চিঠি দিও
৪৪
_____________
কুয়াশার চাদরে মুড়িয়ে রাখা ধূসর আকাশের সমস্ত রহস্য একপাশে সরিয়ে সূর্য উঁকি দিতে শুরু করেছে মাত্র। পৃথিবী আলোকিত করা প্রথম রৌদ্রছঁটাকে বলে সোহাগি রোদ্দুর৷ দিনের এই সময়টা উপমার সবচেয়ে পছন্দের। ইদানিং নতুন সূর্যের উদ্ভাসিত আলো মাখতে রোজ বারান্দায় শীতল পাটি বিছিয়ে বসে থাকাটা রীতিমতো অভ্যেসে পরিণত হয়েছে তার। এতেই শান্তি। নিস্তব্ধ নিরালায় এভাবে একা একা বসে থাকলে মনে হয় ভেতরের যন্ত্রণাগুলো বুঝি একটু একটু করে রোদের ফোঁটার সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিদিনের নিয়মে আজও ব্যতয় ঘটেনি। আজ বরং বই খাতা সঙ্গে গুছিয়ে নিয়ে ও বসেছে। যদিও পড়তে ইচ্ছে করছে না, তবুও বইয়ের পাতা মেলে কোলের ওপর রেখে দিয়েছে। তার উদাসী চোখ একটা অক্ষরও ঠিকমতো দেখার সময় পায়নি। পাবে কি করে? গাড়িঘোড়া বিহীন শূন্য পথ আর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো দেখেই তো সে ফুরসত পাচ্ছে না।
"সক্কাল সক্কাল উঠে পড়ছ আম্মা? ভালোই হইছে। আসো তো একটু উপটান লাগায় দেই। গায়ের রঙটা আরেকটু খুলবেক্ষণ"
খুব কাছে থেকে মামির সোহাগমাখা কণ্ঠস্বর শুনেও উপমার ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হলো না। ঠিক যেদিন থেকে ও বিয়েতে রাজি হয়েছে, সেদিন থেকেই মামির যত্ন ভালবাসার কমতি নেই। এসব ভালবাসায় যে কতখানি খাঁদ আছে নতুন করে পরিমাপ করার প্রয়োজন নেই। মামি শুরু থেকেই চাইত তার বিয়ে হয়ে যাক, বোঝা নামুক মাথা থেকে। এখন তো আবার তার কারণেই সেজো ভাই ছাড়া পেতে চলেছে। সোহাগ বেশি দেখানোরই কথা।
পাছে অভদ্রতা না হয়ে যায় তাই অনিচ্ছায় উপমা ফিরে তাকাল। কৃত্রিম হেসে বলল,
-- আমি পড়ছি যে মামি।
-- এখনও পড়াশুনার মায়া ফালাইতে পারো নাই? মেয়ে মানুষ সংসারে গেলে আবার লেখাপড়া কি! রাখো বই রাখো। তোমার জীবন এখন থেকে পাল্টায় যাচ্ছে। মেনে নেও।
দেরি করো না। দেখি আসো তো।
মামির তাড়ায় বাধ্য হয়ে উপমা বই নামিয়ে রেখে দেয়। এরপর সোয়েটার খুলে তৈরি হয় উপটান মাখবে বলে৷ সূর্যের আগমন ঘটলেও তেজ অনেকটা কম; নেই বললেই চলে। ঝিরিঝিরি শব্দে কিছুটা বাতাসও বইছে। পলকা হাওয়ার শীতল এবং তীক্ষ্ণ স্পর্শ উপমাকে ভেতর থেকে বার-বার কাঁপিয়ে তুলছে। সবচেয়ে বিরক্ত লাগছে মামির এসব বাড়াবাড়ি। অকারণেই উপমার খুব কান্না পাচ্ছে। অথচ নিজের কাছে সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ একবিন্দু অশ্রু চোখ থেকে ঝরাবে না। স্বার্থপর মানুষগুলোর জন্য একটুও কাঁদবে না। এই যে তার ভেতরে পৃথিবী ভাসানো ভালোবাসার অনুভূতিগুলো! সব ভুল মানুষদের জন্য। যারা নাকি ওর খুব ভালো চায়, অথচ সে কি চায় কখনো জানতেও চেষ্টা করে না। মামা, মামি, ভাই-ভাবী। শেষ পর্যন্ত রওনক!
কি করেনি সে রওনক অবধি পৌঁছতে। অথচ নিষ্ঠুর লোকটা? আড়াল থেকে একটা চিঠি দিয়েই শেষ। সম্পর্ক নাকি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এত অবাক হয়েছিল উপমা এক টুকরো সেই কাগজটা দেখে! বলা নেই কওয়া নেই সম্পর্ক ভেঙে দিলাম বললেই তা ভেঙে যায়? সম্পর্ক ভাঙা এতই সহজ!
এখনও স্পষ্ট মনে আছে উপমার সেদিনটা। মামা সবকিছু জেনে যাওয়ার দু সপ্তাহ পরের ঘটনা, তার সাথে ঘটে যাওয়া সবকিছু রওনককে জানানোর জন্য যখন সে উন্মুখ। প্রতিদিন কলেজ থেকে ফেরার সময় ক্লাবে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে, অসংখ্য কল টেলিফোন অথবা সেলফোন নম্বরটায় করছে অথচ কোনোপ্রকার খোঁজ পাচ্ছে না রওনকের ঠিক তখন এক বিকেলে বাড়ির পোস্ট বক্সটায় একটা চিঠি এলো তার নামে। কেউ দেখে ফেলার আগেই ভাগ্যিস ভাবী তার ঘরে এনে রেখেছিল। টিউশন শেষ করে বাড়ি ফিরলে উপমার হাতে এলো সেই চিঠি। ছোট্ট একখানা বাদামি খাম, হাতে নিয়েই উপমার মনে হচ্ছিল এতদিনে বুঝি তার জীবনটা ফিরে পেল। ভেতরে কি লেখা আছে পড়ার জন্য যতটা না অস্থির ছিল তারচেয়ে বেশি একটা অজানা অনুভূতিতে বুঁদ হয়ে খামটা বুকে চেপে রেখেছিল কতক্ষণ। মনে হচ্ছিল এই যে এতদিনের অপেক্ষা, যন্ত্রণা সব এক নিমেষে মিটিয়ে দেবে ভালবাসার সীলমোহরে জড়ানো এক টুকরো এই কাগজটা।
অথচ যখন খামটা সে খুলল, ছোট্ট করে লেখা দুটো লাইন এক ঝটকায় ওকে বাস্তবের মাটিতে টেনে নামিয়েছিল। লাইন দুটো ছিল কিছুটা এমন,
"এভাবে পাগলপারা হয়ে আমাকে আর খুঁজো না উপমা। এ সম্পর্ক আর চালিয়ে নেয়ার নয়৷"
এতটুকু লেখায় কেন চালিয়ে নেয়ার নয়, ঠিক কোন কারণে রওনকের নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া, কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারেনি উপমা। এরপর রোজ গেছে ও রওনকের খোঁজে। ওর ভেতরে ঘূর্ণির মতো উত্থিত প্রশ্নগুলো খুব করে ওকে যন্ত্রণা দিয়েছে উত্তর পাওয়ার আশায়। কিন্তু কে দেবে উত্তর? যার দেয়ার কথা সে-ই না জানে কোথায় স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়েছে৷
এভাবে বারবারের চেষ্টায় খালি হাতে ফেরা উপমাকে একসময় নিস্তব্ধ হতে রীতিমতো বাধ্য করেছে। নাহ্ ও হাল ছেড়ে দেয়নি, তবে চেষ্টায় কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। একটা চিঠি ও এবার নিজেও রওনকের জন্য লিখেছে। ডাকবাক্সে অবশ্য পোস্ট করে দেয়নি। দেবেও না। এবারের চিঠি সে দেবে মিজান ভাইয়ের হাতে। উপমা জানে, মিজান ভাই যতই অস্বীকার করুক সে ঠিক জানে রওনকের নিরুদ্দেশ হওয়ার আদ্যোপান্ত। সে-ই নিশ্চয়ই সতর্ক করেছে বন্ধুকে যেন উপমাকে কিছু না জানায়। সমস্যা নেই, উপমা আর অস্থির হবে না এমনি করে। ধৈর্য ধরতে সে শিখে গেছে। এবার বরং রওনককে ধৈর্যহারা হতে হবে। সেও দেখতে চায় মানুষটা ঠিক কতখানি হৃদয়হীন।
পুরনো কথা স্মরণে এলে কঠোর চোখদুটোতে না চাইতেও কিছুটা আবেগ ছলকে উঠল। ঠোঁট কামড়ে নিজেকে সামলে উপমা স্বগতোক্তি করল,
"একটুও কাঁদব না আর আমি আপনার জন্য; একফোঁটাও না। ভালবাসার পরীক্ষা আমার যতখানি, ততখানি তো আপনারও। দেখি না কতদিন এভাবে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে পারেন আমার থেকে। মাঝপথে এসে হাত যদি ছেড়েই দেবেন তাহলে ধরেছিলেন কেন? উত্তরটা না পাওয়া অবধি আমি যে আপনাকে মুক্তি দেব না রওনক। পৃথিবীর যে সীমানাতেই থাকুন, একদিন না একদিন আমার মুখোমুখি আপনাকে হতেই হবে। আই স্যয়ার টু গড। আপনাকে আমার কাছে ফিরতেই হবে। আর সেদিনটা, বেশি দূরে নেই"
______________
"তুমি বরং পালিয়ে যাও আনন্দি"
সকালবেলাকার মামির উপটান অত্যাচার থামার পর দ্রুতহাতে ফ্রেশ হয়ে উপমা তৈরি হচ্ছিল কলেজ যাবে বলে। বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত আজই তার কলেজের শেষ দিন। এরপর সে পড়াশোনা কতটা করতে পারবে জানা নেই।
তাই তো মন ভরে বন্ধু-বান্ধবগুলোর সাথে সময় কাটাতে তর সইছে না। আজ একটু আগেভাগে উপস্থিত হবে বলেই তার এই তাড়াহুড়ো। তন্মধ্যে অনাহূত কথাটা চৌকাঠের ওপার থেকে ভেসে এলে ব্যস্ত হাতদুটো একা একাই নিজের গতি থামাতে বাধ্য হলো। অপাঙ্গে চৌকাঠে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে দ্রুতই স্বাভাবিক গতিতে ফিরে এলো উপমা। একটা একটা করে প্রয়োজনীয় সবকিছু ব্যাগে তুলে নিয়ে এরপর ইউনিফর্ম ঠিক করল, শেষে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে ভারী যত্ন নিয়ে চুলে চিরুনি চালিয়ে প্রশ্ন করল,
-- কার সাথে?
উপমার প্রশ্নের ধরনে যেমন বিস্মিত হলো আসমা, তেমনই বিরক্তবোধ করল। ঘরের ভেতরে এসে বলল,
-- তুমি জানো আমি কার কথা বলছি।
-- আমি জানি না ভাবী।
শান্তভাবে চাইল উপমা আসমার চোখে। শুনে আসমা বেশ অস্থিরচিত্তেই বলল,
-- এটা হেঁয়ালি করার সময় নয় আনন্দি।
-- আমি তো হেঁয়ালি করছি না ভাবী৷ কার সাথে পালিয়ে যাব আমি, কেন যাব? সে তো কবেই আমার হাত ছেড়ে দিয়ে নিজেই চলে গেছে। আমার আর যাওয়ার জায়গা রেখে যায়নি।
-- কিন্তু..
-- এসব বিষয়ে কথা বলতে ভাল লাগে না ভাবী। প্লিজ। যা হচ্ছে মেনে নিয়েছি তো আমি। তুমিও মেনে নাও। তোমার বরং খুশি হওয়ার কথা। যতই হোক আমার এই স্টেপটা কতখানি সাহায্য করছে সেজ ভাইকে ছাড়িয়ে নিতে। যাক এতদিন এ বাড়ির অন্ন খাওয়ার পর কিছুটা ঋণ ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ হলো৷
মুচকি হেসে চিরুনিটা রেখে ব্যাগ নিয়ে প্রস্তুত হয়ে গেল উপমা কলেজে যাওয়ার জন্য। ভেতরে ভেতরে আসমা অস্থিরতায় ফেটে পড়ল তাকে বোঝানোর জন্য, কিন্তু উপমা আর দাঁড়াল না। সে তো শক্ত হয়ে গেছে এখন৷ ভেতরে কি চলছে কাউকে জানতে দিতে চায় না, কাউকেই না।
ওদিকে শূন্য চোখে উপমাকে বেরিয়ে যেতে দেখে রাগে ফেটে পড়ল আসমা। মেয়েটা কেন বুঝতে চাইছে না শওকত, ওর পরিবার কেউই সঠিক নয় উপমার জন্য। ও কি বুঝতে পারছে না বিয়েতে রাজি হওয়া ওর জন্য একটা সুইসাইডাল স্টেপ ছাড়া আর কিছুই না!
এতদিন নিস্পৃহ থাকার পর হুট করে আসমার মনগোপনে পুনরায় মায়া-মমতার আনাগোনার কারণ আসমা নিজেও ঠিক আন্দাজ করতে পারছে না। হয়তো ওর নারী সত্ত্বা ওকে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া দুঃসহ রাতটার কথা স্মরণ করাচ্ছে, সেটাই হয়তো ওকে সতর্ক করে দিচ্ছে চোখের সামনে পশুটার খাঁচায় আর কাউকে না পাঠাতে। প্রতিশোধ আরও কত উপায়েই হতে পারে। কিন্তু নিজে একদিন যে নিগূঢ় আঁধারে তলিয়ে গিয়েছিল, চোখের সামনে সেই একই চোরাবালিতে অন্য কাউকে লাফিয়ে পড়তে দেখা কি অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে যায় না!
উফফ, কি করে সে আটকাবে এই জিদ্দি মেয়েকে?
___________
বহুদিন পর আত্মতুষ্টিতে আনিস শেখ আজ বাড়িতে ছোটোখাটো পার্টি মতো রেখেছে। নতুন কিছু নয়, বরাবর যা হতো এবারেও ঠিক সেভাবেই অ্যারেঞ্জ করা হবে। ছেলেপেলেরা যদিও আবদার করেছিল রঙ্গিন পানীয়র সাথে মনোরঞ্জনের জন্য যেন কোনো রঙ্গবতীকেও রাখা হয়। তবে আনিস সেসবে রা করেনি। ওসবের ওপর আগ্রহ বরাবরই তার কম। হাতের নাগালে এলে তবেই ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করে, নইলে না। এছাড়াও মন্ত্রী সাহেব উপস্থিত নেই। তার অনুপস্থিতিতে অন্যদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা নিমকহারামির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আনিস আর যাই হোক নিমকহারাম তো নয়।
হাতের ইশারায় এক অনুচরকে ডেকে চুরুট ধরিয়ে নিয়ে গ্রামোফোনে একটা গান ছাড়ার নির্দেশ দেয় আনিস৷ শ্লেষাত্মক হাসিতে ঠোঁট প্রসারিত হলে ভাবে, শেষ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা সফল হওয়ার পথে। একটু হ্যাপা পোহাতে হয়েছিল অবশ্য। বসকে ছেলের বিয়ের ব্যাপারে রাজি করানো মোটেও সহজ ছিল না; যা রেগে ছিলেন তিনি! তক্ষুণি লোক লাগিয়ে অতনুকে মেরে দেন এমন অবস্থা। আনিসই তো আটকাল তাকে। ভাগ্যিস রওনকের অজুহাতে মেয়েটার খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছিল। আনিস যখন জানতে পারল রওনকের প্রেমিকা আর অন্যকেউ নয় বরং অতনুর বোন উপমা৷ অবাক হয়েছিল ভারী। ছেলেটার এলেম আছে। সিংহের গুহায় ঢুকে শিকার করতে গিয়েছিল সে। শুরুতে তো রওনকের পরিবর্তনগুলো ঠিক মানতে পারছিল না আনিস, ওর প্রেমিকাকে গোপনে সরিয়ে দেবার বন্দোবস্তও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপরই মেয়েটার পরিচয় জানার পর সে কিছুটা দ্বন্দ্বে পড়ে গেল। সন্দেহ লাগল রওনক প্রতিশোধস্পৃহা থেকে প্রেমের নাটকে জড়িয়ে পড়ল না তো? সন্দেহের জায়গাটা যদিও স্পষ্ট করা সম্ভব হলো না নানাবিধ ঝামেলায়, তবে নিজে থেকে এখন যখন পথের কাঁটা সরে যাওয়ার সুযোগ এলো, সুযোগটাকে আর হেলায় হারানো ঠিক মনে হলো না আনিসের।
বসের সামনে কষ্ট করে শুধু উপমার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডটা তুলে ধরতে হলো তাকে। এতেই বস রাজি হতে বাধ্য। হবেন নাইবা কেন? উপর্যুক্ত লোকের অভাবে কত বছর থেকে খুলনা সীমান্তে তাদের স্টেট ব্যবসা বন্ধ পড়ে আছে। একবার এটা চালু করা সম্ভব হলে তাদের আর কেউ আটকাতেই পারবে না। ৬৪ জেলায় তখন শুধু তাদেরই রাজত্ব। আনিস জানে তো সবকিছুকে ছাপিয়ে রাজত্বের লোভ বসের কাছে সবচেয়ে বেশি। আর উপমার সাথে শওকতের বিয়েটা হলে এ বিষয়টা যে সমাধান হয়ে যাবে বলার অপেক্ষা রাখে না। হতে বাধ্য। উপমার বাবা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের সমস্যা সমাধান করে দেবে আনিসের বিশ্বাস। যদিও লোকটা বিশেষ সুবিধার নয় বলে সে খোঁজ পেয়েছে। তবে মন্ত্রীর সুমুন্দি হয়ে গেলে সেও সোজা হয়ে যাবে নিশ্চিত।
ওপরে ওপরে রাজি হলেও মন থেকে কতটা মেনে নিচ্ছেন মন্ত্রী সাহেব তা নিয়ে আনিসের কিছুটা দ্বিধা আছে। অবশ্য তার কি? প্রয়োজনে সম্পর্ক জুড়ছেন, প্রয়োজন ফুরোলে ভেঙে দেবেন। এসব একান্ত তাদের বাপ-ছেলের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আনিসের শুধু প্রয়োজন ছিল মেয়েটাকে রওনকের জীবন থেকে সরিয়ে রওনককে নিজের হস্তগত করা। তা সে ষোলোআনাই করতে পেরেছে, এরপর কোনোকিছুতে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন তার নেই।
এখন শুধু রওনককে নিয়ে ঢাকার পথে পাড়ি দেয়া বাকি। একবার ওকে নিজের খাঁচায় বন্দী করতে পারলে আর কখনও খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে না আনিস। যত উপায়ে ওকে জালে আবদ্ধ করা যায় সবটাই সে করবে। এ পর্যায়ে এসে রওনককে হাতছাড়া করা তার পক্ষে অসম্ভব।
চলবে,
Sara
★unedited