#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৪২'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
(১৭০০+ শব্দের পর্ব। রিচেক করতে পারিনি। অনেক বানান ভুল থাকতে পারে। কষ্ট করে পড়ে নিবেন।)
তটিনী আলাইয়া আলিশবাকে নিয়ে এসেছে। পেখম জানত না ওরা আসবে। এতগুলো দিন পর ছোট দুই বোনকে দেখে তাওয়াফের সাথে কথোপকথন মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে পেখম ছুটে ওদের কাছে চলে গেল।
-আমার ময়না পাখির বাচ্চারা তোরা কার সাথে এসেছিস?
পেছনে তটিনীকে দেখতে পেয়ে পেখমের খুশি আরও বেড়ে গেল। তটিনীকেও সে অনেক মিস করেছে। পেখম দু-হাত মেলে দিয়ে আলাইয়া আলিশবাকে কাছে ডাকলে ওরা আপুর কাছে এলো না। অভিমান করে দূরে দাঁড়িয়ে রইল। আলাইয়া বলল,
-আমরা তোমার সাথে কথা বলব না। তুমি একটুও ভালো না।
পেখম মুখ ছোট করে ফেলে বলল,
-আপিকে ঝাপ্পি দিবি না তোরা?
আলিশবাও তোতলা কন্ঠে বলল,
-না। তুমি অনেক পঁচা।
পেখম ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
-ঝাপ্পি না দিলে আপি কিন্তু কান্না করবে।
আলাইয়া আলিশবাকে তাওয়াফই আনিয়েছে। সে জানত পেখম ওদের দেখে খুশি হবে। পেখমের খুশির জন্যই তাওয়াফ ছোট দাদীকে কল করে ওদের এখানে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছে। পেখম তটিনীর সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
-কেমন আছো ফুল?
তটিনী পেখমকে জড়িয়ে ধরল।
-তোমার কথা অনেক মনে পড়ে পেখম। তোমাকে ছাড়া ওবাড়িতে একটুও ভালো লাগে না।
এই কথা শুনে পেখম তটিনীর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
-তাহলে আজ থেকে আমার সাথে তুমিও এখানে থেকে যাও।
এখানে আসার পর আজ প্রথমবার পেখমকে মন থেকে খুশি মনে হচ্ছে। পেখম আগের মতো বাচ্চাদের সাথে হৈ-হল্লায় মেতে উঠেছে। পেখমকে এতটা খুশি দেখে তাওয়াফও খুশি হচ্ছে।
নূর জাহান ছেলেমেয়েদের আগে কেক কেটে খাওয়াদাওয়া সেরে তারপর আনন্দ ফূর্তি করতে বললেন। নাহলে ছোটরা না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়বে। দৃষ্টি কেক কাটার সময় সবাইকে ডেকে নিজের পাশে দাঁড় করিয়ে নিল। আজকের জন্য সে রানীকে ফটোগ্রাফার বানিয়েছে। রানী সবার ছবি তুলে দিচ্ছে। তাওয়াফ পেখমের পাশে দাঁড়িয়েছে। তার চোখ সর্বক্ষণ পেখমের উপরই বলা যায়। তাওয়াফের একপাশে পেখম দাঁড়ালেও অন্য পাশেই ইরিন। ইরিন নিজেকে সাহস দিচ্ছে। মনের কথা আজই বলতে হবে। নাহলে দেরি হয়ে যাবে। দাদার বাড়ির লোকজন তার বিয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছে। দৃষ্টি কেক কেটে এক এক করে সবাইকে খাইয়ে দেওয়ার পর ইলহামকেও খাওয়াতে চাইলে ইলহাম বলল,
-উঁহু। লেডিস্ ফার্স্ট। আগে মিস প্রতিবাদীকে খাওয়া।
দৃষ্টি কপাল কুঁচকে আশেপাশে খুঁজছে। কাকে কেক খাওয়াতে বলছে ইলহাম ভাই? কাউকে না পেয়ে জিজ্ঞেস করল,
-মিস প্রতিবাদী কে?
ইলহাম তার পাশেই দাঁড়ানো প্রিয়াকে দেখাল। প্রিয়া কটমট চোখে ইলহামকে দেখছে। দৃষ্টির সামনে কিছু বলতেও পারছে না। ভাইয়া প্রিয়া আপুকে এই নাম দিয়েছে শুনে দৃষ্টি হেসে বলল,
-ভালো নামই দিয়েছ। ঠিক আছে আগে তাহলে তোমার মিস প্রতিবাদীকেই খাওয়াই।
প্রিয়াকে কেক খাইয়ে দৃষ্টি জিজ্ঞেস করল,
-এবার তো তুমি খাবে?
-হুম।
ভাইকেও কেক খাইয়ে দৃষ্টি চলে গেল। দৃষ্টি যাওয়ার সাথে সাথে প্রিয়া ইলহামের উপর ফেটে পড়ল।
-সমস্যা কী আপনার?
ইলহাম অবশ্য প্রিয়ার রাগ গায়ে মাখল না। উদাসী ভঙ্গিতে বলল,
-সমস্যা আমিও খুঁজে বেড়াচ্ছি।
-আপনার সাথে ভালো করে দু'একটা কথা বলি বলে আপনি দেখছি আমার ভালোমানুষির সুযোগ নিচ্ছেন। দেখুন ডাক্তার ওইদিন হাসপাতালে আপনি আমার যে রুপ দেখেছেন এটাই কিন্তু আমার আসল রুপ। দ্বিতীয় বারও ওই রুপ দেখাতে আপনি আমাকে বাধ্য করবেন না।
-আমার কিন্তু আপনার প্রতিবাদী রুপই ভালো লাগে। সেজন্যই তো আমি আপনি নিক নেম মিস প্রতিবাদী দিয়েছি।
প্রিয়া দাঁতে দাঁত চেপে কতক্ষণ ইলহামের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
-আপনি একটা অসহ্যকর লোক।
প্রিয়া চলে গেলে ইলহাম হাসল। মিস প্রতিবাদীর সামনে সে এমন হ্যাংলামি আচরণ কেন করে এটা ইলহাম নিজেও বুঝতে পারে না।
এই পুরোটা সময়ে অনেকবার পেখম তাওয়াফের চোখাচোখি হয়েছে। পেখম বুঝতে পারে সে তাওয়াফ ভাইকে পছন্দ করে। কিন্তু তাওয়াফ ভাইও যে তাকে পছন্দ করে এসম্পর্কে পেখমের এখনও কোন ধারণা নেই।
কেক খাওয়ার সাথে সাথে মুখেও একচোট মাখানো হলো। যদিও পেখমই প্রথম শুরু করেছিল। দৃষ্টিকে কেক খাইয়ে দেওয়ার নাম করে মুখে ক্রিম মাখিয়ে দিলে দৃষ্টি হতভম্ব চোখে কতক্ষণ পেখমের দিকে তাকিয়ে ফুঁসতে লাগল। পেখমের মুখে হাসি।
-বার্থডে গার্ল বলে কথা এমনিতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
-দাঁড়া তুই।
দৃষ্টিও পেখমের পেছনে ছুটছে। পেখম চিৎকার করতে করতে এর ওর পেছনে গিয়ে লোকাচ্ছে। কিন্তু তাতেও লাভ হচ্ছে না। অবশেষে পেখম এসে তাওয়াফের পেছনে লুকাল। পেছন থেকে তাওয়াফের পাঞ্জাবি খামচে ধরে বলতে লাগল,
-তাওয়াফ ভাই আমাকে বাঁচান। শাঁকচুন্নিটা দেখুন কীভাবে আমাকে তাড়া করছে।
দৃষ্টি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলল,
-তাওয়াফ ভাই তুই সরে যাও বলছি। আজ এই পেখমের বাচ্চাকে যদি আমি কেক দিয়ে না করিয়েছি তাহলে আমার নাম দৃষ্টি না।
তাওয়াফের পেছনে লুকিয়ে থেকেই পেখম বলল,
-নাম পাল্টে ফেল তাহলে। কারণ আমার সামনে যতক্ষণ তাওয়াফ ভাই আছে ততক্ষণ তুই আমাকে ধরতে পারবি না।
-তাওয়াফ ভাই তুমি কি সরবে?
-না তাওয়াফ ভাই প্লিজ।
দৃষ্টি হুশিয়ার করে দিয়ে বলল,
-তাওয়াফ ভাই তুমি না সরলে কিন্তু আমি তোমাকেও কেক মাখিয়ে দিব।
পেখম দাঁত বের করে হেসে বলল,
-মাখা দেখি তোর কত সাহস।
দুইটার ঝগড়া দেখে তাওয়াফ যথেষ্ট বিরক্ত। সে দৃষ্টির সাথে পেখমকেও ধমক দিল। বলল,
-কী বাচ্চামি করছিস এসব? তোরা কি এখনও ছোট!
দৃষ্টি বলল,
-পেখমই তো শুরু করেছে। আমার কী দোষ?
পেখম নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যা বলল,
-আমি কখন শুরু করেছি হ্যাঁ?
দৃষ্টি তেড়ে আসতে আসতে বলল,
-অপরাধ তো করেছিসই এখন আবার মিথ্যাও বলছিস!
দৃষ্টি তার দিকে আসছে দেখে পেখম চেঁচিয়ে উঠল। এদের ঝগড়া দেখে এখন বাকিরাও মজা নিচ্ছে। ইলহাম বলল,
-ভাই তুমি এদের মধ্যে থেকে চলে আসো। দেখি কে কেমন পারে।
তাওয়াফ অবশ্য দুইটাকে একা ছেড়ে দেওয়ার ভুল করল না। কঠিন গলায় বলল,
-থাম দু'জন। দৃষ্টি পুনম তোদের দুইটাকেই বলছি। আমি যদি দেখি তোরা কেক মাখামাখি করছিস তাহলে কিন্তু খারাপ হয়ে যাবে।
তাওয়াফের শাসানো শুনে দু'জন আপাতত ঠান্ডা হলেও তাওয়াফ চলে যাওয়ার পরই দু'জন আবার শুরু করে দিল।
****
ইরিন তাওয়াফ ভাইকে খুঁজছে। কেক কাটার পরই তাওয়াফ ভাই যেন কোথায় চলে গেছে। প্রিয়া ইরিনকে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-কাকে খুঁজছ? পেখম দৃষ্টি ওরা মনে হয় মুখ ধুতে রুমে গেছে।
ইরিন সত্য বলল না। হেসে জানাল সে এদের দু'জনকেই খুঁজছিল। ইরিন একবার দেখেছিল তাওয়াফ ভাই বাইরে যাচ্ছে। তবে পরে আর ফিরতে দেখেনি। তাই সে তাওয়াফ ভাইকে খোঁজার জন্য বাইরে যাচ্ছে। হয়তো লনেই পাওয়া যাবে। তাওয়াফ ভাইকে একা নিরিবিলি পেলেই ভালো হবে। সে যে কথা বলতে চাচ্ছে এত মানুষের ভেতরে কখনোই বলতে পারবে না।
কেক মাখামাখি করে ভূত সেজে ফেলেছিল। পেখম মুখ ধুইয়ে এসেছে। তেলতেলে ক্রিম উঠতে চায় না। কত কষ্ট করে মুখ পরিষ্কার করেছে। পেখমও মনে মনে তাওয়াফ ভাইকে খুঁজছে। এতদিন বুঝতে পারেনি। এখন বুঝতে পেরেও কি তাওয়াফ ভাইকে সে পছন্দের কথা বলতে পারবে? জীবনেও পারবে না। হিটলার মির্জা এখন ভালো ব্যবহার করলেও এই কথা শোনা মাত্র তার কল্লা নামিয়ে ফেলবে।
-পৃথিবীতে কত কত মানুষ। পৃথিবী না, পুরো বাংলাদেশে আট কোটি পুরুষের মধ্যে তোর আর কাউকে পছন্দ হলো না? পছন্দ করার জন্য শেষমেশ হিটলার মির্জাকেই পেলি? এই পছন্দের কথা কি তুই কোনদিন উনাকে জানাতে পারবি?
সদর দরজার বাইরে পা রেখেই ইরিন তাওয়াফ ভাইকে দেখতে পেলো। তাওয়াফ ভাইয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় সে অনুভব করল তার পা অচল হয়ে আসছে। ইরিনকে কাছাকাছি দেখে তাওয়াফ বলল,
-কোথায় যাচ্ছিস?
-কোথাও না।
ইরিনের হাত-পা কাঁপার সাথে সাথে গলাও কাপছে। কোনমতে সে বলল,
-কোথাও না।
-বাইরে থাকিস না। ভেতরে চলে আয়।
তাওয়াফ ভেতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে ইরিন ডাকল।
-তাওয়াফ ভাই।
তাওয়াফ থামল। ফিরে তাকিয়ে বলল,
-হুম। কিছু বলবি?
আলিশবা বাড়ি যাওয়ার জন্য কাঁদছে। আলাইয়া থাকতে চাচ্ছে। ইতি তার বোনকে খুঁজছে।
-পেখম আপু আমার আপুকে দেখেছ? আপু কোথায় চলে গেছে। পাচ্ছি না।
-আচ্ছা তুই দাঁড়া। আমি দেখছি।
পেখম ইরিনের খুঁজে বাইরে চলে এলো। দূর থেকে ইরিনকে তাওয়াফের সাথে দেখতে পেলো। ইতি আপুকে খুঁজছে বলার জন্য পেখম ওদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইরিন পেখমকে আসতে দেখেনি। কাছাকাছি এসে পেখম শুনতে পেলো ইরিন তাওয়াফকে বলছে,
-তাওয়াফ ভাই আমি তোমাকে ভালোবাসি।
তাওয়াফের প্রতিক্রিয়া দেখার আগে পেখম থেমে গেল। ইরিন আপু তাওয়াফ ভাইকে ভালোবাসে! পেখম সামনে এগোলো না। নিঃশব্দে পিছিয়ে আসছে। পেখম ভেতরে চলে এলে ইতি জিজ্ঞেস করল,
-আপুকে পেয়েছ?
ইতির কথা পেখম আদোও শুনেছে কি-না বোঝা গেল না। তার চোখ জলে টলমল করছে। পেখম ঘরে চলে এলো। ইরিন আপু তাকে বলেছিল একজনকে আপু ভালোবাসে। কিন্তু সেই মানুষ যে তাওয়াফ ভাই এটা পেখম কখনও কল্পনা করেনি। পেখম চোখের পানি ধরে রাখতে পারল না। তার পছন্দের মানুষটাকে ইরিন আপু ভালোবাসে। তাওয়াফ ভাই কি ইরিন আপুর ভালোবাসা গ্রহণ করে নিয়েছে? বালিশে মুখ গুঁজে পেখম কেঁদে যাচ্ছে।
ইলহাম ওদের নিয়ে যাচ্ছে। আগে ছোট দাদীদের ওখানে হয়ে গিয়ে তারপর ইরিন ইতিকে নামিয়ে দিয়ে আসবে। যাবার আগে তটিনী পেখমকে দেখে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু পেখম এখানে নেই। দৃষ্টি পেখমকে খুঁজে আনার কথা বললে তটিনী বলল,
-আচ্ছা, ওকে না পাওয়া গেলে থাক। আলিশবা ঘুমিয়ে পড়েছে।
গাড়িতে ইরিনকে অনেকটা চুপচাপ লাগছে। ইলহাম বলল,
-ইরিন তোরা থেকে গেলেই পারতি। আলিশবা নাহয় রাতে কান্না করবে। তোরা কেন চলে যাচ্ছিস?
ছোট দাদীকে দেখতে ইচ্ছে করলেও ইলহাম আজ ভেতরে গেল না। তটিনী আলাইয়া আলিশবাকে নিয়ে ভেতরে পা রাখতেই দেখল পল্লব মির্জা গোলাপ জানের সাথে ঝগড়া করছেন। ওদের কেন ওই বাড়িতে পাঠিয়েছে। গোলাপ জান তিক্ত কন্ঠে বললেন,
-আমার নাতনিরা কই যাবে না যাবে তা কি আমি তোরে জিজ্ঞেস করমু? আমি ওদের যাওয়ার অনুমতি দিছি।
মাঝে মাঝে তটিনীর ইচ্ছে করে এই পল্লব মির্জাটাকে মামাকে বলে সাইজ করিয়ে দিবে। একটা মানুষ সকলের জীবনে অশান্তির কারণ।
****
পরদিন তাওয়াফ তার অফিসে বসে আছে। একটু আগেই কনিকার সাথে কথা হয়েছে। মেয়েটার নতুন বিয়ে হয়েছে। বর সহ ওকে একদিন বাড়িতে আসতে বলা উচিত ছিল। কিন্তু পেখম তাদের বাড়িতে আছে ভয়ে কনিকাকে আসার কথা বলতে পারছে না। কনিকাকে পেখমের নাম জানিয়ে ভুল একটা করে ফেলেছে। দু'জনের সামনাসামনি হলেই কনিকা গড়গড় করে পেটের সব কথা পেখমকে জানিয়ে দিবে। দরজায় নক হলো। তাওয়াফ বলল,
-কাম ইন।
আজিজ ভেতরে এসে কাচুমাচু মুখে বলল,
-স্যার একটু প্রবলেম হয়ে গেছে।
-প্রবলেমের ডিটেইলস বলো আজিজ।
-আজকেও আপনার চাচা অফিসে এসে ঝামেলা করছে। আপনাকে গালাগাল করছে। ভেতরে আসতে চাচ্ছে।
তাওয়াফ শান্ত চোখে আজিজের দিকে তাকিয়ে বলল,
-আজিজ, তোমাকে আমি কী বলেছিলাম?
আজিজ আমতা আমতা করে বলল,
-কী বলেছিলেন স্যার?
-আমার চাচা মহোদয় এলে উনাকে সোজা আমার কাছে নিয়ে আসবে।
-স্যরি স্যার। এখন কি উনাকে আপনার কাছে নিয়ে আসব?
-হুম।
পল্লব মির্জা অশান্ত ঝড়ের বেগে তাওয়াফের অফিসে ঢুকলো। তাওয়াফ চাচাকে দেখে কানে দেওয়ার জন্য তুলো খুঁজলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তুলো পেলো না।
-তুই আমার মেয়েকে ওই বাড়িতে রেখেছিল। জন্মদিনের অনুষ্ঠান করে আবার আমার ভাতিজিদেরও ডাকছিস। এত সাহস তোকে কে দিয়েছে?
চাচার জন্য তাওয়াফের দয়া হয়। কারণ লোকটা মানসিকভাবে সুস্থ না। কোন সুস্থ মানুষ এরকম চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারে না। উনাকে ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন। কনিকাকে দেখালে কি কাজ হবে?
-আজই তুই আমার মেয়েকে ওর নিজের বাড়িতে পাঠাবি। আমি তোকে শেষবারের মতো বলছি তাওয়াফ। আমার মেয়েকে আমার থেকে দূর করতে চাস না।
এই লোকের পৃথিবীর আর কারো সাথে সমস্যা নেই। সব সমস্যা তার সাথেই।
-আপনার মেয়ে কয়েকটা দিন আমাদের বাড়িতে আছে দেখে আপনি এমন ছটফট করছেন। আপনার মেয়েকে আমি বিয়ে করে সারাজীবন আমার বাড়িতে রেখে দিলে তখন আপনি বেঁচে থাকবেন বলে মনে হচ্ছে না।
চাচাকে রাগাতেই তাওয়াফ কথাটা বলেছে। পল্লব মির্জা এই কথা শুনে তাওয়াফের দিকে তেড়ে এসে বললেন,
-হারামজাদা কী বললি তুই? আরেকবার আমার মেয়েকে বিয়ে করার কথা মুখে আনলে আমি তোর জীভ টেনে ছিড়ে ফেলব।
পল্লব মির্জা তাওয়াফকে আক্রমণ করার আগে আজিজ উনাকে ধরে ফেলেছে। চাচাকে এত বেশি উত্তেজিত হতে দেখে তাওয়াফ হেসে বলল,
-রিল্যাক্স মিস্টার মির্জা। এত উত্তেজিত হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। মেয়ের সংসার দেখে যেতে চান না নাকি? এখনও তো আপনার মেয়েকে বিয়ে করিনি। আমাদের বিয়ে হবে। আপনার মেয়ে আমার সন্তানদের মা হবে। আপনাকে নানা বানানোর আগ পর্যন্ত প্লিজ ওপারে যাবেন না।
চলবে