়ুন আমাকে ! "

আমি নিজের হাত পা আবার ছুটাছুটি করতেই উনি জোরে এক ধমক দেয় । আমি ভয়ে চুপচাপ বিড়ালের মত বসে থাকি ।দুজনের মাঝে বেশ কিছুক্ষণ নিরবতা বিরাজ করে । উনিই আমার গালের সাথে নিজের গাল লাগিয়ে আদুরে গলায় বললেন,

- "আচ্ছা স্যরি । "

আমি চুপ করে আছি । উনি আবার আগের মত একই ভাবে বললেন ,

- "স্যরি তোওও । এবার তো একটু হাসো ! "

আমি এবারো চুপ । উনি উনার জেকেটের পকেট থেকে ferrero rocher এর একটা চকলেটের বক্স বের করে আমার সামনে রাখে । আমি নিতে নেই উনি সরিয়ে নিয়ে বললেন ,

- "এত সহজে দিচ্ছিনা । আগে হাসো তার পর দিবো । "

আমি ঠোঁট বাকিয়ে একটা প্লাস্টিক হাসি দেই । উনি মুচকি হেসে আমার হাতে বক্সটা দেয় । আমি তাড়াতাড়ি করে বক্স খুলে একটা চকলেট নিয়ে মুখে পুড়ে দেই । যত যাই হোক চকলেটের জন্য সব ভুলতে রাজি । চকলেট আমার সবরকম মন খারাপের মেডিসিন ।আমি চোখ বন্ধ করে আবেশে খাচ্ছি ।

হঠাৎ চোখ খুলে দেখি উনি আমার দিকে গাঢ় চোখে তাকিয়ে । আমি কিছু জিগ্যেস করার আগে উনি বলতে লাগেন ,

- "স্যরি আমার জন্য তোমাকে কাল এতকিছু সয্য করতে হয়েছে ! "

- "কি আর করার এখন বর এতো হ্যান্ডসাম হলে জীবনের রিস্ক তো একটু আকটু থাকেই । "

- "আচ্ছা তাই বুঝি ? ভালোবাসা কি চেহারা বা সৌন্দর্য দেখে হয়? "

আমি চকলেট খেতে উত্তর দেই ,

- "হয়তো ! কিন্তু তা সবার জন্য না । কিছু কিছু মানুষ সৌন্দর্য কে ভালোবাসে । "

উনি উদাসীন ভাবে অন্যদিকে তাকিয়ে বললেন ,

- "কই আমার তো এমন হলোনা ।আমি তো সুপ্তিকে না দেখে কিছু না জেনেই ভালোবেসেছি । ওর গান ,ওর সুর ,ঘন্টার পর ঘন্টা ওর সাথে ফোনে কথা বলাটাকে ভালোবেসেছি ।ওর আওয়াজ কে ভালোবেসেছি । "

উনার কথায় মুখের চকলেট টাও তিতা বিষ লাগছে । খুব কি দরকার ছিলো এই মুহূর্তটায় সুপ্তির নাম নেওয়া ? ঐ যে বলে না জাতে মাতাল তালে ঠিক । আমাকে কোলে বসিয়ে সুপ্তির নাম জপছে । আমি জোর করে উনার কোল থেকে উঠে রুমে চলে আসি । রুমে বেডে বসে শ'খানেক উনাকে গালি দেই । বদ লোক আমাকে কোলে নিয়ে সুপ্তির নাম জপা হচ্ছে ? যাবো না আর এই বদ লোকের কাছে । হুহ !

কিন্তু উনার একটা কথা কিছুতেই মাথায় ডুকছে না । সুপ্তি আবার কবে থেকে গান শুরু করলো ।স্কুল লাইফ থেকেই ওর নাচের প্রতি ঝোপ বেশি ।সব সময় স্কুল কলেজে আমি গান গাইতাম । অকে গান গাইতে বললে বলতো । ওর গানের গলা খুবই বাজে ।

তাহলে অগ্নি ঐসব কি বললো? এগুলো কি নেশার ঘোরে বলেছে নাকি সত্যিই অন্যকিছু ?

চলবে .....❤️

প্লিজ সবাই সবার মতামত জানাবেন । ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন । 😊😊😊

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন