গল্প - #হৃদয়ে_চলছে_চৈতন্য_চৈত্র - ৩৮ (বোনাস পর্ব+ইমপটেন্ট+শেষ পর্ব)
লেখিকা - #বিলাইর_মা ( ছদ্মনাম )
🚫❌এই গল্পটি সম্পুর্ন ভাবে সুরক্ষিত❌🚫। 🚫❌লেখিকার অনুমতি বেতিতো কপি করা নিষিদ্ধ ❌🚫।
কেটে গিয়েছে আকসার মৃত্যুর ১ বছর।রাহা রেডি হচ্ছে উদ্দেশ্য তার জীবনের কোম্পানি। মুখে তার মিষ্টি হাসি সকালে প্রেগ্ন্যাসির টেস্ট করেছে তা পজিটিভ এসেছে মুলত এই খবর জীবনকে দিতে তার কোম্পানিতে যাওয়া। আজ সে ডার্ক রেড কালারের একটা শাড়ি পরেছে।রেডি হতে হতে জীবনকে কল দিলো ব্যস্ত হ্যাঁ কল ব্যস্ত বলছে।রাহা ভাবলো সে যেয়েই না হয় সারপ্রাইজ দেওয়া যাবে তাই যেই ভাবা সেই কাজ।বাড়ির গাড়িটা রিপেয়ারের জন্য দেওয়া হয়েছে তাই রাহা রিকশায় উঠে সোজা জীবনের কোম্পানির কিছুটা দুরে নামে।রিকশা ওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে পিছনে ঘুরেরতেই রাহা অবাক হয়ে যায়,করন জীবন আর একটা মেয়ের সাথে খুবই অন্তরঙ্গ অবস্থায় আছে।মেয়েটা জীবনকে জরিয়ে।এই দৃশ্য দেখার পর রাহা বুকে হাত দিয়ে বসে পরে।কোনমতে সাইট ব্যাগ হাতরে ফোন বের করে জীবনের ফোনে কল দেয়।প্রথমবারে জীবন ফোন কেটে দিলে,তিনবারের মাথায় ফোন ধরে বলল
"আরে রাহা তোমার কি মাথায় সমস্যা ফোন ধরছি না মানে বিজি আছি তোমার তা বোঝার উচিত ছিলো।ফোন রাখো,আমি এখন একটা ইমপটেন্ট মিটিং এ আছি।মিটিং শেষ হোক ফোন দিবো"
রাহাকে একটাও কথা বলতেও দিলো না জীবন ফোন কেটে দিলো।রাহা তাকিয়ে রইলো জীবনের দিকে। একটা মেয়ে নিয়ে দারিয়ে আর তাকে বলছে ইমপটেন্ট মিটিং এ আছে রাহা একথা ভেবে আনমনেই হাসলো।এবার মেয়েটা সোজা রাস্তায় মাঝেই জীবনকে চুম্বন করলো।রাহা আর দেখতে পারলো না মাটিতে লুটিয়ে পরলো।আসে পাসের মানুষ জন কয়েকজন এসে ভির করলো কয়েকজন মিলে তাকে ধরাধরি করে করে উঠায়।পাস দিয়ে জীবন তার গাড়ি করে যাচ্ছিলো কয়েকজল লোক এসে গাড়ি থামিয়ে একজন বলল
"ভাই আমগোরে একটু সাহায্য করেন একটা মাইয়া রাস্তার মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পরেছে।পানি ছিটাইছি জ্ঞান ফিরছেনা আপনি যদি গাড়ি করে হাসপাতালে নিতে সাহায্য করতে মেয়েটা বেইচা যাইতো "
জীবন রেগে চেচিয়ে উঠে
"আরে মিয়া শুধু শুধু সময় করলেন কেন ? আমার কপালে বা গাড়ির সামনে কি সেচ্ছাসেবী লেখা আছে।যান,যান তো এখান থেকে মিয়া ফালতু। আমি বাঁচি না আমার জ্বালায় আপনি আসছেন আরো জ্বালা দিতে।সরেন মিয়া।"
