গল্প - #হৃদয়ে_চলছে_চৈতন্য_চৈত্র - ৫
লেখিকা - #বিলাইর_মা (ছদ্মনাম)
কেটে গেলো আরো একটি সপ্তাহ। আকসা নিজের দিনগুলো ব্যস্ততায় কাটাচ্ছে। এই সম্মেলন, ওই আন্দোলন—সব মিলিয়ে আকসা খুব খুব ব্যস্ত। তার সাথে রায়ান ও আরিবা ও আছে। আকসার জন্য রায়ান ও আরিবা দুইজনই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আকসা চায় না আরিবা কোনো ঝামেলায় পড়ুক, তাই তাকে সব সময় সব কাজে নেয় না।
না নেওয়ার আরো একটি কারণ—এই দেওয়ান মঞ্জিলে কেউ রাজনীতিকে পছন্দ করে না। আকসার জোরাজুরিতে আজিজ সাহেব আর অনামিকা আকবর রাজি হলেও তারা আরিবা বা রায়ানের রাজনীতিতে প্রবেশ মেনে নেবেন বলে মনে হয় না।
রায়ান আজিজ সাহেবের কাছে এ বলে অনুমতি নিয়েছে—আকসা সাহসী, তবুও তো মেয়ে মানুষ; দিন শেষে বাসার সবার মনে ভয় থাকবে আকসাকে নিয়ে। তাই ও আকসার সুরক্ষার জন্য সব সময় ওর পাশে থাকবে। আজিজ সাহেব ও মেনে নিয়েছেন রায়ানের কথা।
এখানে আকসা তো ছুতো কেননা আকসাকে আঘাত করা বা মারার মতো মানুষ খুঁজে পেতে ভয় লাগে মানুষের। আকসা অনেক ভালো কারাতে জানে। ভার্সিটিতে থাকা সময় থেকেই রাজনীতিতে তার প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। সকলের কমবেশি চেনা-পরিচিতি আছে আকসাকে ঘিরে।
রায়ানেরও বুঝ আসার পর থেকে রাজনীতি নিয়ে অনেক আকর্ষণ ছিল। পরিবারের সবার মধ্যে রাজনৈতিক মনোভাব দেখে রায়ান আর সাহস করে কিছুই বলতে পারেনি। ভেবেছিল হয়তো এটা তার স্বপ্নই রয়ে যাবে। কিন্তু না—আকসার রাজনীতি করার জন্য যখন সকলকে রাজি করায়, তখন সে ও চুপচাপ আকসার সাথে থাকতে শুরু করে। আজ পর্যন্ত সে আকসার পাশ ছাড়েনি; বড় ভাইয়ের মতো পাশে ছিল সবটা সময়।
সারা দিনের ব্যস্ততা নিয়ে আকসা বাড়ি ফিরে সকাল ১১ টায়। আজকে তাড়াতাড়ি আসার কারণ—আজকে যে সম্মেলন ছিল তা মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওখানে নাকি কোনো সমস্যা হয়েছে। তাই এই অবেলায় বাড়ি ফিরেছে।
সকাল সকাল বাড়ি ছেড়েছিল, রাতেও ভালো ঘুম হয়নি। তাই হেলতে-দুলতে দেওয়ান মঞ্জিলে প্রবেশ করে। চারিদিকে ঝকঝকে পরিষ্কার। কোনো কিছুর আমেজে সেজেছে দেওয়ান মঞ্জিল। আকসা ওই দিকে নজর না দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
---
"আহা আবেশ, তুমি এসেছো কিছুক্ষণ হলো। এখন এই বিষয়ে কথা না বলি। আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো, বিশ্রাম নাও। তার পর না হয়—"
আজিজ সাহেবের কথায় আবেশ রেগে চেঁচিয়ে উঠে—
"কিসের বিশ্রাম! আগে আমি ওই বলদ টাইপের মেয়েটাকে ডিভোর্স দিবো, তার পর আমি শান্ত হবো। ডাকো ওকে এক্ষুনি!"
"তুই ওকে বলদ বলিস কিভাবে? তুই কি ওকে দেখেছিস এসে?"
অনামিকা আকবরের কথার প্রতিউত্তরে আবেশ দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
"আমি দেশ ছাড়ার আগে দেখে গেছি ও কিরকম। আমার আর দেখার কিছু নেই। ও বলদ ছিল, থাকবে—কারণ ও একটা আস্ত বলদ!"
আজিজ সাহেব কিছু বলবেন, তার আগেই আকসা এগিয়ে আসে।
পরনে তার ঢিলেঢালা একটি টি-শার্ট, যা এতোটাই ঢিলা যে তার কাঁধ বেয়ে পড়ে যাচ্ছে। আর একটি বড় প্লাজো—এক পা একটু উঁচু, অন্য পায়ে কাপড় মাটিতে। মুখ চোখ ফোলা ফোলা, চুলগুলো এলোমেলো।
সকলের চেঁচামেচিতে তার ঘুম ভাঙতেই ড্রয়িংরুমে এসেছে সে। এসে আবেশের কথা শুনে রেগে তার সামনে দাঁড়িয়েছে।
"ভালো বাবা, আমারও কোনো সুগার বাপ টাপ লাগবে না। তুমি আমার জন্য ইয়াং দেখে একটা পাত্র দেখো তো।"
আবেশ নিজের দিকে আঙুল তাক করে বলে—
"আমি সুগার ড্যাডি?"
আকসা একই ভঙ্গিতে বলল—
"তো কি আপনি? নিজের বয়স দেখেছেন আপনি? বুড়ো হয়ে গেছেন আপনি—লাইক সুগার ড্যাডি!"
আবেশ থমথমে খেয়ে গেল। সকলের অবস্থাও একই। আবেশ একইভাবে বলল—
"আমি বুড়ো? আমার বয়স জানিস তুই?"
আকসা কোনো ভনিতা না করে বলল—
"হুম, ৩৫ বছর। এই বয়সে আপনার বাপ ১৩ ও ৩ বছরের দুইটা ছেলে-মেয়ে ছিল!"
আবেশ চেঁচিয়ে উঠে—
"আমার ৩৫ বছর হতে এখনো আরো ৯ মাস ২ সপ্তাহ ৪ দিন ২ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড বাকি! আর তুই এখনই আমাকে ৩৫ বছরের বানিয়ে দিলি?"
"ওই সময়টা বাদ দিলেও আপনি বুড়াই থাকবেন। এখন মূল কথায় আসি—আমি আপনাকে, আই মিন ধলা বিলাইরে, ডিভোর্স দিমু না।"
"একটু আগেই না বললি তুই ডিভোর্স দিবি? কথা ঘুরাস কেন? আমি তোর মতো মাইয়ার লগে থাকতে পারমু না। আর তুই কারে ধলা বিলাই কইলি?"
"কেন? আপনাকে। আপনি কি কানেও কম শোনেন নাকি? যাইগা যাইগা স্বপ্ন দেখেন—আপনার সাথে আমারও থাকার কোনো ইচ্ছে নাই।"
"তাহলে ডিভোর্স দিয়া দে!"
"ওইটা তো আমারও দেওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আপনার কিছু কথার কারণে এখন আর নাই।"
"আমি আবার কি কইলাম?"
"আপনি আমার ইগোকে হার্ট করছেন। আপনি কেন আগে ডিভোর্সের কথা বলছেন? ওইটা তো আমি বলবো। আপনি বললে তো আমি নিরীহ টাইপের ডিভোর্সি নারী হয়ে যামু, যা আমি হতে দিমু না কক্ষনো। তার উপর আপনি আমাকে বলদ বলে অপমান করছেন, যার শাস্তি তো পেতেই হবে।"
"কিহহহ! আমি আদালতে গিয়া হইলেও তোরে ডিভোর্স দিমু! তবুও তোর সাথে সংসার করমু না!"
আবেশের কথায় বাকা হেসে আকসা বলল—
"হাহা, যান যান। আমি ও দেখি কে আমার বিরুদ্ধে আপনার হয়ে লড়ে। আপনি যেথা যাবেন সেথা পাবেন আমায়, মিস্টার ধলা বিলাই। বাই!"
আকসা কথা বলে হেলেদুলে নিজের রুমে চলে গেল।
আকসা যেতেই পাশে থেকে রায়ান আবেশের শোনার মতো করে বলল—
"ভাইয়া, আপনার বউ এই শহরের এমপি। ভুললে কি চলবে? সে চলে পাওয়ার নিয়ে। তার হয়ে কেউ আপনার কেস লড়বে না। আপনি এতদিন এখানে ছিলেন না—সেই দিক দিয়ে বলতে গেলে আপনার সব ক্ষমতা ওই দেশে। ও যতক্ষণে আপনাকে ডিভোর্স না দেবে, আপনি ও ডিভোর্স পাবেন না।"
আবেশ এবার রায়ানের কথায় না পড়ে চেঁচিয়ে উঠে—
"আব্বা! আমার অবুঝ বিলাই টাইপের বউডারে তোমরা এই পেতনির লগে পালটাইছো কেন? আমার বিলাই মার্কা বউ ডাআআ! আই মিস ইউ!"
আজিজ সাহেব তার এই বড় ছেলের মুখে এ কথা শুনে বাকহারা।
#চলবে #ইনশাআল্লাহ
---
📊মোট শব্দ - ৬৮০