ফন্ট সাইজ:
থিম:
রাজনীতির রক্তচুক্তি

৭ম পর্ব

লেখক: নীলপ্রজাপতি

#রাজনীতির_রক্তচুক্তি

#পর্ব_৭

#কলমে_নীলপ্রজাপতি

পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা নাবিলা সিদ্দিকি চুপচাপ সব দেখছে। তার ঠোঁটে হালকা হাসি যেন এইসব আলোচনা তার কাছে নতুন কিছু না।

সাইরা মালিক মিনহাজের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে।

একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে মিনহাজ কে বলল,

“অফারটা মনে হয় না এখানেই শেষ!”

মিনহাজ চোখ ঘুরিয়ে তাকাল।

কামাল হোসেন এবার হেসে উঠল। ধীরে বলল,

“গুলহান বেই এর ভোট তো আমরা সেট করেই দিয়েছি। কিন্তু যদি....”

তার চোখে লোভের ঝিলিক। সে শব্দটা টেনে বলল,

“সারফরাজ সরে যায় তাহলে শুধু ওই এরিয়া না,

পুরো তিনটা জোন আপনার ভাইয়ের কন্ট্রোলে চলে

আসবে।”

ঘরের ভেতর বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠল।

রায়হান যোগ করল,

“পাওয়ার, ফান্ড আর মিডিয়া কভার সব আমরা ম্যানেজ করব।”

কামাল হোসেন ধীরে বলল,

“বদলে শুধু একটা কাজ।”

তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি।

“সারফরাজ আহমেদ যেন আর সামনে না থাকে।”

এই “অফার” টাকা বা ভোটের না। এটা সরাসরি ক্ষমতা

আর রক্তের হিসেব। মিনহাজের চোয়াল শক্ত হয়ে

গেল। তার মাথায় ভেসে উঠলো পুরোনো কিছু স্মৃতি।

আবরাজ আর সরফরাজ এই দুটো‌ শুধু নাম না।

এই দুজনের বহু বছরের শত্রুতা।

কিন্তু একটা কঠিন সত্য সে খুব ভালো করেই জানে,

আবরাজ খান যত বড় খেলোয়াড়ই হোক,

সারফরাজ আহমেদের ক্ষমতা তার থেকে অনেক গুণ

বেশি। প্রভাব, লোকবল, কানেকশন সব দিক থেকেই

সে এগিয়ে।

..........

রবিবারের সকাল।

খান প্যালেস আজ অদ্ভুতভাবে লোকজনে ভরা‌।

উপরে প্রয়াণ খানের ঘর। ঘরের ভেতরে প্রয়াণ গভীর

ঘুমে। এসির ঠাণ্ডা হাওয়া নামছে। প্রয়াণের বুকের ওপর

গুটিসুটি মেরে ঘুমাচ্ছে ছোট্ট রাজন্যা।

দরজার পাশে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে রাহির ঠোঁটে নরম

হাসি ফুটে উঠল। এই মানুষটা আর যাই হোক বাবা

হিসাবে ভীষণ আলাদা।

নীচে হলরুমে এক অদ্ভুত দৃশ্য আজ। সবাই একে

একে জড়ো হচ্ছে। আবরাজ খান ইতিমধ্যেই বসে

আছে। তার পাশে মিনহাজ।

প্রবেশ করল কামাল হোসেন ও রায়হান কবির।

তারপর সাইরা মালিক।

কিছুক্ষণ পর নাবিলা সিদ্দিকী ঢুকল। চোখে সেই চেনা

চ্যালেঞ্জ।

আরেক পাশে একদম স্বাভাবিক ভাবে বসে আছে রাশা কায়সার।

সবাই অপেক্ষা করছে একজনের জন্য। খান মহলের

প্রধান দরজা খুলে প্রবেশ করল একটা গাড়ি। সেখান

থেকে ধীর পায়ে নেমে এলো সারফরাজ আহমেদ।

পরনে তার সাদা পাঞ্জাবি। চোখে কালো রোদচশমা।

তার পিছনেই রয়েছে জায়েদ। সে একবার চারদিকে

তাকালো তারপর ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে গেলো।

আবরাজ উঠে দাঁড়িয়ে হাত মেলালো সারফরাজের

সাথে। তাদের চোখ বলে দিচ্ছি এটা কোনো সাধারণ

সাক্ষাৎ নয় এটা দুই শিকারির মুখোমুখি হওয়া।

সারফরাজ ধীরে নিজের চশমাটা খুলে টেবিলে রাখল।

তারপর চারপাশে একবার তাকাল সবাইকে স্ক্যান করল

এক এক করে।

তার ঠোঁটের কোণে হালকা, হিসেবি হাসি ফুটল।

“কী ব্যাপার....”

তার চোখ গিয়ে থামল সোজা আবরাজের ওপর।

“বেশ সবাইকে তো দেখছি,”

আবার চারপাশে তাকাল। চোখে তীক্ষ্ণ ঝিলিক।

“কিন্তু আরেকজনকে দেখতে পাচ্ছি না যে।”

ঘরের ভেতর সবাই ঠিকই বুঝলো‌ কার কথা বলা হচ্ছে।

আবরাজ পেছনে হেলান দিয়ে বসল। চোখে সেই ঠান্ডা

আত্মবিশ্বাস।

“কাকে খুঁজছেন, মিস্টার সারফরাজ?”

সারফরাজ হালকা হেসে বলল,

“যে এই শহরে নিজেকে কিং ভাবে.. আপনার একমাত্র ভাই প্রয়াণ খান।”

রাশা চুপচাপ দেখছে। নাবিলা ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে

রেখেছে। সাইরা চোখ সরু করে তাকিয়ে। কামাল আর

রায়হানের চোখে স্পষ্ট টেনশনে।

জায়েদ একবার সারফরাজের দিকে তাকাল। তার

ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল। যেন পুরো

পরিস্থিতিটা তার কাছে মজার লাগছে।

আবরাজ চোখ সরিয়ে মিনহাজের দিকে তাকাল।

মিনহাজ সামান্য ঝুঁকে খুব নিচু গলায় বলল,

“ভাই ঘুমাচ্ছে।”

আবরাজের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।

তার চোখে বিরক্তি স্পষ্ট। প্রয়াণ কখনোই সময় বুঝে চলার মানুষ না। নিজের ইচ্ছার বাইরে কিছু সে মানে না।

আবরাজ ধীরে সোজা হয়ে বসল। আঙুল দিয়ে টেবিলে

হালকা ঠুকল একবার। তারপর ঠান্ডা গলায় বলল।

“ওকে ডেকে আন।”

মিনহাজ ওঠার আগেই সারফরাজ হালকা ভঙ্গিতে

পেছনে হেলান দিল। তার চোখে সেই চেনা আত্মবিশ্বাসী

হাসি। সে ধীরে বলল,

“শুনলাম আপনি নাকি বিয়ে করেছেন?”

ঘরের ভেতর এক সেকেন্ডের জন্য হালকা চাঞ্চল্য।

রাশা ভ্রু তুলল। নাবিলা ঠোঁট চেপে হাসি আটকানোর

চেষ্টা করল। কামাল আর রায়হান একে অপরের দিকে

তাকাল পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে বোঝার চেষ্টা

করছে।

সারফরাজ আবার বলল,

“তা মিষ্টি-টিষ্টি খাওয়াবেন না?”

তার কণ্ঠে স্পষ্ট কটাক্ষ।

“আফটার অল আমরা তো রাজনীতিবিদ।”

আবরাজের চোখ সরাসরি সারফরাজের দিকে।

কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকল। সে খুব ধীরে ঠোঁটের কোণে

হালকা হাসি আনল। তার কণ্ঠ নিচু,

“আপনি চাইলে পুরো শহরকেই খাওয়ানো যাবে।”

চোখ সরু হয়ে এলো।

“তবে আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে এত আগ্রহ কেন,

মিস্টার সরফরাজ?”