লোকজন জীবনের গাড়ি ছেরে দিলো।আসে পাসে কোনো গাড়ি বা রিকশা কিছুই নেই।শেষে একজন রিকশা আলা না পেরে তার বাসা থেকে রিকশা এনে রাহাতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
__________________________________
রুবিনা বেগমের ফোনে রাহার এতো গুলো কল দেখে কল ব্যেক করতেই,ওই পাস থেকে একজন পুরুষালি গালায় বলে উঠে
"আপনাদের মাইয়া রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় পইরা ছিলো আমরা তারে হাসপাতালে আনছি।আপনেরা হককালে আহইন।সময় কম আপনাগো মাইয়ার অবস্থা বালা না।তারপর হাসপাতালে ঠিকানা বলে কলটা কেটে দিলেন।"
কল কেটে দেওয়ার সাথে সাথে রুবিনা বেগম কান্না শুরু করে দেয় সকলে ভির করলে ঘটন খুলে বলেন রুবিনা বেগমা।সকলে সব কথা শুনে হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা দেয়।হাসপাতাল থেকে বাড়ির দুরত্ব কম হওয়ার পৌছাতে বেশি সমল লাগেনি।রিসিভশন তেকে রাহার অবস্থান জেনে তারাতাড়ি করে অপারেশন থিয়েটারের কাছে পৌঁছাতে তাদের দেখে রাহাকে হাসপাতালে আনা লোকজন এসে রাহার সকল আপডেট দেয়।কিছু ক্ষন পর অপারেশন থিয়েটর থেকে ডাক্তার বেরিয়ে বলল
"রোগীর পরিবারের মানুষ কারা"
আবদুর দেওয়ান এগিয়ে এসে বলল
"জি জি আমরা,বলেন আমার মেয়ের কি হইছে"
"আইম সরি মি.,রোগীর আগে থেকেই হার্টে সমস্যা ছিলো,তারপর রোগী প্রেসিডেন্ট ছিলো,এই আবেগ প্রবন সময় রোগী হয়তো কোনো এমন দৃশ্য দেখেছে যা তার দেখা উচিত হয় নি।তাই রোগীর এই অবস্থা।"
আবদুর দেওয়ান সাহেব কান্না জরানো কন্ঠে বলল
"আমার মেয়ের যা পারেন সব করেন টাকা পয়সার কথা ভাবতে হবে না। ডাক্তার শুধু আমার মেয়েটারে সুস্থ কইরা দেন। "
"স্যার আমাকে মাফ করবেন রোগীর অল রেডি ব্রেইন ডেথ হয়ে গিয়েছে।আপনারা যদি আর কিছুক্ষণ আগে রোগীকে আনতে পারতেন তবে রোগীকে বাচানো যেতো।"
"বাহিরে উন্নত চিৎসায় ও কি সম্ভব না"
"আপনারা চাইলে নিতে পারেন কিন্তু বাঁচানো সম্ভব নয়, করন রোগীর ব্রেন ইতিমধ্যেই মৃত্যু বরন করেছে। তারপর ও যদি আপনারা চেষ্টা করতে চান করতে পারেন তবে এতে রোগী বাঁচবে তো না ই শুধু শুধু রুহ কষ্ট পাবে।এর থেকে লাফ সাপোট অফ করে দেওয়া ভালো"
সকলে কান্নায় ভেঙ্গে পরে প্রথমে আকসা পরে রাহা এটা তারা মেনেই নিতে পারছে না।
রুবিনা বেগম ভাঙা ভাঙা কন্ঠে জানতে চাইলো
"আমার মেয়েটার বাচ্চা পেটে কয় মাস"
"বাচ্চার পরিপক্বতা দেখে মনে হচ্ছে দুই মাসের বেশি। "
কান্নায় ভেঙ্গে পরে সকলে।রাহাকে আনা লোকেদের মধ্যে একজন এগিয়ে এসে আরিবার কাছে এসে বলল
"আফা এই ফোনডা দিয়া আপনাগো ফোন দিছিলাম রোগীর ফোন"
আরিবা ফোনটা নিয়ে লোকগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহার শ্বশুর বাড়ির লোকেদের ফোন দিলো,সকলকে ফোন দেওয়া শেষে জীবনকে ফোন দিলো ধরলো না পাস থেকে রাহা লোকগুলোর মধ্যে একটা লোক বলল
"এই নাম্বারে অনেক ফোন দিচি পয়লা তো কল গেলো তার পর ব্লক কইরা দিচে হেতি। হিতে কি আফার সোয়ামি"
আরিবা মাথা নেরে সম্মতি জানালো।রাহার শ্বশুর বাড়ির সবাই আসলো।নিলা এসে জানতে চাইলো
"ভাবির কথা ভাইয়ারে বলছেন আপু"
"তোমার ভাই ফোন ধরে নাই তুমিই বইলা দিও"
"ভাইয়ারে আমরা অনেক ফোন দিছি আসতে আসতে কিন্তু ফোন ধরে নাই"
রাহার লাইফ সাপোট অফ করে রাহার লাস বাড়িতে আনা হলো।জীবনকে ফোন দেওয়া হলো,বন্ধ করে রাখা ফোন যাচ্ছে না।জীবনের কোম্পানিতে ও মানুষ পাঠানো হয়েছে,জীবন সেখানে নেই,জীবনের অনেক বন্ধু বান্ধব কে ও খবর দেওয়া হইয়াছে কেউ জীবনের খবর জানে নাা। শেষে সন্ধ্যা আটটার দিকে রাহাকে কবরস্থ করা হলো।
জীবন ফিরলো রাত বারোটার দিকে। বাড়িতে ঢুকেতেই দেখে বারি ফাকা।কোনো কিছু না ভেবেই রুমে যায় আসে পাসে চোখ বুলালো রাহাকে পেলো না বেশি না ভেবে ফ্রেস হতে চলে গেলো ফ্রেস হয়ে রুমে আসতে রাহাকে এবারো না দেখে অবাক হলো বটে।বেশি কিছু ভাবলো না একগাদা অফিসার ফাইন নিয়ে বসে যায় ফোনের কথা মনে পরতেই হাতে নিয়ে দেখে বন্ধ অন করতেই বুঝলো চাজ নেই চাজে লাগিয়ে বসতেই চোখ যায় পাসের টেবিলের উপরে রাখা প্রেসিডেন্টি কিটের দিকে সন্দেহ নিয়ে হাতে নিয়েই চমকে উঠে, সে বাবা হতে চলেছে।মনের মধ্যে খুশিরা মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে দিলো। রাহাকে ডাকলো রাহা এলো না। যেই মেয়ে তার বাড়ি ফেরার সাথে সাথে রুমে এসে তাকে পাগল করে ফেলে সারাদিনের সে কি করেছে কি খেয়েছে ও কি করেছে জানতে জানতে, সে আজ নেই অবাকি হলো জীবন,আবার ভাবলো হয়তো সারপ্রাইজ দিতে রুমে আসে নি।অনেকটা সময় বসে বসে আফিসের ফাইল গুলা চেক করলো,ফাইল চেক শেষেও রাহাকে আসতে না দেখে সকালের কথা মনে আসে সেতো তাকে ব্লক দিলেছে তাই হয়তো রেগে।ফোন হাতে নিতেই দেখলো এতোক্ষনে ভালোই চাজ হয়েছে তাই অন করলো,অন করতে করতে রাহাকে ডাকলো এবারো সারা এলো না।ফোন অন হতেই ভেসে আসে নোটিফিকেশনের আওয়াজ। একেক নাম্বার থেকে শখানেক কল আর এই ওই মেসেজ।এতো মেসেজ গুলো ভেদ করে চোখে পরে নিলার মেসেজ।
"ভাইয়া তারাতাড়ি আসো, না হয় ভাবিকে শেষ দেখাও দেখতে পারবে না"
কাপা হাতে কোনমতে নিলাকে কল দেয়।এক রিংয়ের মাতায় ফোন ধরে ওইপাস থেকে বলে উঠে নিলা কান্না জরানো কন্ঠে
"ভাইয়া তুই এতো খারাপ কেন রে ফোনটা ধরলে কি হইতো"
"তুই এই সব কি এসএমএস করছোছ।রাহারে দে ওর লগে কথা আছে আমার।"
নিলা হু হু করে কেদে উঠে
"ভাইয়া ভাইয়া গো ভাবি যে অনেক দুরে তারে ফোন দেওয়ার মতো ক্ষমতা যে আমার নাই"
"কি কস এইয়া"
"ভাইয়া ভাবি মারা গেছে"
"দেখ নিলা আমি মজা করার মুডে নাই আর মানুষের মৃত্যু নিয়ে মজা করতে নাই। দে আম্মুরে ফোন দে"
"এই নেও কও"
ওই পাস থেকে শুধু কান্নার শব্দ আসছে।এবার কেনো জানো জীবনের ভয় লাগতে শুরু করে
"আম্মু আমি আইতাছি তোমাগো নিতে,কোই তোমরা কওতো"
"আব্বা আব্বারে তুই রাহাগো বাড়ি আই"
_____________________________
দেওয়ান মঞ্জিলের পা রাখতেই কানে আসে কান্নার আওয়াজ। কোনো মতে বৈঠক কক্ষে গিয়ে দারাতেই থমেরে যায়।সকলে কান্না করছে। বুকের ভিতর নারা দিয়ে উঠে অজানার ভয়েরা দানা পাকিয়ে ধরে।নিজেকে কোনমতে সামনে নিলার মাথায় চটি মেরে বলল
"আর ফাইজলামি করতে হইবো না তুই আর তোর ভাবি অনেক জালাইছস আমারে এবার উঠ।বারি হিয়া তোহোরে এতোবড় খুশির খবর দেওয়ার জন্য ট্রিট দিমুনে।যা যা উঠ।আর শু............।"
আর কিছু বলতে পারলো না জীবন। তার আগেই তার গালে পরলো থাপ্পড়। থাপ্পড় টা মেরেছে আবদুর দেওয়া গালে হাত দিয়ে জীবন বলল
"আব্বা কি হয়েছে মারলেন কেন ? আমি কি কোনো অপরাধ করছি।"
"অপরাধ তুমি করবা কেন ? অপরাধ তো আমার মেয়ে করছিলো না হয় তোমার মতো একটা ছেলেকে কেন ভালো বাসতে যাবে।যে তার বউ মারা গেছে একথাটাকেও মজা ছলে নিতাছে।কউই ছিলা সারা দিন তোমার জন্য আমার মেয়েটার শরীরটা এতোক্ষণ পযন্ত আজাপ পাইলো"
"আব্বা আপনার এই সব কি বলছে"
"তুমি মুখ বন্ধ করবা না হয় আমার হাতে আরো থাপ্পড় খাবা।"
এবার জীবন বুঝলো আসলেই কি ঘটেছে চোখে পানি জমতে শুরু করে
"থাপ্পড় আমি হাজাটা খাতে রাজি তবুও কন এই গুলা মিথ্যা আব্বা।"
আবদুর দেওয়ান কান্না ভেজা চোখ নিয়ে কিছুক্ষন চেয়ে বলে উঠে
"আমি ও চাই আল্লাহ আজকের দিনটাকে আমার দুঃস্বপ্ন করে দিক।ঘুম ভাঙতেই যেনো সব আগের মতো হয়ে যায় আমার রাহা মা আমাকে জরিয়ে ধরে বলবে তুমি অনেক খারাপ আমার জন্য এই আনোনি ওই আনোনি"
তারপর নিলার কাছে গিয়ে বলল
"এবার থাম বইন আর প্রাঙ্ক করিস না।আমি ভয় পাইছি অনেক ভয় পাইছি।এবার থাম আমার রাহারে বাইরাইতে ক আমার যে এই সব আর সোজ্জো হচ্ছে না। "
সজোরে একটি থাপ্পড় মেরে উঠে জীবনের মা,তারপর জীবনের বাবা।জীবন কে আর কিছু বলতে হলো না জীবন হাটু গেরে বসে আল্লাহ বলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে।
_____________________________________
কেটে গিয়েছে আরো দুইটা বছর রাহা নেই আকসা নেই। আবেশ তো নিজেকে আজ পর্যন্ত ঘর বন্ধি করে রেখেছে। ওই দিকে জীবন, জীবনের প্রেক্ষাপট ছিলো ভিন্ন যে হারিয়ে গিয়েছে,হারিয়ে গিয়েছে বললে ভুল হবে সে এখন আফ্রিকায় কোনো একটি সহরে আছে।রাহার শেষ ইচ্ছেকে নিজের ইচ্ছে হিসেবে বেঁচে আছে সে শুধু মৃত্যুর অপেক্ষায় তারপর তাদের ও পুর্ণতা।
একটা ভুলবোঝাবুঝি মানুষের সম্পর্ক কিভাবে ধ্বংস করতে পারে তার একটি প্রমান ছিলো রাহা আর জীবনের সম্পর্ক।সে দিন রাহা যা দেখে ছিলো তা পুরো পুরি উল্টো ছিলো।মেয়েটি ছিলো কোম্পানির মালিকের মেয়ে।জীবনকে তার খুব পছন্দ।সেদিন জীবনকে সে প্রপোজ করে।জীবন রাজি না হওয়ায় সে অন্য পথ অবলম্বন করবে তার আগেই তার চোখ যায় রাহার দিকে তাকে সে চিনে জীবন তাকে দেখিয়েছে এবং বউ বলে পরিচয় দিয়েছে।জীবন আর রাহার সংসার ভাঙতে মেয়েটি জীবনকে জরিয়ে ধরে আর চুম্বন করেন।জীবন তাকে রেগে সরিয়ে দিলেও তা রাহার চোখে পরেনি কারন তার আগেই হাসা জ্ঞান হারায়।তারপর মেয়েটা কাজের কথা মিথ্যা বলে জীবনকে একটা গেস্ট হাউজের আটকে রাখে আর তার ফোন অফ করে মোবাইল অফ করছে বললে ভুল হবে লো ভেটারির কারনে অলরেডি মোবাইলটি অফ হয়ে গিয়েছে, তাই নিজের কাছে রেখে দেয়।তাকে ছারে রাত এগারোটার কাছাকাছি। জীবন সেদিন মেয়েটার রাগ রাহা আর রাহাকে সেভ করা লোকগুলোর উপরে ঝেরেছিলো।পরে সব গটনা জানার পর মেয়েটি জীবনের পা ধরে মাফ চেয়েছিল কিন্তু জীবন কিছু বলে নি বললেই কি হতো তার রাহাতো আর তার কাছে আসতো না। সে রাহার ফোন টা নিয়েছিলো আরিবার কাছ থেকে তারপর চলে যা পৃথিবী ভ্রমণের।যাওয়ার আগে একটা চিঠি লিখে গিয়েছিল অবশ্য তাতে লিখা ছিলো:-আম্মু আব্বু আপনারা আমাকে খুইজেন না আমি আর ফিরবো না নিজেদের খেয়ান রাখবেন। রাহার ইচ্ছে পুরনে চলে গিয়েছে সে, রাহা আগে রাতে যখন ঘুমাতো তখন ঘুমানোর সময় বিভিন্ন দেশের নাম বলে বলে বলতো
"আমার না এই পুরো পৃথিবী টা ঘুরে দেখার অনেক শখ,আমরা যখন বুড়ো হবো তখন আমি আর তুমি এই এই দেশে যাব তুমি কি বলো জীবন যানে না আমাকে নিয়ে "
জীবন কিছু বলতো না শুধু রাহাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরতো।জীবন আজ মেনে নিয়েছে ভাগ্য। শুধু তাহাজ্জতের নামাজে দোয়া করে যাতে আল্লাহ তাকে খুব দ্রুত তার রাহার কাছে নিয়ে যায়।
____________________________________
আবেশের অবস্থা এখন অনেক খারাপ সে রুম থেকে বের হয় না বললেই চলে। তার খাবার আর প্রয়োজনীয় জিনিস রুমের সামনে রেখে যাওয়া হয়,যখন মনে চায় দরজা খুলে নিলে নেয় না হয় পরেই থাকে।নামাজের সময় নামাজ পরে,আবার কুরআন পরে, আর মাঝে মাঝে আকসার গিটারটা নিয়ে শুর তুলে। মাঝে মাঝে তার রুম থেকে কিছু গানের শুরু ভেসে আসে
"ভাবি থেমে যেতে যেতে
এই দেখা দেখাতো না হয়
তোমার আমার এই প্রেমে
আমি কি একাই স্মৃতির বাহক
তুমি সব ভালো আমার
তুমি সব আলো আমার
অন্ধকার তো না
তবে কি বৃথা যেবে প্রেম প্রাথনা
ইশ্বর কি তোমার আমার মিলন লিখতে পারতো না"
আবার কখনো কখনো ভেসে আসে
"জন্ম মৃত্যুর আবর্তনে পূর্নজন্ম হবে
তোমার আবার দেখা পাবো,কখন কে যানে
জন্ম মৃত্যুর আবর্তনে পূর্নজন্ম হবে
তোমার আবার দেখা পাবো, কখন কে যানে"
আজ অবশ্য সে মন দিয়ে পরছে আকসার ডাইরি সেই ডাইরিটা।যা সে তিন বছরে হাজার বারেরো বেশি পড়েছে ।আজো পরছে
ভালো বাসা কাকে বলে যানা নেই আমার, জীবনের একমাত্র ভালোবাসা আর পুরুষ দুইটাই আমার স্বামী আমি তাকে ভালোবাসি প্রনয়নের কাল থেকে তাকে চাই।হ্যাঁ আমি ভালোবাসি আমার আবেশকে।আমি জানি আমার আল্লাহ যানে এই আকসা শুধু আবেশকেই ভালোবাসেছে,বাসে,আর তার সারাটা জীবন ভালোবাসবেই।
আমার জীবনে লাল সাহেব বলতে কেউ নেই সে আমার ইমেজিনেসন তাকে আমি আবেশ হিসেবে কল্পনা করেছি।ভালোবাসেছি।
আর ভাগ্য দেখুল আপনাকেই আমার প্রেমে পরিয়েছে নীলাঞ্জনা রুপে।কিন্তু আমাকে মাফ করবেন আমি আপনাকে মিথ্যা বলেছি।কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি চাইনি এই মিথ্যার জীবননিয়ে বাঁচতে। আমি চেয়ে ভালো ভাবে বাঁচতে যেখানে খাকবেনাকোন AD আর সেই পুরো সাইকো আকসা।থাকবে শুধু আবেশ আর তার আকসা। আমাদের মিষ্টি সংসার হবে। আমার অনেক দিনের সপ্ন ছিলো ।
এই পেজ টা আবেশ কতো বার পরেছে তা আবেশের নিজেরো যানা নেই। হঠাৎ দরজা টোকা আওয়াজ। আবেশ চুপ ওপাস থেকে আরিবা বলে উঠে
"ভাইয়া তোমার নামে চিঠি এসেছে "
আবেশ কোনো শারা দিলো না বেশ কিছু ক্ষন পর গিয়ে দরজা খুলে চিঠিটা নিলো চিঠিটায় প্রেরকের নাম নেই
খুলতেই একটা টিকিট আর একটা চিরকুট পরলো হাতে আবেশের। আকসার হাতের লেখা দেখে অবাক হলো
"আসা করি ভালো আছেন।আর যদি আমার কারনে খারাপ থাকেন তবে আমাকে মাফ করবেন।এই চিঠি টা আপনার জন্য আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো আপনাকে নিয়ে আমার বাবার রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতি টা দেখতে যাবো,তা তো আমার আর যাওয়া হলো না আপনি একটা বার আমার শেষ ইচ্ছে ভেবে ঘুরে আসবেন
ইতি
আরওয়ানা আকবর আকসা
