ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আসবে বলে বসন্ত এসেছে

২৭তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার নিপা

#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '২৭'

#জেরিন_আক্তার_নিপা

গোলাপ জান নাতি সহ দুই ছেলেকে নিয়ে খাওয়ার টেবিলে বসলেন। হারিশ মির্জা তাওয়াফের সাথে ভালোভাবেই কথা বলছেন৷ তাওয়াফ আজকাল কী করছে ইত্যাদি বিষয়। ইখতিয়ার কথা না বললেও এমন কিছু করছে না যাতে তাওয়াফের অপমান হয়। গোলাপ জান মেজ ছেলেকে নিয়ে চিন্তায় আছেন। পেখমও মনে মনে ভাবছে বাবা আজ খাওয়ার টেবিলে না এলেই ভালো হয়। নিজের বাবার থেকে তাওয়াফ ভাইয়ের অপমান সে দেখতে পারবে না। হারিশ মির্জা তাওয়াফকে জিজ্ঞেস করলেন,

-বিয়ে-শাদির ব্যাপারে কী মতামত? পাত্রী দেখব?

তাওয়াফ নিঃশব্দে হাসল। পেখম দু’চোখে মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে রইল। তাওয়াফ হালকা স্বরে চাচাকে জানাল,

-আমার মতামত গুরুজনদের মতামতের সাথেই যাবে।

হারিশ মির্জাও হাসলেন। তাওয়াফের প্রশংসা করতেই হয়। লাখে একটা ছেলে। তার নিজের ছেলেটাও একসময় তাওয়াফের ভীষণ ভক্ত ছিল। পল্লব মির্জা তখনই খাবার টেবিলে এলেন। পেখম মনে মনে প্রার্থনা করছে বাবা যেন তাওয়াফ ভাইকে কিছুই না বলে।

পল্লব মির্জা শব্দ করে চেয়ার টেনে বসলেন। তাওয়াফ উনার দিকে তাকাল না। দাদী তাকে যত্ন করে খাওয়াচ্ছে সে-ও দাদীর মন রাখতে সবকিছুই একটু একটু খেয়ে যাচ্ছে।

-ও বউ, তাওয়াফরে আরেকটা মাছ দেও।

পল্লব মির্জা তখন বলে উঠলেন,

-মাছের বাটি এদিকে দাও।

পেখম আড়চোখে তাওয়াফ ভাইয়ের মুখের দিকে দেখল। উঁহু, কোন পরিবর্তনই আসেনি। গোলাপ জান তাওয়াফকে যা-ই খেতে বলছেন পল্লব মির্জা সেটা নিজের দিকে নিয়ে আসছেন। বাবার এসব কান্ড দেখে পেখমের ভীষণ লজ্জা লাগতে শুরু করল। বাবা বাচ্চাদের মতো কেন করছে? তাওয়াফ অবশ্য চাচার এসব ছেলেমানুষি কাজকর্ম দেখে খুব কষ্টে হাসি চেপে রাখছে।

-দাদী আমার খাওয়া শেষ।

গোলাপ জানের চোখে পানি এসে গেল। ছেলেটা কিছুই খেলো না। পেখমেরও মনে হলো বাবার জন্য তাওয়াফ ভাই উঠে যাচ্ছে। বাবার উপর তার ভীষণ অভিমান হলো। অথচ তাওয়াফের সত্যিই পেট ভরে গেছে। দাদীর মন রাখতে গিয়ে বরং বেশি খেয়ে ফেলেছে। গোলাপ জান রুদ্ধ কন্ঠে বললেন,

-কিছুই তো খাইলি না।

-আমার সত্যিই পেট ভরে গেছে দাদী।

তাওয়াফ হাত ধুয়ে উঠে গেল। গোলাপ জান কোনো কথাই বললেন না। আঁচলে চোখের জল মুছলেন। দাদীকে কাঁদতে দেখে পেখমেরও আর খেতে ইচ্ছে করল না। সে-ও উঠে পড়ল। পল্লব মির্জা মেয়েকে উঠতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,

-খাবার রেখে উঠছো কেন মামণি?

পেখম কঠিন গলায় বলল,

-পেট ভরে গেছে।

পল্লব মির্জা না বুঝলেও জেসমিন মেয়ের রাগ বুঝল। মেয়েটা বাপের মতো হয়নি এটাই স্বস্তি। হারিশ মির্জা ছোট ভাইকে বললেন,

-এসব ছেলেমানুষি কাজ তোকে শোভা পায় পল্লব?

পল্লব মির্জার কোন অনুতাপ নেই। খেতে খেতে বলল,

-আমি কি কিছু করেছি?