সারফরাজ হালকা হেসে মাথা কাত করল।

“আগ্রহ না.... ”

সে সামনে ঝুঁকল। সরাসরি তাকিয়ে বলল,

“শুধু ভাবছিলাম আপনার মতো মানুষ কাউকে নিজের

জীবনে জায়গা দেয় কীভাবে?”

সারফরাজের প্রশ্নটা এখনো বাতাসে ঝুলছে ঘরের ভেতর

সেই চাপা টানটান পরিবেশ।

সিঁড়ি দিয়ে কারুর নামার শব্দ।

মিনহাজ উপরে উঠছিল কিন্তু মাঝপথেই থেমে গেল।

কারণ প্রয়াণ নিচে নামছে।

পরনে শুধু একটা ট্রাউজার আর সাদা নরমাল শার্ট।

চুল এলোমেলো, মুখে ঘুমঘুম ভাব। আর কোলে তার

মেয়ে।

ছোট্ট রাজন্যা বাবার গলায় হাত জড়িয়ে আছে। মুখে

একরাশ অভিমান। কারন মা তাকে বকেছে।

“পাপা আমি বাত খাই না!”

প্রয়াণ হালকা হেসে বলল,

“আচ্ছা ঠিকাছে ভাত খেতে হবে না।”

সে পুরোপুরি ভুলেই গেছে আজ বাড়িতে মিটিং আছে।

নিচে নামতেই এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।

চোখ তুলে চারপাশে তাকাল। সবাই বসে আছে।

সারফরাজ। রাশা। নাবিলা। কামাল। সাইরা।

প্রয়াণ মাথায় আসলো একবার কথাটা।

“ওহহ আজ তাহলে মিটিং ছিল।”

ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।

সাইরা মালিক হা করে তাকিয়ে আছে। তার চোখ

সরছে না রাজন্যার দিক থেকে।

প্রয়াণ খান বিবাহিত? না শুধু তাই না।

সে একটা বাচ্চার বাবা।

এই তথ্যটা তার কল্পনার বাইরে ছিল।

নাবিলা চোখ সরু করে তাকাল। মুখে ধীরে একটা

রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।

রাশা ভ্রু তুলল কিন্তু কিছু বলল না।

কামাল আর রায়হান অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসছে।

এটা তারা কখনোই আশা করেনি।

মিনহাজ দাঁড়িয়ে মাথায় হাত চাপড়াতে ইচ্ছে করছে

তার। নিচু গলায় বিড়বিড় করল,

“ভাইকে এভাবে আসতে হলো?”

আবরাজ একদম স্থির হয়ে বসে আছে। চোখ শুধু

প্রয়াণের দিকে। তার ভেতরে বিরক্তি স্পষ্ট।

প্রয়াণ যেন কিছুই হয়নি এমন ভঙ্গিতে মেয়েকে কোলে

নিয়েই সামনে এগিয়ে এলো।

সারফরাজের দিকে একবার তাকাল। চোখে হালকা

আগ্রাসী কৌতূহল। তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,

“আপনারা কথা বলুন। আমি পরে আসছি।”

সে ঘুরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই, আবরাজ ঠান্ডা

গলায় বলল,

“প্রয়াণ।”

একটা শব্দে পুরো ঘর থেমে গেল।

প্রয়াণ থামল। ধীরে ঘুরে তাকাল।

আবরাজ এবার একটু ঝুঁকে বলল,

“মিটিংটায় তোকে দরকার।”

রাজন্যা বাবার কাঁধে মাথা রেখেই সবাই কে দেখলো

একবার। সব মুখ গুলোই তার অজানা। একমাএ

পরিচত তার বাবা আর তার‌ বড়আব্বু।

প্রয়াণ এগিয়ে গিয়ে রাজন্যা কে মিনহাজের কোলে দিয়ে বলল,

“রাহির কাছে দিয়ে আয় ওকে।"

রাজন্যার মুখ কুঁচকে গেলো আবার। বলল,

“পাপা।”

প্রয়াণ মেয়ের গাল গুলোয় আদর করে বলল,

“পরে নেবো প্রিন্সেস, এখন যাও।”

মিনহাজ তাকে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

ওদিকে প্রয়াণ আবার সোজা হয়ে দাঁড়াল।

তার চোখের দৃষ্টি এবার হালকা কঠিন। কারণ এই

মুহূর্তে তার মন পুরোপুরি সামনে বসে থাকা মানুষগুলো

দিকে। যারা তাকে শুধু “প্রয়াণ খান” হিসেবে দেখে।

প্রত্যেকের মধ্যেই এবার সিরিয়াস ভাব। আবরাজ

সামান্য সামনে ঝুঁকল। তার চোখ সরাসরি

সারফরাজের দিকে স্থির।

“সারফরাজ আমি একটা প্রস্তাব দিতে চাই।”

ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এলো। সবাই মনোযোগ

দিয়ে শুনছে।

আবরাজ ধীরে বলল,

“গুলহান বেই এলাকায় আপনার অধীনে থাকা

জায়গাগুলো কামাল হোসেনকে ছেড়ে দিতে হবে।”

একটু থামল সে। তার কণ্ঠ আরও ঠান্ডা হয়ে উঠল।

“তার বদলে আপনার যে কোনো চাহিদা আমরা পূরণ করতে রাজি।”

তার চোখে স্পষ্ট হিসেব,

“আপনি একজন এমপি আমিও একজন রাজনীতিবিদ। তাই বিষয়টা শান্তভাবে মিটিয়ে নেওয়াই ভালো।”

ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল। সারফরাজ চুপচাপ বসে

রইল। তার আঙুল টেবিলে ধীরে টোকা দিচ্ছে। সে

ভাবছে কিছু।

তার পাশেই বসে থাকা জায়েদ সামান্য ঝুঁকে খুব নিচু

গলায় সারফরাজের কানে ফিসফিস করে বলল,

“খানদের সাথে আপনার পাওয়ারটা মিলে গেলে

গেমটা আরও বড় হয়ে যাবে, ভাই।”

সারফরাজ হালকা হেসে আবরাজের দিকে তাকাল।

স্বাভাবিক গলায় বলল,

“রাজনীতি তো আপনি ভালোই বোঝেন, মিস্টার খান।

তাহলে আপনি বলুন, কি দিলে ব্যাপারটা ভালোভাবে

মিটবে?”

প্রয়াণ ঠোঁটের কোণে হাসি টানল,

“ডাইরেক্ট কথা বলুন, ঘুরিয়ে না।”

সারফরাজ চোখ সরু করল,

“আমি ঘুরিয়ে কথা বলি না।”

আবরাজ শান্ত গলায় বলল,

“আপনার চাহিদা বলুন।”

সারফরাজ ধীরে বলল,

“গুলহান বেই আমি ছাড়ব কিন্তু তার বদলে আমি

ইস্তানবুলের অন্য কয়েকটা এলাকার লোকাল কন্ট্রোলে

নিজের নেটওয়ার্ক চাই।”

প্রয়াণ বলল,

“মানে?”

সারফরাজ সোজা তাকাল আবরাজের দিকে।

“মেয়র হোন আপনি কিন্তু কিছু জায়গা থাকবে যেখানে

আপনার লোক ঢুকবে না।”

মিনহাজ ভ্রু কুঁচকাল।

সারফরাজ ঠান্ডা গলায় বলল,

“জায়গাগুলো আমি নিজেই ঠিক করব।”

প্রয়াণ এবার হেসে উঠল,

“খুব বড় শর্ত দিয়ে ফেললেন।”

আবরাজ চুপ করে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে বলল,

“আর কিছু?”

সরফরাজ ঠোঁট বাঁকাল,

“এইটুকুই যথেষ্ট আপাতত।”

আবরাজ ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টানল। একটু ঝুঁকে বলল,

“আপনি শুধু একটা দিক খেয়াল রাখবেন… এই

শহরের মেয়রটা..... ”

কথাটা শেষ করার আগেই সারফরাজ আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল,

“আপনিই হবেন ইস্তানবুলের মেয়র।”

আবরাজের ঠোঁটে ধীরে হাসি ফুটল। দুজনের চোখে

একই রকম ভাবনা। বিশ্বাস না এটা হিসেব।

প্রয়াণ চুপচাপ দেখছে। ঠোঁটে হালকা আগ্রাসী হাসি।

মিনহাজ একবার আবরাজের দিকে তাকাল।

তারপর সারফরাজের দিকে।

কিছুক্ষণ পর সারফরাজ ধীরে উঠে দাঁড়াল। পাঞ্জাবির

কলারটা ঠিক করলো। সরাসরি আবরাজের দিকে

তাকিয়ে বলল,

“তাহলে আজ এতটুকুই থাক। বাকিটা আপনি মেয়র

হওয়ার পর দেখা যাবে।”

আবরাজও উঠে দাঁড়াল। এক পা এগিয়ে গিয়ে হাত

বাড়াল।

“ডিল।”

সারফরাজ হাত মেলাল। দুজনেরই মজবুত চাপ।

দুইজনের দৃষ্টি একে অপরের দিকে স্থির।

এই হাত মেলোনো বিশ্বাসের না। এটা একটা নতুন

খেলায় নামার সাক্ষর। আর সাক্ষী হলো ঘরে উপস্থিত

মানুষগুলো।

হাত ছাড়ার আগে সারফরাজ হালকা বলল,

“গেমটা ইন্টারেস্টিং হবে, মিস্টার খান।”

আবরাজ ঠান্ডা গলায় জবাব দিল,

“আমি বোরিং কিছু খেলি না।”

তারপর হাত ছেড়ে দিল দুজনেই।

রাশা চুপচাপ দাঁড়িয়ে। তার চোখে কৌতূহল। নাবিলা

মুচকি হাসছে। এই ধরনের ডিলই তার পছন্দ।

কামাল আর রায়হান একে অপরের দিকে তাকাল।

প্রয়াণ ধীরে বলল,

“খেলা শুরু হলো তাহলে।”

সারফরাজ থামল না। দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতেই বলল,

“খেলা তো অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে।”

দরজা বন্ধ হলো। সারফরাজ ও জায়েদ বেরিয়ে গেলো।

আবরাজ ধীরে সিগারেট বের করল। জ্বালালো।

এক টান নিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল।

“এবার আসল কাজ শুরু।”

প্রয়াণ হেসে বলল,

“সারফরাজ শত্রু না পার্টনার?”

আবরাজ চোখ সরু করল,

“দুটোই।”

এই সম্পর্কটা “বন্ধুত্ব” না। এটা হলো ক্ষমতার চুক্তি।

আজ তারা হাত মিলিয়েছে কালই তারা আবার একে

অপরের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে পারে।

কারণ রাজনীতিতে স্থায়ী কিছু নেই। আছে শুধু ক্ষমতা

আর চুক্তি।

#চলবে

(রাজনীতির দিকটা লিখতে লিখতেই হয়ে গেলো পর্বটা। পরেরদিন আবরাজ আদ্রিতা আর প্রয়াণ রাহির দিকটা দেবো‌। পর্বগুলো আগের তুলনায় একটু ছোটো হবে 😮‍💨 কারন এক্সাম চলছে‌ তো তাই।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন