ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে চলছে চৈতন্য চৈত্র

৩য় পর্ব

লেখক: বিলাইর মা

গল্প - #হৃদয়ে_চলছে_চৈতন্য_চৈত্র -৩

লেখিকা - #বিলাইর_মা (ছদ্মনাম)

রাতের আধার কেটে গিয়েছে। সূর্য মামা উঁকি দিয়েছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দ। নিজের অবস্থান বুঝতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে যেন আমাদের সূর্য মামা। সূর্য মামার দেখা মিলতেই লোকজন যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সূর্য মামাও নিজের তাপ ছড়াতে ব্যস্ত। সকালের কাজের মধ্যেও আমাদের অলস আকসা এসির মাধ্যমে নিজের কক্ষকে হিমালয় পর্বত বানিয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমে বিভোর।

"ওই আকসা ওঠ, ওই কুত্তা ওঠ!"

আধা ঘণ্টা ধরে রায়ান, আরিবা, রেজা, অনি আকসাকে ডেকে চলেছে কিন্তু আকসার কোনো হেলদোল নেই বললেই চলে। বিরক্তি নিয়ে আরিবা পাশের টেবিল থেকে পানি নিয়ে আকসার মুখে ঢেলে দেয়। আকসা একপ্রকার হতভম্ব হয়ে উঠে পড়ে আর রাগে চিৎকার করে উঠে—

"কোন কুতুবউদ্দিনের বাচ্চারে? শালা তোরে তো আমি এমন দেওয়া দিম!"

তার এই রূপ কথায় রায়ান বিরক্তি নিয়ে বলল—

"আরে আমার মা, তুই বারবার কেন ভুলে যাস তুই বেডি, বেডা না! আর এখন ওঠ। আমাদের আজকে সারাদিন ঘুরাবি-ফিরাবি। আজকে আমাদের চারজনকে তোর তরফ থেকে পার্টি। ওই ওঠ না, ১০টা বাজে বইলা!"

এতগুলো কথায় আকসার ঘুম না সরালেও ১০টা বেজে গেছে শুনে এক লাফে উঠে বসে। চোখে লেগে থাকা ঘুম উধাও হয়ে যায়।

চিৎকার করে জানতে চায়—

"কয়টা বাজে?"

তার প্রশ্নের উত্তরে রেজা সময় দেখে বলে— ৯:২৮

"আল্লাহ! আমি এতগুলো অ্যালার্ম দিলাম, একটাতেও উঠতে পারলাম না আহহহহ!"

জিদে চিৎকার করে উঠে আকসা।

"কি হয়েছে এমন করছিস কেন?"

আরিবার কথায় তার মধ্যে কোনো ভাবনা দেখা গেল না। আকসা আবারও রাগে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল—

"হা*উ*য়া*র অ্যালার্ম! কাল থেকে ইস্কুলের বেল আনামু।"

একটু থেমে আরিবাকে আবারও শুধাল—

"তুই নিচে গিয়ে লতা খালাকে বল, আমার নাস্তা যেন ৫ মিনিটে পাই। কুইক। আর রায়ান তুই রেডি হয়ে নিচে গাড়িতে যা। আমি ১০ মিনিটের আগেই আসতেছি। তুই নিচে যা জলদি!"

বিরক্তি নিয়ে আবারও আরিবা বলল—

"কি হয়েছে সেটা তো বলবি নাকি?"

"আরে আমার নানির শত্রু! আজ আমার এমপি হিসাবে ওই যে কী জানি কয়— (মাথায় হাত দিয়ে) ইস্কুলে করতাম জাতীয় সংগীতের পর ওই যে হাত উঁচু করে… যাই হোক, ওইটা আজ!"

"কিহহ! আজ তোর শপথ? তুই আমাদের আগে বলবি না?"

বিচলিত ভঙ্গিতে বলে উঠে রায়ান। রায়ানের কথার প্রত্যুত্তরে আকসা বলে—

"আরে বাল! আমি নিজেও জানতাম না আজকে আমার শপথ। আমার ফোনে ইলিয়াস ফোন করছিল। আর আমার ফোন তো ছিল আরিফের কাছে। ওই শালা ফোন নিয়ে কী করছে সে ভালো জানে। আমি ওর কাছ থেকে ফোন নিয়ে বাসায় এসে দেখি ফোন অফ। চার্জে দিয়ে অন করলে দেখি ইলিয়াসের ৪২টা কল আর ২টা মেসেজ। ওই মেসেজেই লেখা ছিল সব। তখন রাত ২টার বেশি, তোরা ঘুমে—তাই আর জালাই নাই।"

আকসা রেডি হয়ে নিচে নামছে সিঁড়ি বেয়ে। তার পরনে ফর্মাল পোশাক। নিচে নেমে সোজা কিচেনে গিয়ে অনামিকা আকবরকে জড়িয়ে ধরে বলল—

"মামুনি, আমার আজ শপথ গ্রহণ। তুমি আমার জন্য দোয়া করো যাতে সব ঠিক হয়। ভালো। বাবাকেও বলো দোয়া করতে। আজ আসি, অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

অনামিকা আকবর মিষ্টি হেসে বলল—

"আচ্ছা, দেখে শুনে যাস। আল্লাহ হাফেজ।"

আকসা অনামিকা আকবরকে ছেড়ে দিয়ে টেবিলের সামনে গিয়ে দুইটা পরোটা নিয়ে তাতে ডিম ও সবজি সাজিয়ে মোটা রোল বানাতে থাকে। আকসা অনেক ভোজনরসিক। তার না খেলে চলেই না। যেখানে যাক, দেরি হোক বা না হোক—আকসা এইভাবে রোল বানিয়ে হলেও খেতে খেতে যাবে তার কাজে। তার মধ্যে একটা মজার ব্যাপার আছে—সে যতই খাক, তার ওজন বা শরীরের স্বাস্থ্য বাড়ে না।

"এই মেয়ে দিন দিন বিগড়েই চলেছে। নিজের সাথে সাথে ওই চারটাকেও নষ্ট করছে। কী সব পোশাক পরছে দেখছো আপা! কয়েকদিন পর এই মেয়ে আর একটা ছেলের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওর লাগাম টানো আপা, এখনো সময় আছে। আমি কিন্তু ভালোর জন্যই বলছি।"

একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলেন রুবিনা বেগম। এটা আর নতুন কী! প্রতিদিন অনামিকা আকবরকে এর-ওর কথা শুনতেই হয়। কিন্তু তিনি কী করবেন? কী বলবেন? তার ছেলেই তো চলে গিয়ে সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি তার ছোট জায়ের কথার কোনো উত্তর করলেন না। চুপচাপ রান্নায় মন দিলেন।

এতক্ষণে আকসা তার রোল করা রুটি ও একটি পানির বোতল নিয়ে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

এই বাড়ির ছেলে-মেয়ে বলতে আছে অনামিকা আকবর ও আজিজ দেওয়ানের এক ছেলে ও এক মেয়ে—আবরাদ দেওয়ান আবেশ ও আইরিশ দেওয়ান আরিবা। অনামিকা আকবরের মেঝো জা রুবিনা বেগম ও আবদুল দেওয়ান রাকিবের দুই মেয়ে ও এক ছেলে—রিত্তিকা দেওয়ান রাহা (আকসার এক বছরের বড়) ও ছোট মেয়ে রায়লা দেওয়ান রায়ামণি (আকসার থেকে তিন বছরের ছোট)। রায়লার বড় ভাই আহসান দেওয়ান রায়ান। অনামিকা আকবরের ছোট জা মারিয়া রহমান ও আহাদ দেওয়ানের এক মেয়ে ও এক ছেলে—মাহমুদা দেওয়ান রেজা ও মুস্তাফা দেওয়ান মাহিম। আর এই বাড়ির কর্তা আজিজ দেওয়ানের মা আমিনা বেগম—এই নিয়ে তাদের পরিবার।

