# সর্বস্ব বাজি
## পর্ব–২ : অচেনা নম্বর
বইমেলার সেই বৃষ্টিভেজা বিকেলের পর তিন দিন কেটে গেছে। কিন্তু রিশাদের চোখে বারবার ভেসে উঠছে ঈশিতার মুখ। কাজে বসেও মনোযোগ দিতে পারছে না। সহকর্মীরা মজা করে বলে, "কী ব্যাপার, এত হাসছ কেন?" রিশাদ শুধু হেসে এড়িয়ে যায়।
সেদিন অফিস শেষে সে আবার বইমেলার পাশের পার্কে গেল। অদ্ভুত এক টান তাকে বারবার সেই জায়গায় নিয়ে আসে। হঠাৎ বেঞ্চে বসে থাকা পরিচিত মুখ দেখে সে থেমে গেল।
ঈশিতা।
মেয়েটি শান্তভাবে একটি উপন্যাস পড়ছিল। রিশাদকে দেখে সে বই বন্ধ করে মুচকি হেসে বলল,
— "আমি জানতাম, তুমি আবার এখানে আসবে।"
রিশাদ অবাক হয়ে বলল,
— "কীভাবে?"
— "হয়তো মন বলেছিল।"
দুজন পাশাপাশি বসে গল্প করতে লাগল। বই, প্রিয় লেখক, ছোটবেলার স্মৃতি আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সবকিছু নিয়ে কথা বলতে বলতে সময় কোথায় চলে গেল বুঝতেই পারল না।
হঠাৎ ঈশিতার ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— "আমাকে এখনই যেতে হবে।"
বিদায় নেওয়ার আগে সে ব্যাগ থেকে একটি ছোট কাগজ বের করে রিশাদের হাতে দিল।
— "এটা আমার নম্বর। কিন্তু সবাইকে দিই না।"
রিশাদ কিছু বলার আগেই ঈশিতা গাড়িতে উঠে চলে গেল।
কাগজটা শক্ত করে মুঠোয় ধরে রিশাদ মনে মনে বলল,
"হয়তো এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর শুরু।"
কিন্তু তাদের অজান্তেই রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কালো গাড়ি থেকে কেউ একজন সবকিছু ক্যামেরাবন্দি করছিল...
**চলবে...**