তারপর একটা যায়গার ঠিকানা। টিকিট টা হাতে নিতেই দেখলো এটা পৃথিবীর সবচেয়ে শান্ত ও সুন্দর দেশ নরওয়ের টিকিট।আবেশের অবশ্য এই দেশটায় যাওয়া হয় নি। টিকিট টা এক সপ্তাহ পরের।আবেশ ভাবলো সে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। বাসার কেউ তাকে বাধা দিলো না শুধু অনামিকা আকবর বলল
" বাবা ফোন করিস খাবার খেয়ে নিস টাইম মতো।ঔষধ ব্যেগে আছে খেয়ে নিশ"
আবেশ পৌছে গেলো চার দিনের মাথায় নরওয়ের এয়ারপোর্টে।ওখান থেকে বাস আর কেভ করে সোজা গন্তব্যে।যায়গায়টা একটা সমুদ্র তীরে।একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি। এই বাড়িটা আকসার বাবা অনেক শখ করে বানিয়েছিলেন তার আদরের ময়ের জন।আবেশ তার সকল জিনিস পত্র বাড়ির সামনে রেখে বাড়ির পাসের বিচটার দিকে যেতে নিলে আবেশের চোখ যায় বিচে।পুরো বিচটা ফাকা শুধু একটা মেয়ে দাড়িয়ে কোলো তার একটা বাচ্চা। পিছন দিকে ফিরে থাকায় মেয়েটি মুখ দেখা যাচ্ছে না।মেয়েটা সামনে ভিরানো একটা বড় জাহাজকে দেখছে।হঠাৎ মেয়েটির কোলে থাকা বাচ্চাটি তাকে দেখে চেচিয়ে উঠে
"মাম্মা, মাম্মা দেকো পাপ্পা,মাম্মাম দেকো না পাপ্পা আসচে"
মেয়েটি ঘুরে তাকায়। হ্যাঁ এটা আকসা এখনকার আকসা আর আগের আকসার আকাস পাতাল পার্থক্য আগের মতো আকসা আর রোগা নেই অনেকটাি নাদুস নুদুস হয়েছে।গায়ের রঙও সেমলা থেকে দুধে আলতা হয়েছে।আকসার কোলে থাকা বাচ্চাটা দৌড়ে আবেশকে জরিয়ে ধরে বলল
"পাপা পাপা তুমি আসচো"
আবেশ এতোক্ষণে বালুর মধ্যে দু হাঁটু ভাজ করে বসে পরে বাচ্চা মেয়েটাকে জরিয়ে ধরে চেচিয়ে উঠে
"ইয়া আল্লাহ এইটা জদি সপ্ন ও হয় তবুও আমার এই সপ্ন তুমি জীবনও ভাঙতে দিও না।"
আবেশের চোখে জল বাচ্চাটাকে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠে আকসা এগিয়ে আসে।আবেশ বাচ্চা মেয়েটাকে রেখে আকসাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে,আকসা বলে উঠলো
"আহ ছারেন আপনি, আমরে কি মাইরা ফেলানোর ধান্দা করছেন নাকি,আমি কিন্তু এতো সহজে মরবো না জনাব,আপনি সাথে এখনো সংসার করা বাকি। "
"তুই এমন টা কেন করলি"
"আপনার সঙ্গে থাকতে"
"আমারে এতো কষ্ট কেন দিলি,আমি যদি এইসব না নিতে পড়ে মাইরা যাইতাম"
"তাহলে তো ভালোই হইতো"
আবেশ এবার আকসাকে ছেরে শক্ত চোখে চেয়ে জানতে চাইলো সবটা আকসা বলতে শুরু করে
"আমার ভাবনায় ছিলো আমার পরিবারের খুনিকে খুজে তাকে মেরে আমি ও আত্নসমর্পণ করবো যেই ভাবা সেই কাজ"
"তোর পরিবারের আসল খুনিকে তুই মারতে পেরেছিলি ? সে কে ? "
