রেড জোন
পর্ব–৪ : রেড জোন
লেখক: ইমরান মাহমুদ
গুদামের ভেতর গুলির শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠছে।
সিয়াম একটি লোহার পিলারের আড়াল থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল। অন্যদিকে রাকিব একের পর এক গুলি ছুড়ছে, যেন প্রতিটি কোণ তার চেনা।
আয়রা কাঁপা হাতে মাটিতে পড়ে থাকা কালো পেনড্রাইভটি তুলে নিজের জ্যাকেটের ভেতরে লুকিয়ে ফেলল।
ঠিক তখনই একজন মুখোশধারী তাকে দেখে চিৎকার করে উঠল,
— "মেয়েটা পেনড্রাইভ নিয়ে পালাচ্ছে!"
লোকটি আয়রার দিকে দৌড়ে এলো।
সিয়াম এক মুহূর্ত দেরি না করে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ল। দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলো। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সিয়াম লোকটিকে নিরস্ত্র করে মাটিতে ফেলে দিল।
রাকিব চিৎকার করে বলল,
— "এখনই বের হতে হবে!"
গুদামের পেছনের দরজা দিয়ে তিনজন অন্ধকার গলিতে বেরিয়ে এল।
কিছুদূর যাওয়ার পর একটি পুরোনো কালো মাইক্রোবাস তাদের সামনে এসে থামল।
ড্রাইভারের আসনে বসা এক বৃদ্ধ বললেন,
— "দ্রুত ওঠো। সময় নেই।"
সিয়াম অবাক হয়ে রাকিবের দিকে তাকাল।
— "উনি কে?"
— "উনি কাদের চাচা। একসময় আমাদের দলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মানুষ ছিলেন।"
গাড়িটি দ্রুত শহর ছেড়ে নির্জন একটি পুরোনো বাড়ির সামনে এসে থামল।
বাড়ির ভেতরে ঢুকেই কাদের চাচা দরজা বন্ধ করে দিলেন।
তিনি টেবিলের ওপর একটি পুরোনো মানচিত্র খুলে বললেন,
— "যে পেনড্রাইভটা তোমাদের কাছে আছে, ওটার ভেতরে শুধু তথ্য নেই। আছে এমন কিছু প্রমাণ, যা দেশের সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধচক্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে।"
আয়রা ধীরে ধীরে পেনড্রাইভটি টেবিলের ওপর রাখল।
সিয়াম জিজ্ঞেস করল,
— "এই চক্রের নাম কী?"
কাদের চাচা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
— "রেড জোন।"
ঘরের সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।
কাদের চাচা আবার বললেন,
— "রেড জোন শুধু একটি দল নয়। এটা এমন একটি গোপন নেটওয়ার্ক, যেখানে টাকার জন্য মানুষ নিজের আপনজনকেও বিক্রি করে দেয়। আর তাদের নেতা এখনও ছায়ার আড়ালে।"
কথা শেষ হতেই হঠাৎ পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ নিভে গেল।
চারদিক অন্ধকার।
বাইরে ভেসে এলো অসংখ্য গাড়ির শব্দ।
তারপর একটি ঠান্ডা কণ্ঠ—
— "পালানোর রাস্তা শেষ, সিয়াম। এবার রেড জোন তোমাদের নিজের হাতে শেষ করবে।"
চলবে...