ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে চলছে চৈতন্য চৈত্র

১ম পর্ব

লেখক: বিলাইর মা

নিজের থেকে ১০ বছরের ছোট মেয়েকে বিয়ে করতে নারাজ “আবরাদ দেওয়ান আবেশ”। কিছুতেই সে এই বিয়ে করবে না, তাও আবার তার মামাতো বোন “আরওয়ানা আকবর আকসা”কে। আকসাকে তার পছন্দ নয়, কারণ মেয়েটা অনেক ভোলা-ভালা, বলতে গেলে কিউটের ডিব্বা—যা আবেশের হজম হয় না।

আকসাকে কেউ কিছু বললে বা মারলে সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। এমনকি একটা প্রতিবাদটাও করে না। আবেশের কথা—মেয়ে মানুষ হবে প্রতিবাদী, আত্মসম্মানী। কিন্তু এই সব সে কখনো আকসার মধ্যে দেখেনি।

“বাবা, আমি এইটুকু একটা মেয়েকে কীভাবে বিয়ে করতে পারি? এটা আইনবিরোধী। এটা তো বাল্যবিবাহ হয়ে যাবে। ওর বয়স মাত্র ১০ বছর আর আমি সেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। আমার বয়স ২০-এর কোঠায়।”

“আমি তো আর বলছি না ওকে এখন মেনে নিতে বা ওর সাথে এখন সংসার করতে। ও বড় হবে, তারপর তোমাদের ঘটা করে বিয়ে দেওয়া হবে। তারপর না হয় মানবে। আর তোমার মা তো আকসার মা-বাবাকে মৃত্যুর সময় কথা দিয়েছে—আকসাকে একটা ভালো ভবিষ্যৎ দেবে।”

“ভালো ভবিষ্যৎ দেবে দিক না। এতে আমাকে কেন জড়াচ্ছ? আমি তো ওকে ছোট বোনের বাইরে কোনোদিন কোনোভাবে দেখি নাই। আর দেখারই বা কী আছে? এটুকু মেয়ে।”

এতক্ষণ স্বামী ও সন্তানের কথোপকথনে বিরক্ত হয়ে যান “অনামিকা আকবর”।

“তোমাদের সকলের কথা শেষ তো? এবার আমি বলব, তোমরা শুনবে। আমি আমার ছোট ভাইকে তার মৃত্যুর পূর্বে কথা দিয়েছি—আমি তার মেয়েকে সারাজীবন আগলে রাখব। এখন আমি তোমার কথায় তো আর আমার ভাইকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নষ্ট করতে পারব না। তুমি এই বিয়েটা আমার কথায় করবে—এইটাই আমার শেষ কথা। আর আমার আরেকটা ছেলে থাকলে তোমার মতো ধার-ধরা ছেলের কাছে ওকে বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতামও না।”

একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন “অনামিকা আকবর”—

“যদি না করো সমস্যা নেই। তুমি আমাকে আজ শেষ বারের মতো দেখে নাও। কাল সূর্য উদয়ের পূর্বেই আমি ‘আকসা’কে নিয়ে তোমার বাপের বাড়ি ছাড়ব। আকসাকে নিয়ে কলকাতায় অচেনার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেব। আর তুমি আর তোমার বাবা এটা ভালো মতোই জানো—আমি এক কথার মানুষ। কথা হেরফের হয় না আমার। তাই বলছি, ভেবে আমাকে তোমার জবাবটা দিও।”

আবেশ তার মায়ের কথার প্রতি উত্তরে কী বলবে তা ভুলে গেছে বললেই চলে। কিছুটা সময় স্তব্ধতা বিরাজ করল তাদের সবার মধ্যে। আবেশ জানে তার মা কেমন—তার বাবার চেয়েও তার মা হাজার গুণ কঠিন। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে বলল—

“আমি রাজি। কিন্তু আমারও একটি শর্ত আছে।”

“কি চাই তোমার?”

“আমি আমার পড়াশোনা শেষ করতে UK-তে যেতে চাই। আমার সব কিছু ঠিক করা আছে। আর ২ দিন পর আমার ফ্লাইট UK-এর উদ্দেশ্যে। আর আমার পড়াশোনা শেষ করতে ৪ থেকে ৫ বছরের মতো সময় লাগবে। আর এতদিনে তোমাদের আকসাও বড় হয়ে যাবে।”

আবেশের কথায় চমকে ওঠেন আব্দুল দেওয়ান আজিজ সাহেব।

“তোমার ফ্লাইট ২ দিন পর আর আজ তুমি আমাদের বলছ? না, তোমার কোথাও যাওয়া হচ্ছে না। তুমি তোমার বাকি পড়া এখানেই শেষ করবে।”

কিন্তু তাকে আবারও চমকে দিলেন তার স্ত্রী অনামিকা আকবর।

“আমি রাজি। কিন্তু বিয়েটা তোমার আজকেই করতে হবে।”

“ওকে মা, আমি রাজি। তুমি ডাকো কাজী।”

কবুল শব্দটি কতই না মহৎপ্রাণ। তিনবার উচ্চারণে আপনি হয়ে যাবেন অন্য কারো। দুইজন মানুষ হয়ে যাবে একে অপরের—শুধু এই তিনটি শব্দের গুণে। হালাল সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। গড়ে উঠবে তাদেরকে ঘিরে আরও কত সম্পর্ক। চেনা-অচেনা কত শত মানুষ রোজ এই তিনটি শব্দের মাধ্যমে বিয়ে নামক হালাল বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

তেমন আজও এই একই হালাল বন্ধনে আবদ্ধ হলো দুটি প্রাণ—যাদের মধ্যে নেই কোনো আবেগ বা ভালোবাসা। একজন অবুঝ, আর একজন পারিবারিক চাপে বিয়ে নামক বন্ধনে আবদ্ধ হলো। তাদের এই বিয়ের কি কোনো নাম হবে কোনোদিন? তাদের হৃদয়ে কোনো দিন আসবে কি কোনো পরিবর্তন? নাকি পুতুল খেলা হয়েই থেকে যাবে এই বিয়ে?

বিয়েটি করেছে আবেশ, কিন্তু এটা মানেনি সে।

সময় কি কারো বাঁধা মানে? সে চলে তার নিজ গতিতে। নদীর স্রোত যেমন বহমান, তেমনি সময়ও তার নির্দিষ্ট গতিতে চলমান।

চলে গেছে ৭টা বছর। আবেশ আসেনি UK থেকে। তার আসার কথা ছিল আরও পাঁচ বছর পূর্বে, কিন্তু সে আসেনি। সে পড়ালেখা শেষ করে ওখানেই সেটেল হয়ে গেছে। আসবে কিনা তাও জানা নেই।

আর অন্যদিকে আকসাও কলেজ শেষ করে ভার্সিটিতে পা দিয়েছে। তার দিনও চলছে নিজের মতো। তার জীবনে আবেশের কোনো জায়গা নেই বললেই চলে। সে জানে আবেশ সম্পর্কে। সে যে আবেশের বউ এটাও জানে, কিন্তু এতে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো তার ব্যবহার ও চরিত্র—যা তাকে আলাদা করে। যে মেয়েকে দেখলে মানুষ আগে আদর করত, এখন সেই মেয়ের ভয়ে ভয়ে চলে সবাই। মুখের কথা দিয়েই মানুষ হত্যা করতে পারে—এমনটাই মনে করে সকলে।

শুধু এলাকায় নয়, শহরের সবাই তাকে চেনে এক নামে—গুন্ডি, বেয়াদব, বেডাছেঁড়া ইত্যাদি।

এবার সে ভার্সিটিতে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছে। তার আশা আছে রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়বে সে। এটা তার স্বপ্ন বললেও চলে।

কিন্তু এতে ঘোর নারাজ “অনামিকা আকবর” ও “আব্দুল দেওয়ান আজিজ সাহেব”।

অনামিকা আকবরের মতে রাজনীতিতে জীবনের ভয় আছে, আর তিনি বেঁচে থাকতে আকসার কোনো ক্ষতি হতে দেবেন না। আর অন্যদিকে আজিজ সাহেবের মতে—মেয়ে মানুষের জন্য রাজনীতি নয়।

কিন্তু আকসা তো আর এত কথা শোনার পাবলিক নয়। তার মতে সে সবার থেকে আলাদা। সে রাজনীতির জন্যই তৈরি। তাই সে রাজনীতি করবে। আর তাকে মেয়ে বলে করা যাবে না—এই কথাটাই আজিজ দেওয়ানের ভুল। এতে তার ইগো হার্ট হয়েছে। আর যেখানে তার ইগো হার্ট হয়েছে, সেখানে তো সে এই কাজটা করেই দেখাবে।

অনেক ঝামেলার পর রাজি হয়েছেন “অনামিকা আকবর” আর “আজিজ সাহেব”।

রাজি না হলেও তাকে অবশ্য রাজনীতির মাঠে পেত সবাই।

#সূচনা_পর্ব

#হৃদয়ে_চলছে_চৈতন্য_চৈত্র

#বিলাইর_মা

---

📊 মোট শব্দ: ৬৫২টি

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন