ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আসবে বলে বসন্ত এসেছে

২৩তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার নিপা

#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '২৩'

#জেরিন_আক্তার_নিপা

রাতে খেতে বসে সকলে নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। প্রিয়া আজ ভার্সিটি গিয়েছিল। তাওয়াফ সে সম্পর্কে নানান কথা জেনে নিচ্ছে।

-এখান থেকে ভার্সিটি যেতে অসুবিধা হয় না তো?

প্রিয়া তাওয়াফকে কষ্ট দিতে না চেয়ে মৃদু স্বরে বলল,

-ভাইয়া আমার গাড়ি লাগবে না। আমি তো আগেও গাড়ি ছাড়াই কলেজে গিয়েছি।

-গাড়িতে যেতে কি কোন সমস্যা?

-সমস্যা না। কিন্তু...

প্রিয়া কিছু বলতে পারল না। এবাড়িতে থাকছে সেটা এক ব্যাপার। কিন্তু প্রতিদিন গাড়ি করে যাওয়া তার ভালো লাগবে না। ইলহাম ওদের কথাবার্তা শুনেছে। মেয়েটার আত্মসম্মান বোধ দেখে মনে মনে হাসল সে।

ইলহাম ভুলে বড় আব্বুর অসুস্থতার কথা তুলে ফেলেছে। সে আসলে জানত না বাড়িতে যে কাউকে জানানো হয়নি। ইলহাম ভাইকে বলল,

-ভাই বড় আব্বুর রিপোর্ট..

ইলহামকে পুরো কথা শেষ করতে না দিয়েই তাওয়াফ চোখের ইশারায় ওকে থামিয়ে দিল। ইলহাম বুঝতে না পারলেও চুপ করে গেল। নূর জাহান ইলহামকে বললেন,

-তুই কী বলছিলি?

ইলহাম ভাইয়ের দিকে তাকাল। হুট করে কোন মিথ্যা কথা সাজাতে পারছে না সে। প্রিয়া দুই ভাইয়ের চোখে চোখে কথা বলা দেখেও নিঃশব্দে খেয়ে চলল। তাওয়াফ হঠাৎ

বলে উঠল,

-কাল থেকে আমি অফিসে যাব।

তাওয়াফের অফিসে যাওয়ার কথা শুনে তিন চাচাই খুশি হলেও তৌকির মির্জাকে খুশি দেখাল না। ছেলের মেন্টাল হেলথের কথা তিনি জানেন। তাই কখনও ছেলেকে অফিসে বসা বা তার বিজনেসে দেখার কথা বলেননি। ছেলে নিজেই টার্ফ সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। ওকে অফিসে বসানো মানে বাড়তি চাপ দেওয়া। ইলহামের বাবা এই কথা শুনে বললেন,

-এটা তো খুবই ভালো একটা সিদ্ধান্ত। আমাদের পরে তোকেই তো সব দেখতে হবে। আমার ছেলেটা তো ডাক্তার হয়ে বসে আছে।

দৃষ্টির বাবা বলল,

-ডাক্তার হওয়া কি খারাপ ভাইজান? পরিবারে একটা ডাক্তার থাকা উচিত।

খাওয়াদাওয়া শেষে তৌকির মির্জা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে বেরুলেন। তাওয়াফ জানে বাবা কী বলতে চায়। তৌকির মির্জা জিজ্ঞেস করলেন,

-সত্যিই তুই অফিসে যাবি?

-শুধু অফিসে যাব না। আস্তে আস্তে তোমার চেয়ারও দখল করব।

-আমি চাই তুই আমার চেয়ার দখল কর। কিন্তু..

-তোমার কি আমার উপর ভরসা নেই বাবা?

তৌকির মির্জা ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,

-তোর উপর ভরসা করব না তো কার উপর করব? তুই আমার ফাইটার ছেলে। চেষ্টা করলে তুই পারবি না এমন কোন কাজ পৃথিবীতে নেই। আমার অফিসও তুই খুব ভালোই দেখতে পারবি।

-তাহলে? এতদিন আমি তোমার উপর নির্ভরশীল ছিলাম। এবার ছেলেকে নিয়ে তোমায় প্রাউড ফিল করানোর সময় এসে গেছে।

*****

চোখ বন্ধ করে রাখতে রাখতে চোখের পাতা ভারী লাগছে। তটিনী ভাবছে আরও কিছুটা সময় এভাবে চোখ বন্ধ করে রাখলে সে হয়তো কানাই হয়ে যাবে। তাই পিটপিট করে চোখ খোলার চেষ্টা করল। মেয়েটার চোখের পাতা নড়ে উঠতেই জেসমিন বলল,

-ভাবী মেয়েটার জ্ঞান ফিরছে। দেখো চোখের পাতা নড়েছে।

রেহেনার দুশ্চিন্তা কিছুটা কমলো। যাক মেয়েটার জ্ঞান ফিরেছে। তটিনী আস্তে আস্তে চোখ খুলে মানুষ গুলোর দিকে তাকাল। কতক্ষণ ফাঁকা দৃষ্টিতে সবাইকে দেখে ক্ষীণ গলায় বলল,

-আমি কোথায়? আপানারা কারা?

গোলাপ জান ছেলের বউকে সরিয়ে নিজে মেয়েটার কাছে বসলেন। বললেন,

-আমাদেরকে তুমি চিনবা না। তুই কে?

তটিনী মনে মনে বলল,

-তুই জিজ্ঞেস করলেই আমি বলব আমি কে? আমাকে কি গরু পেয়েছিস বুড়ী!

তটিনী ভয় পাওয়ার অভিনয় করতে শুরু করল। চোখেমুখে আতঙ্ক, ভীতি নিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,

-আমি কে? আমার কেন মনে নেই আমি কে? আমার নাম কী? আপনারা আমার কে হোন?

মেয়েটার কথা শুনে গোলাপ জানের চোখে এক লাফে কপালে উঠে গেল। জেসমিন বড় ভাবীর হাত খামচে ধরেছে। ছোট বউ সানজিদা শাশুড়ির পাশে ঘেঁষে বসে ফিসফিস গলায় বলল,

-আম্মা মেয়েটার তো নিজের নামই মনে নেই! ও কে এই কথা আমাদের জিজ্ঞেস করছে। মেয়েটা কি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে আম্মা?

চারজন মহিলার আতঙ্কিত মুখের দিকে তাকিয়ে তটিনী অনেক কষ্টে হাসি চাপল। তার নাটক বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তটিণী কান্না শুরু করে দিল। চোখ বেয়ে ঝর্নার মতো পানি পড়তে লাগল।

-আপনারা কারা? আমি এখানে কীভাবে এসেছি? কে আমি? আমার কোনকিছু মনে নেই কেন?

বলতে বলতে তটিনী আবার জ্ঞান হারানোর নাটক করে শুয়ে পড়ল। গোলাপ জান ভয়ার্ত কষ্টে ডাকলেন,

-ও বড়ো বউ, এই মাইয়ার কী হইছে?

রেহেনা নিজেও ভীষণ ভয় পেয়ে গেছে। গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না তার।

-আম্মা মেয়েটা কি সত্যিই স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে!

তটিনী এদের সবার কথা শুনতে পাচ্ছে। এই নাটক আর কতক্ষণ চালিয়ে নিতে হবে সে জানে না। মনে মনে তটিনী বলছে,

-দূর ক্ষিধে পেয়েছে। সেই কখন খেয়েছিলাম। এদের বাড়িতে নিশ্চয় ভালো ভালো রান্না হয়েছে। আগে খেয়ে তারপরও অজ্ঞান হওয়া দরকার ছিল। এখন কি চোখ খুলে বসে পড়ে বলব আমার ক্ষিধে পেয়েছে। আমাকে গরুর মাংস দিয়ে ভাত দিন। না না। এমনিতেই এরা ভাবছে আমি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। এখন উঠে ভাত খেতে চাইলে নিশ্চয় ভাববে আমি পাগল হয়ে গেছি। তখন আবার হাসপাতালে নিয়ে যাবে। এর থেকে ভালো আজ রাতটা না খেয়ে থাকি। কাল থেকে খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি একটু একটু করে মাল হাতানোও শুরু করে দিতে হবে।

শাশুড়ী বউয়েরা মিলে পরামর্শ করছে এই মেয়েটাকে নিয়ে কী করা যায়। মেয়েটা যদি সত্যিই কিছু মনে করতে না পারলে তাহলে তো সমস্যা। তটিনী ভাবছে,

-রাজুটা হয়তো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। মামাও আমার খোঁজ না পেয়ে এতক্ষণে পাগল হয়ে যাওয়ার কথা। আগে কোনভাবে মামাকে জানাতে হবে আমি কোথায় আছি। আর আমার প্ল্যানটা কী। তবে আজ রাতে কিছুই করা যাবে না। যা করার কাল সকালেই করতে হবে। এখন আপাতত অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকি।

*****

হারিশ মির্জা অপরাধ বোধ, গ্লানিতে নুইয়ে পড়েছে। মেয়েটার এই অবস্থার পেছনে তিনি দায়ী। না জানি কার বাড়ির মেয়ে। ওর বাবা মা মেয়েকে না পেয়ে এখন কী করছে। গোলাপ জান ছেলেকে বোঝাচ্ছেন,

-তুই তো ইচ্ছে করে কিছু করস নাই।

-না করলেও মা। আমার কি উচিত ছিল না ওকে হাসপাতালের নিয়ে যাওয়া।

তটিনী চোখ বন্ধ করে মা ছেলের আলোচনা শুনছে। মা-টা চতুর হলেও ছেলেটা সাদাসিধা মানুষ। তটিনী চোখ খুলে মৃদু কন্ঠে বলল,

-আমি কোথায়?

মেয়েটার জ্ঞান ফিরেছে দেখে হারিশ মির্জা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। কোমল কন্ঠে তিনি বললেন,

-তুমি এখন আমাদের বাড়িতে আছো মা। আমার গাড়ির সাথে তোমার এক্সিডেন্ট হয়েছিল। তোমার সাথে কোন ব্যাগ, মোবাইল ফোন কিছুই ছিল না। তাই তোমার বাড়ির মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি।

গোলাপ জান বিরক্তি মুখে ছেলেকে দেখলেন। এভাবে কথা বললে মেয়েটা কিছু বলবে? তিনি কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

-এই মাইয়া কে তুমি? তোমার নাম কী? বাপের নাম কী? বাড়ি কই?

তটিনী ভয়ার্ত দৃষ্টিতে গোলাপ জানের দিকে তাকালেও মনে মনে বলল,

-বুড়ী বেশি নাচিস না। বুইড়া কালে কোমর ভাঙলে জোড়া লাগবে না।

হারিশ মির্জা মা'কে চোখের ইশারায় থামতে বলে নিজে বললেন,

-তুমি কি কিছুই মনে করতে পারছো না মা?

লোকটার উপর তটিনীর ভীষণ মায়া হলো। এই লোকের কোন মেয়ে থাকলে নিঃসন্দেহে সে ভাগ্যবতী।

-আমার কিছুই মনে পড়ছে না। আমি কে?

কথাটা বলেই তটিনী কেঁদে ফেলল। হারিশ মির্জা মেয়েটার মাথায় হাত রেখে বললেন,

-কাঁদছো কেন মা? মনে না পড়লে জোর করে মনে করতে হবে না। তুমি আমাদের বাড়িতে সেইফ আছো। এখানে তোমার কোন সমস্যা হবে না। আমি তো তোমার বাবা মা'র কথা ভাবছিলাম। তোমাকে না পেয়ে উনাদের অবস্থায় নিশ্চয় ভালো নয়। যদি তোমার বাবা মা'র সাথে যোগাযোগ করা যেত তাহলে তোমার ব্যাপারে উনাদের নিশ্চিন্ত করা যেত।

তটিনী টলমল চোখে মানুষটাকে দেখছে। এপর্যায়ে সে আর নাটক করতে পারছে না।

****

ফুপুর বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি ফিরে মা'র মুখে গতকালের ঘটনাটা শুনে দৌড়ে ওই মেয়েটাকে দেখতে গেল। স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা মানুষ শুধু মুভিতেই দেখেছে। বাস্তবে কোনদিনও দেখেনি। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পেখম ভেতরে উঁকি দিল। অসম্ভব রোগা পাতলা একটা মেয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। মেয়েটার পরনে শাড়ি। পেখম একটু অবাক হলো। এই যুগের মেয়েরা কি শাড়ি পরে? পা টিপে ভেতরে এসে পেখম ডাকল,

-শোনো।

সকাল থেকে ওই চার মহিলা তার মাথা খারাপ করে ফেলছে। একটু পরপর এসে উদ্ভট উদ্ভট সব কায়দায় তার স্মৃতিশক্তি ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। এখন আবার কে এলো? তটিনী উঠে বসল। মেয়েটা তার দিকে তাকালে পেখম মিষ্টি করে হাসল। বলল,

-তুমি নাকি তোমার নাম মনে করতে পারছো না? সত্যি সত্যিই কি তুমি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছ?

তটিনী বুঝল এবাড়ির মেয়ে এটা। ছোটবেলা থেকে ভীষণ আদরযত্ন পেয়ে বড়ো হয়েছে। যা এর কথাবার্তা আচরণে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তটিনী বলল,

-তুমি কে?

মেয়েটার প্রতি পেখমের মায়া হলো। আহারে বেচারির কিছুই মনে নেই। নিজেকে না জানি কতটা অসহায় ফিল করছে। পেখম তটিনীর কাছে বসে বলল,

-তুমি ভয় পেয়ো না। আমরা খারাপ মানুষ না। এখানে কেউ তোমার কোনরকম ক্ষতি করবে না।

তটিনী মনে মনে বলল,

-আমি যাওয়ার পর তোমরা বুঝতে পারবে ক্ষতি কার হয়েছে।

-তুমি তো নিজের নাম মনে করতে পারছো না, তাই না? যতদিন না তোমার নিজের নাম মনে পড়ে ততদিন ডাকার জন্য আমি তোমাকে একটা নাম দেই?

তটিনী মনে মনে বলল,

-আমার তটিনী নামই সুন্দর।

মুখে বলল,

-আচ্ছা দাও।

পেখম কতক্ষণ ভাবল। কী নাম দেওয়া যায়? অনেক ভেবে একটা নাম বের করল,

-পাখি?

তটিনী মুখ বাঁকাল। মনে মনে বলল, এইটা কিরকম নাম? পেখমের নিজের কাছেও নামটা এত বেশি ভালো লাগেনি। সে বলল,

-না পাখি না। ফুল। ফুল নামটা সুন্দর না?

তটিনী কী আর বলবে? মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। ফুল নাম সুন্দর। অথচ মনে মনে সে অন্য কথা বলছে,

-ফুল পাখি কোন মানুষের নাম হলো? পৃথিবীতে এত সুন্দর সুন্দর নাম থাকতে এই বোকা মেয়ে গাছপালা পশুপাখি নাম রাখছে।

******

ফুল মেয়েটা পেখমদের বাড়িতেই থাকছে। সবাই মিলে ওর অনেক খেয়াল রাখছে। চেষ্টা করছে শীঘ্রই যেন ওর স্মৃতি ফিরে আসে। মেয়েটাকে পেখমের ভীষণ ভালো লেগেছে। দুই দিনে মেয়েটা কেমন তাদের সাথে মিশে গেছে। পেখম তটিনীকে তাদের বাড়ির মানুষদের সম্পর্কে জানাচ্ছে।

-আমার বাবারা তিন ভাই এক বোন। সবার বড়ো আজান ভাইয়ের বাবা।

তটিনী কপাল কোঁচকাল। এই আজান ভাইটা আবার কে? দুই দিনে একবারও দেখা হয়নি। এই বাড়িতে কোন ছেলে আছে তটিনী এটাই জানত না। পেখম বলেই যাচ্ছে।

-দ্বিতীয় ফুপু। তৃতীয় আমার বাবা। সবার ছোট হলো ছোটকা। ফুপুর দুই মেয়ে। ইরিন আপু আর ইতি। আমার কোন ভাইবোন নেই। আলাইয়া আলিশবাকে দেখেছো না? ওরা ছোটকার মেয়ে।

ইরিন, ইতি এই বাড়িতে থাকে না তাই দেখেনি। কিন্তু আজান ছেলেটা! তাকে তো দেখার কথা। তটিনী জিজ্ঞেস করল,

-আজান কে?

পেখম হেসে বলল,

-আমার জেঠাতো ভাই। আজান ভাইকে তুমি চেনো না?

-না। দেখিনি কখনও।

-ওহ। আজান ভাই নিচে আসে না। তাই দেখোনি। সে সারাবছর দোতলায় নিজের ঘরেই থাকে।

তটিনীর একটু কৌতূহল হলো। বাড়ির ছেলে বাড়িতে থেকেও নিজেকে সবার থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে! দোতলায় এখনও তার যাওয়া হয়নি।

তটিনী ভেবেছিল এবাড়িতে থাকতে তার একটু অসুবিধা হবে। কিন্তু এরা সবাই এমনই গরু যে তার এখানে থাকতে কোন অসুবিধাই হচ্ছে না। সে সত্য মিথ্যা যা বলছে এরা তা-ই বিশ্বাস করে নিচ্ছে। তটিনী মামার সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ খুঁজছে। একটা মোবাইল ফোন হাতে পেলেই হতো। মামা নিশ্চয় তার খুঁজে আকাশ বাতাস এক করে ফেলেছে।

-পেখম আমার মাথা যন্ত্রণা করছে। তোমার কাছে মাথা ব্যথার ঔষধ আছে?

পেখম চিন্তিত মুখে বলল,

-তোমার কি স্মৃতিশক্তি ফিরে আসছে?

তটিনী হেসে ফেলতে গিয়েও খুব কষ্টে নিজেকে সামলে নিল। দুই দিনে যতটুকু বুঝেছে এই মেয়ে অবুঝ না। তবে ভীষণ নিষ্পাপ।

-আমার কাছে তো নেই। দাদীর ঔষধের সাথে থাকতে পারে। আমি গিয়ে দাদীর ঘর থেকে নিয়ে আসি। তুমি একটু সহ্য করো।

পেখম তার ফোন ফেলে রেখে ছুটে বেরিয়ে গেল। তটিনী ফোনটা হাতে নিল। একফাঁকে পেখমের ফোনের লক দেখে ফেলেছিল। দ্রুত হাতে ফোনের লক খুলে মামার নম্বর তুলল। দরজার দিকে চোখ রেখে কল করল। দু'বার রিং হতেই মামা কল তুলেছে। তটিনী মামাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বলল,

-মামা আমি তটিনী। আমি যেখানে আছি ভালো আছি। এবাড়ির একটা মেয়ের ফোন থেকে তোমাকে কল করেছি। তুমি আমার জন্য ভেবো না। রাজুকে বোলো আমার কিছু হয়নি। আর শোন, তুমি কিন্তু ভুলেও দ্বিতীয় বার এই নম্বরে কল করবে না। সময় সুযোগ বুঝে আমিই তোমার সাথে যোগাযোগ করব। এখন রাখছি। কেউ চলে এলে আমার সব প্ল্যান ভেস্তে যাবে। তুমি শুধু এটা জেনে রাখো আমাদের হাতে জ্যাকপট লেগেছে।

পেখম ফিরে আসার আগে কল লিস্ট থেকে নম্বরটা ডিলিট করে দিয়ে ফোন আগের জায়গায় রেখে দিল।

চলবে

ঠান্ডা জ্বরে ভুগছি যেকারণে গল্প দিতে লেট হয়েছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন