#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৬৬'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
শাড়ির কুঁচি ধরে একটা বাসার সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় পেখম প্রশ্ন করল,
-আমরা কোথায় যাচ্ছি তাওয়াফ ভাই?
-আকৃতির শ্বশুরবাড়ি।
পেখম দাঁড়িয়ে পড়ল। মুখ হাঁ হয়ে গেছে তার। এটা আকৃতি আপুর শ্বশুরবাড়ি! পেখম দাঁড়িয়ে পড়েছে দেখে তাওয়াফ বলল,
-আয়।
-সত্যিই এটা আকৃতি আপুর শ্বশুরবাড়ি?
-হুম।
-আপনি আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?
-দেখাতে।
পেখম বোকার মতো বলল,
-কী দেখব আমি?
-তুই এত প্রশ্ন কেন করিস পুনম?
-আপনি উত্তর দেন না তাই।
তুহিন দরজা খুলে দিয়েছে। তাওয়াফ আসার এক ঘন্টা আগে তুহিনকে জানিয়েছে। আগেই জানায়নি কারণ তুহিন আয়োজন শুরু করে দিত। তবুও এটুকু সময়ে যথেষ্ট আয়োজন করে ফেলেছে। পেখম এদের কাউকেই চিনতে পারছে না। যারা আকৃতি আপুকে আংটি পরিয়ে এসেছে তারা তো এনারা না। তাওয়াফের শার্ট টেনে ধরে ফিসফিস গলায় পেখম বলল,
-এই ছেলেটা কে তাওয়াফ ভাই?
-তুহিন।
-নাম জানতে চাইনি। ছেলেটা কে জানতে চেয়েছি।
-ওর সাথেই আকৃতির বিয়ে হবে৷
পেখম বোকার মতো তাকিয়ে থেকে বলল,
-আকৃতি আপুর বরের নাম তো সাব্বির ছিল। আংটি পরানোর দিন আমি ওই লোককে দেখেছিলাম।
তুহিনের মামী মামাতো বোন চলে এলে পেখম আর কিছু জিজ্ঞেস করতে পারল না। এসব কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে সব তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। তাওয়াফ তুহিনের মামীর সাথে কথা বলছে। আকৃতির কথা তুহিনের মামাতো বোন জানত। সে-ই মাকে জানিয়েছে। মহিলা বললেন,
-ছেলেটাকে বিয়ে করানো কত চেষ্টাই না করেছি। কিন্তু এই ছেলে কিছুতেই রাজি হয় না। আমি তো জানতামও না ওর কাউকে পছন্দ। আমাকে জানালে কি আমি না করতাম? ওর পছন্দই তো আমাদের পছন্দ।
পেখম যতটুকু বুঝতে পারছে এরা মানুষ হিসেবে অমায়িক। তুহিন ছেলেটাকেও সে খুঁটিয়ে দেখছে। পেখমকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে তুহিন নিজেই অস্বস্তিতে পড়ে গেল। তবুও পেখম চোখ সরালো না৷ পেখমের এসব কান্ড দেখে তাওয়াফ ওর হাত ধরে মৃদু চাপ দিল। তাতেও পেখমের কিছু এলো গেল না। তীক্ষ্ণ চোখে সে ছেলেটাকে দেখেই যাচ্ছে।
মেয়ের ভাই নিজে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। তুহিনের মামীও আপত্তি করল না। আকৃতি যদি তুহিনের পছন্দ হয় তাহলে তিনি মেয়ে না দেখেও বিয়ে করাতে রাজি আছেন। তারপরও তাওয়াফ উনাদের তাদের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেছে। তুহিনের মামাতো বোন পেখমকে বাসা দেখাচ্ছে। মেয়েটার নাম হাবিবা। পেখম জিজ্ঞেস করল,
-তুমি কোন ক্লাসে পড়ো হাবিবা?
-ক্লাস টেন।
-ওহ। তোমার ভাইয়ার রুম কোনটা?
-আসুন আপনাকে নিয়ে যাই।
ছিমছাম গোছালো একটা রুম। দেখেই মনে হচ্ছে এই রুমে যে থাকে সে-ও এরকমই গোছালো।
-তোমার ভাইয়ার সম্পর্কে কিছু বলো হাবিবা।
হাবিবা হেসে বলল,
-নিজের ভাইয়ার সম্পর্কে বললে আপনার মনে হবে আমি হয়তো বানিয়ে বেশি বেশি বলছি।
-মনে হবে না। তুমি বলো।
-ভাইয়ার মতো এত দায়িত্ববান ছেলে আমি খুব কমই দেখেছি।
-তোমার ভাইয়া আকৃতি নামের একজনকে পছন্দ করে তোমরা জানো?
-মা জানে না। আমি জানি। ভাইয়া কখনও বলেনি। তারপরও জানি।
-না বললে কীভাবে জেনেছ?
হাবিবা অপরাধী মুখে হেসে বলল,
-আমি লুকিয়ে লুকিয়ে ভাইয়ার ডায়েরি পড়ি। ভাইয়ার মানিব্যাগে ওই আপুর ছবি দেখেছি।
পেখম চোখ বড় বড় করে ফেলে বলল,
-বলো কী? তোমার ভাইয়া সত্যিই আকৃতি আপুর ছবি মানিব্যাগে নিয়ে ঘুরে!
-ঘুরে তো৷ এখনও হয়তো আছে।
পেখমের আর এই ছেলের ব্যাপারে কোন সংশয় থাকল না।
তুহিন একা তাওয়াফের সাথে কথা বলতে চায়। তাওয়াফ ওকে সময় দিল।
-বলো তুহিন।
তুহিন অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। কথা গুলিয়ে ফেলছে সে।
-আমি আমার অবস্থান জানি ভাইয়া। সেকারণেই আকৃতিকে পছন্দ করলেও কখনও বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবার সাহস করিনি। আকৃতি আমার কাছে আকাশের চাঁদের মতো। ওই চাঁদকে মাটিতে নিয়ে আসার ক্ষমতা বা যোগ্যতা কোনটাই আমার নেই।
তাওয়াফ হাসল। পকেট থেকে হাত বের করে বলল,
-চাঁদ যদি নিজেই মাটিতে নেমে আসতে চায়?
-সে চাইলেও তাকে রাখার সাধ্য যে আমার নেই ভাইয়া।
তাওয়াফ তুহিনের কাঁধে হাত রেখে বলল,
-তুহিন আমি জানি তুমি আমার বোনকে সুখে রাখবে। যাকে তুমি চাঁদের সাথে তুলনা দিয়েছ তুমি কখনও তার অবমূল্যায়ন করবে না।
ফেরার পথে গাড়িতে বসে পেখম জিজ্ঞেস করল,
-আকৃতি আপুও কি তুহিন ভাইয়াকে পছন্দ করে?
-হুম।
-আপনাকে কে বলেছে?
-আকৃতি।
আকৃতি আপু সত্যিই তুহিন ভাইয়াকে পছন্দ করে! কই তাদের তো কোনদিনও বলেনি। নিজের ভাইকে ঠিকই বলেছে।
-সাব্বিরদের পরিবারকে কী বলবেন তাওয়াফ ভাই?
-যা বলার বলে ফেলেছি।
-কী বলেছেন?
-বলেছি কিছু একটা।
পেখম অধৈর্য গলায় বলল,
-কী বলেছেন বলুন না তাওয়াফ ভাই।
-আমি তোর কে হই পুনম?
এটা কি তার প্রশ্নের জবাব ছিল? তার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নিজে উলটাপালটা প্রশ্ন করছে। তারপরও পেখম বলল,
-আপনি জানেন না আপনি আমার কে হোন?
-আমি জানি। কিন্তু তুই জানিস কি-না সেটাই জানতে চাচ্ছি। কে হই আমি তোর?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পেখমের পেটের ভেতর কেমন গুড়গুড় শুরু হয়ে গেল। মৃদু স্বরে বলল,
-স্বামী।
-স্বামীকে ভাই কে ডাকে?
পেখম নখ খুঁটতে খুঁটতে মিনমিন করে বলল,
-অভ্যাস হয়ে গেছে।
-অভ্যাস পালটাবি কবে? ভবিষ্যতে আমাদের ছেলেমেয়ের সামনেও কি তুই আমাকে ভাই ডাকবি? তখন ওরা আমাকে বাবা ডাকার বদলে মামা ডাকতে শুরু করলে কী করবি তুই?
তাওয়াফ ভাই এসব কী কথা বলছে? উনি বাচ্চাকাচ্চা পর্যন্ত ভেবে ফেলেছেন! পেখম লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বসল। এই মেয়েকে লজ্জা দেওয়া তাওয়াফের প্রিয় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত কথাতেও এই মেয়ে লজ্জায় লাল হয়ে যায়।
বাড়িতে এসে পেখম সবার আগে আকৃতি আপুর কাছে গেল। আকৃতি আপুকে জড়িয়ে ধরে ঘুরতে লাগল। পাগলিটাকে এত খুশি হতে দেখে আকৃতি বলল,
-প্রথমে তো যেতেই চাসনি। এখন ফিরে এসে এত ভালোবাসা দেখাচ্ছিস!
-তাওয়াফ ভাই আমাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল জানলে তুমি আমার থেকেও বেশি খুশি হবে।
-তাই নাকি! কোথায় নিয়ে গিয়েছিল শুনি?
-এখন তো বলা যাবে না।
পেখম ফিরে এসেছে শুনে দৃষ্টিও এলে পেখম চুপিচুপি ওকে সবটা বলে দিল। এই কথা শুনে দৃষ্টি হা-হুতাশ শুরু করে দিল।
-সত্যি বলছিস? হায় আল্লাহ, তাওয়াফ ভাই তো আমাকেও যেতে বলেছিল।
-বলেছিল তাহলে যাসনি কেন?
-যাইনি কারণ আমি ভেবেছি তোরা স্বামী স্ত্রী ঘুরতে যাচ্ছিস আমি কেন তোদের সাথে গিয়ে কাবাবে হাড্ডি হবো।
-একদম ঠিক হয়েছে। সবসময় দুই লাইন বেশি বুঝিস।
আকৃতি আপুর শ্বশুরবাড়ি যেতে না পারার দুঃখে দৃষ্টি আফসোস করে মরছে। দুলাভাইকে দেখতে পারেনি তাই হাত-পা ছুঁড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।
পরের দিনই অবশ্য দৃষ্টি আকৃতি আপুর হবু বরকে দেখতে পেরেছে। তুহিনের মামী মামাতো বোন এসেছে। তুহিনকে চোখের সামনে দেখে আকৃতি হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে রইল। তুহিন ওর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি উপহার দিল। তাওয়াফ তার পরিবারকে আগেই সব জানিয়েছে। দাদীর ইচ্ছায় দুই নাতি নাতনির বিয়ের ডেট একই দিনে ফেলা হয়েছে।
****
দুইটা বিয়ে একসাথে। আয়োজনও ডাবল। সবকিছু তাওয়াফ ভাই একা হাতে করছে। তাই এই কয়দিন পেখম তার বরের মুখটাও ঠিকমতো দেখতে পারছে না। সকালে বেরিয়ে যায় রাতে ফিরে। তখন পেখম ঘুমে কাদা। তবে আজকে তাওয়াফ ভাই তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে। তাওয়াফ ঘরে এসে পেখমকে দেখে বলল,
-জেগে আছিস?
-হুম।
তাওয়াফের গাল লাল হয়ে আছে এটা পেখমের চোখ এড়াল না। আজকাল এই মানুষটার সবকিছু সে ভীষণ মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করে। তাওয়াফ শার্ট চেঞ্জ করছে। পেখম মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
-আপনার গালে কী হয়েছে?
তাওয়াফ টিশার্ট পরতে পরতে ঘাড় ঘুরিয়ে পেখমের দিকে তাকাল। সে যদি বলে তোর বাপের কৃপায় আমার গাল লাল হয়েছে তাহলে কি বিশ্বাস করবে? বিশ্বাস করলেও বাপের কাজে মেয়ে অনুতপ্ত হবে। তাই তাওয়াফ সত্যটা এড়িয়ে গেল।
-আমার গাল লাল লাগছে?
-হুম।
-আমার গালের লাল দাগও তোর চোখে পড়ে। তুই আমাকে এতটা লক্ষ্য করে দেখিস!
এই কথা শুনে পেখম লজ্জা পেয়ে গেল। তাওয়াফের ঠোঁটে দুষ্টুমি হাসি। এই মেয়েকে নয়ছয় বুঝিয়ে মানানো যাবে না৷ তাই তাকে এই পথ অবলম্বন করতে হয়েছে। পেখম কফি আনার অজুহাত দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
পেখম তাওয়াফের জন্য কফি নিয়ে রুমের দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিন শোবার আগে কফি খাওয়া তাওয়াফ ভাইয়ের অভ্যাস। রোজ বড়মা কফি দিলেও আজ পেখম নিজের হাতে বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফোন তার হাতেই ছিল। মায়ের কল এলে রিসিভ করে রুমে যেতে যেতেই কথা বলল,
-হ্যালো, বলো।
-তাওয়াফ ফিরেছে?
মায়ের সাথে পেখমের সম্পর্ক এখনও ভালো হয়নি। তবে এখন কথা বলে।
-অনেকক্ষণ আগেই ফিরেছে।
-ও কি তোকে কিছু বলেছে?
-না। কী বলবে?
জেসমিন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল। তাওয়াফের উপর তার ভরসা আছে। তবে পেখমের খটকা লাগলে সে জিজ্ঞেস করল,
-কী হয়েছে মা?
-কিছুই হয়নি।
-কিছু না হলে কেন জিজ্ঞেস করেছ তাওয়াফ ভাই আমাকে কিছু বলেছে কি-না।
-আরে পাগল মেয়ে এমনিতেই জিজ্ঞেস করেছি।
-এমনি জিজ্ঞেস করোনি। তুমি আমার থেকে কিছু লোকাচ্ছ। তোমাকে আমার কসম কী হয়েছে সত্যি করে বলো।
-তাওয়াফ আজ ইলহাম আকৃতির বিয়ের কার্ড নিয়ে এসেছিল।
পেখম জানত না তাওয়াফ ভাই আজ তাদের ওখানে গিয়েছে।
-ওখানে কি কিছু হয়েছে?
জেসমিন ইতস্তত করে জানাল,
-তোর বাবা তাওয়াফকে চড় মেরেছে।
-চড় মেরেছে! কেন?
