গুনগুন করে গান গাইতে ভুঁইয়া বাড়িতে যাচ্ছে রুপা। সমানে আঁচলটা হাতে নিয়ে নাড়িয়ে যাচ্ছে। পরনে সুতির সবুজ শাড়ি আর সাদা ব্লাউজ। বরাবরের মতোই ব্লাউজের গলা অনেক বড়। ফলে বুক, পিঠে কোমরের অংশ বেরিয়ে আছে। পরশুদিন শহরে গিয়েছিল সে। শহরের নামি-দামি পার্লার থেকে রুপচর্চা করে এসেছে। হাত-পাও কেমন চকচক করছে।
এ কারণে তাকে দেখা যায় নি। এখন পথে-ঘাটে যখন তখন দেখা যাবে।
তার কাজই তো এটা। বাড়িতে মন বসেনা। মন বসবে কি করে? মন তো থাকে মোড়ের ওপর ক্যারাম খেলা জোয়ার পোলাপাইনের কাছে। এসব ভেবে হাসল সে। কিন্তু গলিতে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। মুখের ভঙ্গিমা ভয়ার্ত হলো। কারণ আরিজ ওর বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। পেছনে ঘুরে মায়ের সঙ্গে কথা বলছে। তাকে দেখামাত্রই উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরল। আরিজকে তার মোটেও পছন্দ না। খুবই জঘন্য একটা ছেলে। একবার গাঁ ঘেঁষে দাঁড়ানোর জন্য কাঁচা কঞ্চির বারি মেরেছিল।
সেই বারিতে তার দুধে আলতা গায়ে কালশিটে পড়ে গিয়েছিল। তিনদিন জ্বরে ভুগেছিল৷ তারপর থেকে কাছ ঘেঁষা তো দূর যে পথে থাকে ওপথও পা মাড়ায় না। কতদিন ভুঁইয়া বাড়ি যাওয়া হয়নি। কুটনামি করা হয়নি।
কুটনামি না করলে মনটা বড্ড আকুপাকু করে। সব দোষ আরিজ্যের।
ওদিকে যেতে পারল না দেখে আরিজকে গালি দিতে দিতে মুদি দোকানে এলো। দোকানদারের ছেলে মাসুম বসে আছে। এক বাচ্চার বাবা মাসুম।
তবে লুচ্চাগিরিতে এগিয়ে আসে। তাকে দেখে রুপা শাড়ির আঁচল নিচে নামিয়ে দিলো। এরপর একটু ঝুঁকে ঠোঁটে মিটিমিটি হাসি ফুটিয়ে বলল,
_'মাসুম বাবু এক হালি ডিম দাও।'
_'আরে রুপা ভাবি যে। আর কি কি লাগব কন?'
_'নুডুলস দাও। মুসুম ডাল দাও। এক কেজি চিনি দাও।'
_'আর?'
_'একটা ভিম সাবান আর,,। '
_'আর?'
_'আর এক প্যাকেট তোমার ঠোঁটের মিষ্টি হাসি দাও।'
মাসুম ঠোঁট কামড়ে একটু হাসল। সিগারেটে পোড়া ঠোঁট গোল করে চুমু ছুঁড়ল। তারপর মাথার চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে এদিক-ওদিক তাকাল।
কেউ দেখে ফেললে আবার বিপদ। সে জিনিসগুলো পলিথিনে ঢুকিয়ে রুপার হাতে ধরিয়ে দিলো। রুপা সেসব ধরে বলল,
_'টাকা কাইলকা দেই?'
মাসুম তার কথার ধার ঘেঁষল না। বরং নিচু স্বরে বলল,
_'ভাইয়ের নাইট কবে? আইজ আছে?'
_'হু।'
_'জিনিসের দাম দেওন লাগব না।'
_'ওমা, ক্যান? সত্যি লাগব না?'
_'না।'
_'মন থেকা কইতাছো?'
_'হ।'
_'তাইলে আমিও মন থেকা একটা কথা কই?'
_'কন।'
_'আইজা তোমার ভাইয়ের নাইট আছে, রাইতে আইয়ো।'
রুপার কথা শুনে মাসুম মাথা চুলকে হাসল। এ তো নতুন না। হঠাৎ গলা খাঁকারি শুনে দুজনেই ঘুরে তাকাল। পেছনে অচেনা এক ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে চেনে না রুপা তাই বুক টানটান করে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
ছেলেটার আপাদমস্তক দেখে একটু সরে দাঁড়াল। গ্রামের ছেলে না এটা নিশ্চিত। কারণ গ্রামের ছেলেরা এত স্মার্ট না। তাদের বেশভূষা এত দামি হয় না। বডি চকচক করে না৷ তাদের শরীর থেকে ব্র্যান্ডের পারফিউমের সুগন্ধ আসে না। মুনতাসীর দশ প্যাকেট সিগারেট কাগজের ঠোঙায় মুড়িয়ে দিতে বলল। তারপর দাম মিটিয়ে চলে গেল। সে যেতেই রুপা মাসুমকে ইশারা করতেই মাসুম জানাল ভুঁইয়া বাড়ির মেহমান। শহরে
থেকে এসেছে। দেখে মনে হয় টাকা-পয়সা ওয়ালা। রুপা দাঁড়াল না। সে মুনতাসীরের পেছনে হাঁটা ধরল। তারপর টোপ ফেলতে কানে ফোন ঠেকিয়ে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল,
_'আমি রুপা। মুখ ফিরাইয়া লাভ নাই, এই গেরামে আমার মতো সুন্দরী আর পাইবা না। সুন্দরী হইলেও আমার পিরিতের মানুষ নাই। তয় কেউ প্রস্তাব দিলে না করুম না। গলিতে দাঁড়াইয়া ডানদিকে তাকালে সামনের গোলাপি বাড়িডা আমার বাড়ি। আমি বাড়িতে একা থাকি। কারো যদি মন খারাপের ব্যারাম থাহে আমার কাছে আইতে পারে। আমি শরীরের সঙ্গে মনের ব্যারামও সারি। আমার নাম ভুইলো না। আমি হইলাম রুপা, জোয়ান পোলাপানের সুন্দরী ভাবি; রুপা ভাবি।'
সব কথায় শুনেছে মুনতাসীর। কি ভেবে পেছনেও তাকাল, আরেকবার তাকাল গোলাপি বাড়িটির দিকে৷ তারপর বাড়িতে ঢুকে গেল। তা দেখে রুপা হাসল। টোপ গিলেছে বোধহয় নয়তো বাড়ির দিকে তাকাল কেন?
___
আচমকা মোহাম্মদ উসমানের খামারে বাংলাদেশি এক ছেলের আগমন ঘটেছে। নাম তার হিমাদ্রি শেহজাদ। তার শখ ঘোড়ার ব্যবসা করা। তাই
সুদূর বাংলাদেশ থেকে ইরানের গোলেস্থানে এসেছে ঘোড়া কিনতে। সে
শিখতে চায় ব্যবসায়ী কৌশলও। কিন্তু শুরু কিভাবে করবে ধারণা নেই। অথচ মনভর্তি জেদ একটাই সে রেসিং, পোলো বা রাইডিং ক্লাবের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াই কিনবে। কারণ এই ঘোড়ার প্রচুর চাহিদা। ট্রেইনড ঘোড়ার দাম অনেক বেশি হলেও চাহিদা বেশি। আর যেটার চাহিদা বেশি সেটাতে লাভও বেশি। মোদ্দাকথা, উসমান সাহেবের থেকে শিক্ষা নিতে চায়। অভিজ্ঞ মানুষের কাছে থেকে চোখে দেখলেও অনেককিছু শেখা যায়। জানা যায়। এজন্যই প্রাথমিক ধারণা নিতে এসেছে। যাতে নিজে একটি খামার পরিচালনা করতে পারে। হিমাদ্রির জায়গায় অন্য যে কেউ
উসমান সাহেব মোটেও রাজি হতেন না৷ একবাক্যে নাকচ করে দিতেন।
কিন্তু ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রভাবশালী নেতা নাভিদ কাসেমী
উনাকে ফোন করেছিলেন। যা ছিল কল্পনাতীত। বিনয়ীভাবে ছেলেটাকে কাজ শেখানোর অনুরোধ করেছেন। ছেলেটা নাকি বড্ড সরল। বিনয়ী।
খুবই নরম মনে মানুষ। কারো সঙ্গে উচ্চবাক্যে করে না। নেশাভান করে না৷ উনারই এক আত্মীয়ের ছেলে। উনি যেন থাকার অনুমতি দেন। বড় আশা করে উনার দায়িত্বে হিমাদ্রিকে পাঠিয়েছেন। এভাবে বললে না করা যায়? তাছাড়া প্রভাবশালী নেতার মুখে ওপর কথা বলা যায় না। বললে খেসারত দিতে হয়। কিন্তু উনার বলতে ইচ্ছে করছিল, 'আমি এক যুবতী মেয়ের বাবা। আমার বাড়িতে অচেনা পুরুষকে রাখব না। সমাজ যুবতী মেয়ের গায়ে কলঙ্ক লেপ্টাতে ওস্তাদ।' কিন্তু বলা হয়ে উঠল না। অগত্যা মনের বিরুদ্ধে হাসি ফুটিয়ে হিমাদ্রি সাদরে গ্রহণ করলেন তিনি।
বাড়ির দিকে যেতে গেলে হিমাদ্রি মাঝপথে দাঁড়িয়ে গেল। বলল,
_'আঙ্কেল, আমার কিছু বলার আছে।'
_'বলো, বাবা।'
_'আঙ্কেল, আমি আপনার বাড়িতে থাকতে চাচ্ছি না। খামারের কোনো রুম বা কোনো ফাঁকা বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিলে সুবিধা হতো।
আমি ভাড়া দিয়ে থাকব।'
_'কেন, বাবা? অতিথির হয়ে এসে ভাড়া থাকাটা খারাপ দেখায় না?'
_'দেখাবে না। থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার আছে।
আমি শুধু কাজ শিখতে চাই।'
_'এটা কেমন কথা? নেতাসাহেব জানলে কি ভাববে?'
_'জানালে না জানবে?'
হিমাদ্রির কথা শুনে উসমান সাহেব দোটানায় পড়ে গেলেন। তারপর কিছু একটা ভেবে বললেন,
_'আমার কাছে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ক্রেতা আসে। তাদের থাকার জন্য অতিথিশালা বানিয়েছিলাম। কিন্তু ওটা কাঠের তৈরি। দুটো রুম, একটি রান্নাঘর আর একটি বেলকনিতে আছে। তুমি ওখানে থাকবে?
এখানে তুষারপাত হয় দেখে বেশ উঁচু করে বানানো ঘরটা।'
_'চলুন যাই তাহলে?'
_' হুম। কিন্তু তার আগে এখন আপাতত আমার বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। খাওয়া-দাওয়া করো। আমি ততক্ষণে অতিথিশালা গোছানোর ব্যবস্থার করছি।'
হিমাদ্রি কথা বাড়াল না। উনার কথা মেনে ব্যাগপত্র সব অতিথি শালায় রেখে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরল। বাড়িতে যাওয়ার সময়ও অতিথিশালার সামনে দিয়ে যেতে আবার বের হতে গেলেও। বাড়ি আর অতিথিশালার দূরত্ব মাত্র তিন মিনিটের পথ। একদম সোজা পথ। বাড়ির গেটে দাঁড়ালে অতিথিশালা দেখা যাবে। অতিথিশালার জানালায় দাঁড়ালে বাড়ি দেখা যাবে। বাড়িতে ঢুকতেই উসমান সাহেবের সহধর্মিণীর সঙ্গে আগে দেখা হলো। হিমাদ্রি সালাম দিলো। মিসেস জুলিয়া সালামের জবাব নিয়ে এক পলক তাকালেন স্বামীর দিকে। উসমান সাহেব পরিচয় করিয়ে দিলেন।
উসমান সাহেব হাসতে হাসতে জানালেন হিমাদ্রিও বাংলাদেশি। একথা শুনে জুলিয়ার মুখের হাসি চওড়া হলো। বহুদিন পর দেশের মানুষ পেয়ে খুশি হলেন। বাংলায় কথাবার্তা বললেন। তখন বারো বছরের এক ছেলে
খিলখিল করে হেসে দৌড়ে আসল। হিমাদ্রির দিকে দৃষ্টি পড়তেই একটা রুমের দিকে তাকাল। তারপর একপ্রকার চেঁচিয়ে বলল,
_'আননোন পারসোন। প্লিজ স্টপ!'
তার কথা শুনে কেউ তড়িৎ দরজা থেকে ছিঁটকে সরে গেল। উসমান সাহেব গলা খাঁকারি দিয়ে হিমাদ্রিকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। উনার ছেলে নুরাইদ সিদ্দিকীর সঙ্গে পরিচয় করে দিলেন। তারপর হিমাদ্রিকে পাশের
গেস্টরুমের সবকিছু দেখিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিতে বললেন। তারপর রুমের পর্দা টেনে দিয়ে এবার এগোলেন মেয়ের রুমের দিকে। মেয়ের রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আদুরে সুরে ডাকলেন,
_'আম্মাজান!'
ডাকমাত্রই এক মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে এলো,
_'জ্বি, আব্বুজান।'
_'আমি কি ভেতরে আসব, মা?'
_' জ্বি আব্বুজান।'
উসমান সাহেব ভেতরে প্রবেশ করলেন। উনি বাইরে থেকে আসামাত্রই ছেলে-মেয়ে দুটো ছুটে আসে। আজও তাই হচ্ছিল কিন্তু বাইরের পুরুষ থাকায় মেয়ে আর বের হয়নি। উনি মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
_' মহান আল্লাহ যখন বান্দার ওপরে খুশি হোন তখন মেহমান পাঠান। আজ আমাদের বাসায় একজন মেহমান এসেছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব মেহমান যেন আমাদের সেবায় সন্তুষ্ট হোন। কারণ মেহমান খুশি হলে আল্লাহও খুশি হবেন।'
_'জ্বি, ইন শা আল্লাহ।'
_'ইন শা আল্লাহ। আম্মা কষ্ট করে অতিথিশালা গুছিয়ে দিতে পারবেন?
আপনার আম্মুজান খানা রেডি করছেন। আপনি যদি...'
_'জ্বি আব্বুজান, পারব আমি।'
_'চলেন তাহলে আপনাকে রেখে আসি। মেহমানের খানা সারতে সারতে আপনার কাজ হবে না?'
_'হবে, ইন শা আল্লাহ।'
একথা বলে মাহিনূর তার আবায়া শরীরে জড়িয়ে নিলো। তার সারা দেহ কালো কুচকুচে ঢোলাঢালা আবায়ায় ঢেকে গেল৷ শুধু শান্ত চোখজোড়া বেরিয়ে থাকল। জুলিয়া বেগম নতুন বেডশিট থেকে শুরু করে আরো কিছু জিনিস মেয়ের হাতে ধরিয়ে দিলেন। তারপর বাবা-মা বের হতেই নূরাইদও পিছু লাগল। উসমান সাহেব দুই ভাই-বোনকে অতিথিশালার ঢুকিয়ে লাইট জ্বালিয়ে দিলেন। তারপর কাজ করতে বলে বাইরে থেকে দরজা আটকে বাড়িতে চলে গেলেন। ওদিকে খাবারের ব্যবস্থা কতটুকু দেখা দরকার।
______
ওদিকে সাবান আর আরিজের একটা গেঞ্জি নিয়ে পুকুর পাড়ে এসেছে অরা। পড়ন্ত বিকেলে সূর্য ডুবে যাচ্ছে। পুকুরের পানিতে সেই দৃশ্যটুকুও
চমৎকারভাবে ভেসে উঠেছে। পুকুরের সবুজ পানি টলমল করছে। একটু বাতাসে হলে ছোট ছোট ঢেউ তৈরি হচ্ছে। সেই ঢেউ হেলায় ধাক্কা খাচ্ছে
শেষ সিঁড়িতে। শেষ সিঁড়িটা পানিতে ডুবে থাকায় শ্যাওলায় সবুজ হয়ে আছে। এটা ভুঁইয়াদের পুকুর। গ্রামের মানুষরা গোসল করে।নিত্যদিনের কাজকাম সারে৷ ভুঁইয়ারা কেউ পুকুর ব্যবহার করে দেখে পরিষ্কার করে না৷ গ্রামের কেউ আগ বাড়িয়ে করেনা৷ এভাবেই চলে। সে অবশ্য বাড়ির টিউবওয়েল গোসল সারে। তাই ভাই পুকুরে গোসল করা পছন্দ করেনা।
এজন্য কাপড় ধোঁয়ার জন্য মাঝে মাঝে পুকুরে আসে। এখন এদিকটায় কেউ নাই। গেছে বিলের দিকে। যে যার পাল ধরা হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল নিয়ে বিকেলে ওদিকে যায়। সে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হাতের দিকে তাকাল। সকালবেলা আড়তে যাওয়ার আগে আরিজ গেঞ্জিটা ধোঁয়ার জন্য দিয়েছিল। কিন্তু একদম ভুলে গিয়েছিল। কলেজ থেকে এসে একটু পড়তে বসেছিল। পড়তে পড়তে কখন ঘুমিয়ে গেছে। হুড়মুড় করে উঠে
বাইরে আসতেই চোখ পড়ে ভাইয়ের গেঞ্জির দিকে। তখনই গেঞ্জি হাতে দৌড়ে এসেছে। এসব ভাবতে ভাবতে পা বাড়াতেই আচমকা পা হঁড়কে
ধপাস করে পড়ল। মরিয়ম বেগমও মেয়ের পেছন পেছনে দাঁড়িয়েছেন সবে। মেয়েকে পড়তে দেখে কিছু বলার আগে সেখানে মুনতাসীর এসে দাঁড়াল। তারপর উচ্চশব্দে হাততালি দিতে দিতে বলল,
_' ইয়া আল্লাহ! মা শা আল্লাহ্। সুবহানাল্লাহ্। আলহামদুলিল্লাহ্!'
তার ঝংকার তোলা হাসির শব্দে হতবাক অরা। পড়ে গিয়ে উঠে বসবে নাকি শুয়ে পড়বে? নাকি ছোটোবেলার মতো ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দেবে?
এদিকে তখনও হাসছে মুনতাসীর। গতদিন গরুর গুঁতো খেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে আসার সময় এই মেয়ে তাকে দেখে হেসেছিল। আজ ও নিজে পড়েছে। এবার দেখ কেমন লাগে।