"সে ছিলো নিহান ভাইয়ের বাবা। আর তাকে আমার মারতে হয়নি নিহান ভাই নিজেই তার বাপকে খুন করেন,নিহান ভাইয়ের বাবা তার মাকে হত্যা করে আর তার বোনটাকেও মরে ফেলেছেন। আরো অনেক কিছু আছে।আমি যখন নিহান ভাইয়ের বাবার মৃত্যুর খবর পাই নিজের আত্নসমর্পণের কথা পুলিশদের জানাই আর ঠিক তখনি আমি জানতে পারি আমি প্রেসিডেন্ট।আর এটা জানার পর আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না তাই নিহান ভাই বলল
" যা যেই ভাবে চলার চলতে দেও আর তোমাকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমার।তারপর আমি এখানে"
"তাহলে ফাঁসির মঞ্চে ওই মেয়েটা কে ছিলো"
"ওই মেয়েটা ছিলো নিহানের বাবার প্রেমিক আর তিনিই ছিলেন আমার পরিবার হত্যার মুলে।তার পছন্দ ছিলো আমার বাবাকে বাবা তাকে প্রত্যাক্ষান করায় সে নিহান ভাইয়ের বাবার সাথে মিলে প্রথমে নিহান ভাইয়ের মা তারপর বোন আর আমার পুরো পরিবারটাকে আগুন দিয়ে খুন করে"
"আমি যদি নিলাকে বিয়ে করতাম তবে"
"আমি আমার আল্লাহতে বিশ্বাসি তিনি উত্তম পরিকল্পনা বান।আপনি নিলার হলে আমার জন্য কাউকে পাঠাতেন তিনি"
আবেশ শুধু আর চোখে তাকালো আর কিছু যানতে না চেয়ে বাবু কে দেখিয়ে বলল
"ওর নাম কি দিয়েছিস"
"আওরোরা দেওয়ান আশা"
"চল আশার মাম্মা আমরা আবার আমাদের জীবন শুরু করি আমাদের ছোট্ট আশাকে নিয়ে"
"তার আগে বিয়ে করতে হবে"
"মানুষ তার এক বউকে কয়বার বিয়ে করে"
"আমিতো আসার আগে ডিভোর্স পেপারে সাইন করে এসেচিলাম"
"আমি তো করিনি,আর আমি তোকে কখনো তালাক ও দেইনি"
আকসা তাকালো আর চোখে আবেশ আশাকে কোলে নিয়ে সমুদ্রের কাছাকাছি চলে গেলো আকসাও পিছু পিছু গিয়ে আবেশের হাতটা ধরলো।
আবেশ বলে উঠে
"আমি রাজি আমার একবউকে হাজার বার বিয়ে করতে"
আকসা একটা রিং বের করে কিছু বলবে তার আগেই আবেশ রিং বক্স থেকে একটা রিং বের করে হাটু গেরে আকসাকে বলল
"তুই কি তোর এই খারাপ মানুষটাকে মেনে নিবি সারাটা জীবনের জন্য"
"আপনি কি থাকতে পারবেন একজন ভিলেনের সাথে তাকে ভালোবেসে ভিলেনের হয়ে"
"যদি ভিলেনের ভালোবাসা এতো প্রখর হয় তখন কে যায় নাইকার কাছে"
আকসা হাসলো শুধু
তারপর তারা একটা অমর সূর্যান্তকে স্বাক্ষী করে তাদের অমর ভালোবাসার কাথা বুননের সুচনা করলো।
দুর থেকে শোনা গেলো কারো কন্ঠে কিছু কথা
তারপর পরিশেষে একজন নিষ্ঠুরতম ভিলেনেরো একটা সংসার হলো,ভালোবাসার মানুষ হলো।
প্রিয় ধ্বংসবতী আপনাকে না হয় এই জনমে পেলাম না।যানি পরজনম বলতে কিছু না থাকলের পরকাল আছে।আর আমি না হয় আমার আল্লাহ কাছে আপনাকে চাইবো আমার সব তাহাজ্জুদ নামাজের বিনিময়ে
#সমাপ্ত