#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '২৫'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
আরও একটা সপ্তাহ কেটে গেল। বড় দাদীদের ওখানে না যেতে পেরে পেখম অস্থির হয়ে উঠেছে। বাবাকে দেওয়া কথা আর রাখতে পারবে না। কালই কলেজ থেকে ওবাড়িতে যাবে। পেখম সবাইকে অনেক বেশি মিস করছে। আশ্চর্যের কথা হিটলার মির্জার কথাও মনে পড়ছে। সন্ধ্যার চা পেখম নিজে বানায়। জীবনে এই একটা কাজই ভালো পারে সে। তার এবাড়িতে থাকা দাদীর পছন্দ না। অথচ তার হাতের চা বুড়ীর ঠিকই পছন্দ।
-আমাকে দিয়ে কাজও করাবে। আবার আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য সারাদিন ছেলের কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করবে। শয়তান বুড়ী।
গ্যাসে চায়ের পানি গরম হচ্ছে। ওদিকে আবার কলিংবেল বাজছে। পেখম নিজে গেল না। অন্য কেউ দরজা খুলে দেওয়ার অপেক্ষা করল। কেউ দরজা খুলছে না। মাগরিবের ওয়াক্ত। এখনও মনে হয় নামাজ পড়া শেষ হয়নি। এই সময় কে এসেছে?
-সব কাজ আমাকেই করতে হবে। আমাকে বাড়ির কাজের লোক বানিয়ে দিয়েছে। উফ, আসছি তো বাবা। এত কিসের তাড়া?
পেখম বিরক্তি ঝাড়তে ঝাড়তে দরজা খুলে দিয়ে সামনে দাঁড়ানো মানুষটাকে দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল। চঞ্চল চোখ জোড়া স্থির হয়ে অবিশ্বাস্য দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইল।
পেখম দরজা খুলে দিবে তাওয়াফ আশা করেনি। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় যে বিরক্তিটুকু দেখা দিয়েছিল, পেখমকে দেখে কপালের সেই ভাঁজ গুলো আপনাতেই মিলিয়ে গেল। তার চোখ জোড়াও কেমন শান্ত হয়ে গেছে। ঠোঁটের কোণে সুক্ষ্ম এক টুকরো হাসি দেখা দেওয়ার আগেই মিলিয়ে গেল। অফিস থেকে সোজা এখানে এসেছে। বাড়িতেও কাউকে জানিয়ে আসেনি। ও আসবে এটা এবাড়ির কেউও জানত না।
-ভেতরে ঢুকতে দিবি না?
তাওয়াফের কথা পেখমের কান পর্যন্ত পৌঁছল কি-না কে জানে। সে দরজা থেকে নড়ছে না। আগের মতোই ভূত দেখার মতো তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। তাওয়াফও আর কিছু বলল না। দরজায় এক হাত রেখে হেলান দিয়ে দাঁড়াল।
পেখম এখনও এটাই বুঝে উঠতে পারছে না হিটলার মির্জা কি সত্যিই এসেছে? নাকি সবটাই তার কল্পনা? আজকাল হিটলার মির্জা আবার তার কল্পনাতেও আসতে শুরু করে দিয়েছে! পেখম কি একবার ছুঁয়ে দেখবে? না, ছোঁয়াছুঁয়ি আবার বাড়াবাড়ি কাজ হয়ে যাবে। যদি বাস্তবে এসে থাকে তাহলে সে-ই লজ্জা পাবে। অবিশ্বাস, সংশয়, দ্বিধা নিয়ে পেখম জিজ্ঞেস করল,
-আপনি কি সত্যিই এসেছেন?
প্রশ্নটা শুনে তাওয়াফ এবার প্রকাশ্যেই হাসল। দু-হাত বুকে বেঁধে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
-জলজ্যান্ত তোর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও আমাকে তোর মিথ্যা মনে হচ্ছে?
-কে এসেছে পেখম?
ছোট চাচীর কথা শুনে পেখম ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। তাওয়াফও পেখমের মাথার উপর দিয়ে ছোট চাচীকে দেখে হাসল। তাওয়াফকে দেখে ছোট চাচী অবিশ্বাস্যে চেঁচিয়ে উঠে বলল,
-ও মা, কে এসেছে এটা? তাওয়াফ! আম্মা। আম্মা দেখে যান কে এসেছে।
চাচীর চিৎকার চেঁচামেচিতে পেখমের বিশ্বাস হলো হিটলার মির্জা সত্যিই এসেছে। তাড়াতাড়ি করে দরজার সামনে থেকে সরে দাঁড়াল সে। চার পাঁচ বছর পর মনে হয় তাওয়াফ ভাই তাদের বাড়িতে এসেছে। দাদী কত আসতে বলে। কিন্তু তাওয়াফ ভাই শুধু মুখে বলে আসবে। পরে আর আসে না। আজ বলা নেই কওয়া নেই হুট করে এসে হাজির হয়েছে। তার বিশ্বাস করতে একটু সময় তো লাগবেই।
তাওয়াফকে দেখে বাড়িতে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে। বড়মা, পেখমের নিজের মা, ছোট চাচী সবাই এমন করছে যে কত কোটি বছর পর নিজের পেটের ছেলেকে কাছে পেয়েছে। দাদী তো মুখে হাসি চোখে জল নিয়ে নাটক সিনেমা লাগিয়ে দিয়েছে। পেখম নখ কামড়াতে কামড়াতে তাদের বাড়িতে হিটলার মির্জা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপলব্ধি করছে।
-এত বছর পর দাদীরে দেখতে এলি ভাই? এর মাঝে দাদী যদি মরে যাইত!
তাওয়াফ দাদীর চোখের পানি মুছে দিয়ে দু'হাতে গাল ধরে বলল,
-আপনি আরও অনেক বছর বাঁচবেন দাদী।
-সেইটা তো বাঁচমুই। তোর বউ না দেখেই মরে যামু মরে করছোস?
দাদীর আজ নতুন রুপ দেখছে পেখম। জীবনে তাদের জন্য তো কখনও দাদীকে চোখের জল ফেলতে দেখল না। স্নেহ মমতার কথা বলা শেষ হলে মা চাচীরা তিনজনই রান্নাঘরে ঢুকে গেল। পেখম ধারণা করতে পারল, হিটলার মির্জার সম্মানে আজ ফ্রিজ খালি হয়ে যাবে।
জেসমিন মেয়েকে রান্নাঘরে ডেকে নিয়ে বলল,
-তাওয়াফের ঘর ঠিক করে দিয়ে আয়। ভালো করে ঝেড়ে মুছে ধুলোবালি পরিষ্কার করবি। অনেকদিন ওই ঘরে কেউ থাকে না। চাদর বালিশের কভার পাল্টে দিস।
পেখম নত হয়ে আদেশ নেওয়ার কায়দায় বলল,
-আরও কিছু করতে হলে এখনই বলে দিন ম্যাডাম।
-ঢং না করে যা বলেছি তাড়াতাড়ি কর গিয়ে।
-জি ম্যাডাম, আপনি শুধু হুকুম করবেন। হুকুম পালন করার জন্য পেখম কাজের মেয়ে তো আছেই।
দাদী আপাতত তাওয়াফ ভাইকে নিজের ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। তাওয়াফ একহাতে দাদীকে আগলে ধরে সিঁড়ি দিয়ে উঠছে। পেখম ওদের পেছনে ছিল বলে দাদীর কথা শুনতে পাচ্ছে।
-এতগুলা বছর কার উপর অভিমান করে আছিলি রে ভাই? এই বুড়ী মানুষটারে কেন দেখা দেস নাই? তোরে দেখে আমার চক্ষু শীতল হয়। তোর মধ্যে আমি ওই মানুষটারে দেখতে পাই। তুই অবিকল উনার মতো দেখতে হইছোস। চোখ, কান, নাক কপালও উনার পাইছোস।
-আপনি দাদাজানকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন দাদী। তাই আমার মাঝে উনাকে খুঁজেন।
পেখম মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
-ভালোবাসা না কচু। অন্যের বরকে বিয়ে করে আবার ভালোবাসা দেখায়! একমাত্র বড়ো দাদীর ভালোবাসা সত্য।
-মানুষটা এত তাড়াতাড়ি চলে যাইব আগে যদি জানতাম রে দাদা। তাইলে দুইটা চোখ ভরে আরও বেশি করে উনার চেহারাটা দেখে রাখতাম।
-এহহ, বুড়ীর নাটক!
দাদীর প্রতিটা কথার বিপরীতে পেখম মনে মনে উত্তর দিচ্ছে।
-দাদাজানকে দেখেন নাই তো কী হয়েছে? আমি তো আছি । আমাকে দেখে তৃপ্তি মিটবে না?
শেষের কথাটা শুনে পেখম কারেন্টের শকের মতো কিছু একটা খেলো। একটু আগেও সে ভাবছিল বাবাকে দেওয়া প্রমিজ ভেঙে কালই ওবাড়িতে যাবে। তাওয়াফ ভাই তাদের বাড়িতে আসার পর মনে হচ্ছে এখন ওবাড়িতে না গেলেও চলবে। সে কি তাহলে তাওয়াফ ভাইকেই দেখতে চাচ্ছিল!
-আস্তাগফিরুল্লাহ! নাউজুবিল্লাহ পেখম। আজকাল তুই এসব কী ভাবিস! হিটলার মির্জাকে দেখে দাদীর চক্ষু শীতল হলেও তোর মন কেন শীতল হবে? তুই বড়ো দাদী, বড়ো মা বাকিদের দেখতে চাস। এই হিটলারকে না।
*****
মায়ের দেওয়া হুকুমমত সব কাজ করে এসে রান্নাঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
-মাতাজি, কাজ শেষ।
-তাওয়াফ কই?
-কোথায় আর থাকবে? তার ভালোবাসার দাদীর ঘরে।
-আম্মাকে গিয়ে বল এবার নাতিকে ছাড়তে। বেচারা অফিস থেকে এখানে চলে এসেছে। মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সারাদিন কত ধকল গেছে।
পেখম ফোঁস করে দম ফেলে মনে মনে বলল,
-সবার মুখ দেখে সব বলে দিতে পারো। আমার মুখ দেখেও বলে দাও তো হতচ্ছাড়া মন আজকাল কী চাচ্ছে।
বড় মা তার উপর আরেক দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে বলল,
-শুধু বলেই চলে আসিস না। তাওয়াফকে ঘর পর্যন্ত দিয়ে আসিস।
-কেন? উনি কি এবাড়িতে নতুন এসেছে? ঘর কি চিনে না?
মেয়ের বেয়াদবি দেখে জেসমিন রাগী চোখে তাকাল। মা'র তাকানোতে ভয় পেয়ে পেখম মুখে হাত চেপে ধরল। এই মুখ কেন তার নিয়ন্ত্রণে তাকে না? সব কথা কি সব জায়গায় বলে ফেলতে হবে? বড় মা অনুনয় করে বলল,
-কতদিন পর এসেছে। যা না মা।
বড়মা অনুনয় করলেও তার নিজের মা গালি বর্ষন করল।
-দিনদিন একটা অসভ্য হচ্ছে। বড়দের কথা তো শুনবেই না আবার মুখে মুখে তর্কও করবে।
উপায় নেই। এই বাড়িতে তাকে কেউ ভালোবাসে না। দাদী যাদের শত্রু মনে করে সে বাড়ির ছেলেরও তার থেকে বেশি দাম। অথচ নিজের বাড়িতে তার কোন দাম নেই।
পেখম দাদীর ঘরের সামনে এসেও ইউ টার্ন নিয়ে নিল। সিঁড়ির কাছে এসে আবার ফিরে গেল। এভাবে কয়েকবার চক্কর কাটার পর সাহস করে দরজায় টোকা দিল। দাদীর সাথে তাওয়াফও এদিকে তাকিয়েছে। দাদী বলল,
-কী চাস?
পেখমের বলতে ইচ্ছে করল, তোমার রূহ। কিন্তু নত চোখে মৃদু স্বরে বলল,
-তাওয়াফ ভাইয়ের রুম ঠিক করে দিয়ে এসেছি।
-জীবনের প্রথম একটা কাজের কাজ করছোস। যা ভাই, ঘরে গিয়ে আরাম কর।
তাওয়াফ উঠে দাঁড়িয়েছে। গোলাপ জান পেখমকে বললেন,
-আমার ভাইরে ঘর দেখিয়ে দিয়ে আয়৷
পেখম মনে মনে বলল,
-সবাই শুধু ঘর দেখিয়ে দিয়ে আসতে বলে। তোমাদের আদরের হিটলার মির্জা কি দুই তিন বছরের বাচ্চা? পথ হারিয়ে ফেলবে! আজিব।
গোলাপ জান এটাও বললেন,
-ওর যা যা লাগব ঘরে দিয়ে আসিস।
পেখম মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করল,
-আমার ঠেকা লাগছে।
-দাদাভাই, তোর কিছু লাগলে পেখমরে বলিস। এই কাম চোর তোর কাম করে না দিলে এইটাও আমারে বলবি। পরে আমি এর বিচার করমু।
পেখম চোখ উলটিয়ে মুখ বাঁকাল। তাওয়াফ সেটা দেখে ফেলে নিঃশব্দে হাসল।
পেখম আগে আগে যাচ্ছে। তাওয়াফ পেখমের পেছনে। পেখমের ভীষণ রাগ লাগছে। নাতিনের সামনে দাদী তাকে কাজের লোকের মতো ট্রিট করছে। সে কি এই বাড়ির মেয়ে নাকি কাজের মেয়ে?
-এটাই আপনার রুম। এই রুমে থাকবেন আপনি।
-হুম।
তাওয়াফ ভেতরে ঢুকে ঘরটা ঘুরেফিরে দেখে নিচ্ছে। পেখম মনে মনে বলল,
-ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে খুঁজলেও একটা ধুলোবালি পাবেন না। তাই দাদীর কাছে নালিশ লাগানোর আশা ছেড়ে দিন।
পেখমের কাজ শেষ। তাওয়াফের কিছু লাগবে কি-না এই কথা জিজ্ঞেস না করেই চলে এল। রান্নাঘরে এসে মা, বড়মাকে জানাল,
-হিটল.. হিটলার বলতে বলতে থেমে গেল পেখম। হিটলার মির্জার মমতাময়ী চাচীদের সামনে এই নাম নিয়ে ফেললে রক্ষা থাকবে না।
-সব কাজ করেছি। তাওয়াফ ভাইকে ঘরেও দিয়ে এসেছি। আমি আর কোন কাজ করতে পারব না।
মেয়ের কথা কানে না নিয়ে জেসমিন জিজ্ঞেস করল,
-তাওয়াফের কিছু লাগবে কি-না জিজ্ঞেস করিসনি?
পেখম ভাষাহীন চোখে মা'র দিকে তাকিয়ে রইল। এত কাজ করেছে শুনেও তার পাষাণ মা একটু প্রশংসা করল না।
-এই কথা জিজ্ঞেস করতে মনে ছিল না।
-মনে থাকবে কেন? মাথায় তো গোবর ভর্তি। বাড়িতে পা রেখে ছেলেটা একফোঁটা পানিও খায়নি। কিছু খাবে কি-না এটা জিজ্ঞেস করার মতো ভদ্রতাও দেখাতে পারলি না!
বড়মা পেখমকে মায়ের ঝাড়ি খাওয়া থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে বলল,
-মনে ছিল না তাই জিজ্ঞেস করেনি। এখন গিয়ে জেনে আয় তো মা।
পেখম ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
-আবার যেতে হবে?
ছোট চাচী এর মাঝে আরেক কথা মনে করিয়ে দিল।
-তাওয়াফ তো মনে হয় জামাকাপড়ও আনেনি। বাহিরের কাপড়ে তো আর থাকতে পারবে না।
বড়মা বলল,
-ভালো কথা মনে করেছিস ছোট। আজানের কাপড় ওর লাগবে না? লাগবে মনে হয়। আজানের কিছু একটা পরে নিবে।
দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পেখমের পা ব্যথা করছে। এখন মনে হচ্ছে হিটলার মির্জার না আসাই উচিত ছিল। উনি আসার পর থেকে তাকে দৌড়ের উপর থাকতে হচ্ছে। এ বলে এটা করো। সে বলে ওটা করো।
এর মাঝে গোলাপ জান নিচে এসে ছেলের বউদের বলে গিয়েছেন, ছেলেরা বাড়ি ফিরলে সবার আগে যেন তার ঘরে পাঠানো হয়। বড় ছেলেকে নিয়ে এত বেশি চিন্তা নেই। চিন্তা বাকি দু'জনকে নিয়ে। এতদিন পর নাতিটা বাড়ি এসেছে। গোলাপ জান চান না ছেলেটার সাথে চাচারা কোনরকম দুর্ব্যবহার করুক।
তাওয়াফ আগে এলেও এই ঘরেই থাকত। যদিও এখন ঘরটাই শুধু নিজের জায়গায় আছে। ভেতরের ডিজাইন সহ আসবাব সব পরিবর্তন হয়েছে। দাদী ছাড়াও আরেকজন মানুষের সাথে দেখা করার সবথেকে বেশি ইচ্ছা ছিল। আজান! কতগুলো বছর দেখা হয় না। তাওয়াফ জানে আজানের রুম কোনটা। যদিও শিওর না এতদিনে রুম চেঞ্জ হয়েছে কি-না। তবে চেঞ্জ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
চলবে
আপনাদের না বললে কমেন্ট করেন না। তাই প্রতি পর্বেই মনে করিয়ে দেব। পাঠক কমেন্ট করবেন।