#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৩৮'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
তাওয়াফ রাতে ঘুমায়নি। এমনিতেই তার ঘুম হয় না। রাতে কয়েকবার দৃষ্টির ঘরের সামনে থেকে ঘুরে এসেছে। পেখম নিশ্চয় ঘুমাচ্ছে। তাওয়াফ নিজের ঘরে এসে সকাল হওয়ার অপেক্ষা করছে।
সকাল হতেই তাওয়াফ পেখমের খোঁজ নিতে এলো। দৃষ্টি ঘর থেকে বেরিয়ে ভাইকে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-কোথায় যাচ্ছ ভাইয়া?
-পুনম উঠেছে?
-না, ঘুমচ্ছে। আমি ওকে ডাকিনি।
-ভালো করেছিস।
পেখম ঘুমচ্ছে শুনে তাওয়াফ ফিরে গেল।
জেসমিন রান্নাঘরে ভাবীদের সাহায্য করতে এলে কেউ তাকে কোন কাজ করতে দিল না। তাকে পেখমকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে পাঠিয়ে দিল।
ইলহাম দিনের প্রথম কাপ চা খেতে খেতে খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছে। সেসময় মুখে হাত দিয়ে হাই চেপে প্রিয়া এসে দৃষ্টির পাশে বসল। দৃষ্টি আজ কলেজ যাবে না। তাই সে প্রিয়াকে বলল,
-তুমিও আজকে ভার্সিটি যেও না প্রিয়া আপু।
প্রিয়া একটু ভেবে বলল,
-ঠিক আছে। পেখম বাড়িতে আসার খুশিতে আজ আমাদের কলেজ, ভার্সিটি ছুটি।
ইলহামের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি বলল,
-ভাইয়া তুমিও ছুটি নিবে?
ইলহাম জবাব দেওয়ার আগেই প্রিয়া বলল,
-উনি ছুটি নিলে উনার রোগী বেচারাদের জীবন থেকে ছুটি নিতে হবে।
এই কথা শুনে দৃষ্টি হো হো করে হেসে উঠল। প্রিয়াও হাসছে। ইলহাম ওদের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট একটা দম ফেলল। মিস প্রতিবাদী কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমন করে? মেয়েটা কি জানে সে হাসলে এই ডাক্তারের হৃদপিণ্ড কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
তাওয়াফের মধ্যে আজ অফিসে যাওয়ার কোন তাড়া দেখা যাচ্ছে না। সে সময় নিয়ে চা শেষ করেছে। ইলহামের হাত থেকে খবরের কাগজ নিয়ে চোখ বুলিয়েছে। ব্রেকফাস্ট তৈরি হয়ে গেছে। নাজমা সবাইকে খাবার টেবিলে ডাকছে। ইলহাম বলল,
-ভাই চলো। বড়মা ডাকছে।
'আরেকটু পরে খাই' বলে তাওয়াফ ইলহামকে থামিয়ে দিল। কেউ বুঝতে না পারলেও প্রিয়া ঠিকই বুঝতে পারছে তাওয়াফ ভাই কেন পরে খাওয়ার কথা বলছে। পেখম রানী না আসা অব্দি তাওয়াফ ভাই কীভাবে একা খেয়ে নিবে!
তাওয়াফ মনে মনে ভাবছে, এই মেয়ের ঘুম কি এখনও ভাঙেনি? এত ঘুমচ্ছে আজ! সে অফিসে চলে যাওয়ার পর কি নিচে আসবে? তাওয়াফ কোন বিষয় নিয়ে বিরক্ত থাকলে আপনাতেই তার কপালে ভাঁজ পড়ে। তখন চাইলেও সে কপাল স্বাভাবিক রাখতে পারে না। ইলহাম ভাইয়ের কপালের ভাঁজ লক্ষ্য করে জিজ্ঞেস করল,
-তুমি কি কোন বিষয় নিয়ে বিরক্ত?
-না।
-না মানে তোমার কপাল.. ' ইলহাম কথা শেষ করার আগেই তাওয়াফ উঠে দাঁড়াল। বলল,
-খেতে চল।
এসব দেখে প্রিয়া মুখ টিপে হাসছে। আহারে বেচারা তাওয়াফ ভাই! না পারছে মুখ ফুটে বলতে, আর না পারছে এক ছাদের নিচে থেকেও দূরত্ব সহ্য করতে।
এদিকে আবার কোন কারণ ছাড়াই প্রিয়াকে একা একা হাসতে দেখে দৃষ্টি উল্টাপাল্টা ভেবে যাচ্ছে। মনে মনে বলছে,
-প্রিয়া আপু কাকে দেখে হাসে। ওখানে তো তাওয়াফ ভাই আর ইলহাম ভাই-ই আছে। তাওয়াফ ভাইকে প্রিয়া আপু নিজের ভাইয়ের মতোই দেখে। তাহলে কি ইলহাম ভাই? ও মাই গড! প্রিয়া আপু ইলহাম ভাইকে দেখে হাসছে!
সব নাতি-নাতনীদের দেখতে পেলেও পেখমকে না দেখে নূর জাহান জিজ্ঞেস করলেন,
-আমার হিংসুটে নাতনিটা কোথায়? এখনও কি ঘুমচ্ছে? ওকে রেখে খেতে বসে গেলে পরে এসে গাল ফুলিয়ে আর খাবেই না। ডাক ওকে।
বাড়িতে এতগুলো মানুষ। এদিক ওদিকের কত কথা বলছে। অথচ তার মনের কথা কেবল দাদীই বলেছে। আকৃতি দাঁড়িয়ে বলল,
-আমি পুনমকে নিয়ে আসছি দাদী।
দৃষ্টিও চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বলল,
-আমিও যাচ্ছি।
দুই বোন পেখমকে আনতে দোতলায় উঠে গেল। এই ফাঁকে তাওয়াফ কাজের কথাটা বলল। সে জানাল,
-দাদী আমি আমার পুরোনো রুমে চলে যাব। আমার এই রুমটা পুনম আর চাচীকে দিয়ে দিও।
নূর জাহান আশ্চর্য চোখে নাতির দিকে তাকালেন। এতগুলো বছর ধরে তাওয়াফ তার ঘরে থাকে না। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে সবসময় চুপ থেকেছে। হঠাৎ তার নিচে চলে আসার কারণ সে কাউকেই জানায়নি।
-তুই সত্যিই এই ঘর ছেড়ে দিবি?
-হুম। আমার আগের রুমে শিফট করব।
-হঠাৎ কেন? না মানে তুই তো নিজের ইচ্ছেয় এঘরে থাকতে এসেছিলি।
-এখন আবার নিজের ইচ্ছেতেই চলে যাচ্ছি।
নূর জাহান আর প্যাঁচালেন না। এই ছেলের মন মর্জি কেউ বুঝতে পারে না। প্রিয়া ঘটনা জানে না। দৃষ্টি নয়তো আকৃতি আপুকে জিজ্ঞেস করতে হবে।
দাদী আর প্রশ্ন করেনি দেখে তাওয়াফ স্বস্তি পেলো। তবে বিষয়টা নিয়ে ইলহামের খটকা লাগছে। ভাই কেন চাচীদের জন্য রুম ছেড়ে দিবে? বাড়িতে আরও অনেক রুম আছে। চাচীদের থাকা নিয়ে অসুবিধা হবে না।
আকৃতি, দৃষ্টিকে একা ফিরে আসতে দেখা গেল। জেসমিন এলেও পেখম আসেনি। নূর জাহান ওদেরকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,
-যাকে আনতে গিয়েছিলি সে কোথায়?
আকৃতি নিজের চেয়ারে বসতে বসতে বলল,
-পুনম আসতে পারবে না দাদী। বেচারি দাঁড়াতেই পারছে না। হাঁটবে কি করে?
নূর জাহান চিন্তিত মুখে বললেন,
-কেন ওর পায়ের ব্যথাটা কি বেড়েছে?
দৃষ্টি বলল,
-ব্যথা নেই। কিন্তু পায়ে ভর ফেললে যদি আবার ব্যথা বাড়ে সেই ভয়েই আসেনি।
-এটাও ঠিক করেছে। এখন কয়দিন হাঁটাচলা না করলেই ভালো হবে।
নূর জাহান জেসমিনকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
-আসো মা। তুমি আমাদের সাথে খেতে বসে পড়ো।
জেসমিন নিজের শাশুড়িকে আম্মা ডাকে। এখন বড় শাশুড়িকে কী ডাকবে? দোটানায় পড়েও সে আম্মাই ডাকল।
-আমি ভাবীদের সাথে পরে খাবো আম্মা। আগে আপনার নাতনিকে খাইয়ে দিয়ে আসি।
-হ্যাঁ হ্যাঁ। পুনমের খাবার ঘরে নিয়ে যাও।
তাওয়াফের খাওয়া শেষ। সে উঠে পড়ল। যাওয়ার আগে ইলহামকে বলে গেল,
-হসপিটালে যাওয়ার আগে একবার পুনমকে দেখে যাস।
****
মামা তটিনীর খোঁজ পেয়ে গেছে। এই ঠিকানা অবশ্য সে-ই দিয়েছিল। গতকাল মামা তাকে কিছু না জানিয়ে ছদ্মবেশ নিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়েছিল। তটিনী মামাকে দেখে খুশি হয়নি। তবে মামা তাকে দেখে খুশিতে কেঁদে ফেলছে প্রায়।
-তটিনী মা আমার, কেমন আছিস তুই? তুই এত শুকিয়ে গেছিস কেন? এরা তোকে ঠিকমতো খেতে দেয় না? তোকে দিয়ে কাজ টাজ করায়?
তাদেরকে কেউ কথা বলতে দেখে ফেললেই সন্দেহ করবে। তটিনী মামাকে টেনে আড়ালে নিয়ে গেল। চাপা স্বরে রাগ ঝেড়ে বলল,
-আমাকে না জানিয়ে তুমি এখানে কেন এসেছ মামা? আমি তোমাকে আসতে বলেছি?
-তোর জন্য আমার চিন্তা হচ্ছিল রে মা। কতদিন তোর কোন খোঁজ খবর নেই! মনটা কু ডাকছিল।
-মামা তুমি কি আমার প্ল্যান বরবাদ করে দিতে চাও? কেন এসেছ তুমি?
-তুই এবাড়িতে এসেছিস ষোলটা দিন হয়ে গেছে। তুই তো কোন মিশনে এত সময় নিস না। তাই আমার চিন্তা হচ্ছিল।
-আমার জন্য তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। মিশন সম্পূর্ণ করে আমি নিজেই তোমাকে খবর দেব। তার আগে তুমি আর এবাড়িতে আসবে না।
-ঠিক আছে। আসব না।
-হুম। কারো চোখে পড়ার আগে তুমি এখন যাও।
-যাচ্ছি। তুই কিন্তু সাবধানে থাকিস। বড়লোকদের যেমন টাকাপয়সা থাকে তেমন অনেক ক্ষমতাও থাকে। তুই ধরা পড়ে গেলে এরা তোকে জেলে দিলে আমি কেন আমার চৌদ্দ পুরুষ মিলেও তোকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনতে পারব না।
মামার উপর তটিনী সত্যিই বিরক্ত হচ্ছে। অথচ মামা তার কথা ভেবেই এসেছে। মামা চলে যাওয়ার আগে পকেট থেকে ছোট্ট একটা বাটন ফোন বের করে তটিনীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
-এটা রাখ। সিম টিম সব আছে। সুযোগ বুঝে কল করিস। রাজু তোর সাথে কথা বলতে চায়।
মামা চলে যাওয়ার পর তটিনী ভাবছে মামার এখানে আসায় সে কেন এত রেগে যাচ্ছে? সে কেন তার ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছে? এবাড়ির সবাই অনেক ভালো। তার নামধাম পরিচয় না জেনেই তাকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছে। মানুষ গুলোর জন্য তার সূক্ষ্ম টান তৈরি হয়েছে এটা সে-ও বুঝতে পারে। কিন্তু এই টানের তো কোন মানে নেই। এখান থেকে যাওয়ার পর সবাই জেনে যাবে সে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল। মানুষ গুলো তাকে ঘৃণা করবে।
*****
তাওয়াফ ড্রাইভ করছে। কোনদিনও দুপুরে বাড়িতে না এলেও আজ আসছে। কারণ একটাই। পেখমকে দেখা। সকালে না দেখেই বেরোতে হয়েছে। তাওয়াফের ফোন বাজছে। এই কনিকা তাকে জ্বালিয়ে খাচ্ছে। কল তুলে তাওয়াফ প্রথম যে কথাটা বলল,
-বিয়ে হয়েছে এবার একটু জামাইয়ের মাথা খা না। আমার মাথা আর কত খাবি?
-যতদিন তোর সুস্বাদু মাথা খেতে তোর বউ না আসে ততদিন খাব।
-তোর জামাই তোকে কিছু বলে না কেন?
-ওই ব্যাটার সাহস আছে আমাকে কিছু বলার! তুই বল আজ কেন আসিস নি?
-কারণ এখন থেকে আমার আর তোর প্রয়োজন নেই।
-কেন? তোর প্রজাপতিকে পেয়ে গেছিস নাকি?
-হুম।
-সত্যি!
কনিকার চেঁচানোতে গাড়ি দুলে উঠল মনে হলো।
-মেয়েটা তোর প্রপোজাল এক্সেপ্ট করে নিয়েছে?
-না।
-না মানে কী? প্রপোজ করিসনি?
-উঁহু।
-তাহলে কীভাবে পেয়েছিস গাধা?
-পেয়েছি। তুই বুঝবি না।
কনিকা জানার জন্য অধৈর্য হয়ে উঠেছে।
-বল না তীব্র মেয়েটা কে? আমার সব কথা সবার আগে তোকে বলি। তুই তোর একটা কথা আমাকে বলতে পারছিস না! আমি তোর বন্ধু না? মেয়েটার নামটা অন্তত বল। আমি কাউকে বলব না। প্রমিজ।
-পেখম। এর বেশি আর একটা কথাও জিজ্ঞেস করবি না।
-পেখম! ও মা কী সুন্দর নাম। শোন না,,,
কনিকা আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই তাওয়াফ কল কেটে দিয়েছে।
এই মেয়ে কোনো না কোন ভাবে তার পেটের কথা বের করে ফেলবেই। এটা কনিকার একটা ট্যালেন্ট।
নিজের মনের সাথে রীতিমতো যুদ্ধ করে তাওয়াফ মেনে নিয়েছিল সে পেখমকে পছন্দ করে। সে নিজেই এটা ভেবে আশ্চর্য হতো সে কীভাবে পেখমকে পছন্দ করতে পারে! পেখম সম্পর্কে তার চাচাতো বোন। তাদের বয়সের পার্থক্যটাও চোখে লাগার মতো। সে পেখমকে নিয়ে কখনোই এরকমটা ভাবতে পারে না। সে ভাবতে না চাইলে কী হবে? তার মন ঠিকই ভেবেছে। শুধু পছন্দ না, সে পেখমকে ভালোবাসে এই সত্যটা মেনে নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। সেই ভালোবাসাও দীর্ঘ সময় মনের ভেতর পোষে রেখেছে। পেখম কেন, কাউকেই বুঝতে দেয়নি। তার ভালোবাসা নীরব, শান্ত, একপাক্ষিক। এটাই ভালো ছিল। কিন্তু যখন বুঝতে পারল পেখমের মনেও তার জন্য অনুভূতি জন্ম নিতে শুরু করেছে। এতদিন যেই চোরা নজরে সে পেখমকে দেখত, পেখমও তাকে সেই চোরা নজরে দেখে সমস্যাটা তখনই হলো। ব্যাপারটা একপাক্ষিক নয় বুঝতে পারার পর থেকেই তার নীরব, শান্ত ভালোবাসা অশান্ত, বাঁধ ভাঙা হয়ে গেল। তারপরও তাওয়াফ পেখমকে জানাতে চায়নি। পেখম যে বয়স পার করছে এই বয়সটাই এমন। এখন ওর চোখে রঙিন চশমা লাগানো। হয়তো এখন পেখম ওকে পছন্দ করে। সময়ের সাথে এই পছন্দ শেষ হয়ে যেতে পারে। তাওয়াফ চায় না পেখম এখন কোনধরনের ছেলেমানুষি সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবিষ্যতে পস্তাক। আর তাছাড়া তাদের পারিবারিক সম্পর্কের দিকটাও তাওয়াফকে বিবেচনায় রাখতে হবে। এই মেয়ে বাপ পাগলা। বাপের কথায় যেকোনো কিছু করতে পারবে। পল্লব মির্জার সাথে তার সম্পর্ক কখনও তাকে পেখমকে কাছাকাছি যেতে দিবে না। যদি তাওয়াফ তার ভালোবাসা কনফেস করেও নেয় তাহলে পল্লব মির্জাই হবে তার ভালোবাসাকে নিজের করে পাওয়ার পথে সবথেকে বড়ো বাধা। মেয়ের লাভ স্টোরিতে বাপ ভিলেন হোক তাওয়াফ এটা চায়নি। মেয়েকে বাবার সামনে দাঁড় করানোর ইচ্ছা তার ছিল না। কিন্তু যেদিন জানল পল্লব মির্জা তার আদরের মেয়েকে কতটা অন্ধকারে রেখেছে সেদিনই ঠিক করে নিল সে পেখমকেই বিয়ে করবে। কিন্তু তার আগে পেখমকে তার ভালোবাসার কথা জানাতে হবে। সিলেট যাওয়ার আগের রাতেই তাওয়াফ পেখমকে জানাতে যাচ্ছিল। কিন্তু দাদীর জন্য যা করা হয়নি। দাদীও বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তাওয়াফ ভেবেছিল সিলেট থেকে ফিরে দাদীকেও জানাবে সে আর কাউকে না পেখমকে বিয়ে করতে চায়।
তাওয়াফ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চাওয়া মতো কিছুই হলো না। তার আগেই পেখমের সামনে ওর বাবার সত্যি চলে এলো। মেয়েটার সবথেকে বড়ো বিশ্বাসের জায়গা নড়ে উঠেছে। এসময় চাইলেও তাওয়াফ পেখমকে তার ভালোবাসার কথা বলতে পারবে না। তবে এই সময়টা পেরিয়ে যেতে সে পেখমকে সাহায্য করবে। পেখমের দূর্বল মুহূর্তে ওকে একা পড়তে দিবে না।
চলবে
আজকে কমেন্ট করার কথা বলব না😑
এডিট- ওমা, কমেন্ট করার কথা না বললে পাঠক দেখি সত্যিই কমেন্ট করে না। প্রিয় পাঠক পরবর্তী পর্ব পেতে বেশি বেশি কমেন্ট করুন🌝