ফন্ট সাইজ:
থিম:
শত ডানার প্রজাপতি

৪০তম পর্ব

লেখক: উর্মি প্রেমা

শত_ ডানার_ প্রজাপতি

#urme prema (sajiana monir )

পার্ট : ৪০

ইদানীং গা গুলানো টা খুব বেড়ে যাচ্ছে । মাথাটাও ভনভন করে ঘুরে । সেদিন নিশিতের কথায় তেমন গুরুত্ব না দিলেও । এখন আমার নিজের থেকেই সন্দেহ হচ্ছে । সত্যি প্রেগন্যান্ট কি ?

অগ্নি কে কিছু জানাই নি ।নিজের থেকে যতক্ষণ নিশ্চিত না হবো কাউকে জানাবো না । আজ অগ্নি সকাল সকাল বেরিয়েছে । রাতেই জানিয়েছে আজ তার মিটিং আছে । অগ্নি অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাবার পর পর ই সুযোগ বুঝে আমি হসপিটালে জন্য রওনা দেই

। ডক্টর আন্টি মামীর ক্লাসমেট । খুব ভালো সম্পর্ক মামীর সাথে ।আন্টি চেকআপ করে কিছু টেস্ট করতে বলেন ।দেড় ঘন্টার মাঝে ঘন্টার মাঝে সব টেস্ট বাড়ির জন্য রওনা হই । বাড়িতে পৌছিয়ে দুপুরের লাঞ্চ রেডি করতে হবে । তারপর বিকেলে আবার আপুর সাথে দেখা করতে মামা বাড়িতে যেতে হবে । আমি রিকশা তে বসে বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি । অলরেডি এগারো টা বাজে । কখন বাসায় যাবো আর কখন লাঞ্চ রেডি করবো ?

উফফ তার উপর এই ঢাকা শহরের জ্যাম ! আমি বিরক্তি নিয়ে আশেপাশে তাকাচ্ছি । হঠাৎ ই আমার চোখ আটকায় এক গাড়িতে । গাড়িটা আর কারো না অগ্নির । রিকশার হুডিটা উঠিয়ে মাথায় ভালো করে ঘুমটা টেনে নিলাম । অগ্নি দেখলে এখনি ঝামেলা শুরু করবে । এমনিতেই না বলে বেরিয়েছি । তার উপর আবার একা সাথে গাড়ি নেই । নিশ্চিত রেগে যাবে । যা মাথা গরম লোক । জ্যাম কিছুটা ছাড়তেই গাড়ি সামনের দিকে আসে । এরপর আমি যা দেখলাম তা দেখার জন্য মটেও প্রস্তুত ছিলাম না । আমার মাথায় যেন আসমান ভেঙে পরে ।চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি পড়ছে । অগ্নির পাশের সিটে সুপ্তি বসে । সিটে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে । আমি রিকশা থেকে নেমে অগ্নির গাড়ির দিকে পা বাড়াই । এমন সময়ই জ্যাম ছেড়ে দেয় । গাড়ি চলে যায় । আমি রাস্তায় স্থব্দ হয়ে দাড়িয়ে থাকি । চোখ থেকে এখনো পানি পরছে ।আমি যেন এই দুনিয়াতে নেই । অন্যকোন দুনিয়ায় আছি । আশেপাশের কোনো কিছুই আমার কানে আসছে না । থম মেরে সেখানেই দাড়িয়ে আছি । হ্ঠাৎ কেউ আমাকে টান দিয়ে রাস্তার একপাশে নিয়ে যায় । এক মধ্যবয়সী মহিলা । তিনি ধমকের স্বরে বললেন ,

- "এই মেয়ে কি করছিলে! এখনি তো গাড়ির নিচে পড়তে । দেখে তো ভালো ঘরের মেয়ে মনে হচ্ছে । এভাবে রাস্তায় দাড়িয়ে ছিলে কেন ? "

আমি তখনো ভাসা চোখে তাকিয়ে আছি মহিলাটির দিকে । কোনো কিছু আমার মাথায় ডুকছে না । আমি ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে আছি । মহিলা আমাকে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন ,

- "এই মেয়ে শুনছো ? "

ঝাঁকুনি তে আমার হুস ফিরে । চোখ মুখ মুছে বড়বড় শ্বাস নিচ্ছি । নিচের থেকে ব্যাগ হাতে তুলে তাড়াতাড়ি রিকশায় চড়ে বাড়িতে চলে আসি ।

বাড়িতে এসে এখনো আমার মাথা ঘুরছে । ওয়াশরুমে ডুকে বমি করি । ভিতর থেকে কেমন জানো অস্থির লাগছে । কান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।। আমি শাওয়ার ছেড়ে এর নিচে বসে পড়ি । অস্থিরতা কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি ।কিন্তু কোনো ভাবেই তা কমছে না ।বার বার অগ্নির সাথে সুপ্তি সেই দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠে । আর অস্থিরতা বাড়তে থাকে । কোন প্রকার চেষ্টা চালিয়ে নিজের মনে অস্থিরতা কমাতে পারছিনা বার বার চোখ ভরে আসছে । হৃদপিন্ডটা চাপ ধরে আছে । মনের আগুন কি বাহিরের এই ঠান্ডা পানিতে নেভে ?

দুপুরের লাঞ্চ তৈরি করছি । কোনো কাজে মন বসাতে পারছিনা । বার বার সেই দৃশ্য চোখে ভাসছে ।চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে । আমি কোনো রকম ঠোঁট চেপে নিজের কান্না আটকাচ্ছি । অগ্নির সাথে সুপ্তিকে দেখে আমার মনে ভয় চেপে বসেছে । প্রচুর ভয় । বার বার মনে হচ্ছে সুপ্তি আমার কাছ থেকে আমার অগ্নিকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে । ভিতরে ঈর্ষায় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে । যদি আমি অগ্নিকে সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলি ? কেন সুপ্তি ফিরে এসেছে ? কি চাই তার ? মনে হাজারো প্রশ্ন কিন্তু কোনো উত্তর নেই । আমি অন্যমনস্ক হয়েই চুলার দিকে হাত বাড়াই । এমন সময়ই গরম কড়াই লেগে হাত পুড়ে যায় ।চম্পা আমার চিৎকারে কিচেনে আসে ।ঠান্ডা পানিতে হাত ভিজায় । কিন্তু তাতে তেমন কোনো কাজ হয় না । তার আগেই হাতে ফুষ্কা পড়ে গেছে । প্রচন্ড হাত জ্বালা পোড়া করছে । কিন্তু এরচেয়ে বেশি জ্বলছে মনে । রাগ জেদ আর অনেক বেশি অভিমান বুকে জমে আছে । বাকি রান্না চম্পা শেষ করে । চম্পা অগ্নিকে ফোন করে জানাতে চাইলো । আমি না করে দেই । বিকেল দিকে অগ্নি বাড়ি ফিরে । আমি তখন বারান্ধায় বসে আকাশের পানে তাকিয়ে বিকেলের শেষ প্রহরের বিদায় দেখছি । দুপুরের লাঞ্চ ও করিনি ।কেমন জানো গা গুলিয়ে আসছে । শরীরটাও কেমন জানো মচমচ করছে । গাঁয়ের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক । জ্বর- ট্বর আসবে কি ?

আসুক তাতে কি যেখানে মনের অসুস্থতায় তিল তিল শেষ হচ্ছি । সেখানে শরীরের অসুস্থতায় আর তেমন কি হবে !

অগ্নি ড্রেস চেঞ্জ না করেই সরাসরি আমার কাছে আসে । আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে অস্থির চঞ্চল চোখে আমার হাত দেখছে । ঝলসানো ডান হাতটি দেখে অস্থির গলায় প্রশ্ন করে ,

- " এতো খানি হাত পোড়লো কি করে ? আর আমাকে ফোন করে কিছু জানাও নি কেন ? "

অগ্নির চেয়ারায় অস্থিরতা কষ্ট ভেসে আছে ।যেন ব্যথা আমি না অগ্নি পেয়েছে । আমি ঝাপসা চোখে অগ্নির দিকে তাকিয়ে আছি । কেন এই কষ্ট ? আমার জন্য ? যদি তাই হয় তাহলে সুপ্তির সাথে কেন ছিলো । অগ্নি আবার ধমকের স্বরে বললেন ,

- "কি হলো ? বলো কি করে হয়েছে ? "

- "অন্যমনস্ক হয়ে হাতে লেগে গেছে "

- "আমাকে ফোন করে কেন জানাও নি ? "

- "আজ কাল আপনি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত । তাই আর আপনাকে ডিস্টার্ব করিনি । "

- "তোমার থেকে কোনো কিছু বেশি ইম্পরট্যান্ট না "

তাচ্ছিল্যর হাসি দিয়ে বলি ,

- "সত্যি কি তাই ? "

- "অবশ্যই ! "

- "যাক ,জেনে ভালো লাগলো । "

- "হুর এমন ভাবে কথা বলছো কেন ? কিছু কি হয়েছে ? "

- "কি হবে? কিছু কি হওয়ার আছে । "

অগ্নি আমার দিকে কিছু সময় তাকিয়ে ছোট এক নিশ্বাস নেয় । তার পর বললো ,

- "লাঞ্চ করেছো ? "

- "না "

- "কেন করোনি! চল আমার সাথে লাঞ্চ করবে । "

আমার বাম হাত ধরতেই আমি অগ্নির থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেই । অগ্নি আমার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে । আমি অন্যদিকে তাকিয়ে বলি ,

- "আমি খাবো না । আমার খিদে নেই । "

অগ্নি আমাকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে কোলে তুলে নেয় । বাড়িতে চম্পা ছাড়া কেউ নেই । চম্পা নিজের রুমে । অগ্নি আমার করে নিয়েই ডাইনিং রুমে আসে । নিজের কোলে নিয়েই চেয়ারে বসে । আমি অগ্নি থেকে ছাড়া পাবার চেষ্টা চালাচ্ছি কিন্তু অগ্নি শক্ত করে আমার কমোড় জড়িয়ে ধরে আছে । অন্যহাতে খাবার সার্ভ করে । সামনে নেয় আমি অগ্নির সাথে না পেরে একসময় থেমে যাই । পুরুষ মানুষের শক্তির সামনে পারা যায় না । আমি প্রচন্ড বিরক্তি দিয়ে অগ্নির দিকে তাকিয়ে আছি । এসব আহ্লাদী আমার খুব বিরক্ত লাগছে । উনি এই আহ্লাদী করছে কেন ? আমার গাঁ জ্বলছে ।

তার উপর খাবারের গন্ধে শরীর শিরশির করছে । ভিতরে পাক বেঁধে সব গুলিয়ে আসছে ।

অগ্নি আমার মুখের সামনে খাবার ধরতেই আমি ঝারি দিয়ে খাবার প্লেট ফেলে দেই ।অগ্নি আমার দিকে হতভম্ব চোখে তাকিয়ে আছে । আমি সেই সুযোগে অগ্নির কোল থেকে উঠে পরি । রেগে বলি ,

- "কি সমস্যা আপনার ? আমি বলছি তো আমার খুদা নেই । তারপর ও বার বার এই আহ্লাদীপানা কেন করছেন ? "

অগ্নি চেয়ার ছেড়ে উঠে আমার পাশে এসে দাড়ায় । স্ফটলি বলে,

- "হুর কি হয়েছে এমন বিহেভ করছো কেন ? কিছু কি হয়েছে ? আমাকে বলো ! "

- "কি হতে বলছেন? বলছিতো আমি ঠিক আছি । কেন আমাকে সবকিছু তে জোর করছেন ? কি চান ? দুনিয়া আপনার মন মত চলুক! সবাই আপনার হাতের পুতুল হয়ে থাকুক ? "

বলেই বড় বড় শ্বাস নিচ্ছি । অগ্নি শান্ত স্বরে বলে,

- "ওকে রিলেক্স ! গাঁ টা দেখলাম হাল্কা গরম । অসুস্থ? খুব খারাপ লাগছে কি ? "

আমি উনার কোনো প্রশ্নের জবাব দিলাম না । দ্রুত পায়ে উপরে রুমে চলে আসলাম । রুমে এসেই বিছানায় শুয়ে বালিশে মুখ চেপে কিছুক্ষণ কান্না করলাম । জানি অগ্নি কষ্ট পেয়েছে । আমি অগ্নিকে কষ্ট দিতে চাইনি । কিন্তু ভিতরের রাগ ক্ষবে হুট করে এসব বলে দিয়েছি । পারছিলাম না নিজের কষ্ট চেপে রাখতে রাগের মাথায় বলে ফেলেছি ।

মিনিট পাঁচেজ পর অগ্নি আসে । আমার পাশে শুয়ে পরে আমি ইচ্ছে করে চোখ চেপে বন্ধ করে আছি । আমি চোখ বন্ধ রেখে ও বলতে পারছি অগ্নি আমার দিকে তাকিয়ে আছে । তাও খুব গভীর ভাবে !

চলবে.....❤️

প্লিজ সবাই সবার মতামত জানাবেন । ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন 😊😊😊 ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন