#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৪০'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
তাওয়াফ দোতলায় উঠে এসে বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়াল। কয়েকবার বড়ো বড়ো করে নিঃশ্বাস নিয়ে কন্ঠস্বর গম্ভীর করে ডাকল,
-পুনম। আমি জানি তুই আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস। দরজা খোল। আমি কিন্তু এক কথা দ্বিতীয় বার বলব না।
তাওয়াফ জানে এখন সে নরম হলে কাজ হবে না। আহ্লাদ করে অন্তত এই মেয়েকে দিয়ে কথা মানানো যাবে না।
তাওয়াফকে সত্যিই দ্বিতীয় বার ডাকতে হলো না। পেখম দরজা খুলে দিয়েছে। পেখমের মুখের দিকে তাকিয়ে কঠোরভাব ধরে রাখা তাওয়াফের জন্য কঠিন হয়ে গেল। কেঁদেকেটে চোখ-মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে পাগলটা। তাওয়াফের এমুহূর্তে পেখমের গাল ধরে বলতে ইচ্ছে করল,
-কেন আমার পরীক্ষা নিচ্ছিস পুনম? তোর প্রতি আমার দুর্বলতা প্রকাশ পেতে দিস না। তুই এমন করলে আমার কঠিন থাকা মুশকিল হয়ে যাবে। আমি জানি এই সময়টাতে তুই আমাকে গ্রহণ করতে পারবি না। তাই আমাকে কঠোর হয়েই থাকতে দে।
পেখমের পায়ের দিকে চোখ যেতে দেখল পেখম ব্যান্ডেজ খুলে ফেলেছে। তাওয়াফ দীর্ঘশ্বাস চেপে পকেট থেকে ফোন বের করে ইলহামকে কল করল।
-ফার্স্টএইড বক্স নিয়ে উপরে আয়।
ভাইয়ের কল পেয়ে ইলহাম রুম থেকে ফার্স্টএইড বক্স নিয়ে এসে দোতলায় যাওয়া ধরলে প্রিয়া পথ আটকে দাঁড়াল। বলল,
-কোথায় যাচ্ছেন হু? আপনি যাবেন না। এটা আমাকে দিন। আমি দিয়ে আসছি।
ইলহাম কিছুই বুঝতে পারছে না। মিস প্রতিবাদী হঠাৎ এরকম অদ্ভুত আচরণ কেন করছে। প্রিয়া ইলহামের হাত থেকে বক্সটা নিয়ে চলে যেতে লাগলে ইলহাম জিজ্ঞেস করল,
-আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
-তাওয়াফ ভাইকে এটা দিয়ে আসতে।
-কিন্তু ডাক্তার তো আমি। তাওয়াফ ভাই এগুলো দিয়ে কী করবে?
প্রিয়া মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
-কচুর ডাক্তার আপনি।
প্রিয়া ঘরে আসার আগে গলায় শব্দ করল। শব্দ পেয়ে তাওয়াফ ওর দিকে তাকিয়েছে। ভেতরে এসে প্রিয়া বলল,
-আপনার ভাই একটা জরুরি কলে কথা বলছে। আমি সামনেই ছিলাম। তাই আমাকে দিয়ে পাঠিয়েছে।
বক্সটা তাওয়াফের হাতে ধরিয়ে দিয়ে প্রিয়া এখানে আর দাঁড়াল না। নিচে চলে এলো। ইলহাম সন্দিহান চোখে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-মিস প্রতিবাদী, আপনি ঠিক কী করতে চাচ্ছেন বলবেন দয়া করে?
প্রিয়া ভাব নিয়ে চুল উড়িয়ে বলল,
-যে কাজটা আপনার করার কথা ছিল। অথচ আপনি করতে পারছেন না।
তাওয়াফ বিছানায় বসেছে। কিন্তু পেখম দাড়িয়েই আছে। তাওয়াফ ওর দিকে তাকাল। শান্ত স্বরে বলল,
-বোস।
পেখম তবুও বসলো না। সে তাওয়াফের দিকে তাকাচ্ছেও না।
-তুই কি এখন আমার কথাও শুনবি না পুনম?
পেখম অন্য দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। তাওয়াফ ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
-তুই কি আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে চাচ্ছিস?
পেখম এবার তাওয়াফের দিকে তাকাল। বাধ্য মেয়ের মতো তাওয়াফের পাশে বিছানায় বসল।
তাওয়াফ মনে মনে হাসল। বলল,
-পা উপরে তোল।
পেখম পা বিছানার উপর তুলছে না দেখে তাওয়াফ নিচে বসছিল। পেখম নিভু নিভু গলায় বলল,
-আপনি নিচে বসবেন না।
-তাহলে তোকে পা উপরে তুলতে হবে।
পেখম দুই পা বিছানার উপর তুলে বসল। তাওয়াফ জিজ্ঞেস করল,
-ব্যান্ডেজ কেন খুলেছিস?
পেখম জবাব দিল না।
-ইনফেকশন হয়ে গেলে তখন কী করবি?
-ইনফেকশন হলেই ভালো। মরে যাব।
পেখমের মুখে এধরনের কথা শুনে তাওয়াফের মেজাজ খারাপ হলেও সে শান্ত থাকল।
-মৃত্যু তোর কাছে এতটাই সহজ মনে হয়?
পেখমের ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কাঁপছে। অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে। তাওয়াফ সময় নিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল। তার কাজ শেষ হয়ে গেলে আদেশের সুরে বলল,
-এবারও ব্যান্ডেজ খুলে ফেললে তোর খবর আছে।
পেখম অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। তাই তাওয়াফ পেখমের মুখ দেখতে পারছে না। কিন্তু যাওয়ার আগে সে একবার পেখমকে দেখতে চায়। তাই বলল,
-আমার কথা বুঝতে পেরেছিস?
-হুম।
-এই কথাটা আমার দিকে তাকিয়ে বল।
পেখম তাওয়াফ ভাইয়ের দিকে তাকাতে পারছে না। কীভাবে তাকাবে সে?
-কী হলো? আমার দিকে তাকিয়ে বল তুই আমার কথা বুঝেছিস।
তাওয়াফ সত্যিই তার ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে। পেখম তাওয়াফ ভাইয়ের দিকে তাকিয়েও চোখ নামিয়ে নিল।
-তাকা আমার দিকে।
পেখম তাকাচ্ছে না। তাওয়াফ কন্ঠস্বর নরম করে বলল,
-কী হয়েছে তোর?
পেখম তখনই হু হু করে কেঁদে উঠল। তাওয়াফ আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে রইল।
-কেন কাঁদছিস তুই?
পেখম জবাব না দিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে। তাওয়াফ আর ধৈর্য ধরে থাকতে পারছে না।
-কান্না থামা পুনম।
-আমি ভীষণ লজ্জিত তাওয়াফ ভাই।
পেখম কেঁদে কেঁদে অস্পষ্ট ভাবে বললেও তাওয়াফ বুঝতে পেরেছে। কপালে ভাঁজ পড়ল তার।
-কেন?
-না জেনে আপনার সাথে আমি তর্ক করেছি। আপনাকে নানান কথা শুনিয়েছি। তখন বুঝতে পারিনি আমার পাপাকে আমি যেমন জানি সে সেরকম না।
এজন্য মেয়েটা লজ্জিত! বাবা যেমনই হোক বাবাকে নিয়ে পৃথিবীর যেকোনো সন্তানই গর্ব করে।
-আমি কি তোকে এব্যাপারে কিছু বলেছি?
-মুখে না বলুন। কিন্তু মনে মনে নিশ্চয় ভাবছেন আপনি ঠিক ছিলেন আর আমি ভুল ছিলাম।
দুঃখের মাঝেও তাওয়াফের হাসতে মন চাইল। কত বেশি ভাবে এই মেয়ে!
-আমি মনে মনেও এমন কিছুই ভাবছি না।
পেখম জলে টলমলে চোখে তাওয়াফের দিকে তাকাল। দু'জন দু'জনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
-তোর বাবা কেমন মানুষ এতে কি তোর কোন অবদান আছে? সন্তান খারাপ হলে বাবা মা'র উপর দায় দেয়া যায়। কিন্তু বাবা মা'র কর্মের জন্য কখনোই সন্তানকে দায়ী করা যায় না। তুই কেন লজ্জিত হবি? আর আমাকে তুই এমন কোন কথাও শোনাসনি যা আমি মনে রেখে বসে আছি। তাই তোর এই ছোট্ট মাথা থেকে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেল।
-আমি আমার পাপাকে ঘৃণা করি। আমি পৃথিবীর সব পুরুষদের ঘৃণা করি।
তাওয়াফ আহত চোখে পেখমের দিকে তাকিয়ে বলল,
-পৃথিবীর সব পুরুষকে!
****
দৃষ্টির জন্মদিন আর খুব বেশি দূরে না। চার দিন পরেই তার জন্মদিন। প্রতিবার তার জন্মদিন পালন করা হয়। এবারও কি হবে? কিন্তু পেখমের যে মন ভালো নেই। তাই সে ইনিয়েবিনিয়ে আকৃতিকে বলল,
-আপু তোমার মনে আছে আমার জন্মদিন কবে?
আকৃতি হেসে বলল,
-মনে থাকবে না কেন পাগল?
-এবার কি আমার জন্মদিন পালন করা হবে?
-অবশ্যই হবে।
-কিন্তু... '
আকৃতি দৃষ্টির হাত ধরে আশ্বস্ত করল। বলল,
-বাড়িতে একটা হৈচৈ অনুষ্ঠান হলেই দেখবি পুনমের মন অনেকটা ভালো হয়ে গেছে।
তাওয়াফেরও দৃষ্টির জন্মদিনের কথা মনে ছিল। তাই সে আজ অফিস থেকে তাড়াতাড়ি চলে এসেছে। বাড়ির সব মেয়েকে শপিংয়ে নিয়ে যাবে। তার আসল উদ্দেশ্য পেখমকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া। যেকোনো ভাবে ওর মন খারাপ ঠিক করা। তাওয়াফ সবাইকে রেডি হয়ে থাকতে বলেছে। বিকেলে নিয়ে বেরোবে। প্রিয়া যেতে চাচ্ছিল না। আকৃতি, দৃষ্টি এই কথা শুনে প্রিয়াকে চেপে ধরল। আকৃতি বলল,
-তুমি যাবে সাথে তোমার বরও যাবে।
প্রিয়া দাঁত বের করে হেসে বলল,
-কিন্তু আমার তো বর নেই।
দৃষ্টি প্রিয়ার হাত চেপে ধরে রাগী মুখে বলল,
-তুমি কীভাবে না যাও আমিও দেখব। দরকার পড়ে তোমাকে কোলে করে নিয়ে যাব।
প্রিয়াকে রাজি করানো গেলেও আসল সমস্যা পেখমকে নিয়ে দেখা দিল। পেখম যাবে না। আকৃতি, দৃষ্টি, প্রিয়া সবাই সেধেছে। কিন্তু পেখমের এক কথা তার যেতে ইচ্ছে করছে না। এই কথাটা দৃষ্টি তাওয়াফকে জানাল। তাওয়াফ ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে পেখমকে মানাতে গেল। দরজায় শব্দ শুনে পেখম ভাবল দৃষ্টি হয়তো আবার এসেছে। তাই সে বলল,
-আমি বলেছি তো যাব না। বারবার এসে কেন বিরক্ত করছিস?
-আমি তোকে বিরক্ত করছি?
তাওয়াফ ভাইয়ের কন্ঠস্বর শুনে পেখম এদিকে তাকাল। মুখ ছোট করে ফেলে মিনমিন গলায় বলল,
-আমি ভেবেছিলাম দৃষ্টি এসেছে।
তাওয়াফ দরজার সামনেই দু-হাত পকেটে রেখে দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে এলো না।
-একটু পর বের হবো। জানিয়ে দিয়ে গেলাম।
তাওয়াফ পেখমকে জিজ্ঞেস করেনি যাবে কি-না। ও সরাসরি আদেশ শুনিয়ে দিয়েছে। তারপরও পেখম সাহস করে বলল,
-আমি যাব না তাওয়াফ ভাই।
তাওয়াফ শান্ত চোখে পেখমের দিকে তাকিয়ে আছে। পেখম তাওয়াফ ভাইয়ের দিক থেকে চোখ নামিয়ে নিল।
-আমি তোর মতামত জানতে চাইনি। বলতে এসেছি তুইও যাচ্ছিস।
এ কেমন জবরদস্তি! পেখম তো বলেছে সে যাবে না। তারপরও কি জোর করে নিয়ে যাবে নাকি?
শেষ পর্যন্ত তাওয়াফ ভাইয়ের সামনে পেখমকে হারতেই হলো। সবার সাথে সে-ও গাড়িতে বসে আছে। পেছনে প্রিয়া, আকৃতি, দৃষ্টি বসে পড়েছে। তাই পেখমকে সামনে তাওয়াফের সাথে বসতে হয়েছে। তাওয়াফ ড্রাইভ করতে করতে পেখমকে দেখছে। পেখমকে মুখ গোমড়া করে বসে থাকতে দেখে মুচকি হাসল।
জীবনে একটা কাজ করেই পেখম সবথেকে বেশি আনন্দ পেত। সেটা হলো শপিং। কিন্তু আজ পেখম একাজে কোন আনন্দ পাচ্ছে না। ওরা তিনজন সামনে সামনে হাঁটছে। আগ্রহ নিয়ে সব দেখছে। কিন্তু পেখম ওদের থেকে পেছনে পড়ে আছে। তাওয়াফও অবশ্য পেখমের পাশাপাশিই হাঁটছে।
-হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে?
তাওয়াফের প্রশ্নের জবাবে পেখম কোন জবাব দিল না। অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
-জোর করে নিয়ে এসে হাটাচ্ছে। আবার জিজ্ঞেস করছে কষ্ট হচ্ছে কি-না। যদি বলি কষ্ট হচ্ছে তাহলে কি কোলে তুলে নিবে?
সবাই সবার পছন্দের ড্রেস কিনে নিয়েছে। কিন্তু পেখম কিছুই কিনেনি। কারণ তার কিছুই পছন্দ হচ্ছে না। দৃষ্টি বলল,
-তোর কি একটা ড্রেসও পছন্দ হচ্ছে না?
-না।
-এটা কীভাবে সম্ভব? আগে তো তুই যা দেখতি তা-ই পছন্দ হয়ে যেত।
-এখন হচ্ছে না।
-পছন্দ না হলেও কিছু একটা নিয়ে নে।
পেখম রেগে গিয়ে বলল,
-বলছি পছন্দ হচ্ছে না তারপরও কেন জোড়াজুড়ি করছিস? তোদের হয়ে গেলে চল। নাহলে আমি একাই চলে যাচ্ছি।
কথাটা বলেই পেখম হাঁটা ধরল। দৃষ্টি ভাবতে পারেনি পেখম এত অল্পতেই রেগে যাবে। সবার সামনে এমন রিয়েক্ট করবে। দৃষ্টির চোখে পানি এসে গেছে। গাড়িতে দৃষ্টি একদম চুপচাপ বসে রইল। ওকে দেখে আকৃতি, প্রিয়াও চুপচাপ ছিল। তাওয়াফ নীরবে কার ড্রাইভ করছে। পেখম জানালার দিকে মুখ করে বসে আছে।
বাড়ি ফিরলে পেখম সবার আগে গাড়ি থেকে নেমে গেল। আকৃতি প্রিয়া ভেতরে যেতে যেতে দৃষ্টিকে বোঝাচ্ছে, পেখমের কথায় ও যেন কষ্ট না পায়। ওদের সান্ত্বনা দেওয়া শুনে দৃষ্টি হেসে বলল,
-পেখমের সাথে আমি ছোট থেকে বড়ো হয়েছি। ওকে আমি চিনি। ওর রাগ আমার উপর না।
পেখম নিজেও অনুশোচনায় ভুগছে। দৃষ্টির সাথে ওভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু সে কী করবে? আজকাল না চাইতেও সে সবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে ফেলছে। অনুশোচনা থেকেই পেখম রাতে নিচে খেতে এলো না। দৃষ্টির সামনে পড়তে পারবে না সে। পেখম কেন আসেনি নূর জাহান এব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেও কেউ কিছু জানায়নি। জেসমিন বলল,
-এই মেয়ের মতিগতির কোন ঠিক ঠিকানা নেই। ওকে নিয়ে আপনারা চিন্তা করবেন না।
প্রিয়া তাওয়াফ ভাইকে ছাদে যেতে দেখে তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে পেখমের কাছে গেল।
-আসব পুনম?
-তোমারও কি অনুমতি নেওয়া লাগবে প্রিয়া আপু?
-বলা যায় না। যদি তুমি আমার উপরও রেগে যাও।
পেখম অসহায় মুখে প্রিয়ার দিকে তাকাল। প্রিয়া হেসে দিয়ে বলল,
-মজা করছিলাম। ঘরে বসে কী করো? চলো ছাদে যাই।
-এই রাতের বেলা?
-হুম। আমি তো রোজই যাই।
পেখম কী ভেবে যেন রাজি হয়ে গেল। বলল,
-আচ্ছা চলো।
ছাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয়া হঠাৎ বলে উঠল,
-পুনম তুমি কি একা থাকতে ভয় পাবে? আমি দু'মিনিটের জন্য একটু রুম থেকে আসছি।
প্রিয়া পেখমকে কিছু বলার সুযোগ না দিলেই চলে যাচ্ছে। পেখম ডাকল,
-কোথায় যাচ্ছ প্রিয়া আপু?
প্রিয়া চলে গেলে পেখম ভাবল সে এখন কী করবে?
-প্রিয়া আপু তো বলেছে আসবে।
পেখমের অবশ্য একা ছাদে যেতে ভয় করছিল। তাই সে এখানেই দাঁড়িয়ে রইল। তাওয়াফ তখন রুমে ফিরে যাচ্ছিল। পেখমের সাথে দেখা হয়ে গেলেও তাওয়াফ ওকে না দেখার মতো চলে যাচ্ছে। পেখম বুঝতে পারল না তাওয়াফ ভাই এমন কেন করল। তাই সে ডেকে উঠল,
-তাওয়াফ ভাই।
তাওয়াফ দাঁড়ালেও পেখমের দিকে ফিরে তাকাল না। উল্টো দিক দাঁড়িয়েই জানতে চাইল,
-কেন ডেকেছিস?
তাওয়াফ ভাই তো তার দিকে তাকাচ্ছেই না। পেখম কী বলবে, কেন ডেকেছে সে?
-কিছু বলবি নাকি, যাব?
তাওয়াফের এমন কঠিন আচরণে পেখমের কান্না পেয়ে গেল। ধরা গলায় জিজ্ঞেস করল,
-আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?
-তোর উপর কেন রাগ করব?
-তাহলে এভাবে কথা বলছেন কেন?
-আমি এভাবেই কথা বলি।
তাওয়াফ ভাই এভাবে কথা বলেন না। উনি পেখমের সাথে অনেক নরমভাবে কথা বলতেন।
-তোর কথা শেষ হলে আমি যাচ্ছি।
জলে টলটল করা চোখ থেকে এবার দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তাওয়াফ একবারের জন্যও পেছনে তাকিয়ে পেখমকে দেখল না। ওভাবেই চলে গেল।
চলবে
পাঠক গল্প পড়ে অবশ্যই অনুভূতি জানাবেন। আমি কিন্তু আপনাদের মন্তব্য পড়ার অপেক্ষা বসে থাকলাম।