আকসাকে সবাই ভালোবাসলেও অনামিকা আকবরের মেঝো জা রুবিনা বেগম তাকে মোটেও পছন্দ করে না। শুধু সে নয়, তার ছোট মেয়ে রায়লাও তাকে বেশি একটা পছন্দ করে না।

গাড়িতে ঢুকতে গিয়ে রায়ানকে ড্রাইভিং সিটে বসে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে আসে—

"তুই এখানে কেন? ওঠ। আমি আজ ড্রাইভ করব।"

"তুই কি আমাকে অকাল অক্কা নেওয়ার কথা কস? তুই যা গাড়ি চালাস—গাড়ি চালাস না বিমান চালাস তা তো বোঝা যায় না। যাই হোক, আমি এত তাড়াতাড়ি মরতে চাই না। আমি অনেক তাড়াতাড়ি করে তোরে পার্টি অফিসের সামনে নামাই দিমু। এখন ওঠ।"

"সর বাল! ওঠ তো তুই। যাইতে যাইতে আমার শপথ অনুষ্ঠান শেষ হইয়া ধুলাও থাকবো না। সর!"

কথাগুলো বলে রায়ানকে একপ্রকার ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নিজে ড্রাইভিং সিট দখল করে গাড়ি স্টার্ট দেয়।

"বইন, আমি যাম না তোর লগে। আল্লাহর দোহাই লাগি থামা!"

গাড়ির গতি আকাশ ছুঁতে দেখে রায়ান ভয়ে চিৎকার করে বলে উঠল কথাগুলো। কিন্তু আকসা কোনো উত্তর করল না। বরং গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিল।

নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

"আল্লাহ, আমারে ছাড়িয়া দেন আফা!"

আরিফের এমন কথার উত্তরে আকসা বলল—

"সোমুন্দি*র বেটা! শালার নাতনি! তোর লাইগা বাঁশটার নিশানা ছিলাম আমি। আজ যদি না উঠতে পারতাম কী হইতো তুই ভাবতে পারোস?"

"ভাবার লাগি তো পায়ের শুরশুরিটা তো বন্ধ করতে হইবো। আল্লাহর দোহাই লাগি এইবারের মতো ছাড়িয়া দেন। আমি আর আপনার অবাধ্য হমু না—কসম কইরা বলতাছি।"

আরিফের কথায় আকসা রায়ানকে ইশারা করল। রায়ান ইশারা পেয়ে আরিফের শিরশিরি দেওয়া বন্ধ করে। বিছানার পাশে গিয়ে আরিফের হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেয়। আরিফ বাঁধন থেকে মুক্তি পেয়ে এক লাফে উঠে বসে।

এক ঘণ্টা আগে আকসার শপথ অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। আকসা ৫ মিনিট দেরি করেছিল অনুষ্ঠানে। ইলিয়াস নামের ছেলেটি সামলে নিয়েছিল বলে কোনো সমস্যা হয়নি। অনুষ্ঠান শেষে আকসা আরিফের বাসায় আসে। আরিফের মাকে বলে তার রুমে গিয়ে দেখে আরিফ আরামে ঘুমাচ্ছে।

আরিফকে ঘুমাতে দেখে আকসার আরও রাগ উঠে যায়। তাই সে রায়ানকে বলে আরিফকে বাঁধতে। রায়ান বিনা বাক্যে আরিফকে বেঁধে ফেলে। পরে পালক দিয়ে শিরশিরি দিতে শুরু করে। তার পরের ঘটনা তো প্রথমেই দেখা মিলল।

#চলবে #ইনশাআল্লাহ

📊 মোট শব্দ: ১১০৬টি

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন