#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে "৫"
#জেরিন_আক্তার_নিপা
তাওয়াফকে কাশতে দেখে দাদী সহ মা চাচীরা সকলে তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। তাহমিনা উঠে এসে ছেলের পিঠ ঢলে দিচ্ছেন। নূর জাহান উপায় না পেয়ে বাকিদের ধমকাতে লাগলেন।
-এজন্যই খেতে বসে এত কথা বলতে না করি। তোদের বকবকানির কারণে আমার নাতিটা বিষম খেয়েছে।
তাওয়াফ কাশতে কাশতেই সামনে বসা পেখমের দিকে চাইল। এই কাজ যে পেখম ছাড়া কেউ করেনি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে।
দৃষ্টিকে শিক্ষা দিতে পেরে পেখম মনে মনে খুশি হচ্ছিল। কিন্তু দৃষ্টি ঠিকই আগের মতো দাঁত দেখিয়ে হাসছে। মাঝ দিয়ে তাওয়াফ ভাই বিষম খেয়েছে দেখে কিছুটা ভড়কে গেল। দৃষ্টি তো তাওয়াফ ভাইয়ের পাশেই বসে আছে। তাহলে কি ভুল করে দৃষ্টির জায়গায় তাওয়াফ ভাইকে! পেখম আর ভাবতে পারল না। টেবিলের নিচে মাথা নিয়ে দৃষ্টির পা খুঁজতে লাগল। হায় আল্লাহ! এই হারামি তো পা চেয়ার উপর তুলে বসেছে। পেখমকে টেবিলের নিচে উঁকিঝুঁকি পারতে দেখে ইরিন জিজ্ঞেস করল,
-টেবিলের নিচে কী দেখছিস?
-কিছু না তো। দেখছিলাম তেলাপোকা টেলাপোকা আছে নাকি।
-তেলাপোকা কোত্থেকে আসবে? তোর মাথায় যে কত উদ্ভট ভাবনা আসে!
ভয়ে ভয়ে পেখম সামনে তাকাতেই দেখল তাওয়াফ ভাই চোখ মুখ শক্ত করে তাকেই দেখছে৷ পেখমের গলা শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গেল। অকাজ একটা করে ফেলেছে। এবার তাকে কে বাঁচাবে। মনে মনে দোয়া-দরুদ পড়তে লাগল। যে জোরে পারা দিয়েছে অন্তত একটা থাপ্পড় তো খাবেই। আর ওই এক থাপ্পড়েই তার মুখের নকশা পাল্টে যাবে। তৌকির মির্জা স্ত্রীকে বললেন,
-ওকে আগে পানি দাও না।
তাওয়াফ মা'র হাত থেকে পানির গ্লাস নিয়ে পানি খেয়ে স্বাভাবিক হলো। পেখম মনে মনে আল্লাহকে ডেকে যাচ্ছে। আল্লাহ এত তাড়াতাড়ি তার ডাকে সাড়া দিবে ভাবেনি। তাকে অবাক করে দিয়ে তাওয়াফ ভাই থাপ্পড় দেওয়া তো দূর একটা শব্দও উচ্চারণ করল না। খাওয়া শেষ না করেই উঠে গেল। পেখম ঠোঁট কামড়ে ইরিন আপুর আড়ালে মুখ লুকানোর চেষ্টা করছে। আড়চোখে লক্ষ্য করল তাওয়াফ ভাই রুমে চলে যাচ্ছে। চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফোঁস করে বের করে দিয়ে মনে মনে ভাবছে,
-আল্লাহ বেঁচে গেছি। কিন্তু এই মিরাক্কেল কীভাবে ঘটল। হিটলার মির্জা কবে থেকে এত ভালো হলো? থাপ্পড় দিয়ে আমার দাঁত ফেলে না দিয়ে ওভাবেই চলে গেল!
ইলহাম ভাই তার জন্য কিছুই আনেনি। তাই পেখম ঠিক করেছে সে বাকি জীবনে আর কখনও ইলহাম ভাইয়ের সাথে কথা বলবে না। খাওয়াদাওয়ার পর্ব শেষ হলে আরেক দফা গল্পের আড্ডা বসেছে। তবে সেই আড্ডায় পেখম নীরব ভূমিকা পালন করছে। মেয়েটাকে আর না জ্বালিয়ে ইলহাম বলে দিল,
-মুখটাকে আর হুতুমপেঁচার মতো করে রাখতে হবে না। তোর জন্যও এনেছি।
পেখম অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে খুশিতে লাফিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করল,
-সত্যি!
-হুম। তুই একটা আনতে বলেছিলি। আমি এক ব্যাগ ভরে নিয়ে এসেছি। এবার ছাগলের মতো পাতা খাওয়া শুরু করল।
-কোথায় আমার গিফট?
-আমার রুমে। কালো একটা ব্যাগ। নিয়ে আয় গিয়ে। পাতা পঁচে পোকা হয়ে গেলে কিন্তু আমার কিছু করার নেই।
পেখম এক মিনিটও দেরি না করে দৌড়ে দোতলায় চলে গেল। দৃষ্টি কৌতূহল নিয়ে জানতে চাইল,
-ও তোমাকে কী আনার কথা বলেছিল ভাইয়া?
ইলহাম হাসতে হাসতে বলল,
-ছাগলেরা কী খেতে সবথেকে বেশি পছন্দ করে? পাতা ঠিক। এই ছাগলও আমাকে ম্যাপেল পাতা নিয়ে আসতে বলেছে।
পেখমের এমন আবদারের কথা শুনে সবাই হেসে উঠল। কানাডা থেকে কেউ পাতা নিয়ে আসতে বলে! পেখম তার পাতা পেয়েই খুশি। নিচে এসে সে এমনভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করছে যেন হীরের খনি পেয়ে গেছে। দু'হাতে দুইটা পাতা নিয়ে পেখমকে নাচতে দেখে ইলহাম বিড়বিড় করে বলল,
-পাগল একটা।
ইলহাম পেছনে ফিরে রানিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে গেল। সাড়াশব্দ না করে ভূতের মতো পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। রানি থমথমে মুখের জিজ্ঞেস করল,
-সবার লাইগাই তো কমবেশি জিনিস আনছেন। আমার লাইগা কিছু আনেন নাই?
ইলহাম চলে যাওয়ার পর এই মেয়েটাকে কাজে নিয়েছে। তাই সে এর কথা জানত না।
-সবাই তো নিজের পছন্দ বলে দিয়েছিল। তুমি তো আমাকে বলোনি তোমার কী লাগবে?
-আপনে কি আমার লগে কথা কইছেন? কেমনে কমু?
-ঠিক আছে। তোমার যা লাগবে আমি তোমাকে সে পরিমাণ টাকা দিয়ে দিব। তুমি নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিনে নিয়ো।
রানির মুখে হাসি দেখা দিল। ছোট ভাইজানের প্রশংসায় বলল,
-আপনের দিলডা হীরা দিয়া তৈরি ভাইজান। আপনে অনেক ভালা মানুষ।
চোখের উপর হাত রেখে শুয়ে থেকেও তাওয়াফ ঘুমতে পারছে না। এদের চেঁচামেচির মাঝে ঘুমানো সম্ভবও না। তাওয়াফ উঠে ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশনে বাইরে একটার বদলি আজ দুইটা স্লিপিং পিল খেয়ে নিল।
***
রক্তমাখা একটা হাত তার হাতের মুঠোয় ধরে আছে। প্রাণহীন চোখ জোড়া স্থীর অপলকভাবে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নীলচে পড়া নিম্প্রাণ ঠোঁট জোড়া স্তব্ধ হয়ে গেছে। মাথার নিচ থেকে বেয়ে আসা লাল রঙের তরলটুকুও ততক্ষণে জমাট বেঁধে গেছে। সবকিছু নীরব নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আগে কম্পনরত ঠোঁট জোড়া সামান্য নড়ে ভীষণ ক্ষীণ কন্ঠে তার কানে বলেছিল,
-হার মানিস না। আমার জীবনও এখন তোকে বাঁচতে হবে। আমি না থাকলেও একসাথে দেখা আমাদের স্বপ্ন গুলো তুই পূরণ করিস।
কথাগুলো তখনও তার কানে বাজতে থাকল। খোলা চোখ জোড়া বন্ধ করে দিয়েছে। যতদূর চোখ যায় তুষারে ঢাকা পর্বতটি ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। উপর থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ন্যায় তুলোর মতো সাদা নরম তুলতুলে তুষার তাদের উপর পড়ছে। তাওয়াফ একা অসহায় বসে আছে। কিছুই করতে পারছে না সে। বন্ধ চোখের পাপড়ি, নাকের ডগায়, ঠোঁটের উপর তুষার জমা মুখটার দিকে তাওয়াফ খুব বেশি সময় তাকিয়ে থাকতে পারল না। লাফিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসল সে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে বুকের ভেতর হাসফাস লাগছে। ঘনঘন দম টেনে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এসি চালু থাকার পরেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিয়েছে। তাওয়াফ চারপাশে তাকিয়ে নিজের রুমটা দেখে নিল। আজও সেই স্বপ্ন। এতগুলো বছর কেটে গেলেও ওই চোখ জোড়া ভুলতে পারে না সে। চিরচেনা সেই কন্ঠস্বর এখনও তার কানে বাজে। পাঁচ বছর ধরে একই স্বপ্ন দেখে রোজ ঘুম ভেঙে যায়। তাওয়াফ হাত বাড়িয়ে সাইড বক্সের উপর থেকে পানির গ্লাস নিয়ে এক ঢোকে পুরোটা শেষ করে ফেলল। তারপরও কিছুতেই অস্থিরতা কমছে না। দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল তিনটা ত্রিশ বাজে। বাকি রাতটা যে আর ঘুম আসবে না এটা সে ভালো করেই জানে। তাওয়াফ বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল। বাড়ির সকলে এখন ঘুমে। সে রুম থেকে বেরিয়ে নিঃশব্দে দরজা ভিড়িয়ে দিয়ে সদর দরজা খুলে বাইরে চলে গেল।
***
হাই তুলতে তুলতে পেখম সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে। নিচে নেমেই তাওয়াফ ভাইয়ের ঘরের দিকে সবার আগে চোখ গেল। দরজা বন্ধ মানে এখনও ঘুম ভাঙেনি। আর নয়তো ঘুম ভেঙে অনেকক্ষণ আগেই উঠে গেছে। পেখমকে দেখে নূর জাহান জিজ্ঞেস করলেন,
-ঘুম হয়েছে?
-অনেক ভালো ঘুম হয়েছে।
নূর জাহান সন্দিহান চোখে তাকিয়ে বললেন,
-এত ভালো ঘুম হওয়ার কারণ কী?
পেখম দাদীর কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,
-এত্ত রোমান্টিক একটা স্বপ্ন দেখেছি যে তোমাকে বলা যাবে না। শুনলে তুমি লজ্জা পেয়ে যাবে। সাথে বলতে গিয়ে আমিও লজ্জা পাব।
-রাতে স্বপ্নে তোর জামাই আসছিল নাকি? জামাই আসলে বলতে হবে না। কারণ জামাইরা কী কী করে আমার জানা আছে।
দাদীর রসিকতা তার ছেলেমানুষি রসিকতার উপর ভারী পড়ে গেল। বুড়ী মহিলা গুলোর রসিকতা ভীষণ ডার্ক হয়। পেখম তখন ডাইনিং টেবিলে শুধু শুধুই বসে ছিল। তার ঘুমই সবার আগে ভেঙেছে। দৃষ্টি ইরিন আপু কারো ঘুম এখনও ভাঙেনি। হাই তুলতে তুলতে তখনই দৃষ্টি এসে তার পাশে বসতে বসতে বলল,
-কখন উঠেছিস?
-অনেকক্ষণ।
-এত জলদি উঠে পড়লি যে!
-সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেছে।
-কী স্বপ্ন?
দৃষ্টির চোখ থেকে তখনও ঘুম যায়নি। সে ডাইনিং টেবিলের উপর দু-হাত ভাঁজ করে রেখে হাতের উপর মাথা রেখে পেখমের দিকে তাকিয়ে শুলো। পেখম এদিক ওদিক তাকিয়ে লজ্জা পাওয়া ভাবে নিচু গলায় বলল,
-স্বপ্নে জামাই এসেছিল। বাকিটা কইতে আমার শরম করে।
দৃষ্টি মুখ বাঁকিয়ে বলল,
-দূর খবিশ।
ওদের কথাবার্তা চলার মাঝেই তাওয়াফ জগিং করে ফিরে এসে হলরুমে সোফায় বসে জিরচ্ছে। সেটা ওরা কেউ লক্ষ্য করেনি।
ফজরের আগে বাড়ি ফিরে জামাকাপড় পরে ভোরের দিকে আবার জগিংয়ে বেরিয়েছিল তাওয়াফ। আজকে অন্য দিনের থেকে বেশি দৌড়ে ফেলেছে। গরম লাগছে তাই উপরের জ্যাকেটটা খুলে ফেলল। একটু বসে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করে নিয়ে ঝুঁকে দু'হাতে জুতার ফিতা খুলছে।
দেয়ালে টানানো ঘড়িতে সময় দেখে দৃষ্টি জিজ্ঞেস করল,
-কলেজে যাবি না?
-না। কলেজে যেতে এখন আর ভাল্লাগে না।
দৃষ্টি যতটা অবাক হলো তার থেকেও বেশি ড্রামা করে বলল,
-ও মাই গড! কার মুখে আমি এই কথা শুনছি! এই কথা তুই বলছিস! বাবা, বিশ্বাসই হতে চায় না
পেখম বিরক্তি নিয়ে ড্রামা কুইনটাকে দেখল। এত্ত ওভার অ্যাক্টিং করতে পারে!
-তুই তো কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে সবসময় এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকতি।
-মানছি একটা সময় কলেজে ভালো লাগত। কিন্তু এখন ভালো লাগে না।
পেখমের মুখ দেখে দৃষ্টি বুঝতে পারল পেখম মজা করছে না। বিষয়টা সিরিয়াস। তাই সে-ও সোজা হয়ে বসে বলল,
-ওই ব্যাপারটা তুই এখনও চাচাকে জানাসনি?
-বাবাকে জানাব, পাগল! বাবা কলেজে গিয়ে স্যার ম্যামদেরকেই গালিগালাজ করে আসবে। ওই ছেলেকে পেলে তো রক্ষেই নেই।
-তাহলে কি করবি এখন? কলেজ যাওয়াই বাদ দিবি।
-চাইলেও তো বাদ দিতে পারব না।
-তাহলে বাড়িতে জানা।
-হুম জানাব। তবে বাবাকে না। অন্য কাউকে ধরতে হবে।
-কাকে ধরবি?
-সেটাই তো ভাবছি।
-আমি বাড়িতে কাউকে বলব?
-না না। এ কাজ একদম করবি না। ব্যাপারটাকে আমি আমার মতো হ্যান্ডেল করব।
কলেজে পেখমকে একটা ছেলে কয়েকদিন ধরেই ডিস্টার্ব করে। ছেলেটার দাবি সে পেখমকে পছন্দ করে। কিন্তু পেখম ছেলেটাকে একদমই পছন্দ করে না। এটা ওই ছেলেকে পরিষ্কার জানিয়েও দিয়েছে। তারপরও ছেলেটা তার পিছু ছাড়ছে না। বরং পেখম তাকে পছন্দ করে না শুনে আগের থেকে বেশি বিরক্ত করতে শুরু করে দিয়েছে। ফারহানা ম্যামকে সে এই কথা জানিয়েছিল। ছেলেটার বাবা নাকি অনেক প্রভাবশালী। তাই ম্যামও কিছু করতে পারেনি। বাবার জোরেই ওই ছেলে এসব করতে পারছে।
-কাউকে না জানিয়ে কীভাবে হ্যান্ডেল করবি তুই?
পেখম ভাবান্তর মুখে বলল,
-ভাবছি ছোটকাকে বলব। ছোটকা ঠান্ডা মেজাজের মানুষ। মাথা গরম করে ঘটনাকে বড় করবে না। এই ব্যাপারটা মাথা ঠান্ডা রেখে সামাল দিতে হবে। ওই ছেলের বাপের অনেক পাওয়ার।
-আমাদের বাপ চাচাদের কম পাওয়ার আছে নাকি? আমরা শুধু পাওয়ার দেখাই না। তুই কি ওই ছেলের বাবাকে ভয় পাস? ঘটনা জানাজানি হলে সমস্যা কী? তুই তো আর কোন অন্যায় করিস নি।
দৃষ্টিটা একটা গাধী। সে কেন কাউকে ভয় পেতে যাবে? ভয় তো সে গোলাপ জানকে পায়।
-গোলাপ জানকে চিনিস? ওই বুড়ী এখনও আদি কালে বসবাস করছে। দাদীর মতে আঠারো হলেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিতে হয়। এমনিতেই বুড়ী পাপার কানে আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার নিয়ে সারাক্ষণ ঘনঘন করে। এখন এই ঘটনা জানাজানি হলে দাদী আরও একটা অজুহাত পেয়ে যাবে। এই অজুহাত দেখিয়ে বাবার ব্রেন ওয়াশ করে আমার বিয়ের জন্য রাজি করিয়ে ছাড়বে।
-তো?
-তো কিছু না। বিয়ে করা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই। বিয়ে তো একদিন করতেই হবে। তবে পাপা দাদীর পছন্দের কাউকে না। বিয়ে আমি আমার নিজের পছন্দের ছেলেকেই করব। এখন সেই ছেলেটাকে তো আগে আমার জীবনে আসতে দিতে হবে। আমার সোলমেটকে চিনে নেওয়ার সময় তো দিতে হবে। বিরক্ত করার ঘটনা জানাজানি হলে বুড়ী আমাকে সেই সময়টাও দিবে না। কলেজে ভর্তি করানোর আগেই ওয়ার্নিং দিয়ে রেখেছে ছেলে ঘটিত কোন ঘটনা যেন না শুনে। এই ভয়ে এখন পর্যন্ত একটা প্রেম করার কথাও মনে আনিনি।
****
তাওয়াফ ফ্রেশ হয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। তৌকির মির্জা লিভিংরুমে বসে খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছিলেন। আজকাল চুরি ডাকাতি খুনখারাবি ছাড়া ভালো কোন খবরই চোখে পড়ে না। ব্রেকফাস্ট না করেই সকাল সকাল ছেলেকে বেরোতে দেখে তিনি ডাকলেন।
-দাঁড়াও তাওয়াফ।
বাবার ডাক পেয়ে তাওয়াফ দাঁড়াল। তৌকির মির্জা ছেলের সামনে এসে জিজ্ঞেস করলেন,
-কোথাও যাচ্ছ?
-হুম।
-কোথায়?
-কাজ আছে।
তাওয়াফ শর্টকাটে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছে। তৌকির মির্জা ছেলের উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। ছেলে কী কাজে যাচ্ছে জানার কৌতূহলও দমাতে পারছেন না। আবার ছেলেকে সরাসরি জিজ্ঞেস করতেও দ্বিধা বোধ করছেন। ছেলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার তার কোন অধিকার নেই। মানুষের কত কাজই তো থাকতে পারে। সব কাজ কি বাবাকে বলেই করতে হবে।
-এসময় আবার কোন কাজ। বাড়িতে ইলহামের প্রথম সকাল। সকলের সাথে ব্রেকফাস্ট করে নাও। তারপর বেরিয়ো।
বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে তাওয়াফ ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলল।
-পার্সোনাল কাজ বাবা। ব্রেকফাস্ট ফিরে এসে করব। এখন লেট হচ্ছে।
চলবে