-তোর বাবা জানিয়েছে বিয়েতে এবাড়ির কেউ যাবে না। তখন দু'জনের মাঝে কথা কাটাকাটি হলে তোর বাবা রাগ সামলাতে পারেনি।
-কথা কাটাকাটি নিশ্চয় তোমার স্বামীই করেছে। তাওয়াফ ভাই ওই লোকের সাথে মুখ লাগানোর মানুষ না।
বাবা তাওয়াফ ভাইকে চড় মেরেছে শুনে রাগে পেখমের মাথা ফেটে যাচ্ছে।
পেখম মুখ অন্ধকার করে রুমে এলো। তাওয়াফ ল্যাপটপে কিছু করছে। পেখম কিছু না বলে টেবিলের উপর কফি রাখল। তাওয়াফ কাপ হাতে নিয়ে ছোট্ট করে বলল,
-ধন্যবাদ।
পেমখ বিছানায় বসে তাওয়াফকে দেখছে। গাল লাল হয়েছিল সে ঠিকই দেখেছে। কিন্তু তাওয়াফ ভাই তাকে সত্য বলেনি। তার বাবার থেকে অপমানিত হয়েও তার সাথে মুখে হাসি নিয়ে কথা বলছে। পেখমের ভীষণ কান্না পেলো। বাবা নিজের দোষ চোখে দেখে না। অন্যের গায়ে হাত ঠিকই তুলতে পারে। বাবাকে সে কোনদিনও ক্ষমা করবে না। বাবার হয়ে তাওয়াফ ভাইয়ের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। কিন্তু পেখমের সাহসে কুলচ্ছে না।
তাওয়াফ অনেকক্ষণ কাজ করল। এতক্ষণ কাজের মধ্যে ডুবে ছিল বলে পেখমের কথা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। চুপ করে বসে আছে কেন মেয়েটা? একটা কথাও বলছে না। তাওয়াফ ঘাড়ের পেছন হাত দিয়ে মাথা ডানদিক বামদিক কাত করে পেছনে তাকাল। বিছানায় চোখ গেলে দেখল পেখম শুয়ে পড়েছে। তাওয়াফ মুচকি হাসল। সে কাজ করছে দেখেই মনে হয় বিরক্ত করেনি। চুপচাপ শুয়ে পড়েছে। সে-ও সোফা ছেড়ে উঠে পড়ল। দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভেঙে বিছানায় গিয়ে বসল। ঘুমন্ত পেখমের দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিতে পারল না। কতটা নিষ্পাপ লাগছে! তাওয়াফ পেখমের পাশে শুয়ে পড়ল। কতগুলো চুল পেখমের মুখের উপর চলে এসেছে। তাওয়াফ আলতো হাতে সাবধানে চুল গুলোকে মুখের উপর থেকে সরিয়ে দিল। ফিসফিস করে বলল,
-গুড নাইট প্রজাপতি।
তাওয়াফ হাত বাড়িয়ে লাইট অফ করে দিল। সাথে সাথে পেখম চোখ খুলে ফেলল। সে ঘুমায়নি। পুরোটা সময়ই জেগে ছিল। তাওয়াফ ভাই তার উপর একটুও রাগ করেনি এটা দেখেই পেখমের নিজেকে আরও বেশি অপরাধী লাগছে। তার বাবার হাতে মার খেয়েও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করছে না। পেখমের চোখে আজ ঘুম ধরা দিচ্ছে না। ওপাশ ফিরে অনেকটা সময় সে নড়াচড়া বিহীন শুয়ে থাকল। যখন মনে হলো তাওয়াফ ভাই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে তখন এপাশ ফিরল। লাইট অফ করা থাকলেও ঘর পুরোপুরি অন্ধকার হয়নি। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো ঘরে আসছে। পেখম আবছা তাওয়াফ ভাইকে দেখতে পারছে। ডান গালটা লাল হয়ে ছিল। পেখম অনেক সাহস করে তাওয়াফ ভাইয়ের গালের উপর হাত রাখল। তার বুকের ভেতর সে ড্রাম পেটানোর শব্দ শুনতে পাচ্ছে। পেখম আলতো করে গালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ধরা গলায় ফিসফিস করে বলল,
-আপনি আমার বাবার রাগ সহ্য করেও আমাকে বুঝতে দিচ্ছেন না। বাবা আপনাকে অপমান করেছে। এমনকি আপনার গায়েও হাত তুলেছে। তারপরও কেন আপনি আমার সাথে এত ভালো ব্যবহার করছেন? কেন আমার এতবেশী খেয়াল রাখছেন তাওয়াফ ভাই? আপনার আগের সেই রাগ কোথায় চলে গেছে? এতটা পরিবর্তন আপনি কার জন্য হয়েছেন?
চলবে