****

শোবার আগে তাওয়াফ একবার দাদীকে দেখতে এলো। গোলাপ জান নিভু নিভু গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

-সত্যিই তুই সকালে চলে যাবি?

দাদীর মুখের দিকে তাকিয়ে তাওয়াফের ভীষণ মায়া হলো। বোঝাই যাচ্ছে একটু আগেই দাদী কেঁদেছে। তাই সে বলল,

-না। সকালে অফিসে যাব। অফিস শেষে আবার আপনার কাছে চলে আসব।

আনন্দে গোলাপ জানের চোখে পানি এসে গেল। তাওয়াফ দাদীর মাথায় চুমু দিয়ে বলল,

-এবার তো আপনার মুক্তোর মতো দামি হাসি দেখতে পাবো দাদী?

গোলাপ জান নাতিকে জড়িয়ে ধরে কান্নাভেজা হাসলেন। পেখম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দাদী নাতিনের ভালোবাসা দেখে বিড়বিড় করে বলল,

-দাদীর ন্যাওটা মির্জা!

পেখম চলে আসছিল। তখনই গোলাপ জানের নজর ওর দিকে পড়ে।

-ওই ছেমরি, শুইনা যা।

পেখম দাঁড়িয়ে পড়ল। দাদী ডেকেছে ভেতর না গিয়েও পারবে না। খাবার টেবিলে বাবার অমন কাজে তাওয়াফ ভাইয়ের সামনে যেতে পেখমের ভীষণ লজ্জা করছে। নত মাথায় সে ঘরে ঢুকল।

-আমার ঔষধ দেখাইয়া দিয়া যা।

পেখম এই কাজেই এসেছিল। দাদীকে ঔষধ খাওয়ানোর দায়িত্ব তার উপর। দাদীর ঔষধ খাওয়া শেষ হলে তাওয়াফ উঠে দাঁড়াল।

-দাদী আপনার ঘুমানোর সময় হয়েছে। এখন আমি যাই।

-যা ভাই। তুইও ঘুমা গিয়া।

দু'জন একসাথে ঘর থেকে বেরিয়েছে। পেখম বলবে বলবে করেও বলতে পারছে না। তাওয়াফ অবশ্য পেখমের অস্থিরতা লক্ষ্য করেছে। তারপরও সে নিজে থেকে জিজ্ঞেস করল না। অবশেষে পেখমই জিজ্ঞেস করে ফেলল।

-তাওয়াফ ভাই আপনি কি পাপার উপর রাগ করেছেন?

প্রশ্নটা শুনে তাওয়াফ ভ্রু কোঁচকাল। বলল,

-রাগ কেন করব?

পেখম প্রশ্নটা ভুল করেছে। তাই সংশোধন করে নিয়ে বলল,

-রাগ না। আপনি কি কষ্ট পেয়েছেন?

পেখম তাওয়াফের দিকে তাকাতে পারছে না। তাওয়াফ মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। কন্ঠস্বর গম্ভীর রেখে বলল,

-যাদের কথায় বা কাজে আমি কষ্ট পাবো আমার জীবনে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তোর বাবা এই লিস্টে নেই।

***

যাক তাওয়াফ ভাই কষ্ট পায়নি। পেখম নিশ্চিন্ত মনে ঘরে ফেরার সময় তটিনীর সাথে দেখা হলো। সন্ধ্যা থেকে তটিনীর মাথা ব্যথা ছিল। তাই সে রুমে ঘুমিয়েছে। খাওয়ার সময়ও পেখম ওকে ডাকেনি। বেচারি এমনিতেই স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এখনও নিজের নামটাও মনে করতে পারে না।

বাড়ির পরিবেশ আজ একটু অন্যরকম লাগছে। তটিনী পেখমকে ডাকল।

-পেখম শুনে যাও।

পেখম এগিয়ে এসে বলল,

-তোমার মাথা ব্যথা কমেছে?

-হুম। বাড়িতে কি কেউ এসেছে?

-হুম। তাওয়াফ ভাই এসেছে।

তটিনীর কপালে ভাঁজ পড়ল। এই তাওয়াফ ভাই আবার কে? এই বাড়ির কাহিনি স্টার জলসা থেকেও প্যাঁচাল। মাঝখানে নতুন নতুন সব চরিত্র ঢুকে যায়।

-তাওয়াফ কে?

-তাওয়াফ ভাইকে চিনো না?

-আমার কি তাকে চেনা উচিত ছিল? সে কি বিশেষ কেউ?

-ধরে নিতে পারো।

পেখমের চোখমুখ দেখেই তটিনী যা বোঝার বুঝে নিল। মেয়েরা পছন্দের পুরুষকে নিয়ে কথা বলার সময় যেমন লজ্জা পায় পেখমও পাচ্ছে। গাল লাল হচ্ছে ওর।

-কার বিশেষ মানুষ সে? তোমার!

এই কথা শুনে পেখম চোখ বড়ো বড়ো করে ফেলে বলল,

-না না। কী যে বলো তুমি! আমার বিশেষ কেউ কেন হবে? তাওয়াফ ভাই দাদীর বিশেষ মানুষ। দাদী উনাকে আমাদের সবার থেকে বেশি ভালোবাসে।

বাচ্চা মেয়েটাকে তটিনী আর ঘাঁটাল না। কয়দিন পর ও নিজেই বুঝতে পারবে দাদীর বিশেষ মানুষ নাকি তার।

-আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু সে কে? আমি কি তাকে দেখেছি?

তটিনীর চোখে তাওয়াফ ভাইকে নিয়ে আগ্রহ দেখে পেখমের ভালো লাগল না। তটিনীকে সে তাওয়াফ ভাইয়ের কথা কেন বলবে? কথা ঘুরিয়ে নিয়ে পেখম বলল,

-তুমি তো খাওনি। তখন ঘুমাচ্ছিলে বলে ডাকিনি। আমি তোমার খাবার নিয়ে আসছি।

পেখম চলে গেলে তটিনী কতক্ষণ বোকার মতো তাকিয়ে থেকে পরক্ষণে হেসে ফেলল।

তাওয়াফ ছেলেটা যে-ই হোক পেখমের বিশেষ কেউ এটা ঠিক ধরতে পেরেছে। সে জন্যই তো পেখম ওর ব্যাপারে তাকে বলেনি। পেখম ছেলেটাকে নিয়ে এত বেশিই পজেসিভ, যে ওর কথা কোন মেয়ের সাথে বলতেও হিংসা বোধ করে! তটিনী হাসতে হাসতে বলল,

-বোকা মেয়ে তোমার ভাই যে-ই হোক তাকে দিয়ে আমার কোন কাজ নেই। আমি এবাড়িতে কোন ছেলের চক্করে পড়তে আসিনি। আমার উদ্দেশ্য অন্য কিছু। তোমার বিশেষ মানুষ তোমারই থাকুক তার দিকে আমার নজর যাবে না।

***

এবাড়িতে আসার পর মামার সাথে মাত্র একবারই কথা হয়েছে। রাজুটার কথা ভীষণ মনে পড়ছে। রাত গভীর হলে তটিনী ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। উদ্দেশ্য ড্রয়িংরুমে এসে ল্যান্ডলাইন থেকে মামাকে কল করবে। এদিক-ওদিক তাকিয়ে চোরের মতো পা টিপে টিপে হাঁটছে তটিনী।

তাওয়াফ দোতলা থেকে মেয়েটাকে দেখল। তার কপাল কুঁচকে গেল। বাড়িতে চোর ঢুকেছে নাকি? একটা মেয়ে চোর!

তটিনী তো জানত না তাওয়াফ নামের ওই ছেলেটা রাতে ঘুমায় না। সে টেলিফোনের কাছে পৌঁছে গেছে এমন সময় কলিজা কাঁপানো এক কন্ঠস্বর শুনতে পেলো।

-এই মেয়ে! এই।

তটিনী ঝট করে উপরে দিকে তাকাল। তাওয়াফ দ্রুত পায়ে নিচে আসছে। তটিনী ভাবছে সে কি দৌড়ে পালাবে?

-এই মেয়ে, কে তুমি? বাড়ির ভেতরে কীভাবে ঢুকেছে?

তটিনী মাথা খাটাচ্ছে। এই ছেলে কে হতে পারে? পেখমের সেই বিশেষ মানুষ নয়তো! হ্যাঁ, সে-ই হবে। নামটা যেন কী বলেছিল? তাওয়াফ।

তটিনী ভয় না পেলেও ভীত মুখ বানিয়ে কাঁপা গলায় বলল,

-আ-আমি, আমি এখানেই থাকি।

তাওয়াফ এতক্ষণে মেয়েটার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। মেয়েটার উত্তর শুনে সন্দিগ্ধ চোখে দেখল। কঠোর গলায় বলল,

-এখানে থাকি মানে কী?

তটিনী ভয় পেয়ে দু'পা পিছিয়ে গেল। সবটাই অবশ্য তার নাটক। প্রায় কেঁদে ফেলবে অবস্থায় বলল,

-এখানে থাকি মানে এই বাড়িতেই থাকি।

-তুমি এই বাড়িতে থাকলে আমি জানতাম না?

-বিশ্বাস করুন আমি মিথ্যা বলছি না। আপনি কাউকে ডেকে জিজ্ঞেস করুন। আমি চোর নই।

বলেই তটিনী কেঁদে ফেলল। মেয়েটাকে কাঁদতে দেখে তাওয়াফ আর কঠোর হলো না। হতে পারে তারই ভুল হয়েছে। এই মেয়ে কোন চাচীর আত্মীয়। এখানে বেড়াতে এসেছে।

তটিনী খুব ভালো কান্নার অভিনয় পারে। মামা তো বলেই তোর চোখের পানি দেখলে থানার দারোগা বাবুও মোমের মতো গলে যাবে। কান্নার ফাঁকে ফাঁকে তটিনী ছেলেটাকে দেখছে। পেখমের বিশেষ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই হ্যান্ডসাম অস্বীকার করার উপায় নেই। এজন্যই হয়তো পেখম একে লুকিয়ে রাখতে চায়।

-আচ্ছা ঠিক আছে কান্না থামাও।

তটিনী তারপরও নাক টেনে কেঁদে যাচ্ছে। মনে মনে ভাবছে, আহা আমার কত্ত ট্যালেন্ট!

-আমি তো তোমাকে কান্না করার মতো কিছু বলিনি। আমার হয়তো বুঝতে ভুল হয়েছে।

ছেলেটা দেখতে যেমন সুন্দর আচার ব্যবহারও তেমনই সুন্দর। এই ছেলে পেখমের বিশেষ মানুষ না হলে সে নিজেই পটিয়ে নিত।

****

যেই মেয়েকে কলেজে যাওয়ার জন্য মুখে পানি ঢেলে ঘুম থেকে তুলতে হয় আজ সেই মেয়ে সবার আগে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। জেসমিন সন্দেহের চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-পেটে পেটে কী শয়তানি পাকাচ্ছিস? আজ এত সকালে কীভাবে উঠে পড়েছিস?

এটা কি তারই মা? মেয়ের খারাপ কাজে কথা শোনাতে ছাড়ে না। আবার ভালো কাজেও প্রশংসা করে না। এ কেমন মা! পেখম চোরা চোখে তাওয়াফকে খুঁজছে। এত সকালে অফিসে চলে যায়নি নিশ্চয়? পেখম তটিনীর কাছে এলে তটিনী গতরাতের ঘটনা নিয়ে পেখমকে একটু জ্বালাতে চাইল। সে বলল,

-জানো পেখম কাল রাতে ঘুম আসছিল না বলে রুমের বাইরে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। তখনই একটা ছেলেকে দেখেছি। ছেলেটা এত সুন্দর কী বলব? যেমন উঁচা লম্বা তেমন ফর্সা!

পেখমের বুঝতে বাকি রইল না তটিনী তাওয়াফ ভাইকে দেখেছে। তটিনী পেখমের মুখের ভাব লক্ষ্য করে ঠোঁট টিপে হাসছে।

-ওই ছেলেটাই কি তোমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে?

ইচ্ছা না থাকলেও পেখমকে উত্তর দিতে হলো,

-হু।

-ওটাই কি তোমার বিশেষ মানুষ, না মানে তোমার দাদীর বিশেষ মানুষ?

-হুম।

-ছেলেটা কিন্তু অনেক সুন্দর দেখতে।

-দেখতে সুন্দর হলে কী হবে?

-কেন?

-ভীষণ রাগী মানুষ। তুমি কিন্তু ভুলেও তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে কথা বলতে যেও না। উনার ব্যবহার অনেক বাজে। ধমক দিয়ে তোমার কলিজা কাঁপিয়ে দিবে। ওই হিটলার মির্জার থেকে যত দূরে থাকতে পারো ততই ভালো। বুঝেছ?

তটিনী ঠোঁট টিপে হেসে মাথা নাড়িয়ে বলল,

-না বাবা আমার তাহলে ওই ছেলের সামনে যাওয়ারও দরকার নেই। রাগী মানুষদের আমার অনেক ভয় লাগে।

পেখম স্বস্তি পেলো। যাক কোনভাবে ফুলকে তাওয়াফ ভাইয়ের থেকে দূরে রাখা যাবে। কিন্তু ওই বাড়িতে যে প্রিয়া মেয়েটা আছে। ওই মেয়েকে নিয়ে পেখম কী করবে?

চলবে

পাঠক কমেন্ট না করলে মিল কাইট😑

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন