#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '২৯'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
পেখমের এমন কাজে গোলাপ জান বিরক্ত কন্ঠে বললেন,
-এই কাম চোর যে আমার পোলার ঘরে কই থেকে জন্ম নিল! বাপটাও তো কম না। আহ্লাদ দিয়া দিয়া মেয়েরে মাথায় তুলছে। একটা কাজকামও পারে না। পরের বাড়ি গিয়া এই মাইয়া কেমনে সংসার করব!
বাইরে বেরিয়ে এসে পেখম ভাবছে এমনটা কেন করল সে? হাতে হাত লাগতেই পারে। কিন্তু সে পালিয়ে কেন এলো? তাওয়াফ ভাই কী ভাবছেন! নিজের এমন কাজে পেখমের রাগের শেষ রইল না। চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে। আজকাল তার কী হয়েছে? এরকম উদ্ভট আচরণ কেন করছে? তাওয়াফ ভাই সামনে থাকলে সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে যায়।
-পল্লবটারে কত কই, মাইয়া বড় হইছে। ছেলে দেখা শুরু কর। আমার কথা কানে নিলে তো!
তাওয়াফ আলতো হাতে দাদীর পা টিপে দিতে দিতে বলল,
-পুনমের এখনও বিয়ের বয়স হয়নি দাদী। আগে আকৃতি, ইরিনের বিয়ে হবে। পুনম তো ওদের কত ছোট।
-ছোট থাকলেও তো এইটাই শয়তান বেশি। সারাদিন আমারে জ্বালায়।
দাদীর মুখের দিকে তাকিয়ে তাওয়াফ হাসল। দাদীর বিরক্তিতেও পেখমের জন্য ভালোবাসা দেখা যাচ্ছে।
*****
তাওয়াফ সকালে সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছে। পেখম ফোন সহ ঘড়িতেও এলার্ম দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু কখন এলার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে মনে নেই। উঠে যখন দেখল তাওয়াফ ভাই চলে গেছে তার মা'র সাথে রাগারাগি করা ছাড়া আর কিছু করার থাকল না।
-তুমি আমাকে কেন ডাকলে না? কত দেরি হয়ে গেছে। আজ কি কলেজে যেতে পারব?
জেসমিন বিরক্ত মুখে বললেন,
-আমি তোর আর তোর বাপের দাসীবাঁদী না। প্রতিদিন কেন ডেকে তুলতে হবে? একদিন নিজে নিজে উঠতে পারিস না!
পেখম কী রাগ দেখাবে? মা উল্টো রাগ দেখাচ্ছে। তটিনী অবশ্য পেখমের মনের অবস্থা বুঝতে পেরেছে। যা অন্য কেউ পারেনি।
পেখম কলেজে এসে বোম ফাটাল। রাত থেকে কথাটা পেটে চেপে রেখেছে৷ ফোনে বললে দৃষ্টির রিয়াকশন দেখতে পেত না। তাই সামনাসামনি বলার অপেক্ষা করেছে।
-তাওয়াফ ভাইয়ের পছন্দের মানুষ আছে। উনি একটা মেয়েকে পছন্দ করেন।
সে যতটা আগ্রহ উদ্দীপনা নিয়ে কথাটা বলেছে দৃষ্টির থেকে ততটাই ঠান্ডা রিয়াকশন পেয়েছে। এরকমটা হওয়ার তো কথা ছিল না। দৃষ্টি কি ভালো করে শুনেনি? শুনলে নিশ্চয় চিৎকার করে লাফিয়ে উঠত।
-আমি কী বলেছি শুনেছিস তুই?
ক্লাস শেষ। স্যার বেরিয়ে গেছে। দৃষ্টি নিজের ব্যাগ গুছিয়ে উঠে দাঁড়াল। ওকে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে পেখমও ব্যাগ নিয়ে পেছনে ছুটল।
-কিরে, আমি কী বলেছি শুনেছিস?
দৃষ্টি দায়সারা কন্ঠে জবাব দিল,
-শুনেছি। তবে বিশ্বাস করিনি।
পেখমের মুখ লটকে গেল। দৃষ্টি পেখমের কথা বিশ্বাস করেনি। ইলহাম ভাইয়ের কথা বললেও মানা যেত। কিন্তু তাওয়াফ ভাই! অসম্ভব। দৃষ্টি তার কথা বিশ্বাস করছে না দেখে পেখম কসম কেটে বলল,
-আল্লাহর কসম সত্যি বলছি।
কিড়া কেটে অন্তত পেখম মিথ্যা বলবে না। দৃষ্টি তারপরও সন্দেহের চোখে তাকাল। প্রশ্ন করল,
-তুই কীভাবে জেনেছিস?
-তাওয়াফ ভাই নিজে বলেছে।
দৃষ্টির কপালে ভাঁজ পড়ল। অবিশ্বাস্য গলায় বলল,
-কাকে বলেছে? তোকে?
কিরকম গাধার মতো প্রশ্ন! তারপরও পেখম ধৈর্য ধরে বলল,
-আমাকে কেন বলবে? দাদীকে বলেছে। আমিও তখন দাদীর ঘরে ছিলাম। দাদী উনার বিয়ের কথা তুলেছিল। তখনই তাওয়াফ ভাই এই কথা বলেছে। উনি যাকে বিয়ে করতে চান তার নাকি এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। এর মানে কী বোঝায়?
তাওয়াফ ভাইয়েরও পছন্দের মানুষ থাকতে পারে! দৃষ্টির বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না। তাদের যে শাসনের উপর রাখে এরকম শাসন গার্লফ্রেন্ডকে করলে দুই দিনও সম্পর্ক টিকবে না। পেখম নিজের গোয়েন্দা গিরি চালু করে বলল,
-মেয়েটা কে খুঁজে বের করতে হবে।
-তুই ওই মেয়েকে খুঁজে বের করে কী করবি?
পেখম অবাক হওয়া গলায় বলল,
-ও মা, দেখব না!
-তুই দেখে কী করবি?
পেখম বিরক্ত হচ্ছে। দৃষ্টিটা একটা গাধী। তাওয়াফ ভাই কোন মেয়েটাকে পছন্দ করে এটা না দেখে তার মন শান্ত হবে না। যদিও রাতে এই সত্যটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তবে মনকে অনেক বুঝিয়েছে। তাওয়াফ ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড থাকতেই পারে। এতে তার খারাপ লাগার কিছু নেই।
দৃষ্টি মানুষের পার্সোনাল ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় না। তাওয়াফ ভাইয়ের ব্যাপারে তো আরও আগে না।
-তোর মন চাইলে তুই খোঁজ খবর নে। আমার অত শখ নেই। তাওয়াফ ভাই জানতে পারলে মাথার উপর থেকে তুলে আছার মারবে।
ওদের কথার মাঝে রনিকে লুবনার সাথে দেখা গেল। হারামজাদা লুবনার সাথে প্রেম করছে। লুবনা মেয়েটাও কেমন? এরকম একটা ছেলের সাথে কোন বুঝে প্রেম করে? পেখম ওদিকে তাকিয়ে নাক উঁচিয়ে বলল,
-লুবনার চয়েস! শেষমেশ রনির সাথে?
দৃষ্টি এই মেয়েকে বুঝতে পারে না। রনি যখন কুত্তা পাগল হয়ে ওর পিছনে ঘুরত তখনও ভালো লাগেনি। এখন রনি ওর পিছু ছেড়ে লুবনার সাথে প্রেম করছে এটাও ভালো লাগছে না।
-তুই কি জেলাস হচ্ছিল?
দৃষ্টির কথা শুনে পেখম ওদের থেকে চোখ সরিয়ে আনল। জিজ্ঞেস করল,
-কেন জেলাস হবো?
-এইযে রনি তোর পিছু ছেড়ে লুবনার সাথে রিলেশন করছে।
পেখম বমি করে দেওয়ার মতো অভিনয় করে বলল,
-ওই কুত্তার জন্য আমি জেলাস হবো? বোন হয়ে তুই আমাকে এটুকু চিনলি? ছি দৃষ্টি! তোর থেকে অন্তত আমি এমনটা আশা করিনি।
পেখমের নাটক দেখে দৃষ্টি মুখ বাঁকাল। ড্রামা কুইন।
-তাহলে সারাক্ষণ ওদের সমালোচনা কেন করিস?
-তোর সাথে তো আলোচনাও করা যায় না। আমার এখনও একটা বিষয়ে খটকা যাচ্ছে না রনি কুত্তার লেজ হঠাৎ তারের মতো সোজা কীভাবে হয়ে গেল? প্রিন্সিপালের কাছে বিচার দিয়েও যেখানে কোন সমাধান পাইনি। সেই জায়গায় নিজে নিজেই কুত্তাটার বোধবুদ্ধি জাগ্রত হয়েছে এটা তুই বিশ্বাস করিস?
খটকা দৃষ্টিরও কম লাগেনি। এর জ্বালায় পেখমের কলেজ ছেড়ে দেওয়ার অবস্থা হয়েছিল। ঠোঁট কামড়ে ভাবুক মুখে দৃষ্টি বলল,
-রনিকে জিজ্ঞেস করবি? কেন ও তোর পিছু ছেড়ে দিয়েছে?
পেখম চোখ বড়ো বড়ো করে ফেলল। পাগল নাকি? পুরান মোদ্দা খুঁচিয়ে কেন শুধু শুধু নতুন করে ঝামেলায় পড়বে?
-দরকার নেই বোন। আমার এই জীবনে আমি অনেক খুশি আছি।
-তাহলে খটকা ফটকাও বাদ দে।
-হুম। এই কাজের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আমাদের আরও কাজ আছে।
কলেজ ছুটি হলে গাড়িতে বসে পেখম ড্রাইভার আঙ্কেলকে বলল,
-আঙ্কেল আমার একটা কথা রাখবেন?
-কী কথা মামনি?
-আগে বলেন রাখবেন কি-না। যদি কথা দেন তাহলেই বলব।
পেখমের মাথায় কখন কী এসে যায় না জেনে কথা দেওয়াটা রিস্কের ব্যাপার। তারপরও পেখমের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-আচ্ছা বলো। কথা দিলাম।
পেখম খুশি হয়ে গেল। দাঁত বের করে হেসে বলল,
-এখান থেকে আমরা বড়ো দাদীদের ওখানে যাব। পাপা জানতে পারবে না। আমি এখন পাপাকে কল করে বলব দরকারি কিছু নোটস নিতে বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছি। বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হবে।
ড্রাইভার আঙ্কেল আমতা আমতা করে বললেন,
-বাবার সাথে মিথ্যা বলবা মামনি?
-মিথ্যা আমি বলব। আপনার পাপ হবে না। আপনি শুধু নিজে থেকে পাপাকে কিছুই বলবেন না। পাপা আপনাকে জিজ্ঞেস করবে না আমি জানি।
ড্রাইভার আঙ্কেল দোনোমোনো করছে দেখে পেখম ঠোঁট ফুলিয়ে আদুরে গলায় রিকোয়েস্ট করতে লাগল,
- প্লিজ আঙ্কেল আপনি কিন্তু কথা দিয়েছেন। আমি তো অসৎ কোন উদ্দেশ্য নিয়ে মিথ্যা বলছি না। বড়ো দাদী আমাকে কত ভালোবাসে! আমাকে না দেখলে কষ্ট পায়। বুড়ো একটা মানুষের খুশির জন্য একটু মিথ্যা বললে কী হবে?
-তোমার কথা কি আমি ফেলতে পারব মামনি? স্যারকে আমি কিছুই জানাব না।
****
নূর জাহান পেখমকে দেখে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পেখমের সাথে কথা না বলেই চলে যাচ্ছিলেন। পেখম দৌড়ে গিয়ে দাদীকে জড়িয়ে ধরল।
-আমাকে দেখেও কোথায় যাচ্ছ তুমি? কথা কেন বলছো না?
-ছাড় আমাকে। আমি কি তোর আপন দাদী? আমার কাছে কেন এসেছিস?
পেখম দাদীকে ছাড়ল না। শক্ত করে ধরে থাকল। আহ্লাদ করে বলল,
-তুমি আমার সাথে কথা না বললে আমি অনেক দুঃখ পাবো।
পেখম কী করবে? বাবা তাকে এবাড়িতে আসতে দিতে চায় না। সে না এলে বড়ো দাদী কষ্ট পায়। অনেক কষ্টে পেখম দাদীর অভিমান ভাঙাতে সফল হয়েছে। দাদীর সাথে কথা বলতে বলতে আড়চোখে ওই মেয়েটাকে খুঁজছে। তাহমিনা এসে জিজ্ঞেস করল পেখম কিছু খাবে কি-না। পেখম জানাল,
-এখন না৷ একটু পরে খাব।
সে দাদীকে ছেড়ে বড়মার পেছন পেছন রান্নাঘরে চলে এলো। ওকে দেখে জাকিয়া জিজ্ঞেস করল,
-কী খাবি পেখম?
-এখন কিছু খাব না মেজো মা।
-তাহলে রান্নাঘরে তোর কী কাজ?
পেখম বলল,
-তোমরা কী করো দেখতে এসেছি।
নানান বিষয়ে বড়মা, মেজো মা'র সাথে কথা বলে শেষে ইনিয়ে বিনিয়ে বাড়িতে যে মেয়েটা থাকছে তার কথা জিজ্ঞেস করল। তাওয়াফ ভাই কি ওই মেয়েটাকে বিয়ে করতে চায়? কিন্তু তাওয়াফ ভাই যে বলল উনি যাকে বিয়ে করবেন তার এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। ওই মেয়েটা তো কত বড়। তাহলে বিয়ের বয়স কেন হবে না? প্রিয়ার সম্পর্কে পেখমের কৌতূহল দেখে তাহমিনা হাসল।
-প্রিয়ার সাথে তুই এখনও বন্ধুত্ব করিস নি?
পেখম মুখ মুচড়িয়ে বলল,
-ওই মেয়ের সাথে আমি কেন বন্ধুত্ব করব?
-প্রিয়া ভীষণ ভালো মেয়ে। ওকে তুই শুধু শুধু হিংসা করছিস পাগল। তোর জায়গা কি ও নিতে পারবে?
ওই মেয়ের হয়ে বড় মা'কে কথা বলতে শুনে পেখম মনে মনে বলল,
-নিতে পারবে না? অলরেডি নিয়ে ফেলেছে। তুমি এখন থেকেই কেমন ছেলের বউয়ের হয়ে কথা বলছো। বাড়িতে আসতে না আসতেই তোমার মন জয় করে নিয়েছে। কী চালু মেয়ে দেখেছ!
মুখে বলল,
-ওরা কবে যাবে?
তাহমিনা পেখমের হাত ধরে আগুনের কাছ থেকে নিয়ে এলো। ফ্রিজ থেকে আপেল বের করে ধুয়ে পেখমকে খেতে দিল।
-প্রিয়ার সাথে বন্ধুত্ব করে নে পুনম। মা ছাড়া মেয়েটার কেউ নেই। তাওয়াফ ওকে আকৃতির মতোই ভালোবাসে। তাই আমাদের সাথে থাকতে নিয়ে এসেছে।
সব কথার মাঝে পেখম একটা কথাকে বেশি গুরুত্ব দিল। ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইল,
-তাওয়াফ ভাই ওই মেয়েকে বোনের মতো দেখে!
তাহমিনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
-হুম। কারণ ওই মেয়ের ভাইয়ের জন্যই আমার ছেলেটা বেঁচে আছে। নিজের জীবন দিয়ে ওই ছেলেটা বন্ধুকে বাঁচিয়েছে। এখন তুই-ই বল। যে বন্ধু তোর জন্য জীবন দিবে তুই তার মা বোনের জন্য কী করবি?
পেখম এই ব্যাপারে কিছুই জানত না। না জেনেই মনের মধ্যে একটা ধারণা পুষে নিয়েছে। তাওয়াফ ভাই কেন ওই মেয়েটার এত বেশি খেয়াল রাখে এবার বুঝতে পেরেছে। পেখম বড় মা'কে বলল,
-বড়মা আমি একটু আসি।
বলেই দৌড় দিল৷ তাহমিনা পেছন থেকে ডেকে জিজ্ঞেস করল,
-কোথায় যাচ্ছিস?
যেতে যেতেই পেখম উত্তর দিল,
-তোমার ছেলের নতুন বোনের সাথে বন্ধুত্ব করতে যাচ্ছি।
****
তটিনী এবাড়িতে থাকছে অনেকদিনই হয়েছে। কিন্তু এর মাঝে সে কখনও দোতলায় যায়নি। আজ পেখম বাড়িতে নেই। আলাইয়া আলিশবাও স্কুলে। সে রান্নাঘরে এসে উঁকি দিল। নাজমা ওকে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-কিছু লাগবে তোমার?
-না। আন্টি আমি একটু আপনাদের বাড়িটা ঘুরে দেখি?
নাজমা হেসে বলল,
-বাড়ি দেখবে এতে অনুমতি লাগবে?
তটিনী মিষ্টি করে হাসল। মায়েরা মনে হয় এমনই হয়। তার মায়ের চেহারা ভালো করে মনে নেই। অনেক ছোটবেলা মারা গেছে।
তটিনী দোতলায় উঠে এলো। বুড়ীটা আশেপাশে নেই। তাকে দেখলেই এই বুড়ী হা-হুতাশ শুরু করে। যেন সে এবাড়ির সব চাল খেয়ে খেলছে।
বারান্দা ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে গেল। কিসের শব্দ ওটা? কান খাঁড়া করে শোনার চেষ্টা করল। গিটারের শব্দ? হবে হয়তো। কে বাজাচ্ছে? তবে যে বাজাক ভীষণ সুন্দর বাজাচ্ছে। তটিনী শব্দ ধরে এগিয়ে এলো। আজানের ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল। এই ছেলেটাই মনে হয় দোতলার ওই ছেলে। পেখম যার কথা প্রায়ই বলে। যে কখনও নিচে নামে না।
দরজার সামনে দাঁড়ানো মেয়েটার দিকে চোখ যেতে আজান গিটার বাজানো বন্ধ করে দিল। তটিনী তখনই বলে উঠল,
-থামলেন কেন? শুনতে ভালো লাগছিল।
চলবে