ফন্ট সাইজ:
থিম:
হাওয়ায় সুরগান

৩৪তম পর্ব

লেখক: Sharmin Shaajh nur

#পর্ব_৩৪

#হাওয়ায়_সুরগান

#Sharmin_Shaajh_Nur

সকাল ছয়টা। মায়া বিছানায় কম্বল মুড়ি দিয়ে বসে রয়েছে। ঠান্ডা লেগেছে। জ্বর আসারও পাঁয়তারা বোধহয়। খুব ভোরে গোসল করায় হাঁচি দিয়ে যাচ্ছে সমান তালে। অনাবরত হাঁচি দেওয়ায় নিঃশ্বাসের স্বাভাবিক তাল হারিয়ে যায়। যেন আটকে আসার উপক্রম। আরহান ওয়াশরুমে। কিছু সময়ের ব্যবধানে সেও বেরিয়ে আসে। চুল ভেজা। পরনে কালো টিশার্ট ও শ্যাতা রঙা ট্রাউজার। সে মাথার ভেজা চুলগুলো তোয়ালের সাহায্যে ভালোভাবে মুছতে মুছতে এগিয়ে আসে মায়ার কাছে। গায়ের কম্বল সরিয়ে দেয়। মায়ার শরীরে কালো রঙা একটি জামা। সুতি ওয়ান পিস। ভেজা চুলগুলো হাত খোঁপা করে রেখেছে। আরহান টেনে বিছানার কিনারে আনে তাকে। কম্বল সরিয়ে দেওয়ায় বিরক্ত হয় মায়া। নাক মুখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করে -

__দূর শীত লাগছে আমার। এভাবে সরিয়ে দিলেন কেন"?

আরহান ওর খোঁপা করা চুলগুলো এক টানে খুলে তোয়ালে লাগায় মাথায়। দুহাতের সাহায্যে লম্বা চুলগুলো ভালোভাবে মুছে দিতে দিতে মেজাজের সঙ্গে উত্তর করে-

__ভেজা চুলগুলো বেঁধে রেখে আবার বলছো শীত করে? হেয়ার ড্রায়ার কোথায়"?

__ঐ ড্রয়ারে আছে"।

আরহান ড্রয়ার থেকে বস্তুটি বের করে আনে বিনাবাক্যে। এরমধ্যে মায়া আরো কয়েকবার হাঁচি দেয়। আরহান নিজস্ব ভঙ্গিতে মায়ার চুলগুলো নেড়েচেড়ে শুকিয়ে দিতে দিতে বলে-

__জ্বরও দেখি এসে গেল। খেয়ে এসে মেডিসিন খাও"।

মায়া চোখ ছোট ছোট করে। নাক ফুলিয়ে নাকচ করে বলে-

__আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি এখন ঘুমাব"।

__সব খাওয়া দাওয়ার পর। এখন নিচে নামবে তুমি"।

আরহানের কাঠ কাঠ জবাবে মায়া অভিযোগের সুর তুলে বলে -

__আপনি ভীষণ বাজে আরহান। সবকিছু নিয়ে কেমন জানি করেন"।

__উম। আই নো আমি বাজে। নাও চুল শুকানো হয়েছে। এখন নিচে চলো। খেয়ে দেয়ে মেডিসিন নিবে। চাইলে কফিও খেতে পারো ভালো লাগবে"।

বলেই আরহান নিজ উদ্যোগে মায়ার গায়ে ওড়না জড়িয়ে দেয় ঠিকঠাক ভাবে। চুলগুলো গুছিয়ে দেয়। মায়া ক্লান্ত চোখে চাইছে। আরহানের মায়া হতে যায় যেন। মেয়েটা কে আজকে একটু অন্যরকম সুন্দরও লাগছে। সে মন গলাতে প্রশংসা করতে ভুলে না। মিষ্টি হেসে দুহাতের বুড়ো আঙুলের সাহায্যে মায়ার ভ্রু জুগল স্লাইড করে সমান ভাবে। মুগ্ধ কন্ঠে আওড়ায়-

__বেশ লাগছে তোমাকে আজ। শুরুর প্রেমে পড়ার মতো। প্রেম করার মতো। কিন্তু কপাল গুনে এই মূহুর্তে বউ তুমি আমার"।

মায়া কপালে ভাঁজ ফেলে। এটা ঠিক কেমন প্রশংসা? কি রকম? ঠিক বুঝতে পারে না মায়া। সে আরহানের হাতে বন্দী থেকেই প্রশ্ন ছুড়ে-

__এটা ঠিক কিরকম প্রশংসা ছিল মি.?

আরহান অবলায় অনিমেষ ভঙ্গিমায় জানায়-

__যেমন তুমি মনে করো"।

মায়া মুখ বাঁকায়। হাত উঠিয়ে আরহানের বুকে আলতো চাপড় মেরে বলে-

__আমি তো প্রশংসাই পেলাম না এরমধ্যে"।

আরহান কি ভেবে মুচকি হাসে। মুখখানি নিয়ে যায় ঠিক মায়ার মুখের সামনে। সরল প্রা/ণ ঘা তী চাহনি দেয়। ঠোঁটে মুচকি হাসি বিদ্যমান রেখেই নিস্তেজ গলায় জবাব দেয়-

__প্রশংসা? রাতে কি কম হয়েছে তা? মন ভরে নি তবুও "?

লজ্জাজনক কথা। মায়া সামান্য লজ্জা পেল বোধহয়। লজ্জা নিবারণ করতে এদিক ওদিক অস্তির ভাবে চোখ ঘুড়ায়। শেষে চোখ গরম করে চায় লজ্জা দেওয়া ব্যক্তিটির পানে। আরহান নিঃশব্দে হাসে। মায়া কে বিছানা থেকে যত্ন করে নামায়।

*°•

লিভিং রুমে পাশাপাশি বসে মায়া আরহান। দুজনের হাতেই কফির মগ। নিচে আসার পর আরহানেরো অজানা কারণে হাঁচি আসছে বারংবার। মায়া ত হাঁচি করতেই আছে। এরমধ্যেই আরহানের মা শিল্পী চৌধুরী বের হয়ে আসেন ঘর থেকে। একটু এগিয়ে আসতেই কিছুটা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। লিভিং রুমে আজ সাত সকালবেলা পুত্র ও পুত্রবধূ কে দেখা যাচ্ছে। বাহ! কিন্তু তার ছেলেটিও এত সকালে নেমেছে? ব্যাপার টা কী? তিনি এগিয়ে আসেন। ওদের পিছনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করেন। সকাল সকাল কফি হাতে নিয়ে বসে দুজন। শুধু তো বসেই নয় বরং দুজনে অস্বাভাবিক রকম হাঁচি দিয়ে যাচ্ছে সমান তালে।

সকাল সকাল ঠিক এমনটা হওয়ার কারণ কি তাই যেন বোঝার চেষ্টা করছে শিল্পী চৌধুরী। ভ্রু কুটি করে পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেলে মেয়ে দুটো কে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে নীরবে। কোনো টা থেকে এলার্জি জাতীয় কিছু হলো নাকি? আর চুপ না থেকে এবারে জিজ্ঞেস করেই ফেললেন -

__তোদের কী ব্যাপার বল তো"?

আচানক চমকে উঠে মায়া। আরহান প্রতিক্রিয়াহীন ভাবেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় মায়ের দিকে। পর পর আবার মায়ার দিকে। মায়া আহাম্মকের মতো আরহানের দিকে তাকিয়ে। ব্যাপার কী' প্রশ্নে একটু থ। চোখ পিটপিট করে। আরহান নির্লিপ্ত গলায় মায়ের দিকে দৃষ্টি রেখে জবাব দেয়-

__কী ব্যাপার হবে"?

শিল্পী চৌধুরী ভ্রু জোড়া আরো কুঁচকে নেন। জিজ্ঞেস করেন

__কোনো ব্যাপার নেই তাহলে সকাল সকাল দুটো এত হাঁচি দিচ্ছিস কেন? আর সাত সকালবেলা কফি নিয়ে কেন বসেছিস"?

এহেন কথায় মায়ার খুক খুক কাশ উঠে যায় মাথায়। প্রশ্ন বড়ই জটিল। বড্ড কঠিন। সে ইতস্তত করে উত্তর দেয়-

__আসলে আম্মু ঠান্ডা লেগেছে একটু। তাই এই সকাল সকাল কফি খাওয়া"।

শিল্পী চৌধুরী মায়ার কথা অত আমলে না নিয়ে অবুঝের মতো বলেন-

__হঠাৎ দুজনের একসঙ্গে ঠান্ডা লাগল কি করে হ্যাঁ"?

মায়া থমথমে হয়ে যায়। আরহানের দিকে অসহায় দৃষ্টি ফেলে অথচ আরহান নির্লিপ্ত। তবে মায়ার অবস্থা দেখে সে সরল উত্তর দেয় মা কে।

__আবহাওয়ার অবস্থা দেখ না আম্মু। ঠান্ডা জ্বর লাগতেই পারে। আর আমার তো সবেতেই অনিয়ম এ আর নতুন কী"?

শিল্পী চৌধুরী যেন ছেলের কথা বুঝেন। ঠিকই তো। ছেলের তার দুদিন পর পর এসব নতুন কিছু না। অনিয়ম সে। আর মায়ার হয়তো আবহাওয়া সয় নি। সে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে কিচেনের দিকে এগোয়। যেতে যেতে বলেন-

__কফি না খেয়ে আদা রসুন দিয়ে চা খা দুটো। নাপা খা ঠিক হয়ে যাবে"।

মায়া হাফ ছেড়ে বাঁচে। শাশুড়ির সামনে আর একটু হলে বোধহয় লজ্জায় পড়তে হত। কি যে অস্বস্তিকর অবস্থা। উফ! সে আরহানের দিকে কটমট করে তাকায়। আরহান তা দেখে এক ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে-

__কী? আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছো কেন"?

মায়া দাঁতে দাঁত চেপে বলে-

__সব আপনার দোষ"।

__আশ্চর্য! আমি কী করলাম"?

__আপনি...

মায়ার কথা থামিয়ে ফোন বেজে উঠে আরহানের। সে পলক ফেলে একবার ফোনের দিকে। আননোন নাম্বার। আরহান ফোনটি রিসিভ করে। কানে ধরে নিঃশব্দ থাকে। কয়েক সেকেন্ড যাওয়ার পর দুটি শব্দে উত্তর দেয়-

__আসছি আমি"।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন