ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাই হাসবেন্ড

১২তম পর্ব

লেখক: সামহা সামি

#My_husband

#লেখনীতে_সামহা_সামি

পর্ব ১২+১৩

দিরে দিরে প্রহেলের হাতের স্পর্শে কেঁপে কেঁপে উঠছে আনেয়া বুক দরফর করছে, দুই হাতের সাহায্যে খামচে ধরে প্রহেলের পিঠের অংশ, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, প্রহেল বুঝতে পেরে ঠোঁট ছেড়ে বেডে বসিয়ে হাতের তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট মুছে দিয়ে ডিপলি কিস করে বলে।

_ হয়েছে এবার আমি শুধু তোমাকেই চুমু খেয়েছি ইডিয়েট অন্য কাউকে না তুমি চাইলে আরো কিছুক্ষণ কিস করে প্রমাণ দিতে পারি আমি মাইন্ড করবো না?

বলেই আনেয়াকে নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়, রিহান, সাগর প্রায় ৮থেকে ৮ ঘন্টা গাড়ি জার্নি করে ক্লান্ত হয়ে দুই'জনি বাসায় এসে সুপার উপরে গাঁয়ের ঘামন্ত ব্লেজার খুলে বসে পড়ে বেশি গরম না পড়লেও এই দুই জনের গা থেকে ঘাম ঝরছে, একজন মেড এগিয়ে এসে দুই জনের হাতে শরবত ধরিয়ে দেয় লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে পুড়ো গ্লাস খালি করে উপরে নিজের রুমে চলে যায়, হাইওয়ের রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে একটি কালো গাড়ি দেখে মনে হচ্ছে যে'কোন সময় একটা দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে তবুও তার কোন হুঁশ নেই আজ রাস্তা ঘাটে যানবাহন চলাচল কম দেখে বেঁচেও যেতে পাড়ে, অনেক টা পথ অতিক্রম করে কাঙ্খিত জায়গায় আসতেই গাড়ি থামিয়ে দেয় রনি ঠোঁটের কোনে বাঁকা এক বিশ্রী হাসি এনে সামনের দিকে এগিয়ে আসা লোকটার সাথে হাত মিলিয়ে, অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে বলে।

"_ ওয়েলকাম মিস্টার ইয়াং আমার এরিয়াতে আপাকে?

ইয়াং তীক্ষ্ণ চাহনিতে রনি কে এক নজর দেখে মুখায়ব গম্ভীর কন্ঠে বলে।

" __থ্যাঙ্ক ইউ মিস্টার রনি?

বলেই দু'জন কালো গাড়িতে উঠে বসে নিজেদের গন্তব্যে, খট করে ওয়াশ রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে প্রহেল আনেয়াকে বিছানায় বসিয়ে হাতে তাওয়াল দিয়ে বলে!

"__ আমি বের হবো কিছুক্ষণ পর আসবো মেড এসে তোমাকে কিছু বলবে চুপচাপ তার সাথে চলে আসবে।

____আনেয়া ইস্তবধ করে আমতা আমতা করে উত্তর দেয়

" আমি আপনার সাথে যাবো।

প্রহেল তীক্ষ্ণ চাহনিতে পর্যবেক্ষণ করে শান্ত চোখে ভেজা চুল হাত দিয়ে সেট করতে করতে উত্তর দেয়।

" আসো আমি পকেট নিয়ে ঘুড়ি তো এখন তোমাকে নিয়ে ঘুড়ি চুপচাপ রেডি হয়ে নিচে আসবে।

কথা গুলো বলে প্রহেল আনেয়ার কপালে ঠোঁটে চুমু খেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়,আনেয়া মুখ বাঁকিয়ে বলে।

" উনি পকেট নিয়ে ঘুড়ে না মনে হয় আমাকে নিয়ে ঘুড়ে অসভ্য লোক।

মুখ বাঁকিয়ে কথা গুলো বলে আবার নিজেই আনমনে হেঁসে দেয়, রাত ১০:১০ দুইজন মেয়ে এসে আনেয়াকে সুন্দর করে রেডি করিয়ে দিছে আনেয়ার পড়নে সাদা রঙের মাঝে এসি এসি একটা গাউন যা তৈরি করতে মুট ৬ কোটি ৫৩ হাজার ৯৯৯ টা হীরা বসানো হয়েছে মাথার মুকুট যা সম্পূর্ণ ডায়মন্ড দিয়ে তৈরি, হাল্কা মেকআপ ও গলায় সিম্পল জুয়েলারি সব মিলিয়ে চোখ ধাঁধানো সুন্দরজো দুইজন গার্ড এসে আনেয়ার সামনে মাথা নত করে দাঁড়ায় আনেয়া ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে আসতে থাকে, তার মনে হচ্ছে সে কোন রাজ'কন্যা অদ্ভুত এক শিহরণ বইয়ে গেল শরীর দিয়ে আচ্ছা এই লুকে প্রহেল আনেয়াকে দেখলে তার রিঅ্যাকশন কেমন হবে, বড্ড যানতে ইচ্ছে হলো আনেয়ার রিসোর্টের বাহিরে আসতে ফুলে ফুলে সাজানো কালো গাড়ির উপরে সাদা গোলাম দিয়ে সুন্দর করে সাজানো গাড়ি টির দরজা একজন গার্ড খুলে দিতেই আনেয়া ভারি গাউন দুই হাত দিয়ে ধরে এগিয়ে গিয়ে বসে পড়ে, বুকের ভেতর কেমন দুপ'দুপ করছে মনে হচ্ছে এখনি হার্টবিট বেড়িয়ে আসবে, রিহান সাগর গাড়ি রেখে বাইক নিয়ে বের হয়েছে বসুন্ধরার উদ্দেশ্য ফ্রি টাইমে ঘুড়া ঘুড়ি না করলেই নয়, আর কথা যদি হয় নিরিবিলি জায়গায় এসে বাইক থামিয়ে দেয়,দুইজনি বাইকের উপড়ে বসে পাশের ছোট একটা চার দোকান থেকে দুই কাপ চা নিয়ে বসে কথা বলতে থাকে?

" প্রম হলো লুডু খেলার মতো জিতলে জয়ি , হার্লে মানসম্মান নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি করতে দেয় ?

রিহান হাসে কিছু বলবে তাঁর আগেই ফোনে কল আসে তার গার্লফ্রেন্ড কল দিয়েছে, এই সময় রিহানের কল আসায় বিরক্ত হয় সাগর, বিরবির করে বলে।

" মেয়ে মানুষের কাজ নাই ফোন টিপা ছাড়া আখাম্বা বেডি মানুষ,

সাগরকে বিরবির করতে দেখে রিহান কপট রাগ দেখিয়ে বলে‌

"

খবর ধার সাগর আমার গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে কিছু বলবি না।

চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মুখ বাকায় সাগর খুলা জায়গাকোন রকমের চিল্লাচিল্লি নেই শান্ত পরিবেশ শীতল হাওয়ায় বাতাস বইছে, ঠোঁট নাড়াতে নাড়াতে রিহানের দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠে।

" এসিড ছুলে আকাশ পোড়ে ছিটে পড়ে পৃথিবীতে?

"আত্মার হাঁটে চারিপাশে বিবেক নির্বিকার ?

" বিদ্যুৎ চমকায় মাটি কাপে , রাতের রূপে দিন ফিরে আসে ?

" মানব দানব সবাই হয় এসিড এর শিকার?

" এসিড ধরে জ্বীনের মত , ভুতরা ও ভয়ে মন্ত্র পড়তো ?

" যন্ত্রণা তো কথা বলত , গণস্তন্য হারিয়েতো?

" যন্ত্র ধইরা উল্টা কইরা মুখটা ছিলা বুক টা কাট ?,

সাগরের এই পরিস্থিতিতে এমন গান নির্ঘাত বেমানান, ফুলে ফুলে সাজানো গাড়িটি একটা নিস্তব্ধ অন্ধকার জায়গায় থামে আনেয়া ভয়ে শিউরে উঠে, ঠিক বুঝা যাচ্ছে না কোন জায়গা পানির গর্জন শুনা যাচ্ছে, হঠাৎ অন্ধকারের মাঝে একটি হাত এসে গাড়ির দরজা খুলে দেয় আনেয়া বেড়িয়ে আসে, প্রহেল ঠোঁট প্রসারিত করে হাল্কা হেঁসে হাত বাড়িয়ে দেয়, আনেয়া এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আজ প্রহেলের পর্নে সাদা সার্ট কালো ব্লেজার হাতে দামি ব্র্যান্ডের ঘরি ও শরীর থেকে ভেসে আসা মিষ্টি ঘ্রাণ, সেট করা চুলগুলো বাতাসে একটু নড়েচড়ে উঠছে, প্রহেল আনেয়ার হাত ধরে শব্দ করে বলে।

" 123"

বলাল সাথে সাথে লাইট জ্বলে উঠে, আনেয়া অবাকের পর অবাক,এতো সুন্দর সারপ্রাইজ তার জন্য যেনো বিশ্বাস হচ্ছে না, প্রহেল আনেয়ার কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে।

" ওয়েলকাম মিসেস,মাই ছোট ফ্লাওয়ার আমার জিবনে আসার আমন্ত্রণ জানাই আপনিময় রানীকে।

বলেই সামনের দিকে আনেয়া এক পা দিতেই লাল গোলাপের পাপড়ি গুলো লাইটিং করে উঠে, চারো পাশে মানুষ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কেউ কেউ তো ক্যামেরা বন্দী করে রেখে দিচ্ছে , আনেয়া যত সামনে এগোচ্ছে তাঁর ততো মনে হচ্ছে সে কোন স্বপ্নের রাজ্যে পা বাড়িয়েছে, চারো'পাশে হাজারো রঙের আতশবাজি ফুটছে, প্রহেল আনেয়ার হাত ধরে সামনে বানো হার্ট শেপে আঁকা লাভের ভেতরে পা দিতে বলে,আনেয়া এক পা দিতেই আকাশে দ্বিগুণ আতশবাজ ফুটে ওঠে, প্রহেল লাভ শেপের ভেতর ঢুকতেই পুড়ো লাভ শেপ আগুনের সূত্রপাত হয়ে ফুলকি বের হতে থাকে যার ধরুন আরো আবেদিনম লাগছে, প্রহেল আনেয়ার দিকে তাকিয়ে বলে?

" প্রহেলের ছোট ফুল"

আনেয়া সব কিছু অবাক হয়ে দেখছে প্রহেল আনেয়ার হাত নিজের হাতে নিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে আনেয়ার সামনে একটা ডায়মন্ডের আংটি ধরে বলে।

" আমার ছোট ফ্লাওয়ার আমার জিবনের এক অসমাপ্ত গল্পের প্রাপ্তি হয়ে আসছে ভালোবাসা আমি জানি না কি তবে আমার নিজস্ব ফ্লাওয়ারের মাঝে আমি আমার ভালোবাসা পেয়েছি হ্যাঁ আমি ভালোবাসি ভিষন ভালোবাসি এই ছোট মেয়েকে আমার ছোট ফ্লাওয়ার কে, ইউ মেরি মি ছোট ফ্লাওয়ার?

(চলবে)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন